- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌযানের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই একে অপরের কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌযান উচ্চগতিতে একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি চলে আসে এবং অনিরাপদ ও অপেশাদার কৌশলে চলার কারণে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ ওয়ারাইচকে তলব করে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি নৌযানের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই দেশের সামরিক চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানায়। তবে পাকিস্তানের বক্তব্য ভিন্ন। ইসলামাবাদ বলেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান নৌবাহিনীর নিয়মিত মহড়ার সময় ঘটনাটি পাকিস্তানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ঘটে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় নৌযান বিপজ্জনকভাবে খুব কাছে এসে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল চালানোর ফলে দুই নৌযানের সংঘর্ষ হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এ ঘটনায় ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে। ইসলামাবাদ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৯১ সালের দুই দেশের সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। সংঘর্ষের স্থান নিয়েও দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ভারত বলছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, ঘটনাটি তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার দায় কার - এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারি বর্ণনা পরস্পরবিরোধী। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর এবং কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তবে এবারের নৌ সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ: সংঘর্ষের কারণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্য আলাদা। তাই কোনো পক্ষের অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, মারিব প্রদেশের আকাশে সামরিক অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিওতে আকাশে আলো ও মাটিতে জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের একটি অংশে সৌদি পতাকার চিহ্ন রয়েছে বলে রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ব্যাপক ক্ষতির কারণে ধ্বংসাবশেষ দেখে বিমানটির মডেলও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, বিমানটি মারিবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করছিল। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে কয়েকশ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংখ্যাটি হুতিদের দাবি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এর মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিই তাদের হামলার লক্ষ্য, পবিত্র স্থান নয়। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ার মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। দেশটি এ বিষয়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সহায়তা চেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি সত্য হলে তা সংঘাতের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে এ মুহূর্তে ঘটনাটি হুতিদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং সৌদি পক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫ হাজার ডলারের “ডিভিডেন্ড” নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন কি না, সে বিষয়ে আস্থা রয়েছে মাত্র ২১ শতাংশের। ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পরিচালিত ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৪৬১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ৪৮ শতাংশ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবকে তারা সমর্থন করেন। ৪০ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। অর্থাৎ সরাসরি ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি উল্লেখযোগ্য সমর্থন থাকলেও, ট্রাম্প সেই অর্থ বাস্তবে দেবেন কি না, সে প্রশ্নে চিত্রটি ভিন্ন। ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২১ শতাংশ ভোটার মনে করেন ট্রাম্প সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে এই ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড দেবেন। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি সম্ভবত বা নিশ্চিতভাবে তা করবেন না। জরিপটির মার্জিন অব এরর প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট। দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও এই পার্থক্য স্পষ্ট। জরিপে ৪৫ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্প এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন বলে তারা মনে করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার মাত্র ৪ শতাংশ। ট্রাম্প গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মিডটার্ম কনভেনশনে ঘোষণা দেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের “ট্রাম্প ডিভিডেন্ড” দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। তবে প্রস্তাবটির অর্থায়ন, যোগ্যতার শর্ত এবং কীভাবে অর্থ বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে একই সময়ে পরিচালিত রয়টার্স/ইপসস জরিপেও প্রস্তাবটি নিয়ে ভিন্ন ধরনের সংশয় দেখা গেছে। ১ হাজার ১৪৩ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ট্রাম্পের এই ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতিকে অনুপযুক্ত বলে মনে করেছেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ৩ শতাংশ পয়েন্ট। তবে ৫ হাজার ডলারের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো কোনো অনুমোদিত ফেডারেল বেনিফিট নয়। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ১৫ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের এক শুনানিতে বলেন, ট্রেজারি বিভাগ এমন উপায় খতিয়ে দেখছে যাতে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় এবং একই সঙ্গে ফেডারেল ঘাটতিও না বাড়ে। প্রয়োজন হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার পথেও প্রশাসন এগোতে পারে বলে তিনি জানান। প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয়ও বড় একটি প্রশ্ন। সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে হিসাব করা হয়েছে। তবে কারা এই অর্থ পাবেন, কোনো আয়সীমা থাকবে কি না এবং অর্থের নির্দিষ্ট উৎস কী হবে, এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সাম্প্রতিক দুটি জরিপের ফলাফলে তাই দুটি আলাদা বিষয় সামনে এসেছে। একদিকে ৫ হাজার ডলার পাওয়ার ধারণার প্রতি ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে পাওয়া যাবে কি না এবং প্রস্তাবটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মেক্সিকো সীমান্তের কাছে একটি ট্রাকের ভেতর থেকে ৩১ অভিবাসীকে আটক করেছে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল। ঘটনাটি ঘটেছে ইম্পেরিয়াল কাউন্টির ওকোটিলো এলাকায়। ট্রাকটিতে গাদাগাদি করে ওই অভিবাসীদের নেওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এন প্লাসের তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা