- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরি সুবিধা নিয়ে দায়ের করা একটি শ্রেণি-আদালত মামলার নিষ্পত্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের মূল ক্রেতারা প্রতি ডিভাইস ২৫ ডলার করে পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। বৈধ দাবির সংখ্যা কম হলে এই অর্থ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মামলাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ‘ল্যান্ডশেফট বনাম অ্যাপল’ মামলায় অভিযোগ করা হয়, আইফোন ১৫ প্রো ও আইফোন ১৬ সিরিজের প্রচারের সময় অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিরির যেসব উন্নত সুবিধার কথা জানিয়েছিল, সেগুলো নির্ধারিত সময়ে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বুঝতে পারা, পর্দায় কী দেখা যাচ্ছে তা শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করার মতো সুবিধা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, এসব সুবিধাকে নতুন আইফোনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রচার করা হলেও সেগুলো তখন পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। অ্যাপল অবশ্য মামলার অভিযোগ ও কোনো অন্যায় করার বিষয় অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মামলা নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে অর্থ দিতে সম্মত হলেও এটি কোনো ধরনের দায় বা অন্যায় স্বীকারোক্তি নয়। চলতি বছরের মে মাসে অ্যাপল ২৫ কোটি ডলারের নিষ্পত্তি তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়। জুলাইয়ে আদালত প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে যোগ্য গ্রাহকদের দাবি জমা দেওয়ার সুযোগ চালু হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব আইফোন ব্যবহারকারী এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতে হবে। যোগ্য মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৬, আইফোন ১৬ই, আইফোন ১৬ প্লাস, আইফোন ১৬ প্রো এবং আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স। ডিভাইসটি ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে কিনতে হবে এবং আবেদনকারীকে ওই ডিভাইসের মূল ক্রেতা হতে হবে। অর্থাৎ শুধু এসব মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডিভাইসটি কেনা এবং মামলার শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। পুনরায় বিক্রির জন্য কেনা ডিভাইস এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বে না। প্রতিটি যোগ্য ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মোট কতজন বৈধ দাবি করেন, তার ওপর চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। দাবির সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে প্রতি ডিভাইসে সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। আবার দাবির সংখ্যা বেশি হলে অর্থের পরিমাণ কমেও যেতে পারে। আইনজীবীদের ফি, প্রশাসনিক ব্যয়সহ নিষ্পত্তি তহবিল থেকে অন্যান্য অনুমোদিত খরচও বাদ যাবে। দাবি জমা দিতে হলে নির্ধারিত নিষ্পত্তি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। সেখানে যোগাযোগের তথ্য এবং যোগ্য আইফোনের সিরিয়াল নম্বরসহ ডিভাইস কেনার তথ্য দিতে হতে পারে। যাদের কাছে সিরিয়াল নম্বর নেই, তাদের জন্য অ্যাপল অ্যাকাউন্টের ই-মেইল ও সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর ব্যবহার করে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। দাবি জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ দাবি জমা না দিলে এই নিষ্পত্তি থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি এখনই নিশ্চিত নয়। কারণ নিষ্পত্তিটি আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চূড়ান্ত শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর প্রক্রিয়া শেষ হলে অর্থ বিতরণ শুরু হবে। সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল স্মার্টফোন এআই সেটেলমেন্ট ওয়েবসাইট, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
চুল পড়ার সমস্যা থেকে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ২৭ বছর বয়সে চুল প্রতিস্থাপন করিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের অ্যালেক্স ফিনকেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের চেহারা দেখে তিনিই অবাক হয়ে যান। মাথা ও মুখজুড়ে এমন তীব্র ফোলা দেখা দেয় যে কয়েক দিন নিজেকে ‘ডিমের মতো’ দেখতে লাগছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। চুল প্রতিস্থাপনের জন্য ফিনকেনকে খরচ করতে হয়েছে ১৭ হাজার ৫০০ ডলার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া ও পুরুষদের সাধারণ টাক পড়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিজের চিকিৎসার পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন তিনি। ফিনকেন জানান, কৈশোরের শেষ দিক থেকেই তার চুল পাতলা হতে শুরু করে। ২৪ বছর বয়সে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সামাজিক পরিবেশে টুপি ছাড়া নিজেকে অস্বস্তিকর মনে হতো। শেষ পর্যন্ত নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই চুল প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চিকিৎসার জন্য তিনি ডেনভার থেকে সল্ট লেক সিটিতে যান। চিকিৎসকেরা তার মাথার পেছনের অংশ থেকে মোট ৩ হাজার ৫৩৬টি চুলের ফলিকল সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো মাথার সামনের ও পাতলা হয়ে যাওয়া অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়। ফিনকেনের ভাষ্য, চিকিৎসার মাধ্যমে তার কপালের চুলের রেখা পুনর্গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কপালের দুই পাশ ও মাথার মাঝের পাতলা অংশেও নতুন ফলিকল বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের আগে তিনি জানতেন যে কিছুটা ফোলা হতে পারে। তবে এতটা ফোলা হবে তা কল্পনাও করেননি। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দিন কপালের দুই পাশ ফুলে যায়। দ্বিতীয় দিনে একটি চোখের নিচে কালশিটে পড়ার মতো দাগ দেখা দেয় এবং ফোলা এতটাই বেড়ে যায় যে তার দৃষ্টিতেও কিছুটা বাধা তৈরি হয়। তৃতীয় দিনে সেই ফোলা মাথা থেকে নেমে ঘাড়ের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। নিজের টিকটক অনুসারীদের উদ্বেগের জবাবে ফিনকেন জানান, তার শ্বাসনালি স্বাভাবিক ছিল এবং ফোলার কারণে মস্তিষ্কের কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাথার ত্বকের নিচে তরল জমে যাওয়ার কারণেই এমন ফোলা হয়েছিল। চিকিৎসার পর ফোলা কেন হয়, সে বিষয়ে ফিনকেন বলেন, চুল প্রতিস্থাপনের সময় মাথায় যে স্যালাইন ও স্থানীয় অবেদনকারী ওষুধের দ্রবণ দেওয়া হয়, সেটি ফোলার অন্যতম কারণ। শরীরের লসিকা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং জেনেটিক পার্থক্যের কারণে একজনের তুলনায় অন্যজনের ফোলা বেশি বা কম হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে চিকিৎসার আগে নিজের একটি ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন ফিনকেন। অস্ত্রোপচারের আগের শুক্রবার ও শনিবার তিনি মদ্যপান করেছিলেন। পরে অন্যদের এমনটি না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, মদ্যপান রক্তনালির প্রসারণ ঘটাতে পারে এবং স্থানীয় অবেদনকারীর কার্যকারিতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ফোলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। ফিনকেন জানান, প্রায় তিন দিন পর ফোলার তীব্রতা কমতে শুরু করে এবং পঞ্চম দিনে ব্যথাও প্রায় চলে