- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১২৭ রোগীর জন্য নির্ধারিত ১৩৯টি প্রেসক্রিপশন সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের এক সাবেক কর্মীকে ১৮ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শেলবি উলকেন নামের ওই কর্মী রোগীদের জন্য নির্ধারিত ব্যথানাশক ওষুধের পরিবর্তে সাধারণ ওষুধ দিয়েছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের মাদকাসক্তির কথা স্বীকার করেন। ঘটনাটি সামনে আসে ২০২৪ সালের ১ জুলাই। সেদিন সেন্ট জোসেফস হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মীরা উলকেনকে থামান। তিনি হাসপাতালের ওষুধের দোকান থেকে এক রোগীর জন্য নির্ধারিত অক্সিকোডোনের প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করে কাছের একটি বাথরুমে ঢুকেছিলেন। পরে বোতলটি রোগীর নেওয়ার জন্য ফেরত দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বোতলটি পরীক্ষা করে সেখানে নির্ধারিত অক্সিকোডোনের পরিবর্তে অ্যালার্জির ওষুধ লোরাটাডিন পায়। নথি অনুযায়ী, একই দিন এর আগে উলকেন ওই ওষুধের দোকান থেকেই অ্যালার্জির ওষুধ কিনেছিলেন। সে সময় উলকেন সেন্ট জোসেফস হাসপাতালে রোগী ব্যবস্থাপনা সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। এই পদে তিনি রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর রোগীদের বিভিন্ন সেবার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে উলকেন স্বীকার করেন, নিজের পরিচয়পত্র ও পদ ব্যবহার করে অন্তত ১০টি প্রেসক্রিপশনে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন। এসব ঘটনা ডেনভারের সেন্ট জোসেফস হাসপাতাল ছাড়াও হুইট রিজের লুথেরান হাসপাতাল এবং লাফায়েতের গুড সামারিটান হাসপাতালে ঘটেছিল। তিনটি হাসপাতালই একই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। পরে ফেডারেল তদন্তকারীরা উলকেনকে তার বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি আরও ওষুধ বদলে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে কর্মকর্তারা নির্ধারণ করেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় আট মাসে তিনি প্রায় ১২৭ রোগীর জন্য প্রায় ১৩৯টি প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করেছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, চুরি করা ওষুধের পরিবর্তে উলকেন বিভিন্ন ধরনের আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন, অ্যাসিটামিনোফেন এবং লোরাটাডিন দিয়েছিলেন। ফলে কিছু রোগী কোনো শারীরিক সমস্যায় না পড়লেও অন্যরা উল্লেখযোগ্য থেকে তীব্র ব্যথা এবং ঘুমাতে না পারার কথা তদন্তকারীদের জানান। ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের মধ্যে দুই নারী ছিলেন, যারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। আরেক নারী অন্য একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পর পর্যাপ্ত ব্যথানাশক না পাওয়ায় তীব্র কষ্টের কথা জানান। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে আক্রান্ত এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারী আরেক রোগী তদন্তকারীদের জানান, প্রেসক্রিপশনে কারসাজির ঘটনা তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছিল। নিজের বাড়িতে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের তদন্তকারীদের কাছে উলকেন স্বীকার করেন, তিনি আফিমজাত মাদকে আসক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে রোগীদের তিনি যে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন, সে বিষয়েও সচেতন ছিলেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঝুঁকির মধ্যে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ছিল। কলোরাডো জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি পিটার ম্যাকনিলি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করে, রোগীদের ভোগান্তি বাড়ায় এবং চিকিৎসাজনিত সমস্যায় থাকা মানুষদের ঝুঁকিতে ফেলে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের নির্ধারিত ওষুধ চুরি করে নিজের আসক্তির চাহিদা পূরণের কথা যারা ভাবছেন, তাদের জন্য এই সাজা একটি বার্তা। উলকেন মার্চে ভোক্তা পণ্যে কারসাজির একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ওই অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে সাজা ঘোষণার আগে ফেডারেল কৌঁসুলিরা সাজা কমানোর আবেদন করেন। তারা জানান, তদন্তে উলকেন সহযোগিতা করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। সাজার পর ইন্টারমাউন্টেন হেলথের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, উলকেন আর প্রতিষ্ঠানটির কর্মী নন। ইন্টারমাউন্টেন হেলথ ইউটা, আইডাহো, নেভাদা, কলোরাডো, মন্টানা ও ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে ৩৩টি হাসপাতাল এবং ৪০০টির বেশি চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত। সূত্র: সিবিএস
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলজেরিয়ার সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাংলাদেশের সরকারি জ্বালানি নীতিতেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের কথা রয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের মধ্যে ভিডিও বৈঠকে বিষয়টি আরও এগিয়ে নেওয়া হয়। বৈঠকে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সোনাত্রাকের প্রধান নির্বাহী নুরেদ্দিন দাউদি, আলজেরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল আলজেরিয়া থেকে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাংলাদেশ আলজেরিয়ার সঙ্গে এলএনজি ক্রয় ও সরবরাহ চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গ্যাসবাজারে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সোনাত্রাকের অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু এলএনজি কেনাবেচায় সম্পর্ক সীমাবদ্ধ না রেখে দুই দেশের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব তৈরির বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এলএনজির পাশাপাশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুই দেশ। আলোচনাগুলো এগিয়ে নিতে একটি যৌথ কার্যকরী দল গঠনের বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। আলজেরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি সহযোগিতার আলোচনা অবশ্য সেপ্টেম্বরেই শুরু হয়নি। গত ৯ জুলাই ঢাকায় আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে আলজেরিয়ার সঙ্গে এই খাতে সম্পর্ক শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করে। জ্বালানির পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, ওষুধশিল্প, জাহাজ নির্মাণ, মৎস্য এবং জনশক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের জন্য নতুন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস খোঁজার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা আমদানি করা কয়লা, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলএনজির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়। সরকারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর ইউনিটের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট এলএনজি গ্রহণ করতে পারে। দেশের বার্ষিক এলএনজি চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০৩১ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে মোট চাহিদা বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে বলে সরকারি পর্যায়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আলজেরিয়া বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য নতুন সরবরাহ উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনাগুলো মূলত সম্ভাব্য সরবরাহ ব্যবস্থা, চুক্তি ও অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত এলএনজি সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা পাওয়া যায়নি। দুই দেশের যৌথ কার্যকরী দলের পরবর্তী আলোচনা থেকে মূল্য, সরবরাহের পরিমাণ, মেয়াদ ও পরিবহন ব্যবস্থাসহ সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত নির্ধারিত হতে পারে। