- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা সেই বাড়ি এখন আর ট্রাম্প পরিবারের নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনের প্রথম চার বছর কেটেছিল নিউইয়র্কের কুইন্সের যে বাড়িতে, সেটি এবার বিক্রি হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। কুইন্সের জামাইকা এস্টেটস এলাকায় টিউডর ধাঁচের এই বাড়িটি ১৯৪০ সালে নির্মাণ করেছিলেন ট্রাম্পের বাবা ও আবাসন ব্যবসায়ী ফ্রেড ট্রাম্প। একসময় যে বাড়িতে ছোট্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেড়ে ওঠার শুরু, বহু বছর পর সেটিই হয়ে উঠেছিল অবহেলায় পড়ে থাকা একটি পুরোনো বাড়ি। পাঁচ শয়নকক্ষ ও তিন বাথরুমের বাড়িটি দীর্ঘদিন খালি ছিল। একটি পাইপ ফেটে যাওয়ায় বাড়ির ভেতরে পানির ক্ষতি হয়, দেখা দেয় ছত্রাকের সমস্যাও। এমনকি একসময় সেখানে বন্য বিড়ালের একটি দলও আশ্রয় নিয়েছিল। গত বছর বাড়িটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে কিনেছিলেন ডেভেলপার টমি লিন। এরপর প্রায় ৫ লাখ ডলার খরচ করে আট মাস ধরে সংস্কার করেন তিনি। পুরোনো বাড়িটি বদলে যায় আধুনিক আবাসনে। যুক্ত হয় আধুনিক রান্নাঘর, হেরিংবোন কাঠের মেঝে এবং স্পা-ধাঁচের বাথরুমসহ নানা সুবিধা। সংস্কারের পর বাড়িটির দামও বেড়ে যায়। জুলাইয়ে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতার সঙ্গে বিক্রির চুক্তি হয় এবং শুক্রবার রিয়েল এস্টেট ওয়েবসাইটগুলোতে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়। তবে বাড়িটির গল্প শুধু পুরোনো দেয়াল আর নতুন সাজসজ্জার নয়। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৭ সালেও বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল বলে জিলোর তথ্য থেকে জানা যায়। এরপর বাড়িটি ‘ট্রাম্প বার্থ হোম এলএলসি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় যায়। একসময় এটি এয়ারবিএনবিতেও ভাড়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পের জীবন-আকারের কার্ডবোর্ড কাটআউট, তার বই ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’-এর কপি এবং ট্রাম্পের ছবি থাকা ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের একটি প্রচ্ছদও রাখা হয়েছিল। ২০১৯ সালে বাড়িটি আবার বিক্রির জন্য তোলা হয়। তখন দাম চাওয়া হয়েছিল ২৯ লাখ ডলার। শেষ পর্যন্ত কয়েক বছর পর টমি লিন বাড়িটি কিনে সংস্কার করেন এবং এবার সেটি বিক্রি হলো ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে। আজ ট্রাম্পের সেই শৈশবের বাড়ির চেহারা অনেকটাই বদলে গেছে। কিন্তু বাড়িটির দেয়ালজুড়ে রয়ে গেছে এক ভিন্ন সময়ের গল্প—যে সময় নিউইয়র্কের কুইন্সের এই বাড়িতেই জীবনের প্রথম বছরগুলো কাটিয়েছিলেন ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে আবাসন ব্যবসায় নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ট্রাম্প। ম্যানহাটনে নির্মাণ করেন ট্রাম্প টাওয়ার, আর একসময় ব্যবসার জগত থেকে পা রাখেন রাজনীতিতে। শৈশবের সেই পুরোনো ঠিকানা এখন নতুন মালিকের। সময় বদলেছে, বদলেছে বাড়িটির চেহারাও। তবে ট্রাম্পের জীবনের শুরুর গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি তার অতীতের একটি স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির পর প্রবল স্রোতে প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট ভেসে থেকেও প্রাণে বেঁচে গেছে মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশা। শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাছে নৌকাডুবির পর শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছিটকে পানিতে তলিয়ে গেলেও পরে তাকে আবার উদ্ধার করেন মা। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করে। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে জহুরপুরটেক গ্রামের দিকে যাচ্ছিল একটি নৌকা। পদ্মার মাঝনদীতে প্রবল স্রোত ও বাতাসের মধ্যে নৌকাটি ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা পানিতে পড়ে গেলে সবাই নিজেদের মতো করে বাঁচার চেষ্টা শুরু করেন। কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন, কেউ বস্তা, বৈঠা কিংবা ভাসমান অন্য জিনিস আঁকড়ে ধরে স্রোতের মধ্যে টিকে থাকার চেষ্টা করেন। নৌকাডুবির সময় তানিশাকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন তার মা তানিয়া খাতুন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছুটে যায় এবং পানিতে তলিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তানিয়া আবার শিশুটিকে খুঁজে পান। এরপর তিনি দুই পা দিয়ে তানিশাকে আঁকড়ে ধরে পানির ওপর রাখার চেষ্টা করেন। শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখাই তখন পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। তানিশার নানা মো. ইব্রাহিমও নাতনিকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাঁতার জানা ইব্রাহিম স্রোতের মধ্যে এক হাত উঁচু করে তানিশাকে ধরে রাখেন। অন্যদিকে পরিবারের ও নৌকার যাত্রীরা পাটাতন, বস্তা, বৈঠা ও অন্যান্য ভাসমান জিনিসের সাহায্যে নিজেদের ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এভাবে দীর্ঘ সময় তারা পদ্মার স্রোতের সঙ্গে ভেসে যেতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর তারা ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চলে যান। পরে তাদের দেখতে পেয়ে বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামেন। তারা তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে নদী থেকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে যান। উদ্ধার হওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকার কারণে শিশুটিকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে সুস্থ বলে জানান। নৌকাডুবির পর মো. ওয়াসিম নামে ২৩ বছরের এক যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে মো. মোস্তফা নামে ৬০ বছরের আরেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফের সদস্যরা মোট ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং তিনজন শিশু ছিলেন। পরে তাদের দেশে ফেরাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ হয়। রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ফরিদপুর বিওপি ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মো. রাসেল, মো. ইব্রাহিম, মো. সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, সখিনা, নিলুফা, তানিয়া, তার ২০ দিনের শিশু তানিশা, সানাউল্লাহ ও আল আমিন। তারা সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর বকরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। দেশে ফেরার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নৌকাডুবির পর বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেন। পরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। উদ্ধার হওয়া সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে তিনি জানান। তানিশার মা তানিয়া খাতুন ও নানা ইব্রাহিমের ভূমিকার কারণে শিশুটিকে দীর্ঘ সময় স্রোতের মধ্যে ভাসিয়ে রাখা সম্ভব হয় বলে উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে মায়ের হাত থেকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পরও শিশুটিকে আবার খুঁজে পাওয়া এবং পরে নানার হাতে তুলে ধরে রাখা ছিল পুরো ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। পদ্মার প্রবল স্রোতে নৌকাডুবির পর দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার ঘটনা পরিবারটির জন্য ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত ২০ দিনের তানিশাসহ ১০ জন জীবিত ফিরে এসেছেন। তবে একই ঘটনায় ৬০ বছরের মোস্তফা এখনো নিখোঁজ থাকায় স্বজনদের উদ্বেগ কাটেনি। তার সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র : আর টিভি