যায়। প্রথম রাতটি তুলনামূলক কষ্টকর হলেও পুরো পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া তার প্রত্যাশার চেয়ে সহজ হয়েছে বলে জানান তিনি। চুল পড়ার সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রে বেশ সাধারণ। ফিনকেনের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আনুমানিক ৩ কোটি ৫০ লাখ পুরুষের চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়লেও অনেক পুরুষের ৩০ বছর বয়সের আগেই চুল পড়া শুরু হয়। চুল পড়ার প্রভাব শুধু চেহারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এ বিষয়ে প্রকাশিত গবেষণায় আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তি, উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মতো সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিজ্ঞতা ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ফিনকেন টিকটকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার অন্যতম কারণ হিসেবে চুল পড়া এবং চুল প্রতিস্থাপন নিয়ে মানুষের মধ্যে থাকা অস্বস্তি বা সংকোচ কমানোর কথা বলেছেন। নিজের ক্ষেত্রে চুল প্রতিস্থাপনকে আত্মবিশ্বাস ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করার একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। বর্তমানে তার মাথার ফোলা অনেকটাই কমে গেছে এবং প্রতিস্থাপন করা চুলের ফলিকলগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। ফিনকেন বলেন, চিকিৎসার পর ধৈর্য রাখা জরুরি। কয়েক দিনের অস্বস্তি ও অস্বাভাবিক চেহারার অভিজ্ঞতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্তুষ্ট। চুল প্রতিস্থাপনের পর সাময়িক ফোলা একটি পরিচিত বিষয় হলেও সবার ক্ষেত্রে এর মাত্রা এক নয়। তাই চিকিৎসার আগে সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পুনরুদ্ধারের সময় এবং অস্ত্রোপচারের পর করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে বিস্তারিত পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, টিকটক
কোনো পুরুষ বিবাহিত এবং তার স্ত্রী-সন্তান ও সংসার রয়েছে, বিষয়টি জানার পরও তার প্রতি কোনো তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। এমন সম্পর্ককে শুধু বয়সের ব্যবধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, সামাজিক অবস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজ করে এ ধরনের আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। তবে শুরুতেই মনে রাখা দরকার, সব তরুণী বয়স্ক বা বিবাহিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন না। আবার বয়সে বড়-ছোট হওয়ার বিষয়টিও কোনো সম্পর্কের প্রকৃতি বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণাতেও এমন কোনো একক কারণ পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে এ ধরনের সম্পর্ককে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। বয়স্ক পুরুষের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক সময় তরুণীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। জীবনের কোনো অনিশ্চিত বা কঠিন সময়ে স্থির, অভিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী কাউকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য মনে হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, সামাজিক পরিচিতি কিংবা জীবনের প্রতি পরিণত দৃষ্টিভঙ্গিও কারও কাছে আকর্ষণের কারণ হতে পারে। বয়সের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও কখনো যুক্ত হতে পারে। ২০২৫ সালে ‘সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তরুণী ও বয়স্ক পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা ও স্থিতিশীলতার ধারণার ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে গবেষণাটির নমুনা সীমিত এবং অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় এর ফলাফলকে সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। অনেক সময় বয়সের চেয়ে মানুষের আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন পুরুষ যদি নিয়মিত খোঁজ নেন, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন, প্রশংসা করেন কিংবা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার প্রতি ধীরে ধীরে আবেগ তৈরি হতে পারে। শুরুতে বন্ধুত্ব বা পরিচিতির সম্পর্ক থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগের ফলে সেটি অন্য ধরনের অনুভূতিতে পরিণত হতে পারে। বিবাহিত পুরুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তার সংসার ও পারিবারিক দায়িত্ব থাকার কারণে নতুন সম্পর্কটি অনেক সময় গোপনীয়তার মধ্যে গড়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ, গোপন সাক্ষাৎ কিংবা একে অপরের কাছে এমন কিছু বিষয় ভাগ করে নেওয়া, যা অন্যদের সঙ্গে করা হয় না, সম্পর্কের আবেগকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। তবে এটিকে কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বয়সের ব্যবধানযুক্ত সম্পর্ক অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৪ সালে ইউরোপের ২৯টি দেশের প্রায় ৩৬ হাজার দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে তার সঙ্গীর বয়স কিছুটা কম হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আবার ২০২৫ সালের আরেকটি বড় গবেষণায় প্রথম দেখার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিজেদের তুলনায় কিছুটা কম বয়সী সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণের প্রবণতা পাওয়া যায়। মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতেও দেখা যায়, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়সের পছন্দ একেবারে একরকম নয়। অনেক নারী নিজেদের চেয়ে সামান্য বেশি বয়সী পুরুষকে পছন্দ করতে পারেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে নারীদের স্বাভাবিক বা সহজাত পছন্দ কেবল বয়স্ক পুরুষ। এ ধরনের সম্পর্কে মানসিক ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা, নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রশংসার মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের পরিচয় থেকেও কখনো আবেগ তৈরি হয়। শুরুতে পরামর্শ নেওয়া বা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেটি বদলে যেতে পারে। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিবাহিত পুরুষ নিজের বৈবাহিক অবস্থান গোপন করলে কিংবা অন্য ব্যক্তির আবেগকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শুধু তরুণীকে দায়ী করা একপাক্ষিক বিশ্লেষণ হবে। সম্পর্ক তৈরিতে সংশ্লিষ্ট উভয় ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও আচরণই বিবেচনা করা প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান নিজে কোনো সম্পর্ককে সফল বা ব্যর্থ করে না। তবে বয়সের পাশাপাশি অর্থ, সামাজিক অবস্থান ও জীবন-অভিজ্ঞতার বড় পার্থক্য থাকলে সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার পারিবারিক তথ্যভিত্তিক একটি গবেষণায় বয়সে বড় দম্পতিদের বৈবাহিক সন্তুষ্টি সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক দ্রুত কমে যাওয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় বয়স ও ক্ষমতার পার্থক্য তরুণ সঙ্গীর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় তাই শুধু বয়সের ব্যবধান নয়, সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ, সম্মতি, প্রত্যাশা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সম্পর্কের একজন যদি আগে থেকেই বিবাহিত হন, তাহলে তার পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্য সঙ্গীর প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে, স্ত্রী-সন্তান ও সংসার থাকা কোনো বয়স্ক পুরুষের প্রতি একজন তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, জীবন-অভিজ্ঞতা, সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত প্রত্যাশার সমন্বয়ে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের সম্পর্ককে শুধু বয়স বা ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে বিচার না করে এর পেছনের পরিস্থিতি ও সম্পর্কের পারস্পরিক আচরণকে বিবেচনা করাই বেশি বাস্তবসম্মত। সূত্র: ইত্তেফাক, সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি, দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ২৪ ঘণ্টার ভিডিও সম্প্রচার সেবা চালু করেছে। ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামের এই নতুন চ্যানেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের ভিডিও সরাসরি ও নিয়মিত প্রচার করা হবে। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় নতুন এই ভিডিও চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এক জায়গা থেকে দেখার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ। সম্প্রচার শুরুর পর প্রথম দিকের একটি ভিডিওতে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য দেখানো হয়। হোয়াইট হাউসের উপসহকারী প্রেসিডেন্ট কায়লান ডর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এটিকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর ‘নির্বাচিত সম্প্রচার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নতুন সেবাটিতে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনের অন্যান্য ভিডিও সরাসরি ও পরবর্তীতে দেখার সুযোগ থাকবে। হোয়াইট হাউসের এই উদ্যোগের সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সোমবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। সংবাদমাধ্যম তিনটির দাবি, তাদের সংবাদ পরিবেশনের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আদালতের কাছে দ্রুত প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস বলছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে প্রকাশের অধিকার প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত হলেও কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসের বিশেষ অনুমতিপত্র, ব্রিফিং রুমে আসন বা প্রেস পুলে অংশ নেওয়ার স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই। প্রশাসন আরও দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞার পেছনে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দীর্ঘদিনের ভুল বা নেতিবাচক প্রতিবেদন রয়েছে। এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলেও। সাধারণত প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও সফরের ভিডিও ধারণের দায়িত্ব কয়েকটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ফুটেজ পরে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কাছেও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার পর প্রেস পুলের অন্য নেটওয়ার্কগুলোও প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানগুলোর পুল কভারেজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার আগে ট্রাম্পের কার্যক্রমের নিয়মিত টেলিভিশন পুল ক্যামেরা কভারেজও ছিল না। এর পরিবর্তে হোয়াইট হাউস নিজস্ব ভিডিও ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফুটেজ সরবরাহ করে। সোমবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রচলিত টেলিভিশন পুল কভারেজ না থাকায় হোয়াইট হাউস নিজস্ব ক্যামেরায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। তবে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের শব্দের কারণে ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছু অংশ স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ফলে হোয়াইট হাউস এখন প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের ভিডিও সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নিজস্ব একটি মাধ্যম পেল। এর মাধ্যমে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে প্রশাসন সরাসরি দর্শকদের কাছে ভিডিও কনটেন্ট পৌঁছাতে পারবে। তবে নতুন চ্যানেলটির সমালোচনাও শুরু হয়েছে। কিছু সমালোচক এটিকে সরকারি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এসব মন্তব্য মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস এটিকে প্রশাসনের কার্যক্রম জনগণের কাছে সরাসরি তুলে ধরার একটি যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম বলতে সাধারণত এমন সংবাদ সংস্থাকে বোঝানো হয়, যার মালিকানা, অর্থায়ন বা সম্পাদকীয় কার্যক্রম সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের অধীনে থাকে। হোয়াইট হাউসের নতুন ভিডিও সেবা সেই অর্থে আলাদা কোনো স্বতন্ত্র সংবাদ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত এটি প্রশাসনের নিজস্ব ভিডিও সম্প্রচার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এদিকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর করা মামলার শুনানি দ্রুত হতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে নিষিদ্ধ সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা আবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পাবেন কি না। ফলে একদিকে নতুন সরকারি ভিডিও প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রবেশাধিকার নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন একটি বিল আইনে পরিণত হলে লাখো বাড়ির মালিককে বাড়তি হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এইচওএ) ফি দিতে হতে পারে। অ্যাসেম্বলি বিল ২০৫০ অনুযায়ী, আবাসিক কমিউনিটিগুলোর এইচওএকে ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ ও বড় ধরনের সংস্কার ব্যয়ের জন্য ৩০ বছরের রিজার্ভ তহবিল পরিকল্পনা করতে হবে। বিলটি ইতোমধ্যে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় পাস হয়েছে এবং এখন গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিল অনুযায়ী, কোনো এইচওএর ৩০ বছরের আর্থিক হিসাবের কোনো পর্যায়ে রিজার্ভ তহবিল শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে ২০৩২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি বছর তার মোট বাজেটের অন্তত ১৫ শতাংশ রিজার্ভ তহবিলে রাখতে হবে। এই অর্থ ভবিষ্যতে ভবন মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য বড় ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। তবে কোনো এইচওএর বর্তমান বাজেট থেকে এই অতিরিক্ত অর্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব না হলে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে বিশেষ মূল্যায়ন বা ‘স্পেশাল অ্যাসেসমেন্ট’ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে অনেক বাসিন্দার নিয়মিত এইচওএ ফি বাড়তে পারে। ঠিক কতটা বাড়তে পারে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই নিয়মের প্রভাব বড় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবার হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আওতাভুক্ত কমিউনিটিতে বসবাস করে এবং তাদের নিয়মিত ফি দিতে হয়। ইতোমধ্যে বীমা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবন সংস্কারের ব্যয় বাড়ায় অনেক কমিউনিটিতে এই