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো কোনো একটি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না রেখে একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করা। আলজেরিয়ার সঙ্গে চলমান আলোচনা বাস্তব চুক্তিতে রূপ নিলে বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলে নতুন একটি সরবরাহ পথ যুক্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিমন্স ইউনিভার্সিটির কোটজেন স্কলারশিপ একটি বড় অর্থায়নের সুযোগ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। সিমন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা চার বছরের স্নাতক পড়াশোনার জন্য পূর্ণ টিউশন ও রুম-অ্যান্ড-বোর্ড সুবিধা পান। পাশাপাশি একাডেমিক কাজে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ডলারের সহায়তাও রয়েছে। বস্টন, ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত সিমন্স ইউনিভার্সিটির কোটজেন স্কলারশিপ মূলত অসাধারণ একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্বের গুণ, বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল এবং সৃজনশীলতার মতো যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটি স্কলারশিপ এবং আলাদা আবেদন করতে হয়। স্কলারশিপটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো চার বছরের টিউশন এবং রুম-অ্যান্ড-বোর্ডের অর্থায়ন। এর সঙ্গে ৩ হাজার ডলারের অতিরিক্ত অর্থ গবেষণা, বিদেশে শিক্ষাভ্রমণ, স্বল্পমেয়াদি কোর্স কিংবা গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপের টিউশনের মতো একাডেমিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, কোটজেন স্কলারশিপ চার বছরের পূর্ণকালীন স্নাতক পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সিমন্স ইউনিভার্সিটির বর্তমান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সাধারণ মেধাভিত্তিক স্কলারশিপে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হলেও সেগুলো সাধারণত পুরো পড়াশোনার খরচ বহন করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের হিসাবে আবাসিক স্নাতক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক খরচ প্রায় ৭৪ হাজার ডলার। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আবেদন জমা দেওয়ার সময় বিভিন্ন মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হন। এসব সাধারণ স্কলারশিপের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি তথ্যপৃষ্ঠায় কিছু মেধাভিত্তিক পুরস্কারের সর্বোচ্চ পরিমাণ ৩৩ হাজার ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এগুলো কোটজেন স্কলারশিপের সমান নয় এবং পুরো খরচ মেটানোর নিশ্চয়তা দেয় না। কোটজেন স্কলারশিপের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারদের জন্য ৩.৩ জিপিএ বজায় রাখার শর্ত ছিল। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্দিষ্ট আবেদনচক্রের সব শর্ত ও সময়সীমা আবেদন করার আগে সিমন্স ইউনিভার্সিটির বর্তমান নির্দেশনা থেকে যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন করার আগে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা বা নিড-বেসড ফিন্যান্সিয়াল এইড সিমন্স ইউনিভার্সিটি দেয় না। তাই কোটজেনের মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ ছাড়াও আবেদনকারীকে অন্যান্য সম্ভাব্য অর্থায়ন এবং নিজের অবশিষ্ট শিক্ষাব্যয়ের পরিকল্পনা আগে থেকেই করতে হবে। সিমন্স ইউনিভার্সিটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের পূর্ণকালীন আবাসিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য নির্ধারিত খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৭৪ হাজার ৮৬ ডলার দেখানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবীমা, বই, ব্যক্তিগত খরচ এবং অন্যান্য ব্যয়ও শিক্ষার্থীর মোট বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ‘ফুল স্কলারশিপ’ বলা হলেও কোন কোন খরচ সরাসরি এর আওতায় রয়েছে, তা আবেদন করার আগে ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই কোটজেন স্কলারশিপের পাশাপাশি সিমন্স ইউনিভার্সিটির অন্যান্য মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ, ভর্তি যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার নিয়মও দেখে আবেদন প্রস্তুত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্কলারশিপের আবেদনপত্রে একাডেমিক অর্জনের পাশাপাশি নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা আবেদনকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনে সহায়ক হতে পারে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত মরিয়ম খাতুনের মরদেহ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। রোববার ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান। কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি জানান, তখনও মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম যাওয়ার কথা ছিল এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসে। পরে গাজী নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার আইনসম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং তাদের বিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মরিয়মও পৃথক বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলামকে তার স্বামী বলে দাবি করেছিলেন। তবে সেই বিয়ের দাবি ও বিভিন্ন নথি নিয়ে তখন প্রশ্নও উঠেছিল। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মরিয়মের একটি বায়োডাটার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ২২ জুনের তারিখে গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর ছিল এবং বৈবাহিক অবস্থায় ‘অবিবাহিত’ লেখা থাকার দাবি করা হয়েছিল। একই সময়ে প্রকাশ্যে আসা কাবিননামা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্যের অসঙ্গতির কথা উঠে আসে। এসব নথির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মরিয়মের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিমের পরীক্ষা এবং পুলিশের আইনানুগ প্রক্রিয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে আত্মহত্যা বা অন্য কোনো কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এদিকে ঘটনাটির পর গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কালবেলার প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পুলিশ ও ফরেনসিক তদন্তের পর মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। সূত্র: কালবেলা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের সময় ‘বু সুনাইদাহ’ নামে একটি মানবাকৃতির রোবটকে মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গি অনুসরণ করতে দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ২৭ মে ঈদের দিন ধারণ করা ওই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তি ও ধর্মীয় পরিবেশের সংযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গালফ নিউজও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী আমিরাতি পোশাক কান্দুরা ও শেমাগ পরা বু সুনাইদাহ একটি গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যায়। পরে মুসল্লিদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গি অনুসরণ করতে দেখা যায় রোবটটিকে। বু সুনাইদাহর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এই আয়োজনকে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বু সুনাইদাহ মূলত ইউনিট্রি জি১ মডেলের একটি মানবাকৃতির রোবট। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এটি আমিরাতি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন জনসমাগমের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। প্রযুক্তি ও স্থানীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে তৈরি এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক দর্শক আকর্ষণ করেছে। এর আগে বু সুনাইদাহকে আজান দেওয়ার একটি ভিডিওও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। গালফ নিউজ জানিয়েছে, ওই ভিডিও ১৩ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছিল। রোবটটির নাম ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ঘিরে এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। ঈদের নামাজের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ভিন্নধর্মী। কেউ প্রযুক্তি ও আমিরাতি সংস্কৃতির এমন মেলবন্ধনকে আকর্ষণীয় ও শিক্ষামূলক হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ ধর্মীয় ইবাদতের পরিবেশে একটি রোবটের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মতামত, কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় সিদ্ধান্ত নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভিডিওকে দুবাইয়ের মসজিদগুলোতে নিয়মিত রোবট দিয়ে আজান দেওয়া বা রোবটকে আনুষ্ঠানিক মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানোর মতো তথ্য পাওয়া যায় না। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বু সুনাইদাহর মসজিদে উপস্থিতিকে মূলত একটি ব্যতিক্রমী ও শিক্ষামূলক প্রদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রোবট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শিশুদের ঐতিহ্য ও ঈদের সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখানোর উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। দুবাইয়ে ঈদুল আজহার নামাজের জন্য ২০২৬ সালে ৯৩৭টি মসজিদ প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে গালফ নিউজ জানিয়েছে। ফলে বু সুনাইদাহর মসজিদে উপস্থিতির ভিডিওটি বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত ঈদের নামাজের সময় ধারণ করা একটি বিশেষ দৃশ্য হিসেবে সামনে আসে। বু সুনাইদাহর কর্মকাণ্ড এর আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি বিভিন্ন জনসমাগম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছে এবং প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে একসঙ্গে তুলে ধরার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। রোবটটির নির্মাতা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এসএস লুতাহ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ইউসুফ লুতাহ রয়টার্সকে বলেছেন, শিশুদের আমিরাতি ঐতিহ্য ও ঈদের সংস্কৃতি সম্পর্কে শেখানোর উদ্দেশ্যেই মসজিদে রোবটটির উপস্থিতি দেখানো হয়েছিল। ফলে দুবাইয়ের মসজিদে রোবটের ঈদের নামাজ অনুসরণের ঘটনাটি প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির একটি আলোচিত প্রদর্শন হলেও, এটিকে মসজিদে নিয়মিত রোবট দিয়ে আজান বা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের নতুন ব্যবস্থা চালুর ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা তথ্যসম্মত হবে না।
এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার তাদের হাতে ‘চাঁদাবাজির চাবি’ তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি দ্রব্যমূল্য, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁর এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ; উল্লিখিত ‘এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি’ দেওয়ার দাবির পক্ষে তিনি কোনো পরিসংখ্যান বা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নেই। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া শহরের মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। একই দিন সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর পথসভাতেও তিনি একই ধরনের বক্তব্য দেন। সরকারের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের চাকরির কথা বলেছিল, কিন্তু তাঁর ভাষায়, এর পরিবর্তে এক কোটি মানুষের হাতে ‘চাঁদাবাজির চাবি’ তুলে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাও ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষি খাতের পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তাঁর অভিযোগ, সারের দাম বেড়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। এসব সংকটকে লংমার্চ আয়োজনের অন্যতম কারণ হিসেবেও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণেরা চাকরির অধিকার ও বৈষম্য দূর করার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। প্রয়োজনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলনে নামার কথাও বলেন তিনি। এই নিয়োগসংক্রান্ত বক্তব্যও শফিকুর রহমানের অভিযোগ হিসেবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। তিনি দাবি করেন, গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন এবং সেই রায়ের প্রতিফলন ঘটানো উচিত। ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবি সরকার মেনে না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে ‘এক দফা’ কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না; অন্যথায় এক দফার আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে যাত্রা করা ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চটি গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় পৌঁছায়। বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে শতাধিক গাড়ির বহর লংমার্চে যুক্ত হয় বলে জাগো নিউজ জানিয়েছে। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। বগুড়ার কর্মসূচি শেষে বহরটি রংপুরের দিকে যাত্রা করে। শফিকুর রহমান আরও বলেন, এবারের কর্মসূচি ঢাকা থেকে রংপুরমুখী হলেও ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকামুখী লংমার্চ আয়োজন করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আট দফা দাবি আদায় না হলে ১১ দলীয় ঐক্য আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে।
ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাবের মতো মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এ ঘোষণা দিয়েছেন। নিজ দলের যুব সংগঠনের এক বার্ষিক অনুষ্ঠানে মেলোনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে। একইসঙ্গে ইতালীয় ভাষা শেখায় গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা আনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন, সেই সংখ্যা মেলোনি এখনো নির্দিষ্ট করেননি। মেলোনির বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষা না জানলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তার ভাষা শেখা এবং স্কুলে মানিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হলে তাদের একীভূত করার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন। মুখঢাকা পোশাকের বিষয়ে মেলোনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ খোলা রাখতে হবে। কোনো প্রচলিত রীতি বা ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে কোনো তরুণীকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়—এমন অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ইতালিতে অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশটির মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অবস্থানের কারণে সেখানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমনও একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে আছে। ইতালির স্কুলগুলোতে অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ফন্ডাজিওনে আইএসএমইউর ২০২৩/২৪ শিক্ষাবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, ইতালির প্রি-স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অ-ইতালীয় নাগরিক। তারা মোট শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অবশ্য ইতালিতেই জন্মেছে। আইএসএমইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতালিতে জন্ম নেওয়া বা ছোট বয়সে দেশটিতে আসা। ফলে স্কুলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অন্তর্ভুক্তি ও নাগরিকত্ব নিয়ে ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মেলোনির ঘোষিত উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইতালিতে অভিবাসন, ধর্মীয় প্রতীক ও সাংস্কৃতিক একীভূতকরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। নতুন প্রস্তাবটি এখন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই পরবর্তী বিষয়।
