ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা (SSU) যৌথভাবে চালানো সফল ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগরে মোতায়েন রাশিয়ার শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘অ্যাডমিরাল এসেন’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার ফলে জাহাজটি বর্তমানে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ‘কালিবার’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ক্ষমতা হারিয়েছে।
হামলা ১ ও ২ মার্চের মধ্যবর্তী রাতে রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরে পরিচালিত হয়। হামলায় রণতরীটির কেন্দ্রীয় কাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ১৮ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। জাহাজের প্রধান নজরদারি রাডার ‘ফ্রেগেট-এম২এম’, বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশক ‘জেডআর-৯০ ওরেখ’, এবং ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ‘টিকে-২৫’ অকেজো হয়েছে। এছাড়া জাহাজের আটটি কালিবার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই অভিযানে নভোরোসিস্ক বন্দরের একটি তেল টার্মিনালেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার আরও তিনটি জাহাজ—‘ভ্যালেন্টিন পিকুল’, ‘ইয়েস্ক’ এবং ‘কাসিমভ’—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাডমিরাল এসেনের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ অকেজো হওয়া কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌ-শক্তির জন্য বড় ধাক্কা। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন একের পর এক ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার নৌবহরকে চাপের মধ্যে রেখেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সম্বোধন করে এক কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানকে সামরিকভাবে কাবু করার যে কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হিতে বিপরীত হবে। আরাগচি লিখেছেন, "মিস্টার প্রেসিডেন্ট, দ্রুত এবং পরিষ্কার সামরিক বিজয়ের জন্য আপনার ‘প্ল্যান এ’ ব্যর্থ হয়েছে। মনে রাখবেন, আপনার ‘প্ল্যান বি’ হবে আরও বড় পরাজয়।" বিবৃতিতে ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক আক্ষেপ করে বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনার টেবিলে একটি 'অনন্য চুক্তির' যে সুযোগ ছিল, তা নষ্ট হয়ে গেছে। ইসরায়েল-ঘেঁষা মার্কিন নীতির সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন, "‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ নীতির অর্থ হলো সর্বদা ‘আমেরিকা লাস্ট’ বা আমেরিকাকে তলানিতে রাখা।"
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতে ইরানের অবস্থান দৃঢ় ও সুসংগঠিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও ইসরাইলের সমর্থিত আক্রমণের মধ্যেও তেহরান বীরদর্পে প্রতিরোধ চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বিজয়কে কঠিন করে তুলেছে। চীনা-কানাডীয় বিশ্লেষক অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেল ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’-তে মন্তব্য করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে ইরান এই ধরনের সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের প্রক্সি বাহিনী—হুথি, হিজবুল্লাহ ও হামাস—যুক্তরাষ্ট্রের মানসিকতা ও কৌশল বুঝে নিয়েছে। জিয়াং আরও বলেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করবে। তার বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আক্রমণ সত্ত্বেও ইরানের প্রতিরোধ শক্তিশালী এবং এটি জয় নিশ্চিতভাবে ঘিরে কঠিন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে লক্ষ্য করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলা ষষ্ঠ দিনে পদার্পণ করেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে এখন পর্যন্ত পুরো অঞ্চলজুড়ে নিহতের সংখ্যা ১,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে লেবানন, কুয়েত, ইরাক এবং সিরিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও এই সংঘাতের কবলে পড়েছে। ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১,২৩০ জন। যুদ্ধের প্রথম দিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও শিক্ষক নিহত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) কতজন সদস্য রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আঞ্চলিক প্রভাব ও হতাহতের চিত্র যুদ্ধ কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের দেশগুলোতেও। লেবানন: ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটিতে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইরাক ও সিরিয়া: ইরাকে ১১ জন মিলিশিয়া সদস্যসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার সুয়েদা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপসাগরীয় দেশসমূহ: কুয়েতে ইরানি হামলায় দুই সৈন্যসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাহরাইন, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েতের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা 'মাগেন ডেভিড অ্যাডম' জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্যের হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। অস্থিরতার মুখে বিশ্ব গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। যুদ্ধের ফলে ওমান উপকূলে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা জাগিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।