ফি বেড়েছে। বিলটির সমর্থকেরা বলছেন, নতুন নিয়মের ফলে এইচওএগুলো ভবিষ্যতের বড় ধরনের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের জন্য আগে থেকেই অর্থ জমাতে পারবে। এতে হঠাৎ করে বিপুল অঙ্কের বিশেষ চাঁদা বা মূল্যায়ন আরোপের প্রয়োজন কমতে পারে। কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনস ইনস্টিটিউটের ক্যালিফোর্নিয়া লেজিসলেটিভ অ্যাকশন কমিটির আইনবিষয়ক সহসভাপতি রবার্ট ডেনিকিলো সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে বলেন, এই বিল মূলত বাড়ির মালিকানার প্রকৃত ব্যয়কে নিয়মিত বাজেটের মধ্যে আনার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিলটির সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, পর্যাপ্ত সীমা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এটি বাড়ির মালিকদের ওপর দ্রুত অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। কনজিউমার ফেডারেশন অব ক্যালিফোর্নিয়া বিলটির বিরোধিতা করে বলেছে, রিজার্ভ তহবিল রাখা প্রয়োজন হলেও ফি কতটা এবং কত দ্রুত বাড়ানো যাবে, তার ওপর যুক্তিসংগত সীমা থাকা দরকার। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক রবার্ট হেরেল সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে বলেন, বাসিন্দাদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য আরও কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। তার মতে, এইচওএ বোর্ডের সিদ্ধান্তের কারণে বাড়ির মালিকরা যেন অপ্রত্যাশিতভাবে বড় আর্থিক চাপের মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে কোনো এইচওএ ভোট ছাড়াই একটি অর্থবছরে নিয়মিত ফি সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। নতুন বিলটি পাস হলে ভবিষ্যতের রিজার্ভ সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটাতে এর বাইরে বিশেষ মূল্যায়নের ব্যবস্থাও কার্যকর হতে পারে। কনডোমিনিয়াম মালিকদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে ফ্যানি মে কনডোমিনিয়াম অ্যাসোসিয়েশনগুলোর বার্ষিক বাজেটের ১৫ শতাংশ রিজার্ভে রাখার শর্ত আরোপ করতে যাচ্ছে, যা বর্তমানে ১০ শতাংশ। তবে গবেষক নাথান গোডিনের মতে, নিয়মিতভাবে কিছুটা বেশি অর্থ জমা রাখা ভবিষ্যতের বাড়ির মালিকদের ওপর বড় সংস্কার ব্যয়ের চাপ স্থানান্তর ঠেকাতে পারে। তিনি সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে বলেন, বর্তমান মালিকদের সময়ের সঙ্গে ব্যয় ভাগ করে নেওয়া হলে ভবিষ্যতে কোনো নতুন মালিককে হঠাৎ বড় অঙ্কের বিশেষ মূল্যায়নের মুখে পড়তে হবে না। অ্যাসেম্বলি বিল ২০৫০ এখনো আইনে পরিণত হয়নি। গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এতে স্বাক্ষর করা অথবা ভেটো দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে। তাই নতুন নিয়মে বাড়ির মালিকদের ফি ঠিক কতটা বাড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সূত্র: সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল, নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ইন-এন-আউট বার্গারের স্টোর ব্যবস্থাপকদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি। কর্মীদের বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও পেশাগত উন্নয়নে বিনিয়োগের অংশ হিসেবেই এমন পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইন-এন-আউট বার্গারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডেনি ওয়ার্নিক ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির স্টোর ব্যবস্থাপকেরা বছরে গড়ে ২ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হ্যারি ও এসথার স্নাইডারের কর্মী কল্যাণকেন্দ্রিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে ওয়ার্নিক বলেন, কর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতো দেখভাল করা এবং ভালো নিয়োগকর্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তাদের অন্যতম লক্ষ্য। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বেতন দেওয়া সেই দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ইন-এন-আউটের দাবি, সেই নীতিই এখনো চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মালিক ও প্রেসিডেন্ট লিনসি স্নাইডারের নেতৃত্বে কর্মীদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ভালো সুযোগ-সুবিধা, ইতিবাচক কর্মপরিবেশ এবং দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্নিক আরও জানান, ইন-এন-আউটের অনেক কর্মী কয়েক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের দীর্ঘ সময়ের কর্মজীবন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের মূল্যবোধ ও কর্মসংস্কৃতি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে। কর্মীদের জন্য ইন-এন-আউটের বিভিন্ন সুবিধার কথাও প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেতনসহ ছুটি, নমনীয় কর্মসূচি, পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ এবং অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনা। রেস্তোরাঁয় কাজ করা কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মকালীন খাবারের সুবিধাও রয়েছে। ইন-এন-আউট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক একটি পারিবারিক মালিকানাধীন বার্গার চেইন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, অ্যারিজোনা, ইউটা, টেক্সাস, ওরেগন, কলোরাডো, আইডাহো, ওয়াশিংটন ও টেনেসি, মোট ১০টি অঙ্গরাজ্যে তাদের রেস্তোরাঁ রয়েছে। ৪০০টির বেশি শাখায় ৪৪ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির স্টোর ব্যবস্থাপনা পদে সরাসরি নিয়োগের পরিবর্তে কর্মীদের ধাপে ধাপে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে উন্নীত করা হয়। ইন-এন-আউটের নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি স্টোর ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ দেয় না। সাম্প্রতিক সময়ে ইন-এন-আউট খাবারের উপকরণেও পরিবর্তন এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বার্গারের পাউরুটি থেকে তিলের আটা বাদ দিয়েছে এবং আয়োডিনযুক্ত লবণের প্যাকেটের পরিবর্তে সমুদ্রের লবণ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ক্রেতাদের আরও সতেজ ও উচ্চমানের খাবার দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন করা হয়েছে। ইন-এন-আউট ১৯৪৮ সালে হ্যারি ও এসথার স্নাইডার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্নাইডার পরিবারই পরিচালনা করছে এবং এর কোনো শাখা ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় পরিচালিত হয় না। সূত্র: ফক্স বিজনেস, ইন-এন-আউট বার্গার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার নামে এনএডি+ শিরায় দেওয়ার পর ২৭ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে নগরীর প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ লাইসেন্স না থাকা লুইস রোহাস ক্যাবরেরার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ আরও গুরুতর করা হয়েছে। নিহত নারীর নাম এলিজাবেথ ব্যারন। গত ১৯ জুলাই ব্রঙ্কসের রিভারডেল এলাকায় রিভারডেল অ্যাভিনিউয়ের বেরেশিত লাইফস্টাইল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান তিনি। সেখানে ৫৫ বছর বয়সী ক্যাবরেরা তার হাতে শিরায় এনএডি+ নামের একটি পদার্থ দেওয়ার পরপরই ব্যারন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। পরে তাকে নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান অ্যালেন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ক্যাবরেরা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন। তিনি তদন্তকারীদের কাছে বলেছেন, ডোমিনিকান রিপাবলিকে তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন এবং পুয়ের্তো রিকোতে তার চিকিৎসা সহকারী হিসেবে একটি লাইসেন্স রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে চিকিৎসা দেওয়ার বৈধ অনুমতি তার ছিল না। প্রাথমিকভাবে ক্যাবরেরার বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে অন্যের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং অনুমোদন ছাড়া পেশা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ব্যারনের ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশের পর তার মৃত্যুকে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। নিউইয়র্কের প্রধান মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ের মতে, ব্যারনের মৃত্যুর কারণ ছিল হৃদ্যন্ত্রে বায়ু জমে সৃষ্ট এয়ার এমবোলিজম। তদন্তকারীদের মতে, শিরায় থাকা ক্যাথেটারের মাধ্যমে বাতাস প্রবেশের ঘটনাই এ মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ‘হত্যাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেই ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হত্যা প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। ক্যাবরেরার আইনজীবী ডোনাল্ড এইচ. ভোগেলম্যান বলেছেন, চিকিৎসা পরীক্ষকের ব্যবহৃত ‘হোমিসাইড’ শব্দটি সব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত হত্যাকে বোঝায় না এবং তার দাবি, ঘটনাটি দুর্ঘটনাও হতে পারে। তিনি আদালতে তার মক্কেলকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণের কথা জানিয়েছেন। এনএডি+ বা নিকোটিনামাইড অ্যাডেনিন ডাইনিউক্লিওটাইড হলো শরীরে স্বাভাবিকভাবে থাকা একটি কো-এনজাইম। শক্তি, বিপাক ও বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন কমানোর মতো নানা সম্ভাব্য উপকারের কথা বলে ওয়েলনেস খাতে এর ব্যবহার বেড়েছে। তবে এ ধরনের অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা এখনও সীমিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনএডি+ চিকিৎসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তারকাদের প্রচারণার কারণেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মডেল কেন্ডাল জেনার ও হেইলি বিবারসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি অতীতে এ ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তবে কোনো তারকার ব্যবহার কোনো চিকিৎসার নিরাপত্তা বা কার্যকারিতার নিশ্চয়তা দেয় না। ক্যাবরেরা এর আগে থেকেই আইনগত জটিলতায় ছিলেন। ২০২৫ সালে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি বিমানবন্দরে তার বিরুদ্ধে চিকিৎসাসামগ্রী বহনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ব্যারনের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাটিই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চলমান প্রধান তদন্তের বিষয়। ব্যারনের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে ক্যাবরেরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে জামিন ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়। আদালত তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ব্রঙ্কস জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ক্যাবরেরার কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, নিউজ ১২ ব্রঙ্কস, গথামিস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১২ মাসের মধ্যে এটি তাদের তৃতীয় বৈঠক। অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কারণে সমালোচিত হলেও, মেয়র মামদানি তার এই আলোচনার সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহরের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য এবং সে কারণেই এই ধরনের কথোপকথন অত্যন্ত জরুরি ও মূল্যবান। বৈঠক শেষে মেয়র মামদানি জানান, নিউইয়র্ক শহরকে আরও উন্নত করে গড়ে তোলা এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রেসি ম্যানশনে তার অতীতের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি মেয়রের প্রস্তাবিত একটি বৃহৎ আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পে সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হওয়া সত্ত্বেও এই দুই নেতার মধ্যকার আলোচনাগুলো বরাবরই বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে দেখা গেছে। গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে মেয়র হিসেবে মামদানি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি বসেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারের সাসেক্স কাউন্টিতে হরিণ শিকারে বেরিয়ে ভুলবশত এক নারীকে গুলি করে হত্যা করেছেন ম্যারিল্যান্ডের এক বৃদ্ধ শিকারি। ডেলাওয়্যার স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনায় ৭৪ বছর বয়সী ওয়াল্টার মুরহেড নামের ওই শিকারির বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে সাউথ ওল্ড স্টেট রোডের কাছের একটি খোলা মাঠে এই প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ৩৯ বছর বয়সী সান্তোস মারিয়া চিলল সোটো এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুই শিশুর সঙ্গে ওই মাঠ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় দূরে থাকা মুরহেড নড়াচড়া দেখতে পান এবং হরিণ ভেবে নিজের রাইফেল থেকে গুলি ছোড়েন। গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠায়। তবে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে মুরহেডই গুলি চালিয়েছিলেন এবং তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যা, অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র কাছে রাখা এবং ফার্স্ট-ডিগ্রি বেপরোয়া আচরণের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তীতে জাস্টিস অব দ্য পিস কোর্টে হাজির করার পর ৪৩ হাজার ডলারের নগদ বন্ড জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন সংঘাতে সৌদি আরবের পক্ষে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে যুক্ত হলে এই দুই দেশকে কঠোর ও নির্মম জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কড়া বার্তা দেন হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে জড়ায়, তবে তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে এবং উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, এই দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মনে ইয়েমেনের প্রতি গভীর সহানুভূতি রয়েছে, তাই এই হুঁশিয়ারি মূলত দেশগুলোর সরকারের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। গত ৭ আগস্ট এই তিন দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করা। এই চুক্তির আওতায় কোনো একটি অংশীদার দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। হুথিদের হুমকির প্রেক্ষিতে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে এবং জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ক রিয়াদের পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আরও জানান, সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজনে তুরস্ক পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করে রিয়াদকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইয়েমেন সংঘাতের শুরু থেকেই হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। বিশেষ করে পবিত্র মক্কার কাছাকাছি হামলার খবরের