সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর অনেক এলাকায় বাড়ির তালিকামূল্য এক বছরের তুলনায় কমেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বাজারে শীতলতা, ২০২৭ সালেও কমতে পারে দামের গতি

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গতি কমছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশের বড় বড় শহরের অনেক এলাকায় বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম ও প্রতি বর্গফুটের দাম কমেছে। একই সময়ে উচ্চ মর্টগেজ রেট ক্রেতাদের সামর্থ্যের ওপর চাপ তৈরি করায় বিক্রেতারাও ক্রেতাদের কাছে আসতে দাম কমাতে শুরু করেছেন।   রিয়েল্টর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের জাতীয় গড় তালিকামূল্য টানা ১০ মাসের মতো আগের বছরের তুলনায় কমেছে। আগস্টে এই পতন ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশের চারটি প্রধান অঞ্চলের মধ্যে নর্থইস্টে মধ্যম তালিকামূল্য ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, সাউথে ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ওয়েস্টে ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। মিডওয়েস্টে দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।   ৫০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ৩৬টিতে আগস্টে আগের বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটের তালিকামূল্য কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে অস্টিনে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, টাম্পায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেমফিসে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। বিপরীতে প্রভিডেন্সে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, ইন্ডিয়ানাপোলিসে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শিকাগোতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ দাম বেড়েছে।   রিয়েল্টর ডটকমের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল বলেন, অস্টিন, টাম্পা, সান অ্যান্টোনিও ও ডেনভারের মতো ২০২০-২২ সালের আবাসন-বুমের শহরগুলো এখন মহামারির সময়কার অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কিছুটা সমন্বয় করছে। এসব বাজারে মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এখন বাড়ির সরবরাহও বেশি।   সান ফ্রান্সিসকোতেও আগস্টে বাড়ির প্রতি বর্গফুটের তালিকামূল্য এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। শহরটির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ৯ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কম। তবে বাজারটি এখনও প্রতিযোগিতামূলক রয়েছে।   ফ্যানি মে-র পক্ষে পালসেনমিক্স পরিচালিত সর্বশেষ হোম প্রাইস এক্সপেকটেশনস সার্ভে-তে ১১৪ জন অর্থনীতিবিদ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষক অংশ নিয়েছেন। তাঁদের গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। এরপর ২০২৮, ২০২৯ ও ২০৩০ সালে বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৭, ৩ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।   অর্থাৎ, বর্তমানে যে বাজার-শীতলতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি ২০২৭ সালেও বাড়ির দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঠেকিয়ে রাখতে পারে। তবে জাতীয় পর্যায়ে দাম পতনের বদলে সামান্য বাড়ার পূর্বাভাসই এখন বেশি জোরালো।   রয়টার্সের মার্চ ২০২৬-এর একটি অর্থনীতিবিদ জরিপেও ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। একই জরিপে ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৭:৯
নয়াদিল্লিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের শত্রু বানাতে চায়: পেজেশকিয়ান

মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। তেহরান শুধু নিজেদের আন্তর্জাতিক অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান চায়।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের পার্শ্ববর্তী এক বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, ইরান-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান চায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, “আমেরিকা চায়, আমরা যারা বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, তারা যেন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হই।” তিনি বলেন, ইরানের মূল দাবি হলো দেশটির আন্তর্জাতিক অধিকারকে সম্মান করা।   পেজেশকিয়ান আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এ অঞ্চলের স্বাধীন দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।   ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিশু ও বিজ্ঞানীরাও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কিছু ভ্রাতৃপ্রতিম ও মুসলিম দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ ছিল না। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা হামলাকারীদের সামরিক স্থাপনাগুলোকে ইরান সেই কারণেই লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।   তবে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধ বা সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তিনি বলেন, তেহরান তার অধিকারকে সম্মান করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়।   “আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করব না”, বলেন পেজেশকিয়ান। ইরান তার জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বাইরের ‘আঞ্চলিক পুলিশ’ বা নিয়ন্ত্রকের প্রয়োজন নেই। তার মতে, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অঞ্চলটির প্রধান দেশগুলোরই হওয়া উচিত।   তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন। পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ কমবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারবে।   বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এ বিষয়ে মালয়েশিয়া নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি দেশটির সম্মান রয়েছে।   আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের জনগণের প্রতিরোধ ও দেশটির সরকারের অবস্থানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইরান ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।   নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে এবারের আলোচনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন।   ইরান ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে।   সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৬:৫৪
ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। এর প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্র লুকাস তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের শাহেদ ড্রোন নকল করে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস তৈরির দাবি তেহরানের

ইরানের বহুল আলোচিত শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের আদলে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে লুকাস নামের একটি চালকবিহীন আকাশযান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি দাবি করেছেন, ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি অনুসরণ করেই যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে।   শনিবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খোররামাবাদে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশের ড্রোন সক্ষমতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মুসাভি। এ সময় তিনি দাবি করেন, শাহেদ শ্রেণির ড্রোনগুলো ইরানের তরুণ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের উদ্ভাবন এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ফল। এসব ড্রোনের কিছু যুদ্ধ পরিচালনার জন্য এবং কিছু নজরদারি ও গোয়েন্দা কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।   মুসাভির দাবি অনুযায়ী, ইরানের ড্রোন বহর এখন দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, শাহেদ-১৩৬-এর সক্ষমতা দেখে যুক্তরাষ্ট্রও একই ধরনের একটি ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নেয় এবং সেটির নাম দেওয়া হয় লুকাস।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিষয়টি ইরানের কর্মকর্তার বক্তব্যের মতো করে উপস্থাপন করা হয়নি। মার্কিন সামরিক তথ্য অনুযায়ী, লুকাসের পূর্ণ নাম ‘লো-কস্ট আনক্রুড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম’ বা এলইউসিএএস। অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রওয়ার্কস এটি তৈরি করেছে। বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহেদ-১৩৬ থেকে পাওয়া প্রযুক্তি ও নকশা বিশ্লেষণ করে লুকাস তৈরি করা হয়েছে।   লুকাস মূলত একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন। অর্থাৎ এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য পাঠানো হয় এবং প্রচলিত অর্থে ফিরে এসে পুনরায় ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। কম খরচে দীর্ঘপাল্লার আক্রমণ চালানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।   মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, লুকাসের কার্যকর পাল্লা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রতি ইউনিটের খরচও প্রচলিত অনেক দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিভিন্ন মার্কিন সূত্রে এর খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার থেকে ৫৫ হাজার ডলারের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।   শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মতোই লুকাসের নকশায় রয়েছে দীর্ঘপাল্লার উড়ান এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ের ওপর জোর। এই ধরনের ড্রোনের বড় সুবিধা হলো, অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার না করেও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালানো সম্ভব।   ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে ড্রোনটির সক্ষমতা ও তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। রাশিয়া পরে শাহেদ-১৩৬-ভিত্তিক জেরান-২ নামে নিজস্ব সংস্করণও তৈরি করে।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমূল্যের একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন তৈরিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের আগস্টে মার্কিন বিমানবাহিনী শাহেদ-১৩৬-এর মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি চালকবিহীন আকাশযান তৈরির জন্য শিল্পখাতের কাছে প্রস্তাব আহ্বান করে। পরে স্পেকট্রওয়ার্কসের তৈরি এ ধরনের ড্রোনকে সামরিক ব্যবহারের জন্য লুকাস কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়।   ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে লুকাস ড্রোনের একটি ইউনিট মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে জানায়। ‘টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ নামে একটি মার্কিন ইউনিটের অধীনে এগুলো পরিচালনার কথা জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে লুকাস প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।   লুকাসের ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধে কম খরচের ড্রোনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করা এখন সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।   ইরানের আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের প্রধান মুসাভি তার বক্তব্যে ইরানের ড্রোন সক্ষমতাকে দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-১’-এর কথাও উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ওই অভিযানে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস তৈরি ইরানের শাহেদ-১৩৬-এর সরাসরি ‘হুবহু কপি’ কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, লুকাস শাহেদ-১৩৬-এর নকশা ও প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত বা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার করা হলেও এর আকার, ওজন, পেলোড এবং কিছু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য আলাদা।   ফলে ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নকল করতে বাধ্য’ হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিকে তার রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত। তবে লুকাস যে শাহেদ-১৩৬-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, সেটি মার্কিন সামরিক তথ্য এবং একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।   সূত্র: তাসনিম নিউজ, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, ফ্লাইটগ্লোবাল ও ইউরোনিউজ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৬:৩৫
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
এমপির লাগে না, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যানেরও লাগবে না শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হচ্ছে। এ কারণে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোনো একটিতেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।   তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।   তবে প্রার্থিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াও আইন নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয় নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে। ফলে কোনো পদে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালায় থাকা অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   ব্রিফিংয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে।   তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালাতেও বিধান রয়েছে। ওই নীতিমালায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।   তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সেটি এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনগত মতামতের জন্য বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যেতে পারে। তখন আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।   শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মীর শাহে আলম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।   প্রতিমন্ত্রীর যুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন ব্যক্তি স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন সমাজসেবকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   তিনি বলেন, সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।   এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে না এবং এতে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক থাকবে না। সরকার চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।   স্থানীয় সরকার বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মীর শাহে আলম বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।   সূত্র: ইত্তেফাক, স্থানীয় সরকার বিভাগ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৬:১৫
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে যাত্রীবাহী ফেরি উদ্ধারে চলছে তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
জাভা সাগরে ২৪৩ আরোহী নিয়ে নিখোঁজ সেই ফেরির সন্ধান মিলল, উদ্ধার ১০২

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া একটি যাত্রীবাহী ফেরির সন্ধান পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।   সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিন শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। রোববার স্থানীয় সময় ভোররাত প্রায় ২টার দিকে ফেরিটি জাভা সাগরে অবস্থান করছিল। এ সময় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   ফেরিটি বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটির সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।   উদ্ধার অভিযানে একাধিক উদ্ধারকারী জাহাজের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ আরোহীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।   এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলেও ফেরিতে থাকা বাকি আরোহীদের সবার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্ঘটনাস্থলে তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ইন্দোনেশিয়া প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি দ্বীপপুঞ্জের দেশ। দেশটির বিভিন্ন দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেরি ও অন্যান্য নৌযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নৌপথের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।   তবে দেশটিতে নৌপথে দুর্ঘটনার ঘটনাও নিয়মিত ঘটে। বৈরী আবহাওয়া, নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কখনো কখনো অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো বিষয় এসব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফলে বড় কোনো ফেরি দুর্ঘটনা ঘটলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।   বর্তমান ঘটনায় দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ফেরিটি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বৈরী আবহাওয়ার কথা প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করা হলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন হবে।   উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ আরোহীদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কাও রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার কারণ ও ফেরিটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।   সূত্র: বিবিসি, আরটিভি অনলাইন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৬:১
ভারত-চীন সীমান্তে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
শি’র দিল্লি সফরের মধ্যেই অরুণাচল সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে চীনা সেনারা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের মধ্যেই অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় চীনের অবকাঠামো নির্মাণ ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণের বরাতে বলা হয়েছে, ভারত-চীন সীমান্তের কাছাকাছি কয়েকটি এলাকায় চীন নতুন ভবন, সড়ক ও হেলিপ্যাডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।   তবে এসব স্থাপনা ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে এবং সেগুলোর অবস্থান নিয়ে দুই দেশের দাবির মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। ভারত বা চীন কেউই সাম্প্রতিক এসব উপগ্রহচিত্রকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এমন কোনো বক্তব্য দেয়নি যে চীনা সেনারা নতুন করে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও উপগ্রহচিত্রের বিশ্লেষণকে দাবির পর্যায়েই দেখা হচ্ছে।   হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলের এই সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে উল্লেখ করে। ভারত অবশ্য চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নথিতেও বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে চীন প্রায় ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডের দাবি করে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে অরুণাচলের আপার সুবনসিরি জেলার প্রত্যন্ত এলাকা, বিশেষ করে গেলেমো ও তাকসিংয়ের আশপাশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চীনা বাহিনী ও অবকাঠামোর উপস্থিতি বাড়তে থাকায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত চারণভূমি ও শিকারের এলাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ছে।   স্থানীয় বাসিন্দা তাকোক ম্রা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, তাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। তার দাবি, চীনা বাহিনী সীমান্তের ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার দিকে এগিয়ে এসেছে। তবে তিনি ঠিক কতটা এলাকা দখল করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করতে পারেননি।   সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানও চালানো হয়েছে। অরুণাচলের তাগিন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একটি দল আগস্টের ১১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত গেলেমো ও তাকসিং এলাকায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে। দলটি স্থানীয় বাসিন্দা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং সেনাবাহিনীর রসদ বহনকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে।   তাদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, আগে যেখানে ভারতীয় সেনারা নিয়মিত টহল দিত, এমন কিছু এলাকায় চীনা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আপার সুবনসিরির জেলা প্রশাসন এবং অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতিকে শুধু স্থানীয় উন্নয়ন সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।   উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণেও সীমান্তের চীনা নিয়ন্ত্রিত অংশে অবকাঠামো সম্প্রসারণের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জেনসের বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিব্বতের লহুনজে কাউন্টির ঝারি শহরের আশপাশে বেশ কিছু নতুন নির্মাণকাজ শনাক্ত হয়েছে।   কিছু এলাকায় জমি সমতল করা, নির্মাণযন্ত্রের উপস্থিতি এবং নির্মাণকাজের সহায়ক স্থাপনা দেখা গেছে। একটি এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢাল কেটে রাস্তা তৈরির কাজ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি এলাকায় হেলিপ্যাড নির্মাণ বা সম্প্রসারণের চিত্র পাওয়া গেছে।   উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনার কিছু সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভবনের নকশা, আশপাশে সামরিক ধরনের যানবাহন এবং প্রশিক্ষণ এলাকার মতো কিছু বৈশিষ্ট্য তাদের এমন ধারণার দিকে নিয়ে গেছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে কোনো স্থাপনার প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়। ফলে এগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক অবকাঠামো হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। একই এলাকায় কয়েক বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার প্রমাণও পাওয়া গেছে।   চীন ও ভারতের সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে ভারতীয় ও চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি ঘটে। এরপর কয়েক বছর ধরে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, অবকাঠামো নির্মাণ এবং কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলেছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ে। চলতি সেপ্টেম্বরেই অরুণাচল সেক্টরে ভারত ও চীনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচা এবং চীনের দিকের দামাই এলাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   এরপরই দিল্লিতে শুরু হয় ব্রিকস সম্মেলন। ১২ সেপ্টেম্বর সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি ছিল শির প্রথম ভারত সফর। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীনের পক্ষ থেকেও দুই দেশকে অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে একদিকে যখন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে অরুণাচল সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন অভিযোগ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে। ভারত ও চীন দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন অংশের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন দাবি করে আসছে। এ কারণে কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা বা সেনা অবস্থানকে কোন দেশের ভূখণ্ডে পড়ছে, তা নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রে জটিল।   অরুণাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় সড়ক, হেলিপ্যাড ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ তাই শুধু স্থানীয় উন্নয়ন নয়, দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার সঙ্গেও যুক্ত। নতুন উপগ্রহচিত্রে চীনের অবকাঠামো সম্প্রসারণের যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটি ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশ্যে আসেনি।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৫:৪৭
অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণের পাশাপাশি কাজের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা, সুযোগ পাচ্ছে ৩০ দেশের নাগরিক

অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬-২৭ কর্মসূচির আওতায় ৩০ দেশের নাগরিকদের জন্য প্রথম ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা চালু রেখেছে। এই ভিসার আওতায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী তরুণরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ভ্রমণের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি কাজ করতে পারবেন। তবে চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের জন্য আবেদন করার আগে লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার শর্ত রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে’ ভিসা সাবক্লাস ৪৬২ মূলত তরুণদের জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ১২ মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায় এবং সেই সময় ভ্রমণের খরচ চালাতে স্বল্পমেয়াদি কাজ করা যায়। এটি মূলত কাজের জন্য আলাদা শ্রমিক ভিসা নয়, বরং ভ্রমণকে কেন্দ্র করে কাজের সুযোগ দেওয়া একটি কর্মসূচি।   বর্তমানে সাবক্লাস ৪৬২-এর আওতায় যেসব দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন, সেগুলো হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, পেরু, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সান মারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, উরুগুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম।   তবে সব দেশের নাগরিকের জন্য আবেদনের নিয়ম এক নয়। চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের নাগরিকদের প্রথমে নির্ধারিত লটারি বা ব্যালট প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করতে হয়। সেখান থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে তবেই তারা ভিসার মূল আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়া এই ব্যবস্থা চালু করেছে কারণ এসব দেশের ক্ষেত্রে ভিসার নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর চাহিদা অনেক বেশি।   ২০২৬-২৭ কর্মবর্ষের জন্য চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের ব্যালট নিবন্ধন ২৫ জুন ২০২৬ বন্ধ হয়েছে বলে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। অর্থাৎ এসব দেশের নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির পরবর্তী ব্যালটের সময়সূচির জন্য সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।   অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশভেদে প্রথম সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার বার্ষিক সংখ্যাতেও সীমা রয়েছে। যেমন চীনের জন্য ৫ হাজার, ভারতের জন্য ১ হাজার এবং ভিয়েতনামের জন্য ১ হাজার ৫০০টি পর্যন্ত প্রথম ভিসা দেওয়ার সীমা রয়েছে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বার্ষিক সীমা রয়েছে। কোনো দেশের নির্ধারিত সীমা পূরণের কাছাকাছি গেলে আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হতে পারে।   ভিসাটির ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। সাবক্লাস ৪৬২ ভিসায় বয়সসীমা সাধারণভাবে ১৮ থেকে ৩০ বছর। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং অন্যান্য ভিসা শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই শুধু তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিক হলেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।   ভিসা পেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অবস্থায় কাজ করা গেলেও একই নিয়োগকর্তার অধীনে সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ছয় মাস কাজ করার সীমা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই সীমার ব্যতিক্রম বা বাড়তি অনুমতির সুযোগ থাকতে পারে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য মূলত দীর্ঘ ছুটির সময় ভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। অস্ট্রেলিয়ার Working Holiday Maker কর্মসূচি ১৯৭৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে কাজ করছে। বর্তমানে দুটি ভিসা শ্রেণির মাধ্যমে ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য এ ধরনের সুযোগ রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের আগে বিমান টিকিট বা ভ্রমণসংক্রান্ত চূড়ান্ত ব্যবস্থা না করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে এবং ভিসা পাওয়ার আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকে না।   তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই নির্দিষ্ট সাবক্লাস ৪৬২ ভিসার সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ৩০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। ফলে বাংলাদেশি তরুণদের অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ ও কাজের জন্য অন্য উপযুক্ত ভিসা শ্রেণির যোগ্যতা ও শর্ত বিবেচনা করতে হবে।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর, Working Holiday Maker Program; Legit.ng।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৫:৩১
