আন্তর্জাতিক

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ট্রাম্পের নামে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট' রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই নতুন নাম কার্যকর হলেও, যাত্রীদের পরিচিত তিন অক্ষরের পুরোনো এয়ারপোর্ট কোডটি (PBI) বদলাতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস গত মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্মানে এই নাম পরিবর্তনের আইনে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৯ জুলাই থেকে নতুন এই নাম কার্যকর করা হয়েছে।   নাম পরিবর্তন হলেও আগামী ১৮ আগস্টের আগে বিমানবন্দরের কোড ‘PBI’ পরিবর্তন করে নতুন কোড ‘DJT’ করা হচ্ছে না। এর অর্থ হলো, মাঝের এই ৪০ দিন পাইলট, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এবং এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা নতুন কোড ব্যবহার করলেও সাধারণ যাত্রীরা টিকেটিং এবং ফ্লাইটের তথ্যের জন্য পুরোনো কোডই ব্যবহার করবেন। অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ গ্রুপের এয়ারলাইন শিল্প বিশ্লেষক হেনরি হার্টেভেল্ড জানান, যাত্রীদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় এবং লাগেজ যেন সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়, সেজন্য এয়ারলাইনগুলো তাদের সিস্টেমে বিশেষ ব্যবস্থা বা ‘হার্ড কোডিং’ যুক্ত করেছে। ফলে যাত্রীরা ওয়েবসাইটে পুরোনো কোড লিখে সার্চ দিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নামের ফ্লাইটের তথ্যই দেখতে পাবেন। এছাড়া ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদেরও নতুন নামের পরিবর্তে শুধু 'ওয়েস্ট পাম বিচ'-এ স্বাগত জানানোর স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।   সাধারণত ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আয়াটা) খুব সহজে এয়ারপোর্ট কোড পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় না। বিমান চলাচল নিরাপত্তার মতো জোরালো কারণ ছাড়া এটিকে স্থায়ী হিসেবেই ধরা হয়। তবে পাম বিচ বিমানবন্দরে চলাচলকারী শীর্ষস্থানীয় মার্কিন এয়ারলাইন্স, যেমন- ডেল্টা, ইউনাইটেড, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, জেটব্লু এবং সাউথওয়েস্টের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই কোড পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরটির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও যাত্রীদের আগামী আগস্ট পর্যন্ত পুরোনো কোডটিই ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও তার ফ্লোরিডার বিলাসবহুল রিসোর্ট মার-এ-লাগোতে যাতায়াতের জন্য নিয়মিত এটি ব্যবহার করে থাকেন।   গত মে মাসে পাম বিচ কাউন্টির কমিশনাররা এই নামকরণের লাইসেন্সিং চুক্তিতে অনুমোদন দেন। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে যেকোনো বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যবহারের জন্য ট্রেডমার্কের আবেদন করার পরই এই চুক্তিটি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম, ছবি বা অবয়ব ব্যবহার করতে পারলেও, এই বিমানবন্দর থেকে বিক্রি হওয়া কোনো পণ্য বা সেবা থেকে ট্রাম্প নিজে কোনো রয়্যালটি বা লভ্যাংশ পাবেন না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের নামে নামকরণের দিক থেকে এটি দেশের ১২তম বিমানবন্দর।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের যৌন শোষণের দায়ে ফ্লোরিডার বাসিন্দার ৩০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ভ্রমণের মাধ্যমে শিশুদের যৌন শোষণের মতো জঘন্য ও ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তিকে ৩০ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্বের যে প্রান্তেই হোক না কেন, শিশু নির্যাতনকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই রায়ের মাধ্যমে শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও শোষণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বিষয়টিই নতুন করে স্পষ্ট করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা এই জঘন্য অপরাধের বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসামির এই বিকৃত কর্মকাণ্ড কেবল একাধিক শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের মাধ্যমেই গুরুতর ক্ষতি সাধন করেনি, বরং সে এই নির্যাতনের দৃশ্যগুলো স্মৃতি হিসেবে ধারণ করে অন্যান্য অপরাধীদের কাছেও তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগী শিশুদের ক্ষতির মাত্রা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।   মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিশু যৌন নির্যাতনকারী কোনো অপরাধীই যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ডুভা আরও জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিসরে যেখানেই শিশুদের ক্ষতি করুক না কেন, তাদের অবশ্যই কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে বিচার বিভাগ বদ্ধপরিকর। এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় এমন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের জন্য একটি সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি জেনে ব্যাগ ফেরত দিল ‘নীতিবান চোর’, সঙ্গে ক্ষমা চেয়ে চিঠি