ট্রাকটি থেকে ৩১ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। চালক তাদের ওকোটিলো এলাকায় রেখে মেক্সিকোর দিকে পালিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ ওই চালককে আটক করে। ট্রাকটিকে একটি পরিবর্তিত ইউটিলিটি ট্রাক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বহনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি মানব পাচারের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে আটক ৩১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ওকোটিলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে, মেক্সিকো সীমান্তের কাছের একটি দুর্গম মরুভূমি এলাকায় অবস্থিত। অঞ্চলটি প্রচণ্ড গরম ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। আগের বছরগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই এলাকায় সীমান্ত পারাপারের সময় অভিবাসীদের উদ্ধার এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে। বর্ডার প্যাট্রোল সদস্যরা ট্রাকটি পরীক্ষা করার পর ভেতরে থাকা মানুষদের শনাক্ত করেন। তাদের আটকের পর পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তাদের নাগরিকত্ব, বয়স বা তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কোন পথ ব্যবহার করেছিলেন - এসব বিষয়ে প্রকাশ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। সীমান্তে মানব পাচার ঠেকাতে যানবাহন পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের নিয়মিত আইন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ। এর আগে টেক্সাসেও ট্রাকের গোপন অংশ থেকে অভিবাসীদের উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার এই ঘটনায় একসঙ্গে ৩১ জনকে একটি পরিবর্তিত ট্রাক থেকে আটকের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সোর্স: নিউইয়র্ক পোস্ট, এন প্লাস
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির সুদের হার দ্রুত কমিয়ে ১ শতাংশ বা তারও নিচে নামানোর দাবি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, তাই দ্রুত সুদ কমানো উচিত। ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরপরই। বুধবার ফেড শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়িয়ে ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যসীমা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ফেডের প্রথম সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শক্তিশালী থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি। মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে বুধবারের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে এবং দেশটির ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা শক্তিশালী। তাই তিনি দ্রুত সুদ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুদের হার দ্রুত কমান” - একই পোস্টে তিনি হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত বলে দাবি করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি ট্রাম্পের নিজস্ব দাবি; এ হিসাবের বিস্তারিত ভিত্তি তিনি পোস্টে দেননি। এদিকে ফেডের সেপ্টেম্বরের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার মধ্যম পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ২ শতাংশ। ফলে সুদের হার নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এবং ফেডের বর্তমান নীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ট্রাম্প দ্রুত সুদ কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আর ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদ বাড়িয়েছে। সোর্স: রয়টার্স, ফেডারেল রিজার্ভ
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের জন্য স্কুল বাছাই করতে শুধু বাসার কাছাকাছি হওয়া, এলাকার সুনাম কিংবা অনলাইন রেটিং দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। স্কুলের শিক্ষক ও স্টাফ, নিরাপত্তা, একাডেমিক প্রোগ্রাম, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো একসঙ্গে যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক স্কুল বিবেচনা করা অভিভাবকদের কাছে শিক্ষক ও স্কুল স্টাফের মান, নিরাপত্তা, একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে। প্রথমেই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে নিন। সন্তান কোন ধরনের পরিবেশে ভালো শেখে, তার বিশেষ কোনো আগ্রহ আছে কি না, ইংরেজি ভাষায় অতিরিক্ত সহায়তা দরকার কি না অথবা বিশেষ শিক্ষাগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে কি না, এসব বিষয় আগে বিবেচনা করুন। একটি স্কুল অন্য শিশুর জন্য ভালো হলেও আপনার সন্তানের জন্য একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। এরপর স্কুলের অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করুন। পাবলিক স্কুলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন এবং স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের তথ্য থেকে একাডেমিক ফলাফল, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডেটা পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক শিক্ষাব্যবস্থা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত হওয়ায় একই স্টেটের মধ্যেও স্কুল ডিস্ট্রিক্টভেদে নিয়ম ও সুযোগের পার্থক্য থাকতে পারে। শুধু একটি অনলাইন রেটিংয়ের ওপর নির্ভর করবেন না। গ্রেটস্কুলস এর মতো সাইটে রেটিং দেখার পাশাপাশি একাডেমিক ফলাফল, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এবং হাই স্কুল হলে কলেজ প্রস্তুতির তথ্য আলাদাভাবে দেখুন। একই সঙ্গে এসব তথ্য স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা স্টেটের অফিসিয়াল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো। একাধিক সূচক একসঙ্গে দেখলে স্কুল সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করুন। স্কুলে বুলিং, শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য খুঁজুন। কোনো একটি প্যারেন্ট রিভিউ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে পুরো স্কুলের চিত্র হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখা বেশি কার্যকর। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ইংরেজি ভাষা সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সন্তান যদি ইংরেজিতে এখনও পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ না হয়, তাহলে স্কুলে ইংলিশ লার্নার বা ইএনএল শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সাপোর্ট রয়েছে, আলাদা ভাষা সহায়তা দেওয়া হয় কি না এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা কেমন, তা আগে জেনে নিন। স্কুলে সরাসরি যোগাযোগ করে এসব প্রশ্ন করা যেতে পারে। স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য কী সুযোগ রয়েছে, সেটিও দেখুন। আফটার স্কুল প্রোগ্রাম, খেলাধুলা, মিউজিক, আর্টস, চেস, রোবোটিক্স, স্টিম, ক্লাব এবং অন্যান্য কার্যক্রম সন্তানের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। হাই স্কুলের ক্ষেত্রে এপি, অনার্স, ডুয়াল এনরোলমেন্ট বা ক্যারিয়ার এন্ড টেকনিকাল এডুকেশন এর মতো কোর্স ও প্রোগ্রাম রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা যেতে পারে। হাই স্কুল বাছাইয়ের সময় আরও বিস্তারিত তথ্য দেখা দরকার। শুধু গ্র্যাজুয়েশন রেট নয়, কলেজ প্রস্তুতি, এপি বা অন্যান্য অ্যাডভান্সড কোর্সে অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল এবং কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতির তথ্য বিবেচনা করুন। কোনো একটি স্কোর বা রেটিংকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি না করাই ভালো। বাসা নেওয়ার আগে স্কুলের অ্যাটেনডেন্স জোন বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়মও জেনে নিন। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পাবলিক স্কুলে বাসার ঠিকানা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। আবার কিছু ডিস্ট্রিক্টে স্কুল চয়েস, ম্যাগনেট বা অন্য ধরনের বিকল্পও থাকতে পারে। তাই নতুন বাসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছে জেনে নিন ওই ঠিকানার জন্য কোন স্কুল নির্ধারিত এবং ভর্তি প্রক্রিয়া কী। সম্ভব হলে স্কুলটি সরাসরি দেখে আসুন। স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং সন্তানের জন্য কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে, এসব বিষয় সরাসরি জানার চেষ্টা করুন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা সংক্রান্ত গবেষণাতেও দেখা গেছে, স্কুলের অবস্থান, একাডেমিক পারফরম্যান্স, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন রিসোর্স সম্পর্কে একাধিক ধরনের তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করা অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক। সবশেষে, পরিচিত কারও পরামর্শ বা শুধু অনলাইন রেটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের সন্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য যাচাই করুন। বাসা, স্কুল এবং পরিবারের দৈনন্দিন বাস্তবতা একসঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে সন্তানের জন্য উপযুক্ত স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।
অ্যারিজোনার মেসায় মাত্র ৯৭৭ ডলার হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা হোআ (HOA) এর বকেয়া থেকে শুরু হওয়া বিরোধে সাড়ে চার লাখ ডলারের একটি বাড়ি শেষ পর্যন্ত নিলামে কিনে নিয়েছে সেই হোআ। ২০২৫ সালের শেষ দিকে হওয়া এই নিলামে বাড়িটির দাম ওঠে মাত্র ৮ হাজার ১৭২ ডলার। ঘটনাটি নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। ইস্ট মেসার বাসিন্দা টবি নিউটন ২০২২ সালে প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে চার বেডরুমের বাড়িটি কিনেছিলেন। অবসর জীবনের জন্য কেনা বাড়িটিতে তিনি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী শেরি প্যাটেনকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালে নিউটনের চাকরি চলে যাওয়ার পর তিনি আর্থিক সমস্যায় পড়েন। একই সময়ে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। ফলে বাড়ির নিয়মিত খরচের পাশাপাশি হোআর প্রায় ১৭০ ডলার ত্রৈমাসিক ফি পরিশোধ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হোআর কাছে তার বকেয়া দাঁড়ায় ৯৭৭ ডলার, যার মধ্যে ফি ও সুদ ছিল। নিউটনের দাবি, বকেয়া পরিশোধের জন্য তিনি হোআর সঙ্গে একাধিকবার পেমেন্ট প্ল্যানের চেষ্টা করেন। প্রথমে মাসে ৫০ ডলার, পরে ১৩৩ দশমিক ৭০ ডলার এবং শেষ পর্যন্ত মাসে ২০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এরপর বিষয়টি ফোরক্লোজার প্রক্রিয়ায় গড়ায়। আদালতের প্রক্রিয়ায় অ্যাটর্নি ফি, কালেকশন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হতে থাকে। ফলে প্রাথমিক ৯৭৭ ডলারের বকেয়া পরে কয়েক হাজার ডলারে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে আদালতের প্রক্রিয়া শেষে বাড়িটি পাবলিক অকশনে তোলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপারস্টিশন স্প্রিংস কমিউনিটি মাস্টার অ্যাসোসিয়েশন ৮ হাজার ১৭২ ডলারের সর্বোচ্চ দর দিয়ে বাড়িটি কিনে নেয়। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে চার লাখ ডলারের মূল্যের একটি বাড়ি হোআর নিলাম ক্রয়ে চলে যায় মাত্র কয়েক হাজার ডলারে। এদিকে বাড়িটি হারানোর পরও নিউটন ও প্যাটেন সেখানে অবস্থান করছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বাড়িটি ফেরত পাওয়ার জন্য তারা আইনি উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ঘটনাটির সময়কালও গুরুত্বপূর্ণ। নিউটনের বিরুদ্ধে ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যারিজোনায় নতুন আইন কার্যকর হয়, যেখানে পরিকল্পিত আবাসিক কমিউনিটির হোআর ফোরক্লোজারের ক্ষেত্রে বকেয়ার সীমা ১ হাজার ২০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ডলার করা হয় এবং বকেয়া থাকার সময়সীমা এক বছর থেকে ১৮ মাস করা হয়। ফলে নিউটনের মামলাটি নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগের আইনি কাঠামোর অধীনে এগিয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর হোআর ক্ষমতা, বকেয়া আদায়ের পদ্ধতি এবং তুলনামূলকভাবে ছোট অঙ্কের দেনা থেকে একটি বাড়ির ওপর ফোরক্লোজার কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের জীবনে যেকোনো সময় আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, আইসিই-সংক্রান্ত বিষয়, ড্রাইভিং বা ট্রাফিক মামলা, গাড়ি দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ক্রিমিনাল কেস, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ব্যবসায়িক জটিলতায় দ্রুত একজন যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জরুরি মুহূর্তের অপেক্ষা না করে নিজের ফোনে অন্তত কয়েকজন অ্যাটর্নি বা ল ফার্মের নম্বর আগে থেকেই সেভ করে রাখা কাজে আসতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি বা বাংলাভাষী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন অ্যাটর্নি ও ল ফার্মের প্রকাশ্য যোগাযোগের তথ্য তুলে ধরা হলো। এটি কোনো অ্যাটর্নির সেবা, দক্ষতা বা ফলাফলের র্যাংকিং নয়। কোনো আইনি বিষয়ে যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাটর্নির বর্তমান লাইসেন্স, কোন ধরনের মামলা তিনি নেন এবং আপনার স্টেটে প্র্যাকটিস করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইনি সহায়তার জন্য অ্যাটর্নি মওমিতা রহমানের ল ফার্মের অফিস নম্বর ২১২-২৪৮-৭৯০৭। নিউইয়র্কে তার অফিস এবং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ভাষায় সেবা দেন এবং ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। অ্যাটর্নি নাসরিন মোজ্নুরের ব্রঙ্কস অফিসের ফোন ৭১৮-৫১৮-০৪৭০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯। অ্যাটর্নি মীর এম. মিজানুর রহমানের ম্যানহাটন অফিসের ফোন ২১২-৭৩২-২২২০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৬২২-৭৯৬৯। এসব অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি সেবা দিয়ে থাকেন। নিউইয়র্কের আরেকটি বাংলাদেশি কমিউনিটিকেন্দ্রিক ল ফার্ম খায়রুল বাশার ল-এর অফিস ফোন ২১২-৪৬৪-৮৬২০ এবং ৭১৮-৭৭৫-৮৫০৯। ফার্মটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন, ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন, সিটিজেনশিপ, আইসিই ডিটেনশন, বন্ড এবং বিভিন্ন ইমিগ্রেশন কেস নিয়ে তারা কাজ করে। জ্যাকসন হাইটসের রুমা জুননাতুল ল অফিসের প্রকাশিত ফোন নম্বর ৫১৬-৫৪৯-৬৭০৭ এবং ৭১৮-৪২৭-১২৩৩। প্রতিষ্ঠানটি ইমিগ্রেশন ও সিভিল লিটিগেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এবং বাংলা ভাষায় সহায়তার কথা উল্লেখ করেছে। জর্জিয়ায় আটলান্টা মেট্রো এলাকার মনির মেহরান ল-এর ডোরাভিল অফিসের ফোন ৪৭০-৮০০-৯২১৩। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সেবা বিভিন্ন স্টেটের ক্লায়েন্টদের দেওয়া হয়। তবে পার্সোনাল ইনজুরি সংক্রান্ত কাজ জর্জিয়াকেন্দ্রিক এবং অন্যান্য স্টেটের স্টেট ল-এর ক্ষেত্রে লাইসেন্সের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন করার সময় নিজের মামলার ধরন ও স্টেটের কথা পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি। মিশিগানের হামট্রামকে অ্যাটর্নি রুহুল এম. মুমেনের অফিসের ফোন ৩১৩-৮৯৩-২৫০০। তার ফার্মের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে সেবা দেন এবং অটো অ্যাকসিডেন্ট, পার্সোনাল ইনজুরি, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, ডিইউআইসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। মিশিগান স্টেটের অ্যাটর্নি রেকর্ড ও প্রকাশিত পেশাগত তথ্যেও তার লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অ্যাটর্নি জুবাইদা ইকবালের প্রকাশ্য যোগাযোগ নম্বর ৪০৭-৯৩০-১৫৫২। ফ্লোরিডা বারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ফ্লোরিডায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি। তার প্রকাশ্য প্রোফাইলে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে কাজের তথ্য রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে তিনি সেটি গ্রহণ করছেন কি না, ফোনে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। টেক্সাসের হিউস্টনে অ্যাটর্নি মনিকা উদ্দিন আহমাদ, জাভিতসানোস অ্যান্ড মেনসিং-এর সঙ্গে কাজ করেন। টেক্সাসের ফেডারেল কোর্টের অ্যাটর্নি রেকর্ডে তার অফিসের ফোন ৭১৩-৬০০-৪৯১৩ এবং হিউস্টন অফিসের ঠিকানা ১২২১ ম্যাককিনি স্ট্রিট, স্যুট ২৫০০ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফার্মের তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তার মূল প্র্যাকটিস কমার্শিয়াল লিটিগেশন ও ব্যবসায়িক বিরোধকেন্দ্রিক। তাই ইমিগ্রেশন বা ব্যক্তিগত কোনো মামলার জন্য যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তারা গ্রহণ করেন কি না জেনে নেওয়া উচিত। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাটর্নি ওমর এইচ. বেঙ্গালির অফিস গিরার্ড বেঙ্গালি, এপিসি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ড অনুযায়ী তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং অফিসের ফোন ৩২৩-৩০২-৮৩০০। অফিসের ঠিকানা ৩৫৫ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, স্যুট ২৪৫০, লস অ্যাঞ্জেলেস। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যায় যোগাযোগের আগে তার ফার্ম সেই ধরনের মামলা গ্রহণ করে কি না নিশ্চিত করা উচিত। ওয়াশিংটন স্টেটের সিয়াটলে অ্যাটর্নি তাহমিনা ওয়াটসনের ওয়াটসন ইমিগ্রেশন ল-এর ফোন ২০৬-২৯২-৫২৩৭। ওয়াশিংটন স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ডে তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং প্র্যাকটিস এরিয়া ইমিগ্রেশন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই রেকর্ডে বাংলা ভাষাও তার জানা ভাষার মধ্যে রয়েছে। ইমিগ্রেশন, ডিপোর্টেশন ডিফেন্স, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, ফ্যামিলি ওয়ার্ক ভিসাসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন বিষয়ে তার ফার্ম কাজ করে। মিশিগানে আরেকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর অফিসের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর ১-৮৬৬-৬৬৪-৬৫২৯ এবং সরাসরি নম্বর ৯১৭-২৮২-৯২৫৬। তার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি মিশিগান স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের জন্য অনুমোদিত এবং নিউইয়র্কে তার কাজ ইমিগ্রেশন বিষয়ে সীমিত। অন্য স্টেটের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নিদের মাধ্যমে কাজ করার তথ্যও তার অফিস উল্লেখ করেছে। আইনি ঝামেলা হলে শুধু পরিচিত কারও পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন মামলার ক্ষেত্রে নোটারি, ডকুমেন্ট প্রিপেয়ারার বা তথাকথিত ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টকে অ্যাটর্নি ধরে নেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কোর্ট ও বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলের সামনে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি অথবা অনুমোদিত অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভ। নোটারি, ট্রাভেল এজেন্ট বা সাধারণ ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট সেখানে আইনগত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্যও বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন রিভিউ অফিস স্বীকৃত সংস্থা ও অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভদের তালিকা প্রকাশ করে। এসব সংস্থার কিছু কম খরচে বা প্রো বোনো আইনি সহায়তা দিতে পারে। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করে যে তালিকায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বা অ্যাটর্নিকে তারা ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ বা অনুমোদন করে না। প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি হতে পারে নিজের ফোনে কয়েকজন অ্যাটর্নির নম্বর আলাদা করে সেভ করে রাখা। তবে নম্বর সেভ করার পর সুযোগ থাকলে একবার অফিসে ফোন করে নম্বরটি বর্তমান কি না, অফিস কোন ধরনের মামলা নেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং প্রাথমিক কনসালটেশনের জন্য কোনো ফি রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রকাশ্যে থাকা ফোন নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে এবং কোনো অ্যাটর্নি সব ধরনের মামলা নাও নিতে পারেন। তাই কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে প্রথমে নিজের স্টেটের বার অ্যাসোসিয়েশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি লাইসেন্স রেকর্ডে অ্যাটর্নির বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। এই তালিকার উদ্দেশ্য কাউকে নির্দিষ্টভাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং প্রবাসীদের জরুরি সময়ে দ্রুত আইনি সহায়তার যোগাযোগ খুঁজে পেতে প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করা।
আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে ২০২১ সালের ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় আইএসআইএস-কে-কে সহায়তার দায়ে আফগান নাগরিক মোহাম্মদ শরিফুল্লাহকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। হামলায় প্রায় ১৬০ আফগান নিহত হয়েছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাবি গেটের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। তখন আফগানিস্তান থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছিল। হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএসআইএসের আফগান শাখা আইএসআইএস-কে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার দিন শরিফুল্লাহ আইএসআইএস-কের নির্দেশে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার একটি সড়ক পর্যবেক্ষণ করেন। তালেবানের কোনো চেকপোস্ট আছে কি না, তা দেখে তিনি সংগঠনের নেতাদের তথ্য দেন। পরে আইএসআইএস-কের সদস্য আবদুল রহমান আল-লোগারি অ্যাবি গেটে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান। তবে আদালতে শরিফুল্লাহকে কাবুল বিমানবন্দরের হামলায় নিহতদের সরাসরি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। জুরি তাঁকে আইএসআইএস-কে-কে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করলেও ওই সহায়তার কারণে বিমানবন্দর হামলায় মৃত্যুগুলো ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে একমত হতে পারেনি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি ওই মৃত্যুর দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হয়নি। শরিফুল্লাহর আইনজীবীরা দাবি করেন, বিমানবন্দর হামলার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার যথেষ্ট প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, এফবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া শরিফুল্লাহর বক্তব্যের ওপর প্রসিকিউশন অনেকটাই নির্ভর করেছে। প্রসিকিউশন অবশ্য বলেছে, শরিফুল্লাহ দীর্ঘদিন আইএসআইএস-কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে সংগঠনটির একাধিক হামলায় সহায়তা করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তিনি একাধিক হামলায় নজরদারি, হামলাকারীদের পরিবহন ও অস্ত্রসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে গত তিন মাসে তিনজন ইয়েলো ক্যাবচালককে নিজ নিজ ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ভিলেজে ৫৩ বছর বয়সী ক্যাবচালক জগজিৎ সিংয়ের মৃত্যুর পর চালকদের স্বাস্থ্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জগজিৎ সিং প্রায় ২০ বছর ধরে নিউইয়র্কে ক্যাব চালাতেন। ১১ সেপ্টেম্বর যাত্রী নামিয়ে ওয়েস্ট ভিলেজের সেভেনথ অ্যাভিনিউ সাউথ ও চার্লস স্ট্রিটের কাছে তার ট্যাক্সি থামানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে বন্ধুরা গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ট্যাক্সির ভেতরে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং ৯১১-এ ফোন করেন। জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে অপরাধমূলক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের বিষয়টি অফিস অব চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্তের আওতায় ছিল। সহকর্মীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্রজনিত সমস্যার কথা বলা হলেও সেটিকে এখনো সরকারি চূড়ান্ত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। সিং স্ত্রী ও ১০ বছর বয়সী যমজ সন্তান রেখে গেছেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ৫৩ বছর বয়সী খলিফা এইচ. সিওয়াকে ম্যানহাটনের হেনরি হাডসন পার্কওয়ের কাছে তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি তানজানিয়ার নাগরিক ছিলেন। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাতেও মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত হয়েছিল, তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তার মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। এই ধারাবাহিকতার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই। ৭৩ বছর বয়সী রিচার্ড কুলিবালিকে হারলেমের ফ্রেডেরিক ডগলাস বুলেভার্ডে পার্ক করা তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আইভরি কোস্টের অভিবাসী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ক্যাব চালিয়েছেন। তার মৃত্যুর সময় শহরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল। তবে গরমের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি নিশ্চিত করার মতো তথ্য নেই। পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল এক্সামিনার তার মৃত্যুকে ন্যাচারাল কজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। পরপর তিনজন ক্যাবচালকের মৃত্যুতে নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স চালকদের কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, নিউইয়র্কের অনেক ক্যাবচালক দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। সংগঠনটি চালকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর দাবি তুলেছে। তবে তিনটি মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে এমন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিনজনের মৃত্যুর পরিস্থিতিও এক নয় এবং তাদের জাতীয় পরিচয়ও ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনজনের কেউই বাংলাদেশি ছিলেন না। একজন ছিলেন আইভরি কোস্টের, একজন তানজানিয়ার এবং জগজিৎ সিং ছিলেন ভারত থেকে আসা একজন অভিবাসী। নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চালক ট্যাক্সি ও পরিবহন খাতে কাজ করেন। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আপাতত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনাকে একই কারণের মৃত্যু বা কোনো অপরাধমূলক ঘটনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তি বন্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে রাজ্য শিক্ষা বোর্ডে আলোচনা হয়েছে। নতুন নিয়মটি অনুমোদিত হলে এসব কর্মসূচিতে ভর্তির আগে শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অথবা বৈধভাবে দেশটিতে থাকার প্রমাণ দিতে হবে। প্রস্তাবিত নিয়মটি পোস্টসেকেন্ডারি ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা বা সিটিই কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট, অ্যাপ্লাইড টেকনোলজি ডিপ্লোমা, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স ও সায়েন্সের কিছু অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং ডুয়াল এনরোলমেন্ট রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে তথ্যপ্রযুক্তি, মেকানিক্স, এইচভিএসি, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পরিবহন, পর্যটন ও নির্মাণসহ বিভিন্ন পেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে নিয়মটি কার্যকর হলে অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের এসব পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে। ফ্লোরিডা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যে পোস্টসেকেন্ডারি কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী ছিল। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি ডিগ্রি, সার্টিফিকেট ও শিল্পভিত্তিক সনদ দেওয়া হয়। এই উদ্যোগটি ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের সরকারি শিক্ষায় প্রবেশ সীমিত করার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ। এর আগে রাজ্যের স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ২৮টি পাবলিক কলেজে অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধের নিয়ম অনুমোদন করেছে। রাজ্যের ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে কি না, সেটি আলাদা বিষয়। ফ্লোরিডা প্রশাসনিক বিধির নথিতে নিয়ম ৬এ-১০.