আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ডিপফেক আইনে 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' ব্যবহারকারী ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৯, ২০২৬ ০:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী জেমস স্ট্রাহলার নারীদের ভয় দেখানো ও হয়রানির উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যৌনউত্তেজক ভুয়া ছবি তৈরি করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। ওহাইওর দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, তিনি সাইবারস্টকিং, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট তৈরির ভিজ্যুয়াল তৈরি এবং ডিজিটাল জালিয়াতি প্রকাশের অভিযোগে অভিযুক্ত হন।


স্ট্রাহলারের বিরুদ্ধে 'ডিজিটাল ফোরজারি' প্রকাশের অভিযোগটি ২০২৫ সালে পাস হওয়া 'টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট'  আইনের আওতায় পড়ে। এই আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়া তিনিই প্রথম ব্যক্তি বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ ওহাইওর ইউএস অ্যাটর্নি ডোমিনিক জেরেস।


অভিযোগ অনুযায়ী, স্ট্রাহলার এআই ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে সম্মতি ছাড়া ৭০০টিরও বেশি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছে হুমকিমূলক বার্তা পাঠান।


তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি একাধিক এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সহকর্মীদের কাছেও এসব কনটেন্ট পাঠিয়ে হয়রানি করা হয়।


২০২৫ সালের জুনে তাকে ফেডারেল অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন। তার সাজা পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।


'টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট' আইন অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া তৈরি বা প্রকাশ করা অন্তরঙ্গ ছবি যার মধ্যে এআই-নির্ভর ডিপফেকও অন্তর্ভুক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব কনটেন্ট অপসারণের বাধ্যবাধকতাও এই আইনে রয়েছে।


এই আইনটি রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার যৌথভাবে উত্থাপন করেন এবং দুই দলের সমর্থনে পাস হয়। প্রথম লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও এই আইনের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দণ্ডিত ভেনেসা এসকুইভেল। ছবি: সংগৃহীত
শিশুকে গরম গাড়িতে রেখে কাজে যান মা, মৃত্যুর ঘটনায় ২৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একটি পার্ক করা গাড়িতে রেখে কর্মস্থলে যাওয়ার ঘটনায় ভেনেসা এসকুইভেল (২৭) নামে এক নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় গাড়িতে একা ফেলে রাখার কারণেই তার মৃত্যু হয়।   ফ্রিসকো পুলিশ বিভাগ, আদালতের নথি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। সেদিন বাইরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এয়ার কন্ডিশনিং) বন্ধ থাকা অবস্থায় শিশুটিকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির পেছনের আসনে একা রেখে যান এসকুইভেল। তদন্তে জানা যায়, তিনি সেদিন Hand & Stone Massage and Facial Spa-তে দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, শিশু দেখাশোনার কাউকে না পাওয়ায় তিনি ছেলেকে গাড়িতেই রেখে কাজে যান।   পরে শিশুটিকে Medical City Plano হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে দেখা যায়, মৃত্যুর সময় শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছিল, যা প্রাণঘাতী মাত্রা। মামলার তদন্তে প্রকাশিত একটি রেকর্ড করা ফোনালাপে এসকুইভেল এক সহকর্মীকে বলেন, শিশু দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনাটি তার ভুল ছিল এবং এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছিলেন।   প্রসিকিউটর অ্যাশলি উডল আদালতে বলেন, “এত ছোট একটি শিশুকে কখনোই গাড়িতে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এবং টেক্সাসের মতো উষ্ণ অঞ্চলে। প্রতি বছরই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, আর আমরা চাই না এটি আবার ঘটুক। এই রায় সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।” ফ্রিসকো পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে শিশুটিকে গাড়িতে রেখে যাওয়ার মাধ্যমে তার জীবনকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছিল। সেই অবহেলার ফলেই শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় টেক্সাসের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।   টেক্সাসের আইন অনুসারে, হত্যা মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্যারোলের জন্য বিবেচিত হওয়ার আগে অন্তত অর্ধেক সাজা ভোগ করতে হয়। এদিকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় সম্প্রতি ফ্লোরিডায় সমুদ্রসৈকতের একটি পার্কিং এলাকায় গরম গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়ার পর দুই বছর বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায়ও তদন্ত চলছে।   এই ঘটনাগুলোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিভাবক ও শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, পার্ক করা গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই গাড়ি থেকে নামার আগে পেছনের আসন অবশ্যই পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২১:৩০
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর ছেলে রোনালদো সালগাদো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই এজেন্টের গুলিতে প্রবাসী মেক্সিকান নিহত, ভিডিওতে বাবার মৃত্যু দেখলেন সন্তান

