নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য সমাপ্ত ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)কে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে,এই চুক্তি ওয়াশিংটনের কাছে একটি বার্তা দেয় যে নয়াদিল্লিও ব্রাসেলস যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ততটা নির্ভরশীল নয়, যতটা যুক্তরাষ্ট্র ধরে নেয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই চুক্তি একা অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করতে পারবে না।
পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে,যা টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া প্রকাশ করেছে, অভিজিৎ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত উচ্চ শুল্কের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে দক্ষতা, লজিস্টিকসও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি না হলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিতই থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,এটি অবশ্যই একটি কৌশলগত সমন্বয়। ইউরোপ ওভারতের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র যতটা ভাবে,আমরা ততটা তাদের ওপর নির্ভরশীল নই।যদি লক্ষ্য হয় যুক্তরাষ্ট্রকে দরকষাকষির টেবিলে আনা, তাহলে এটি কাজে লাগতে পারে।একই সঙ্গে তিনি এই চুক্তি বাস্তবে কতটা চাপ তৈরি করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেন।
ভারত–ইইউ এফটিএ প্রসঙ্গে, যাকে প্রায়ই 'মাদার অব অল ডিলস' বলা হয় এবং যার লক্ষ্য প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি করা, অভিজিৎ জোর দিয়ে বলেন, বাণিজ্য চুক্তি কেবল শুরু মাত্র।
তিনি বলেন, 'বাণিজ্য চুক্তি শুধু একটি সূচনা।বিক্রি করার মতো পণ্য থাকতে হবে এবং বাজারকেও সেই পণ্য চাইতে হবে।' তার মতে, বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতা কেবল শুল্ক কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে,এই চুক্তির আওতায় ইইউতে ভারতের ৯৯ শতাংশ রপ্তানির ওপর শুল্ক উঠে যাবে এবং ভারতে ইইউর ৯৭ শতাংশের বেশি রপ্তানিতে শুল্ক কমবে। এতে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ অন্তর্ভুক্ত হবে। ভারতের বস্ত্র, পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প,জুতাও সামুদ্রিক পণ্য খাত উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপ লাভবান হতে পারে মদ, গাড়ি,রাসায়নিক ওওষুধ শিল্পে।
অভিজিৎ বলেন, ভারত বস্ত্র, চামড়াওগয়নার মতো খাতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে,তবে ফলাফল একেক ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।
তিনি বলেন,'গয়নাও চামড়ায় আমরা অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক, আর বস্ত্রে হয়তো কিছুটা কম,যদিও সেটা বস্ত্রের ধরন অনুযায়ী বদলায়।একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভিয়েতনামও বাংলাদেশও প্রতিযোগিতামূলক এবং 'তারা আমাদের থেকে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে'।
ভারতের প্রধান দুর্বলতা হিসেবে তিনি লজিস্টিকস ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।
অভিজিৎ বলেন, 'আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলি,তারা বলে ভারতীয়রা ধীরগতির। আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা কার্যকর নয়, বন্দরগুলো ধীর,এই সব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল প্রায় ৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ৬০ বিলিয়ন ডলার।
চীনের সঙ্গে তুলনা টেনে অভিজিৎ বলেন, দ্রুত সরবরাহের কারণে সেখানকার সরবরাহকারীরা প্রায়ই বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, একই দামে যদি একটি দেশ দ্রুত পণ্য সরবরাহ করতে পারে, ক্রেতারা সেই দেশকেই বেছে নেবে।ভারতের উচিত 'চীনের মতো দক্ষতার স্তরে পৌঁছানো', তাহলেই বাণিজ্য চুক্তির পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের দক্ষতায় পিছিয়ে পড়া কাটিয়ে উঠতে হবে।যদি আমরা চীনের মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারি,তাহলে এই চুক্তিগুলো থেকে লাভ নিশ্চিতভাবেই আসবে।কিন্তু এটা স্বয়ংক্রিয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ মার্কিন শুল্ক,যার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনা সংক্রান্ত শুল্কও রয়েছে—বিশ্ব বাণিজ্য প্রবাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।ভারত এসব ব্যবস্থাকে 'অন্যায্য, অযৌক্তিকও অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে,তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত।