কাতারের রাজধানী দোহায় এক ফিলিস্তিনি নারীর ব্যাগ চুরি করার পর সেটি আবার ফিরিয়ে দিয়েছে চোর। শুধু ব্যাগ ফেরতই নয়, নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি হাতে লেখা চিঠিও রেখে গেছে সে। ব্যতিক্রমী এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের বাড়ির দরজার সামনে চুরি হওয়া ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগে থাকা ২৭৫ মার্কিন ডলার নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র—সবই অক্ষত ছিল।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাগটি চুরির পর এর ভেতরের কাগজপত্র দেখার সময় চোর জানতে পারে, ব্যাগের মালিক একজন ফিলিস্তিনি নারী এবং তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এরপরই সে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   ব্যাগের সঙ্গে রাখা হাতে লেখা একটি চিরকুটে চোর লিখেছে, “আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি জানতাম না যে আপনি একজন ফিলিস্তিনি। যদি আগে জানতাম, তবে আমি কখনই আপনার জিনিস চুরি করতাম না।”   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিঠির আরেকটি সংস্করণে লেখা ছিল, “আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনি ফিলিস্তিনি তা জানা থাকলে আমরা কখনই এই কাজ করতাম না। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই রসিকতার ছলে চোরকে ‘নীতিবান চোর’ বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, চুরি অবশ্যই অপরাধ; তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে ব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক এবং ব্যতিক্রমী।   সূত্র: আল জাজিরা

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু নীতি থেকে এক পা-ও নড়বে না ইরান

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যেই নিজেদের বর্তমান অবস্থান ও নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একটি চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আগে পরমাণু কর্মসূচির বিদ্যমান অবস্থায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য তেহরানের আমন্ত্রণ জানানোর যে খবর চাউর হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে দেশটি।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তেহরান কর্তৃক আইএইএ-কে পরমাণু কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর খবরটি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া খবরগুলো মোটেও সত্য নয় এবং এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।   যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সমঝোতা স্মারকের বিষয়টি উল্লেখ করে ইসমাইল বাঘাই বলেন, চূড়ান্ত কোনো চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান স্থিতি (স্ট্যাটাস কো) কঠোরভাবে বজায় রাখবে। তবে পরমাণু নীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন না এলেও, বুশেহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে পূর্বের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী চলমান নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল, শত্রুর বুকে বজ্রাঘাত হানতে প্রস্তুত ইরানি সেনারা

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের নতুন অধ্যায়ের সূচনা এবং প্রভাবশালী বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করার কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে শত্রুদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই বিশেষ বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী, আধুনিক এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।   ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে আলি আবদুল্লাহি বলেন, তাদের এই অবিচল প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি ইরানকে একটি প্রভাবশালী ও অদম্য বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত করেছে। দেশের অকুতোভয় সামরিক বাহিনী সব সময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে এই কমান্ডার জানান, শত্রুর যেকোনো উসকানি বা আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও চূড়ান্ত জবাব দিতে তাদের সেনাদের 'ট্রিগারে আঙুল' প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে শত্রুর বুকে সরাসরি ও নিখুঁত আঘাত হানতে তারা বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ করবে না।   মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এই আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল নিয়ে কড়া মন্তব্য, পরে পোস্ট মুছে ফেললেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইসরায়েলকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পোস্ট মুছে ফেলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তার ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যান্সারসদৃশ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে সমালোচনার মুখে পড়ে কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।   ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গাজা, ইরান এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের জন্য তিনি ইসরায়েলকে দায়ী করেন।   এই মন্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর কার্যালয় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সংলাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।  

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার ব্যালকনিতে নতুন নির্বাচিত পোপ চতুর্দশ লিও। ভ্যাটিকান, ৮ মে ২০২৫। ছবি: এপি
পোপ লিও চতুর্দশ ট্রাম্পকে আহ্বান: ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেকে সরে আসুন

ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ লিও চতুর্দশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে আহ্বান জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।   রোমের অদূরে কাস্তেল গান্দোলফো-তে নিজের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ বলেন, “আমি জানতে পেরেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি, তিনি কার্যকর কোনো পথ খুঁজছেন, যা যুদ্ধ থেকে বের হতে সহায়তা করবে।”   তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট সহিংসতার মাত্রা কমানোর কোনো উপায় খুঁজে পাবেন এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, পোপের এই আহ্বান কেবল নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং আঞ্চলিক মিত্রদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।   সূত্র: আল–জাজিরা

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত, তবে চায় ভবিষ্যতের হামলার বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা

ইরান চলমান সংঘাতের অবসানে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়া নিশ্চিত করতে চায়। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা-র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেন, “সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা রয়েছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার জন্য অপরিহার্য শর্ত পূরণ হতে হবে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আগ্রাসন যেন পুনরায় না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা থাকতে হবে।”   ইরান দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েছে, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা তাদের জন্য প্রধান শর্ত।   ইরানের যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে ৩.৬ শতাংশ উত্থান দেখিয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যু/দ্ধ যেভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরাকের সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে

পারস্য উপসাগরের ওমান উপকূলে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি বিশাল মালবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ওমানের মাস্কাট বন্দরের কাছে সংঘটিত এই হামলায় জাহাজটির দুইজন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটির নাম ‘এমটি মার্সার স্ট্রিট’, যা লন্ডন ভিত্তিক একটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল।   ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং এর মূল ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পরপরই ওমানের কোস্টগার্ড এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। নিহত দুই নাবিকের মধ্যে একজন ব্রিটিশ এবং অন্যজন রোমানিয়ান নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরান কেবল ইসরায়েলের শত্রু নয়, তারা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।”   বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ওমান বরাবরই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও, তাদের জলসীমার এত কাছে এই হামলা ওমানের নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর (5th Fleet) আক্রান্ত জাহাজটিকে নিরাপত্তা দিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এই রুট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে।

Unknown মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে ইরান: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা দাবির বেশিরভাগই তেহরান মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “তারা আমাদের বেশিরভাগ দাবি মেনে নিয়েছে। কেন নেবে না?” তিনি জানান, আলোচনা সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলছে এবং তা ইতিবাচক অগ্রগতির পথে রয়েছে।   ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তার ভাষ্য, “তারা আমাদের ২০ জাহাজভর্তি তেল দিয়েছে, যা আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে।”   মার্কিন প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা আরোপ, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং ইসরায়েল-কে স্বীকৃতি দেওয়া।   তবে সব শর্তে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।   এর আগে রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, কিংবা নেব না। আমাদের হাতে অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে,” যোগ করেন তিনি।   পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখনো স্পষ্ট না হলেও সংশ্লিষ্ট মহল এ আলোচনার অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী
ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া জবাব অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতিবাচক মন্তব্যের সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।   শুক্রবার (২৭ মার্চ) ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা কোনো অনুরোধই অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং ওয়াশিংটন ও ইসরাইল এই যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্র দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   সম্প্রতি এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তাদের প্রতিক্রিয়া তাকে বিস্মিত করেছে। এর জবাবে অ্যালবানিজ বলেন, হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার গঠনমূলক সম্পর্ক রয়েছে, তবে ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়াকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, যা সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব কেবল নিজেদের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করা।   এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় একটি ‘ই-সেভেন-এ ওয়েজটেইল’ নজরদারি বিমান ওই অঞ্চলে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। তবে হরমুজ প্রণালিতে তেলের ট্যাঙ্কার পাহারায় সরাসরি অংশ নেওয়া নিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় ছিল ক্যানবেরা। পরে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে ২২টি দেশের একটি জোটে যোগ দেয় দেশটি।   অ্যালবানিজ বলেন, এখন পর্যন্ত যে কয়টি সুনির্দিষ্ট অনুরোধ তাদের কাছে এসেছে, তার প্রতিটিই পূরণ করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে মার্কিন সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, ইরানের ড্রোন হা/মলার দাবি

সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ এ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের সুলতান আমির ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিকঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব দাবিকে বারবার ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।   এ ছাড়া কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সেনা ও বিমানঘাঁটিগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে এখনো মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিট সদর দপ্তর এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেও হামলার কথা বলা হয়েছে।  