ট্রাম্প মোবাইলের টি১ স্মার্টফোন। দাম বাড়িয়ে এখন ৭৪৯ ডলারে বিক্রি করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আইফোনের চেয়ে বাড়লো ট্রাম্প ফোনের দাম, এক লাফে ৭৪৯ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ট্রাম্প মোবাইলের টি১ স্মার্টফোনের দাম এক লাফে ২৫০ ডলার বেড়েছে। ৪৯৯ ডলারের প্রাথমিক দামের ফোনটি এখন ৭৪৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।   দাম বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প মোবাইল আলাদা কোনো ঘোষণা দেয়নি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি রাতারাতি তাদের ওয়েবসাইটে ফোনটির দাম পরিবর্তন করে। একই সঙ্গে আগে ব্যবহৃত ‘প্রমোশনাল প্রাইস’ শব্দটিও ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   টি১ ফোনটির হার্ডওয়্যারে এই দাম বৃদ্ধির সঙ্গে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফোনটিতে রয়েছে ১২ জিবি র‍্যাম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ। ফলে অতিরিক্ত ২৫০ ডলার দেওয়ার বিনিময়ে ক্রেতারা নতুন কোনো হার্ডওয়্যার আপগ্রেড পাচ্ছেন না।   ট্রাম্প মোবাইলের কর্মকর্তারা এর আগে ৪৯৯ ডলারের দামকে ‘ইন্ট্রোডাক্টরি’ বা প্রাথমিক মূল্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরে এটিকে ‘প্রমোশনাল প্রাইস’ হিসেবে দেখানো হয়। তবে সর্বশেষ দাম বাড়ানোর পেছনে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি।   এদিকে প্রযুক্তি বাজারে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়াকে স্মার্টফোন নির্মাতাদের ওপর বাড়তি চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে টি১ ফোনের দাম বৃদ্ধির সরাসরি কারণ হিসেবে ট্রাম্প মোবাইল মেমোরি চিপের দামকে নিশ্চিত করেনি। ফলে এ বিষয়টি অনুমান হিসেবে উপস্থাপন করাই নিরাপদ।    দাম বৃদ্ধির পর টি১ ফোনটি এখন আইফোন ১৭ই এবং স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস২৬ এফই-এর মতো ফোনের সঙ্গে সরাসরি দামের প্রতিযোগিতায় পড়েছে। দ্য ভার্জের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ৭৪৯ ডলারে ফোনটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়েছে।   অন্যদিকে অ্যাপলও সম্প্রতি তাদের পুরোনো কয়েকটি আইফোনের দাম ১০০ ডলার করে বাড়িয়েছে। তবে ট্রাম্প ফোনের ২৫০ ডলারের মূল্যবৃদ্ধি শতাংশের হিসাবে আরও বড় - প্রায় ৫০ শতাংশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৫:১১
ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপের সূবর্ণ সুযোগ
ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপের সূবর্ণ সুযোগ, শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের জন্য রয়েছে ভাতা

আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অফিস ও বিভাগে কাজের সুযোগ পান যোগ্য শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকেরা। ইন্টার্নশিপ সাধারণত ৬ থেকে ২৬ সপ্তাহের হয়ে থাকে। পদভেদে পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন, দূরবর্তী বা সরাসরি কর্মস্থলে কাজের সুযোগ থাকতে পারে।   ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টার্নরা গবেষণা, তথ্যভান্ডার ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। দায়িত্ব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রয়োজন, পদটির ধরন, আবেদনকারীর যোগ্যতা ও আগ্রহের ওপর। প্রতিটি ইন্টার্নশিপের দায়িত্ব ও শর্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে।   আবেদনকারীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান এবং নির্দিষ্ট পদের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। সব ইন্টার্নশিপের যোগ্যতা এক নয়। কিছু পদ আবার নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত থাকতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।   এই কর্মসূচির অন্যতম সুবিধা হলো আর্থিক সহায়তা। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টার্নদের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচে সহায়তার জন্য ইউনিসেফ বা অংশীদার কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হতে পারে। অর্থের প্রাপ্যতা এবং পদের শর্ত অনুযায়ী ভ্রমণ ও ভিসা খরচের জন্য এককালীন সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে।   বর্তমানে ইউনিসেফের নিয়োগ তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইউনিসেফের সদর দপ্তরে তদন্তবিষয়ক ইন্টার্নশিপের দুটি খণ্ডকালীন পদ রয়েছে। পদ দুটিই বেতনভুক্ত এবং সরাসরি কর্মস্থলে কাজ করতে হবে। এসব পদের আবেদনের শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৫ মিনিট।   নিউইয়র্কে নেতৃত্ব ও বিষয়বস্তু কৌশলবিষয়ক আরেকটি ইন্টার্নশিপের সুযোগও রয়েছে। চার মাসের এই পদে সরাসরি কর্মস্থলে অথবা দূর থেকে কাজের সুযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এ পদের আবেদনের শেষ সময় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৫ মিনিট। একই সময়ে নিউইয়র্ক ও ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে আইনবিষয়ক ছয় মাসের দুটি ইন্টার্নশিপের সুযোগ রয়েছে। এসব পদেরও আবেদনের শেষ সময় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।   তবে ইউনিসেফের সব ইন্টার্নশিপ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। বর্তমান নিয়োগ তালিকায় কিছু পদ নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত রয়েছে। তাই ইন্টার্নশিপের নাম দেখে আবেদন করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পদের নাগরিকত্বের শর্ত ও যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।   ইউনিসেফে ইন্টার্নশিপের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বার্ষিক আবেদন সময় নেই। বিভিন্ন অফিস ও বিভাগ তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সারা বছর নতুন ইন্টার্নশিপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ফলে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের নিয়মিত ইউনিসেফের নিয়োগ তালিকা দেখতে হবে এবং ইন্টার্নশিপ হিসেবে চিহ্নিত পদগুলো যাচাই করতে হবে।   আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান এমন শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের জন্য ইউনিসেফের এই কর্মসূচি পেশাগত দক্ষতা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। তবে পদভেদে যোগ্যতা, কাজের ধরন, সময়কাল, কর্মস্থল, নাগরিকত্ব এবং আর্থিক সুবিধার শর্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন করা উচিত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৫:০
ব্রিটিশ শাসন নিয়ে মার্কিন শিল্পীর মন্তব্য ভাইরাল
‘ভারত দরিদ্র ছিল না’, ব্রিটিশ শাসন নিয়ে মার্কিন শিল্পীর মন্তব্য ভাইরাল

নিউইয়র্কভিত্তিক ট্যাটু শিল্পী জেমা ফেরার জুলকা বর্তমানে ভারতের জয়পুর সফরে রয়েছেন। ভারত সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক ইনস্টাগ্রাম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওগুলোতে তিনি ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।   জেমার বক্তব্যের অন্যতম বিষয় ছিল পশ্চিমা বিশ্বে ভারতকে উপস্থাপনের ধরন। তাঁর দাবি, বিদেশি চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ভারতকে প্রায়ই দারিদ্র্য, অতিরিক্ত ভিড় ও নিম্নমানের জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়। একই সময়ে যোগ, আয়ুর্বেদ, মেডিটেশন, মণ্ডলা, ভারতীয় বস্ত্র ও কারুশিল্পের মতো ভারতীয় ঐতিহ্য পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস প্রসঙ্গে জেমা বলেন, দেশটি একসময় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টেক্সটাইল শক্তি ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় তুলা, মসলিন ও সিল্ক আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় উৎপাদকদের তুলনায় ব্রিটিশ নির্মাতারা সুবিধা পায় এবং এর প্রভাব পড়ে দেশটির তাঁতি ও কারিগরদের জীবিকায়।   এখানেই জেমার সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি আসে। তিনি বলেন, ভারত “দরিদ্র ছিল না”, বরং দীর্ঘ সময় ধরে দেশটিকে দরিদ্র করে ফেলা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বাণিজ্যনীতি ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বিপুলসংখ্যক তাঁতি ও কারিগর জীবিকা হারান। এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।   ভারতের সংস্কৃতি নিয়েও জেমা সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে তৈরি বা অনুপ্রাণিত অনেক কিছু বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও এগুলোর সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় মানুষ ও সম্প্রদায় সবসময় যথেষ্ট স্বীকৃতি ও সম্মান পান না। তিনি বলেন, কোনো সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি সেই সংস্কৃতির মানুষদের অবমাননা করা উচিত নয়।   ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অহিংস ধারারও প্রশংসা করেন জেমা। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ভারত অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিল এবং অস্ত্র বা ব্যাপক রক্তপাত ছাড়াই একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।   জেমা আরও জানিয়েছেন, ভারত সফরের পর দেশটির ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। নিজের শিল্পের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে আরও কাজ করার ইচ্ছার কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর ভিডিওগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা ও বিতর্ক - দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৪:২৪
ছেলে সমকামী জানার পর লালন-পালনের খরচ ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে বাবার মামলা