০২৪৬-কে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং ১৬ সেপ্টেম্বরের স্টেট বোর্ড অব এডুকেশনের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে এটি অনুমোদনের জন্য রাখা হয়েছিল। আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের পর ২১ দিনের জনমত গ্রহণের সময়সীমা ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে নিয়মটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল। তাই “চূড়ান্তভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে” না বলে আপাতত “ভর্তি বন্ধের উদ্যোগ” বা “প্রস্তাব” বলা বেশি নির্ভুল। সোর্স: ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত ২০২০ সালে সীমান্তে আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন বা প্রায় ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় দেন। কায়েসং সীমান্ত এলাকায় থাকা ওই কার্যালয়টি ২০১৮ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চালু করা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের ১৬ জুন উত্তর কোরিয়া বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভবনটি ধ্বংস করে। সে সময় উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছিল, দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমান্তে সরকারবিরোধী প্রচারপত্র পাঠানো বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার তিন বছর পর, ২০২৩ সালের জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করে। এটিই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সরাসরি করা প্রথম মামলা বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও এপি। আদালত দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি করা পুরো ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওনই অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ধ্বংস হওয়া যোগাযোগ কার্যালয়ের জন্য ১০ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ওন এবং পাশের একটি সহযোগিতা কেন্দ্রের ক্ষতির জন্য ৩৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ওন ধরা হয়েছে। তবে রায় হলেও উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা কঠিন। মামলার শুনানিতে উত্তর কোরিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পিয়ংইয়ংকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই রায়টি বাস্তবে অর্থ আদায়ের চেয়ে প্রতীকী আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার মধ্যে আবারও সংলাপ ও সহযোগিতা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল। সোর্স: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স
মিশিগানের ৬২ বছর বয়সী এমোরি ম্যাথিউজকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজের মালিকানাধীন ডেট্রয়েটের একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেওয়া হয়নি এমন সাইকোথেরাপি সেবার বিল মেডিকেয়ারে জমা দেওয়া হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এমোরি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি মেডিকেয়ারে জমা দেন। এমন রোগীদের নামেও বিল করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কর্মীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। এমোরি ম্যাথিউজ এর আগে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবৈধ ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে মেডিকেয়ারে বিল করার ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার বিষয়টি গোপন করে তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই মামলায় তাঁর স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজ আগেই স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এমোরি ম্যাথিউজের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
চীনে নতুন প্রবেশ ও বহির্গমন বিধি কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা বা শিল্প ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। নতুন বিধি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণবিষয়ক আইন ভঙ্গ করে চীনের শিল্প বা প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ থাকলে কোনো চীনা নাগরিকের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে। বিদেশে অবস্থানকালে জাতীয় নিরাপত্তা বা জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো চীনা নাগরিক দেশে ফেরার পরও ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত দেশ ছাড়তে না পারার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। চীনের কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন বিধির লক্ষ্য জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষা করা। দেশটির সাইবারস্পেস প্রশাসন জানিয়েছে, নিয়মগুলো সাধারণ বৈধ ভ্রমণকারীদের লক্ষ্য করে নয়; বরং অবৈধ আন্তঃসীমান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তবে নতুন বিধি নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘জাতীয় স্বার্থ’ ও ‘প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা’র মতো বিস্তৃত শব্দ ব্যবহারের কারণে কর্তৃপক্ষের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বড় ধরনের ক্ষমতা তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত বা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো থেকেও বিরত থাকতে পারে কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়মে বিদেশিদের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভিসা আবেদন বা সীমান্তে প্রবেশের সময় মিথ্যা তথ্য দিলে কোনো বিদেশি নাগরিককে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে। তাইওয়ান থেকেও নতুন নিয়ম নিয়ে সতর্কতা এসেছে। বিশেষ করে চীনে যাতায়াতকারী তাইওয়ানের প্রযুক্তি খাতের কর্মী, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নতুন বিধান এসব ব্যক্তির ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সোর্স: রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট
লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের সহায়তায় বরাদ্দ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় আরও একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে তিনি এখনো পলাতক। তিনজনের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন ৪৬ বছর বয়সী মাইকেল ইয়াং, ক্যালভার সিটির অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হোম অ্যাট লাস্টের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন, এবং ৪৮ বছর বয়সী লাকিয়া ম্যালোন, স্পেশাল সার্ভিস ফর গ্রুপসের একজন কর্মী। ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইয়াং বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতার মাধ্যমে গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি ইনগেলউডে সিক্স সেভেন ফাইভ লাউঞ্জ নামে একটি রেস্তোরাঁ ও নাইটক্লাব চালু এবং পরিচালনা করেন বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ। এছাড়া বিলাসবহুল ভ্রমণ, পুরোনো গাড়ি সংস্কার এবং গৃহহীনদের আবাসনের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সম্পত্তিতেও অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ম্যালোনের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি ঘুষ ও অবৈধ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তিনি গৃহহীনদের আবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে লোক অন্তর্ভুক্ত করার বিনিময়ে এসব অর্থ নেন। এর মধ্যে এমন কিছু কথিত “ঘোস্ট পার্টিসিপ্যান্ট” ছিল, যারা প্রকৃতপক্ষে ওই আবাসন কেন্দ্রে বসবাসই করতেন না। এই মামলায় ডোনে মিচেল, ৫৫ বছর বয়সী এবং দ্য বিগ ব্লু আমব্রেলার সিইও ও নির্বাহী পরিচালক, তৃতীয় অভিযুক্ত। ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠানকে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়া হয়। পরে ওই অর্থের কিছু অংশ নিজের বেতন বাড়ানো, ক্রেডিট কার্ডের দেনা, পরিবারের সদস্যদের অর্থ দেওয়া, ভাড়া, জামিনের খরচ এবং প্লেস্টেশন কেনার মতো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মিচেলকে বর্তমানে পলাতক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় তদন্ত করছে এফবিআই, আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন এবং হাড-ওআইজি। আলাদা আরেকটি মামলায় আলেকজান্ডার সুফার নামের এক ব্যক্তি গৃহহীনদের সহায়তার অর্থ থেকে অন্তত ২ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে ওয়্যার ফ্রড ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন। সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
