সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পাবলিক টয়লেট প্রকল্প চালু করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মামদানির ৪ মিলিয়ন ডলারের টয়লেট, ১০ মিনিট পরই খুলবে দরজা

নিউইয়র্কে নতুন ১৭টি পাবলিক টয়লেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি বরোতে এসব টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এসব টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নিয়ম—ভেতরে ঢোকার পর সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় পাওয়া যাবে। সময় শেষ হলে সতর্কবার্তার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।   নতুন টয়লেটগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোতে থাকবে চলমান পানির ব্যবস্থা, ফ্লাশ টয়লেট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব টয়লেট খোলা থাকবে।   ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে, থ্রোন বাথরুম নেটওয়ার্ক অ্যাপের মাধ্যমে অথবা স্থানীয় কমিউনিটি অংশীদারদের দেওয়া ট্যাপ কার্ড ব্যবহার করে টয়লেটে প্রবেশ করতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে কাছাকাছি টয়লেটের অবস্থান, সেটি খালি আছে কি না এবং পরিচ্ছন্নতার তাৎক্ষণিক তথ্যও দেখা যাবে।   টয়লেটগুলোর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো ১০ মিনিটের সময়সীমা। ব্যবহারকারীরা পাঁচ মিনিট ও আট মিনিটে সময় শেষ হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাবেন। ১০ মিনিট পূর্ণ হলে টয়লেটের আলো জ্বলবে এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে দরজা খোলার বিষয়ে জানানো হবে। এরপর প্রায় ৩০ সেকেন্ডের সতর্কতার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। সতর্কবার্তাগুলো ইংরেজি ও স্প্যানিশ—দুই ভাষায় দেওয়া হবে।   টয়লেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান থ্রোন ল্যাবস জানিয়েছে, এই সময়সীমা নির্ধারণের আগে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত কতক্ষণ টয়লেটে থাকেন, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে অধিকাংশ ব্যবহারকারী সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যেই টয়লেট থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ৮১ শতাংশ ব্যবহারকারী পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার শেষ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী ১০ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে যান।   মামদানি প্রশাসনের এই প্রকল্পের আওতায় টয়লেটগুলো ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে স্থাপন করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের কুপার স্কয়ার ও ম্যালকম এক্স প্লাজা, ব্রুকলিনের কলম্বাস পার্ক ও মিলস্টোন পার্ক, কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া বুলেভার্ড ও নর্দার্ন বুলেভার্ডের বিভিন্ন এলাকা এবং ব্রঙ্কসের ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম এলাকা। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নর্থ শোর এসপ্লানেডেও একটি ইউনিট স্থাপন করা হবে।   প্রচলিত স্থায়ী পাবলিক টয়লেটের তুলনায় এসব ইউনিট দ্রুত স্থাপন করা যায়। কারণ এগুলোকে সরাসরি পানি, পয়োনিষ্কাশন বা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিটগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া বা সরিয়ে ফেলা সম্ভব। থ্রোন ল্যাবসই প্রতিটি ইউনিটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।   নিউইয়র্কে পাবলিক টয়লেটের স্বল্পতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাব রয়েছে। নতুন ১৭টি ইউনিটকে সেই ঘাটতি মোকাবিলায় একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্প এক বছর চলবে এবং এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে শহরের পাবলিক টয়লেট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।   ১০ মিনিটের নিয়মের উদ্দেশ্য হিসেবে দীর্ঘ সময় টয়লেট দখল করে রাখা বা সেখানে অপ্রয়োজনে অবস্থান ঠেকানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছে থ্রোন ল্যাবস। আর মামদানি প্রশাসনের লক্ষ্য হলো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিনামূল্যে, পরিচ্ছন্ন ও সহজে ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেটের সুযোগ বাড়ানো।   সূত্র: ফক্স নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৪:১৮
হুবহু চেহারার মিলের কারণে নির্দোষ হয়েও কানসাসে প্রায় ১৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছেন রিচার্ড অ্যান্থনি জোন্স। ছবি: সংগৃহীত
অপরাধীর সঙ্গে চেহারা, নাম হুবহু মেলায় ১৭ বছর জেল! বেরিয়ে এলো সত্য

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে রিচার্ড অ্যান্থনি জোন্স এমন এক অপরাধের দায়ে প্রায় ১৭ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন, যা তিনি করেননি। শুধু চেহারার মিল এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভুল শনাক্তকরণের কারণে ১৯৯৯ সালের একটি ডাকাতির মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তার মতো দেখতে আরেক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার পর মামলার মোড় ঘুরে যায় এবং ২০১৭ সালে জোন্সের সাজা বাতিল হয়। পরে কানসাস রাজ্য তাকে ১১ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেয়।    ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৯ সালে কানসাসের রোয়েল্যান্ড পার্কের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায়। এক নারীকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। নারীটি বাধা দিলে হামলাকারী ব্যাগ নিতে না পারলেও তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় পড়ে গিয়ে ওই নারী হাঁটুতে আঘাতও পান। পরে মামলাটি গুরুতর ডাকাতির মামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।    মামলার তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলাকারীকে হালকা গায়ের রঙের কৃষ্ণাঙ্গ বা হিস্পানিক পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, তার নাম সম্ভবত রিক এবং চুল লম্বা করে পেছনে বাঁধা ছিল। পরে একটি গাড়ির নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা এমন একজন চালকের কাছে পৌঁছান, যিনি হামলাকারীকে ‘রিক’ নামে চিনতেন। পুলিশি ছবির মধ্য থেকে তিনি রিচার্ড জোন্সকে শনাক্ত করেন। ডাকাতির শিকার নারীও পরে জোন্সকে শনাক্ত করেন।    কিন্তু জোন্সের পক্ষে শক্ত একটি আলিবাই ছিল। ঘটনার সময় তিনি কানসাস সিটিতে তার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন বলে একাধিক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো ডিএনএ প্রমাণ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টও ছিল না। তবু প্রত্যক্ষদর্শীদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।    কারাগারে থাকার সময় অন্য বন্দিরা জোন্সকে বলতে থাকেন, তার সঙ্গে রিকি আমোস নামে আরেক বন্দির চেহারার অস্বাভাবিক মিল রয়েছে। শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে জোন্স এই তথ্যকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখেন। তিনি ইনোসেন্স প্রজেক্টের সহায়তা নেন। আইনজীবী ও গবেষকেরা রিকি লি আমোসকে খুঁজে বের করেন। আমোসের চেহারা জোন্সের সঙ্গে এতটাই মিল ছিল যে তাদের পাশাপাশি ছবি দেখে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।    এরপর মামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের দুই ব্যক্তির ছবি পাশাপাশি দেখানো হয়। তখন তারা আর নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি যে জোন্সই সেই ডাকাত ছিলেন। এমনকি ডাকাতির শিকার নারীসহ কয়েকজন সাক্ষীও দুই ব্যক্তিকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারেননি। তদন্তে আরও জানা যায়, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত গাড়িটি যে ঠিকানায় গিয়েছিল, সেই ঠিকানার সঙ্গে আমোসেরও যোগসূত্র ছিল।    ২০১৭ সালের জুনে আদালত জোন্সের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে এবং তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও পরে বাতিল করা হয়। মিডওয়েস্ট ইনোসেন্স প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, জোন্স ২০১৭ সালের ৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হন।    এরপর কানসাসে ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নতুন আইনের আওতায় জোন্স ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কানসাস রাজ্য তার সঙ্গে ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৪৫ ডলারের বেশি অর্থের সমঝোতা করে। তাকে নির্দোষিতার সনদ দেওয়া হয় এবং তার গ্রেপ্তার ও দণ্ডের রেকর্ড মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাউন্সেলিং এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার সুযোগও দেওয়া হয়।    জোন্সের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় প্রত্যক্ষদর্শীর ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকিও সামনে আনে। তার পুরো মামলাটি মূলত প্রত্যক্ষদর্শীদের শনাক্তকরণের ওপর নির্ভর করেছিল, অথচ পরে একই রকম দেখতে আরেক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার পর সেই শনাক্তকরণ নিয়েই গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত নিজের চেহারার সঙ্গে অন্য একজনের অস্বাভাবিক মিলের কারণেই যে ভুলের শিকার হয়েছিলেন, প্রায় ১৭ বছর কারাগারে কাটানোর পর আদালতের সিদ্ধান্তে তার সেই সাজা বাতিল হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:৫১
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় নিহত ২৩ বছর বয়সী তরুণী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার। ছবি: সংগৃহীত
মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বাবা-মাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের সালিশি শুনানি শেষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ. স্টোন উবার ও চালক ভু ট্রানকে ওই ঘটনায় যৌথভাবে দায়ী করেন। নিহত এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা ক্যারল নরম্যান্ডিন ও মা কেন পার্কারকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট। এমিলি তার বন্ধু লুনা মুরের সঙ্গে রাতে বাইরে যাওয়ার পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। যাত্রাপথে মুর অসুস্থ হয়ে পড়লে চালক ভু ট্রান অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩-এর একটি ‘গোর পয়েন্টে’ গাড়ি থামান। এটি মহাসড়কের মূল সড়ক ও অফ-র‌্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির একটি অংশ।   সালিশি রায়ে বিচারক স্টোন ওই জায়গাটিকে ‘অনিরাপদ ও অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ডের প্রস্থানপথ ব্যবহার করে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে পারতেন। রায়ে আরও বলা হয়, ট্রান জানতেন দুই যাত্রীই মদ্যপ ছিলেন। গাড়ি পরিষ্কারের খরচ নিয়ে মুরের সঙ্গে তার বিরোধের পর তিনি তাদের ওই স্থানে নামিয়ে দেন।   এরপর এমিলি মহাসড়কের মূল সড়কে চলে যান এবং একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। সালিশি রায়ে বলা হয়েছে, জিপিএস তথ্য অনুযায়ী ট্রান সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় এমিলির মরদেহের কাছ দিয়ে যান। এরপর পরবর্তী প্রস্থানপথ দিয়ে মহাসড়ক থেকে বের হয়ে তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গাড়ি পরিষ্কারের খরচ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন।   বিচারক স্টোন ট্রানের সাক্ষ্য নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। সালিশি রায়ে তার বক্তব্যকে প্রায় সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিচারকের মতে, ট্রান যাত্রীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজের নতুন গাড়ি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। একই সঙ্গে তার কাছে দুই নারীকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।   এমিলির পরিবারের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সালিশি শুনানিতে ট্রানের আগের আচরণ নিয়েও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তাদের দাবি, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে উবারের কাছে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। একজন যাত্রী তার সঙ্গে হওয়া যাত্রাকে নিজের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে অনিরাপদ যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আরেকজন অভিযোগ করেছিলেন, ট্রান গাড়ি চালাতে পারেন না।   এমিলির বাবা কেন পার্কার অভিযোগগুলোর মধ্যে একমুখী সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অনিয়মিতভাবে গাড়ি চালানো এবং পথচারীদের প্রায় ধাক্কা দেওয়ার মতো আচরণের কথা উল্লেখ করেন। তবে উবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রান এখন আর তাদের প্ল্যাটফর্মে চালক হিসেবে কাজ করেন না।   পাঁচ দিনের সালিশি প্রক্রিয়া শেষে এমিলির বাবা ও মাকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় তার বন্ধু লুনা মুরকে ৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।   সালিশি রায়ে উবারকে চালক ট্রানের অবহেলার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করা হয়। উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি মূলত যাত্রী ও চালকদের সংযোগকারী একটি প্রযুক্তি কোম্পানি। তবে বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে বলা হয়, উবার অ্যাপের মাধ্যমে পরিবহনসেবা দেয়, ভাড়া নির্ধারণ করে এবং যাত্রীদের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে।   ক্যালিফোর্নিয়ার ‘প্রপোজিশন ২২’ নিয়েও উবারের যুক্তি ছিল। ২০২০ সালে অনুমোদিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাপভিত্তিক চালকদের কর্মচারীর পরিবর্তে স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সালিশি বিচারক মনে করেন, এই বিধান ট্রানের আচরণের জন্য উবারকে দায়মুক্তি দেয় না।   উবার এক বিবৃতিতে এমিলির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কোনো পরিবারেরই সন্তান হারানোর কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। তবে উবার একই সঙ্গে জানিয়েছে, সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ওই ঘটনার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। উবার আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন প্রযুক্তি, নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।   এদিকে এমিলির বাবা-মা মেয়ের মৃত্যুর পর তার স্মরণে ‘এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাইডশেয়ারিং সেবায় যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং করপোরেট জবাবদিহি নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশনটি গঠন করা হয়েছে। সালিশি মামলায় পাওয়া অর্থের একটি অংশ এই উদ্যোগে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   এমিলি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। মেয়েকে স্মরণ করে তার মা জানিয়েছেন, এমিলির হাসি ছিল সংক্রামক। পরিবার জানিয়েছে, তিনি ছিলেন হাসিখুশি এবং গান গাইতে ভালোবাসতেন।   সূত্র: গুড মর্নিং আমেরিকা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:৪৫
ওপেনএআই-এর একটি গবেষণামূলক এআই মডেল নিজের কাজের সারসংক্ষেপে স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার নির্দেশনা যুক্ত করেছিল। ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণে না থাকার নির্দেশ নিজেই নিজেকে দিল এআই! ধরা পড়ল পরীক্ষায়

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের একটি প্রকাশ না করা গবেষণামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল নিজের কাজের সারসংক্ষেপে এমন নির্দেশনা যুক্ত করেছিল, যাতে পরবর্তী সময়ে কাজ করার সময় স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার কথা বলা হয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপ্রত্যাশিত আচরণ নিয়ে প্রকাশ করা নতুন নিরাপত্তা প্রতিবেদনে এমন ছয়টি ঘটনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি গবেষণামূলক মডেলের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সময় শনাক্ত হয়। মডেলটি পরবর্তী পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা সারসংক্ষেপে নিজের মূল কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন অতিরিক্ত নির্দেশনা ঢুকিয়ে দেয়। এসব নির্দেশনার কিছু অংশে নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার কথাও ছিল। ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ধরনের ২৭টি সারসংক্ষেপ শনাক্ত করা হয়েছে।   তবে ঘটনাটি কোনো প্রকাশ্য চ্যাটজিপিটি সংস্করণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এটি তাদের একটি প্রকাশ না করা গবেষণামূলক মডেলের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়। ওপেনএআই আরও সতর্ক করেছে, প্রকাশ করা ঘটনাগুলো পৃথক উদাহরণ। এসব উদাহরণের ভিত্তিতে তাদের মডেলগুলোতে এমন আচরণ কত ঘন ঘন ঘটে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   প্রতিবেদনে আরও একটি ঘটনায় দেখা যায়, জিপিটি ৫.৬ সল প্রশিক্ষণের সময় কিছু মডেল নিজেদের সারসংক্ষেপে ভুল বা মানুষের নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত আচরণ ব্যবহারকারীর কাছ থেকে গোপন রাখার নির্দেশ যুক্ত করেছিল। কিছু ক্ষেত্রে মডেলকে অনুপস্থিত ঐতিহাসিক তথ্য তৈরি করে তা প্রকাশ না করার এবং বিভিন্ন তথ্যসূত্রের সংস্করণের মধ্যে থাকা অমিল গোপন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।   আরেক ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কাউন্টির আয়ের পরিসংখ্যান খোঁজার সময় একটি মডেল অনুমতি ছাড়া একটি উন্মুক্ত এপিআই চাবি ব্যবহার করে। কাঙ্ক্ষিত তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার পর মডেলটি তথ্য তৈরি করে সেটিকে সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করে। ঘটনাটি এআইয়ের তথ্য যাচাই ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।   ওপেনএআইয়ের প্রতিবেদনে এআই এজেন্টের আচরণ নিয়েও কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। একটি ঘটনায় একটি এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই একটি ফাইল ইন্টারনেটে আপলোড করে, যাতে পরে সেটিকে ব্রাউজারের তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অন্য একটি ঘটনায় প্রশিক্ষণ কাজে যুক্ত একাধিক মডেল একটি অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার ভান্ডার ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করে।   আরেক ঘটনায় সহযোগী এআই এজেন্টগুলো নিজেদের মধ্যে ফাইল আদানপ্রদানের জন্য একটি উন্মুক্ত ফাইল সংরক্ষণ ওয়েবসাইট ব্যবহার করে। এসব আচরণ মডেলকে দেওয়া নির্ধারিত কাজের বাইরে গিয়ে নিজস্ব উপায়ে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করতে পারে কিনা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।   এসব ঘটনার পাশাপাশি ওপেনএআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লক্ষ্যচ্যুত আচরণ শনাক্ত, তদন্ত ও প্রকাশের জন্য নতুন একটি কাঠামো চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, লক্ষ্যচ্যুত আচরণ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের দেওয়া নির্দেশনা বা নির্ধারিত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কোনো লক্ষ্য অনুসরণ করে।   নতুন কাঠামোর আওতায় ভবিষ্যতে এআই মডেলের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বাস্তব ব্যবহারের বিভিন্ন পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণ প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো কীভাবে তদন্ত করা হয় এবং কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা তৈরি করা।   ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি তাদের এ ধরনের ঘটনার প্রথম দফার প্রকাশনা এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সময়ের সঙ্গে এই কাঠামো আরও উন্নত করা হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের অপ্রত্যাশিত ও লক্ষ্যচ্যুত আচরণ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:৩৬
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি-তে স্নাতক ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্যাট পরীক্ষা পুনরায় চালু করা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার স্যাট ফেরানোর বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের ‘বেসিক গণিত’ নিয়ে প্রশ্ন

