- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর পদত্যাগ করেছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম। শুক্রবার পুলিশি নিরাপত্তায় ক্যাম্পাস ছাড়ার পর তিনি দাবি করেন, স্বেচ্ছায় নয়, আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তার চলে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ কলেজ ভবনে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও ধূপ জ্বালিয়ে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। ঘটনাটি নিয়ে কলকাতায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত কম উপস্থিতি নিয়ে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, তাদের সেমিস্টার পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং ক্লাসের সময় পরিবর্তনের কারণে তাদের উপস্থিতি কমেছে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনার পর বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয় এবং শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষের কক্ষ ঘেরাও করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, কম উপস্থিতির কারণে তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অবস্থান ছিল, পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে উপস্থিতির নিয়ম মানা প্রয়োজন। এ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হলেও বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর শুক্রবার উপাধ্যক্ষ মহম্মদি তারান্নুম কলেজ থেকে বের হন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল এবং আলো, ফ্যানসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পানি ও খাবারের মতো মৌলিক সুবিধা থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি সময়মতো সহায়তা পাননি। পদত্যাগপত্রে পরিবার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ থাকলেও কলেজ থেকে বের হওয়ার পর তারান্নুম বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। আন্দোলনের চাপের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাধ্যক্ষকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অধিকার রক্ষার জন্যই তারা আন্দোলন করেছে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কৌস্তভ বাগচীও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। এদিকে উপাধ্যক্ষ কলেজ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ ধূপ জ্বালিয়ে ও গঙ্গাজল ছিটিয়ে কলেজ ভবনের কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ করে। এই কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের একাংশ এটিকে কলেজে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখালেও ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার থেকেই কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে উপাধ্যক্ষকে উদ্ধারের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি। শুক্রবার সকালে উপাধ্যক্ষের পক্ষ থেকে ই-মেইল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কম উপস্থিতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ, কলেজে ক্লাসের পরিবেশ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উপাধ্যক্ষের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ এখন বৃহত্তর প্রশাসনিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তদন্তের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে উপাধ্যক্ষের জোরপূর্বক পদত্যাগের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফিলিপাইনের বুটুয়ান শহরের লিবার্টাদ এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন কাটার কাজ থেকেই একসময় বেরিয়ে এসেছিল প্রাচীন বালাঙ্গাই নৌকার সন্ধান। ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া সেই আবিষ্কারের ৫০ বছর পর, ২০২৬ সালে একই এলাকায় নতুন করে খনন চালিয়ে আরও কাঠের অংশ পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের প্রাথমিক ধারণা, এগুলো প্রাচীন আরেকটি বুটুয়ান নৌকার অংশ হতে পারে। লিবার্টাদ এলাকার মাটির নিচে পাওয়া এসব নৌকা শুধু কয়েকটি পুরোনো কাঠের টুকরা নয়। এগুলো এমন এক সময়ের সাক্ষ্য বহন করে, যখন বর্তমান ফিলিপাইন রাষ্ট্রের জন্মের বহু শতাব্দী আগেই বুটুয়ান ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্র। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় বালাঙ্গাই নৌকাগুলোকে প্রাক-ঔপনিবেশিক ফিলিপাইনের উন্নত নৌনির্মাণ ও সমুদ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বুটুয়ানের বালাঙ্গাই আবিষ্কারের বড় অধ্যায় শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। লিবার্টাদের একটি পুরোনো নদীখাত এলাকায় খননের সময় কাঠের তৈরি নৌকার কাঠামো পাওয়া যায়। পরবর্তী কয়েক বছরে একই এলাকায় একাধিক নৌকার সন্ধান মেলে। ফিলিপাইনের ন্যাশনাল মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ১১টি বালাঙ্গাইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। নৌকাগুলোর বয়স নির্ধারণে রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, এগুলোর কয়েকটি খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত। কিছু নৌকার বয়স আরও পুরোনো হওয়ার তথ্যও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এগুলো তৈরি হয়েছিল কাঠের বড় বড় প্ল্যাঙ্ক জোড়া দিয়ে। কাঠের অংশগুলোকে পেগ বা ডাওয়েল দিয়ে সংযুক্ত করা ছিল নির্মাণপ্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রাচীন বুটুয়ানের সঙ্গে সামুদ্রিক বাণিজ্যের সম্পর্কও এসব নৌকার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব দ্য ফিলিপাইনের তথ্য অনুযায়ী, খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে বুটুয়ান ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। স্থানীয়রা সমুদ্র ও বন থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন পণ্য বিদেশি পণ্যের সঙ্গে বিনিময় করত। ফলে এসব নৌকা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম ছিল না, বরং তখনকার আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের অংশ ছিল। এই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে ২০২৬ সালে। প্রথম বালাঙ্গাই আবিষ্কারের ৫০ বছর পূর্তিতে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব দ্য ফিলিপাইনস আবারও লিবার্টাদ এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক খননে তিনটি কাঠের প্ল্যাঙ্ক পাওয়া গেছে। এর একটি অংশে এমন কাঠের উঁচু অংশ বা লাগ রয়েছে, যা বুটুয়ান নৌকার নির্মাণপ্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলেননি যে এগুলো নতুন কোনো বালাঙ্গাই। ন্যাশনাল মিউজিয়ামের গবেষকদের মতে, কাঠের অংশগুলো আগে নথিভুক্ত কোনো নৌকার অংশ হতে পারে, আবার এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রাচীন নৌকারও অংশ হতে পারে। আরও গবেষণা ও খননের পর বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে যে মাটির নিচ থেকে প্রাচীন বুটুয়ানের অস্তিত্ব সামনে এসেছিল, সেই একই এলাকায় আজও খনন চলছে। নদীর গতিপথ বদলেছে, শত শত বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থেকেছে কাঠের নৌকাগুলো, আর তার ওপর গড়ে উঠেছে নতুন জনপদ। কিন্তু মাটির স্তর সরালেই বেরিয়ে আসছে এমন এক সময়ের চিহ্ন, যখন সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও যোগাযোগের মাধ্যমে বুটুয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বালাঙ্গাই এখন শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, ফিলিপাইনের সামুদ্রিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ২০২৬ সালে ফিলিপাইনের আসিয়ান চেয়ারশিপের লোগোতেও বালাঙ্গাইকে স্থান দেওয়া হয়েছে। আর বুটুয়ানের লিবার্টাদে নতুন কাঠের সন্ধান ইঙ্গিত দিচ্ছে, শহরটির মাটির নিচে প্রাচীন সেই সামুদ্রিক ইতিহাসের আরও অনেক অধ্যায় এখনো অপ্রকাশিত থাকতে পারে।
ম্যাসাচুসেটসের সালেমের একটি সৈকতে ১৯৬৫ সালে ডুবে যেতে বসা চার বছরের শিশু রজার লসিয়ারকে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছিলেন অ্যালিস ব্লেইজ। নয় বছর পর, ১৯৭৪ সালে, একই সৈকতে পানিতে ডুবে যাওয়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে ছুটে যান ১৩ বছরের সেই রজার। পরে জানা যায়, উদ্ধার করা ব্যক্তিই ছিলেন অ্যালিস ব্লেইজের স্বামী বব ব্লেইজ। একই সৈকতে নয় বছরের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই জীবনরক্ষার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত কাকতালীয় ঘটনার উদাহরণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকাশিত বর্ণনায় উঠে এসেছে। ঘটনাটির শুরু ১৯৬৫ সালে। তখন রজার লসিয়ার মাত্র চার বছরের শিশু। সালেমের একটি সৈকতে পানিতে গিয়ে বিপদে পড়ে সে। সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে ফিরতে না পেরে ডুবে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে অ্যালিস ব্লেইজ শিশুটিকে দেখতে পান। কোনো দ্বিধা না