সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউ মেক্সিকোতে জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বন্যায় দাদি-নাতনিসহ নি হত ৩

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৫:৩৩
নিউ মেক্সিকোতে জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বন্যায় দাদি-নাতনিসহ নি হত ৩
নিউ মেক্সিকোতে জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বন্যায় দাদি-নাতনিসহ নি হত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে নাভাহো নেশন এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশু, তার দাদি এবং তাদের এক পারিবারিক বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- এলসি, তার নাতনি লুসি অ্যালিসন মাইক এবং তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসা বন্ধু ডোরা ফ্রাঙ্কলিন।

 

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর লুসির অষ্টম জন্মদিন উদযাপনের কথা ছিল। সেদিন জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে তারা ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নিউকম্ব এলাকার কাছে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে তাদের গাড়িটি কাদায় আটকে যায়।

 

এসময় লুসির মা কালিসি হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দিলেও, লুসি ও তার দাদি গাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে তারা এবং তাদের সাহায্য করতে ছুটে আসা বন্ধু ডোরা ফ্রাঙ্কলিন বন্যার পানির স্রোত পার হওয়ার চেষ্টা করলে প্রবল তোড়ে ভেসে যান।

 

পরদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্যার পানিতে কয়েকজন ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে নাভাহো পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থার যৌথ তল্লাশির পর এক শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নাভাহো নেশনের প্রেসিডেন্ট বুউ নিগ্রেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশের কোনো ভাষা নেই, তিনটি প্রাণ হারানোর খবরে পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে শোকাহত।

 

এদিকে, নাভাহো নেশন জুড়ে বর্তমানে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সান জুয়ান নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি পরিবারকে এরই মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলমান এই বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি এড়াতে বাসিন্দাদের মধ্যে বালির বস্তা বিতরণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বললেন জেডি ভ্যান্স
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বললেন জেডি ভ্যান্স

হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের টারমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বলে দাবি করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘নিষেধাজ্ঞা’ বললেও, ভ্যান্সের দাবি—কাউকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, বরং অপপ্রচারে লিপ্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সুবিধা বা প্রবেশাধিকার বাতিল করা হচ্ছে।   প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত নেতিবাচক কভারেজের সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, এ ধরনের একপেশে খবর মার্কিন জনগণের প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায় না। তাই চরম বামপন্থী অপপ্রচারে যুক্ত থাকলে হোয়াইট হাউস কেন তাদের বিশেষ সুযোগ দেবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।   তবে এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা বা অধিকার হরণ করে না দাবি করে ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন, তারা এখনো প্রশাসন নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারবে এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারবে। তারা কেবল হোয়াইট হাউসে স্থায়ী দপ্তর ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ হারাবে, যতক্ষণ না তারা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মতো আচরণ শুরু করে।   এদিকে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের জবাবে সংবাদমাধ্যমের যৌথ প্রতিবাদ ও বয়কট আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভিডিও কভারেজ বর্জনের পর এবার স্থিরচিত্র বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পত্রিকাটি জানায়, নিষিদ্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সমর্থনে আলোকচিত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগ কিংবা জাতিসংঘ অধিবেশনসহ কোনো কর্মসূচির ছবিই তারা প্রকাশ করবে না। সংবাদমাধ্যমের এই জোরালো অবস্থান হোয়াইট হাউসের সাথে গণমাধ্যমের চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৬:১৪
ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে চীনের প্রভাব? মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ ডলার অনুদান

ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে চীনের প্রভাব? মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ ডলার অনুদান

নিউ মেক্সিকোতে জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বন্যায় দাদি-নাতনিসহ নি হত ৩

নিউ মেক্সিকোতে জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বন্যায় দাদি-নাতনিসহ নি হত ৩

হোয়াইট হাউসে ৬০ লাখ ডলারের নতুন হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন ট্রাম্পের, কিন্তু সম্প্রচারে নেই কোনো টিভি নেটওয়ার্ক