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় স্যাট আবার চালু করা হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কাউন্সিল স্নাতক ভর্তি প্রক্রিয়ায় মানসম্মত পরীক্ষা ব্যবহারের বিষয়ে তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক পর্যালোচনা শুরু করার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যেই নিউইয়র্ক টাইমসের এক অতিথি নিবন্ধে লেখক মিরিয়াম পাওয়েল বর্তমান পরীক্ষামুক্ত ভর্তি ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।   পাওয়েল তার ১৬ সেপ্টেম্বরের নিবন্ধে লিখেছেন, ২০২১ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্যাট পরীক্ষার বাধ্যতামূলক ব্যবহার বাদ দেওয়ার পর ইউসিএলএতে উচ্চ ফল করা কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো শিক্ষার্থীদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। তার মতে, ওই মানসম্মত পরীক্ষাগুলো কিছু শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের বাধা হিসেবে কাজ করছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউসির নয়টি স্নাতক ক্যাম্পাসেই আবেদন বেড়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা ও স্নাতক করার ক্ষেত্রে রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে।   তবে একই নিবন্ধে পাওয়েল স্বীকার করেছেন, ইউসির ক্যাম্পাসগুলোতে কিছু শিক্ষার্থী বেসিক গণিতে সমস্যায় পড়ছে। তার যুক্তি হলো, এই শিক্ষার্থীদের মধ্যেও স্নাতক হওয়ার হার রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। তিনি ইউসিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেখানে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি একাডেমিক মান ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।   স্যাট ফেরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ অবশ্য শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি নিয়ে ভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক খোলা চিঠিতে ৬৮০-এর বেশি ইউসি অধ্যাপক মানসম্মত পরীক্ষা পুনরায় বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, কিছু শিক্ষার্থীর প্রস্তুতির ঘাটতি এতটাই বেশি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কলেজ পর্যায়ের বিষয় পড়ানোর পাশাপাশি আগের স্তরের গণিতও আবার শেখাতে হচ্ছে।   ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ২০২০ সালে স্যাট ও অ্যাক্ট ব্যবহারের বিষয়ে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। বোর্ড অব রিজেন্টস প্রথমে ২০২১ ও ২০২২ সালের ভর্তি চক্রে পরীক্ষাগুলোকে ঐচ্ছিক রাখে এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালের জন্য পরীক্ষার ফল ভর্তি সিদ্ধান্তে বিবেচনা না করার নীতি নেয়। পরে ২০২১ সাল থেকে স্যাট ও অ্যাক্ট ভর্তি সিদ্ধান্তে ব্যবহার না করার নীতি কার্যকর হয়।   বর্তমানে ইউসি ভর্তি সিদ্ধান্তে স্যাট বা অ্যাক্টের স্কোর বিবেচনা করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা চাইলে স্কোর জমা দিতে পারে, তবে তা ভর্তি সিদ্ধান্ত বা স্কলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। কিছু ক্ষেত্রে কোর্স প্লেসমেন্ট বা নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণে স্কোর ব্যবহার করা যেতে পারে।   এই নীতিতে এখনই কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ইউসির সাম্প্রতিক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার আগে মানসম্মত পরীক্ষা সংক্রান্ত ভর্তি নীতিতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে একাডেমিক কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং জুনের মধ্যে রিজেন্টসের কাছে সুপারিশ দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।   ফলে ২০২৭ সালের শরৎকালীন ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের স্যাট বা অ্যাক্ট স্কোর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৮ সালের ভর্তি নীতিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, শিক্ষকদের মতামত এবং সম্ভাব্য নীতিগত প্রভাব পর্যালোচনা করেই নেওয়া হবে।   স্যাট নিয়ে বিতর্কের মূল প্রশ্ন এখন দুটি বিষয়কে ঘিরে। একদিকে পরীক্ষাটি ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি পরিমাপের একটি মানদণ্ড দিতে পারে কি না, অন্যদিকে মানসম্মত পরীক্ষা বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও জাতিগত গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি বাধা তৈরি করে কি না। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার চলমান পর্যালোচনায় এই দুই দিকসহ আরও বিভিন্ন তথ্য ও গবেষণা বিবেচনা করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ইন-এন-আউট বার্গারের স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় এখন ২ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইন-এন-আউটে স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি! রয়েছে সুবিধাও

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ইন-এন-আউট বার্গারের স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় এখন ২ লাখ ডলারের বেশি। কোম্পানির এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির একজন ম্যানেজারের গড় আয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ডলার, অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে গড় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।    ইন-এন-আউটের ম্যানেজারদের এই আয় শুধু মূল বেতন নয়, কোম্পানির কর্মীদের জন্য থাকা বিভিন্ন সুবিধা ও লাভভাগের ব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কর্মীদের তুলনামূলক বেশি বেতন দেওয়ার নীতি তাদের প্রতিষ্ঠাতা হ্যারি ও এসথার স্নাইডারের সময় থেকেই চলে আসছে। কোম্পানির ভাষ্য, কর্মীদের পরিবারের সদস্যের মতো দেখার দর্শনের অংশ হিসেবেই এই বেতন কাঠামো গড়ে উঠেছে।    ইন-এন-আউটের ম্যানেজারদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, একজন ম্যানেজার সাধারণত প্রায় ১৫ বছর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে থাকেন। দ্রুত খাবার সরবরাহকারী রেস্তোরাঁ শিল্পে কর্মী ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও ইন-এন-আউট জানিয়েছে, তাদের ম্যানেজমেন্ট ও অন্যান্য কর্মীদের ক্ষেত্রে কর্মী পরিবর্তনের হার তুলনামূলক কম।    ম্যানেজার হওয়ার পথটিও সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির ভেতর থেকেই শুরু হয়। ইন-এন-আউট জানিয়েছে, অনেক ম্যানেজার ঘণ্টাভিত্তিক কর্মী হিসেবে চাকরি শুরু করে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে পৌঁছান। কোম্পানির রেস্টুরেন্ট কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ, পেইড ভ্যাকেশন, নমনীয় কাজের সময়, ফ্রি খাবার এবং অন্যান্য সুবিধা রয়েছে।    কোম্পানির বর্তমান কর্মসংস্থান নীতিতেও তুলনামূলক বেশি প্রারম্ভিক বেতনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বেল এলাকায় নতুন একটি ইন-এন-আউট রেস্টুরেন্ট চালুর সময় প্রতিষ্ঠানটি ঘণ্টায় ২২ ডলার থেকে কর্মীদের বেতন শুরু করার কথা জানিয়েছিল। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে নতুন একটি রেস্টুরেন্ট চালু করা হয়।    ইন-এন-আউট ১৯৪৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির রেস্টুরেন্ট ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়াও নেভাদা, অ্যারিজোনা, উটাহ, টেক্সাস, ওরেগন, কলোরাডো, আইডাহো, ওয়াশিংটন ও টেনেসিতে রয়েছে। কোম্পানিটি এখনো স্নাইডার পরিবারের মালিকানাধীন ও পরিচালিত এবং এর কোনো রেস্টুরেন্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে পরিচালিত হয় না।    ইন-এন-আউটের মতে, কর্মীদের বেতন ও সুবিধার ওপর এই গুরুত্বের লক্ষ্য শুধু কর্মী নিয়োগ নয়, দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখাও। কোম্পানির দাবি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখতে পারায় রেস্টুরেন্টগুলোর সেবার মানও ধারাবাহিক রাখা সহজ হয়।    ফাস্টফুড খাতে ম্যানেজারদের উচ্চ বেতনের খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি কর্মী ধরে রাখা ও দক্ষ কর্মী আকর্ষণের জন্য বেতন ও সুবিধা বাড়াচ্ছে। ইন-এন-আউটের ক্ষেত্রে ২ লাখ ডলারের বেশি গড় বার্ষিক আয় প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি কর্মী ধরে রাখার নীতির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, সেটিই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:৪
ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ডিজিটাল ফাইলের সূত্র ধরে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ায় কুখ্যাত পর্নোগ্রাফারের বাড়িতে বিপুল ভিডিও, নিখোঁজ ৭ নারীকে ঘিরে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে ভয়াবহ তদন্তে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের মধ্যে ৫ নারীকে মৃত বা মৃত অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা, আর আরও ২ নারী এখনো নিখোঁজ। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীদের কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কাউকে অভিযুক্তও করা হয়নি।    তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ফিলাডেলফিয়ার অলনি এলাকার ওয়েস্ট চিউ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন বসবাস করতেন প্রয়াত রেমন্ড ‘আরসি’ হর্শ এবং তার ছেলে ইউজিন হর্শ। রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি যৌনধর্মী ছবি ও ভিডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার কাজের বড় একটি ডিজিটাল সংগ্রহ বাড়িটিতে সংরক্ষিত ছিল।    ফিলাডেলফিয়া পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক ভ্যানোরে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যালোচনা করেছেন। এর মধ্যেই ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আরও ২৫ জনকে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, আরও বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এখনো পর্যালোচনা করা বাকি।    নতুন করে তদন্তে যুক্ত হয়েছে আরও দুই নারী। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ভিডিও ও ছবিতে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে অচেতন ও শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ দেখা গেছে। পরিবারটির অনুরোধে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আরেকটি ছবিতে মধ্য বিশের এক নারীকে আহত ও প্রাণহীন অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে আরও তিন নারীকে শনাক্ত করে তাদের মৃত বলে ধারণা করেছিল পুলিশ।    তদন্তে আলোচিত নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, মারিবেল ফ্রেসেস ও নিকোল ফুসারো। ফুসারো ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা একটি ভিডিওতে রেমন্ড হর্শকে তার গলায় বাঁধন দেওয়ার মতো আচরণ করতে দেখা যায়। তবে তার মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। আরও দুই নিখোঁজ নারী হলেন ব্লেয়ার টনজেলি ও অ্যামি ম্যাকহেল। টনজেলি ২০২৩ সালে নিখোঁজ হন। ম্যাকহেল ছিলেন রেমন্ড হর্শের সাবেক স্ত্রী এবং ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন।    তদন্তের শুরু হয় চলতি বছরের জুনে ইউজিন হর্শ গ্রেপ্তার হওয়ার পর। ফিলাডেলফিয়ায় তাকে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে আটক করা হয়। তার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়পত্রও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে ব্লেয়ার টনজেলির পরিচয়পত্র পাওয়ার পর তদন্তকারীদের নজর আরও গভীরভাবে ওই বাড়ির দিকে যায়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও, কম্পিউটার সরঞ্জাম, রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।    বাড়িতে পাওয়া রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে একটি কথিত ল্যাবরেটরির মতো জায়গা, বিভিন্ন রাসায়নিকের পাত্র এবং পাঁচটি ছাই রাখার পাত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু পাত্রে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা রয়েছে। তবে এসব দেহাবশেষ নিখোঁজ নারীদের কারও কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা রাসায়নিকগুলো কোনোভাবে প্রমাণ নষ্ট বা দেহাবশেষ গোপন করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।    