আইনি ঝামেলায় পড়লে কাকে ফোন করবেন? প্রবাসীদের কাজে আসতে পারে যেসব অ্যাটর্নির ফোন নম্বর
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের জীবনে যেকোনো সময় আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, আইসিই-সংক্রান্ত বিষয়, ড্রাইভিং বা ট্রাফিক মামলা, গাড়ি দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ক্রিমিনাল কেস, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ব্যবসায়িক জটিলতায় দ্রুত একজন যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জরুরি মুহূর্তের অপেক্ষা না করে নিজের ফোনে অন্তত কয়েকজন অ্যাটর্নি বা ল ফার্মের নম্বর আগে থেকেই সেভ করে রাখা কাজে আসতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি বা বাংলাভাষী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন অ্যাটর্নি ও ল ফার্মের প্রকাশ্য যোগাযোগের তথ্য তুলে ধরা হলো। এটি কোনো অ্যাটর্নির সেবা, দক্ষতা বা ফলাফলের র্যাংকিং নয়। কোনো আইনি বিষয়ে যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাটর্নির বর্তমান লাইসেন্স, কোন ধরনের মামলা তিনি নেন এবং আপনার স্টেটে প্র্যাকটিস করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইনি সহায়তার জন্য অ্যাটর্নি মওমিতা রহমানের ল ফার্মের অফিস নম্বর ২১২-২৪৮-৭৯০৭। নিউইয়র্কে তার অফিস এবং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ভাষায় সেবা দেন এবং ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। অ্যাটর্নি নাসরিন মোজ্নুরের ব্রঙ্কস অফিসের ফোন ৭১৮-৫১৮-০৪৭০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯। অ্যাটর্নি মীর এম. মিজানুর রহমানের ম্যানহাটন অফিসের ফোন ২১২-৭৩২-২২২০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৬২২-৭৯৬৯। এসব অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি সেবা দিয়ে থাকেন।
নিউইয়র্কের আরেকটি বাংলাদেশি কমিউনিটিকেন্দ্রিক ল ফার্ম খায়রুল বাশার ল-এর অফিস ফোন ২১২-৪৬৪-৮৬২০ এবং ৭১৮-৭৭৫-৮৫০৯। ফার্মটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন, ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন, সিটিজেনশিপ, আইসিই ডিটেনশন, বন্ড এবং বিভিন্ন ইমিগ্রেশন কেস নিয়ে তারা কাজ করে। জ্যাকসন হাইটসের রুমা জুননাতুল ল অফিসের প্রকাশিত ফোন নম্বর ৫১৬-৫৪৯-৬৭০৭ এবং ৭১৮-৪২৭-১২৩৩। প্রতিষ্ঠানটি ইমিগ্রেশন ও সিভিল লিটিগেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এবং বাংলা ভাষায় সহায়তার কথা উল্লেখ করেছে।
জর্জিয়ায় আটলান্টা মেট্রো এলাকার মনির মেহরান ল-এর ডোরাভিল অফিসের ফোন ৪৭০-৮০০-৯২১৩। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সেবা বিভিন্ন স্টেটের ক্লায়েন্টদের দেওয়া হয়। তবে পার্সোনাল ইনজুরি সংক্রান্ত কাজ জর্জিয়াকেন্দ্রিক এবং অন্যান্য স্টেটের স্টেট ল-এর ক্ষেত্রে লাইসেন্সের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন করার সময় নিজের মামলার ধরন ও স্টেটের কথা পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি।
মিশিগানের হামট্রামকে অ্যাটর্নি রুহুল এম. মুমেনের অফিসের ফোন ৩১৩-৮৯৩-২৫০০। তার ফার্মের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে সেবা দেন এবং অটো অ্যাকসিডেন্ট, পার্সোনাল ইনজুরি, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, ডিইউআইসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। মিশিগান স্টেটের অ্যাটর্নি রেকর্ড ও প্রকাশিত পেশাগত তথ্যেও তার লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অ্যাটর্নি জুবাইদা ইকবালের প্রকাশ্য যোগাযোগ নম্বর ৪০৭-৯৩০-১৫৫২। ফ্লোরিডা বারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ফ্লোরিডায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি। তার প্রকাশ্য প্রোফাইলে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে কাজের তথ্য রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে তিনি সেটি গ্রহণ করছেন কি না, ফোনে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
টেক্সাসের হিউস্টনে অ্যাটর্নি মনিকা উদ্দিন আহমাদ, জাভিতসানোস অ্যান্ড মেনসিং-এর সঙ্গে কাজ করেন। টেক্সাসের ফেডারেল কোর্টের অ্যাটর্নি রেকর্ডে তার অফিসের ফোন ৭১৩-৬০০-৪৯১৩ এবং হিউস্টন অফিসের ঠিকানা ১২২১ ম্যাককিনি স্ট্রিট, স্যুট ২৫০০ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফার্মের তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তার মূল প্র্যাকটিস কমার্শিয়াল লিটিগেশন ও ব্যবসায়িক বিরোধকেন্দ্রিক। তাই ইমিগ্রেশন বা ব্যক্তিগত কোনো মামলার জন্য যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তারা গ্রহণ করেন কি না জেনে নেওয়া উচিত।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাটর্নি ওমর এইচ. বেঙ্গালির অফিস গিরার্ড বেঙ্গালি, এপিসি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ড অনুযায়ী তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং অফিসের ফোন ৩২৩-৩০২-৮৩০০। অফিসের ঠিকানা ৩৫৫ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, স্যুট ২৪৫০, লস অ্যাঞ্জেলেস। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যায় যোগাযোগের আগে তার ফার্ম সেই ধরনের মামলা গ্রহণ করে কি না নিশ্চিত করা উচিত।