শৈশবের ক্ষুধার কষ্ট হয়তো ভুলে যাননি তারা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে এগিয়ে এলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের প্রায় ৩০ জন বন্দি। নিজেদের সীমিত অর্থ থেকে তারা সংগ্রহ করেছেন ৩ হাজার ৮১০ ডলার। কানসাসের নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির বন্দিদের এই উদ্যোগের সঙ্গে পরে যুক্ত হন কানসাস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন্সের কর্মীরাও। তারা আরও ৪৫৭ ডলার যোগ করায় মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলার। এই অর্থ দেওয়া হয়েছে নর্টন কমিউনিটি স্কুলস, ইউএসডি ২১১-এর শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষে স্কুল ডিস্ট্রিক্টটির শিক্ষার্থীদের খাবারের হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ডলার বকেয়া ছিল। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সন্তানদের স্কুলে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হলেও অনেক পরিবারের পক্ষে সেই খরচ পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে পারেন নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির ‘রিচিং আউট ফ্রম উইদিন’ বা আরওএফডব্লিউ কর্মসূচির সদস্যরা। এরপর নিজেদের মধ্যে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন তারা। বন্দিদের নিজেদের অর্থ থেকেই আসে ৩ হাজার ৮১০ ডলার। পরে কারেকশনস বিভাগের কর্মীদের দেওয়া অর্থ যোগ হয়ে মোট অনুদান দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলারে। অর্থাৎ স্কুলের মোট বকেয়ার প্রায় ৭১ শতাংশই এই অনুদানের মাধ্যমে পরিশোধে সহায়তা করা সম্ভব হবে। গত ৩ আগস্ট নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন বন্দি স্কুলটির সুপারিনটেনডেন্ট কোরি রয়-এর হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। কোরি রয় জানান, বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় শিশুদের জন্য ইতিবাচক কিছু করার তাদের আগ্রহে তিনি অভিভূত হয়েছেন। অন্যদের জন্য কিছু করার সুযোগ তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচকভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি। এই উদ্যোগের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক হলো, সাহায্যের অর্থ এসেছে এমন মানুষদের কাছ থেকে যাদের নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যও সীমিত। তারপরও স্থানীয় শিশুদের খাবারের বকেয়া মেটাতে নিজেদের হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ তারা তুলে দিয়েছেন। নর্টনের এই ঘটনা শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের খরচ নিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টিই সামনে আনেনি, বরং কারাগারের পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দিরাও কীভাবে সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, তারও একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ তৈরি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোর ওপর সরকারি সমীক্ষার পর ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিস দিয়েছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিস বা শোকজ করা হয়েছে। রোববার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদন, অবকাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, বন্ধের নোটিস পাওয়া ২৫২টি প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নেই। অন্যদিকে শোকজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের অবস্থান ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পর্যালোচনার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, জুনের শুরু থেকে পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় এই সমীক্ষা চালানো হয়। এতে মাদ্রাসাগুলোর অনুমোদন, অবকাঠামো, পরিচালন ব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলো যাচাই করা হয়েছে। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা মাদ্রাসাগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। সমীক্ষায় প্রায় ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিপরীতে প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি বা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন কিংবা অ্যাফিলিয়েশন ছাড়া চলছে বলে প্রশাসনিক তথ্যে উঠে এসেছে। বিশেষ করে খারিজি মাদ্রাসাগুলোর কার্যক্রম ও বৈধতা যাচাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলা ও কলকাতা এলাকার মাদ্রাসাগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন, পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যা, অবকাঠামো এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা হয়েছে। পরে সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল আছে কি না, তা যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্তকারী দলও পাঠানো হয়। প্রশাসনের প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসংখ্যা কম থাকা, নির্ধারিত স্কুল পাঠ্যক্রম থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি এবং প্রশাসনিক নিয়ম না মানার মতো বিষয় উঠে এসেছে। এসব কারণেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জেলা হিসেবে মালদহে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। এরপর উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৩২টি এবং মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় প্রায় ২৫টি করে মাদ্রাসা রয়েছে। এদিকে কয়েকটি মাদ্রাসায় ‘ভারতবিরোধী’ শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে একটি সরকারি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতি রাজমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কিছু প্রতিষ্ঠানে কথিত উগ্রপন্থী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছেন, সব মাদ্রাসাকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যাচাই ও পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে কিংবা সরকারি নিয়ম মানছে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ও আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউ জার্সিতে দায়িত্ব পালনের সময় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা রাজ্য আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে)। মামলাটি ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল গত ২৫ মার্চ ২০২৬ একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজ্য সরকারের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি বাড়ানো। রাজ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমের সময় এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নিউ জার্সি। তবে ২৯ এপ্রিল ডিওজে নিউ জার্সির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। বিচার বিভাগের দাবি, রাজ্য সরকার ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণ করতে পারে না। ডিওজের মতে, মুখ ঢাকার সুযোগ সীমিত করার মতো বিধিনিষেধ ফেডারেল কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এসব নিয়ম তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। মামলাটি নিউ জার্সিতে ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের চলমান মতবিরোধের অংশ। এর আগে রাজ্যের আরেকটি নির্বাহী আদেশ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নিউ জার্সির আইনি বিরোধ হয়েছিল। ওই আদেশে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য সম্পত্তিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রবেশ এবং সেখানে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। তবে ওই মামলায় নিউ জার্সি আদালতের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউ জার্সির ফেডারেল জেলা আদালত রাজ্যের ওই নির্বাহী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে গভর্নর ও রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন মামলাটি অবশ্য ভিন্ন একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—একটি রাজ্য কতটা পর্যন্ত ফেডারেল কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে কর্মকর্তাদের মুখ ঢাকার মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই এখন আদালতের বিবেচনার বিষয়। ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের এই বিরোধ নিউ জার্সির অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিবাসন কার্যক্রমের সময় কর্মকর্তাদের পরিচয়, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে কীভাবে কার্যকর হবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের নোটে বিশেষ ধরনের সিরিয়াল নম্বর থাকলে সেটি অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। একই সংখ্যা বারবার থাকা ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বরের নোট সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এমন নোট নিলামে নিয়মিতই হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। ‘সলিড’ সিরিয়াল নম্বর বলতে এমন সিরিয়ালকে বোঝায়, যেখানে মূল সংখ্যাগুলো একই অঙ্ক দিয়ে তৈরি। যেমন ১১১১১১১১, ৭৭৭৭৭৭৭৭ বা ৮৮৮৮৮৮৮৮। পেপার মানি গ্যারান্টি বা পিএমজি বলছে, সিরিয়ালের শুরুতে থাকা অক্ষর বা প্রিফিক্স বাদ দিলে পুরো নম্বরে একই সংখ্যা পুনরাবৃত্তি হলে সেটিকে সলিড সিরিয়াল বলা হয়। মুদ্রা সংগ্রাহকদের কাছে এ ধরনের নোটের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হলো সিরিয়াল নম্বরটি সহজেই চোখে পড়ে। আমেরিকান নিউমিসম্যাটিক অ্যাসোসিয়েশনের এডওয়ার্ড সি. রোশেট মানি মিউজিয়ামের পরিচালক ডগ মাডের মতে, সলিড সিরিয়াল দেখতে সহজে আলাদা করা যায় বলেই সংগ্রাহকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গাণিতিক দিক থেকে সলিড সিরিয়াল অন্য যেকোনো নির্দিষ্ট সিরিয়ালের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে বেশি বিরল নয়। সিরিয়াল নম্বরগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে তৈরি হলেও একই সংখ্যা আটবার থাকার মতো প্যাটার্ন সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। ফলে বাজারে এমন নোটের জন্য অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দিতে আগ্রহী ক্রেতা পাওয়া যায়। নোটের অবস্থা এর সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ভালো অবস্থায় থাকা নোট, বিশেষ করে যেগুলো প্রায় নতুন বা খুব কম ব্যবহৃত, সংগ্রাহকদের কাছে বেশি মূল্য পেতে পারে। একই ধরনের সিরিয়াল নম্বর থাকলেও ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত নোট এবং ভালো অবস্থার নোটের বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় পার্থক্য হতে পারে। সলিড সিরিয়ালের মধ্যেও ৮ সংখ্যার প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। পিএমজির তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার কাগজের মুদ্রা সংগ্রাহকদের মধ্যে সলিড-৮ সিরিয়ালের বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর একটি কারণ হলো, কিছু সংস্কৃতিতে ৮ সংখ্যাকে সৌভাগ্য ও সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। ফলে ৮৮৮৮৮৮৮৮-এর মতো সিরিয়াল বাড়তি আগ্রহ তৈরি করতে পারে। এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। ২০২৪ সালে হেরিটেজ অকশনে প্রায় নিখুঁত অবস্থায় থাকা ৮৮৮৮৮৮৮৮ সিরিয়ালের একটি ১০০ ডলারের নোট ১৯ হাজার ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয়। অর্থাৎ ১০০ ডলারের অভিহিত মূল্যের তুলনায় নোটটির সংগ্রাহক মূল্য ছিল বহুগুণ বেশি। তবে এই উদাহরণ দেখে সব সলিড সিরিয়াল নোটের মূল্য হাজার হাজার ডলার ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো নোটের সম্ভাব্য দাম নির্ভর করে সিরিয়াল নম্বরের ধরন, নোটের অবস্থা, গ্রেড, সিরিজ এবং সংগ্রাহকদের চাহিদার ওপর। একই ধরনের সিরিয়াল থাকা দুটি নোটও ভিন্ন দামে বিক্রি হতে পারে। সলিড সিরিয়াল ছাড়াও রাডার, রিপিটার, ল্যাডার ও অন্যান্য ‘ফ্যান্সি’ সিরিয়াল নম্বরের নোট সংগ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয়। এসব নম্বর সাধারণ সিরিয়ালের তুলনায় দেখতে আলাদা হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে নোটের সংগ্রাহক মূল্য বাড়তে পারে। তাই হাতে থাকা ডলারের নোট খরচ করার আগে সিরিয়াল নম্বরটি একবার দেখে নেওয়া যেতে পারে। একই সংখ্যা বারবার থাকা কোনো সিরিয়াল চোখে পড়লে সেটিকে সাধারণ নোট হিসেবে খরচ করার আগে সংগ্রাহক বাজারে এর সম্ভাব্য মূল্য যাচাই করা যেতে পারে। তবে শুধু সিরিয়াল দেখেই নির্দিষ্ট দাম ধরে নেওয়া উচিত নয়, কারণ প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে নোটের অবস্থা ও বাজারের চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: নিউজ নেশন
