নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য সমাপ্ত ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)কে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে,এই চুক্তি ওয়াশিংটনের কাছে একটি বার্তা দেয় যে নয়াদিল্লিও ব্রাসেলস যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ততটা নির্ভরশীল নয়, যতটা যুক্তরাষ্ট্র ধরে নেয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তি একা অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করতে পারবে না।
পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে,যা টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে, অভিজিৎ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত উচ্চ শুল্কের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে দক্ষতা, লজিস্টিকসও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি না হলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিতই থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,এটি অবশ্যই একটি কৌশলগত সমন্বয়। ইউরোপ ওভারতের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র যতটা ভাবে,আমরা ততটা তাদের ওপর নির্ভরশীল নই।যদি লক্ষ্য হয় যুক্তরাষ্ট্রকে দরকষাকষির টেবিলে আনা, তাহলে এটি কাজে লাগতে পারে।একই সঙ্গে তিনি এই চুক্তি বাস্তবে কতটা চাপ তৈরি করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেন।
ভারত–ইইউ এফটিএ প্রসঙ্গে, যাকে প্রায়ই 'মাদার অব অল ডিলস' বলা হয় এবং যার লক্ষ্য প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি করা, অভিজিৎ জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্য চুক্তি কেবল শুরু মাত্র।
তিনি বলেন, 'বাণিজ্য চুক্তি শুধু একটি সূচনা।বিক্রি করার মতো পণ্য থাকতে হবে এবং বাজারকেও সেই পণ্য চাইতে হবে।' তার মতে, বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতা কেবল শুল্ক কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে,এই চুক্তির আওতায় ইইউতে ভারতের ৯৯ শতাংশ রপ্তানির ওপর শুল্ক উঠে যাবে এবং ভারতে ইইউর ৯৭ শতাংশের বেশি রপ্তানিতে শুল্ক কমবে। এতে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ অন্তর্ভুক্ত হবে। ভারতের বস্ত্র, পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প,জুতাও সামুদ্রিক পণ্য খাত উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপ লাভবান হতে পারে মদ, গাড়ি,রাসায়নিক ওওষুধ শিল্পে।
অভিজিৎ বলেন, ভারত বস্ত্র, চামড়াওগয়নার মতো খাতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে,তবে ফলাফল একেক ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।
তিনি বলেন,'গয়নাও চামড়ায় আমরা অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক, আর বস্ত্রে হয়তো কিছুটা কম,যদিও সেটা বস্ত্রের ধরন অনুযায়ী বদলায়।একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভিয়েতনামও বাংলাদেশও প্রতিযোগিতামূলক এবং 'তারা আমাদের থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে'।
ভারতের প্রধান দুর্বলতা হিসেবে তিনি লজিস্টিকস ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।
অভিজিৎ বলেন, 'আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলি,তারা বলে ভারতীয়রা ধীরগতির। আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা কার্যকর নয়, বন্দরগুলো ধীর,এই সব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ৬০ বিলিয়ন ডলার।
চীনের সঙ্গে তুলনা টেনে অভিজিৎ বলেন, দ্রুত সরবরাহের কারণে সেখানকার সরবরাহকারীরা প্রায়ই বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, একই দামে যদি একটি দেশ দ্রুত পণ্য সরবরাহ করতে পারে, ক্রেতারা সেই দেশকেই বেছে নেবে।ভারতের উচিত 'চীনের মতো দক্ষতার স্তরে পৌঁছানো', তাহলেই বাণিজ্য চুক্তির পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দক্ষতায় পিছিয়ে পড়া কাটিয়ে উঠতে হবে।যদি আমরা চীনের মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারি,তাহলে এই চুক্তিগুলো থেকে লাভ নিশ্চিতভাবেই আসবে।কিন্তু এটা স্বয়ংক্রিয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ মার্কিন শুল্ক,যার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনা সংক্রান্ত শুল্কও রয়েছে—বিশ্ব বাণিজ্য প্রবাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।ভারত এসব ব্যবস্থাকে 'অন্যায্য, অযৌক্তিকও অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে,তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত।
অভিজিৎ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভারত এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি।
তিনি বলেন, 'আমরা বুঝতে পারিনি কেন ট্রাম্প এতটা ভারতবিরোধী। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে দরকষাকষিতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া অনেক দাবি পরে অস্বীকার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাঝে মাঝে দাবি করেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং একটি চুক্তি হবে।কিন্তু সেটা আদৌ সত্য কি না,তা স্পষ্ট নয়, কারণ পরে তা অস্বীকার করা হয়।ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্যাটা ঠিক কোথায়,বা দরকষাকষিতে এর প্রভাব কতটা তা আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।