পর থেকে পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য একটি চিরন্তন ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পবিত্র কাবা বা মহানবীর জন্মস্থানে হামলা হলে কোনো চুক্তির অপেক্ষা না করেই তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য। এর সঙ্গে সুর মিলিয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালকও জানিয়েছেন যে, হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে প্রস্তুত রয়েছে। ২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বর্তমানে ত্রিপক্ষীয় জোটের হস্তক্ষেপে নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বহুল আলোচিত হত্যা মামলার বিচারকার্য চলাকালে নিহত স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনের ময়নাতদন্তের বীভৎস বর্ণনা শুনে আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ তারকা ক্যালেব ফ্লিন। সোমবার আদালতে তার স্ত্রীর মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ছবি ও আঘাতের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন চিকিৎসক, যা শুনে আসামির কাঠগড়ায় থাকা ক্যালেব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করেন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মন্টগোমারি কাউন্টির ডেপুটি করোনার ও প্যাথলজিস্ট ডা. ব্রায়ান কাস্টো অ্যাশলির মৃতদেহের ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, মৃতদেহটি পরিষ্কার করার আগে তোলা ছবিতে চুল, রক্ত ও মগজ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা মূলত মাথার ডান দিকের পেছনে লাগা দুটি বুলেটের আঘাতের কারণে হয়েছিল। এছাড়া মৃতদেহ পরিষ্কার করার পর নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তোলা আরেকটি ছবিতে অ্যাশলির মাথার সামনের দিকের খুলিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা যায়। ডা. কাস্টো জানান, ওই ফাটলটি মাথা ফুঁড়ে দুটি বুলেট বেরিয়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়েছিল এবং ছবিতে তার বাম চোখটি আঘাতের কারণে কালচে দেখাচ্ছিল। প্যাথলজিস্টের বর্ণনায় আরও উঠে আসে যে, নিহতের মুখমণ্ডলে হাড়ের টুকরো এবং দুই হাতে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। এই রোমহর্ষক ও বীভৎস বর্ণনা শুনে ক্যালেব ফ্লিন এবং তার পেছনে গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই এ সময় হতাশা ও শোকে মাথা নাড়তে থাকেন। তবে আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সেই ভয়াবহ ছবিগুলো এজলাসে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটনে ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিন ফিলিস্তিনি কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার দায়ে জেসন ইটন (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জুরি বোর্ড। সোমবার আসামিপক্ষের 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার' দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই অপরাধে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের থ্যাংকসগিভিং ছুটির পর ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট ক্যাম্পাসের কাছে হাঁটাহাঁটি করার সময় ওই তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় হিশাম আওয়ারতানি কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তার দুই বন্ধু তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদুল হামিদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারী জেসন ইটন নিজে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং সিআইএ ও মোসাদের নির্দেশে এমন কাজ করেছেন বলে তার ভ্রম হয়েছিল। তবে সপ্তাহব্যাপী বিচার প্রক্রিয়া শেষে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের ডাকা মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য এবং আহত তিন তরুণের জবানবন্দি গ্রহণের পর জুরি বোর্ড আসামির ওই যুক্তি খারিজ করে দেয়। হামলার শিকার ওই তিন তরুণ শৈশবে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ঘটা এই হামলার ঘটনায় সে সময় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং একে 'হেইট ক্রাইম' হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত বিদ্বেষমূলক অপরাধের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে বিচার শেষে রায় ঘোষণার সময় আসামিকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখা যায়, অন্যদিকে গ্যালারির সামনের সারিতে বসে থাকা আওয়ারতানি ও আলিয়াহমাদ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। ইটনের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ব্রাজিলের ক্লাউদিও ভিয়েরা ডি অলিভেইরা ১৯৭৬ সালে এক বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এই বিরল রোগের কারণে তার জয়েন্ট ও পেশিগুলোর বিকাশ স্বাভাবিকভাবে হয়নি, এমনকি তার মাথাটিও পেছনের দিকে উল্টানো বা বাঁকানো অবস্থায় থাকে। জন্মের পর তার অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন দেখে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে তিনি হয়তো বেশিদিন বাঁচবেন না। তবে চারপাশের সব নেতিবাচক ধারণা ও শঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে ক্লাউদিও আজ জীবনযুদ্ধে এক অনন্য বিজয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন ক্লাউদিওকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করেছে। দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ করার জন্য তিনি নিজের মতো করে অভিনব উপায় বের করে নেন। মুখে কলম আটকে টাইপ করা থেকে শুরু করে নিজে নিজে পড়া, লেখা এমনকি স্বাধীনভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের কৌশলও তিনি আয়ত্ত করেন। পড়াশোনায় অদম্য ক্লাউদিও পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং নিজের একটি সফল পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক গঠন বা প্রতিবন্ধকতা কখনোই কোনো মানুষের মেধা ও সক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের ডকুমেন্টারি এবং পাবলিক ইভেন্টের মাধ্যমে ক্লাউদিও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে নিজের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিশেষত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমাজের সর্বস্তরে তাদের প্রবেশগম্যতা এবং মানসিক দৃঢ়তার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখছেন। ক্লাউদিওর এই অবিশ্বাস্য পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—সঠিক সমর্থন, সুযোগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো মানুষ সমাজের প্রচলিত প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বড় কিছু অর্জন করতে পারে।
কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বদলে যাওয়া বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক বলয় গড়ে তুলতে অংশীদারত্বের ধরন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার মূল্যবোধ এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এক হওয়ায় এই জোটে তাদের যৌথ অংশগ্রহণ অত্যন্ত সময়োপযোগী হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউ-এর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ (Associate Member) করার নজিরবিহীন এক প্রস্তাব দেন। এরপরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক এই গভর্নর দীর্ঘদিন ধরে মাঝারি শক্তির গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক স্থিতিস্থাপকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি যৌথ জোট গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। শ্যাম্পেন জানান, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলের সাথে সাথে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর এমন সম্মিলিত উদ্যোগই হবে মূলত ‘ভবিষ্যতের জোট’। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাতের পটভূমিতে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত মাসে মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই পাল্টা শুল্ক আরোপ শুরু করে। শ্যাম্পেন স্পষ্ট জানান, নিজের দেশের শিল্প ও শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই অটোয়া শুল্কের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে উত্তেজনার পারদ না বাড়িয়ে উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে তারা পুনরায় সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহযোগী সদস্যপদের পরিকল্পনাকে উপহাস করার পাশাপাশি ইউরোপ ও কানাডার বিরুদ্ধে আরও কঠোর বাণিজ্য পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। যদিও কানাডার ‘সহযোগী সদস্যপদ’-এর রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা তহবিল ও প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বয়ের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কানাডার খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি ইউরোপের সরবরাহ সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাস্তবতায় ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা ব্রিটেনের জন্য এই জোট নতুন একটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের টারমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বলে দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘নিষেধাজ্ঞা’ বললেও, ভ্যান্সের দাবি—কাউকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, বরং অপপ্রচারে লিপ্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সুবিধা বা প্রবেশাধিকার বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত নেতিবাচক কভারেজের সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, এ ধরনের একপেশে খবর মার্কিন জনগণের প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায় না। তাই চরম বামপন্থী অপপ্রচারে যুক্ত থাকলে হোয়াইট হাউস কেন তাদের বিশেষ সুযোগ দেবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা বা অধিকার হরণ করে না দাবি করে ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন, তারা এখনো প্রশাসন নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারবে এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারবে। তারা কেবল হোয়াইট হাউসে স্থায়ী দপ্তর ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ হারাবে, যতক্ষণ না তারা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মতো আচরণ শুরু করে। এদিকে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের জবাবে সংবাদমাধ্যমের যৌথ প্রতিবাদ ও বয়কট আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভিডিও কভারেজ বর্জনের পর এবার স্থিরচিত্র বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পত্রিকাটি জানায়, নিষিদ্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সমর্থনে আলোকচিত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগ কিংবা জাতিসংঘ অধিবেশনসহ কোনো কর্মসূচির ছবিই তারা প্রকাশ করবে না। সংবাদমাধ্যমের এই জোরালো অবস্থান হোয়াইট হাউসের সাথে গণমাধ্যমের চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্দেহভাজন এক চীনা গুপ্তচরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একটি পরিবার মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার রাজনৈতিক অনুদান দিয়েছে। এই বিপুল অর্থ গ্রহণ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিওসম, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি অবমুক্ত হওয়া এফবিআইয়ের গোপন নথি এবং রাজ্য ও ফেডারেল নির্বাচনী প্রচারণার আর্থিক হিসাব থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এর ফলে মার্কিন রাজনীতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের চলমান বিতর্কটি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করেছে ইন (Yin) পরিবার। এই পরিবারের প্রধান চে চিয়েন ইন (সি.সি. ইন) এবং তার ভাই হেনরি ইন ‘এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ (APAPA) নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সি.সি. ইন একসময় সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর ক্রিস্টিন ফাংয়ের (যিনি ফাং ফাং নামেও পরিচিত) সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, হেনরি ইন গত এক দশকে চীনের ‘ইউনাইটেড ফ্রন্ট’-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ পেয়েছেন। এটি মূলত চীনা সরকারের বিদেশি প্রভাব বিস্তারের কাজে নিয়োজিত একটি বিশেষ শাখা। রেকর্ড অনুযায়ী, ইন পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রায় ৩০ লাখ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রচারণায় আরও সাড়ে ১৪ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে, যার সুবিধাভোগীদের মধ্যে নিওসম, কমলা হ্যারিস ও কংগ্রেস সদস্য রো খান্নার মতো হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালে চীনে গ্যাভিন নিওসমের সফরের পেছনেও এই পরিবারের ভূমিকা ছিল। তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সি.সি. ইন জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন এবং যেকোনো বিদেশি সরকারের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তার দাবি, শুধু এশীয় বংশোদ্ভূতদের নেতৃত্ব বিকাশে সাহায্য করতে এবং গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ বাড়াতেই তিনি ওই সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। এখন পর্যন্ত হেনরি ইন বা তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের ইউনাইটেড ফ্রন্ট এভাবেই সাধারণত সফল ও প্রভাবশালী মার্কিন নাগরিকদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন করে। অনুদান ও উপহারের মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে তুলে পরবর্তীতে তারা মার্কিন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে নাভাহো নেশন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশু, তার দাদি এবং তাদের এক পারিবারিক বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- এলসি, তার নাতনি লুসি অ্যালিসন মাইক এবং তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসা বন্ধু ডোরা ফ্রাঙ্কলিন। পারিবারিক সূত্র জানায়, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর লুসির অষ্টম জন্মদিন উদযাপনের কথা ছিল। সেদিন জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে তারা ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নিউকম্ব এলাকার কাছে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে তাদের গাড়িটি কাদায় আটকে যায়। এসময় লুসির মা কালিসি হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দিলেও, লুসি ও তার দাদি গাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে তারা এবং তাদের সাহায্য করতে ছুটে আসা বন্ধু ডোরা ফ্রাঙ্কলিন বন্যার পানির স্রোত পার হওয়ার চেষ্টা করলে প্রবল তোড়ে ভেসে