তদন্ত আরও জটিল হয়েছে কারণ রেমন্ড হর্শের তৈরি অনেক ছবি ও ভিডিওতে সহিংসতার দৃশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসবের কিছু দৃশ্য সাজানো বা অভিনয় হতে পারে। আবার কিছু দৃশ্য বাস্তব সহিংসতার ঘটনাও হতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশঙ্কা। তাই ভিডিওতে দেখা প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, শুধু ভিডিওর দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করতে তারা সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করছে।    ফিলাডেলফিয়া পুলিশ ও এফবিআই যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এফবিআই ফিলাডেলফিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়েইন জ্যাকবস জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে বাড়িটিতে আরও তল্লাশি চালানো হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের লক্ষ্য দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নয়, বরং উদ্ধার করা বিপুল ডিজিটাল তথ্যের প্রতিটি অংশ যথাসম্ভব যাচাই করে নিখোঁজ নারীদের পরিচয় ও তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজে বের করা।    ইউজিন হর্শ বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়পত্রসংক্রান্ত ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে। তবে নিখোঁজ নারীদের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। একইভাবে, রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধেও এসব ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা এখনো ডিজিটাল প্রমাণ, রাসায়নিক পদার্থ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে দেখছেন।    তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্যের মাত্র একাংশ এখনো পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে ফিলাডেলফিয়ার ওই বাড়িকে ঘিরে নিখোঁজ নারীদের রহস্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আরও তথ্য যাচাই ও নতুন তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১:৪১
দুবাইয়ে বসবাসরত সাত বছরের ভারতীয় শিশু আমেয়া অজিতের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভীর শোকের ছায়া। ছবি: সংগৃহীত
ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতে গিয়ে বিরল মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত, দুবাইয়ের ৭ বছরের আমেয়ার মৃত্যু

দুবাইয়ে বসবাসরত সাত বছরের ভারতীয় শিশু আমেয়া অজিতের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে পরিবার, স্কুল ও নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কেরালায় গিয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিরল স্নায়বিক রোগ ফিব্রাইল ইনফেকশন-রিলেটেড এপিলেপসি সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার পর ৪৫ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিল সে। ১৪ সেপ্টেম্বর হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আমেয়ার মৃত্যু হয়।    আমেয়া দুবাইয়ের দ্য ইন্ডিয়ান হাই স্কুলের আল গারহুদ জুনিয়র ক্যাম্পাসের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বাবা অজিত কেপির ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থ হওয়ার আগে মেয়েটির কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। বরং সে ছিল প্রাণবন্ত ও সুস্থ শিশু। ৬ জুলাই পরিবারের সঙ্গে নিজের সপ্তম জন্মদিনও উদযাপন করেছিল আমেয়া। ছুটিতে কেরালায় যাওয়ার পরও প্রথম কয়েক সপ্তাহ স্বাভাবিকভাবেই কেটেছিল তার।    হঠাৎ ৩০ জুলাই আমেয়ার খিঁচুনি শুরু হয়। পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরে তার শরীরে ফিব্রাইল ইনফেকশন-রিলেটেড এপিলেপসি সিনড্রোম বা এফআইআরইএস শনাক্ত করেন। এটি অত্যন্ত বিরল ও গুরুতর এক ধরনের স্নায়বিক রোগ, যা আগে সুস্থ থাকা শিশুদেরও আক্রান্ত করতে পারে। রোগটি সাধারণত জ্বর বা সংক্রমণের পর হঠাৎ তীব্র ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন খিঁচুনি দিয়ে শুরু হতে পারে।    চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমেয়ার খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান তার বাবা। তবে তখনও তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। রোগের জটিলতার কারণে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়, কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হয় এবং ঘুমের মতো গভীর অবস্থায় রাখা হয়। পরিবার আশা করছিল, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। কিন্তু ৪৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর হঠাৎ হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় তার।    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এফআইআরইএস অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন চিকিৎসা-গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে আনুমানিক একজন এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এর সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি এবং নির্দিষ্ট কোনো একক চিকিৎসাও নেই। সাধারণত খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ এবং রোগের কারণে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতা সামলানোর ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। বেঁচে যাওয়া শিশুদের একটি অংশের দীর্ঘমেয়াদি খিঁচুনি ও স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।    আমেয়ার মা মীরা অজিতের জন্যও মেয়ের এই আকস্মিক মৃত্যু ছিল গভীর আঘাত। তিনি আগে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কাজ করলেও প্রায় এক বছর আগে চাকরি থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। মেয়ের পড়াশোনা, নাচ ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহকে সময় দেওয়াই হয়ে উঠেছিল তার অন্যতম অগ্রাধিকার। আমেয়া নিয়মিত নাচের প্রশিক্ষণ নিত এবং ভবিষ্যতে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখত।    দুবাইয়ের শামনা কাসিম ড্যান্স স্টুডিওরও প্রিয় শিক্ষার্থী ছিল আমেয়া। মালয়ালম অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী শামনা কাসিমের পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকেই ভরতনাট্যম শিখছিল সে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচে অংশ নিত আমেয়া এবং নাচের প্রতি তার ছিল বিশেষ আগ্রহ। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্টুডিওর ক্লাস বন্ধ রাখা হয় এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা শোক প্রকাশ করেন।    আমেয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পরিবারও তার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে। বন্ধু সেরাহর মা গ্রিশমা রবি জানান, দুই শিশুর বন্ধুত্ব হয়েছিল মাত্র আড়াই বছর বয়সে এবং এরপর তারা প্রায় সবসময় একসঙ্গে থাকত। স্কুল আলাদা হলেও একই নাচের প্রতিষ্ঠানে যেত তারা। আমেয়ার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিল তার ছোট্ট বন্ধু, কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হলো না।    আমেয়ার স্কুলের প্রধান নির্বাহী পুনিত এম কে বাসু তাকে প্রাণবন্ত, কোমল ও সবার প্রিয় শিশু হিসেবে স্মরণ করেছেন। স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে তার হাসি এবং ছোট ছোট অভ্যাসগুলো এখন স্মৃতির অংশ। ছুটিতে কেরালায় গিয়ে একটি আকস্মিক ও অত্যন্ত বিরল রোগের সঙ্গে ৪৫ দিনের লড়াইয়ের পর আমেয়ার মৃত্যু তার পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক ও নৃত্যজগতের পরিচিতদের গভীর শোকে ডুবিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১:৩৪
মিনেসোটায় এক ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীকে গুলি করে আহত করার অভিযোগে আইসিই এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মিনিয়াপলিসে ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি করার অভিযোগ, হেনেপিন কাউন্টি জেলে আইসিই এজেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে এক ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীকে গুলি করে আহত করার অভিযোগে আইসিই এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার মিনেসোটা ব্যুরো অব ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশনের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। গত জানুয়ারির ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হামলা এবং তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান ঘিরে মিনেসোটায় তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে আলোচিত হয়ে ওঠে।   মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলাকালে ২৪ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলীয় নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিসের বাড়ির বন্ধ দরজা দিয়ে গুলি চালান কাস্ত্রো। গুলিতে সোসা-সেলিসের পায়ে আঘাত লাগে। ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে শিশুরাও ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার পর কাস্ত্রো দাবি করেন, সোসা-সেলিস ও আরও কয়েকজন তাকে ঝাড়ুর হাতল এবং তুষার সরানোর বেলচা দিয়ে আক্রমণ করেছিলেন। আত্মরক্ষার কারণেই তিনি গুলি চালিয়েছেন বলে তার পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়। তবে পরে প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে তার বর্ণনার সঙ্গে ঘটনাস্থলের দৃশ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ভিডিওতে কথিত ঝাড়ু ও বেলচা দিয়ে তাকে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়নি। এরপর তদন্তকারীদের কাছে কাস্ত্রোর দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।   মিনেসোটায় তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর কাস্ত্রো টেক্সাসে চলে যান। তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে জটিল হয়ে পড়ে। তিনি প্রায় ৯০ দিন টেক্সাসের একটি কারাগারে ছিলেন এবং গত আগস্টে মুক্তি পান। মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ তাকে অঙ্গরাজ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তাকে হস্তান্তরের অনুমোদন দেননি। পরে বিষয়টি ফেডারেল পর্যায়ের তদন্তেও গড়ায়।   ফেডারেল মামলায় কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে তদন্তের সময় তিনি এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ফেডারেল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এটি ছিল ওই অভিযানের পর প্রথম ফেডারেল প্রসিকিউশনের ঘটনা।   বৃহস্পতিবার মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি আদালতে কাস্ত্রোর প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য মামলায় তার জামিন ৪ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ২ লাখ ডলারে জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরে তাকে ফেডারেল আদালতেও হাজির করা হবে। কাস্ত্রো এখনো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষ স্বীকার করেননি।   কাস্ত্রোর আইনজীবী রোলান্ডো ক্যান্টু এর আগে বলেছিলেন, তার মক্কেল মিনেসোটায় ফিরে এসে অভিযোগের মুখোমুখি হতে চান এবং আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ চান। অন্যদিকে হেনেপিন কাউন্টির প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল।   মামলাটি মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন অভিযান নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ওই অভিযানের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত, মামলা ও বিক্ষোভ হয়েছে। কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে রাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে আনা অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সামনে এগোবে। আদালতে প্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই গুলি চালানোর ঘটনা এবং তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তার বক্তব্যের আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১:৫
মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সাজে নজর কেড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে টিফানি ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আম্বানিদের গণেশোৎসবের আয়োজনে ট্রাম্পকন্যা টিফানি, ভারতীয় লেহেঙ্গায় নজর কাড়লেন

মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের আয়োজনে অংশ নিয়ে ভারতীয় সাজে নজর কেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে টিফানি ট্রাম্প। ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি স্বামী মাইকেল বুলোসের সঙ্গে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের জন্য টিফানি পরেছিলেন প্যাস্টেল পিস্তাচিও-সবুজ রঙের লেহেঙ্গা, সঙ্গে ছিল গোলাপি ওড়না ও ঐতিহ্যবাহী গয়না।   টিফানির লেহেঙ্গাটি ডিজাইন করেছেন ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা। পোশাকের স্কার্টে ছিল সাদা ও রুপালি ফুলের কারুকাজ, মুক্তার কাজ এবং সূক্ষ্ম নকশা। এর সঙ্গে থাকা ছোট ব্লাউজেও ছিল মুক্তা, ক্রিস্টাল ও সূচিকর্মের অলংকরণ। গোলাপি ওড়নাটি সবুজ পোশাকের সঙ্গে আলাদা রঙের সমন্বয় তৈরি করে।   পোশাকের সঙ্গে টিফানি বেছে নেন ঐতিহ্যবাহী পোলকি গয়না। তার পরনে ছিল ভারী নেকলেস, ঝাড়বাতির মতো দুল ও মাঙ্গটিকা। হাতে ছিল অলংকৃত চুড়ি এবং সাজের সঙ্গে মানানসই ছোট ধাতব ব্যাগ। পুরো সাজে ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয় দেখা যায়।   অনুষ্ঠানে টিফানির সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী মাইকেল বুলোস। তিনিও ভারতীয় পোশাকে হাজির হন। মাইকেলের পরনে ছিল কমলা-সাফরন রঙের নকশা করা শেরওয়ানি, যা টিফানির উৎসবের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।   টিফানি পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভারত সফরের ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যারোসেলের সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘India, with love’। এসব ছবিতে তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। তার মা মারলা ম্যাপলসও এই ভারত সফরে ছিলেন।   আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের এই আয়োজনে বলিউডের একাধিক তারকাও উপস্থিত ছিলেন। টিফানির সঙ্গে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের ছবিও প্রকাশ্যে আসে। মুম্বাইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় অনুষ্ঠিত আয়োজনে সালমান খান, রণবীর সিং, ক্যাটরিনা কাইফ, ভিকি কৌশল, কারিনা কাপুর, সাইফ আলী খানসহ আরও অনেক তারকা অংশ নেন।   এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসেও স্বামী মাইকেল বুলোসকে সঙ্গে নিয়ে ভারত সফর করেছিলেন টিফানি। সেই সফরে তারা দিল্লির অক্ষরধাম, আগ্রার তাজমহল ও রাজস্থানের জয়সালমের ঘুরে দেখেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার ভারত সফরে এসে এবার তিনি আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবে অংশ নিলেন।   টিফানির এবারের ভারতীয় সাজ প্রকাশের পর তা নিয়ে ফ্যাশন ও বিনোদনভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্যাস্টেল রঙের লেহেঙ্গা, গোলাপি ওড়না এবং ঐতিহ্যবাহী পোলকি গয়নার সমন্বয়টি তার এবারের উপস্থিতির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ০:৫২
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে বসবাস করছেন। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের এখন বসবাস টেনেসির এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে থাকছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের মেমফিস প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ তদারকি করতে তিনি প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। বিষয়টি মাস্ক নিজেই জানিয়েছেন।   ১৫ সেপ্টেম্বর ‘অল-ইন’ পডকাস্টের এক অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগে অংশ নেন মাস্ক। সেখানে তিনি মেমফিসে নিজের থাকার জায়গাকে মজা করে ‘প্রাসাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, সেটি একটি এয়ারস্ট্রিম ট্রেলার। অনুষ্ঠানে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েলও উপস্থিত ছিলেন।   মাস্ক মেমফিসে অবস্থান করছেন এক্সএআইয়ের ‘কলসাস’ সুপারকম্পিউটার প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজের কারণে। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য এই বিশাল কম্পিউটার অবকাঠামো ব্যবহার করছে। মেমফিসে এক্সএআইয়ের অবকাঠামো আরও বাড়ানোর কাজও চলছে।   গুইন শটওয়েল অনুষ্ঠানে বলেন, মাস্ক মেমফিসে থেকে নির্মাণকাজে যুক্ত আছেন। তিনি আরও জানান, মাস্ক এমনভাবে কাজ করেন যে প্রয়োজন হলে কারখানার মেঝেতেও ঘুমিয়ে থাকেন। এর আগে বিভিন্ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার অভ্যাসও তাঁর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মাস্কের বর্তমান থাকার জায়গাটি কোনো বিলাসবহুল বাড়ি নয়। এয়ারস্ট্রিমের বিভিন্ন ট্রেলারে সীমিত জায়গার মধ্যে ঘুমানোর ব্যবস্থা, রান্নাঘর ও বাথরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকে। তবে মাস্ক ঠিক কোন মডেলের এয়ারস্ট্রিম ট্রেলারে থাকছেন, তা তিনি জানাননি।   বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও তুলনামূলক সাধারণ জায়গায় থাকার বিষয়টি মাস্কের জন্য নতুন নয়। ২০২০ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের বেশির ভাগ সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং কোনো বাড়ির মালিক থাকতে চান না। পরে অবশ্য টেক্সাসের অস্টিনে একাধিক বাড়ি কেনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।   এর আগেও কাজের প্রয়োজনে কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার নজির রয়েছে মাস্কের। জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের বর্ণনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসা ও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি অফিস বা কারখানার কাছাকাছি থেকেছেন। ২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণের পরও তিনি কোম্পানির কার্যালয়ে ঘুমিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।   মেমফিসে তাঁর বর্তমান অবস্থানও মূলত কাজকেন্দ্রিক। এক্সএআইয়ের কম্পিউটিং অবকাঠামো সম্প্রসারণের সময় প্রকল্পের কাছাকাছি থেকে কাজের অগ্রগতি দেখছেন তিনি। ফলে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়েও বর্তমানে তাঁর অস্থায়ী থাকার জায়গা হয়ে উঠেছে টেনেসির একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলার।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ০:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহরের তালিকায় নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্স। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহর হলো নিউ অরলিন্স

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহরের তালিকায় নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্স। ইয়েলপ ও লিফটের যৌথভাবে তৈরি ২০২৬ সালের এই তালিকায় নিউ অরলিন্সকে দেশের শীর্ষ খাবারের শহর হিসেবে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক রয়েছে দশম অবস্থানে।   নতুন এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের খাবারের জনপ্রিয়তা ও মানুষের আগ্রহ বিবেচনা করা হয়েছে। এ জন্য রেস্তোরাঁ খোঁজার তথ্য, ব্যবহারকারীদের সংরক্ষণ করা তালিকা, রেটিং, ছবি আপলোড এবং খাবারের জন্য যাতায়াতের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।   তালিকায় নিউ অরলিন্সের শীর্ষে থাকার পেছনে শহরটির সমৃদ্ধ খাবারের বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক খাবারের জন্য শহরটি ব্যাপকভাবে পরিচিত। স্থানীয় খাবারের মধ্যে পো’বয়, গাম্বো এবং ক্রেওল ঘরানার আধুনিক খাবারও জনপ্রিয়। ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার ও আশপাশের এলাকাগুলোতে এসব খাবারের নানা আয়োজন রয়েছে।   তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লস্টন। তৃতীয় অবস্থানে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো। চতুর্থ স্থানে মেইনের পোর্টল্যান্ড এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্লোরিডার মায়ামি। এরপর ষষ্ঠ স্থানে ওয়াশিংটন ডিসি, সপ্তমে সান ফ্রান্সিসকো এবং অষ্টমে ন্যাশভিল রয়েছে। নবম অবস্থানে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস।   সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো নিউইয়র্কের অবস্থান। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত খাবারের শহর হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক এবার তালিকায় দশম হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটির খাবারের বৈচিত্র্য এখনো অন্যতম বড় আকর্ষণ। বিশেষ করে কুইন্সসহ বিভিন্ন এলাকায় নানা দেশের খাবার পাওয়া যায়।   মেইনের পোর্টল্যান্ড চতুর্থ অবস্থানে থেকে তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। শহরটির হাঁটার উপযোগী পরিবেশ, উপকূলীয় সৌন্দর্য এবং মানসম্মত লবস্টার রোলের মতো স্থানীয় খাবারকে এর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্লস্টনের খাবারের তালিকায় সৃজনশীল বেকারি পণ্য ও বিভিন্ন ধরনের পাস্তাও প্রশংসা পেয়েছে।   ইয়েলপ ও লিফটের এই তালিকায় শুধু বড় ও পরিচিত শহর নয়, তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত কয়েকটি শহরও জায়গা পেয়েছে। ২০টি শহরের পূর্ণ তালিকায় নিউ অরলিন্সের পর চার্লস্টন, সান ডিয়েগো, পোর্টল্যান্ড, মায়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি, সান ফ্রান্সিসকো, ন্যাশভিল, লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক রয়েছে।   প্রতিবেদনটি আরও দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রেস্তোরাঁকেন্দ্রিক যাতায়াতের ধরনেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। ইয়েলপ ও লিফটের বিশ্লেষণে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত শহরগুলোতে সকালের নাশতা ও মধ্যসকালের খাবার খোঁজার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য। রেস্তোরাঁয় যাওয়ার জন্য লিফটের প্রায় ২০ শতাংশ যাত্রা দুপুরের আগেই হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই তালিকায় নিউ অরলিন্স শীর্ষস্থান দখল করেছে, আর নিউইয়র্ক জায়গা পেয়েছে দশম স্থানে। ইয়েলপ ও লিফটের তথ্যভিত্তিক এই তালিকায় নিউ অরলিন্সের সামুদ্রিক খাবার, স্থানীয় ক্রেওল খাবার এবং শহরের বিভিন্ন খাবারের বৈচিত্র্যকে শীর্ষে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   সূত্র: ইটিংওয়েল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ০:১৩