ছেলে সমকামী জানার পর লালন-পালনের খরচ ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে বাবার মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিস এলাকার ১৮ বছর বয়সী মাইকেল ট্যালবার্টকে সমকামী হওয়া থেকে ‘বদলে দেওয়ার’ উদ্দেশ্যে একটি ধর্মীয় কনভার্সন থেরাপি প্রোগ্রামে পাঠিয়েছিলেন তাঁর বাবা গ্রেগরি ট্যালবার্ট। প্রায় এক মাস পর সেই প্রোগ্রাম ছেড়ে দেওয়ার পর ছেলের কাছ থেকে খরচ করা ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে মামলা করেন বাবা। তবে টেলিভিশনভিত্তিক আদালত অনুষ্ঠান ‘ইকুয়াল জাস্টিস’-এর সালিশি শুনানিতে বিচারক ইবনি কে. উইলিয়ামস ওই দাবি খারিজ করে মাইকেলকে বলেন, তিনি অভিশপ্ত নন এবং তাঁকে ‘ঠিক’ করার কোনো প্রয়োজন নেই।   ঘটনাটি ‘ইকুয়াল জাস্টিস উইথ জাজ ইবনি কে. উইলিয়ামস’ অনুষ্ঠানের একটি পর্বে উঠে আসে। তবে এটি বাস্তব সরকারি আদালত নয়। অনুষ্ঠানটি নিজেকে ছোট দাবির বিরোধ নিষ্পত্তির সালিশি কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্বটির ভিডিও নতুন করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।   অনুষ্ঠানে গ্রেগরি জানান, মাইকেল তখন ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। ছেলেকে একজন পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখার পর তিনি তার যৌন অভিমুখিতা নিয়ে আপত্তি জানান। শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ছেলে তাঁর কথা না শুনলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে মাইকেল কনভার্সন থেরাপি প্রোগ্রামে যেতে রাজি হন।   মাইকেলের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক হারানো এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই তিনি প্রোগ্রামে যেতে সম্মত হয়েছিলেন। কয়েক দিন পর তিনি একটি ধর্মীয় প্রোগ্রামে যোগ দেন। সেখানে প্রায় এক মাস থাকার পর তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়। মাইকেল বিচারককে জানান, সেখানে তাঁকে বলা হয়েছিল তিনি ‘অভিশপ্ত’, নরকে যাবেন এবং তাঁকে ও অন্য অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের ‘ঠিক’ করার প্রয়োজন রয়েছে।   একপর্যায়ে মাইকেল প্রোগ্রাম ছেড়ে তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই তিনি জীবনে প্রথমবারের মতো নিজেকে মুক্ত মনে করেন। এরপর তাঁর বাবা প্রোগ্রামে ব্যয় করা ৬ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে দাবি তোলেন। গ্রেগরির বক্তব্য ছিল, ছেলে পুরো প্রোগ্রাম শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা করেননি।   শুনানিতে বিচারক উইলিয়ামস মাইকেলের সম্মতি ও তাঁর বাবার দেওয়া চাপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি গ্রেগরিকে বলেন, ছেলেটি পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই প্রোগ্রামে যেতে রাজি হয়েছিল। পরে তিনি গ্রেগরির অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি পুরোপুরি খারিজ করেন।   রায়ের পর মাইকেলের সঙ্গে কথা বলার সময় বিচারক উইলিয়ামস আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে বলেন, তিনি অভিশপ্ত নন। তিনি ভালোবাসা ও সম্মানের যোগ্য এবং তাঁকে পরিবর্তন বা ‘ঠিক’ করার প্রয়োজন নেই। বিচারক আরও বলেন, একজন সন্তানের এমন একটি বাড়ি প্রাপ্য, যেখানে সে নিরাপদ ও ভালোবাসার মধ্যে থাকতে পারে।   কনভার্সন থেরাপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সংগঠনগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব প্রচেষ্টার কার্যকারিতার পক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই এবং এগুলো ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   গবেষণায় বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মসম্মান কমে যাওয়া এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিসহ বিভিন্ন নেতিবাচক ফলাফলের সঙ্গে এসব প্রচেষ্টার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   তবে মাইকেল ও তাঁর বাবার এই ঘটনা বাস্তব আদালতের রায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ‘ইকুয়াল জাস্টিস’ একটি টেলিভিশন সালিশি অনুষ্ঠান, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের প্রযোজনা সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রকৃত পক্ষের ঘটনা উপস্থাপনের পাশাপাশি কিছু ঘটনা পুনর্নির্মাণও থাকতে পারে। ফলে টেলিভিশনের এই সিদ্ধান্তকে কোনো সরকারি আদালতের বিচারিক রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৪:১৭
ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ দেখিয়ে ফান্ড এনেছে ডাকসু
ঢাবি শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ দেখিয়ে ফান্ড এনেছে ডাকসু: হামিম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিভিন্ন উন্নয়নকাজে বিদেশি জাকাতের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামীম। তাঁর অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘এতিম-মিসকিন’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশ থেকে জাকাতের অর্থ সংগ্রহ করে এসব কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি; বিষয়টিকে সন্দেহ ও প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন।   ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামীম ডাকসুর অর্থের উৎস ও উন্নয়নকাজের হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁর প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে যেখানে ডাকসু ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে, সেখানে কীভাবে এক বছরে ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করার দাবি করা হচ্ছে।   ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বরাদ্দের বাইরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পন্সরের সহযোগিতায় এসব কাজ করা হয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানান, শুরুতে ২৫ লাখ এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া যায়। এরপর স্পন্সর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।    হামীমের অভিযোগ, ডাকসুর উন্নয়নকাজের অর্থের উৎস নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে স্বচ্ছ হিসাব থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ডাকসু ভবনে ফ্যানের পরিবর্তে এসি স্থাপন, পাঠাগার উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদে বিভিন্ন কাজসহ অন্যান্য উদ্যোগে অর্থ এসেছে কোথা থেকে, সেটি স্পষ্ট করা উচিত। এসব কাজে বিভিন্ন কোম্পানির করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড অথবা বিদেশি জাকাতের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।   হামীম আরও দাবি করেন, গত রমজানে ইফতার আয়োজনের সময় এক তুর্কি নাগরিককে এনে নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনাও তাঁর সন্দেহের কারণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই অর্থ জাকাতের অর্থ ছিল। একই ধরনের অর্থের উৎস ডাকসুর অন্যান্য উন্নয়নকাজেও রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।   এদিকে গত এক বছরে ডাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে আবাসিক হলের রিডিংরুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিভিন্ন হলে কম্পিউটার ল্যাব, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জন্য জিমনেসিয়াম, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও আন্তর্জাতিক চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে। ডাকসুর পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগের অর্থায়নে স্পন্সর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।    ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায়। সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির মেয়াদ ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। দায়িত্বের এক বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ডাকসুর কার্যক্রম, অর্থের উৎস ও ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    ডাকসুর পক্ষ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, মেয়াদ শেষে পুরো বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। ফলে হামীমের তোলা অর্থের উৎসের প্রশ্নের পাশাপাশি স্পন্সর, অনুদান ও অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সেই হিসাব প্রকাশ করা হলে বিতর্কের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।   সূত্র: যুগান্তর

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৩:৪০
বাংলাদেশের ইসলামী বক্তাদের নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু
বাংলাদেশের ইসলামী বক্তাদের নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ থেকে কোনো ইসলামি বক্তা বা ধর্মীয় বক্তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তার দাবি, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইসলামি বক্তারা বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গে আসতেন। বর্তমান বিজেপি সরকারের সময়ে এমন সুযোগ আর দেওয়া হবে না।    শুভেন্দু অধিকারী ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। রাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটেও তাকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    শনিবারের বক্তব্যে শুভেন্দু দুই বছর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আসা এক বক্তার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। তার দাবি, ওই বক্তা জনসংখ্যা বাড়িয়ে জনবিন্যাস পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। শুভেন্দু ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে পশ্চিমবঙ্গে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুভেন্দু তার বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে আসা ধর্মীয় বক্তাদের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে বাংলাদেশ থেকে ইসলামি বক্তারা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ ধরনের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।    তবে বসিরহাটের ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বক্তার বক্তব্য সম্পর্কে শুভেন্দুর করা দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফলে বক্তার পরিচয়, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং ওই বক্তব্যের পর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ কারণে বিষয়টি শুভেন্দুর বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।   বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় যোগাযোগ রয়েছে। দুই দেশের মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সীমান্তের দুই পাশের মানুষের অংশগ্রহণের নজির রয়েছে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা, অভিবাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।   শুভেন্দুর সাম্প্রতিক বক্তব্য বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতার মধ্যেই সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বাংলাদেশ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তার সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।    এদিকে বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় বক্তাদের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের বিষয়ে শুভেন্দুর এই বক্তব্যের ফলে দুই দেশের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মানুষের আন্তঃদেশীয় যাতায়াতের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।   শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কোনো অনুষ্ঠানে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নতুন কোনো সরকারি আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশনা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৩:২৬
ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি
ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার বললেন, ইসলামই দিয়েছেন সেই শান্তি, স্বস্তি ও বরকত যা সবসময় খুঁজেছি

যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার মিক্সড মার্শাল আর্টস ফাইটার অ্যাম্বার লেইব্রক ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেজান্টনে মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বে-তে ২১ জুলাই তিনি শাহাদাহ পাঠ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওই মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার। এরপর থেকে তাকে নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নিতে দেখা গেছে।   অ্যাম্বার লেইব্রক ইস্ট বে এলাকায় বেড়ে ওঠেন এবং পেশাদার এমএমএ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি বেলাটর এমএমএ ও প্রফেশনাল ফাইটার্স লিগে প্রতিযোগিতা করেছেন। মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বের তথ্য অনুযায়ী, লারিসা পাচেকোর সঙ্গে একটি লড়াইয়ের পর তিনি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার প্রশিক্ষক ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্য মুজিব হামিদ তাকে ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।   এরপর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয় অ্যাম্বারের মধ্যে। ২০২৩ সালের ২১ জুলাই তিনি মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্ট বেতে শাহাদাহ পাঠ করেন। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন তিনি। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনেও তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে।   ইসলাম গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অ্যাম্বার জানান, জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে গেছে এবং নিজের দ্বীন খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। তিনি আরও জানান, জীবনের ঘটনাগুলোকে নতুনভাবে দেখার পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে।   মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহণের পর অ্যাম্বার নিয়মিত জুমার নামাজে অংশ নিতে শুরু করেন। কেন্দ্রটির বিভিন্ন কার্যক্রমেও পরে তাকে যুক্ত হতে দেখা যায়। নারীদের আত্মরক্ষা ও বক্সিং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কয়েকটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রশিক্ষক হিসেবেও অংশ নিয়েছেন।   নিজের আধ্যাত্মিক যাত্রা নিয়ে অ্যাম্বার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও লিখেছিলেন, জীবনের সবকিছু নিজের নির্ধারিত সময়ে ঘটবে এমন নয়, বরং আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের ওপর তিনি বিশ্বাস রাখতে শিখেছেন। তার এই বক্তব্য ইসলাম গ্রহণের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার নামে বিভিন্ন দীর্ঘ বক্তব্যের সবগুলো হুবহু উদ্ধৃতি হিসেবে নিশ্চিত করা যায় না। তাই তার ইসলাম গ্রহণ, শাহাদাহ পাঠ এবং পরবর্তী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টের নিশ্চিত তথ্য ও সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনকেই নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে।   ইসলাম গ্রহণের পরও অ্যাম্বার তার পেশাগত পরিচয় ধরে রেখেছেন। ক্রীড়া ও ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি নতুন ধর্মীয় পরিচয়কে ঘিরে তার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটিতেও আলোচনায় এসেছে। মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার ইস্টে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৩:১৩
বাড়ি কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে ক্রেতারা
বাড়ি কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে ক্রেতারা, শীর্ষে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার যখন ধীরে ধীরে ক্রেতাদের পক্ষে ঝুঁকছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে। রেডফিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লং আইল্যান্ড বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী সেলার্স মার্কেট। এখানে বিক্রেতার তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি, ফলে ভালো অবস্থায় থাকা এবং সঠিক দামে তালিকাভুক্ত বাড়ির জন্য প্রতিযোগিতা এখনো তীব্র।    লং আইল্যান্ড বলতে মূলত নাসাউ ও সাফোক কাউন্টিকে বোঝানো হয়েছে। রেডফিনের জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে ৩৯টিই বর্তমানে বায়ার্স মার্কেট। অর্থাৎ অধিকাংশ এলাকায় ক্রেতারা দরদাম করার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। এর বিপরীতে লং আইল্যান্ডে সীমিত হাউজিং ইনভেন্টরি এবং শক্তিশালী চাহিদার কারণে বিক্রেতারাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।    এই চাহিদার অন্যতম কারণ নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে লং আইল্যান্ডের ঘনিষ্ঠতা। ম্যানহাটনের কাছে তুলনামূলক উপশহরীয় পরিবেশে একক পরিবারের বাড়ির চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী। রেডফিনের এজেন্টদের মতে, বিশেষ করে এমন বাড়িগুলোর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি যেগুলো বসবাসের জন্য প্রস্তুত এবং সঠিক দামে বাজারে তোলা হয়েছে।    ফলে লং আইল্যান্ডে বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে বাজারের সাধারণ জাতীয় প্রবণতা সবসময় প্রযোজ্য হচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং বাড়ির দামের কারণে অনেক ক্রেতা পিছিয়ে গেলেও লং আইল্যান্ডে সীমিত সরবরাহ চাহিদাকে শক্তিশালী রাখছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির সামগ্রিক মেট্রো এলাকা অবশ্য ভারসাম্যপূর্ণ বাজারে রয়েছে। সেখানে বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।    লং আইল্যান্ডের দুই প্রধান কাউন্টিতেও বাড়ির দাম শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জুলাই ২০২৬-এর স্থানীয় মার্কেট ডেটা অনুযায়ী, নাসাউ কাউন্টিতে একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সাফোক কাউন্টিতে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। একই সময়ে নাসাউতে বাড়ির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সাফোকে কমেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। সীমিত ইনভেন্টরি বাজারে বিক্রেতাদের অবস্থান শক্ত করার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।    তবে এর অর্থ এই নয় যে লং আইল্যান্ডের যেকোনো বাড়ি যেকোনো দামে দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণ এখনো গুরুত্বপূর্ণ। রেডফিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভালো অবস্থায় থাকা এবং সঠিক দামে তালিকাভুক্ত বাড়ি দ্রুত ক্রেতা আকর্ষণ করছে। কিছু ক্ষেত্রে ওপেন হাউস হওয়ার আগেই একাধিক অফার পাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে রেডফিনের স্থানীয় এজেন্টরা জানিয়েছেন।    লং আইল্যান্ডের বাজারে ক্রেতাদের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। সীমিত সংখ্যক বাড়ির বিপরীতে বেশি ক্রেতা থাকায় পছন্দের বাড়ি বাজারে আসার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমে যাচ্ছে। ফলে যারা কিনতে চান, তাদের আগে থেকেই মর্টগেজ প্রি-অ্যাপ্রুভাল, স্থানীয় বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং নিজেদের বাজেট পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   জাতীয় আবাসন বাজারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও এই পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে। আগস্ট ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি ২ শতাংশ কমে ১৪ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে উঠেছিল। ফলে দেশের অনেক অঞ্চলে ক্রেতারা এখনো উচ্চ ঋণ খরচের চাপে রয়েছেন।    অন্যদিকে লং আইল্যান্ডে সীমিত সরবরাহ, নিউইয়র্ক সিটির কাছাকাছি অবস্থান এবং একক পরিবারের বাড়ির চাহিদা বাজারটিকে জাতীয় প্রবণতা থেকে আলাদা করে রেখেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় যেখানে ক্রেতারা তুলনামূলক বেশি দরকষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানে লং আইল্যান্ডে এখনো বাড়ির মালিকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজার বিরাজ করছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ২:১৪
কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ
কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ, শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে কানাডা সরকারের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর নীতির মধ্যেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কানাডা। বিশ্বের মেধাবী গবেষক ও উচ্চশিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে দেশটির সরকার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য কিছু প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত স্টাডি পারমিট প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।   কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কানাডায় আকৃষ্ট করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার পাবলিক ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশনে মাস্টার্স বা ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট আবেদনে প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার, অর্থাৎ PAL বা TAL জমা দিতে হচ্ছে না। তবে কুইবেকে পড়তে চাইলে প্রদেশটির নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।   ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরও দ্রুত প্রসেসিংয়ের সুবিধা। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে অনলাইনে আবেদন করা যোগ্য PhD শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার যাচাই করার পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রসেস করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সঙ্গে যাওয়া স্বামী বা কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের আবেদনও এই দ্রুত প্রসেসিংয়ের আওতায় আসতে পারে।   তবে এই দুই সপ্তাহের প্রসেসিং সুবিধা সব গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য নয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাস্টার্স, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট দ্রুত প্রসেসিং সুবিধা পাবেন না। অসম্পূর্ণ আবেদন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা মেডিকেল যাচাই প্রয়োজন হলে প্রসেসিং সময়ও বেড়ে যেতে পারে।   কানাডা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থার সামগ্রিক আকার কমাচ্ছে। ২০২৬ সালে দেশটি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে নতুন শিক্ষার্থী ও কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের পারমিট এক্সটেনশন উভয়ই রয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় আসার সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৪০৫, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।   এই নীতির মধ্যেই কানাডা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য PAL বা TAL ছাড়া স্টাডি পারমিট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪৯ হাজার স্টাডি পারমিটের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   কানাডায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় বা সবার জন্য নিশ্চিত নয়; প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম অন্যান্য নন-ডিগ্রি প্রোগ্রামের তুলনায় ভিন্ন।   কানাডা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কানাডায় মাস্টার্স বা PhD করার পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:৩৪
অক্টোবরে রাজ্যের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ
স্ন্যাপ থেকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বাদ, অক্টোবরে রাজ্যের ওপর বাড়ছে খরচের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপ থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ মানুষ কমে গেছে। সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে স্ন্যাপের সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নতুন অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।    স্ন্যাপ বা Supplemental Nutrition Assistance Program যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের মানুষের খাবার কেনার জন্য সবচেয়ে বড় ফেডারেল সহায়তা কর্মসূচি। এটি মূলত ইউএসডিএর অধীন পরিচালিত হলেও রাজ্য সরকারগুলো স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা One Big Beautiful Bill Act-এ স্ন্যাপের যোগ্যতা, কাজের শর্ত এবং অর্থায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।    নতুন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো স্ন্যাপ পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ের ভাগ। ইউএসডিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছর থেকে ফেডারেল সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ রাজ্যগুলোকে প্রশাসনিক ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ বহন করতে হবে। এই পরিবর্তন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে জনমত দেওয়ার সময়সীমা ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।    এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্ন্যাপের মূল খাদ্য সহায়তার খরচের একটি অংশও রাজ্যগুলোর ওপর পড়বে। নতুন আইনে ২০২৮ অর্থবছর থেকে রাজ্যের স্ন্যাপ পেমেন্ট এরর রেট বা সুবিধা নির্ধারণ ও প্রদানে ভুলের হারের ওপর ভিত্তি করে রাজ্যকে খাদ্য সহায়তার ব্যয়ের ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বহন করতে হতে পারে। ভুলের হার কম হলে রাজ্যের অতিরিক্ত অংশ কম বা শূন্য থাকতে পারে।    এদিকে স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের স্ন্যাপ অংশগ্রহণ কমেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আলাস্কা ছাড়া সব অঙ্গরাজ্যেই সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমেছে। ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে কমার হার ছিল অন্তত ৫ শতাংশ এবং ২৩টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ১০ শতাংশ।    এই পতনের পেছনে নতুন কাজের শর্ত, যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন এবং আবেদন ও পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়ায় বাড়তি প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব রয়েছে বলে স্ন্যাপ নীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন। নতুন আইনে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কাজ বা অনুমোদিত কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার শর্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ফলে আগে যাদের ওপর এই শর্ত প্রযোজ্য ছিল না, তাদের একটি অংশও নতুন নিয়মের আওতায় আসছে।    স্ন্যাপ থেকে সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব খাদ্য ব্যাংকগুলোর ওপরও পড়ছে। বিভিন্ন রাজ্যে খাদ্য সহায়তা নিতে মানুষের চাপ বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে খাদ্য সহায়তা সংগঠনগুলোর মতে, খাদ্য ব্যাংকগুলো স্ন্যাপের বিকল্প হিসেবে কাজ করার মতো সক্ষমতা রাখে না। কারণ স্ন্যাপের মাধ্যমে যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা স্থানীয় খাদ্য ব্যাংকের সামর্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি।   অ্যারিজোনার ক্ষেত্রেও স্ন্যাপ সুবিধাভোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি প্রায়োরিটিজের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যটি সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই ও আয় পর্যবেক্ষণের মতো পদক্ষেপ জোরদার করেছে। একই সময়ে খাদ্য ব্যাংকগুলোতে সহায়তা চাওয়া মানুষের চাপ বেড়েছে বলে স্থানীয় খাদ্য সহায়তা সংগঠনগুলো জানিয়েছে।   নিউ মেক্সিকোতেও খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে মানুষের দীর্ঘ লাইন তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় খাদ্য ব্যাংক সংগঠনগুলো। এসব সংগঠনের আশঙ্কা, স্ন্যাপের সুবিধা কমে গেলে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে খাদ্য ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই বাড়তি চাহিদা পূরণ করা তাদের জন্য কঠিন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের খাদ্য সহায়তা সংগঠনগুলো কংগ্রেসের কাছে নতুন অর্থায়ন কাঠামো কার্যকর করার সময় পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোকে নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন, ভুলের হার কমানো এবং স্ন্যাপ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার জন্য আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে কংগ্রেসে পরিবর্তনের প্রস্তাবও উঠেছে, তবে নতুন অর্থায়ন কাঠামো পুরোপুরি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।   অন্যদিকে ফেডারেল সরকার স্ন্যাপের নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো, কর্মসূচির অপচয় ও ভুল কমানো এবং রাজ্যগুলোর দায়িত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। ইউএসডিএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নতুন আইনের বিভিন্ন বিধান ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে স্ন্যাপের যোগ্যতা, কাজের শর্ত এবং রাজ্যগুলোর আর্থিক দায় নিয়ে আরও পরিবর্তন সামনে আসতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:২৭
স্বামীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীরও বিদায়
৮ বছর বয়স থেকে ৭৫ বছরের দাম্পত্য! স্বামীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রীরও বিদায়