চোখের অস্ত্রোপচার করাই যেখানে বড় দক্ষতার কাজ, সেখানে অপারেশন থিয়েটারের বাইরে ৬২ বছর বয়সী চিকিৎসক ডেভিড মন্টেসান্তি করে দেখিয়েছেন আরও অবিশ্বাস্য এক কীর্তি। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তিনি দৌড়েছেন বিশ্বের অন্যতম কঠিন বোস্টন ম্যারাথনে এবং জয় করেছেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট। পেশায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ মন্টেসান্তির ছোটবেলা থেকেই ছিল বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ। কার্টুনের সুপারহিরো নয়, বরং ল্যাবে কাজ করা বিজ্ঞানীরাই তাকে বেশি আকৃষ্ট করতেন। পরে তিনি বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকিউলার বায়োলজিতে পিএইচডি করেন এবং শেষ পর্যন্ত চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। দৌড়ও তার দীর্ঘদিনের নেশা। তার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে অন্তত একটি করে ম্যারাথনে অংশ নেওয়া। গত এপ্রিল মাসে সেই তালিকায় যোগ হয় বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ম্যারাথনগুলোর একটি বোস্টন ম্যারাথন। তবে ম্যারাথন শেষ করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে রওনা হতে হয় অন্য এক অভিযানে—মাউন্ট এভারেস্টে ওঠার জন্য। এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন অবশ্য তার বহু বছরের। স্কুলে এক শিক্ষক একদিন বলেছিলেন, সবাই জীবনে অনেক কিছু হতে পারে, তবে সম্ভবত কেউই এভারেস্টে উঠতে পারবে না। সেই কথাই ছোটবেলা থেকে মন্টেসান্তির মনে গেঁথে যায়। পরে স্ত্রী ও অন্য পর্বতারোহীদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্বতে ওঠার অভিজ্ঞতা তাকে আরও বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস দেয়। এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতিও ছিল কঠিন। ভারী সরঞ্জাম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিঁড়ি বেয়ে অনুশীলন করেছেন তিনি। কম অক্সিজেনের পরিবেশের সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে বিশেষ উচ্চতা-অনুকরণকারী তাঁবুতেও ঘুমিয়েছেন। ২০ এপ্রিল সকালে বোস্টন ম্যারাথনে অংশ নেন মন্টেসান্তি। ২৬.২ মাইলের দৌড় শেষ করতে তার সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। এরপর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে শুরু হয় এভারেস্ট অভিযান। পর্বতের পথে সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশগুলোর একটিতে প্রায় ১৫০ ফুট গভীর খাদ পার হতে পরপর পাঁচটি অ্যালুমিনিয়ামের মই ব্যবহার করতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযানের পর তিনি পৌঁছে যান এভারেস্টের চূড়ায়। মন্টেসান্তির দাবি, তিনি সম্ভবত প্রথম ব্যক্তি যিনি একই এক মাসের মধ্যে বোস্টন ম্যারাথন দৌড়েছেন এবং মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন। তবে এত বড় কীর্তিকেও জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত মনে করেন না তিনি। এক দশকেরও বেশি আগে পেরুর আমাজন অঞ্চলে একটি চিকিৎসা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন মন্টেসান্তি। সেখানে অন্ধত্বের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা স্থানীয় মানুষের চিকিৎসা দিতে গিয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীর চোখে ছানি অস্ত্রোপচার করেছিলেন তিনি। অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই সেই অস্ত্রোপচার হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর মেয়েটি মায়ের দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়ায় এবং হেঁটে তার কাছে যায়। সেই মুহূর্তে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। মন্টেসান্তির কাছে সেটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আর এখন ৬২ বছর বয়সেও থেমে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই তার। সামনে কী করবেন—এই প্রশ্নের উত্তরে তার সহজ কথা, “আরও হাজার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করব, আর আনন্দ নিয়ে এগিয়ে যাব।”
গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি বিমানের জানালা মাঝ আকাশে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় যাত্রী লুবিশা কারোভিচের শরীরের অংশ বিমানের বাইরে চলে গিয়েছিল - এমন দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও’লিয়ার। তাঁর দাবি, যাত্রীটি জানালার দিকে প্রবলভাবে টেনে নেওয়া হলেও তাঁর শরীরের কোনো অংশ বিমানের বাইরে যায়নি। ঘটনাটি ঘটে ১০ জুলাই ২০২৬, থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিনজেনগামী রায়ানএয়ার ফ্লাইটে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি-র প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭-৮এএস বিমানের ডান ইঞ্জিনের একটি ফ্যান ব্লেড ভেঙে যায়। ভাঙা অংশ বিমানের কাঠামো ভেদ করে কেবিনের একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কেবিনের চাপ কমে যায়। এ ঘটনায় ৬১ বছর বয়সী কারোভিচ গুরুতর আহত হন। এনটিএসবি জানিয়েছে, বিমানে থাকা ১৫৪ জনের মধ্যে তিনিই গুরুতর আহত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ঘাড় ও কাঁধে আঘাত এবং শরীরে ঘর্ষণজনিত ক্ষত হয়। বিমানটি জরুরি অবতরণ না করে নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে যায়। ঘটনার পর কারোভিচের স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেবিনের চাপ কমে যাওয়ার পর তাঁর মাথা ও কাঁধ জানালার দিকে টেনে নেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী দাবি করেন, তিনি স্বামীর পা ধরে রেখেছিলেন এবং অন্য যাত্রীরাও তাঁকে বিমানের ভেতরে টেনে আনতে সাহায্য করেন। প্রাথমিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতেও ওই সময় তাঁকে আংশিকভাবে জানালার বাইরে চলে যেতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ১০ সেপ্টেম্বর ডাবলিনে রায়ানএয়ারের বার্ষিক সাধারণ সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ও’লিয়ার এই বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, কারোভিচ অবশ্যই জানালার দিকে টেনে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু “তাঁর শরীরের কোনো অংশ জানালার বাইরে যায়নি” - এমনটাই রায়ানএয়ারের অবস্থান। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে যাত্রী আহত হয়েছেন এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। এনটিএসবির প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, জানালা ভেঙে যাওয়ার আগে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা প্রচণ্ড কম্পনের শব্দ অনুভব করেন। এরপর কেবিনে ধোঁয়া বা কুয়াশার মতো কিছু দেখা যায় এবং অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে। বিমানটি তখন উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠেছিল। তদন্তে ইঞ্জিনের ফ্যান ব্লেড ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও দুর্ঘটনার পূর্ণ কারণ নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এনটিএসবি তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং বোয়িং, জিই অ্যারোস্পেস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতে অংশ নিচ্ছে। এনটিএসবি জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। ঘটনার বিষয়ে রায়ানএয়ারের বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় যাত্রী ঠিক কতটা জানালার বাইরে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে। এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি। সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়। এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে। সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার নুদরাত ফারিহা ঐশী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে পাঁচ বছর মেয়াদি পূর্ণ অর্থায়নের পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পিএইচডি করছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি কুতুবদিয়ার তরুণদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। নুদরাত ফারিহা ঐশীর শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশেই। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখানে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতেও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ার সুযোগ রয়েছে। স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ফারিহা। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিজপোর্ট থেকে বিজনেস অ্যানালিটিক্স বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যানালিটিক্স স্নাতকোত্তর কর্মসূচিতে তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি থিসিস বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। এরপর শুরু হয় পিএইচডিতে ভর্তির প্রস্তুতি। গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন বা জিআরইতেও ভালো ফল করেন তিনি। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও আবেদন প্রক্রিয়া শেষে এবার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টে হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। ইউম্যাস অ্যামহার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের পিএইচডি কর্মসূচিতে গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এই কর্মসূচির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত বছরে ৪০ হাজার ডলারের বেশি গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব, ভোক্তার আচরণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরংয়ের সন্তান ফারিহা ঐশী স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল আহমেদের নাতনী। তার বাবা জাফর একজন ব্যাংকার এবং মা লাভলী গৃহিণী। পরিবারের সদস্যরা তার এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। ফারিহার এই সাফল্যের গল্পের আরেকটি দিক হলো, তার একাডেমিক পথটি একাধিক বিষয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বাংলাদেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস অ্যানালিটিক্সে স্নাতকোত্তর এবং এখন হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি করছেন তিনি। ফলে ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যটন গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পিএইচডি শেষে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশ, মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজে লাগাতে চান ফারিহা ঐশী। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই নতুন অধ্যায় সফলভাবে শেষ করে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। কুতুবদিয়ার মতো একটি দ্বীপ উপজেলা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফারিহা ঐশীর যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তার সামনে এখন দীর্ঘ গবেষণার পথ। এই পথ সফলভাবে পেরিয়ে তিনি কী ধরনের গবেষণা ও অবদান রাখেন, সেটিই হবে তার পরবর্তী অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গে গ্যাস স্টেশনে গাড়িতে জ্বালানি নেওয়ার সময় এক নারীর ওপর আগুনের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে এলেনর ক্রফোর্ড নামে ৪১ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ৪০তম অ্যাভিনিউ নর্থের একটি মোবিল গ্যাস স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী তার ভলভো এসইউভিতে জ্বালানি নিচ্ছিলেন। এ সময় ক্রফোর্ড তার কাছে গিয়ে প্রথমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চান। ফোন ব্যবহারের পর তিনি ওই নারীর কাছে টাকা চান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্রফোর্ড লাইটার দিয়ে জ্বালানি প্রজ্বালিত করেন বলে পুলিশের অভিযোগ। আগুন দ্রুত গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভুক্তভোগী গুরুতর আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্বিতীয় মাত্রার দ গ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। পরে তাকে ট্যাম্পা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা এক ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে এসে আহত নারীকে সহায়তা করেন এবং জরুরি সেবায় ফোন করেন। আগুনে ভুক্তভোগীর গাড়ি ও গ্যাস পাম্পের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর ক্রফোর্ডকে গ্যাস স্টেশন থেকে কয়েক ব্লক দূরে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার জামিনের পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ক্রফোর্ড ও ভুক্তভোগী একে অপরকে আগে থেকে চিনতেন না। কেন ক্রফোর্ড এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে। তদন্ত এখনো চলছে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ক্রফোর্ডকে আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় এক কোরিয়ান সহকর্মীর বিয়েতে গিয়ে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক ভারতীয় নারী। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে লাঞ্চ করতে যাওয়ার সময় তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সহকর্মীকে খাবারের হলের প্রবেশপথে আটকে দেওয়া হয়। কারণ, তাঁদের কাছে ছিল না প্রয়োজনীয় টোকেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি গবেষণাগারে কাজ করা ওই ভারতীয় নারী তাঁর কোরিয়ান ল্যাবমেটের বিয়েতে ভারতের ও শ্রীলঙ্কার দুই জ্যেষ্ঠ সহকর্মীর সঙ্গে যোগ দেন। তিনজনেরই এটি ছিল প্রথম কোনো কোরিয়ান বিয়েতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা। বিয়েতে যাওয়ার সময় তাঁদের জানা ছিল, নবদম্পতিকে দেওয়ার জন্য টাকা বা উপহারের খাম সঙ্গে রাখতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা যখন লাঞ্চ হলের দিকে যাচ্ছিলেন, তাঁরাও তাঁদের সঙ্গে সেখানে যান। কিন্তু প্রবেশের সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের কাছে একটি টোকেন দেখতে চান। বিষয়টি প্রথমে তাঁরা বুঝতে পারেননি। নিরাপত্তাকর্মীরা ইংরেজি জানতেন না, আর ওই অতিথিরাও কোরিয়ান ভাষা ভালোভাবে বুঝতে পারছিলেন না। পরে তাঁরা তাঁদের কোরিয়ান ল্যাবমেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তাঁরা জানতে পারেন, ওই বিয়ের ভেন্যুতে অতিথিদের খাবারের হলে যাওয়ার আগে রিসেপশন কাউন্টারে টাকা বা উপহারের খাম জমা দিতে হয়। এর বিনিময়ে দেওয়া হয় একটি টোকেন। সেই টোকেন দেখিয়েই খাবারের জায়গায় প্রবেশ করতে হয়। ভারতীয় নারী ও তাঁর সহকর্মীরা খামটি সঙ্গে রেখেছিলেন, কিন্তু সেটি আগে জমা না দেওয়ায় তাঁদের কাছে টোকেন ছিল না। পরে বিষয়টি তাঁদের কোরিয়ান সহকর্মী বিয়ের ভেন্যুর কর্মীদের বুঝিয়ে বললে সমস্যার সমাধান হয়। তাঁরা রিসেপশন কাউন্টারে খাম জমা দিয়ে টোকেন নেন এবং এরপর