অভিজিৎ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভারত এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি।
তিনি বলেন, 'আমরা বুঝতে পারিনি কেন ট্রাম্প এতটা ভারতবিরোধী। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে দরকষাকষিতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে দেওয়া অনেক দাবি পরে অস্বীকার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন,মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাঝে মাঝে দাবি করেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং একটি চুক্তি হবে।কিন্তু সেটা আদৌ সত্য কি না,তা স্পষ্ট নয়, কারণ পরে তা অস্বীকার করা হয়।ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্যাটা ঠিক কোথায়,বা দরকষাকষিতে এর প্রভাব কতটা তা আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।
ইউরোপ কি বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বিকল্প হতে পারে—এই প্রশ্নে তিনি বলেন,বাজারের আকার এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, 'ভারত বড় বাজার,কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিশাল।'ল।তার পর্যবেক্ষণ, ইউরোপ বিলাসপণ্যও যন্ত্রপাতিতে শক্তিশালী হলেও, যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
তিনি বলেন, 'ইউরোপে বিলাসপণ্যও যন্ত্রপাতির উৎপাদন বেশি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশাল বাজার। ভারত বড় বাজার হলেও তুলনীয় নয়। ফলে এই চুক্তি আমাদের কতটা ভূরাজনৈতিক সুবিধা দেবে, তা স্পষ্ট নয়।এখন ইউরোপও ভারত,দু'পক্ষই কিছুটা প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, কিছু করার চেষ্টা করছে এবং দেখছে কী হয়।
এই এফটিএ কি বৈশ্বিক অস্থিরতাও সরবরাহ-শৃঙ্খল বিঘ্ন থেকে ভারতকে সুরক্ষা দিতে পারবে—এৃনন প্রশ্নে অভিজিৎ বলেন, সবকিছুই বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন,এটা পুরোপুরি নির্ভর করছে ভারত কতটা এর সুযোগ নিতে পারে তার ওপর।'ল। তিনি যোগ করেন, 'শুল্ক হলো দামের একটি মাত্র অংশ। সরবরাহ-শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা, পরিবহন দক্ষতা ওসরবরাহের সময়সীমা,এই সবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবারও বলছি,এটা স্বয়ংক্রিয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার : এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে গত এক দশক ধরে অবস্থান করছিলেন তিনি। লিবিয়ার সাবেক এক নায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি দেশটির একটি শহরে নিহত হয়েছেন। পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফ গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার খবর দিয়েছে রয়টার্স ও আল জাজিরা। তিনি গত এক দশক ধরে ওই শহরেই অবস্থান করছিলেন। আল জাজিরা আরবির লিবিয়া সংবাদদাতা আহমেদ খলিফা বলেন, সাইফ গাদ্দাফিকে ধারণা করা হচ্ছে খুন করা হয়েছে। লিবিয়ার সাবেক একনায়ক গাদ্দাফির ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও ক্ষমতাধর ছিলেন সাইফ গাদ্দাফি। ২০১১ সালে বাবার পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার হলেও পরে মুক্তি পান। তিনি দেশটির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টাও করেন। তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, তার আইনজীবী খালেদ এল-জাইদি এবং লিবিয়ার গণমাধ্যম তার নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাইফ গাদ্দাফির নিহত হওয়ার সময়কার ঘটনা ও বিবরণও পরিষ্কার নয় বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে। লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এক নায়ক পিতার শাসনামলে কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তেলসমৃদ্ধ উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে একসময় তাকে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হত। সাইফ গাদ্দাফিকে তার পিতার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবেও বিবেচনা করতেন অনেকে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাবলীল ইংরেজিভাষী সাইফ একসময় লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য, পশ্চিমাপন্থি মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে তার বাবার ক্ষমতা হারানোর পর এক দশক ধরে বন্দিত্ব ও অজ্ঞাতবাসে কাটান। মুক্তির দীর্ঘদিন পর ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রচারণাও শুরু করেছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাইফ গাদ্দাফিকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল। ২০১১ সালে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর আগে তার পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি শাসন করেছিলেন। রয়টার্স লিখেছে, সাইফ তার বাবার সরকারে নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখতেন এবং উচ্চ পর্যায়ের ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক মিশনে মধ্যস্থতার ভূমিকাও পালন করতেন। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা করেন।
