- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাজ্যের ৪৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মার্টিন কুরান্ট সবসময় সুন্দর ও নিখুঁত হাসির স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই তার জীবনে নেমে এসেছে এক ভয়াবহ অন্ধকার। দাঁতের চিকিৎসার জন্য তুরস্কে গিয়ে অন্তত ৩৩ হাজার পাউন্ড বাঁচানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু চিকিৎসার মাত্র তিন মাস পরই তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। সাইনাসের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রেন সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং কাটাতে হয় দীর্ঘ সময় হুইলচেয়ারে। এখন তাকে নতুন করে হাঁটা ও কথা বলা শিখতে হচ্ছে। মার্টিনের দাঁতের মাড়িতে দীর্ঘদিনের রোগ ছিল, যার ফলে ১৫টি দাঁত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের এক ডেন্টিস্ট তাকে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ হাজার পাউন্ড খরচ হওয়ার কথা জানান। এরপর অনলাইনে খোঁজখবর নিয়ে তিনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত 'লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক'-এর সাথে যোগাযোগ করেন, যারা মাত্র ৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডে এই চিকিৎসা দিতে রাজি হয়। মার্টিনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে শুধু মুখের ছবি দেখেই মাত্র ৪৭ মিনিটের মধ্যে ক্লিনিকটি তাকে একটি চিকিৎসা পরিকল্পনা পাঠিয়ে দেয়। কোনো শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ২০২৪ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে গিয়ে তিনি প্রথম ধাপের চিকিৎসা নেন। চিকিৎসার আগে মার্টিন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে, তার একটি দাঁতের ওপর এক বছর ধরে পুঁজ বা ফোঁড়া (অ্যাবসেস) রয়েছে। তার আইনি অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্লিনিক থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এটি কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু আগস্ট মাসের দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার নাক দিয়ে তরল ঝরতে শুরু করে এবং মুখমণ্ডল আংশিক বেঁকে যায়। ৩১ আগস্ট মারাত্মক খিঁচুনি হওয়ার পর তিনি জ্ঞান হারান। হাসপাতালে এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তার মাথার খুলির স্তরের মাঝে প্রাণঘাতী পুঁজ জমেছে। জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয় এবং মাথার খুলির একাংশ সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলতে হয়। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, তিনি যে বেঁচে ফিরেছেন সেটাই বড় বিস্ময়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেও মার্টিন এখন 'অ্যাফাসিয়া' নামক জটিল স্নায়বিক রোগে ভুগছেন, যার ফলে তার কথা বলা, লেখা ও বোঝার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিজের লাভজনক ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে এখন তিনি পুরোপুরি ভাতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাজ্যে কোনো ডেন্টিস্ট এখন তার অসমাপ্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নিতেও রাজি হচ্ছেন না। অন্যদিকে, তুরস্কের লেমা ডেন্টাল ক্লিনিক চিকিৎসায় অবহেলার সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ক্লিনিকটির দাবি, তারা সব নিয়ম মেনেই চিকিৎসা করেছে এবং মার্টিনের বর্তমান অবস্থার জন্য তাদের চিকিৎসা কোনোভাবেই দায়ী নয়। ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া মার্টিন এখন অন্যদের সতর্ক করে বলছেন, "এমন ভুল কেউ করবেন না, আমি প্রায় মরেই গিয়েছিলাম।"
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য পাসপোর্ট দেখানোর দীর্ঘদিনের প্রথা খুব শিগগিরই হয়তো অতীত হতে চলেছে। পাসপোর্টের জায়গা দখল করে নিচ্ছে অত্যাধুনিক ফেস স্ক্যান বা ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি। ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্লোবাল এন্ট্রি সুবিধাভোগী যাত্রীরা বিমানবন্দরে কোনো ধরনের কার্ড বা পাসপোর্ট বের না করেই দ্রুত ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৮টি বিমানবন্দরে এই ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি বিমানবন্দরে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘এনহ্যান্সড প্যাসেঞ্জার প্রসেসিং’ এবং ৭টি বিমানবন্দরে ‘সিমলেস বর্ডার এন্ট্রি’ নামক ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে যাত্রীরা না থেমেই মাত্র তিন সেকেন্ডের কম সময়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারছেন। এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মার্কিন নাগরিক এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্ন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন নাগরিকরা চাইলে এখনও ফেস স্ক্যানিং এড়িয়ে সিবিপি কর্মকর্তার মাধ্যমে ম্যানুয়াল চেকিংয়ের সুবিধা নিতে পারবেন। তবে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি বা নন-ইউএস নাগরিকদের জন্য বায়োমেট্রিক আইডেন্টিটি চেক সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে ১৭ বছরের কম এবং ৭৯ বছরের বেশি বয়সী বিদেশিরা এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকলেও, এখন আকাশ, স্থল বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা ত্যাগের সময় তাদের সবাইকে ফেস স্ক্যান বা আঙুলের ছাপ দিতেই হবে। সিবিপি জানিয়েছে, ফেস স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে তোলা ছবি সরকারি ডাটাবেসে থাকা পাসপোর্ট বা ভিসার ছবির সাথে তাৎক্ষণিকভাবে মিলিয়ে দেখা হয় এবং এর নির্ভুলতার হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি। ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৪৮ মিলিয়ন মানুষ এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন এবং এর মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করা ৫ লাখ ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব বন্দর ও ক্রসিংয়ে এই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়াও ২০২৭ সালের মধ্যে জেএফকে (JFK) বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ওয়ানে এমন এক আধুনিক লাগেজ-স্ক্রিনিং সিস্টেম চালু হতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে ফ্লাইট আকাশে থাকা অবস্থাতেই কর্মকর্তারা রিমোটলি চেকড ব্যাগ তল্লাশি করতে পারবেন।
নিউইয়র্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হলেও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে আরও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি। কোথাও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি, কোথাও মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা, আবার কোথাও ব্যবসা ও পেশাজীবী নেটওয়ার্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিবেশ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ভাষা, খাবার, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন অনেকটাই ধরে রাখতে পারছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণে নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টনের মতো মেট্রোপলিটন এলাকার নাম এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তথ্যভিত্তিক ওই তালিকায় আটলান্টিক সিটিও ছিল শীর্ষ ১০-এর মধ্যে। এখানে ‘ছোট বাংলাদেশ’ কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নাম নয়। এটি এমন এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, গ্রোসারি, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সেবা মিলিয়ে একটি দৃশ্যমান কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান: নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির কথা উঠলে মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে হ্যামট্রাম্যাকের কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ডেট্রয়েটের পর্যটন সংস্থা ভিজিট ডেট্রয়েটের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাক ও উত্তর ডেট্রয়েট এলাকায় আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মেট্রো ডেট্রয়েটের হিসাব। এলাকাটিতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি গ্রোসারি ও হালাল খাবারের দোকানও রয়েছে। হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধর্মীয় অবকাঠামোরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে মাদ্রাসা বা ইসলামিক স্কুলের কার্যক্রমও চালু করা হয়। কন্যান্ট স্ট্রিটে ফ্যামিলি বাজার, মেঘনা বাজার, মারহাবা বাজার ও হেরা ফিশ মার্কেটের মতো দোকানে বাংলাদেশি গ্রোসারি, মসলা, সবজি, হালাল মাংস ও মাছ পাওয়া যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া: লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ সম্ভবত নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা চার ব্লকের এই এলাকাটি ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। এলাকায় রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, আবাসিক এলাকা ও বাংলাদেশি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লিটল বাংলাদেশের রাস্তায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি গ্রোসারি, বিউটি সেলুন, মোবাইলের দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা দেখা যায়। বাংলা ভাষার কথাবার্তা, দেশি খাবারের গন্ধ এবং বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করা দোকান এলাকাটিকে অন্য অনেক আমেরিকান এলাকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। থার্ড স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্য পাওয়া যায়। কিছু ব্যবসায় একই সঙ্গে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন মেট্রো, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড: ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। এই কমিউনিটি শুধু ডিসি শহরে সীমাবদ্ধ নয়; নর্দার্ন ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে। পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক বাংলাদেশি জনসংখ্যা বিশ্লেষণে নিউইয়র্ক ও ডেট্রয়েটের পর ওয়াশিংটন মেট্রোকে বড় বাংলাদেশি কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার এবং এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পেশাজীবীদের শক্ত উপস্থিতি। সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, মসজিদ ও কমিউনিটি সংগঠনও রয়েছে। ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া: পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্লেষণে ফিলাডেলফিয়া মেট্রোতে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশির বসবাসের হিসাব পাওয়া যায়। শহর ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, হালাল খাবারের ব্যবসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই কমিউনিটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আটলান্টা, জর্জিয়া: দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র আটলান্টা মেট্রো। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস এবং বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে আটলান্টা এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারির বিস্তৃত তালিকা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসা ডিরেক্টরিতে রুচি বাংলাদেশি কুইজিন, দেশি স্ট্রিট ফুড, আলিফ ক্যাফে, আল-আমিনসহ একাধিক বাংলাদেশি খাবারের ব্যবসা এবং একাধিক গ্রোসারি ও হালাল মাংসের দোকানের তালিকা রয়েছে। ডোরাভিলের আল-আমিনের ও জমজমের মতো কিছু ব্যবসায় একই ছাদের নিচে বাংলাদেশি খাবার, গ্রোসারি ও হালাল মাংসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একজন বাংলাদেশি পরিবারের জন্য রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দেশি বাজার করা দুটোই একই জায়গায় সম্ভব। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস: টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মেট্রো বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল। এই অঞ্চলের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবার ও গ্রোসারি ব্যবসাও তৈরি হয়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পাশাপাশি টেক্সাসের হিউস্টনেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। হিউস্টন, টেক্সাস: হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। রুপশি বাংলা গ্রোসারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নিজেদের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং মিলনস্থল হিসেবে পরিচয় দেয়। হাইওয়ে ৬ এলাকার এই ব্যবসায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে হিউস্টন মেট্রোতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল। মিয়ামি, ফ্লোরিডা: দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চের একই মেট্রো বিশ্লেষণে মিয়ামিতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির হিসাব পাওয়া যায়। এখানে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, হালাল খাবার, গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে দূরত্বের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ ধরে রাখছেন অনেকে। বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস: নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে বোস্টন মেট্রোতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল। তবে জনসংখ্যার সংখ্যা দিয়ে কমিউনিটির সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বোস্টনে কয়েক দশকের বাংলাদেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি: নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় আটলান্টিক সিটিতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল। এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাসজিদ আল-হেরা নিজেদেরকে আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রথম মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি শিশুদের ইসলামিক স্কুল ও প্রাপ্তবয়স্কদের কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি শুধু জনসংখ্যার হিসাব নয়: যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি নিয়ে কথা বলার সময় শুধু কতজন বাংলাদেশি কোথায় থাকেন, সেই সংখ্যা দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। একটি কমিউনিটি কতটা প্রতিষ্ঠিত, সেটি বোঝার জন্য সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসা, গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। একই বিশ্লেষণে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিকে বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকাভিত্তিক তথ্য দেখায়, নিউইয়র্কের বাইরেও ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, বোস্টন ও আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। এই এলাকাগুলোর কোথাও হয়তো নিউইয়র্কের মতো বিশাল বাংলাদেশি জনসংখ্যা নেই। কিন্তু দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, বাংলাদেশি বাজার, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান আর বাংলায় আড্ডার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসী জীবনে এসব জায়গা নিজেদের মতো করে একেকটি ‘ছোট বাংলাদেশ’-এর রূপ নিয়েছে। নিউইয়র্ক তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি জীবনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও, বাংলাদেশি আমেরিকানদের গল্প এখন আর একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে হাজার হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে এমন কিছু কমিউনিটি, যেখানে একটি রেস্টুরেন্টের টেবিলে বসে দেশি খাবার খাওয়া, পাশের দোকান থেকে বাংলাদেশের মাছ-মসলা কেনা এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাংলায় কয়েক ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া এখন প্রবাসী জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামাদির ওপর ইরান পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরব এবং কুয়েতে কর্মরত মার্কিন সেনাসদস্যদের পাঠানো নতুন কিছু ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান, বিধ্বস্ত ক্যাম্প, ফাঁপা হয়ে যাওয়া ভবন ও পুড়ে যাওয়া যানবাহনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। এই ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া ২৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক আমেরিকান ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান। সে সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে থাকা ১৬টি এধরনের বিমানের মধ্যে ছয়টিই ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল। এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং এবং ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন গ্রাউন্ড ট্রুপসদের ব্যবহৃত ট্রেইলার ও গাড়ি ধ্বংসের ছবিও সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, ক্যাম্প আরিফজানের কয়েক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত শুয়াইবা বন্দরেই যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনাসদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘাঁটিতে হওয়া এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা আমেরিকান জনগণের কাছে গোপন রাখা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরিস্থিতি এমন যে তারা চোখ বন্ধ করে কেবল মার খাচ্ছেন। ওই সেনাসদস্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সেই দাবিও দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাত্র কয়েকটি ইরানি হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পেরেছে। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা আসলে ঘাঁটিগুলোর কোনো প্রতিরক্ষাই দিতে পারছেন না, বরং চোখের সামনে কেবল সেগুলো ধ্বংস হতে দেখছেন। এই বিস্ফোরক তথ্যের বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। হামলার এই ভয়াবহ ছবিগুলো এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যার মাত্র দুদিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের ওপর তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএসএআইডি-এর তথ্য সম্বলিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সংঘাতে প্রায় ৬০টি বিমানসহ মোট সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ বাদ দিয়েই যুদ্ধের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার।