যান। পরদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্যার পানিতে কয়েকজন ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে নাভাহো পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার যৌথ তল্লাশির পর এক শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নাভাহো নেশনের প্রেসিডেন্ট বুউ নিগ্রেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশের কোনো ভাষা নেই, তিনটি প্রাণ হারানোর খবরে পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে শোকাহত। এদিকে, নাভাহো নেশন জুড়ে বর্তমানে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সান জুয়ান নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি পরিবারকে এরই মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলমান এই বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি এড়াতে বাসিন্দাদের মধ্যে বালির বস্তা বিতরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নতুন নির্মিত একটি গ্রানাইট হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মূলধারার কোনো মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কই এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেনি। সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একটি সোনালি কাঁচি দিয়ে লাল, সাদা ও নীল রঙের ফিতা কেটে হ্যালিপ্যাডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটিকে প্রেসিডেন্ট 'একটি শিল্পকর্ম' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হ্যালিপ্যাডটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলমোহর খোদাই করা রয়েছে। হোয়াইট হাউস তাদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রচার করলেও, পেছনে থাকা মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের বিকট শব্দের কারণে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠানে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের টিভি ক্যামেরা এবং শক্তিশালী বুম-মাইক থাকে, যা এবার অনুপস্থিত ছিল। এর আগে সোমবার সকালে হোয়াইট হাউস সিএনএন-কে (CNN) অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় টিভি নেটওয়ার্কগুলো প্রতিবাদস্বরূপ তাদের ‘টিভি পুল’ সম্প্রচার স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এই পুল ক্যামেরার মাধ্যমেই সাধারণত প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফুটেজ সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এর জবাবে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন কিছু নয়; তবে শুধু বন্ধুভাবাপন্ন বামপন্থীদের ক্ষেত্রে এ নিয়মটিকে হঠাৎ পবিত্র বলে দাবি করাটাই নতুন। উদ্বোধনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হ্যালিপ্যাড নির্মাণে যুক্ত কর্মীদের সাথে করমর্দন করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান। এরপর তিনি আকারে বড় ও আধুনিক নতুন মেরিন ওয়ান (ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট) হেলিকপ্টারে চড়ে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে তার নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানির সাথেও বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, ভারী ও আধুনিক হেলিকপ্টারের কারণে সাউথ লনের ঘাসের যেন ক্ষতি না হয়, মূলত সেজন্যই নতুন এই হ্যালিপ্যাডটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হাতে নেওয়া হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকটি নতুন নির্মাণ প্রকল্পের অন্যতম।
অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় তার আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই মাকে এই ঘটনার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার শরীরেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সকালে ভ্যালি হাইটস শহরের একটি ফাঁকা জায়গায় পার্ক করা গাড়ির কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান পথচারী সাইক্লিস্টরা। তারা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলি সুক্কার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঝোপের মধ্যে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং গাড়ির সিটে একটি ছোট শিশু ছিল। সেখানে আরেক নারীকে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখেন তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে সেখানে মোট তিনটি শিশু ছিল এবং উপস্থিত সবাই তাদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুরো দৃশ্যটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত শিশুদের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মা ও তার বেঁচে থাকা দুই শিশুকে ওয়েস্টমিড হাসপাতাল এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অ্যাট ওয়েস্টমিডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। গাড়ি থামিয়ে ওই নির্জন স্থানে কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো তদন্তকারীদের জানা নেই। তিনি আরও জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় এটিসহ মোট চারটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তার পুলিশি ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ওয়াগাতে এক যুবক তার প্রেমিকাকে, বন্ডাই বিচে এক নাতি তার দাদিকে এবং মোল রিভারে এক ছেলে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের কারো বিরুদ্ধেই আগে থেকে পারিবারিক সহিংসতার কোনো পূর্ব-রেকর্ড ছিল না। ভয়াবহ এই সপ্তাহান্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যালিস ওগলট্রি অসুস্থ নবজাতকদের সাহায্যে অবিশ্বাস্য পরিমাণ বুকের দুধ দান করে নতুন এক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজের গড়া পুরোনো রেকর্ড নিজেই ভেঙে দিয়ে মানবতা ও মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই নারী। গিনেস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ দান করে তিনি এই অনন্য রেকর্ডটি নিজের করে নেন। অ্যালিসের এই মহৎ উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। সে সময় তার নিজের সন্তান মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে এক নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, দান করা বুকের দুধ অন্যান্য অসুস্থ ও অসহায় নবজাতকের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে এ ধরনের অনুদান বা মিল্ক ব্যাংক সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। তবে নার্সের দেওয়া ওই একটি তথ্যই তার দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেয় এবং এরপর থেকে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত বুকের দুধ দান করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৬৯ লিটার বুকের দুধ দান করে প্রথমবারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন অ্যালিস। তবে রেকর্ড গড়ার পরও থেমে যাননি তিনি। বছরের পর বছর ধরে তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং নিজের পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করে যান। প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন মিল্ক ব্যাংক ও অনেক পরিবারকে সরাসরি আরও হাজার হাজার আউন্স দুধ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যালিস। একজন নার্সের দেওয়া ছোট্ট একটি ধারণা থেকে শুরু হওয়া তার এই অসাধারণ উদারতা আজ হাজার হাজার নবজাতক ও তাদের পরিবারের জন্য পরম আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।