বিশ্ব কাঁপানো ‘এপস্টেইন ফাইল’ যেন এক অন্ধকার জগতের প্যান্ডোরা বক্স! এবার সেই তালিকায় নাম এলো নরওয়ের রাজকুমারী তথা হবু রানি মেত-মারিতের। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ফ্লোরিডায় সেই বিতর্কিত বাড়িতে রাত কাটানোর চাঞ্চল্যকর নথিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইউরোপজুড়ে। শুধু তাই নয়, এই তালিকায় নাম জড়িয়েছে নোবেল কমিটির সাবেক সদস্য এবং নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রীরও, যা প্রশ্নবিদ্ধ করছে খোদ নোবেল শান্তি পুরস্কারের নিরপেক্ষতাকে। এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: ১০০০ বারের বেশি নাম: ফাঁস হওয়া নথিতে নরওয়ের রানির নাম এসেছে ১০০০ বারের বেশি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ছিল গভীর যোগাযোগ। অশ্লীল কথোপকথন ও ছবি: ইমেলে এপস্টেইনকে ‘সুইট হার্ট’ বলে সম্বোধন এবং বিভিন্ন নারীদের আপত্তিকর ছবি পাঠানোর প্রমাণ মিলেছে। ফ্লোরিডায় ৪ দিন: ২০১৩ সালে এপস্টেইনের ফ্লোরিডার বাড়িতে টানা ৪ দিন সময় কাটিয়েছেন রানি মেত-মারিত। নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক: নোবেল কমিটির সাবেক সদস্য থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের নামও এই ফাইলে আসায় পুরো নরওয়ে সরকার এখন অস্বস্তিতে। রানির স্বীকারোক্তি: ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রানি মেত-মারিত জানিয়েছেন, সেই সময় তাঁর বিচারবুদ্ধি লোপ পেয়েছিল এবং এই সম্পর্কের জন্য তিনি এখন অনুতপ্ত। বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মুখোশ কি এভাবেই একের পর এক খুলে যাবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশ করেছে প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি। আদালত নতুন অভিযোগ আনছে না, তবে প্রকাশিত তথ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তাপকে আরও ঘনীভূত করেছে। সম্প্রতি প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত মামলার অনেক নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। যদিও কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, এসব নথির ভিত্তিতে আর কোনো নতুন অভিযোগ আনা হবে না, তবুও সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে উত্তাপ ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এপস্টেইন ইস্যু কেবল একজন অপরাধীর গল্প নয়; এটি সেই নেটওয়ার্কেরও গল্প যা অপরাধকে সম্ভব করেছে। নথিগুলো প্রকাশিত হলেও, ক্ষমতাবানদের জন্য আইন ও সাধারণ মানুষের জন্য আইনের পার্থক্য স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। জনগণের ক্ষোভ এখন কোনো এক রাজনৈতিক দলের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। এটি ডেমোক্র্যাট এবং কনজারভেটিভ উভয়পক্ষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। মানুষ প্রশ্ন করছে: “আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান?” প্রকাশিত নথিতে যাদের নাম এসেছে, তারা কেবল ব্যক্তি নয়, তারা ক্ষমতার প্রতীক। যুক্তরাজ্যের সাবেক যুবরাজ অ্যান্ড্রু, প্রযুক্তি-উদ্যোক্তা বিল গেটস ও ইলন মাস্ক—তাদের উপস্থিতি এই ইস্যুকে আদালতের কক্ষের বাইরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটেও উত্তেজনা তৈরি করছে। নথি ধীরে ধীরে প্রকাশ করা হচ্ছে, যা জনমানসে সন্দেহ ও ক্ষোভকে দীর্ঘায়িত করছে। ভুক্তভোগীদের হতাশা বেড়ে গেছে, কারণ এখনও বিপুল নথি প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের এই ধীরগতি রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপকে আরও তীব্র করেছে। এপস্টেইন ইস্যুকে শুধুমাত্র আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিচার করলে আমরা ভুল বুঝব। এটি মূলত ক্ষমতার প্রতি আস্থার সংকটের প্রতিফলন। সাধারণ মানুষ এখন চাইছে দেখতে যে, বিচার ব্যবস্থা ক্ষমতাবানদের চ্যালেঞ্জ করতে পারছে কি না।