ব্রাজিলের পারাইবা রাজ্যে এক নাটকীয় অভিযানের মধ্য দিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে জোরলান আলভেস দা সিলভা (৩৩) নামের এক সন্দেহভাজন সিরিয়াল কিলার। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সে লম্বা কালো পরচুলা, ডোরাকাটা পোশাক, মেয়েদের স্যান্ডেল ও সানগ্লাস পরে নিখুঁতভাবে নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল। এমনকি তার নখে নেলপলিশও লাগানো ছিল। তবে পুলিশের চোখে ধুলো দিতে ব্যর্থ হয় সে। পরচুলা টেনে খুলতেই ধরা পড়ে যায় তার আসল রূপ, সে সময় তার মুখে ছিল এক নির্লিপ্ত হাসি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গ্রেপ্তারের সময় তার কোলে দুই বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল, যার সাথে এই অপরাধীর সম্পর্ক কী তা এখনো তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যম 'রেকর্ড আর৭' এবং 'ও গ্লোবো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে জোরলান তার জীবনে অন্তত ৮০ জনকে খুন করার রোমহর্ষক কথা স্বীকার করেছে। পুলিশের ধারণা, কেবল গত তিন মাসেই সে বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধী চক্রের হয়ে অন্তত ১৫টি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। সিভিল পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডগলাস গার্সিয়া জানিয়েছেন, মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম খুনটি করেছিল জোরলান। বিভিন্ন অপরাধে ৫ থেকে ৬ বছর জেল খাটার পর গত মে মাসের শেষের দিকেই সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল। এর আগে তার সহযোগীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি পুলিশ আটকালে সেবার এক সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও জোরলান কোনোভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। জোরলানের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন মামলাগুলোর মধ্যে গত ১ আগস্ট রিও টিন্টো এলাকায় দুই ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনাটি অন্যতম। গোয়েন্দা গার্সিয়া জানান, জোরলানের দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ নির্দিষ্ট স্থানে মাটি খুঁড়ে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তার ৮০টি খুনের দাবির সত্যতা নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। যদি এই দাবি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে জোরলান হবে ব্রাজিলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও বেশি খুন করা সিরিয়াল কিলার। এর ফলে সে ছাড়িয়ে যাবে পেড্রো রদ্রিগেস ফিলহো বা 'ব্রাজিলিয়ান ডেক্সটার'-কে, যে ৭১টি খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলেও শতাধিক খুনের দাবি করেছিল।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রম ভিসা বা এলএ-বি২ ভিসার অনুমোদনও বন্ধ থাকবে। লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে। দেশটির সংবাদমাধ্যম লাওতিয়ান টাইমস ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নির্দেশনার খবর প্রকাশ করে। নির্দেশনায় অবৈধভাবে প্রবেশ, মানব পাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালাল এবং বিদেশি কর্মী আনার পর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই। নতুন নিয়মের আওতায় কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা বা শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাওসে এনে কাজে নিয়োগের অনুমোদন নিতে পারবে না। বাংলাদেশিদের জন্য নতুন শ্রমিক আমদানি পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদনও স্থগিত থাকবে। তবে নির্দিষ্ট চুক্তির মেয়াদ থাকা সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশি কর্মী আমদানি বা নিয়োগ করলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য ২৫ লাখ লাও কিপ জরিমানা দিতে হবে। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার। অন্য কোনো শ্রম ইউনিটে পাঠানোর উদ্দেশ্যে অনুমোদন ছাড়া কর্মী আমদানি করলেও একই হারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো শ্রম ইউনিটের জন্য বরাদ্দ করা কর্মী অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার বা গ্রহণ করলেও জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য ২০ লাখ লাও কিপ, অর্থাৎ প্রায় ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হতে পারে। এদিকে, অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থল থেকে অন্য কোনো কর্মস্থলে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি তাকে ৩০ দিনের মধ্যে লাওস ছাড়তে হতে পারে। দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাতায়াত ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী পক্ষকে বহন করতে হবে। একই ধরনের লঙ্ঘন পুনরায় ঘটলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল এবং কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে লাওসে কতজন বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন, সে বিষয়ে দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। কোন কোন খাত এই স্থগিতাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, সেটিও নির্দেশনায় আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে লাওতিয়ান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, লাওসে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কাজ করা কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ থেকে চলতি বছর লাওসে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া কর্মীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি লাওসে চাকরির জন্য যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন। এই সংখ্যা চলতি বছরে লাওসে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র পাওয়া কর্মীদের হিসাব; এটি দেশটিতে বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশির মোট সংখ্যা নয়। নতুন নির্দেশনার ফলে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা সময়ে নতুন করে লাওসে চাকরিতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসার অনুমোদন পাওয়া যাবে না। তবে সরকারের অনুমোদিত নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো স্থগিতাদেশের বাইরে থাকায় সেগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সূত্র: লাওতিয়ান টাইমস
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ইসরায়েলের স্বার্থের অনুগত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৪০ বছরের অন্য যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্যে গিয়ে ভিন্ন পথে চলার বেশি ইচ্ছা দেখিয়েছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ‘অল-ইন’ পডকাস্টের আয়োজিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে দুই দেশের মধ্যে সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করলে যে মার্কিন জনগণের স্বার্থ এবং ইসরায়েল সরকারের স্বার্থ এক নয়, সে ক্ষেত্রে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান নিতে প্রস্তুত থাকেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ট্রাম্প এমন অবস্থান নিতে পারেন যেখানে তিনি নেতানিয়াহুকে ভালো অংশীদার হিসেবে স্বীকার করেও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তার সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ করেন। ভ্যান্স আরও বলেন, গত ৪০ বছরের অন্য প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্পই নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রয়োজন হলে আলাদা পথে যাওয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কোনো বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান সঠিক মনে হলেও মার্কিন জনগণের স্বার্থ ভিন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে মার্কিন স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করাই বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট নীতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কি না, সেই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিলে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব। একই যুক্তি তিনি ন্যাটোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন। ভ্যান্স বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইউরোপবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি ন্যাটোর অনুগত হবে। তিনি একই প্রসঙ্গে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিও ইসরায়েল রাষ্ট্রের অনুগত হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং মতপার্থক্য থাকলে তা বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ করতে হবে। ভ্যান্সের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোচনা চলছে। পডকাস্টের আলোচনায় ভ্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। আলোচনায় ভ্যান্স ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করলেও একই সঙ্গে দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক হবে না বলে স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্যে মার্কিন স্বার্থকে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। ভ্যান্সের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি ট্রাম্পের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে মতপার্থক্যের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে এটি ভ্যান্সের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক বক্তব্য; এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলবিষয়ক কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের অভিযান ও নজরদারি জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন নিয়মের কারণে প্রায় ২ লাখ নন-ডমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএলধারী চালকের লাইসেন্স ভবিষ্যতে হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। এ বিষয়টি এখন ফেডারেল আপিল কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ট্রাক স্টপ, ওয়েই স্টেশন ও অন্যান্য স্থানে চালকদের কাগজপত্র এবং অভিবাসন স্ট্যাটাস যাচাই করছে। এসব অভিযানে বিদেশে জন্ম নেওয়া কিছু ট্রাকচালককে আটকও করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক চালকের আইনি পরিস্থিতি এক নয়। কারও ক্ষেত্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি আলাদা ফৌজদারি অভিযোগ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও থাকতে পারে। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএমসিএসএ নন-ডমিসাইলড সিডিএল নিয়ে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। ১৬ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে বিদেশে ডমিসাইল থাকা ব্যক্তিদের নন-ডমিসাইলড সিডিএল পাওয়ার যোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট এইচ-২এ, এইচ-২বি এবং ই-২ ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন স্ট্যাটাসধারীরাই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এই লাইসেন্স পেতে পারেন। এফএমসিএসএর যুক্তি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে চালকদের পরিচয়, বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস এবং আগের ড্রাইভিং রেকর্ড আরও ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। সংস্থাটি বলছে, বিদেশি ড্রাইভারদের আগের ড্রাইভিং রেকর্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং নতুন ব্যবস্থা সেই ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে। নতুন নিয়মের কারণে কিছু পুরোনো নন-ডমিসাইলড সিডিএলও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। এফএমসিএসএ অঙ্গরাজ্যগুলোকে এমন লাইসেন্স শনাক্ত করে বাতিল বা ডাউনগ্রেড করার নির্দেশনা দিয়েছে, যেগুলো ইস্যুর সময়কার ফেডারেল নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও যেসব লাইসেন্স বর্তমান শর্ত পূরণ করছে না, সেগুলোও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ডাউনগ্রেড বা বাতিল হতে পারে। তবে এই নীতির বিরোধীরা বলছেন, শুধু একজন চালকের অভিবাসন স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে তাকে সড়ক নিরাপত্তার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাদের যুক্তি, ড্রাইভিং রেকর্ড সরাসরি যাচাইয়ের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অভিবাসন শ্রেণির চালকদের লাইসেন্সের যোগ্যতা সীমিত করা হচ্ছে। এই বিতর্ক এখন আদালতে। ১৫ সেপ্টেম্বর ডিসি সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে নতুন নিয়ম নিয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারকেরা সরকারের আইনজীবীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিবাসন স্ট্যাটাসের সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই নিয়মের মাধ্যমে এত বড় একটি চালকগোষ্ঠীকে সীমিত করার প্রয়োজনীয়তা কী। ট্রাকিং শিল্পে এর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো চালক নন-ডমিসাইলড সিডিএলের যোগ্যতা হারালে বাণিজ্যিক ট্রাক চালানোর কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে চালকদের কর্মসংস্থান, ট্রাকিং কোম্পানির জনবল এবং পরিবহন খাতে চালকের সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব আদালতের সিদ্ধান্ত এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ২ লাখের সংখ্যা মানে ২ লাখ চালকের সিডিএল ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে এমন নয়। বরং এই সংখ্যা নন-ডমিসাইলড সিডিএলধারীদের সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীকে বোঝায়। নতুন নিয়মের কারণে তাদের অনেকের লাইসেন্স নবায়ন, পুনরায় ইস্যু বা ধরে রাখার যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট চালক, ট্রাকিং কোম্পানি ও অঙ্গরাজ্যগুলো। আদালত নতুন নিয়ম বহাল রাখলে যোগ্যতা হারানো চালকদের সিডিএল নিয়ে আরও পদক্ষেপ হতে পারে। আর আদালত নিয়মটি বাতিল বা স্থগিত করলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে প্রায় ২ লাখ নন-ডমিসাইলড সিডিএলধারী চালকের জন্য আগামী সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রাজিলের ৫৩ বছর বয়সী সুয়েলি প্রায় নয় বছর ধরে নিজের সঞ্চয়ের টাকা একটি বইয়ের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। ধীরে ধীরে জমিয়ে রাখা সেই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল। বাড়ির সংস্কার ও জরুরি প্রয়োজনে টাকা ব্যবহারের সময় বইটি খুলতেই দেখা যায়, পোকামাকড়ের আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে টাকার বড় একটি অংশ। ঘটনাটি ২০২৪ সালে ব্রাজিলের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বালানসো জেরাল’ এর প্রতিবেদনে উঠে আসে। সুয়েলি স্বামীর মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশনের একটি অংশ নিয়মিত আলাদা করে রাখতেন। ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়ে এক পরিচিতের খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সঞ্চয়ের অর্থ ঘরেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুয়েলি ১০০ ও ২০০ রিয়ালের নোটগুলো বইয়ের ভেতর রেখে সেটি একটি ব্যাগে ঢুকিয়ে আলমারিতে সংরক্ষণ করতেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই সঞ্চয়ের কথা জানতেন না। প্রায় নয় বছর ধরে এভাবেই টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নোটগুলো ভালো অবস্থায় ছিল বলে জানান সুয়েলি। পরে বাড়ির কিছু খরচ মেটানো এবং বহুদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কারের কাজ শুরু করতে টাকা বের করতে যান তিনি। তখনই দেখতে পান, বইয়ের ভেতরে রাখা নোটগুলো পোকায় কেটে দিয়েছে। কিছু নোটের বড় অংশে অসংখ্য ছিদ্র হয়ে যায়, কিছু নোটের অর্ধেকের বেশি অংশ নষ্ট হয়ে যায় এবং কয়েকটি নোটের অংশ পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়। বইয়ের পাতাও পোকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। প্রতিবেদনে পোকাগুলোকে মূলত ‘ট্রাসা’ বা কাগজখেকো পোকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সুয়েলির ছেলে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারটি নষ্ট হয়ে যাওয়া নোটগুলো ব্যাংকে নিয়ে যায়, যাতে সেগুলোর কোনো অংশের মূল্য উদ্ধার করা সম্ভব কি না তা জানা যায়। এরপর প্রায় ১ হাজার ৬০০ রিয়াল মূল্যের ক্ষতিগ্রস্ত নোট পরীক্ষা করার জন্য ব্রাজিলের সেন্ট্রাল ব্যাংকে পাঠানো হয়। ওই অর্থের কতটা ফেরত পাওয়া যাবে, তা পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করছে। ব্রাজিলের সেন্ট্রাল ব্যাংকের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত নোটের মূল্য পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে ব্যাংকের মাধ্যমে নোটটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো যায়। নোটের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী সেটির মূল্য থাকতে পারে, আবার সম্পূর্ণ মূল্যহীনও হতে পারে। বিশেষ করে কোনো নোটের মূল অংশের অর্ধেকের বেশি অবশিষ্ট থাকলে সেটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ ও বিনিময়ের আওতায় আসতে পারে। সেন্ট্রাল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পোকা, উইপোকা বা রাসায়নিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নোটও পরীক্ষার আওতায় আসতে পারে। কোনো নোটের মূল্য নিয়ে সন্দেহ থাকলে সেটি সরাসরি ফেলে না দিয়ে ব্যাংকে জমা দিয়ে মূল্যায়নের জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। সুয়েলির ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, দীর্ঘদিন নগদ অর্থ ঘরে রাখলে শুধু চুরি বা আগুনের ঝুঁকিই নয়, আর্দ্রতা ও পোকামাকড়ের কারণেও সঞ্চয় নষ্ট হতে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কাগজ বা নগদ অর্থ ঘরে সংরক্ষণ করতে হলে উপযুক্ত সুরক্ষিত ও শুষ্ক জায়গা ব্যবহার করা জরুরি। সুয়েলির ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে জমিয়ে রাখা অর্থ যখন প্রয়োজন হলো, তখনই সামনে আসে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি। শেষ পর্যন্ত নষ্ট হওয়া নোটগুলোর কতটা মূল্য ফিরে পাওয়া যাবে, সেটি নির্ধারণ করবে সেন্ট্রাল ব্যাংকের পরীক্ষা।
সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর দ্রুত ভবনের ছাদ থেকে নিচে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে সৌরভ ইসলাম নামে ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দিন জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়। নিহত সৌরভ ইসলাম নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি জেদ্দায় আলসাইম কোম্পানির অধীনে একটি ব্যাংকে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি জেদ্দায় ছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এক বছর আগে ছুটি কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি। পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে সৌরভ যে আবাসিক ভবনে থাকতেন, তার ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জেদ্দায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা আসে। মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করেন তিনি। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার পায়ে তার বা রশি পেঁচিয়ে গেলে তিনি পড়ে যান বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে সকালে একই বাসায় থাকা অন্যরা সৌরভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনার দিন বিকেলে সৌদি আরবে থাকা সৌরভের এক সহকর্মী ফোন করে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানান। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। বুধবার সকালে স্বজন ও স্থানীয়রা সৌরভের বাড়িতে জড়ো হন। সৌরভের মা রেনু বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার এবং নিজের হাতে দাফন করার সুযোগ চেয়েছেন। বাবা আমির ইসলামও ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। নিহতের স্বজনেরা যোগাযোগ করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান। সৌরভের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে যে সতর্কবার্তাটি ছিল, সেটিও ওই দিনের আঞ্চলিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জেদ্দা, মক্কা ও তাইফসহ কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে। এসব সতর্কতা অল্প সময়ের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ইয়েমেন থেকে আগের দিন চালানো ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে জেদ্দার সতর্কবার্তার সময় সেখানে সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেদ্দাসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি হলেও ওই এলাকাগুলোতে কোনো প্রজেক্টাইল আঘাত করেছিল কি না সে বিষয়ে তখন কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে সৌরভ ঠিক কোন সতর্কবার্তা দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন এবং সেটি তার মৃত্যুর সঙ্গে কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে পরিবারের বর্ণনাই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্য। সৌদি আরবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই জেদ্দার মতো বড় শহরেও এমন সতর্কতা জারি হওয়ায় সেখানে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌরভ ইসলামের মৃত্যু সেই আতঙ্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। পরিবারের এখন প্রধান দাবি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফর ঘিরে নিউইয়র্কে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি চললেও নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে গত কয়েক দিনে সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের খবর এসেছে। সরকারি অর্থে বড় পরিসরের সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন। তবে প্রবাসী বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত পরিসরে আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সানফ্রান্সিসকো সফরও আপাতত বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সানফ্রান্সিসকো সফর বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সংবর্ধনা নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রশ্নে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে সরকারি অর্থে বড় পরিসরে নাগরিক সংবর্ধনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা নিজেদের অর্থায়নে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা সংবর্ধনার আয়োজন করলে প্রধানমন্ত্রী তাতে অংশ নিতে পারেন, তবে আয়োজনটি সীমিত ও অনাড়ম্বর রাখার কথা রয়েছে। এর ফলে আগে নির্ধারিত ২৫ সেপ্টেম্বরের সংবর্ধনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে ওই দিন নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ৯ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুষ্ঠানটির জন্য প্রস্তুতি, স্থান পরিদর্শন এবং অতিথি আমন্ত্রণের কথাও উঠে আসে। তবে ১৬ সেপ্টেম্বরের কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আবার একই দিনে অন্য একটি প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের পরিবর্তে নিজেদের অর্থায়নে ২৫ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠান করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যায়, সরকারি অর্থে বড় পরিসরের সংবর্ধনা বাতিল বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত এসেছে; প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে বিকল্প আয়োজন হবে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। সংবর্ধনা বাতিলের কারণ নিয়ে স্থানীয় প্রবাসী সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে অর্থ সংগ্রহ, আয়োজনের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে অভিযোগের কথা এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যেও বিষয়টি একরকম নয়। তাই অর্থের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তার বা কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে নেই। অন্যদিকে নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি অবশ্য অব্যাহত রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রস্তুতি সভায় ২১ সেপ্টেম্বর জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলীয় প্রধানকে অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে স্বাগত সমাবেশ আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন ধরনের কর্মসূচির প্রস্তুতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে বিমানবন্দর এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এসব কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; এগুলোর বাস্তব অংশগ্রহণ বা পরবর্তী পরিস্থিতি এখনো যাচাইযোগ্য নয়। এদিকে সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিলের বিষয়টি এখন বেশ কয়েকটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রাথমিক সফর পরিকল্পনায় নিউইয়র্কের পর ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে অনুষ্ঠান এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও তাঁর প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, সময় ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির পক্ষ থেকেও সফর বাতিলের বিষয়টি স্বীকার করে বলা হয়েছে, তারা সানফ্রান্সিসকো সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে সফরসূচি পরিবর্তনের পর তারা নিউইয়র্কে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগের কয়েক দিনের আলোচনায় থাকা ‘নিউইয়র্কের সংবর্ধনা বাতিল করে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিকল্প আয়োজন’ বিষয়টি এখন আর সেভাবে বলা যাচ্ছে না। বরং সর্বশেষ তথ্য হলো, সানফ্রান্সিসকো সফরই আপাতত বাতিল হয়েছে এবং নিউইয়র্কে সরকারি অর্থে বড় সংবর্ধনার পরিবর্তে প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত কোনো আয়োজন করা যায় কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। তারেক রহমানের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ২ জুন ২০২৬ তাঁকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান যখন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন, তখন অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এতে অংশ নিয়ে নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক ইস্যু তুলে ধরবেন। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে এখন তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। প্রথমত, ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। দ্বিতীয়ত, সরকারি অর্থে নাগরিক সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত আয়োজন হবে কি না। তৃতীয়ত, সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় সফরের বাকি কর্মসূচি কীভাবে সাজানো হচ্ছে। নিউইয়র্কে দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে নানা দাবি ও পাল্টা দাবির খবর প্রকাশিত হলেও সেগুলোর সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই নিশ্চিত তথ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্য ও অভিযোগ আলাদা করে দেখাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে তথ্যনির্ভর পদ্ধতি। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সফরসূচি এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য প্রবাসী আয়োজন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের যুবক আরিফুল ইসলাম দুই কিডনি বিকল হয়ে আড়াই বছর ধরে ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ চিকিৎসায় সঞ্চয় ও সম্পদ হারিয়ে এখন প্রায় নিঃস্ব তিনি। পরিবারের অন্য কারও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত না হলেও পরীক্ষায় মায়ের কিডনি মিলেছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কিডনি দিতে অস্বীকৃতি জানান মা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় ব্যবসা করে স্বচ্ছল জীবনযাপন করতেন আরিফুল। কিডনি রোগ ধরা পড়ার পর নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে গত আড়াই বছরে তার সঞ্চয় ও সম্পদের বড় অংশ শেষ হয়ে গেছে। এখন নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আরিফুলের দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। এ জন্য অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে পরিবার জানিয়েছে। কিন্তু এই বিপুল অর্থ জোগাড় করার মতো আর্থিক সামর্থ্য বর্তমানে তাদের নেই। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করা হলে কারও কিডনি উপযুক্ত পাওয়া যায়নি। পরে আরিফুলের মায়ের কিডনি তার সঙ্গে মিলেছে বলে পরিবার জানায়। এতে ছেলেকে বাঁচানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও অস্ত্রোপচারের আগে নিজের শারীরিক নিরাপত্তা ও মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে ভয় পেয়ে কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান মা। এদিকে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আরিফুলের নিয়মিত ডায়ালাইসিসও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপন না হলে তার চিকিৎসা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে পরিবার জানিয়েছে। তবে তার বর্তমান চিকিৎসা অবস্থা ও প্রতিস্থাপনের জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে নির্দিষ্ট চিকিৎসা নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন আরিফুল। পৌনে তিন বছরের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে মানুষের সহায়তা চেয়েছেন তিনি। আরিফুলের পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এখন কিডনি প্রতিস্থাপনের অর্থ সংগ্রহই তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি জানার পর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারি ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে আরিফুলের চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পরিবারটি। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, শাহ জহুরুল হোসেন বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