হোয়াইট হাউসে ৬০ লাখ ডলারের নতুন হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন ট্রাম্পের, কিন্তু সম্প্রচারে নেই কোনো টিভি নেটওয়ার্ক

টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড
টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যালিস ওগলট্রি অসুস্থ নবজাতকদের সাহায্যে অবিশ্বাস্য পরিমাণ বুকের দুধ দান করে নতুন এক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজের গড়া পুরোনো রেকর্ড নিজেই ভেঙে দিয়ে মানবতা ও মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই নারী। গিনেস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ দান করে তিনি এই অনন্য রেকর্ডটি নিজের করে নেন।   অ্যালিসের এই মহৎ উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। সে সময় তার নিজের সন্তান মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে এক নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, দান করা বুকের দুধ অন্যান্য অসুস্থ ও অসহায় নবজাতকের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে এ ধরনের অনুদান বা মিল্ক ব্যাংক সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না।   তবে নার্সের দেওয়া ওই একটি তথ্যই তার দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেয় এবং এরপর থেকে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত বুকের দুধ দান করতে শুরু করেন।   পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৬৯ লিটার বুকের দুধ দান করে প্রথমবারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন অ্যালিস। তবে রেকর্ড গড়ার পরও থেমে যাননি তিনি। বছরের পর বছর ধরে তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং নিজের পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করে যান। প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন মিল্ক ব্যাংক ও অনেক পরিবারকে সরাসরি আরও হাজার হাজার আউন্স দুধ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যালিস।   একজন নার্সের দেওয়া ছোট্ট একটি ধারণা থেকে শুরু হওয়া তার এই অসাধারণ উদারতা আজ হাজার হাজার নবজাতক ও তাদের পরিবারের জন্য পরম আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:১১
বৃদ্ধের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ফ্লোরিডার জয় ইয়ভেট হোল্ডার। ছবি: সংগৃহীত

অসহায় বৃদ্ধের সাড়ে ৩ লাখ ডলারের বাড়ি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, ফ্লোরিডায় নারী গ্রেপ্তার!

বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ ফেরাতে নতুন উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির

বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামফলক ফেরাতে মেরিল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক ডেটা সেন্টার গড়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত

এআইয়ের ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ, আটকে গেল ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ৪৫ প্রকল্প

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ডেনমার্কের সঙ্গে বড় নিরাপত্তা চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ডে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা চুক্তি, বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তি হয়েছে, যার লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা এবং চীন ও রাশিয়ার মতো ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ ঠেকানো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ সেপ্টেম্বর চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন।    চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যেন দ্বীপটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা এমন বিনিয়োগ করতে না পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেটিও চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।    গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত দ্বীপটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ এবং স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের বাজেট নথিতেও পিটুফিককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব শুধু সামরিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্কটিকে বরফ গলার সঙ্গে নতুন নৌপথ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। চীন ও রাশিয়াও এই অঞ্চলে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি সীমিত রাখতে চাইছে।    তবে চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। ডেনিশ কর্মকর্তারা এটিকে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন এবং ন্যাটোরও এতে ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন।    ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লেকে রাসমুসেন বলেছেন, আর্কটিকের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের দায়িত্ব নয়, ন্যাটোরও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তিটি বিদ্যমান ১৯৫১ সালের মার্কিন ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।    গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে রয়েছে এবং সেখানকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতে স্বাধীনতার বিষয়েও কথা বলে আসছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান চুক্তি অবশ্য গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে দিচ্ছে না; বরং মূল বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত সহযোগিতা।    চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের চাপ ও বিতর্কের পর নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, সেটিই এখন নজরে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১২:০
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেস পরিচয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষেধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করছে সিএনএন সহ দুই সংবাদমাধ্যম

ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে একটি নৌকা থেকে সন্দেহভাজনদের নামিয়ে দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে নামিয়ে পালিয়ে গেল নৌকা

নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও এর খরচ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পাতালরেলে পুলিশের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ, বাড়তি খরচ দিচ্ছে মামদানি প্রশাসন

0 Comments