সান ফ্রান্সিসকোর প্রযুক্তি অঙ্গনের ২৯ বছর বয়সী নির্বাহী ব্রুক লেব্লাঁর ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী নিয়ে প্রকাশ করা দীর্ঘ ‘নন-নেগোশিয়েবল’ তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি নিজের পছন্দের পুরুষের বয়স, ব্যক্তিত্ব, আর্থিক মানসিকতা, পেশা এবং পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক শর্ত তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তালিকাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লেব্লাঁ নিজের পোস্টে ৩৫ থেকে ৪২ বছর বয়সী একজন পুরুষকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। তার ভাষায়, ওই ব্যক্তির সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী পুরুষসুলভ ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, রসবোধ ও সহজ-স্বাভাবিক মানসিকতা থাকা উচিত। পাশাপাশি তিনি এমন একজন সঙ্গী চান, যার মধ্যে পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা ও নিরাপত্তা দেওয়ার মানসিকতা থাকবে। প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন এমন পুরুষের প্রতিও তার বিশেষ পছন্দের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। তার তালিকায় আরও ছিল দয়ালু, উদার ও চিন্তাশীল হওয়ার মতো ব্যক্তিগত গুণ। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন সঙ্গী চান, যার এখনো সন্তান নেই এবং ভবিষ্যতে পরিবার গঠনের বিষয়ে নির্দিষ্ট আগ্রহ রয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই তালিকা তৈরি করেছেন বলে পরবর্তী পোস্টে জানান। তালিকাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী তার প্রত্যাশাকে কঠোর ও অতিরিক্ত নির্দিষ্ট বলে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ বলেন, এ ধরনের তালিকা একজন সম্ভাব্য সঙ্গীকে স্বাভাবিকভাবে জানার পরিবর্তে সম্পর্ককে একটি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় পরিণত করতে পারে। আবার অন্যরা মনে করেন, একজন মানুষ নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য চান, সেটি প্রকাশ করার অধিকার তার রয়েছে। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মতামত, কোনো আনুষ্ঠানিক জরিপের ফল নয়। সমালোচনার জবাবে লেব্লাঁও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, একজন নারী নিজের চাওয়া সম্পর্কে কথা বললেই সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার প্রয়োজন নেই। নিজের দীর্ঘদিনের ডেটিং অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই তালিকা তৈরি করেছেন বলেও জানান। অনলাইনে সমালোচনার মধ্যেও তিনি ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে স্বাধীন জীবন এবং পরিবার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আরেকটি দিক হলো সান ফ্রান্সিসকোর প্রযুক্তি খাতকেন্দ্রিক ডেটিং সংস্কৃতি। প্রযুক্তি খাতে কর্মরত তরুণ পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ শহরটিতে বসবাস করায় পেশা, জীবনযাপন, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ পারিবারিক পরিকল্পনা অনেকের সম্পর্কের পছন্দে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে লেব্লাঁর ব্যক্তিগত তালিকাকে পুরো শহরের ডেটিং সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখার মতো কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত পছন্দ প্রকাশ করে আলোচনায় আসার ঘটনা নতুন নয়। তবে লেব্লাঁর পোস্টটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে কারণ তিনি সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর বৈশিষ্ট্যগুলো বেশ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্যে লিখেছেন। ফলে এটি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের পছন্দের বিষয় না থেকে আধুনিক ডেটিং, ব্যক্তিগত প্রত্যাশা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মানদণ্ড প্রকাশের ধরন নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চোখে ঝাপসা দেখা, চশমার পাওয়ার বদলে যাওয়া কিংবা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে নিউইয়র্কে কোথায় যেতে হবে এবং কত খরচ পড়বে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে যাদের চোখের চিকিৎসার বীমা নেই, তাদের জন্য আগে থেকে খরচ ও সুবিধা সম্পর্কে জেনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটিতে চোখের পরীক্ষার নির্দিষ্ট কোনো একক মূল্য নেই। চিকিৎসাকেন্দ্র, পরীক্ষার ধরন এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ পরিবর্তিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, আমেরিকাস বেস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অফারের আওতায় দুই জোড়া চশমা নিলে চোখের পরীক্ষা বিনা খরচে হতে পারে। আবার দুই জোড়া চশমা না কিনলে তাদের সাধারণ চোখের পরীক্ষার মূল্য ৮০ ডলার। কন্টাক্ট লেন্সের পরীক্ষার জন্য আলাদা ১৩০ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তাই শুধু একটি গড় মূল্য ধরে না নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রে ফোন করে নিজের ক্ষেত্রে মোট খরচ জেনে নেওয়াই নিরাপদ। যাদের মেডিকেইড আছে, তাদের জন্য চোখের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কম হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেটের মেডিকেইড কর্মসূচির আওতায় চোখের পরীক্ষা, চক্ষু বিশেষজ্ঞের সেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমাসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সাধারণভাবে দুই বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করার সুবিধা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলে আরও ঘন ঘন পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মেডিকেইড সদস্যদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বছরে একবার চোখের বিশেষ পরীক্ষা করার সুবিধাও রয়েছে। চোখের চিকিৎসার বীমা না থাকলেও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কিছু রোগী বিনা খরচেও চিকিৎসা পেতে পারেন। যারা স্বাস্থ্যবীমার জন্য যোগ্য নন কিংবা বীমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এনওয়াইসি কেয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চিকিৎসার খরচ তুলনা করার জন্য নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার মূল্য তুলনা করার ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যায়। এতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সেবার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ফলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার আগে একাধিক জায়গার খরচ তুলনা করা