টেক্সাসের ছোট শহর ট্রিনিডাডের পুলিশ বিভাগকে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় পানির মান নিয়ে ফেসবুকে অভিযোগ করার পর এক নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘিরে বিভাগটির কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, পুলিশ বিভাগটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে ন্যূনতম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডও পূরণ করছিল না। টেক্সাস কমিশন অন ল এনফোর্সমেন্ট বা টিসিওএলই ৯ সেপ্টেম্বর ট্রিনিডাডের মেয়র ডেনিস হজকে চিঠি দিয়ে পুলিশ বিভাগের কার্যক্রমের অনুমোদন প্রত্যাহারের কথা জানায়। কমিশনের তদন্তে বলা হয়, বিভাগটি ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য পুলিশ বিভাগ হিসেবে কী ধরনের জনকল্যাণমূলক ভূমিকা পালন করছে, তারও যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি। ট্রিনিডাডে প্রায় ৮০০ মানুষের বসবাস। শহরটি ডালাস থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হেন্ডারসন কাউন্টিতে অবস্থিত। ছোট এই পুলিশ বিভাগে পাঁচজন ফুলটাইম অফিসারসহ কয়েকজন পার্টটাইম কর্মকর্তা কাজ করতেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিভাগটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নেবে হেন্ডারসন কাউন্টি শেরিফের অফিস। পুলিশ বিভাগটির বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্রপাত হয় স্থানীয় বাসিন্দা জেনিফার কম্বসকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মে মাসে কম্বস ফেসবুকে ট্রিনিডাডের পানির মান নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং এর কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগের কথা তুলে ধরেছিলেন। পরে ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে তাকে ‘মিথ্যা সতর্কতা বা রিপোর্ট’ সংক্রান্ত একটি গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি এক রাত জেলে ছিলেন। পরে সেই অভিযোগ আর বহাল থাকেনি। পুলিশের তৎকালীন প্রধান চার্লস গ্রেগরি সে সময় কম্বসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি ছিল, তার ফেসবুক পোস্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা অপ্রয়োজনীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তবে ঘটনাটি দ্রুতই ব্যাপক আলোচনায় আসে, কারণ কম্বসের অভিযোগের কয়েক সপ্তাহ আগে শহর কর্তৃপক্ষ নিজেই পানির ব্যাপারে বাসিন্দাদের সতর্ক করে ফুটিয়ে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছিল। পরবর্তীতে টেক্সাস কমিশন অন এনভায়রনমেন্টাল কোয়ালিটির তদন্তেও ট্রিনিডাডের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা থাকার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে কম্বস যে পানির মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, সেটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দাবির প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। কম্বসকে গ্রেপ্তারের পরদিন তার এক সমর্থক উইনস্টন নোলসকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সিটি হলের বাইরে পুলিশের সমালোচনা করে একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই অভিযোগও পরে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাগুলোর পর টিসিওএলই পুলিশ বিভাগটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে শুধু বিতর্কিত গ্রেপ্তারের বিষয়ই নয়, পুলিশ বিভাগের সামগ্রিক কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, বিভাগটির কাছে কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম ছিল না। এর মধ্যে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ও উঠে আসে। এ ছাড়া পুলিশের ব্যবহারবিধি, বলপ্রয়োগ, গাড়ি ধাওয়া, সক্রিয় বন্দুকধারী পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তাদের পেশাগত আচরণ নিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালার ঘাটতিও তদন্তে পাওয়া যায়। টিসিওএলইর তদন্তে মোট ১৮টি প্রয়োজনীয় নীতিমালার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে বলে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই ঘটনার মধ্যে জুনে পুলিশ প্রধান চার্লস গ্রেগরি পদত্যাগ করেন। পরে হেন্ডারসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসও ট্রিনিডাড পুলিশ বিভাগের মামলা গ্রহণ বন্ধ করার কথা জানায়। কম্বসের গ্রেপ্তারের জন্য যে তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট নেওয়া হয়েছিল, সেটি নিয়েও বিচারকের পক্ষ থেকে তথ্যের নির্ভুলতা ও পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রিনিডাডের মেয়র ডেনিস হজ পুলিশ বিভাগ বন্ধের সিদ্ধান্তকে বিস্ময়কর মনে করেননি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিভাগটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার সমস্যা ছিল এবং এখন শহরকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ বন্ধ হওয়ার পর আপাতত শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব হেন্ডারসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের হাতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ বিভাগের পুরোনো কার্যক্রম, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলবে। কম্বস এরই মধ্যে নিজের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে শহরের বিরুদ্ধে ভুলভাবে গ্রেপ্তার ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন। তবে সেই মামলার অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। অন্যদিকে রাজ্য তদন্তের ফলাফলও কম্বসের বিরুদ্ধে আনা আগের অভিযোগকে আদালতের রায়ে মিথ্যা ঘোষণা করেনি। নিশ্চিতভাবে যা জানা গেছে, তা হলো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আর কার্যকর নেই এবং যে পুলিশ বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেটি ন্যূনতম পরিচালনাগত মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা ও জীবনযাপন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছেন তার দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেইমান খান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ইমরান খানের পুরোনো বিরোধের কারণে তাদের বাবার সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কারাগারে চিকিৎসা ও যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করে ইমরান খানকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং পাকিস্তান সরকার অভিযোগগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কাসিম ও সুলেইমান জানান, তাদের বাবা ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। ইমরান খান বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। দুই ছেলে বলেন, তারা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বাবার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি। যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টাও তারা করছেন, কিন্তু তাদের ভিসা এখনো দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা। সুলেইমানের অভিযোগ, ইমরান খানকে প্রায় ৬ ফুট বাই ৮ ফুট আয়তনের একটি কক্ষে একাকী রাখা হয়েছে এবং তার সঙ্গে মানবিক যোগাযোগও সীমিত। কয়েক মাস ধরে তাকে নতুন বই দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। পরিবারের সদস্য কিংবা নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান খানের চোখের সমস্যার দীর্ঘ সময় যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশ নষ্ট হয়েছে। ইমরান খানের চোখের চিকিৎসা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত চিকিৎসককে যুক্ত করার কথা জানিয়েছিল। একই আদেশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও ছিল। তবে আদালতের ওই নির্দেশের পর ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়নি। তাকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এর আগে সুপ্রিম কোর্টের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদনও করেছিল এবং ইমরান খানের চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালেই করা যেতে পারে বলে যুক্তি দিয়েছিল। ইমরান খানের দুই ছেলে তাদের বাবার অবস্থার জন্য বিশেষভাবে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন। সুলেইমানের দাবি, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মুনিরকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। মুনির ২০২২ সালে সেনাপ্রধান হওয়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর হয়েছে বলেও তার ছেলেরা দাবি করেন। তবে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার এই অভিযোগ তাদের বক্তব্যের অংশ এবং এর পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ইমরান খানের কারাবাসের পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ইমরান খানের দীর্ঘমেয়াদি আটক নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তুলেছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকও তার একাকী কারাবাস ও আটক পরিস্থিতি মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এসব মন্তব্যও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মূল্যায়ন; ইমরান খানকে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ হিসেবে এগুলোকে উপস্থাপন করা যায় না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ইমরান খানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নিষ্ঠুরতা কিংবা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে তৈরি খাবার, বাদাম, বোতলজাত পানি, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে বলেও সরকার জানিয়েছে। সরকার আরও বলেছে, তাকে শাস্তিমূলকভাবে একাকী বন্দি রাখা হয়নি। ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে এসেছে। আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে তার পরিবার ও রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে আসছে, বাস্তবে যোগাযোগের সুযোগ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। ইমরান খানের দুই ছেলে জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হতে চান না এবং বাবার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্ব নেওয়ারও আগ্রহ নেই। তাদের মূল উদ্বেগ বাবার স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরে ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন। ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাই দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তার ছেলেরা কারাগারের পরিবেশ, চিকিৎসা এবং যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং এর পেছনে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত বিরোধ কাজ করছে বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে ইমরান খানকে প্রয়োজনীয় খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত বিরোধের অভিযোগটি বর্তমানে ইমরান খানের ছেলেদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে; আদালত বা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কয়েকজন ননসিটিজেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা কিংবা মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে গ্রিন কার্ডধারী এক ব্যক্তিও রয়েছেন। সেপ্টেম্বর ১৫ তারিখে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, ছয়জনকে ১০ সেপ্টেম্বর এবং আরও একজনকে ১১ সেপ্টেম্বর অবৈধ ভোট বা মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ননসিটিজেনদের ভোট দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ আগস্ট ৩০ বছর বয়সী এক হন্ডুরাসের নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীকে ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে নিবন্ধনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ফরমে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে প্রসিকিউটরদের নথিতে বলা হয়েছে, তিনি শেষ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে ভোট দেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবি ও প্রতারণামূলক ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসেও একটি মামলায় একজন চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে অন্য এক গ্রিন কার্ডধারী চীনা নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। কানসাসে ১০ সেপ্টেম্বর আরেক পেরুভিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন জেনেও নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন এবং প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নির্বাচনে ব্যালট দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। গ্রিন কার্ডধারীরা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তারা মার্কিন নাগরিক নন। ফলে তারা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, কোনো গ্রিন কার্ডধারী ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিলে বা শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত কোনো স্টেট বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিলে তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসেও গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। তবে স্থানীয় নির্বাচনের নিয়ম সব জায়গায় এক নয়। কিছু স্থানীয় এলাকায় আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে ননসিটিজেনদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভোট দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি কোন ধরনের নির্বাচনে ভোট দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় আইনে কারা ভোট দিতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মামলাগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী আইন প্রয়োগ জোরদারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। ২০২৬ সালের মে মাসে বিচার বিভাগের অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল একটি মতামতে জানায়, ননসিটিজেনদের বেআইনি ভোট শনাক্ত করার প্রচেষ্টায় স্টেটভিত্তিক ভোটার তালিকা সংগ্রহ ও তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে শেয়ার করার আইনি কর্তৃত্ব বিচার বিভাগের রয়েছে। তবে এসব মামলার সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফেডারেল প্রসিকিউশনগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র বা ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট কেবল অভিযোগের বিবরণ দেয় এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনের চোখে নির্দোষ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় দেশে ফিরে আসা অনেক প্রবাসী আর ইউএইতে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরি, ব্যবসা ও পরিবারের সঙ্গে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্রে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৪ হাজার ৮০০ জনে পৌঁছানোর কথা জানা গেলেও, ইউএই কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ ছুটিতে বা পারিবারিক কারণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা ইমেইল, মোবাইল মেসেজ অথবা ইউএইতে থাকা স্পনসরের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাদের ভিসা বাতিল হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, বাতিলের নোটিশে এর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এমনই একজন আবুল কালাম আজাদ। প্রায় ২৭ বছর ইউএইতে থাকার পর তিনি গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। ২৪ জুলাই ইমেইলের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তার দাবি, ওই বার্তায় ভিসা বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ভুক্তভোগী প্রবাসীদের একটি কর্মসূচিতেও অংশ নেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে শুধু শ্রমিক নন, ইউএইতে ব্যবসা ও দোকান পরিচালনাকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের পরিবার ও ব্যবসা ইউএইতেই রয়েছে। ভিসা বাতিল হওয়ায় তারা দেশে আটকে পড়েছেন এবং নিজেদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে ইউএইর কাছে তুলেছে এবং বাতিল হওয়া ভিসাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীদের একটি অংশ সরকারকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও দিয়েছে। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৬২৬ জন বলা হয়েছিল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তখন জানিয়েছিলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ঘটছে না এবং পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপালসহ অন্য দেশের নাগরিকরাও এ ধরনের ভিসা বাতিলের মুখে পড়েছেন। তখন ৪১৭ জনের তথ্য ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে ভিসা নবায়নের জন্য পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে আগস্টের শুরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ৯৮৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য যাচাই করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠায়। তাদের ভিসা বাতিলের কারণ, পুনর্বহালের প্রক্রিয়া এবং ইউএইতে থাকা ব্যবসা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। ভিসা বাতিলের কারণ নিয়ে এখনো সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি ইউএইতে ভিসা ও কাগজপত্রের যাচাই আরও কঠোর হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভিসা নবায়নে দেরি, কাগজপত্রের সমস্যা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব কারণই যে ভিসা বাতিলের সরাসরি কারণ, তা তিনি দাবি করেননি। ভুক্তভোগী প্রবাসীরা সরকারকে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে তাদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মাসে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা এবং ইউএইতে ফেরা সম্ভব না হলে বিকল্প দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশের জন্য ইউএই দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ১৯৭৬ সালে দেশটিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান শুরু হওয়ার পর গত কয়েক দশকে সেখানে বড় একটি বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। ফলে ভিসা বাতিলের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চাকরি ও ব্যবসার ওপর নয়, তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রবাসী অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন সাত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। মঙ্গলবারের ভোটে ২২০-২০৪ ব্যবধানে ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনটি পাস হয়। এটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা জোরদার করার তৃতীয় হাউস উদ্যোগ। রেজল্যুশনটি ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে হাউসে পাস হয়। এতে ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনের ৫(সি) ধারার আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন ও মিত্রদের ঘাঁটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে রেজল্যুশনে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। রেজল্যুশনের পক্ষে ভোট