ইউরোপ কি বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বিকল্প হতে পারে—এই প্রশ্নে তিনি বলেন,বাজারের আকার এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, 'ভারত বড় বাজার,কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিশাল।'ল।তার পর্যবেক্ষণ, ইউরোপ বিলাসপণ্যও যন্ত্রপাতিতে শক্তিশালী হলেও, যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
তিনি বলেন, 'ইউরোপে বিলাসপণ্যও যন্ত্রপাতির উৎপাদন বেশি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশাল বাজার। ভারত বড় বাজার হলেও তুলনীয় নয়। ফলে এই চুক্তি আমাদের কতটা ভূরাজনৈতিক সুবিধা দেবে, তা স্পষ্ট নয়।এখন ইউরোপও ভারত,দু'পক্ষই কিছুটা প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, কিছু করার চেষ্টা করছে এবং দেখছে কী হয়।
এই এফটিএ কি বৈশ্বিক অস্থিরতাও সরবরাহ-শৃঙ্খল বিঘ্ন থেকে ভারতকে সুরক্ষা দিতে পারবে—এৃনন প্রশ্নে অভিজিৎ বলেন, সবকিছুই বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন,এটা পুরোপুরি নির্ভর করছে ভারত কতটা এর সুযোগ নিতে পারে তার ওপর।'ল। তিনি যোগ করেন, 'শুল্ক হলো দামের একটি মাত্র অংশ। সরবরাহ-শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা, পরিবহন দক্ষতা ওসরবরাহের সময়সীমা,এই সবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবারও বলছি,এটা স্বয়ংক্রিয় নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি ফার্সি নতুন বছর 'নওরোজ' এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত বার্তা প্রদান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি আধ্যাত্মিকতার বসন্ত এবং প্রকৃতির বসন্তের মিলনক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসাথে তিনি বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান। মোজতবা খামেনি তার বার্তায় নতুন সৌর বছরকে "জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার নিরিখে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিয়েই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সরকার পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের মাত্রা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে, মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই শত্রু পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। খামেনির দাবি, একই সঙ্গে রোজা রাখা ও ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানিরা যে অদম্য মনোবল দেখিয়েছে, তার ফলে প্রতিপক্ষরা এরই মধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে। আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে খামেনি অভিযোগ করেন, বহিরাগত শত্রুরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইরান মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, সমষ্টিগত শক্তি ও জনগণের সংহতিই এই শক্তিগুলোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করে দেবে। তার মতে, ইরানি সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতিই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং এটিই শেষ পর্যন্ত শত্রুর পরাজয় নিশ্চিত করবে।
ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে প্রথম ২০ দিনেই প্রায় ৬৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে ইসরাইল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকার সমান। ইসরাইলি দৈনিক পত্রিকা 'হারেতজ'-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২১.৮৬৭ টাকা ধরে এই হিসাব পাওয়া গেছে। তথ্যমতে, এই যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩২ কোটি ডলার বা ১০০ কোটি শেকেল ব্যয় করছে ইসরাইল। দেশটির সরকার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দ করলেও বর্তমান ব্যয়ের হার সেই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত অর্থায়নের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যেই ইন্টারসেপ্টর মিসাইলসহ জরুরি সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটার জন্য রোববার ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বাজেট অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল সরকার। এদিকে সংঘাতের আর্থিক বোঝা কেবল ইসরাইলের ওপরই নয়, বড় ধরনের ব্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, অভিযান শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করেছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যে কংগ্রেসের কাছে ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি একটি সম্পূরক অর্থায়ন প্যাকেজ অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীয়সহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত কেবল প্রাণহানিই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।