লাঞ্চ হলে প্রবেশ করেন। পুরো ঘটনাটি ওই ভারতীয় নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। ভারতীয় বিয়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থার পার্থক্যই তাঁকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ভারতে অতিথিরা সাধারণত নবদম্পতিকে টাকা বা উপহার নিজেদের সুবিধামতো দেন এবং খাবার খাওয়ার জন্য আলাদা কোনো টোকেন দেখাতে হয় না। কোরিয়ান বিয়েতে উপহার দেওয়ার সঙ্গে খাবারের প্রবেশাধিকার যুক্ত থাকায় তাঁর কাছে বিষয়টি বেশ অচেনা মনে হয়েছে। তবে কোরিয়ান বিয়েতে নগদ উপহার দেওয়ার রীতি নতুন নয়। বিভিন্ন বিয়ের ভেন্যুতে অতিথিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ, নাম নথিভুক্ত করা এবং খাবারের জন্য টোকেন বা কুপন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। ভেন্যু ও বিয়ের আয়োজনভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে, তাই এটিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিটি বিয়ের বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।
অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন ডুও বাজারে আসার আগেই বামহাতি ব্যবহারকারীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের এই ফোনে এক পাশে গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রোল, সাইড বাটন ও টাচ আইডি রাখায় বাম হাতে এক হাতে ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। অ্যাপল গত বুধবার প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন ডুও উন্মোচন করে। ফোনটিতে রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ভেতরের ডিসপ্লে এবং ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। ভাঁজ করা অবস্থায় এটি তুলনামূলকভাবে ছোট ও পকেটে বহনযোগ্য। অ্যাপল জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় কন্ট্রোলগুলো ফোনের পাশে রাখা হয়েছে, যাতে সহজে পৌঁছানো যায়। তবে বামহাতি ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, সহজে পৌঁছানোটা আসলে কার জন্য? প্রচলিত আইফোনে স্ক্রিনের বিভিন্ন নেভিগেশন কন্ট্রোল তুলনামূলকভাবে দুই হাতেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ডুওতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কন্ট্রোল এক পাশে স্থিরভাবে রাখা হয়েছে। এমনকি ফেস আইডির পরিবর্তে ব্যবহৃত টাচ আইডিও সাইড বাটনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে যারা বাঁ হাতেই এক হাতে ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ডিভাইসটি ব্যবহারে বাড়তি সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরামে কয়েকজন ব্যবহারকারী বলেছেন, শুধু সফটওয়্যারে একটি ‘লেফট হ্যান্ডেড মোড’ যোগ করলেই সমস্যার পুরো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ টাচ আইডি, বাইরের ডিসপ্লে ও ক্যামেরাসহ ফোনের কিছু হার্ডওয়্যার বিন্যাসও এর সঙ্গে যুক্ত। কিছু ব্যবহারকারী এমনকি বামহাতিদের জন্য আলাদা করে আয়না-নকশার একটি সংস্করণ তৈরির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত অ্যাপল বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা কোনো মোড বা বিশেষ হার্ডওয়্যার সংস্করণের ঘোষণা দেয়নি। অ্যাপল অবশ্য ডুওতে বিভিন্ন Accessibility সুবিধার কথা তুলে ধরেছে। দৃষ্টিশক্তি, চলাফেরা, শ্রবণ, কথা বলা এবং কগনিটিভ চাহিদার ব্যবহারকারীদের জন্য AssistiveTouch, Switch Control, Voice Control ও Eye Tracking-এর মতো ফিচার রয়েছে। তবে বামহাতি ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে ডুওর ডিজাইন ও পাতলা গঠন প্রশংসা পেয়েছে। ভাঁজ খুললে ফোনটি খুব পাতলা এবং বন্ধ অবস্থায় আকারে অনেকটা পাসপোর্টের মতো বলে বর্ণনা করেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তি লেখক ব্রায়ান এক্স. চেন। তবে সাধারণ ক্রেতারা এখনো হাতে নিয়ে ব্যবহার করার সুযোগ পাননি। ফোল্ডেবল ফোনের বাজার এখনো তুলনামূলক ছোট। IDC-এর তথ্য উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মোট মোবাইল বিক্রির ২ শতাংশেরও কম ফোল্ডেবল ফোন। তবে এই বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ নতুন করে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ বামহাতি। অবশ্য কোন হাতে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন, তা সবসময় তার স্বাভাবিক হাত ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। তাই ডুওর নকশা নিয়ে আপত্তি থাকলেও কেউ কেউ বলছেন, ব্যবহারকারীরা সময়ের সঙ্গে এতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারেন। আইফোন ডুও আগামী ২৩ অক্টোবর বাজারে আসার কথা রয়েছে। প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর। ফোনটি হাতে পাওয়ার পরই বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য এর নকশা কতটা বাস্তব সমস্যা তৈরি করে, সেটি আরও পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের জন্য ২০২৭ সালে মাসিক ভাতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। এই হারে বৃদ্ধি হলে গড়ে অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মী মাসে প্রায় ৭৩ ডলার বেশি পেতে পারেন। তবে এই হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়। ২০২৭ সালের কোলা নির্ধারণে চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে শহুরে মজুরি ও দাপ্তরিক কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউ এই হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন চূড়ান্ত কোলা ঘোষণা করবে। এএআরপির হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে সিপিআই-ডব্লিউ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। পরবর্তী মাসগুলোর সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে এএআরপি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কোলা হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে খাদ্য ও জ্বালানির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে চূড়ান্ত হার এই পূর্বাভাসের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। এতে গড়ে অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মীর মাসিক সুবিধা প্রায় ৫৬ ডলার বেড়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা মূলত মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা সমন্বয়ের জন্য দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে মূল্যস্ফীতি কম থাকলে কোনো কোনো বছর এই বৃদ্ধির হার শূন্যও হতে পারে। ২০২৭ সালের কোলা নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি হিসাব অবশ্য এএআরপির পূর্বাভাসের চেয়ে কম। সংস্থাটির ২০২৬ সালের ট্রাস্টি প্রতিবেদন তৈরির সময় ২০২৭ সালের জন্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ কোলা ধরে হিসাব করা হয়েছিল। তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে করা হিসাব, চূড়ান্ত ঘোষণা নয়। তাই এখনই ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পরই ২০২৭ সালের প্রকৃত কোলা নির্ধারণ করা হবে। তবে এএআরপির বর্তমান পূর্বাভাস সঠিক হলে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীরা আগামী বছর মাসে আরও কিছুটা বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