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর দম্পতি জিনেট ও আলেকজান্ডার টকজকো প্রায় ৭৫ বছর সংসার করার পর ২০১৫ সালের জুনে একে অপরের খুব কাছেই জীবনের শেষ সময় কাটান। আলেকজান্ডার ১৭ জুন স্ত্রীর কোলে মারা যাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে জিনেটও মারা যান। তাদের জীবনের শেষ অধ্যায়টি পূর্ণ হয়েছিল বহু বছর আগে সন্তানদের কাছে বলা একটি ইচ্ছায়, শেষ সময়টুকুও যেন তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন।   জিনেট ও আলেকজান্ডার দুজনেরই জন্ম ১৯১৯ সালে কানেকটিকাটের স্ট্যামফোর্ডে। তাদের বাবা-মা ছিলেন পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসী। মাত্র আট বছর বয়সে তাদের পরিচয় হয়। শৈশবের সেই সম্পর্কই পরে গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। ১৯৪০ সালে তারা বিয়ে করেন এবং পরবর্তী সাত দশকের বেশি সময় একসঙ্গে কাটান।   বিয়ের পর আলেকজান্ডার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিজ্ঞাপন ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফির ব্যবসায় যুক্ত হন। সান দিয়েগোতে নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পর জিনেটও তার সঙ্গে কাজ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্টাইলিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের পাঁচ সন্তান, ১০ নাতি-নাতনি এবং ছয় প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী ছিল।   জীবনের শেষ সময়ে এসে দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২০১৫ সালের মে মাসে পড়ে গিয়ে আলেকজান্ডারের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরিবার বুঝতে পারে, সময় খুব বেশি নেই। তখন হসপিস কেয়ার তাদের বাড়িতেই ব্যবস্থা করা হয়। আলেকজান্ডারের জন্য একটি বিছানা এনে সেটি জিনেটের বিছানার পাশে রাখা হয়, যাতে তারা শেষ সময়েও পাশাপাশি থাকতে পারেন।   তাদের ৭৫তম বিবাহবার্ষিকী ছিল ২৯ জুন। কিন্তু আলেকজান্ডারের অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় পরিবার আগেই ছোট করে সেই দিনটি উদযাপন করে। ঘরে আনা হয় ফুল ও বেলুন। পরিবারের সদস্যরা তাদের বিবাহের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেন, যখন আলেকজান্ডার জীবনের শেষ সময় পার করছিলেন।   ১৭ জুন আলেকজান্ডার স্ত্রীর কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের সদস্য অ্যাইমি টকজকো-কুশম্যান পরে জানান, মাকে স্বামীর মৃত্যুর কথা বলার পর জিনেট তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তিনি তাকে ভালোবাসেন এবং অপেক্ষা করতে, তিনি শিগগিরই তার কাছে আসবেন।   এরপর জিনেটকে কিছু সময় স্বামীর পাশে থাকতে দেওয়া হয়। পরদিন, ১৮ জুন, আলেকজান্ডারের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ৯৬ বছর বয়সী জিনেটও মারা যান। পরিবারের কাছে এটি ছিল তাদের দীর্ঘ জীবনের ভালোবাসা ও একসঙ্গে থাকার শেষ প্রতিশ্রুতির এক আবেগঘন পরিণতি।   আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর জিনেটের বলা শেষ কথাগুলোই পরে এই দম্পতির গল্পের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে। সন্তানদের বর্ণনা অনুযায়ী, সারাজীবন একসঙ্গে থাকা এই দুজন জীবনের শেষ মুহূর্তেও আলাদা থাকতে চাননি। তাদের শেষ ইচ্ছা ছিল নিজেদের ঘরে, একে অপরের হাত ধরে এবং কাছাকাছি থেকে বিদায় নেওয়া।   ২০১৫ সালের ২৯ জুন তাদের যৌথভাবে দাফন করা হয়। একই দিনে তাদের ৭৫তম বিবাহবার্ষিকীও ছিল। জীবনের শুরুতে আট বছর বয়সে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, সাত দশকের বেশি সময় পর সেই সম্পর্কের শেষ অধ্যায়ও তারা প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি থেকেই শেষ করেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:১২
ইউটাহতে বাড়ির দাম আকাশছোঁয়া
ইউটাহতে বাড়ির দাম আকাশছোঁয়া, কিনতে পারছেন না ৯১% ভাড়াটিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে বাড়ির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় ভাড়াটিয়াদের বড় অংশের জন্য নিজের বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর কেম সি. গার্ডনার পলিসি ইনস্টিটিউটের ২০২৫-২৬ স্টেট অব দ্য স্টেটস হাউজিং মার্কেট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে অঙ্গরাজ্যটির ৯১ শতাংশ ভাড়াটিয়া মাঝারি দামের একটি বাড়ি কেনার সামর্থ্যের বাইরে ছিলেন।   রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইউটাহতে সব ধরনের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এক বছর আগে এই দাম ছিল ৫ লাখ ডলার। ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যটির মধ্যম বাড়ির দাম ৫ লাখ ২ হাজার ডলারে উঠেছিল। এরপর কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে।   একক পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এসব বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯০০ ডলার। ২০১৬ সালে একই ধরনের বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ ডলার। বর্তমানে ইউটাহ একক পরিবারের বাড়ির দামের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাজারগুলোর মধ্যে দশম অবস্থানে রয়েছে।   রিপোর্টের হিসাবে, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ইউটাহতে একটি মধ্যম দামের বাড়ি কিনতে হলে বছরে প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮০০ ডলার আয় প্রয়োজন। অথচ অঙ্গরাজ্যটির মধ্যম পরিবারের আয় ৯৬ হাজার ৬৫৮ ডলার। ভাড়াটিয়া পরিবারের মধ্যম আয় আরও কম, প্রায় ৬৪ হাজার ডলার। ২০২৫ সালে এই আয়ের পর্যায়ে থাকা ভাড়াটিয়াদের সামর্থ্যের মধ্যে ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বিক্রি হওয়া বাড়ি।   বাড়ি কেনার তুলনায় বর্তমানে ভাড়া থাকা অনেক পরিবারের জন্য মাসিক খরচও তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৩ সাল থেকে ইউটাহতে মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট সাধারণত ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে ছিল, যেখানে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ধরা হয়নি। একই সময়ে গড় অ্যাপার্টমেন্ট রেন্ট ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ ডলার। ফলে অনেক পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া থাকা এখনো তাৎক্ষণিকভাবে কম ব্যয়ের বিকল্প।   তবে ভাড়ার বাজারে কিছুটা স্বস্তির চিত্রও রয়েছে। ২০২৫ সালে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা প্রতি ১০০টি পরিবারের বিপরীতে ১০৮টি সাশ্রয়ী রেন্টাল ইউনিট ছিল। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১০০টি। এর প্রভাবে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্টের চাওয়া রেন্ট ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে একই সময়ে একক পরিবারের বাড়ির রেন্ট ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং টাউনহোমের রেন্ট ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।   বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্রথমবারের ক্রেতাদের সহায়তায় ইউটাহতে কিছু কর্মসূচিও রয়েছে। এর মধ্যে ফার্স্ট-টাইম হোমবায়ার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে যোগ্য ক্রেতারা ডাউন পেমেন্ট, ক্লোজিং কস্ট ও সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং বাড়ির মূল্যের ক্ষেত্রেও সীমা রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ি কেনার লক্ষ্য থাকলে আয় থেকে যা অবশিষ্ট থাকে তা সঞ্চয় করার পরিবর্তে ডাউন পেমেন্টের জন্য আলাদা সেভিংস পরিকল্পনা করা বেশি কার্যকর। ইউটাহর বর্তমান আবাসন বাজারের হিসাব বলছে, বাড়ির দাম ও আয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকায় ভাড়াটিয়াদের জন্য সেই লক্ষ্য পূরণ করা আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১:১
কলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য, পরে কক্ষে ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ
কলকাতায় মুসলিম উপাধ্যক্ষকে পদত্যাগে বাধ্য, পরে কক্ষে ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর পদত্যাগ করেছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম। শুক্রবার পুলিশি নিরাপত্তায় ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তিনি দাবি করেন, স্বেচ্ছায় নয়, আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তার চলে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ কলেজ ভবনে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। ঘটনাটি নিয়ে কলকাতায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।    ঘটনার সূত্রপাত কম উপস্থিতি নিয়ে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, তাদের সেমিস্টার পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং ক্লাসের সময় পরিবর্তনের কারণে তাদের উপস্থিতি কমেছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনার পর বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয় এবং শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষের কক্ষ ঘেরাও করে।    বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, কম উপস্থিতির কারণে তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে উপস্থিতির নিয়ম মানা প্রয়োজন। এ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হলেও বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।    প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর শুক্রবার উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম কলেজ থেকে বের হন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল এবং আলো, ফ্যানসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পানি ও খাবারের মতো মৌলিক সুবিধা থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি সময়মতো সহায়তা পাননি।    পদত্যাগপত্রে পরিবার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ থাকলেও কলেজ থেকে বের হওয়ার পর তারান্নুম বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। আন্দোলনের চাপের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।    অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার রক্ষার জন্যই তারা আন্দোলন করেছে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কৌস্তভ বাগচীও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।    এদিকে উপাধ্যক্ষ কলেজ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ ধূপ জ্বালিয়ে ও গঙ্গাজল ছিটিয়ে কলেজ ভবনের কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। এই কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের একাংশ এটিকে কলেজে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখালেও ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।    পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার থেকেই কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে উপাধ্যক্ষকে উদ্ধারের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি। শুক্রবার সকালে উপাধ্যক্ষের পক্ষ থেকে ই-মেইল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।    কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ, কলেজে ক্লাসের পরিবেশ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উপাধ্যক্ষের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন বৃহত্তর প্রশাসনিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তদন্তের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে উপাধ্যক্ষের জোরপূর্বক পদত্যাগের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ০:৩৭