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। ইরানের হুমকি এবং জাহাজে হামলার আশঙ্কায় এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান দেখা যাচ্ছে না।   বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সারের একটি বড় অংশও এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই প্রণালিতে অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।   জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করাতে মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সামরিক ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে ইরান এখনো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সস্তা ড্রোন প্রযুক্তি, সমুদ্র মাইন এবং ভিন্নধর্মী রণকৌশল মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এ অবরোধকে ইরান শুধু যুদ্ধ কৌশল হিসেবেই নয়, আয়ের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করছে। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত দুটি বড় জাহাজ অর্থ পরিশোধ করে এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্দিষ্ট ট্যাঙ্কারকে নিরাপদ পারাপারের সুযোগ দিয়ে এ ধরনের ফি আদায় অব্যাহত রাখা হতে পারে। এর ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মেরুকরণও বাড়ছে। সূত্র: সিএনএন  

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
Newspaper
পত্রিকা: বিষাদে বিলীন ঈদ আনন্দ

ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো—   কালের কণ্ঠ: ‘বিষাদে বিলীন ঈদ আনন্দ’  রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর টানা উদ্ধার অভিযানে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সব মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে যার মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও আছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন করে কেউ না আসায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে এত বড় দুর্ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একসঙ্গে এত প্রাণহানিতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ফেরিতে ওঠার সময় তাড়াহুড়ো এবং প্রতিযোগিতাও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনার পরপরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনেক পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কেউ হারিয়েছেন সন্তান বা স্বজন। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে। দেশ রূপান্তর: ‘সর্বনাশী পদ্মায় বিষাদের ঢেউ’     রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মহান স্বাধীনতা দিবসে যেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায়। কেউ কেউ জানালা ও দরজা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ যাত্রী বের হতে পারেননি।   দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় ডুবে যাওয়া বাসটি পন্টুনে তোলা হয়। ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখে পরদিন বিকেল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ডুবুরি দল নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।   এই দুর্ঘটনায় বহু পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে। কারও একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আবার কারও সন্তান বা স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিঘাটের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়ানো যায়।     আজকের পত্রিকা: ‘তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ’     এই খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।   নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং আট হাজারের বেশি কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা কোটা লঙ্ঘন, স্থায়ী ঠিকানা গোপন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে অনিয়ম করে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এসব নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানি জাহাজ চলাচলে ইরানের সম্মতি’     প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জ্বালানি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।   বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানকেও এই সুবিধার আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।   সমকাল: ‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস আনতে বিকল্প আট দেশে নজর’     মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ।   সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, অ্যাঙ্গোলা ও থাইল্যান্ডসহ আটটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব দেশ থেকে জ্বালানি বহনকারী ২১টি জাহাজ এসেছে এবং আরও চালান আসার কথা রয়েছে।   যদিও এসব উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল, তবে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ইত্তেফাক: ‘জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৪৮০ কোটি ডলার বাড়ার আশঙ্কা’     আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।   বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ব্যয় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।   দ্য ডেইলি স্টার: ‘ছুটির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন’     ঈদের দীর্ঘ ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।   পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য পরিকল্পিত অনেক জ্বালানি চালান এখনো নিশ্চিত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।   প্রথম আলো: ‘ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অরক্ষিত পন্টুন’     প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।   রেলিংবিহীন পন্টুন, ভাঙাচোরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে ওঠার প্রতিযোগিতা এবং নিয়ন্ত্রণহীন যান চলাচল ফেরিঘাটকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।   বণিক বার্তা: ‘সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে আসছে না প্রকৃত হতাহতের তথ্য’     সাম্প্রতিক সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।   বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবল সংকট ও দক্ষতার অভাবে এই তথ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।   মানবজমিন: ‘সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ’     স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে শহীদদের স্মরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার 

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাতের চলাকালীন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন । ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে ভাবনায় ইরান: শর্ত পূরণে মিলতে পারে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো অনাগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান।   বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারে ইরান। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয়।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।   আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত দিয়েছে।   এদিকে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও তা প্রকাশ্যে বলতে ভয় পাচ্ছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ, সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   তবে হোয়াইট হাউস এ প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ না করে উল্টো হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসরায়েলও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এসব শর্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে আগাম হামলার সুযোগ বজায় রাখতে চায় ইসরায়েল।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   তবে পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। ইরানের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং পাল্টা হিসেবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে।   বুধবার ইসরায়েল নতুন করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় হামলার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর বিশ্ব শেয়ারবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিকল্প খোলা রাখতে নতুন করে হাজারো সেনা পাঠানো হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০