দেওয়া সাত রিপাবলিকান হলেন কেনটাকির থমাস ম্যাসি, মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, সাউথ ক্যারোলিনার ন্যান্সি মেস, আইওয়ার মারিয়্যানেট মিলার-মিক্স এবং আইওয়ার জ্যাক নান। ম্যাসি, ব্যারেট, ডেভিডসন ও ফিটজপ্যাট্রিক আগের দুটি একই ধরনের রেজল্যুশনেও সমর্থন জানিয়েছিলেন। মেস, মিলার-মিক্স ও নান এবার প্রথমবারের মতো পক্ষে ভোট দেন। হাউসের সরকারি ভোটের হিসাবে রেজল্যুশনের পক্ষে ২১৩ জন ডেমোক্র্যাট ও সাতজন রিপাবলিকান ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ২০৩ জন রিপাবলিকান ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য। মোট ৯ জন ভোট দেননি। রেজল্যুশনটির পক্ষে থাকা ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে ছিলেন ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি শেথ মলটন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে যারা রেজল্যুশনের বিরোধিতা করেছেন, তাদের অনেকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চলমান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আইওয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি জ্যাক নান ভোটের পর বলেন, তিনি আরেকটি অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধে সমর্থন দেবেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এটি হাউসে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তৃতীয় ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন। জুন ও জুলাইয়েও একই ধরনের উদ্যোগ পাস হয়েছিল। তবে আগের রেজল্যুশনগুলো প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। নতুন রেজল্যুশনটি সিনেটে উঠবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। ইরান যুদ্ধের আর্থিক প্রভাবও কংগ্রেসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, আগস্ট ১ পর্যন্ত ছয় মাসের যুদ্ধের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে এবং প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। তবে হাউসের এই ভোটের পরই সামরিক অভিযান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। রেজল্যুশনটির কার্যকর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সিনেটের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাহী বিভাগের অবস্থানের ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন ওয়ার পাওয়ার্স আইনের প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং এই ধরনের রেজল্যুশনের আইনি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খুচরা বিক্রেতা কস্টকো কির্কল্যান্ড সিগনেচার পূর্ণ সিনথেটিক মোটর অয়েলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের কেনার পরিমাণও সীমিত করেছে। ৫ কোয়ার্টের দুটি বোতলের প্যাকেট এখন প্রায় ৫৮ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত বছর একই পণ্যের দাম ছিল প্রায় ৩০ ডলার। কস্টকোর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, কির্কল্যান্ড সিগনেচারের ৫ কোয়ার্টের দুই বোতলের প্যাক এখন প্রতি সদস্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুটি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। অর্থাৎ একবারে ১০ কোয়ার্ট মোটর অয়েল কেনা গেলেও একই সদস্য প্রতি সাত দিনে এর বেশি কিনতে পারবেন না। শুধু কির্কল্যান্ড নয়, কস্টকোতে মোবিল ১-এর পূর্ণ সিনথেটিক মোটর অয়েলও কেনার সীমার আওতায় এসেছে। ১ কোয়ার্টের ছয় বোতলের প্যাকেটের দাম প্রায় ৪৪ ডলার এবং একজন সদস্য সর্বোচ্চ পাঁচটি প্যাক কিনতে পারবেন। মোটর অয়েলের দাম বাড়ার পেছনে বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। সিনথেটিক মোটর অয়েল তৈরিতে ব্যবহৃত গ্রুপ থ্রি বেস অয়েল মূলত অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের বেস অয়েলের ৪০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সরবরাহ বিঘ্নের কারণে ওই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় মোটর অয়েলের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির জ্বালানি ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের দামও বেড়েছে। মোটর অয়েলের বাড়তি দাম বিশেষ করে যেসব গাড়ির মালিক নিজেরাই তেল পরিবর্তন করেন, তাঁদের খরচ বাড়াতে পারে। কস্টকোর তুলনামূলক কম দামের পণ্য হিসেবে পরিচিত কির্কল্যান্ড মোটর অয়েলের দাম বাড়ায় নিয়মিত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণেও অতিরিক্ত খরচ গুনতে হতে পারে। কস্টকো কেন দাম বাড়িয়েছে এবং কেনার সীমা নির্ধারণের বিষয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ফক্স বিজনেসের মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।
মিশিগানের ২৪ বছর বয়সী গ্রেস শিমচ্যাকের গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার কথা ছিল ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩। এর তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিকল্পনার আগেই ৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর আলো দেখে মেয়ে অ্যানাবেল। তবু দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত ডিগ্রির গুরুত্বপূর্ণ দিনটি গ্রেস হাতছাড়া করতে চাননি। সন্তান জন্মের মাত্র ১০ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর তিনি মিশিগানের বিগ র্যাপিডসে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে হাজির হন। সঙ্গে ছিল তার সদ্যোজাত মেয়ে অ্যানাবেল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। সমাবর্তনে গ্রেস তার ছোট মেয়েকে একটি বেবি ক্যারিয়ারে নিজের শরীরের সঙ্গে রেখে তার ওপর গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরেছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অ্যানাবেল ঘুমিয়েই ছিল। গ্রেসের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেস ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ম্যাগনা কাম লডে সম্মান পান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি মিশিগানের ট্রাভার্স সিটিতে তিন বছর বয়সী শিশুদের জন্য একটি স্টেট ফান্ডেড প্রি-স্কুলে ফুলটাইম শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্রেস জানিয়েছিলেন, ডিগ্রির জন্য তিনি দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাই অ্যানাবেল নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নিলেও সহপাঠীদের সঙ্গে মঞ্চে হেঁটে ডিগ্রি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। একই সঙ্গে সদ্যোজাত মেয়েকে নিজের কাছ থেকে দূরে রাখতেও প্রস্তুত ছিলেন না। গ্রেসের এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি পরে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রকাশ করে। ছবিতে তাকে গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়, আর গাউনের ভেতরে তার ছোট্ট মেয়ে অ্যানাবেল। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক মনোযোগ পায়। গ্রেস পরে জানান, তার এই অভিজ্ঞতা অন্য মা-বাবাকে পড়াশোনা শেষ করার স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করুক, সেটিই তিনি চান। ২০২৪ সালে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজের গল্প দেখে অন্যরা যেন বুঝতে পারেন, জীবনের নানা দায়িত্বের মধ্যেও নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করা সম্ভব।
সান দিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সান দিয়েগো শাখা সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির (এসডিএসইউ) ক্রিমিনাল জাস্টিস স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এই আয়োজনে শুধু মতবিনিময় নয়, বরং ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা, অপরাধ তদন্ত ও ফেডারেল সার্ভিসে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এফবিআইয়ের কার্যক্রম ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়েগোর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। ব্যুরোতে কী ধরনের কাজ করা হয়, বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কী ধরনের ক্যারিয়ারের সুযোগ রয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করতে পারে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা এফবিআইয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ব্যুরোর বিভিন্ন পেশাগত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে এফবিআই বা একই ধরনের ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থায় কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে এফবিআইয়ের এভিডেন্স রেসপন্স টিমের কাজ সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়। অপরাধস্থলে কীভাবে আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং একটি অপরাধ তদন্তে এসব প্রমাণ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যুরোর কাজের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। এফবিআই সান দিয়োর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গঠন, ব্যুরোর কাজের ধরন এবং অপরাধ তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে চান। কর্মকর্তারা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পেশাজীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও কৌতূহলকে উৎসাহিত করেন। এফবিআই সান দিয়ো এক পোস্টে জানায়, তরুণ ও আগ্রহী ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরে তারা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল প্রশ্ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করা হয়। এ ধরনের কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও একটি ফেডারেল তদন্ত সংস্থার কাজ, পেশাগত পরিবেশ এবং সম্ভাব্য ক্যারিয়ার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।