তদন্তে জব্দ হওয়া অস্ত্র ও নগদ অর্থের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার সিনালোয়া কার্টেলের শীর্ষ নেতা, স্বর্ণখচিত অস্ত্র ও বিপুল মাদকের তথ্য প্রকাশ

ওয়াশিংটনের মেট্রো ট্রেনে রসওয়েল এনসিনাকে ঘিরে প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

মেট্রো ট্রেনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর মুখোমুখি এশীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী, ‘ভয় আর অনিশ্চয়তায় জমে গিয়েছিলাম’

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে নতুন আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলায় আবারও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবারও আইনি লড়াইয়ে নামছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার (Rehearing) আবেদন করবেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ইতোমধ্যে যেসব মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে রায় দিয়েছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণের নজির অত্যন্ত বিরল। কয়েক দশক ধরে এমন কোনো আবেদন গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট।   গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেয়, যার মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালত রায়ে উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির আইনগত এখতিয়ারের আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা জন্মসূত্রেই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। আদালতের মতে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ওই সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ট্রাম্প এই রায়কে ‘ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা’ (Miscarriage of Justice) বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি John Roberts রচিত এই রায়ের কঠোর সমালোচনা করে তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, “আমেরিকার নাগরিকত্ব বিক্রির জন্য নয়। নাগরিকত্ব নিয়ে যে অপব্যবহার হচ্ছে, তা অপরাধ। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভুল। আমি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করব।”   দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ট্রাম্প অবৈধ ও বৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, বর্তমান আইনের সুযোগ নিয়ে কিছু বিদেশি পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে সমালোচনা করে আসছিলেন।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ আদালত সাধারণত কেবল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এমন আবেদন বিবেচনা করে থাকে। ফলে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২০:২৮
ম্যাডি ওলসন ও তাঁর স্বামী I ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে নিজের হাতে স্বপ্নের বাড়ি গড়লেন দম্পতি, মাসিক মর্টগেজ ৯০০ ডলারেরও কম

অবিনাশ নারনে I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নববিবাহিত স্ত্রীকে হত্যার পর প্রেমিকাকে লাশের ছবি পাঠালেন ভারতীয় স্বামী

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ফুড ডেলিভারির সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হকের জানাজা আগামীকাল

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারতীয় এইচ-১বি ও স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে ইচ্ছুক এবং বর্তমানে সেখানে কর্মরত পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। সদ্য পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বহুল আলোচিত এইচ-১বি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।   একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি (OPT) প্রোগ্রামেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই প্রকাশ হতে যাওয়া এই চূড়ান্ত নীতিমালায় এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্টের (EAD) স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির দীর্ঘদিনের সুবিধাও বাতিল করা হবে।   নতুন এই নিয়মগুলো বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে বার্ষিক ৮৫ হাজার কোটার বাইরে যেসব বিশেষ ছাড় ছিল, সেগুলো সীমিত করা হতে পারে। পাশাপাশি থার্ড-পার্টি ক্লায়েন্টের কাছে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের আরও বেশি নথিপত্র দাখিলের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে।   অন্যদিকে ইএডি (EAD) বা কাজের অনুমতির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর বাড়বে না। ফলে বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর নতুন অনুমোদন না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না, যা অভিবাসীদের আর্থিক ও পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও আসছে বড় ধরনের ধাক্কা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা বা প্রোগ্রাম শেষ হওয়া পর্যন্ত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। কিন্তু নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (সম্ভবত চার বছর) বেঁধে দেওয়া হতে পারে। এরপর সেখানে থাকতে চাইলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে।   এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বা স্টেম (STEM) শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা দুই বছরের ওপিটি (OPT) মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাতেও কাঁটছাঁট করার কথা ভাবা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মেধাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি বদলে দিতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৮:৩৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউজার্সিতে নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর ফেডারেল এজেন্টের আত্মহত্যা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

অ্যালাবামায় শাসন করায় জন্মদাত্রী মাকে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে, রাস্তায় আহত পিতার আর্তনাদ

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় কুমিরের মুখ থেকে ছেলেকে ছিনিয়ে আনলেন বাবা, তবু বাঁচানো গেল না হাত

0 Comments