বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নির্বাচনের অভাবনীয় ফলাফল নিয়ে এক সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কূটনীতিক জহর সরকার। তাঁর মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দিল্লির উচিত ঢাকার সঙ্গে পুরোনো বন্ধুত্ব নতুন করে ঝালাই করে নেওয়া এবং এই প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার দ্রুত সমাধান করা।
দিল্লির নীতিতে বড় বদল:
জহর সরকার তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন একটি বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিল্লি এখন বুঝতে পেরেছে যে, বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে শুধু একটি দল বা একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে থাকা কৌশলগতভাবে ভুল ছিল। ফলে দীর্ঘ সময় পর ভারত এখন নবনির্বাচিত দল বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।
বিএনপি-জামায়াত ও সীমান্ত ঝুঁকি:
তিনি লক্ষ্য করেছেন, বিএনপি এখন অনেক বেশি মধ্যপন্থি ও দায়িত্বশীল অবস্থানে ফিরে এসেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছে। যদিও জামায়াত নির্বাচনে আসন সংখ্যায় পিছিয়ে আছে, তবে তাদের ভোট ব্যাংক যে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে—তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে জামায়াতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের নিরাপত্তার জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ড. ইউনূসের ১৮ মাস ও জনমত:
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে জহর সরকার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং ৮৪ দফার ‘জুলাই চার্টার’ এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার। তবে তাঁর আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলানোর ক্ষেত্রে বড় ধরণের সীমাবদ্ধতা ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভোটাররা ‘জেন-জি’ নেতৃত্বের আবেগের চেয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতির ওপরই চূড়ান্ত আস্থা রেখেছেন।
তারেক রহমান সরকারের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। জহর সরকার স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভারতের সহযোগিতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ভারতের উচিত অবিলম্বে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা ভিসা ব্যবস্থা সহজ করে দেওয়া।
পরিশেষে এই অভিজ্ঞ কূটনীতিকের বার্তা— রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু নেই। বাস্তবতার নিরিখে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন রূপে সাজানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নির্বাচনের অভাবনীয় ফলাফল নিয়ে এক সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কূটনীতিক জহর সরকার। তাঁর মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দিল্লির উচিত ঢাকার সঙ্গে পুরোনো বন্ধুত্ব নতুন করে ঝালাই করে নেওয়া এবং এই প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার দ্রুত সমাধান করা। দিল্লির নীতিতে বড় বদল: জহর সরকার তাঁর বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন একটি বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিল্লি এখন বুঝতে পেরেছে যে, বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে শুধু একটি দল বা একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে থাকা কৌশলগতভাবে ভুল ছিল। ফলে দীর্ঘ সময় পর ভারত এখন নবনির্বাচিত দল বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী। বিএনপি-জামায়াত ও সীমান্ত ঝুঁকি: তিনি লক্ষ্য করেছেন, বিএনপি এখন অনেক বেশি মধ্যপন্থি ও দায়িত্বশীল অবস্থানে ফিরে এসেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছে। যদিও জামায়াত নির্বাচনে আসন সংখ্যায় পিছিয়ে আছে, তবে তাদের ভোট ব্যাংক যে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে—তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে জামায়াতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের নিরাপত্তার জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড. ইউনূসের ১৮ মাস ও জনমত: অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে জহর সরকার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং ৮৪ দফার ‘জুলাই চার্টার’ এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার। তবে তাঁর আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলানোর ক্ষেত্রে বড় ধরণের সীমাবদ্ধতা ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভোটাররা ‘জেন-জি’ নেতৃত্বের আবেগের চেয়ে অভিজ্ঞ রাজনীতির ওপরই চূড়ান্ত আস্থা রেখেছেন। তারেক রহমান সরকারের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। জহর সরকার স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ভারতের সহযোগিতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ভারতের উচিত অবিলম্বে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা ভিসা ব্যবস্থা সহজ করে দেওয়া। পরিশেষে এই অভিজ্ঞ কূটনীতিকের বার্তা— রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু নেই। বাস্তবতার নিরিখে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন রূপে সাজানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানসহ বিশ্বের ১৪টি দেশ। হাকাবি ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ দখল করে নেয়, তাতে তার কোনো আপত্তি থাকবে না। রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিন্দার কথা জানায়। গত শুক্রবার ফক্স নিউজের সাবেক সঞ্চালক টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি দাবি করেন, ইসরায়েলের সীমানা মূলত বাইবেল দ্বারা নির্ধারিত। পাল্টা প্রশ্নে তিনি বলেন, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইরাকের দজলা নদী থেকে মিশরের নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল দখল করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, ওমান, তুরস্ক, সৌদি আরব, বাহরাইন, লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতি দেন। এতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, আরব লীগ এবং জিসিসি সংহতি প্রকাশ করে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা অন্য কোনো আরব ভূমির ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি উদ্যোগের পরিপন্থী এবং এতে শান্তি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে উত্তেজনা ও সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমকে নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থেকে শতাধিক মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য জানানো হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে। তবে ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সেনারা এখনো দায়িত্ব পালন করছে। মার্কিন কংগ্রেসের দুই সদস্য জশ গটহাইমার ও মাইক ললর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আক্রমণকে সমর্থন করেননি। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে। এছাড়া, কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি ও রো খানা যে “ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলেশন” প্রস্তাব করেছেন, তা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর হামলার সম্ভাবনা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি এ পদক্ষেপকে সতর্কতামূলক হিসাবে দেখা যেতে পারে। ইরান ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করা হবে। জাতিসংঘের মহাসচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের মিশন প্রধান সতর্ক করেছেন, আক্রমণের ক্ষেত্রে অঞ্চলের সকল সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যে কোনো অপ্রত্যাশিত ফলাফলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। উল্লেখযোগ্য, কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।