ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় ভর্তিতেও আসছে নিষেধাজ্ঞা
ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তি বন্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে রাজ্য শিক্ষা বোর্ডে আলোচনা হয়েছে। নতুন নিয়মটি অনুমোদিত হলে এসব কর্মসূচিতে ভর্তির আগে শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অথবা বৈধভাবে দেশটিতে থাকার প্রমাণ দিতে হবে।
প্রস্তাবিত নিয়মটি পোস্টসেকেন্ডারি ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষা বা সিটিই কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর আওতায় ক্যারিয়ার সার্টিফিকেট, অ্যাপ্লাইড টেকনোলজি ডিপ্লোমা, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স ও সায়েন্সের কিছু অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং ডুয়াল এনরোলমেন্ট রয়েছে।
এসব কর্মসূচিতে তথ্যপ্রযুক্তি, মেকানিক্স, এইচভিএসি, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, পরিবহন, পর্যটন ও নির্মাণসহ বিভিন্ন পেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে নিয়মটি কার্যকর হলে অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের এসব পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে।
ফ্লোরিডা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যে পোস্টসেকেন্ডারি কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ১২ হাজার শিক্ষার্থী ছিল। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর ১ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি ডিগ্রি, সার্টিফিকেট ও শিল্পভিত্তিক সনদ দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগটি ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের সরকারি শিক্ষায় প্রবেশ সীমিত করার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ। এর আগে রাজ্যের স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ২৮টি পাবলিক কলেজে অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধের নিয়ম অনুমোদন করেছে। রাজ্যের ১২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে কি না, সেটি আলাদা বিষয়। ফ্লোরিডা প্রশাসনিক বিধির নথিতে নিয়ম ৬এ-১০.০২৪৬-কে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং ১৬ সেপ্টেম্বরের স্টেট বোর্ড অব এডুকেশনের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে এটি অনুমোদনের জন্য রাখা হয়েছিল।
আগস্টে প্রকাশিত প্রস্তাবের পর ২১ দিনের জনমত গ্রহণের সময়সীমা ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে নিয়মটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল। তাই “চূড়ান্তভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে” না বলে আপাতত “ভর্তি বন্ধের উদ্যোগ” বা “প্রস্তাব” বলা বেশি নির্ভুল।
সোর্স: ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের জীবনে যেকোনো সময় আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, আইসিই-সংক্রান্ত বিষয়, ড্রাইভিং বা ট্রাফিক মামলা, গাড়ি দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ক্রিমিনাল কেস, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ব্যবসায়িক জটিলতায় দ্রুত একজন যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। তাই জরুরি মুহূর্তের অপেক্ষা না করে নিজের ফোনে অন্তত কয়েকজন অ্যাটর্নি বা ল ফার্মের নম্বর আগে থেকেই সেভ করে রাখা কাজে আসতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি বা বাংলাভাষী কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন অ্যাটর্নি ও ল ফার্মের প্রকাশ্য যোগাযোগের তথ্য তুলে ধরা হলো। এটি কোনো অ্যাটর্নির সেবা, দক্ষতা বা ফলাফলের র্যাংকিং নয়। কোনো আইনি বিষয়ে যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাটর্নির বর্তমান লাইসেন্স, কোন ধরনের মামলা তিনি নেন এবং আপনার স্টেটে প্র্যাকটিস করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইনি সহায়তার জন্য অ্যাটর্নি মওমিতা রহমানের ল ফার্মের অফিস নম্বর ২১২-২৪৮-৭৯০৭। নিউইয়র্কে তার অফিস এবং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ভাষায় সেবা দেন এবং ইমিগ্রেশন আইনের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। অ্যাটর্নি নাসরিন মোজ্নুরের ব্রঙ্কস অফিসের ফোন ৭১৮-৫১৮-০৪৭০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯। অ্যাটর্নি মীর এম. মিজানুর রহমানের ম্যানহাটন অফিসের ফোন ২১২-৭৩২-২২২০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৬২২-৭৯৬৯। এসব অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি সেবা দিয়ে থাকেন। নিউইয়র্কের আরেকটি বাংলাদেশি কমিউনিটিকেন্দ্রিক ল ফার্ম খায়রুল বাশার ল-এর অফিস ফোন ২১২-৪৬৪-৮৬২০ এবং ৭১৮-৭৭৫-৮৫০৯। ফার্মটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন, ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন, সিটিজেনশিপ, আইসিই ডিটেনশন, বন্ড এবং বিভিন্ন ইমিগ্রেশন কেস নিয়ে তারা কাজ করে। জ্যাকসন হাইটসের রুমা জুননাতুল ল অফিসের প্রকাশিত ফোন নম্বর ৫১৬-৫৪৯-৬৭০৭ এবং ৭১৮-৪২৭-১২৩৩। প্রতিষ্ঠানটি ইমিগ্রেশন ও সিভিল লিটিগেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এবং বাংলা ভাষায় সহায়তার কথা উল্লেখ করেছে। জর্জিয়ায় আটলান্টা মেট্রো এলাকার মনির মেহরান ল-এর ডোরাভিল অফিসের ফোন ৪৭০-৮০০-৯২১৩। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সেবা বিভিন্ন স্টেটের ক্লায়েন্টদের দেওয়া হয়। তবে পার্সোনাল ইনজুরি সংক্রান্ত কাজ জর্জিয়াকেন্দ্রিক এবং অন্যান্য স্টেটের স্টেট ল-এর ক্ষেত্রে লাইসেন্সের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন করার সময় নিজের মামলার ধরন ও স্টেটের কথা পরিষ্কারভাবে জানানো জরুরি। মিশিগানের হামট্রামকে অ্যাটর্নি রুহুল এম. মুমেনের অফিসের ফোন ৩১৩-৮৯৩-২৫০০। তার ফার্মের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে সেবা দেন এবং অটো অ্যাকসিডেন্ট, পার্সোনাল ইনজুরি, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, ডিইউআইসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। মিশিগান স্টেটের অ্যাটর্নি রেকর্ড ও প্রকাশিত পেশাগত তথ্যেও তার লাইসেন্সের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অ্যাটর্নি জুবাইদা ইকবালের প্রকাশ্য যোগাযোগ নম্বর ৪০৭-৯৩০-১৫৫২। ফ্লোরিডা বারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ফ্লোরিডায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি। তার প্রকাশ্য প্রোফাইলে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে কাজের তথ্য রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে তিনি সেটি গ্রহণ করছেন কি না, ফোনে আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। টেক্সাসের হিউস্টনে অ্যাটর্নি মনিকা উদ্দিন আহমাদ, জাভিতসানোস অ্যান্ড মেনসিং-এর সঙ্গে কাজ করেন। টেক্সাসের ফেডারেল কোর্টের অ্যাটর্নি রেকর্ডে তার অফিসের ফোন ৭১৩-৬০০-৪৯১৩ এবং হিউস্টন অফিসের ঠিকানা ১২২১ ম্যাককিনি স্ট্রিট, স্যুট ২৫০০ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ফার্মের তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তার মূল প্র্যাকটিস কমার্শিয়াল লিটিগেশন ও ব্যবসায়িক বিরোধকেন্দ্রিক। তাই ইমিগ্রেশন বা ব্যক্তিগত কোনো মামলার জন্য যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তারা গ্রহণ করেন কি না জেনে নেওয়া উচিত। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যাটর্নি ওমর এইচ. বেঙ্গালির অফিস গিরার্ড বেঙ্গালি, এপিসি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ড অনুযায়ী তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং অফিসের ফোন ৩২৩-৩০২-৮৩০০। অফিসের ঠিকানা ৩৫৫ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, স্যুট ২৪৫০, লস অ্যাঞ্জেলেস। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যায় যোগাযোগের আগে তার ফার্ম সেই ধরনের মামলা গ্রহণ করে কি না নিশ্চিত করা উচিত। ওয়াশিংটন স্টেটের সিয়াটলে অ্যাটর্নি তাহমিনা ওয়াটসনের ওয়াটসন ইমিগ্রেশন ল-এর ফোন ২০৬-২৯২-৫২৩৭। ওয়াশিংটন স্টেট বারের প্রকাশিত রেকর্ডে তার লাইসেন্স সক্রিয় এবং প্র্যাকটিস এরিয়া ইমিগ্রেশন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। একই রেকর্ডে বাংলা ভাষাও তার জানা ভাষার মধ্যে রয়েছে। ইমিগ্রেশন, ডিপোর্টেশন ডিফেন্স, গ্রিন কার্ড, সিটিজেনশিপ, ফ্যামিলি ওয়ার্ক ভিসাসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন বিষয়ে তার ফার্ম কাজ করে। মিশিগানে আরেকজন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর অফিসের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর ১-৮৬৬-৬৬৪-৬৫২৯ এবং সরাসরি নম্বর ৯১৭-২৮২-৯২৫৬। তার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি মিশিগান স্টেট ও যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের জন্য অনুমোদিত এবং নিউইয়র্কে তার কাজ ইমিগ্রেশন বিষয়ে সীমিত। অন্য স্টেটের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নিদের মাধ্যমে কাজ করার তথ্যও তার অফিস উল্লেখ করেছে। আইনি ঝামেলা হলে শুধু পরিচিত কারও পরামর্শের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত যোগ্য অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন মামলার ক্ষেত্রে নোটারি, ডকুমেন্ট প্রিপেয়ারার বা তথাকথিত ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টকে অ্যাটর্নি ধরে নেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কোর্ট ও বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলের সামনে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি অথবা অনুমোদিত অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভ। নোটারি, ট্রাভেল এজেন্ট বা সাধারণ ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট সেখানে আইনগত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তাদের জন্যও বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন রিভিউ অফিস স্বীকৃত সংস্থা ও অ্যাক্রেডিটেড রিপ্রেজেন্টেটিভদের তালিকা প্রকাশ করে। এসব সংস্থার কিছু কম খরচে বা প্রো বোনো আইনি সহায়তা দিতে পারে। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করে যে তালিকায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বা অ্যাটর্নিকে তারা ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ বা অনুমোদন করে না। প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি হতে পারে নিজের ফোনে কয়েকজন অ্যাটর্নির নম্বর আলাদা করে সেভ করে রাখা। তবে নম্বর সেভ করার পর সুযোগ থাকলে একবার অফিসে ফোন করে নম্বরটি বর্তমান কি না, অফিস কোন ধরনের মামলা নেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং প্রাথমিক কনসালটেশনের জন্য কোনো ফি রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রকাশ্যে থাকা ফোন নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে এবং কোনো অ্যাটর্নি সব ধরনের মামলা নাও নিতে পারেন। তাই কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে প্রথমে নিজের স্টেটের বার অ্যাসোসিয়েশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি লাইসেন্স রেকর্ডে অ্যাটর্নির বর্তমান স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। এই তালিকার উদ্দেশ্য কাউকে নির্দিষ্টভাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া নয়, বরং প্রবাসীদের জরুরি সময়ে দ্রুত আইনি সহায়তার যোগাযোগ খুঁজে পেতে প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করা।
কাবুল বিমানবন্দর হা/মলায় আই এস আই এস-কে সহায়তার দায়ে মোহাম্মদ শরিফুল্লাহকে ২০ বছরের কারাদণ্ড
