আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নেপথ্যে যে কারণ

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝেই নিজেদের শক্তির জানান দিল যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘মিনিটম্যান-৩’। গত মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত এই পরীক্ষা বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক যুদ্ধের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।


ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের পর কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে। ‘ডুমসডে’ বা ‘কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র’ হিসেবে পরিচিত এই মিনিটম্যান-৩ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম। এর সবথেকে ভীতিজাগানিয়া বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একসাথে একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।


যদিও মার্কিন এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড দাবি করেছে যে, এটি একটি নিয়মিত পরীক্ষা এবং বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে এই পরীক্ষাকে তেহরানের প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানের ওপর আরও কঠোর আক্রমণের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প মার্কিন পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় জোরদার করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, এই পরীক্ষা তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেদের পারমাণবিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র এই প্রদর্শনীর পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
শেষকৃত্য ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা: দফায় দফায় পরিকল্পনা বদল ও উত্তরসূরি নিয়ে ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যু-পরবর্তী শেষকৃত্যের সূচি নিয়ে এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ১ মার্চ তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে চলতি সপ্তাহে একাধিকবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা শঙ্কা, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে অনীহা এবং পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের অমীমাংসিত প্রশ্নই এই বিলম্বের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।   প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরান, কোম এবং মাশহাদ—এই তিন শহরে শোকমিছিল শেষে তাঁর নিজ শহরে দাফনের কথা ছিল। কিন্তু এর একদিন পরই তাঁর স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদের মৃত্যুর খবর আসায় পরিকল্পনা বদলে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে যৌথ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দফায় দফায় অসংগতি দেখা দেয়। সকালে কফিন তেহরানের মোসাল্লায় রাখার কথা থাকলেও দুপুরে তা স্থগিত করে সন্ধ্যায় নেওয়া হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পর আবারও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। বুলেপ্রুফ কাঁচের ঘেরা তৈরি করে সেখানে কফিন প্রদর্শনের প্রস্তুতিও দেশটিতে বিরাজমান চরম নিরাপত্তা অস্থিরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।   নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে এবং ইসরায়েলের কঠোর হুঁশিয়ারির মুখে ইরান কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় অংশ নিতে আসা হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া তেহরানেই নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ও হুথি নেতাদের মধ্যে এবার উপস্থিত হওয়া নিয়ে প্রবল ভীতি কাজ করছে। যদিও চীন ও রাশিয়ার নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে প্রভাবশালী বৈশ্বিক নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি।   এদিকে, দাফনের আগেই নতুন উত্তরসূরি ঘোষণা করা হবে কি না, তা নিয়ে ইরানি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র বিভাজন দেখা দিয়েছে। অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের সদস্য আহমদ খাতামি জানিয়েছেন, উত্তরসূরি নির্বাচনে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কেউ কেউ দাফনের আগে ঘোষণা দেওয়াকে অনুচিত মনে করলেও, অন্য পক্ষ মনে করছে বিশাল জনসমাবেশে নতুন নেতার নাম ঘোষণা করলে সরকারের বৈধতা ও ঐক্য দৃঢ় হবে। বিশেষ করে এ বছরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর জনসমর্থন প্রমাণের জন্য একটি বিশাল গণজমায়েত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ এখন মরিয়া হয়ে বিভিন্ন শহর থেকে বাসযোগে লোক আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ মার্চ ৬, ২০২৬ 0
শ্রীলঙ্কার জলসীমার বাইরে ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজ 'আইরিস ডেনা'র নিহত ইরানি নাবিকদের মরদেহ একটি যানবাহন থেকে নামাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। গালে, বুধবার ৪ঠা মার্চ ২০২৬।

তোপের মুখে মোদি, ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিতে যে কারনে লজ্জায় পড়েছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নেপথ্যে যে কারণ

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’

ইরানি ড্রোনের হামলায় বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব যুদ্ধজাহাজ ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে স্কুলে ভয়াবহ হামলা: ১৬০ শিশুর প্রাণহানির নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।   হামলার শিকার হওয়া শিশুদের অধিকাংশেরই বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করার প্রথম দিনেই এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে।   দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্ট (SCMP) এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন যে এই প্রাণঘাতী হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীই দায়ী হতে পারে। তবে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনও চূড়ান্তভাবে এর দায় স্বীকার করেনি।   তদন্তে যা উঠে এসেছে: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলটির পাশেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) একটি নৌঘাঁটি অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী ওই নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় ভুলবশত স্কুল ভবনটি ধসে পড়ে। স্যাটেলাইট চিত্র এবং ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দোতলা বিশিষ্ট 'শাজারেহ তাইয়েবেহ' স্কুল ভবনটির অর্ধেকেরও বেশি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।   ইরান ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: ইরান এই হামলাকে ‘বর্বর ও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর এই ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ইউনেস্কো এবং ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন। নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কখনও স্কুল বা বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পর খোদ মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মারজোরি টেলর গ্রিনও এই ট্র্যাজেডিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন।   মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে কয়েক দশকের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিলুফা ইয়াসমিন মার্চ ৬, ২০২৬ 0
আয়াতুল্লাহ খামেনি

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যায় ব্যবহৃত ‘মিসাইল ফ্রম স্পেস’ আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে এই মারাত্মক অস্ত্র?

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল

ইরান–ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাব: কোন দেশে কতজন নিহত ও আহত

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র—সিএনএন সাক্ষাৎকারে সাবেক জয়েন্ট চিফস প্রধান

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র—সিএনএন সাক্ষাৎকারে সাবেক জয়েন্ট চিফস প্রধান

ছবি: সংগৃহীত
যথেষ্ট হয়েছে, আর ধ্বংস ও যুদ্ধ নয়: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং এর ফলে হাজার হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন-এর সঙ্গে ফোনালাপে বৈরুতসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।   সানচেজ বলেন, বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়াতে লেবাননের জনগণ স্পেনের পূর্ণ সমর্থন ও মানবিক সহায়তা পাবে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, “এবার যথেষ্ট হয়েছে। আর ধ্বংস নয়, আর যুদ্ধ নয়।”   উল্লেখ্য, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গেও মতবিরোধে জড়িয়েছেন স্পেনের এই প্রধানমন্ত্রী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সত্য হয়েছে দুটি, শুইচিনের তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী ‘যুদ্ধে ইরানের কাছে হেরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র’

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অনেক ড্রোন আটকাতে সক্ষম নয় মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ট্রাম্প প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আবারও মিসাইল ছুড়েছে ইরান

0 Comments