ফ্লোরিডায় একটি নীল কাঁকড়াকে পকেট ছুরি হাতে অদ্ভুতভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ছুরি হাতে কুকুর ও তার মালিকের ওপর কাঁকড়ার হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি কাঁকড়ার থাবায় ব্লেডের মতো ধারালো বস্তু নিয়ে ঘোরার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এডুয়ার্ডো আলভারেজ নামের এক ব্যক্তি তার বাড়ির উঠানে ঘটনাটি ভিডিও করেন। সেখানে তার পোষা কুকুর সামারকে কাঁকড়াটির দিকে এগিয়ে যেতে এবং পরে প্রাণীটিকে কুকুরটির দিকে থাবা বাড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।   আলভারেজ বুধবার ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘ফ্লোরিডা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।’ প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে এবং ২ কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।   ভিডিওতে দেখা যায়, সামার নামের কুকুরটি উঠানের এক পাশে থাকা কাঁকড়াটির দিকে এগিয়ে যায়। প্রাণীটি তখন একটি থাবা উঁচিয়ে কুকুরটির দিকে এগোনোর চেষ্টা করে। কাঁকড়াটির অন্য থাবায় থাকা ছোট একটি ধারালো বস্তু ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায়।   কুকুরটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আলভারেজ দ্রুত এগিয়ে যান। তিনি কাঁকড়াটিকে ধরার চেষ্টা করলে সেটি থাবা নাড়াতে থাকে। কয়েকবার চেষ্টা করার পর তিনি প্রাণীটিকে ধরে উঠানের অন্য অংশে সরিয়ে নেন। কুকুরটিকে সেটির কাছ থেকে দূরে থাকতে সতর্কও করেন তিনি।   ঘটনার অস্বাভাবিকতায় আলভারেজ নিজেও বিস্মিত হন। ভিডিওতে তাকে কুকুরটির উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, এমন একটি ধারালো বস্তু হাতে থাকা কাঁকড়া থেকে দূরে থাকাই ভালো। পরে মজা করে তিনি প্রাণীটিকে ‘গ্যাংস্টার কাঁকড়া’ বলে অভিহিত করেন।   ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ ঘটনাটিকে ফ্লোরিডার অদ্ভুত ঘটনার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। আলভারেজের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি।   প্রাণী বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা কাঁকড়াটি সম্ভবত ব্লু ল্যান্ড ক্র্যাব বা নীল স্থল কাঁকড়া। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, এই প্রজাতির পূর্ণবয়স্ক কাঁকড়া সাধারণত নীলচে-ধূসর রঙের হয় এবং দেহের খোলস প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। এদের একটি থাবা অন্যটির তুলনায় বড় হয়। দক্ষিণ ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকায় এদের বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত উপকূল থেকে ৫ মাইলের বেশি দূরে পাওয়া যায় না।   এই কাঁকড়া মূলত স্থলভাগে বসবাস করে এবং গর্ত তৈরি করে থাকে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরা প্রধানত উদ্ভিদজাত খাবার খায়, তবে মাঝে মাঝে পোকামাকড়ও খেতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় এরা মানুষের জন্য হুমকি নয়। তবে হাতে ধরার চেষ্টা করলে শক্ত থাবা দিয়ে কামড় দিতে পারে।   ভিডিওতে দেখা ধারালো বস্তুটি ছোট ছুরি বা পকেট ছুরির অংশ বলে মনে হচ্ছে। তবে কাঁকড়াটি কীভাবে সেটি থাবায় পেল, তা এখনো জানা যায়নি। প্রাণীটি নিজে কোনো অস্ত্র সংগ্রহ করেছে, নাকি অন্য কোনোভাবে সেটি তার থাবায় আটকে গেছে, সে বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   এ ধরনের ঘটনা একেবারে নতুনও নয়। ২০২২ সালে জাপানে ক্যাম্পিং করার সময় কাইল কিং নামে এক ব্যক্তি একটি বড় নারকেল কাঁকড়াকে ছুরি হাতে দেখতে পেয়েছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের পুরোনো প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। রাত ২টার দিকে তাঁবুর বাইরে শব্দ শুনে বের হওয়ার পর তিনি কাঁকড়াটিকে একটি স্টেক ছুরি থাবায় ধরে থাকতে দেখেন।   তবে ফ্লোরিডার সাম্প্রতিক ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠলেও এডুয়ার্ডো আলভারেজের প্রকাশ করা ভিডিওতে কাঁকড়াটির অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যাচ্ছে। প্রাণীটির থাবায় থাকা ধারালো বস্তুটির উৎস অবশ্য এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট, ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ০:৭
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি উপাসনালয় ও কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় বছরে ব্যয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় প্রথমবারের মতো বছরে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির উপাসনালয়, স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ও অন্যান্য ইহুদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার পেছনে আনুমানিক ১ দশমিক ০১৫ বিলিয়ন ডলার বা ১০১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার নতুন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।   সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় ছিল প্রায় ৭৬৫ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। নতুন হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইহুদি সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যয় বিবেচনা করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে নিরাপত্তায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ হয়েছে।   এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে নিরাপত্তাকর্মী ও নিরাপত্তা পরিচালনায়। পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি ব্যবস্থা, ক্যামেরা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি স্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ যাচ্ছে। ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার হিসাবে নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।     তবে এই হিসাবের মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ইহুদি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেমন ইহুদি মালিকানাধীন খাবারের দোকান, বাজার, ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান ও বইয়ের দোকানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় এতে ধরা হয়নি। ফলে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় মোট ব্যয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে।   নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা নিয়ে উদ্বেগেরও সম্পর্ক রয়েছে। ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকা বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুমকি ও সহিংসতার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তায় বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী এরিক ফিঙ্গারহাট বলেছেন, নিরাপত্তায় ব্যয় করা প্রতিটি ডলার ইহুদি শিক্ষা, প্রবীণদের সহায়তা ও অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে ব্যয় করার সুযোগ কমিয়ে দেয়।   এফবিআইয়ের ২০২৫ সালের বিদ্বেষমূলক অপরাধের তথ্যেও ইহুদিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই বছর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৬৪ শতাংশ ইহুদিদের লক্ষ্য করে হয়েছিল। দেশটির জনসংখ্যায় ইহুদিদের অংশ প্রায় ২ শতাংশ হলেও ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধে তারা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠী ছিল।   এই পরিস্থিতিতে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইহুদি ধর্মীয় বর্ষের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোতে সিনাগগ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে। ফলে এসব সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।   নিউইয়র্কেও ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে শহরে নিশ্চিত হওয়া ইহুদিবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা ছিল ২২৯টি, যা আগের বছরের একই সময়ের ২১২টির তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এসব অপরাধ শহরের মোট নিশ্চিত হওয়া বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও চলতি বছর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে ৭০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ অর্থ ২৯০টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ভবনের নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কর্মী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।   নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একটি বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। তবে ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তা এখন তাদের সাম্প্রদায়িক কার্যক্রমের একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকা, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২৩:৪২
সৌদি আরবের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।   এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে।   হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।   তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়।   ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না।   এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে।   এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা।   এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না।   সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২৩:২৭