নিউইয়র্কে তিন মাসে তিন ক্যাবচালকের মৃত্যু, প্রবাসী চালকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ
ফ্লোরিডায় অনিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় ভর্তিতেও আসছে নিষেধাজ্ঞা
মিশিগানের ৬২ বছর বয়সী এমোরি ম্যাথিউজকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজের মালিকানাধীন ডেট্রয়েটের একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেওয়া হয়নি এমন সাইকোথেরাপি সেবার বিল মেডিকেয়ারে জমা দেওয়া হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এমোরি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি মেডিকেয়ারে জমা দেন। এমন রোগীদের নামেও বিল করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কর্মীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। এমোরি ম্যাথিউজ এর আগে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবৈধ ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে মেডিকেয়ারে বিল করার ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার বিষয়টি গোপন করে তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই মামলায় তাঁর স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজ আগেই স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এমোরি ম্যাথিউজের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ
গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ ১২ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার ২
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সুদের হার বাড়াচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ, ঋণগ্রহীতাদের খরচ বাড়লেও লাভ সঞ্চয়কারীদের
মার্কিন বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ছাড়াই ইমিগ্রেশন, বিদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক চেক
নিউইয়র্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হলেও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে আরও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি। কোথাও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি, কোথাও মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা, আবার কোথাও ব্যবসা ও পেশাজীবী নেটওয়ার্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিবেশ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ভাষা, খাবার, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন অনেকটাই ধরে রাখতে পারছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণে নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টনের মতো মেট্রোপলিটন এলাকার নাম এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তথ্যভিত্তিক ওই তালিকায় আটলান্টিক সিটিও ছিল শীর্ষ ১০-এর মধ্যে। এখানে ‘ছোট বাংলাদেশ’ কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নাম নয়। এটি এমন এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, গ্রোসারি, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সেবা মিলিয়ে একটি দৃশ্যমান কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান: নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির কথা উঠলে মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে হ্যামট্রাম্যাকের কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ডেট্রয়েটের পর্যটন সংস্থা ভিজিট ডেট্রয়েটের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাক ও উত্তর ডেট্রয়েট এলাকায় আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মেট্রো ডেট্রয়েটের হিসাব। এলাকাটিতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি গ্রোসারি ও হালাল খাবারের দোকানও রয়েছে। হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধর্মীয় অবকাঠামোরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে মাদ্রাসা বা ইসলামিক স্কুলের কার্যক্রমও চালু করা হয়। কন্যান্ট স্ট্রিটে ফ্যামিলি বাজার, মেঘনা বাজার, মারহাবা বাজার ও হেরা ফিশ মার্কেটের মতো দোকানে বাংলাদেশি গ্রোসারি, মসলা, সবজি, হালাল মাংস ও মাছ পাওয়া যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া: লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ সম্ভবত নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা চার ব্লকের এই এলাকাটি ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। এলাকায় রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, আবাসিক এলাকা ও বাংলাদেশি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লিটল বাংলাদেশের রাস্তায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি গ্রোসারি, বিউটি সেলুন, মোবাইলের দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা দেখা যায়। বাংলা ভাষার কথাবার্তা, দেশি খাবারের গন্ধ এবং বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করা দোকান এলাকাটিকে অন্য অনেক আমেরিকান এলাকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। থার্ড স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্য পাওয়া যায়। কিছু ব্যবসায় একই সঙ্গে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন মেট্রো, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড: ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। এই কমিউনিটি শুধু ডিসি শহরে সীমাবদ্ধ নয়; নর্দার্ন ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে। পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক বাংলাদেশি জনসংখ্যা বিশ্লেষণে নিউইয়র্ক ও ডেট্রয়েটের পর ওয়াশিংটন মেট্রোকে বড় বাংলাদেশি কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার এবং এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পেশাজীবীদের শক্ত উপস্থিতি। সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, মসজিদ ও কমিউনিটি সংগঠনও রয়েছে। ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া: পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্লেষণে ফিলাডেলফিয়া মেট্রোতে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশির বসবাসের হিসাব পাওয়া যায়। শহর ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, হালাল খাবারের ব্যবসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই কমিউনিটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আটলান্টা, জর্জিয়া: দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র আটলান্টা মেট্রো। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস এবং বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে আটলান্টা এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারির বিস্তৃত তালিকা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসা ডিরেক্টরিতে রুচি বাংলাদেশি কুইজিন, দেশি স্ট্রিট ফুড, আলিফ ক্যাফে, আল-আমিনসহ একাধিক বাংলাদেশি খাবারের ব্যবসা এবং একাধিক গ্রোসারি ও হালাল মাংসের দোকানের তালিকা রয়েছে। ডোরাভিলের আল-আমিনের ও জমজমের মতো কিছু ব্যবসায় একই ছাদের নিচে বাংলাদেশি খাবার, গ্রোসারি ও হালাল মাংসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একজন বাংলাদেশি পরিবারের জন্য রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দেশি বাজার করা দুটোই একই জায়গায় সম্ভব। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস: টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মেট্রো বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল। এই অঞ্চলের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবার ও গ্রোসারি ব্যবসাও তৈরি হয়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পাশাপাশি টেক্সাসের হিউস্টনেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। হিউস্টন, টেক্সাস: হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। রুপশি বাংলা গ্রোসারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নিজেদের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং মিলনস্থল হিসেবে পরিচয় দেয়। হাইওয়ে ৬ এলাকার এই ব্যবসায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে হিউস্টন মেট্রোতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল। মিয়ামি, ফ্লোরিডা: দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চের একই মেট্রো বিশ্লেষণে মিয়ামিতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির হিসাব পাওয়া যায়। এখানে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, হালাল খাবার, গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে দূরত্বের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ ধরে রাখছেন অনেকে। বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস: নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে বোস্টন মেট্রোতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল। তবে জনসংখ্যার সংখ্যা দিয়ে কমিউনিটির সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বোস্টনে কয়েক দশকের বাংলাদেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি: নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় আটলান্টিক সিটিতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল। এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাসজিদ আল-হেরা নিজেদেরকে আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রথম মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি শিশুদের ইসলামিক স্কুল ও প্রাপ্তবয়স্কদের কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি শুধু জনসংখ্যার হিসাব নয়: যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি নিয়ে কথা বলার সময় শুধু কতজন বাংলাদেশি কোথায় থাকেন, সেই সংখ্যা দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। একটি কমিউনিটি কতটা প্রতিষ্ঠিত, সেটি বোঝার জন্য সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসা, গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। একই বিশ্লেষণে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিকে বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকাভিত্তিক তথ্য দেখায়, নিউইয়র্কের বাইরেও ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, বোস্টন ও আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে। এই এলাকাগুলোর কোথাও হয়তো নিউইয়র্কের মতো বিশাল বাংলাদেশি জনসংখ্যা নেই। কিন্তু দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, বাংলাদেশি বাজার, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান আর বাংলায় আড্ডার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসী জীবনে এসব জায়গা নিজেদের মতো করে একেকটি ‘ছোট বাংলাদেশ’-এর রূপ নিয়েছে। নিউইয়র্ক তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি জীবনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও, বাংলাদেশি আমেরিকানদের গল্প এখন আর একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে হাজার হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে এমন কিছু কমিউনিটি, যেখানে একটি রেস্টুরেন্টের টেবিলে বসে দেশি খাবার খাওয়া, পাশের দোকান থেকে বাংলাদেশের মাছ-মসলা কেনা এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাংলায় কয়েক ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া এখন প্রবাসী জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।
ইসরায়েলের কথামতো মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: ট্রাম্পের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, ২ লাখের সিডিএল বাতিলের ঝুঁকি