করে তিনি পানিতে এগিয়ে গিয়ে রজারকে উদ্ধার করেন। সেদিন অ্যালিসের কাছে এটি ছিল একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর ঘটনা। কিন্তু তিনি তখন জানতেন না, প্রায় এক দশক পর সেই একই শিশুর সঙ্গে তার পরিবারের এমন এক সম্পর্ক তৈরি হবে, যা সাধারণ কাকতালীয় ঘটনার অনেক বাইরে চলে যাবে। নয় বছর পর ১৯৭৪ সালে রজারের বয়স তখন ১৩ বছর। সেই একই সৈকতে সে পানিতে থাকা একটি ভেলায় ছিল। এ সময় পানিতে এক ব্যক্তিকে বিপদে পড়তে দেখে রজার সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায়। প্রকাশিত বর্ণনা অনুযায়ী, লোকটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিলেন। রজার তার কাছে পৌঁছে তাকে পানির ওপরে ধরে রাখে এবং পরে সাহায্য আসা পর্যন্ত তাকে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। তবে তখনও রজার জানত না, সে কাকে বাঁচাচ্ছে। উদ্ধারের পর যখন পরিচয় জানা গেল, তখন ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। পানিতে ডুবে যাওয়া সেই ব্যক্তি ছিলেন বব ব্লেইজ। আর ববের স্ত্রী অ্যালিস ব্লেইজই ছিলেন সেই নারী, যিনি নয় বছর আগে চার বছরের রজারকে একই সৈকতে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে অ্যালিস যে শিশুটির জীবন রক্ষা করেছিলেন, ১৯৭৪ সালে সেই শিশুই অ্যালিসের স্বামীর জীবন রক্ষা করে। দুই ঘটনার স্থান একই, ব্যবধান মাত্র নয় বছর এবং দুই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন একই পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল রজারের জন্যও। উদ্ধার করার সময় সে জানত না বব কে। পরে বিষয়টি জানার পরই ১৯৬৫ সালের সেই ঘটনার সঙ্গে ১৯৭৪ সালের ঘটনাটির যোগসূত্র স্পষ্ট হয়। বিভিন্ন প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, পরে রজারকে তার সাহসিকতার জন্য সম্মানিতও করা হয় এবং তখনই ঘটনাটির এই অসাধারণ যোগসূত্র আরও আলোচনায় আসে। রজার লসিয়ার ও অ্যালিস-বব ব্লেইজের এই ঘটনা বহু বছর ধরে অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন শিক্ষামূলক বই ও প্রকাশনায়ও একই ঘটনাকে অবিশ্বাস্য কাকতালীয়তার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একজন অচেনা নারী চার বছরের একটি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন। নয় বছর পর সেই শিশুই না জেনে ওই নারীর স্বামীকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন। একই সৈকত, দুইটি আলাদা দুর্ঘটনা এবং দুইটি জীবনরক্ষার ঘটনা যেন একটি অদ্ভুত বৃত্ত সম্পূর্ণ করে। মানুষের জীবনে কিছু ঘটনা কেবল কাকতালীয় হলেও, রজার লসিয়ার ও ব্লেইজ পরিবারের এই গল্পটি সেই বিরল ঘটনাগুলোর একটি, যা সময় পেরিয়ে গেলেও মানুষের মনে বিস্ময় জাগায়।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশির একজন ছিলেন সাব্বির আহমেদ। হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে তার পরিবারের সদস্যরাও নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেখানে প্রিয়জনের স্মৃতি ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফিরে আসে সেই ভয়াবহ দিনের শোক ও বেদনা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজ২৪ জানায়, ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোতে নিহতদের স্বজনদের উপস্থিতি ছিল। সেখানে সাব্বির আহমেদসহ হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদেরও দেখা যায়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ ও সাউথ টাওয়ারে আঘাত হানে। দুটি টাওয়ারই পরে ধসে পড়ে। আরেকটি বিমান আঘাত করে ওয়াশিংটন ডিসির কাছে পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়। সেদিনের হামলায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জন ছিলেন বাংলাদেশি। তারা হলেন শাকিলা ইয়াসমিন, নুরুল হক মিয়া, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে চৌধুরী, সাব্বির আহমেদ ও মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ২০২৬ সালের ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণ অনুষ্ঠানে তাদের স্বজনদের উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। সাব্বির আহমেদের জীবন ও পরিবারের বিষয়ে প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে ৯/১১ হামলার নিহতদের তালিকায় তার নাম রয়েছে এবং তার স্বজনরা গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সাব্বিরের পরিবারের জন্য নিউইয়র্কের এই স্থান শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, বরং ২৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একজন