দক্ষিণ ইসরায়েলের কেতজিওত কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর গুরুতর নি র্যা ত নে র অভিযোগের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎসের অনুসন্ধানে কারারক্ষীদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, তদন্ত নথি ও সাক্ষ্য প্রকাশ পেয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ফিলিস্তিনি বন্দি থায়ের আবু আসাবের মৃ ত্যু র ঘটনাও রয়েছে। আবু আসাব তখন কেতজিওত কারাগারে ২৫ বছরের সাজা ভোগ করছিলেন। তদন্ত ও অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সন্ধ্যার গণনার সময় তাঁকে ও একই সেলের অন্য ব ন্দি দে র মা র ধ র করা হয়। পরে আবু আসাব অচেতন হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃ ত্যু হয়। ইসরায়েলি প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মা র ধ রের ফলে তাঁর হৃদ্যন্ত্রে গুরুতর আঘাত লাগে, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃ ত্যু র কারণ হয়। ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে তদন্তে বলা হয়েছে, আবু আসাব এক কারারক্ষীকে গাজা যুদ্ধের কোনো যুদ্ধবিরতি হয়েছে কি না জানতে চেয়েছিলেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই প্রশ্নের পর শিফট কমান্ডার ওয়ালিদ খাতিব বন্দিদের সেলে ঢুকে তাদের ওপর শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেও হা ম লা য় অংশ নেন। ঘটনার সময় ও পরে কারারক্ষীদের মধ্যে আদান-প্রদান করা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাগুলো তদন্তকারীদের হাতে আসে। একটি বার্তায় এক নারী কারারক্ষী তাঁর সঙ্গীকে জানান, আবু আসাবকে মা র ধ রের পর কারাগারের ক্লিনিকে তাঁর ওপর সিপিআর চলছে। পরে আরেক বার্তায় ব ন্দি টির মৃ ত্যু র খবর জানানো হয়। এসব বার্তায় কারাগারে বন্দিদের ওপর মা র ধ র নিয়ে কারারক্ষীদের আলোচনার তথ্যও রয়েছে। হারেৎসের অনুসন্ধানে আরও কিছু বার্তার কথা উঠে এসেছে, যেখানে কারারক্ষীরা নতুন বন্দিদের ওপর মা র ধ রের বর্ণনা দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট এক কারারক্ষী তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেন, কিছু বার্তা তিনি বন্ধুকে প্রভাবিত করার জন্য অতিরঞ্জিত করে লিখেছিলেন। ফলে এসব বিস্তৃত নি র্যা ত নে র দাবি পৃথকভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যাবে না। আবু আসাবের মৃ ত্যু র ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইসরায়েলি প্রসিকিউটররা ১২ জন ইসরায়েলি কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘রেকলেস হোমিসাইড’ বা বেপরোয়া হ ত্যা কা ণ্ডের অভিযোগের পাশাপাশি অন্য বন্দিদের ওপর গুরুতর হা ম লা র অভিযোগও আনা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আবু আসাবের শরীরে হৃদ্যন্ত্রের দেয়ালে গুরুতর ক্ষত ও কয়েকটি পাঁজর ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়। এসব আঘাতের ফলে হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে তাঁর মৃ ত্যু হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কারারক্ষীদের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মামলাটি প্রমাণ করা কঠিন হবে বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনাকে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের আচরণ নিয়ে চলমান বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের পর ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃ ত্যু র ঘটনায় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন ফৌজদারি অভিযোগ তুলনামূলকভাবে বিরল। মামলাটি এখন ইসরায়েলি আদালতে বিচারাধীন।
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হতে পারে, সেই সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে প্রকাশিত একটি ক্রীড়া প্রতিবেদনের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্পাদনা প্রম্পট প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল ক্রীড়া সংবাদের আগে এমন একটি প্রম্পট দেখা যায়, যা সাধারণত এআইকে কোনো লেখা সম্পাদনা বা পুনর্লিখনের জন্য দেওয়া হয়। ফলে পাঠকের সামনে সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ অংশ সরাসরি চলে আসে। ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ, এআই এখন সংবাদ সংগ্রহ, গবেষণা, কপি এডিটিং ও প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এআইয়ের তৈরি বা সম্পাদিত কোনো লেখা সরাসরি প্রকাশের আগে মানবসম্পাদনা ও তথ্য যাচাই জরুরি বলে সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্টরা বারবার সতর্ক করে আসছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগেও আলোচনা হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান বলেছেন, ফাইনাল স্পেনেই হওয়ার কথা। অন্যদিকে মরক্কোও নতুন গ্র্যান্ড স্টাদে হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফাইনালের চূড়ান্ত ভেন্যু নির্ধারণের ক্ষমতা ফিফার হাতে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতিতেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করা হলেও তথ্য যাচাই, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক দায়িত্ব মানুষের হাতেই থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদ তৈরিতে এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির তৈরি কনটেন্ট যথাযথভাবে যাচাই করে প্রকাশ করা। কোনো এআই প্রম্পট, অসম্পূর্ণ খসড়া বা অভ্যন্তরীণ নোট ভুল করে প্রকাশিত হলে তা সংবাদমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের ঘটনাটি তাই শুধু একটি প্রতিবেদনে এআই প্রম্পট প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়। এটি সংবাদকক্ষে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবসম্পাদনা, তথ্য যাচাই এবং প্রকাশের আগে চূড়ান্ত পর্যালোচনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী, ওই দিন নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। এ সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সাইডলাইন মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, এবারের সফরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউইয়র্ক সফরকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠক হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বেশ কয়েকটি সাইডলাইন মিটিংয়ের আয়োজন থাকবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া ও সেখানে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে বিভিন্ন বৈঠক হবে। তবে এ ধরনের বৈঠকের অনেক সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত দুই নেতার বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে যাওয়ার পর কার কার সঙ্গে বৈঠক করবেন, তা চূড়ান্ত হলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে থাকবে। হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে সাইডলাইনে বিশেষ বৈঠকের আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার বড় সুযোগ হবে এই সফর। জাতিসংঘের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। তবে কোন কোন নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে এবং সেগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি কবে চূড়ান্ত হবে, তা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।
নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের ট্রাই-স্টেট এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত এই সতর্কতা কার্যকর থাকবে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত বন্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকবে। এ সময়ে ১ দশমিক ২৫ থেকে ১ দশমিক ৭৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু এলাকায় এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সতর্কতার আওতায় রয়েছে নিউইয়র্ক সিটি, দক্ষিণ ওয়েস্টচেস্টার, উত্তর-পূর্ব নিউ জার্সি এবং উপকূলীয় কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা। ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে সড়কে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই গাড়িচালকদের পানিতে ডুবে থাকা সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো সড়কে বন্যার পানি জমে থাকলে সেখানে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করতেও সতর্ক করা হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার বিকেলের দিকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ জন জেলা প্রশাসক বা ডিসি পদায়নে দুই থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানের আওতায় আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তার বাবা এবং সাবেক দুই সহকারীকেও রাখা হয়েছে। তানজীর আহমেদ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আসিফ মাহমুদের প্রভাব ছিল কি না, অভিযোগ অনুযায়ী কোনো অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, অনুসন্ধানে সেসব বিষয় যাচাই করা হবে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার খবর প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি, বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য এবং সরকারি কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুদকের অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ ওঠা আর তা প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ পাচার, বিদেশে সম্পদ ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে দুদকের অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ওপর।
ঘুম কতক্ষণ হলো, কখন ঘুমালেন কিংবা প্রতিদিন ঘুমের সময় কতটা নিয়মিত—এসব জানতে এখন অনেকেই স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য ঘুমের ট্র্যাকার ব্যবহার করেন। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ডিভাইস ঘুমের পুরো চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। এমনকি ভালো ঘুম হয়েছে বলেও অনেক সময় ভুল ধারণা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো সময় ঘুমের ট্র্যাকার ব্যবহার করেছেন। এসব ডিভাইস সাধারণত ঘুমের সময়, ঘুমের ধারাবাহিকতা এবং ঘুমের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তথ্য দেয়। তবে গবেষকদের মতে, ঘুমের মান বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—ঘুম থেকে ওঠার পর একজন মানুষ নিজেকে কেমন অনুভব করছেন। এই বিষয়টি ট্র্যাকারগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারে না। ২ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে মানুষ নিজের ঘুম সম্পর্কে যে অনুভূতি বা মূল্যায়ন করেন, তার মধ্যে অনেক সময় বড় পার্থক্য থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিধানযোগ্য ডিভাইসের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য একজন মানুষের ঘুমের মান সম্পর্কে তার অনুভূতির মাত্র ২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পারে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার ঘুমকে কতটা ভালো বা খারাপ মনে করছেন, সেই পার্থক্যের ৮৪ থেকে ৯৮ শতাংশই ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত একটি পরীক্ষায় ফিটবিটের তথ্যকে পলিসমনোগ্রাফি বা পিএসজির সঙ্গে তুলনা করা হয়। পিএসজি ঘুম পরিমাপের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এতে মস্তিষ্কের তরঙ্গ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং চোখ ও পায়ের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। সুস্থভাবে ঘুমানো মানুষের ক্ষেত্রে ফিটবিটের তথ্য পিএসজির সঙ্গে ৮২ দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যভাবে মিলে যায়। কিন্তু অনিদ্রায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এই হার নেমে আসে মাত্র ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশে। বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় থাকা মানুষের ক্ষেত্রেও ট্র্যাকারগুলোর তথ্য তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো, কেউ বিছানায় জেগে থাকলেও যদি বেশি নড়াচড়া না করেন, তাহলে ট্র্যাকার সেটিকে ঘুম হিসেবে ধরে নিতে পারে। ফলে ঘুমিয়ে পড়ার আগে বিছানায় জেগে কাটানো সময় কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সময় সঠিকভাবে ধরা নাও পড়তে পারে। গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, একটি ডিভাইস মানুষের মোট ঘুমের সময় প্রায় ৩০ মিনিট বেশি দেখিয়েছে। একই সঙ্গে ঘুমের কার্যকারিতাও প্রায় ৮ শতাংশ বেশি দেখিয়েছে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ভুল তথ্য মানুষকে নিজের ঘুম নিয়ে ভুল ধারণা দিতে পারে। বিশেষ করে অনিদ্রার মতো সমস্যায় ভুগছেন এমন কেউ যদি ট্র্যাকার দেখে মনে করেন যে তার ঘুম স্বাভাবিক, তাহলে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন নাও মনে করতে পারেন। এতে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে গবেষকরা বলছেন, ঘুমের ট্র্যাকার পুরোপুরি অকার্যকর নয়। একজন মানুষ কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন এবং তার ঘুমের সময়সূচি কতটা নিয়মিত—এসব বিষয়ে ডিভাইসগুলো বেশ ভালো ধারণা দিতে পারে। তবে শুধু ট্র্যাকার দেখানো সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে ঘুম থেকে ওঠার পর নিজেকে কেমন লাগছে, সেটিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা ঘুমের ট্র্যাকারের পাশাপাশি একটি ঘুমের ডায়েরি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে প্রতিদিন কতক্ষণ ঘুম হয়েছে, সকালে কতটা সতেজ লাগছে এবং রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার কথা মনে আছে কি না—এসব লিখে রাখা যেতে পারে। গবেষকদের মূল বক্তব্য হলো, ঘুমের মান শুধু সংখ্যায় বিচার করা যায় না। ট্র্যাকার থেকে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি নিজের অনুভূতি ও ঘুমের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।