ওয়াশিংটন স্টেটের সিয়াটলে অ্যাটর্নি তাহমিনা ওয়াটসনের ওয়াটসন ইমিগ্রেশন ল-এর ফোন ২০৬-২৯২-৫২৩৭। ওয়াশিংটন স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ডে তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং প্র্যাকটিস এরিয়া ইমিগ্রেশন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই রেকর্ডে বাংলা ভাষাও তার জানা ভাষার মধ্যে রয়েছে। ইমিগ্রেশন, ডিপোর্টেশন ডিফেন্স, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, ফ্যামিলি ওয়ার্ক ভিসাসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন বিষয়ে তার ফার্ম কাজ করে।
মিশিগানে আরেকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর অফিসের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর ১-৮৬৬-৬৬৪-৬৫২৯ এবং সরাসরি নম্বর ৯১৭-২৮২-৯২৫৬। তার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি মিশিগান স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের জন্য অনুমোদিত এবং নিউইয়র্কে তার কাজ ইমিগ্রেশন বিষয়ে সীমিত। অন্য স্টেটের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নিদের মাধ্যমে কাজ করার তথ্যও তার অফিস উল্লেখ করেছে।
আইনি ঝামেলা হলে শুধু পরিচিত কারও পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন মামলার ক্ষেত্রে নোটারি, ডকুমেন্ট প্রিপেয়ারার বা তথাকথিত ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টকে অ্যাটর্নি ধরে নেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কোর্ট ও বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলের সামনে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি অথবা অনুমোদিত অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভ। নোটারি, ট্রাভেল এজেন্ট বা সাধারণ ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট সেখানে আইনগত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না।
যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্যও বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন রিভিউ অফিস স্বীকৃত সংস্থা ও অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভদের তালিকা প্রকাশ করে। এসব সংস্থার কিছু কম খরচে বা প্রো বোনো আইনি সহায়তা দিতে পারে। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করে যে তালিকায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বা অ্যাটর্নিকে তারা ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ বা অনুমোদন করে না।
প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি হতে পারে নিজের ফোনে কয়েকজন অ্যাটর্নির নম্বর আলাদা করে সেভ করে রাখা। তবে নম্বর সেভ করার পর সুযোগ থাকলে একবার অফিসে ফোন করে নম্বরটি বর্তমান কি না, অফিস কোন ধরনের মামলা নেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং প্রাথমিক কনসালটেশনের জন্য কোনো ফি রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রকাশ্যে থাকা ফোন নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে এবং কোনো অ্যাটর্নি সব ধরনের মামলা নাও নিতে পারেন। তাই কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে প্রথমে নিজের স্টেটের বার অ্যাসোসিয়েশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি লাইসেন্স রেকর্ডে অ্যাটর্নির বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। এই তালিকার উদ্দেশ্য কাউকে নির্দিষ্টভাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং প্রবাসীদের জরুরি সময়ে দ্রুত আইনি সহায়তার যোগাযোগ খুঁজে পেতে প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের জন্য স্কুল বাছাই করতে শুধু বাসার কাছাকাছি হওয়া, এলাকার সুনাম কিংবা অনলাইন রেটিং দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। স্কুলের শিক্ষক ও স্টাফ, নিরাপত্তা, একাডেমিক প্রোগ্রাম, শিক্ষার্থীদের ফলাফল এবং সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়গুলো একসঙ্গে যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক স্কুল বিবেচনা করা অভিভাবকদের কাছে শিক্ষক ও স্কুল স্টাফের মান, নিরাপত্তা, একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে। প্রথমেই সন্তানের প্রয়োজন বুঝে নিন। সন্তান কোন ধরনের পরিবেশে ভালো শেখে, তার বিশেষ কোনো আগ্রহ আছে কি না, ইংরেজি ভাষায় অতিরিক্ত সহায়তা দরকার কি না অথবা বিশেষ শিক্ষাগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে কি না, এসব বিষয় আগে বিবেচনা করুন। একটি স্কুল অন্য শিশুর জন্য ভালো হলেও আপনার সন্তানের জন্য একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। এরপর স্কুলের অফিসিয়াল তথ্য যাচাই করুন। পাবলিক স্কুলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন এবং স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের তথ্য থেকে একাডেমিক ফলাফল, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডেটা পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক শিক্ষাব্যবস্থা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত হওয়ায় একই স্টেটের মধ্যেও স্কুল ডিস্ট্রিক্টভেদে নিয়ম ও সুযোগের পার্থক্য থাকতে পারে। শুধু একটি অনলাইন রেটিংয়ের ওপর নির্ভর করবেন না। গ্রেটস্কুলস এর মতো সাইটে রেটিং দেখার পাশাপাশি একাডেমিক ফলাফল, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এবং হাই স্কুল হলে কলেজ প্রস্তুতির তথ্য আলাদাভাবে দেখুন। একই সঙ্গে এসব তথ্য স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা স্টেটের অফিসিয়াল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো। একাধিক সূচক একসঙ্গে দেখলে স্কুল সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করুন। স্কুলে বুলিং, শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং স্কুলের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য খুঁজুন। কোনো একটি প্যারেন্ট রিভিউ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে পুরো স্কুলের চিত্র হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখা বেশি কার্যকর। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ইংরেজি ভাষা সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সন্তান যদি ইংরেজিতে এখনও পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ না হয়, তাহলে স্কুলে ইংলিশ লার্নার বা ইএনএল শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের সাপোর্ট রয়েছে, আলাদা ভাষা সহায়তা দেওয়া হয় কি না এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা কেমন, তা আগে জেনে নিন। স্কুলে সরাসরি যোগাযোগ করে এসব প্রশ্ন করা যেতে পারে। স্কুলের বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য কী সুযোগ রয়েছে, সেটিও দেখুন। আফটার স্কুল প্রোগ্রাম, খেলাধুলা, মিউজিক, আর্টস, চেস, রোবোটিক্স, স্টিম, ক্লাব এবং অন্যান্য কার্যক্রম সন্তানের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। হাই স্কুলের ক্ষেত্রে এপি, অনার্স, ডুয়াল এনরোলমেন্ট বা ক্যারিয়ার এন্ড টেকনিকাল এডুকেশন এর মতো কোর্স ও প্রোগ্রাম রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা যেতে পারে। হাই স্কুল বাছাইয়ের সময় আরও বিস্তারিত তথ্য দেখা দরকার। শুধু গ্র্যাজুয়েশন রেট নয়, কলেজ প্রস্তুতি, এপি বা অন্যান্য অ্যাডভান্সড কোর্সে অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফল এবং কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতির তথ্য বিবেচনা করুন। কোনো একটি স্কোর বা রেটিংকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি না করাই ভালো। বাসা নেওয়ার আগে স্কুলের অ্যাটেনডেন্স জোন বা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়মও জেনে নিন। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পাবলিক স্কুলে বাসার ঠিকানা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। আবার কিছু ডিস্ট্রিক্টে স্কুল চয়েস, ম্যাগনেট বা অন্য ধরনের বিকল্পও থাকতে পারে। তাই নতুন বাসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছে জেনে নিন ওই ঠিকানার জন্য কোন স্কুল নির্ধারিত এবং ভর্তি প্রক্রিয়া কী। সম্ভব হলে স্কুলটি সরাসরি দেখে আসুন। স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং সন্তানের জন্য কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে, এসব বিষয় সরাসরি জানার চেষ্টা করুন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা সংক্রান্ত গবেষণাতেও দেখা গেছে, স্কুলের অবস্থান, একাডেমিক পারফরম্যান্স, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন রিসোর্স সম্পর্কে একাধিক ধরনের তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করা অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক। সবশেষে, পরিচিত কারও পরামর্শ বা শুধু অনলাইন রেটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের সন্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য যাচাই করুন। বাসা, স্কুল এবং পরিবারের দৈনন্দিন বাস্তবতা একসঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে সন্তানের জন্য উপযুক্ত স্কুল বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।
হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে ৯৭৭ ডলার দেনা, নিলামে বিক্রি সাড়ে চার লাখ ডলারের বাড়ি
আইনি ঝামেলায় পড়লে কাকে ফোন করবেন? প্রবাসীদের কাজে আসতে পারে যেসব অ্যাটর্নির ফোন নম্বর
কাবুল বিমানবন্দর হা/মলায় আই এস আই এস-কে সহায়তার দায়ে মোহাম্মদ শরিফুল্লাহকে ২০ বছরের কারাদণ্ড
নিউইয়র্ক সিটিতে গত তিন মাসে তিনজন ইয়েলো ক্যাবচালককে নিজ নিজ ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ভিলেজে ৫৩ বছর বয়সী ক্যাবচালক জগজিৎ সিংয়ের মৃত্যুর পর চালকদের স্বাস্থ্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জগজিৎ সিং প্রায় ২০ বছর ধরে নিউইয়র্কে ক্যাব চালাতেন। ১১ সেপ্টেম্বর যাত্রী নামিয়ে ওয়েস্ট ভিলেজের সেভেনথ অ্যাভিনিউ সাউথ ও চার্লস স্ট্রিটের কাছে তার ট্যাক্সি থামানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে বন্ধুরা গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ট্যাক্সির ভেতরে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান এবং ৯১১-এ ফোন করেন। জরুরি সেবাকর্মীরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে অপরাধমূলক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের বিষয়টি অফিস অব চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্তের আওতায় ছিল। সহকর্মীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্রজনিত সমস্যার কথা বলা হলেও সেটিকে এখনো সরকারি চূড়ান্ত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। সিং স্ত্রী ও ১০ বছর বয়সী যমজ সন্তান রেখে গেছেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ৫৩ বছর বয়সী খলিফা এইচ. সিওয়াকে ম্যানহাটনের হেনরি হাডসন পার্কওয়ের কাছে তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি তানজানিয়ার নাগরিক ছিলেন। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাতেও মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত হয়েছিল, তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তার মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। এই ধারাবাহিকতার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই। ৭৩ বছর বয়সী রিচার্ড কুলিবালিকে হারলেমের ফ্রেডেরিক ডগলাস বুলেভার্ডে পার্ক করা তার ট্যাক্সির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি আইভরি কোস্টের অভিবাসী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে ক্যাব চালিয়েছেন। তার মৃত্যুর সময় শহরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল। তবে গরমের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি নিশ্চিত করার মতো তথ্য নেই। পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল এক্সামিনার তার মৃত্যুকে ন্যাচারাল কজ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। পরপর তিনজন ক্যাবচালকের মৃত্যুতে নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স চালকদের কর্মপরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, নিউইয়র্কের অনেক ক্যাবচালক দীর্ঘ সময় কাজ করেন এবং আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। সংগঠনটি চালকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর দাবি তুলেছে। তবে তিনটি মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে এমন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। তিনজনের মৃত্যুর পরিস্থিতিও এক নয় এবং তাদের জাতীয় পরিচয়ও ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনজনের কেউই বাংলাদেশি ছিলেন না। একজন ছিলেন আইভরি কোস্টের, একজন তানজানিয়ার এবং জগজিৎ সিং ছিলেন ভারত থেকে আসা একজন অভিবাসী। নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চালক ট্যাক্সি ও পরিবহন খাতে কাজ করেন। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার বিষয়গুলোকে নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আপাতত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনাকে একই কারণের মৃত্যু বা কোনো অপরাধমূলক ঘটনার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় ভর্তিতেও আসছে নিষেধাজ্ঞা
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে মিশিগানে গ্রেপ্তার
গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ ১২ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার ২
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম সামাল দিতে তিন বছরেরও বেশি সময় পর বেঞ্চমার্ক সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড কর্মকর্তারা সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে পারেন। আগস্ট মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যের চেয়ে অনেক বেশি। তাই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার কমানোর ধারাবাহিক আহ্বান সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেড এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় দেশটিতে জ্বালানির দাম সম্প্রতি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রিপল-এ (AAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম গ্যালন প্রতি ৬ দশমিক ২৭ ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং গ্যাসোলিনের দাম ৪ দশমিক ৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। জনসন ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্র্যান্ডন জুরেইক জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম ও অর্থনীতি এমন শক্তিশালী অবস্থানে থাকলে আগামী কয়েক মাসে আরও এক-দুটি সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে জ্বালানির দাম কমে আসতে পারে, যা ফেডকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সাহায্য করবে। ফেডারেল রিজার্ভের এই সিদ্ধান্তের পরপরই ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানা গেছে। সুদের হার বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবনে মিশ্র প্রভাব পড়বে। লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার বা এপিআর (APR) এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। ফলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের মাসিক খরচ কিছুটা বেড়ে যাবে। তবে ঋণগ্রহীতাদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হলেও সঞ্চয়কারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে এই সিদ্ধান্ত। উচ্চ-ফলনশীল সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং সিডি (CD) থেকে সঞ্চয়কারীরা এখন আগের চেয়ে ভালো মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ফেডের এই পদক্ষেপে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা কম, কারণ বাজার আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল। তারপরও ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীদের তাদের পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ছাড়াই ইমিগ্রেশন, বিদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক চেক
নিউইয়র্ক ছাড়াও আমেরিকায় ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’ দেশি খাবার ও বাজারে জমজমাট আড্ডা