সম্ভব। শিশুদের চোখের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের আগে থেকে খোঁজ নেওয়া উচিত। নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, স্কুল পর্যায়ে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে চক্ষু চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। শিশুরা অনেক সময় নিজের চোখের সমস্যা বুঝতে পারে না। বারবার চোখ কচলানো, টেলিভিশন বা বই খুব কাছে নিয়ে দেখা, চোখ কুঁচকে দেখা, মাথাব্যথা কিংবা উজ্জ্বল আলো সহ্য করতে সমস্যা হলে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুদের চোখের পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে তথ্য পেতে নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়। তবে কোথায় যাবেন, তা নির্ভর করবে চোখের সমস্যার ধরনেও। অপটোমেট্রিস্ট সাধারণ চোখ পরীক্ষা, চশমার পাওয়ার নির্ধারণ এবং অনেক সাধারণ চোখের সমস্যার পরীক্ষা ও চিকিৎসা করেন। অন্যদিকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চোখের জটিল রোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারও করতে পারেন। আর চশমা প্রস্তুত ও চোখে সঠিকভাবে বসানোর কাজ করেন অপটিশিয়ান। তিনি নিজে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা করেন না। চোখ পরীক্ষা করাতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ফোন করে জেনে নেওয়া ভালো। জিজ্ঞেস করুন, বীমা ছাড়া সম্পূর্ণ পরীক্ষার খরচ কত, চোখের ভেতরের অংশ পরীক্ষা করতে অতিরিক্ত কোনো পরীক্ষা লাগবে কি না, রেটিনার ছবি তোলার জন্য আলাদা খরচ আছে কি না এবং পরীক্ষার পর চশমার পাওয়ারের কাগজের কপি দেওয়া হবে কি না। শুধু চোখ পরীক্ষার খরচ কম হলেই মোট খরচ কম হবে এমন নয়। অতিরিক্ত পরীক্ষা, কন্টাক্ট লেন্সের পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য আলাদা টাকা লাগতে পারে। তবে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। হঠাৎ চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন, চোখ অতিরিক্ত লাল বা ফুলে যাওয়া, চোখের সামনে হঠাৎ অনেক কালো দাগ বা ভাসমান ছায়া দেখা, আলোর ঝলকানি দেখা কিংবা দৃষ্টির সামনে কালো পর্দার মতো কিছু নেমে আসা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ জরুরি বিভাগেও যেতে হতে পারে। নিউইয়র্কে চোখের চিকিৎসা নিতে তাই শুধু কম খরচের চিকিৎসাকেন্দ্র খোঁজাই যথেষ্ট নয়। নিজের সমস্যার জন্য কোন ধরনের চিকিৎসক প্রয়োজন, কী কী পরীক্ষা লাগবে এবং বীমা বা সরকারি সহায়তার আওতায় কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, সেগুলোও আগে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে যাদের চোখের চিকিৎসার বীমা নেই, তারা মেডিকেইড, এনওয়াইসি কেয়ার এবং নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতা যাচাই করলে চিকিৎসার খরচ কমানোর সুযোগ পেতে পারেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাক্ষাতে শহিদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং পরিবারের সদস্য মাহফুজা জাফরিন আরিবা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয় রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শহিদ ও আহতদের পরিবারের জন্য সরকার যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তাঁরা। সাক্ষাতের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়া। সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনে প্রকাশিত ৮৪৫ জন জুলাই শহিদের নাম ওই স্মৃতিস্তম্ভে খচিত রয়েছে। মুগ্ধর পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিস্তম্ভটির রেপ্লিকা রাষ্ট্রপতিকে উপহার দেন। রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গভবনের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, জাতি তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। রাষ্ট্রপতি শহিদ পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাইয়ের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনা করেন। মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বহুল আলোচিত শহিদদের একজন। পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের স্মরণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ নিহতদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছিল। রোববারের সাক্ষাতে বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত তথ্যে সাক্ষাতের এসব বিষয় জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চাকরির বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং অনেক পেশায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শুধু চাকরি নয়, তরুণদের নিজস্ব চিন্তা, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। জানুয়ারি থেকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১২ হাজার। সংখ্যা কিছুটা কমলেও তরুণদের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকার হার এখনো উদ্বেগজনক। এর মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তার চাকরির বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের, খণ্ডকালীন ও প্রশাসনিক চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। লন্ডন সিটি হলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর অন্তত ১০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে ‘উচ্চ বা উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে। চাকরির পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতাতেও চাপ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের এআই ও কর্মসংস্থানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ কার্ল-বেনেডিক্ট ফ্রের মতে, এআইয়ের প্রভাব শুধু অফিসের চাকরি বা প্রযুক্তিনির্ভর পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন কারিগরি পেশাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি মানুষ এআই ব্যবহার করে আগে যেসব কাজের জন্য পেশাদারের ওপর নির্ভর করত, সেসব কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাড়ির কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে আগে যেখানে মিস্ত্রিকে ডাকা হতো, এখন কেউ এআইয়ের সাহায্যে সমস্যার ছবি তুলে সেটি নিজেই ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন। এতে সরাসরি ব্যাপক বেকারত্ব না হলেও কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। একইভাবে তরুণ শিক্ষানবিশদের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যেসব তুলনামূলক সহজ কাজ তারা করত, সেগুলোও যদি এআইয়ের সহায়তায় মানুষ নিজেই করতে শুরু করে, তাহলে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে। তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ কিংস কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন এআই ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করতে পারে। প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেশি। তাদের ৩৪ শতাংশ মনে করেন, এআই-নির্ভর বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এলেনা সিম্পারল বলেন, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও এখন জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান—সব মিলিয়ে তরুণরা একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এআইকে শুধু ভয় পাওয়ার বদলে এর সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়ানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে করণীয় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং তরুণদের এমন দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যা এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। সৃষ্টিশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত জ্ঞান মুখস্থ করানোর বদলে শিক্ষার্থীদের কীভাবে এআইকে একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো জরুরি। অর্থাৎ এআই যেন তরুণদের হয়ে চিন্তা না করে; বরং তরুণরা যেন এআইকে ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও একইভাবে পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। যারা এআইয়ের কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের নতুন দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগদাতাদের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অধ্যাপক সিম্পারলের মতে, এআইয়ের পরিবর্তনকে নিজেদের ওপর ঘটতে দেওয়ার বদলে সমাজ ও সরকারকে সক্রিয়ভাবে এর দিকনির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সৃষ্টিশীলতা কি তাহলে হারিয়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারলেও মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বড় পরিবর্তনটি হতে পারে মানুষের কাজের ধরনে। তরুণরা যদি এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নিজেরা চিন্তা করা, নতুন ধারণা তৈরি করা কিংবা কোনো সমস্যার নিজস্ব সমাধান খোঁজার অভ্যাস দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যদি মানুষ নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বিকশিত করতে পারে, তাহলে প্রযুক্তিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে সহযোগীও হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু এআই কতগুলো চাকরি নিয়ে নেবে—তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, এআইয়ের যুগে তরুণরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, দক্ষতা ও চিন্তার স্বাধীনতা কীভাবে ধরে রাখবে।
দেশে দক্ষ ও মেধাবী চিকিৎসক থাকার পরও চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক রোগী ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন কেন?এ প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর মতে, চিকিৎসকদের দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের হাসপাতালেই অনেক উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীরা যদি দেশে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন, তাহলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে চিকিৎসার পেছনে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাওয়াও কমানো সম্ভব হবে। এ জন্য ঢাকা বা বড় শহরের পাশাপাশি জেলা ও গ্রাম পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্তান না হওয়ায় অনেক দম্পতিকে সামাজিক কটূক্তি ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। অথচ যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের এ ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে; প্রয়োজন সেই সক্ষমতাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও শক্তিশালী করা। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসাকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকটের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা কম হলেও শুধু শয্যাসংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিধি বাড়াতে হবে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মুসারাত সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন।
আইন পেশাকে শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে অসহায় ও আর্থিকভাবে অক্ষম মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, একজন আইনজীবীর উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজন হলে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মামলা পরিচালনা করা। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল’ ফেস্ট’-এ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, “টাকাই সবকিছু নয়।” তাঁর মতে, একজন আইনজীবী শুধু মক্কেলের প্রতিনিধি নন, তিনি আদালতেরও একজন কর্মকর্তা। বিপদের সময়ে একজন মানুষ আইনজীবীর ওপর আস্থা রেখে নিজের সমস্যার কথা জানান। তাই মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করাও আইনজীবীর দায়িত্ব। বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে নিজের আইন পেশার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, এক অসহায় ভূমিহীন নারীর জমিসংক্রান্ত একটি মামলা তিনি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই পরিচালনা করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ আইনজীবীদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেন। আইনমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের পথ থাকলেও তা একজনকে ভালো আইনজীবী বানায় না। ভালো আইনজীবী হতে হলে শ্রম, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। আইন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই একজন আইনজীবীর প্রকৃত পেশাগত মূল্য তৈরি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আইনজীবীদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজের পরিবর্তন ও বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে আইনজীবীরা আইনি দিকনির্দেশনা দিয়ে ভূমিকা রাখেন। আদালতে একজন আইনজীবীকে বিচারক, বিপক্ষের আইনজীবী, নিজের মক্কেল এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় বিবেচনায় রেখে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হয়। ফলে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, আইনের সঠিক ব্যাখ্যা এবং যথাযথভাবে যুক্তি তুলে ধরার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি। লক্ষ্য হচ্ছে দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নতুন প্রজন্মের আইন পেশাজীবী তৈরি করা। একই সঙ্গে আইন সংস্কারের ক্ষেত্রেও তরুণদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান। প্রচলিত কোনো আইনে অসঙ্গতি থাকলে বা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে হলে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন বলে জানান তিনি। সরকার সেসব প্রস্তাব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে বলেও উল্লেখ করেন। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—আইন পেশায় সাফল্যের মাপকাঠি শুধু আয় নয়; জ্ঞান, সততা, নৈতিকতা এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন অংশে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার একটি ভিডিওতে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের পাশে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণ হতে দেখা যায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড স্টেশন কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, রাত প্রায় ১০টা ৩৭ মিনিটে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ৩০ নম্বর পিলারের কাছে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার পর স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বিস্ফোরণের আগে ও পরে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক টহল ও অন্যান্য নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। কমলাপুরের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন একই সন্ধ্যায় রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর আসে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে যাত্রাবাড়ী থানার বিপরীতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিরপুর ও বাড্ডায় তিনটি স্টাফ বাস এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে মিরপুরে দুটি ও বাড্ডায় একটি স্টাফ বাসে আগুন দেওয়া হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনেও একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। কালবেলার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মো. বিল্লাল নামের ৩২ বছর বয়সী এক রিকশাচালক আহত হন। কমলাপুর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোর একটি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। ফলে প্ল্যাটফর্মে বিস্ফোরণের ঘটনাটি যাত্রীনিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ঘটনার পর পুলিশ স্টেশন ও আশপাশে নজরদারি এবং টহল বাড়িয়েছে। তবে কমলাপুরের বিস্ফোরণের দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ওপর নিশ্চিতভাবে আরোপ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাই তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট স্থান পাবে। পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক প্রবেশাধিকার এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও ভাষণে স্থান পাওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ রোহিঙ্গা সংকট এবারও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনও প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো তুলে ধরবে বলে পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবা নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরার কথা রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী আয়োজনে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং পাকিস্তান, ভুটান, থাইল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকের কিছু সূচি পরিবর্তন হতে পারে। এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কারণেও উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ইউএনবির তথ্য অনুযায়ী, তিনি এ পদে দায়িত্ব পালনকারী দ্বিতীয় বাংলাদেশি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর চলার কথা, যেখানে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা আন্তর্জাতিক সংকট ও নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে সাধারণ পরিষদের বাংলায় ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক গুরুত্ব পাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে।
মাত্র ২০ ডলারের একটি ইউটিউব বিজ্ঞাপন প্রচারণা থেকে শুরু। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর গেমিং চ্যানেলের প্রচারে বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মাইটি মাইক প্লেজ’ চ্যানেলকে ঘিরে। তবে পুরো অর্থের খরচ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। শিশুটির নাম মাইক। সে মাইনক্রাফট ও রোবলক্সের গেমিং ভিডিও তৈরি করে। তার বাবা ডেভ জানান, ভিডিওগুলোতে দর্শক কম আসায় তিনি ছেলেকে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় একটি ছোট প্রচারণা তৈরি করে দেখিয়েছিলেন। ওই প্রথম প্রচারণার বাজেট ছিল প্রায় ২০ ডলার। পরে ছেলে নিজেই একই পদ্ধতিতে আরও বিজ্ঞাপন চালাতে শুরু করে বলে বাবার দাবি। বড় সমস্যাটি তৈরি হয় পেমেন্ট তথ্য সংরক্ষিত থাকায়। বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ডের তথ্য একটি গুগল অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই যুক্ত ছিল। ফলে পরবর্তী বিজ্ঞাপন প্রচারণাগুলো চালানোর সময় একই পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক বুঝতে পারেনি যে প্রতিটি প্রচারণার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ কেটে যাচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিষয়টি ধরা পড়ে। বাবাকে কোম্পানির ম্যানেজার, করপোরেট কর্মকর্তা ও অর্থ বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে ডেকে বিজ্ঞাপন বাবদ হওয়া বিপুল খরচের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে তিনি ছেলের চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করেন। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবশ্য ভিডিওগুলোর দর্শক বেড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি প্রচারিত ভিডিও প্রায় ২ লাখ করে ভিউ পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞাপনে পাওয়া ভিউয়ের সঙ্গে প্রকৃত দর্শক বা দীর্ঘমেয়াদি চ্যানেল প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি। ঘটনার সর্বশেষ আপডেটে বাবার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি চাকরি হারিয়েছেন এবং অর্থ পরিশোধের বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছেন। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই চাকরি হারানো এবং পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার দায়—দুটিকেই আপাতত বাবার বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ঘটনাটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে পেমেন্ট তথ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কোনো শিশুর ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে কোম্পানি বা পরিবারের বড় অঙ্কের পেমেন্ট পদ্ধতি সংরক্ষিত থাকলে ব্যয়ের সীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আলাদা পেমেন্ট ব্যবস্থা রাখার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। পরিবারটি এখন সংরক্ষিত পেমেন্ট তথ্য সরানো এবং ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। সোর্স: ইন্ডিয়া টুডে, ইউওএল।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি রায়ের পর দলটির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্দিষ্ট প্রতিটি ঘটনার দায় তদন্ত ও আদালতের প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে সরকার মনে করছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডে সরকার শঙ্কিত নয় বলেও জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ঘটনায় সন্দেহভাজনদের মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট এলাকার ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। যাত্রাবাড়ীর ঘটনাতেও গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, বাবুবাজার ও মগবাজারসহ ছয়টি স্থানে মোট ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ওই সময় পুলিশ জানিয়েছিল, সব ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত চলছিল। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, রাতে চালক ও সহকারী ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় পার্ক করে রাখা কয়েকটি বাসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট মিলিয়ে রাজধানীতে তিন শতাধিক তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের পাশাপাশি বিভিন্ন উড়ালসড়কের ওঠানামার স্থানেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর কয়েক দিন আগেও সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তখন তিনি বলেছিলেন, তাঁরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি তদন্তাধীন। এদিকে ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিল ঘিরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে ককটেল নিক্ষেপের খবর পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাজা ককটেল উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি পছন্দের রেস্তোরাঁর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে নিউ জার্সির জার্সি সিটির বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ কড়াই কিচেন। তালিকায় নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত একমাত্র রেস্তোরাঁ হিসেবে কড়াই কিচেনের নাম রয়েছে। তালিকাটি কোনো ক্রম বা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী সাজানো হয়নি। জার্সি সিটির জার্নাল স্কয়ার এলাকায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করা কড়াই কিচেন পরিচালনা করছেন মা-মেয়ে নুর-ই গুলশান