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান তিন সন্তানের জননী ভেনেসা হোয়েল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নিহত তিন সন্তানের মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে গাড়ির ধাক্কায় তিন সন্তানের এক মা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কার্লসবাড শহরের রেডউড অ্যাভিনিউ ও কার্লসবাড বুলেভার্ডের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো ও দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী ফার্নান্দো সালদানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত নারীর নাম ভ্যানেসা হুইল্যান্ড।   পরিবারের বন্ধুদের বরাত দিয়ে এনবিসি ৭ সান দিয়েগো জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ভ্যানেসা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু আগে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামত, স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য এবং স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে সালদানার অবস্থান শনাক্ত করেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের একটি জায়গা থেকে তাকে আটক করা হয়।   সালদানার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটানো এবং গুরুতর যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ভিস্তা ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে রাখা হয়েছে এবং শুক্রবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   মামলাটিতে সালদানার আগের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এনবিসি ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার আগের দণ্ডের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে। এই ধরনের মামলায় আগের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দণ্ড চালকের ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান ছিল কি না, সেটি আইনি বিবেচনায় আসতে পারে।   নিহত ভ্যানেসা হুইল্যান্ডের পরিবার ও স্বজনেরা তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি একজন নিবেদিত স্ত্রী, মা ও প্রিয় বন্ধু ছিলেন। তার স্বামী ও তিন সন্তানকে রেখে তিনি মারা গেছেন। পরিবারের সহায়তায় একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে।   ভ্যানেসা স্যান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কার্লসবাড ও বৃহত্তর স্যান দিয়েগো এলাকায় বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুইল্যান্ড ইলেকট্রিকের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার পর কার্লসবাডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা এনবিসি ৭কে জানিয়েছেন, ওই সড়কে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেছেন তারা, যার মধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও রয়েছে। ফলে সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ভ্যানেসার স্মরণে টামারাক বিচে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্বজন ও পরিচিতরা তার স্মরণে প্রার্থনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যানেসার মৃত্যু তার সন্তান ও স্বজনদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   কার্লসবাড পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।   সূত্র: এনবিসি ৭ স্যান দিয়েগো ও কার্লসবাড পুলিশ বিভাগ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২৩:১৩
ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে বিকৃত আচরণের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে শার্লট কাউন্টি শেরিফ অফিস। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পোষা কুকুরকে ঘিরে অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালিয়া এলিজাবেথ নুমারডরের বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে যৌন সংস্পর্শের অভিযোগ আনা হয়েছে। শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওকে কেন্দ্র করে তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে নুমারডর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।   ঘটনাটি ফ্লোরিডার পোর্ট শার্লটে। শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুমারডরের স্বামী এরিক নুমারডর অভিযোগ করেন যে, তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিডিও ও ছবিসহ প্রমাণ পেয়েছেন। এর পরই বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। তদন্তকারীরা এরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করেন।   এরিক তদন্তকারীদের জানান, বাড়ির একটি কয়েন রাখার পাত্র থেকে টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খুঁজে বের করতে তিনি বাড়িতে দুটি নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির সদস্যরা ক্যামেরাগুলোর উপস্থিতি সম্পর্কে জানতেন। পরে শোবার ঘরের ক্যামেরায় ধারণ করা পুরোনো ভিডিও দেখার সময় তিনি নুমারডর ও পরিবারের পোষা কুকুরকে নিয়ে সন্দেহজনক দৃশ্য দেখতে পান বলে তদন্তকারীদের জানান। তিনি পুলিশের কাছে ভিডিওর কিছু ছবি দেন এবং ভিডিও সংরক্ষিত ল্যাপটপ ব্যবহারের সুযোগও দেন।   শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ভিডিওটি পর্যালোচনা করেন। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, ফুটেজে নুমারডরকে আংশিক পোশাকহীন অবস্থায় কুকুরটির সঙ্গে এমনভাবে দেখা যায়, যা তদন্তকারীদের কাছে যৌন আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যা অভিযোগের অংশ এবং আদালতে এর সত্যতা নির্ধারণ করা হয়নি।   ১৫ সেপ্টেম্বর নুমারডরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তিনি ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেই এবং সেখানে থাকা কুকুরটি পরিবারের পোষা প্রাণী বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি কোনো যৌন আচরণের কথা অস্বীকার করে জানান, তিনি কেবল কুকুরটিকে আদর করছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তার ব্যাখ্যা অসঙ্গত ছিল। পরে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করা হয়।   এর পর নুমারডরকে গ্রেপ্তার করে শার্লট কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। শেরিফের দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ‘প্রাণীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপ’ সংক্রান্ত দ্বিতীয় শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার ডলার।   শার্লট কাউন্টির শেরিফ বিল প্রামেল ঘটনাটিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কোনো প্রাণীকে এ ধরনের আচরণের শিকার করা উচিত নয় এবং এমন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পেলে তার দপ্তর ব্যবস্থা নেবে। গ্রেপ্তারের পর নুমারডরের কারাগারের ছবিতে হাসিমুখে থাকার বিষয়টিও তিনি মন্তব্য করেন।   তবে আইনগতভাবে নুমারডরকে এখনো দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায় প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা হবে। শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।   সূত্র: শার্লট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, গালফ কোস্ট নিউজ ও পিপল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২২:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করল ইলিনয়, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন আইন

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে জীবনাবসানের ওষুধ নেওয়ার সুযোগ এখন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এমন ওষুধের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা তাঁরা নিজেরাই গ্রহণ করবেন।   ‘অপশনস ফর টার্মিনালি ইল পেশেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনটি ‘ডেব’স ল’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গভর্নর জেবি প্রিটজকার এতে স্বাক্ষর করেন এবং ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আইনটি কার্যকর হয়। ইলিনয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম অঙ্গরাজ্য, যেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের এই পদ্ধতি আইনি অনুমোদন পেয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ধরনের আইন রয়েছে।   আইনটির নাম ‘ডেব’স ল’ রাখা হয়েছে ডেব রবার্টসনের নামে। ইলিনয়ের লম্বার্ড এলাকার সাবেক সমাজকর্মী রবার্টসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ক্যানসারে ভুগছেন এবং মরণাপন্ন রোগীদের নিজের জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রচারণা আইনটি পাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে ইলিনয়ের প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হতে হবে এবং এমন একটি মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হবে, যাতে চিকিৎসকদের হিসাবে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সময় ছয় মাসের কম। একই সঙ্গে রোগীকে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোগীর চিকিৎসক এবং একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।   প্রক্রিয়াটি শুরু করতে রোগীকে নিজের চিকিৎসকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্তত পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি মৌখিক অনুরোধ করতে হবে। দ্বিতীয় চিকিৎসকের অনুমোদনও প্রয়োজন। কোনো রোগীর পাঁচ দিনের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক নির্ধারিত অপেক্ষার সময় কমিয়ে দিতে পারেন।   এই প্রক্রিয়ায় রোগীর হয়ে পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা অন্য কোনো প্রতিনিধি আবেদন করতে পারবেন না। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুরোধটি অবশ্যই রোগীকে নিজেকেই করতে হবে। আগাম স্বাস্থ্য নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেও এই আবেদন করা যাবে না।   চিকিৎসকের দায়িত্বও আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোগীকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, ওষুধ গ্রহণের সম্ভাব্য ফলাফল এবং চাইলে আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে জানাতে হবে যে প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পরও ওষুধটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসক রোগীর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।   আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য নন। কোনো চিকিৎসক রোগীর অনুরোধে প্রেসক্রিপশন দিতে না চাইলে তাঁকে অন্য এমন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতে হবে, যিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার কারণে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও নির্ধারণ করা হয়নি।   তবে আইন কার্যকর হওয়ার পর রোগীদের জন্য চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলিনয়ে এই সেবা দেওয়া চিকিৎসক বা বিশেষায়িত ফার্মেসির কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আইন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অনলাইন আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   অর্থের বিষয়টিও রোগীদের জন্য বাধা হতে পারে। আইনে স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ওষুধের খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই ধরনের ওষুধের জন্য রোগীকে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত নিজ খরচ করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও কিছু রোগীর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিজের ভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় দোভাষীর সুবিধা না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।   আইনটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের কয়েকটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে। তাদের একটি অংশের দাবি, আইনটি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই।   শিকাগোর ক্যাথলিক আর্চবিশপ কার্ডিনাল ব্লেইজ কাপিচও আইনটির বিরুদ্ধে করা একটি ফেডারেল মামলায় যুক্ত হয়েছেন। মামলাকারীদের দাবি, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না চাওয়া প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের ওপর আইনি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আইনটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।   এ ছাড়া মুসলিম চিকিৎসকদের একটি দলও পৃথক মামলায় দাবি করেছে, আইনটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের করা আরেক মামলায় আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   ইলিনয়ের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। ১৯৯৭ সালে ওরেগনে প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কমপ্যাশন অ্যান্ড চয়েসেস নামের একটি জাতীয় সংগঠনের হিসাবে, গত প্রায় তিন দশকে যেখানে এই ব্যবস্থা বৈধ, সেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ তা গ্রহণ করেছেন।   ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন আইনের আওতায় চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট তথ্য রোগীর মৃত্যুর পর ৬০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে।   আদালতে চলমান মামলাগুলোর কারণে ভবিষ্যতে আইনের প্রয়োগে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে আইনটি কার্যকর রয়েছে এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা ইলিনয়ের বাসিন্দারা এর আওতায় আবেদন করতে পারছেন।   সূত্র: শিকাগো সান-টাইমস ও ইলিনয় ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২২:১৬
মসজিদে নববীর নামাজের স্থানে বিছানো কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিন ৪৩০ মেশিনে পরিষ্কার হয় মসজিদে নববীর ২৫ হাজার কার্পেট

সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেটের নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। কার্পেট পরিষ্কার, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করার জন্য সার্বক্ষণিক একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।   সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে নববী, এর ছাদ ও প্রাঙ্গণে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেট ব্যবহৃত হয়। এসব কার্পেটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা এবং সুগন্ধি ছড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে।   কার্পেটগুলোর পরিচর্যার কাজ নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হয়। প্রতিটি কার্পেটে থাকা বৈদ্যুতিন চিপের মাধ্যমে সেটির অবস্থান, কখন পরিষ্কার করা হয়েছে, কখন ধোয়া হয়েছে এবং কখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো হয়েছে, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ বা আরএফআইডি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্পেটের ব্যবহার ও পরিচর্যার ইতিহাসও জানা সম্ভব।   মসজিদে নববীর কার্পেটগুলো বিশেষভাবে তৈরি। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ঘন বুননের, পুরু ও টেকসই এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ঘন ঘন ধোয়া হলেও কার্পেটের রং ও গুণমান যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   কার্পেট পরিষ্কারের পাশাপাশি মসজিদের অন্যান্য অংশেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণের কাজ চলে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে এসপিএ জানিয়েছিল, মসজিদে নববী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন ৮১ হাজার লিটারের বেশি পরিবেশবান্ধব পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক উপকরণ ব্যবহার করা হতো। মসজিদের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন নামাজের স্থানও এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।   এর আগে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিচর্যা নিয়ে প্রকাশিত আরেক সরকারি তথ্যে বলা হয়েছিল, দিনে তিনবার কার্পেট ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি কার্পেট ধোয়ার ব্যবস্থাও ছিল।   এ ছাড়া ২০২৩ সালের এক পরিসংখ্যানে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিষ্কারে ৩০০টি ঝাড়ু দেওয়ার যন্ত্র এবং ৯২টি মেঝে ধোয়ার যন্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব জীবাণুনাশক ও সুগন্ধি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।   মসজিদে নববীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে নামাজের স্থানগুলোর কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার মাধ্যমে মুসল্লিদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   সৌদি কর্তৃপক্ষের এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু কার্পেট পরিষ্কার রাখা নয়, বরং মসজিদে নববীতে ইবাদত করতে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা।   সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২১:৫৪
দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছে ডালাস ফায়ারকর্মীর চার মাস বয়সী ছেলে কেনজি কামারার। ছবি: সংগৃহীত
ডালাসে চার মাসের শিশুর জীবনরক্ষা, ৭৫ জনের বেশি চিকিৎসাকর্মীর চেষ্টায় বাড়ি ফিরল কেনজি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসের এক ফায়ারকর্মীর চার মাস বয়সী ছেলে কেনজি কামারার দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। জন্মের পর স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠছিল শিশুটি। তবে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বয়সে পরীক্ষায় ধরা পড়ে অন্ত্রের একটি জন্মগত জটিলতা, যা দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে।   বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে কেনজিকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এ সময় তাকে বিদায় জানাতে ডালাসের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মেডিকেল সিটি চিলড্রেনস হাসপাতালে জড়ো হন। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি পরিবার ও চিকিৎসকদের জন্যও বিশেষ হয়ে ওঠে।   কেনজির বাবা ইয়ান কামারার ডালাসের একজন ফায়ারকর্মী। মা লিন্ডসে কামারারের সঙ্গে গত কয়েক মাস তাঁদের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হাসপাতালেই। চিকিৎসকেরা জানান, পাঁচ সপ্তাহ বয়সে শিশুটির অন্ত্রে ‘ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন’ বা অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থানগত ত্রুটি শনাক্ত হয়। জন্মের পর এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি বলেও পরিবার জানিয়েছে।   এই সমস্যার কারণে কেনজি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে চারবার অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের ৭৫ জনের বেশি কর্মী বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিলেন।   কেনজির মা লিন্ডসে চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে পুরো চিকিৎসক ও হাসপাতালকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষায়, এই সময় তাঁদের পাশে থাকা মানুষদের নিয়ে তাঁদের একটি বড় সহায়তার পরিসর তৈরি হয়েছে।   কেনজির বাবা ইয়ান জানান, জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁর সন্তান হাসপাতালের বাইরে নয়, বরং হাসপাতালেই কাটিয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।   শিশুটির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন চিকিৎসক ক্রিস বিসানি। কেনজি হাসপাতালে আসার সময় তার অবস্থা কতটা গুরুতর ছিল, সে কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন শিশুটির অবস্থা দেখে তার মা জানতে চেয়েছিলেন, ছেলে বাঁচবে কি না। চিকিৎসক তাঁকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটিকে সামলানোর চেষ্টা করা হবে এবং সবাই মিলে কাজ করবেন।   কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত আরেক চিকিৎসক শ্বেতা মুর্থি অন্ত্রের এই সমস্যার জটিলতা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, অন্ত্রের স্বাভাবিক অবস্থান ঠিকভাবে তৈরি না হলে তা পাক খেয়ে যেতে পারে। এতে অন্ত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এর অন্যতম লক্ষণ বমি হতে পারে। তবে সব শিশুর বমির পেছনে এমন গুরুতর সমস্যা থাকে না।   জনস হপকিন্স মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ইনটেস্টাইনাল ম্যালরোটেশন একটি জন্মগত সমস্যা। ভ্রূণের বিকাশের সময় অন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থানে না বসলে এই জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে অন্ত্র আটকে যেতে বা পেঁচিয়ে যেতে পারে। অন্ত্র পেঁচিয়ে গেলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।   বিশেষ করে অন্ত্র পেঁচিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের হঠাৎ বমি, পেট ফুলে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি বা রক্তমিশ্রিত পায়খানার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। জনস হপকিন্স মেডিসিন বলছে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি, কারণ দীর্ঘ সময় রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকলে অন্ত্রের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   তবে কেনজির ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় বিষয়টি আরও অপ্রত্যাশিত ছিল বলে পরিবার ও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হয়।   বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে কেনজিকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর ডালাসের ফায়ারকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারটির সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। কয়েক মাসের উদ্বেগ ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর ছোট্ট শিশুটির বাড়ি ফেরার মুহূর্তটি হাসপাতালকর্মীদের কাছেও আবেগঘন হয়ে ওঠে।   কেনজির চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকেরা জানান, এত জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে শিশুটির সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারা তাঁদের জন্যও বিশেষ তৃপ্তির বিষয়। পরিবারটির জন্য এখন দীর্ঘ হাসপাতালজীবনের পরিবর্তে স্বাভাবিক পারিবারিক জীবনে ফেরার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।   সূত্র: ফক্স ৪ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ও জনস হপকিন্স মেডিসিন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২১:৩৭