বিশ্বের ৩৪টি দেশের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি মানুষের সমর্থন এখনো শক্তিশালী। একই সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাও বেড়েছে। তবে বিশ্ব নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের ভূমিকা নিয়ে আগের তুলনায় কম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। রকফেলার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফোকালডেটা পরিচালিত জরিপটি ২১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়। এতে ৩৫ হাজার ৩৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, গত এক বছরে বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তারপরও ৫৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে জাতীয় স্বার্থের কিছুটা ছাড় দিতে হলেও দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ২০২৫ সালের জরিপে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। যুদ্ধ ও সংঘাত প্রতিরোধকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ৩৪ দেশের মধ্যে ২১টি দেশের মানুষ শীর্ষে রেখেছেন। বিশ্ব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়নি। মাত্র ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তারা স্বস্তিবোধ করেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭ শতাংশ। বিপরীতে কানাডা ৬০ শতাংশ, জাপান ৫৮ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া ৫৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অনেকে। নিজেদের দেশকে বাদ দিয়ে ৪২ শতাংশ রাশিয়াকে, ৩৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে এবং ৩০ শতাংশ চীনকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেছেন। তবে দেশভেদে এই ধারণায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মানুষ এমন একটি আন্তর্জাতিক জোটকে সমর্থন করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন কোনোটি অংশ না নিলেও অন্য দেশগুলো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে। অর্থাৎ দুই পরাশক্তির বাইরে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ ভূমিকার প্রতিও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর আস্থা ৬৯ শতাংশে, জাতিসংঘের ওপর ৬২ শতাংশে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ওপর ৫৭ শতাংশে, বিশ্বব্যাংকের ওপর ৫৫ শতাংশে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর ৫১ শতাংশে উঠেছে। তবে অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগও স্পষ্ট। মাত্র ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে তাদের দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে। ভারতের ক্ষেত্রে এই আশাবাদ ২৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫০ শতাংশে এবং চীনে ১৬ পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশে নেমেছে। জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গবেষকদের মতে, ফলাফলগুলো দেখাচ্ছে যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের হতাশা বাড়লেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের আগ্রহ কমেনি।
রাশিয়া ও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির জেরে ভারত, চীনসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়াগত ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিলটির ওপর চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আলোচিত বিলটি মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয়। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটেও ৮৬-১১ ভোটে বিলটি বিপুল সমর্থন পেয়েছিল। প্রস্তাবিত এই আইনে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ‘ছায়া বহর’ বা গোপন জাহাজ নেটওয়ার্ক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় থাকা ১০টি দেশ হলো ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অপরিশোধিত তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিচালনা করছে মস্কো। আর তাই রাশিয়ার আয়ের প্রধান এই উৎসটি বন্ধ করতে জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে বিলটির বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ করেছেন, এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে তা দ্রুতই প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে শালিনী ঠাকুর (৩৮) নামের এক নারীকে ধাওয়া করে গুলি করে হত্যার লোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ করেছে পুলিশ। গত ৮ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর হাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের একটি শপিং মলের বাইরে পানেরা ব্রেড রেস্তোরাঁর সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, শালিনী যখন কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, তখন ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিত নামের এক যুবক তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে শালিনী মাটিতে পড়ে গেলে রোহিত খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘাতকের গাড়ি ধাওয়া করলে সে নিজেই গাড়ির ভেতর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক রোহিত ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ডোরড্যাশে কাজ করত এবং শালিনীর কর্মস্থল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েই তাদের পরিচয় হয়েছিল। এরপর থেকেই সে শালিনীকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত জানুয়ারিতে শালিনী তার গাড়ির বনেট থেকে রোহিতের লুকিয়ে রাখা একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস (অ্যাপল এয়ারট্যাগ) উদ্ধার করেন। শুধু তাই নয়, রোহিত একবার শালিনীর গাড়ির চাকার বাতাস বের করে দিয়ে তাকে সাহায্য করার ছলে পিছু নিয়েছিল। এমনকি সে গোপনে শালিনীর অ্যাপার্টমেন্টের চাবি বানিয়ে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরেও প্রবেশ করেছিল। অতিষ্ঠ হয়ে শালিনী একাধিকবার রেস্ট্রেইনিং অর্ডার বা আইনি নিষেধাজ্ঞা নিলেও রোহিত তা তোয়াক্কা করেনি। শালিনীর মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল তার মা কুমারী ঠাকুর। দুই বছর আগে স্বামী হারানোর পর শালিনীই ছিলেন তার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। ক্ষুব্ধ কুমারী অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন পুলিশের কাছে ছুটে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার পরও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তার মেয়েকে নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টা আগেও মেয়ের সাথে তার কথা হয়েছিল বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) তথ্যমতে, ভারতীয় নাগরিক রোহিত ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। সে সময় তাকে বর্ডার প্যাট্রোল আটক করলেও পরে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে তাকে দেশে মুক্তভাবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। ডিএইচএসের দাবি, ওই খুনিকে এভাবে ছেড়ে না দিলে এই ট্র্যাজেডি এড়ানো যেত। এদিকে, একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ব্যবহার করে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক পার হয়ে ডোরড্যাশে কাজ নিয়েছিল রোহিত। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পুলিশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম সামাল দিতে তিন বছরেরও বেশি সময় পর বেঞ্চমার্ক সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড কর্মকর্তারা সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে পারেন। আগস্ট মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যের চেয়ে অনেক বেশি। তাই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার কমানোর ধারাবাহিক আহ্বান সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেড এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় দেশটিতে জ্বালানির দাম সম্প্রতি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রিপল-এ (AAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম গ্যালন প্রতি ৬ দশমিক ২৭ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং গ্যাসোলিনের দাম ৪ দশমিক ৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। জনসন ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্র্যান্ডন জুরেইক জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম ও অর্থনীতি এমন শক্তিশালী অবস্থানে থাকলে আগামী কয়েক মাসে আরও এক-দুটি সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে জ্বালানির দাম কমে আসতে পারে, যা ফেডকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সাহায্য করবে। ফেডারেল রিজার্ভের এই সিদ্ধান্তের পরপরই ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে। সুদের হার বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনে মিশ্র প্রভাব পড়বে। লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বা এপিআর (APR) এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। ফলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের মাসিক খরচ কিছুটা বেড়ে যাবে। তবে ঋণগ্রহীতাদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হলেও সঞ্চয়কারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে এই সিদ্ধান্ত। উচ্চ-ফলনশীল সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং সিডি (CD) থেকে সঞ্চয়কারীরা এখন আগের চেয়ে ভালো মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ফেডের এই পদক্ষেপে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা কম, কারণ বাজার আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। তারপরও ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীদের তাদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাজ্যের ৪৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মার্টিন কুরান্ট সবসময় সুন্দর ও নিখুঁত হাসির স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই তার জীবনে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। দাঁতের চিকিৎসার জন্য তুরস্কে গিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার পাউন্ড বাঁচানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার মাত্র তিন মাস পরই তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। সাইনাসের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রেন সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং কাটাতে হয় দীর্ঘ সময় হুইলচেয়ারে। এখন তাকে নতুন করে হাঁটা ও কথা বলা শিখতে হচ্ছে। মার্টিনের দাঁতের মাড়িতে দীর্ঘদিনের রোগ ছিল, যার ফলে ১৫টি দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের এক ডেন্টিস্ট তাকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড খরচ হওয়ার কথা জানান। এরপর অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত 'লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক'-এর সাথে যোগাযোগ করেন, যারা মাত্র ৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডে এই চিকিৎসা দিতে রাজি হয়। মার্টিনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে শুধু মুখের ছবি দেখেই মাত্র ৪৭ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকটি তাকে একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা পাঠিয়ে দেয়। কোনো শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ২০২৪ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে গিয়ে তিনি প্রথম ধাপের চিকিৎসা নেন। চিকিৎসার আগে মার্টিন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, তার একটি দাঁতের ওপর এক বছর ধরে পুঁজ বা ফোঁড়া (অ্যাবসেস) রয়েছে। তার আইনি অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্লিনিক থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এটি কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু আগস্ট মাসের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার নাক দিয়ে তরল ঝরতে শুরু করে এবং মুখমণ্ডল আংশিক বেঁকে যায়। ৩১ আগস্ট মারাত্মক খিঁচুনি হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারান। হাসপাতালে এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তার মাথার খুলির স্তরের মাঝে প্রাণঘাতী পুঁজ জমেছে। জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় এবং মাথার খুলির একাংশ সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলতে হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তিনি যে বেঁচে ফিরেছেন সেটাই বড় বিস্ময়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও মার্টিন এখন 'অ্যাফাসিয়া' নামক জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছেন, যার ফলে তার কথা বলা, লেখা ও বোঝার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজের লাভজনক ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি ভাতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাজ্যে কোনো ডেন্টিস্ট এখন তার অসমাপ্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিতেও রাজি হচ্ছেন না। অন্যদিকে, তুরস্কের লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক চিকিৎসায় অবহেলার সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্লিনিকটির দাবি, তারা সব নিয়ম মেনেই চিকিৎসা করেছে এবং মার্টিনের বর্তমান অবস্থার জন্য তাদের চিকিৎসা কোনোভাবেই দায়ী নয়। ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া মার্টিন এখন অন্যদের সতর্ক করে বলছেন, "এমন ভুল কেউ করবেন না, আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম।"