সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৬:১০
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লাম্পকিন কাউন্টিতে একটি স্কুল বাসের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে হাইল্যান্ড ট্রেস অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নামানোর সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, নিয়ম ভেঙে বাসে প্রবেশ করা এবং চালকের কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, কট্রেল এলিমেন্টারি স্কুল থেকে ছেড়ে আসা ২২-৩৬ নম্বর বাসে যাত্রা শুরুর আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা চিৎকার, মারামারি ও জিনিসপত্র ছুড়ে বিশৃঙ্খলা করছিল। বাসের চালক ছিলেন একজন বদলি কর্মী, যিনি ওই রুটে নতুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তার নিয়ম মানতে বাধ্য করতে তাকে পথিমধ্যে বেশ কয়েকবার বাস থামাতে হয়েছিল।

 

বাসটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের প্রথম স্টপেজে পৌঁছালে, দ্বিতীয় স্টপেজের এক শিক্ষার্থী নেমে পড়ে। চালক তাকে বাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সেখানে উপস্থিত কিছু অভিভাবকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

 

বাসচালক যখন সব শিক্ষার্থীকে তাদের আসনে বসানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন কয়েকজন অভিভাবক সেখানে জড়ো হয়ে তাদের সন্তানদের নামিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। চালক তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নামানোর সুযোগ নেই।

 

কিন্তু অভিভাবকরা বাইরে থেকে জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী বাসের জরুরি দরজা খুলে দিলে অভিভাবকরা ভেতরে ঢুকে জোরপূর্বক তাদের সন্তানদের নামিয়ে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চালককে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাইতে হয়েছিল।

 

পরবর্তীতে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে, চালক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ মিনিট বাসে আটকে রেখেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ এসি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পুলিশি তদন্তে চালকের কোনো অপরাধ বা গাফিলতি পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, পাহাড়ি খাড়া রাস্তায় বাসের ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে কেবল সাময়িকভাবে এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

 

সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাসে প্রবেশ করে চালককে হেনস্তা করার দায়ে এপ্রিল মিশেল ডিসপেইন, টনি রে চ্যাস্টেইন এবং মারিয়া কুইনোনেস নামের ওই তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, বাসের কাজে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
২১ বছরের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক: মার্কিন বিচার বিভাগ
২১ বছরের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক: মার্কিন বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এক নতুন আইনি মতামতে জানিয়েছে যে, ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণদের কাছে হ্যান্ডগান বা এর গুলি বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক। বিচার বিভাগের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে পাওয়া অস্ত্র রাখার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।   সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনের ঠিক একদিন পরই এই নতুন মতামতটি প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, বিচার বিভাগ সাইলেন্সার এবং শর্ট-ব্যারেল রাইফেলের মতো বেশ কিছু অস্ত্রের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া আদালতের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর আপিল করবে না।   অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেলের (ওএলসি) সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল টি. এলিয়ট গাইসার এই প্রসঙ্গে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে একজন ১৮ বছর বয়সী তরুণ সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া, ভোট দেওয়া বা জুরির দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট পরিণত।   এমনকি ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকেও একজন ১৮ বছর বয়সী শুটার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ বছর বয়সীদের একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের কাছে পিস্তল বিক্রি করাকে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে গণ্য করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।   যদিও বিচার বিভাগের এই আইনি মতামতের কোনো সরাসরি বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি দেশজুড়ে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা থেকে বিরত রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কাজ করা সংগঠন 'গিফোর্ডস' এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক এমা ব্রাউন একে "অস্ত্র লবি ও অনুদানকারীদের মন জয় করতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি বেআইনি ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ" বলে আখ্যায়িত করেছেন।   তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল শুটিং ও ব্যাপক প্রাণহানির মতো ঘটনাগুলোতে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের জড়িত থাকার হার তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের গান কন্ট্রোল অ্যাক্ট অনুযায়ী ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে হ্যান্ডগান বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল মার্কিন কংগ্রেস, যদিও তারা রাইফেল বা শটগান কিনতে পারতো। বয়সসীমার এই আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সার্কিট আদালতে মিশ্র রায় দেখা গেলেও, সুপ্রিম কোর্ট গত বছর এ বিষয়টি নিয়ে কোনো শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৬:৪৯
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার

মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত

নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান
নিউ জার্সিতে ফিলিস্তিনপন্থী শিল্পীকে বাদ দেওয়ার জেরে এড শিরানের কনসার্ট বয়কটের আহ্বান

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের রাজনীতিতে এবার জড়িয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ পপ আইকন এড শিরান। নিজের ‘লুপ ট্যুর’-এর কনসার্ট থেকে ফিলিস্তিনপন্থী মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও বয়কটের মুখে পড়েছেন তিনি।   গত ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' নিয়ে কথা বলেছিলেন ম্যাকলমোর। এরপরই বিলিয়নিয়ার রবার্ট ক্রাফটসহ মার্কিন স্টেডিয়াম মালিকদের চাপে ম্যাকলমোরকে পরবর্তী কনসার্টগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা শিরানের ক্যারিয়ারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের জন্ম দিয়েছে।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সংগীতজগতের অনেকেই শিরানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। বিলি আইলিশের ভাই ও গায়ক ফিনিয়াসসহ আরও তিন সহশিল্পী শিরানের ট্যুর থেকে ওয়াকআউট করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিনিয়াস লেখেন, নির্যাতিতদের পক্ষে কথা বললে শিল্পীদের কখনোই থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়।   প্রবীণ ব্রিটিশ গায়ক বিলি ব্র্যাগ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিরানকে অহংকার ভুলে ট্যুর বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনি সংগঠন পিএসিবিআই (PACBI) ম্যাকলমোরকে ট্যুরে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই কনসার্ট বয়কটের জন্য ভক্ত, সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।   সমালোচনার জবাবে এড শিরান দাবি করেছেন যে, তিনি তার পেশাদার প্ল্যাটফর্মকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করেন না। তবে সমালোচকরা তার এই দাবি মানতে নারাজ। কারণ, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তিনি ইউক্রেনপন্থী কনসার্টে পারফর্ম করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ব্রেক্সিট নিয়েও সরব ছিলেন।   ডারহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্রেচেন লারসেন এবং সংগীত বিশ্লেষক নিল মার্চের মতে, ক্ষমতাধরদের চাপে অন্য শিল্পীদের চুপ করিয়ে রাখাকে সমর্থন করা এবং চুপ থাকাও এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মৃতদেহসহ এই সংখ্যা প্রায় ২ লাখ হতে পারে।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েল তা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে, যার জেরে নতুন করে আরও বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৩:৩৪
'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড

'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড

লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, দীর্ঘ বিরোধের অবসান

অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার
অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার, মিলছে নতুন সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের যোগ্য পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন ১ ডলার বাড়িয়ে ২০ ডলার করা হচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের জন্য নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় ছাড় চালু করছে কোম্পানিটি। অ্যামাজন জানিয়েছে, বেতন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে।   নতুন বেতন কাঠামো মূলত অ্যামাজনের পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এসব পদের অনেকগুলোর জন্য আগের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ২৪ ডলারে পৌঁছাবে। বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মী সুবিধার আর্থিক মূল্য হিসাব করলে গড় মোট পারিশ্রমিক ঘণ্টায় ৩২ ডলারের বেশি হবে।   বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য ‘ডে ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল’ নামে নতুন ব্যাংকিং সুবিধা চালু করছে অ্যামাজন। এর মাধ্যমে যোগ্য কর্মী, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরা ফার্স্ট টেক ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, যোগ্য কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অ্যামাজনে চাকরি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই ব্যাংকিং সুবিধা আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন।   নতুন সুবিধার আওতায় সাধারণ হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাবে কোনো মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনজনিত ফি থাকবে না। হিসাব খোলার জন্য আগের ঋণ বা ক্রেডিট ব্যবহারের ইতিহাসও প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো অতিরিক্ত ফি ছাড়া এটিএম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহারের ফিও ফেরত দেওয়া হবে। মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং, সরাসরি বেতন জমা এবং ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি ও উন্নত করার বিভিন্ন সুবিধাও থাকবে।   অ্যামাজন কর্মীদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যপণ্য কেনাকাটায় নতুন ছাড়ও চালু করছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব অ্যামাজন কর্মী অ্যামাজন ডটকম ও হোল ফুডস মার্কেটের অনলাইন কেনাকাটায় যোগ্য খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছাড়াই ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। হোল ফুডসের দোকানে সরাসরি কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই ছাড় হবে ২০ শতাংশ। গরম খাবারের কাউন্টার ও সালাদ কাউন্টারও এই ছাড়ের আওতায় থাকবে।   কোম্পানির নিজস্ব অ্যামাজন হিসাবে কেনাকাটা করলেই কর্মীরা এই ছাড় ব্যবহার করতে পারবেন। যাঁরা আগে থেকেই অ্যামাজনের প্রাইম সদস্য, তাঁরা নির্দিষ্ট বিদ্যমান ছাড়ের সঙ্গে নতুন কর্মী ছাড়ও একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে কর্মীদের দৈনন্দিন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।   নতুন সুবিধাগুলো অ্যামাজনের বিদ্যমান কর্মী সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কোম্পানির নিয়মিত পূর্ণকালীন কর্মীরা চাকরির প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পান। অ্যামাজনের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় কর্মীদের নিজস্ব খরচ সপ্তাহে ৫ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। কিছু পরিকল্পনায় চিকিৎসাসেবার জন্য ৫ ডলারের সহভাগী অর্থও রয়েছে। যোগ্য কর্মীরা বিনা খরচে প্রাইম সদস্যপদ এবং ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত আগাম শিক্ষাব্যয়ের সুবিধা পেতে পারেন।   ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির আওতায় ৪৭৫টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন ডিগ্রি ও সনদ অর্জনের সুযোগ পান। এর পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয় কর্মসূচিতে কোম্পানির অবদান, বেতনসহ সন্তানের জন্ম বা দেখাশোনার ছুটি, নমনীয় ছুটি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য কর্মী সুবিধাও রয়েছে।   অ্যামাজনের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট উডিট মাদান জানিয়েছেন, কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু বেতন নয়, পুরো সুবিধা প্যাকেজকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে কোম্পানির ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এবারের নতুন বেতন বৃদ্ধি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের বড় খুচরা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর্মীদের বেতন নিয়ে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালমার্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ১৪ ডলার এবং টার্গেটে ১৫ ডলার। অন্যদিকে কস্টকো গত বছর প্রারম্ভিক পর্যায়ের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২০ ডলারে উন্নীত করেছিল।   অ্যামাজনের নতুন সিদ্ধান্তে পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ২০ ডলারে পৌঁছাচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় যুক্ত হওয়ায় কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক সুবিধাও বাড়ছে। তবে কোন পদে কত বেতন এবং কোন সুবিধা প্রযোজ্য হবে, তা কর্মীর পদ, যোগ্যতা ও কোম্পানির নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:১১
দুই মাস পর নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করলেন মা

স্কুলের চিমনিতে পচা মরদেহ, দুই মাস পর নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে, চাপে গ্র্যাজুয়েটরা

৫০০ কলেজে ৪০%–এর বেশি শিক্ষার্থী ঋণখেলাপি

কলেজের পড়াশোনায় ফেডারেল ঋণ, পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীর হার কোথাও ৮০%

0 Comments