রহমান ও নুর-ই ফারহানা রহমান। বাংলাদেশি ঘরোয়া রান্নার স্বাদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই রেস্তোরাঁ এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পেয়েছে। ২০২৫ সালে পত্রিকাটির প্রধান রেস্তোরাঁ সমালোচক লিগায়া মিশানের পর্যালোচনায় কড়াই কিচেন তিন তারকা পেয়েছিল এবং ‘Critic’s Pick’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের তালিকায় কড়াই কিচেনকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ছোট এই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁটি নুর-ই গুলশান রহমান ও তার মেয়ে নুর-ই ফারহানা রহমান পরিচালনা করেন। ২০১৮ সালে গুলশান রহমানের ঘরোয়া রান্নাকে কেন্দ্র করে রেস্তোরাঁটির যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে প্রতিদিনের বুফে ছিল তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে মূলত টেকআউট ও ডেলিভারি কার্যক্রমের পাশাপাশি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দুই রাতে অতিথিদের জন্য বিশেষ ডাইন-ইন আয়োজন করা হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে কড়াই কিচেনের দীর্ঘ ডিনার অভিজ্ঞতা। শুক্রবার ও শনিবার রাতে আয়োজিত বিশেষ খাবারের আয়োজনটি তাত্ত্বিকভাবে আট কোর্সের হলেও বাস্তবে খাবারের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই আয়োজনে বাংলাদেশি রান্নার বিভিন্ন পদ পরিবেশন করা হয়। মরিচ ও সরিষার তেলের ব্যবহার এবং প্রতিটি খাবার তৈরিতে যত্নশীলতার বিষয়টিও সমালোচকের লেখায় গুরুত্ব পেয়েছে। কড়াই কিচেনের এই স্বীকৃতি বাংলাদেশি খাবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার খাদ্যসংস্কৃতিতে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের খাবার পরিচিত হলেও বাংলাদেশি খাবারের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে সীমিত। জার্সি সিটির এই পারিবারিক রেস্তোরাঁটি মাছ, মাংস, সবজি ও ভর্তাসহ বাংলাদেশি ঘরোয়া রান্নার বিভিন্ন পদ পরিবেশনের মাধ্যমে সেই জায়গায় আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। এর আগে ২০২৫ সালে কড়াই কিচেনের ‘লাউ চিংড়ি’ পদটিও নিউইয়র্ক টাইমসের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের স্টাফদের খাওয়া উল্লেখযোগ্য খাবারের তালিকায় জায়গা পেয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে লাউ, চিংড়ি ও মরিচের সমন্বয়ে তৈরি পদটির স্বাদ ও উপকরণের সরলতার প্রশংসা করা হয়। পদটি কড়াই কিচেনের ৯৫ ডলারের প্রিক্স-ফিক্স মেনুর অংশ ছিল। কড়াই কিচেনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, রেস্তোরাঁটির ঠিকানা জার্সি সিটির ৫৭৬ সামিট অ্যাভিনিউ। বর্তমানে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় এবং শনিবার ও রোববার দুপুর ও সন্ধ্যায় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ ডাইন-ইন আয়োজনের জন্য রিজার্ভেশন প্রয়োজন। নিউইয়র্ক টাইমসের ২০২৬ সালের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ৫০টি রেস্তোরাঁ স্থান পেয়েছে। নিউ জার্সির প্রতিনিধিত্ব করছে কড়াই কিচেন। বাংলাদেশি মা-মেয়ের পরিচালনায় গড়ে ওঠা একটি ছোট রেস্তোরাঁর এমন জাতীয় স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
সরকারের ওপর ঋণ পরিশোধ ও জ্বালানি আমদানির ব্যয়ের বড় চাপ রয়েছে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি সরকারকে দোষ দিতে চান না। তাঁর ভাষ্য, নানা ধরনের ব্যয় সামলাতে গিয়ে সরকার বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে এবং চাইলেও একসঙ্গে সব উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের আর্থিক চাপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারকে একদিকে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বেশি দামে তেল, ডিজেল ও গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। এসব ব্যয়ের কারণে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য তাঁর দেওয়া চাহিদাপত্রের মোট মূল্য ৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে অরুয়াইল থেকে রাজাপুর বাজার হয়ে রানিদিয়ার সড়কের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আরও কয়েকটি সড়কের জন্যও তিনি চাহিদাপত্র দিয়েছেন বলে জানান। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। নতুন বাজেটের অর্থ ছাড় করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে—এমন কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। চিত্র নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়েও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি রুমিন ফারহানার দেওয়া তথ্য; সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জনগণ ও সরকারের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলেও জানান। দীর্ঘ সময় এলাকায় তাঁকে দেখা না গেলে নেতা-কর্মীদের মুঠোফোনে তাঁর কর্মকাণ্ড অনুসরণ করার আহ্বান জানান রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সংসদে কিংবা এলাকায়—কোথাও না কোথাও জনগণের জন্য কাজ করছেন। রুমিন ফারহানার বক্তব্যে মূলত সরকারের আর্থিক চাপের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানের পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার কথা উঠে এসেছে। তবে ঋণ, জ্বালানি আমদানি ও সামগ্রিক সরকারি ব্যয়ের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সরকারি বাজেট ও অর্থনৈতিক উপাত্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হা ম লা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এক রাতেই রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এক হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন এই হামলাকে রাজধানীর ওপর এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে বড়’ ড্রোন হা ম লা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১ হাজার ১০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে। এর মধ্যে মস্কোর দিকে এগিয়ে আসা প্রায় ৪৫০টি ড্রোন ধ্বং স করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র সোবিয়ানিন। তবে রুশ কর্মকর্তাদের পৃথক হিসাবে শনিবার থেকে মোট ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ধ্বং সের দাবি করা হয়েছে। হা ম লায় মস্কোর একটি তেল শো ধ না গারের একটি অংশ ক্ষ তি গ্র স্ত হয়েছে। একটি আবাসিক ভবনেও ড্রোন আ ঘা ত হানার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় দুইজন নি হত এবং ২০ জন আ হ ত হয়েছেন। নি হতদের মধ্যে ৭৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ৪৪ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন। রামেনস্কি জেলার একটি ২১ তলা আবাসিক ভবন থেকে ৭০ শিশুসহ প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর মস্কোর তেল শো ধ না গার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ঘটনাটি ঘটে রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ দিনে। মেয়র সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, নির্বাচন ব্য হ ত করাই এই হা ম লার উদ্দেশ্য ছিল। তবে ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে ওই অ ভি যোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই অ ভি যা নে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও ক্ষে প ণা স্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং তেল ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যু দ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন আ ক্র মণের মাত্রা বেড়েছে। একই রাতে রাশিয়ার ড্রোন হা ম লায় ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলেও চারজন নি হত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।