মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিল ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) প্রথমবারের মতো তাদের উন্নত প্রযুক্তির নৌ-আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ‘সাইয়াদ-৩জি’ (Sayyad-3G)-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আইআরজিসি-র নৌ শাখা এক ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ নামক তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ নৌ মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা চালানো হয়।
ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা:
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সাইয়াদ-৩জি’ হলো ইরানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ‘সাইয়াদ-৩’ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত নৌ সংস্করণ। এই ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
পাল্লা: এটি ১৫০ কিলোমিটার (প্রায় ৯৩ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে আঘাত করতে সক্ষম।
ভার্টিকাল লঞ্চ সিস্টেম: ক্ষেপণাস্ত্রটি যুদ্ধজাহাজ থেকে লম্বভাবে (Vertical Launch) উৎক্ষেপণ করা যায়, যা আধুনিক নৌ যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিরক্ষা বলয়: এই সিস্টেমটি ইরানের ‘শহীদ সোলেইমানি’ ক্লাসের যুদ্ধজাহাজগুলোর চারপাশে একটি আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় বা ‘এয়ার ডিফেন্স আমব্রেলা’ তৈরি করতে সক্ষম।
লক্ষ্যবস্তু: এটি মূলত শত্রুদেশের যুদ্ধবিমান, উচ্চ উচ্চতার ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব:
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘শহীদ সাইয়াদ শিরাজি’ নামক যুদ্ধজাহাজ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সামরিক মহড়ায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন ড্রোন এবং নজরদারি সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাণিজ্যের জন্য অন্যতম প্রধান রুট। এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইরান এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা কেবল স্থলেই নয়, সমুদ্রসীমাতেও যেকোনো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ইরান এর আগে ২০১৬ সালে সাইয়াদ-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের স্থল সংস্করণের সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। এবারের নতুন নৌ সংস্করণটি ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের আমুর ওব্লাস্টে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তিন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘রবিনসন’ (Robinson) মডেলের ওই বেসরকারি হেলিকপ্টারটি গত বৃহস্পতিবার আমুর ওব্লাস্টের রোমনেনস্কি জেলার একটি লগিং সাইট (কাঠ সংগ্রহ কেন্দ্র) থেকে উড্ডয়নের পর রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল। এরপর থেকে বিশাল এলাকা জুড়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। টানা তল্লাশির পর শনিবার দুর্গম এলাকা থেকে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ এবং তিন আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাশিয়ার তদন্ত কমিটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে একজন পাইলট, একজন তদন্তকারী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তারা একটি অপরাধস্থলের তদন্ত শেষে ফিরছিলেন। সেখানে আগে এক শ্রমিকের কর্মকালীন মৃত্যু হয়েছিল এবং সেই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হেলিকপ্টারটি যে পাইলট চালাচ্ছিলেন, তার এটি পরিচালনার বৈধ অনুমতি ছিল না এবং বিমানটি যথাযথভাবে নিবন্ধিতও ছিল না। বৈরী আবহাওয়া নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি—ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রসিকিউটর অফিস। আমুর অঞ্চলের সরকার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ড্রোন, স্নোমোবাইল এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল অংশ নিয়েছিল।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন একাধিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছে, হামলাগুলো আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশে সংঘটিত হয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, পাকতিকা প্রদেশের একটি মাদ্রাসা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এছাড়া নানগারহার প্রদেশেও পৃথক আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সাতটি আস্তানা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট একটি ঘাঁটিতেও আঘাত হানার কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি মসজিদে হামলাসহ কয়েকটি বড় ধরনের নাশকতার পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র নেতাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। এর আগের রাতেই খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু বিভাগে আত্মঘাতী হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনার পরপরই আফগান ভূখণ্ডে এই ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। সোমবার বাজাউর এলাকায় আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিরাপত্তা চৌকির কাছে ১১ সেনা ও এক শিশুর মৃত্যু হয়। পাকিস্তানের দাবি, হামলাকারী আফগান নাগরিক ছিলেন। এরও আগে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৩১ জন নিহত হন। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটেই সাম্প্রতিক সীমান্তপারের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আফগানিস্তানে সঙ্গীতচর্চার ওপর চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করে কয়েক শত বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দিয়েছে তালিবান প্রশাসন। সম্প্রতি পারওয়ান প্রদেশে বন্দুকধারী তালিবান সদস্যদের উপস্থিতিতে এক বিশাল ‘বহ্ন্যূৎসব’ পালন করা হয়। সেখানে তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, ড্রাম এবং আফগানিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘রুবাব’-সহ প্রায় ৫০০টি বাদ্যযন্ত্র আগুনে ভস্মীভূত করা হয়েছে। নীতি পুলিশ ও ধর্মীয় অনুশাসন তালিবান সরকারের ‘চারিত্রিক গুণের প্রসার ও দোষ প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় এই ধ্বংসযজ্ঞের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কট্টর ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী গান-বাজনাকে ‘নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা। শুধু পারওয়ান নয়, লাঘমান প্রদেশেও একইভাবে কয়েকশ বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দাবি, সঙ্গীত মানুষের নৈতিকতা নষ্ট করে, তাই একে ‘হারাম’ ঘোষণা করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানে বিনোদনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই দেশজুড়ে ২১ হাজারেরও বেশি বাদ্যযন্ত্র নষ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিয়ে কিংবা জনসমাবেশে গান বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি স্কুলগুলোতেও সঙ্গীত শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কণ্ঠরোধ ও দেশত্যাগ নারীদের জন্য জনসমক্ষে গান গাওয়া এখন দণ্ডনীয় অপরাধ। রেডিও ও টেলিভিশনে কেবল ধর্মীয় স্তোত্র ছাড়া অন্য সব ধরনের সুর নিষিদ্ধ। ‘আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার বছরে গান তৈরি বা শোনার অপরাধে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়েছেন শত শত সঙ্গীতশিল্পী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আফগানিস্তানের শতবর্ষী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চিরতরে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।