মধ্যাঞ্চলীয় ইসরাইল-এর গুরুত্বপূর্ণ শহর পেটাহ তিকভা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র রামাত গান-এ শক্তিশালী ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেডসমৃদ্ধ একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। চ্যানেল ১২-এর বরাতে বলা হয়, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও ভেতরের ধাতব কণা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে জানায়, এতে অবকাঠামো ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে।
পরবর্তীতে রাজধানীসংলগ্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব-এও ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানানো হয়। এতে কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে অভিযান চালায় এবং আহতদের চিকিৎসা দেয়। পুলিশ সম্ভাব্য অবিস্ফোরিত অংশ শনাক্তে এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালায়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দাবি করেছে, চার দিনের সংঘাতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান জানায়, নিহতদের মধ্যে বহু শিশু রয়েছে এবং অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
সংঘাতের জেরে ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, এ পথে চলাচলের চেষ্টা করলে জাহাজে হামলা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্ব তেল সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক তৎপরতার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র আগাম পদক্ষেপ নেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, সংঘাতে কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন।
উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য সাইপ্রাসে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেয়।
অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন। তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই বিষয়ে বাহরাইনের নেতৃত্বের সঙ্গেও আলোচনা হয়।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা বৈশ্বিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। তার মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে।
সূত্র : টাইমস নাউ, তাস, রয়টার্স, আল-জাজিরা, ডেইলি সাবাহ, নিউইয়র্ক টাইমস।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কারা আসছেন এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখন এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে চায় বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি আইন পেশায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নামও আলোচনায় রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির নীতিনির্ধারণী রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে এই পদের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–এর নামও আলোচনায় উঠেছিল। তবে তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, তাই এখনই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অপ্রয়োজনীয়। অন্যদিকে স্পিকার পদে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এ তালিকায় আছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। দলীয় সূত্র বলছে, সংসদ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে স্পিকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী ১২ মার্চ বসতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ–এর ত্রয়োদশ অধিবেশন। ওই অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকার পদ বিবেচনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ–কে নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করান। তবে বিএনপি নেতৃত্ব এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও রাজনৈতিক কৌশল বিবেচনায় রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম।
মধ্যাঞ্চলীয় ইসরাইল-এর গুরুত্বপূর্ণ শহর পেটাহ তিকভা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র রামাত গান-এ শক্তিশালী ফ্র্যাগমেন্টেশন ওয়ারহেডসমৃদ্ধ একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। চ্যানেল ১২-এর বরাতে বলা হয়, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও ভেতরের ধাতব কণা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে জানায়, এতে অবকাঠামো ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে। পরবর্তীতে রাজধানীসংলগ্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব-এও ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানানো হয়। এতে কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে অভিযান চালায় এবং আহতদের চিকিৎসা দেয়। পুলিশ সম্ভাব্য অবিস্ফোরিত অংশ শনাক্তে এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালায়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দাবি করেছে, চার দিনের সংঘাতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন। মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান জানায়, নিহতদের মধ্যে বহু শিশু রয়েছে এবং অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। সংঘাতের জেরে ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, এ পথে চলাচলের চেষ্টা করলে জাহাজে হামলা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্ব তেল সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক তৎপরতার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র আগাম পদক্ষেপ নেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, সংঘাতে কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন। উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য সাইপ্রাসে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পর ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেয়। অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন। তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই বিষয়ে বাহরাইনের নেতৃত্বের সঙ্গেও আলোচনা হয়। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা বৈশ্বিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। তার মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে। সূত্র : টাইমস নাউ, তাস, রয়টার্স, আল-জাজিরা, ডেইলি সাবাহ, নিউইয়র্ক টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মাশহাদে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। ইরানিদের কাছে মাশহাদ একটি পবিত্র শহর হিসেবে পরিচিত। খবরে বলা হয়, ৮৬ বছর বয়সী খামেনির ওপর গত শনিবার সকালে হামলা চালানো হয়। মৃত্যুর আগে টানা ৩৬ বছর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার জন্মও মাশহাদেই। সেখানে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তার পিতার কবর রয়েছে। জানা গেছে, জীবদ্দশায় খামেনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হয়। তবে তার দাফনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।