আপনজনের স্মৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জায়গা। গ্রাউন্ড জিরোর ৯/১১ মেমোরিয়ালে সাবেক টুইন টাওয়ারের জায়গায় দুটি বিশাল রিফ্লেক্টিং পুল রয়েছে। চারপাশের ব্রোঞ্জের প্যারাপেটে হামলায় নিহতদের নাম খোদাই করা হয়েছে। ২০১১ সালে হামলার দশম বার্ষিকীতে মেমোরিয়ালটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। নিহতদের নামের পাশে দাঁড়িয়ে স্বজনদের অনেকেই প্রতিবছর প্রিয়জনকে স্মরণ করেন। ২৫ বছর পর নিউইয়র্কের আকাশরেখা বদলে গেছে। টুইন টাওয়ারের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্স এবং ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। কিন্তু নিহতদের পরিবারের কাছে উন্নত ভবন বা পুনর্গঠিত শহর সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারেনি। সাব্বির আহমেদের পরিবারের জন্যও ৯/১১-এর স্মৃতি তাই কেবল ইতিহাস নয়, একজন আপন মানুষকে হারানোর দীর্ঘস্থায়ী বেদনা। ২০২৬ সালের স্মরণ অনুষ্ঠান সেই ইতিহাসকেই আবার সামনে এনেছে। ২৫ বছর পরও গ্রাউন্ড জিরোর স্মৃতিফলকে খোদাই করা নামগুলো স্বজনদের কাছে শুধু নাম নয়, প্রতিটি নামের পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবন এবং অপূরণীয় এক শূন্যতার গল্প।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্লানো শহরে একটি মসজিদের বাইরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ হলেও ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই চলেছে জুমার নামাজ। শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব কলিন কাউন্টির বাইরে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ইসলাম ও শরিয়াহ আইনবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। একই সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি জানাতে সেখানে পাল্টা বিক্ষোভেও অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। ১১ সেপ্টেম্বর ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী। এই দিনটিকেই বিক্ষোভের জন্য বেছে নেয় লোন স্টার লিজিওনারিজ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্লানোর ৬৪০১ ইন্ডিপেনডেন্স পার্কওয়ের মসজিদটির সামনে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ‘স্ট্যান্ড ফর টেক্সাস’ নামে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ডালাস মর্নিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ৫০ জন অংশ নেন। তাদের হাতে শরিয়াহ আইনবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। কিছু বিক্ষোভকারী অস্ত্রও বহন করছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরে থাকা মুসল্লিদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়েছিল এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। বিক্ষোভ চলার সময়ও মসজিদের ভেতরে জুমার নামাজ স্বাভাবিক নিয়মে অনুষ্ঠিত হয়। নারীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। প্রায় তিন দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী জেবা সিদ্দিকি বিক্ষোভের খবর জানার পরও নামাজে অংশ নেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিদের ভয় পেয়ে স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং তারা যেভাবে নিয়মিত নামাজ পড়েন, সেভাবেই সেদিনও নামাজ আদায় করতে চেয়েছেন। নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে মুসল্লিদের একাংশকে দেখা যায়। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যরাও এলাকায় নজরদারি করেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, তারা টেক্সাসে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছেন। বিক্ষোভের আয়োজক ব্র্যান্ডন বারখার্ট বলেন, ধর্মের আড়ালে কথিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ঠেকাতে তারা প্রতিবাদ করছেন। তবে এসব বক্তব্যের সঙ্গে মসজিদ বা স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিক্ষোভের বিপরীতে প্রায় ৪০ জন পাল্টা বিক্ষোভকারী মসজিদের কাছে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল ‘প্রতিবেশীকে ভালোবাসুন’ এবং ‘বিভেদ নয়, ঐক্য’ ধরনের বার্তা। তাদের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল ক্লার্জি লিগ ফর ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যান্ড রেসপন্স বা ক্লিয়ার ডিএফডব্লিউ নামের একটি আন্তধর্মীয় জোট। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আলমাস মুসকাটওয়ালা বলেন, তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের জানাতে চেয়েছেন যে স্থানীয় অনেক মানুষ তাদের পাশে রয়েছেন। প্লানোর এই মসজিদের বাইরে বিক্ষোভ অবশ্য নতুন নয়। ডালাস মর্নিং নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর টেক্সাসে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও বিক্ষোভের ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যে ম্যাককিনিতে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে। ফ্রিসকোতেও এক মেয়র প্রার্থীর মুসলিম ও ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আগস্টে কেরা নিউজের এক প্রতিবেদনে উত্তর টেক্সাসে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবেদনে টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং তাদের ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কথা বলা হয়। ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব কলিন কাউন্টির সভাপতি আকরাম সাইয়েদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের পরিস্থিতি আগের কয়েক দশকের তুলনায় আলাদা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সম্প্রদায়কে খুব বেশি বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমদের নিয়ে অন্যায়ভাবে আলাদা করে দেখানো ও প্রান্তিক করার প্রবণতা বেড়েছে। মসজিদটির দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মসজিদটিতে আসেন। এটি শুধু নামাজের স্থান নয়, স্থানীয় মুসলিমদের জন্য সামাজিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক মিলনকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তা পোশাক পরা কয়েকজন মুসল্লি ওয়াকিটকি নিয়ে মসজিদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি করেন। তবে বিক্ষোভের কারণে জুমার নামাজ বা মসজিদের অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য জেবা সিদ্দিকি আশা প্রকাশ করেন, যারা ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, তারা একদিন সরাসরি মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাদের জীবনযাপন ও ধর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে তৈরি ধারণার বাইরে বাস্তব মুসলিম সম্প্রদায়কে জানার সুযোগ থাকলে অনেক ভুল ধারণা দূর হতে পারে। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর টেক্সাসে ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে বিতর্ক নতুন করে তীব্র হয়েছে। তবে বিক্ষোভের মধ্যেও প্লানোর মসজিদে জুমার নামাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় মুসল্লিরা তাদের স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। সূত্র: ডালাস মর্নিং নিউজ, ডালাস এক্সপ্রেস ও লোন স্টার লিজিওনারিজের নিজস্ব ওয়েবসাইট।
২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি (AARP) ধারণা করছে, আগামী বছর সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কস্ট-অফ-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট (COLA) প্রায় ৩.৬ শতাংশ হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে ২০২৭ সালের প্রকৃত COLA নির্ধারণ করা হবে। নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর এএআরপির পূর্বাভাস আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BLS) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে শহরাঞ্চলের মজুরি ও কেরানি কর্মীদের জন্য ভোক্তা মূল্যসূচক বা CPI-W গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৫ শতাংশ বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বার্ষিক COLA নির্ধারণে এই সূচকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের CPI-W-এর গড়ের সঙ্গে আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের গড় তুলনা করে COLA নির্ধারণ করা হয়। ফলে আগস্টের তথ্য হাতে এলেও সেপ্টেম্বরের হিসাব ছাড়া ২০২৭ সালের চূড়ান্ত হার বলা সম্ভব নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পরই চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে। ভাতা কত বাড়তে পারে ৩.৬ শতাংশ COLA কার্যকর হলে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা অনেক সুবিধাভোগীর মাসিক ভাতা বাড়বে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জুলাই ২০২৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা ছিল ২,০৮৫.৯৮ ডলার। ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি হলে এই পরিমাণে মাসে প্রায় ৭৫ ডলার যোগ হতে পারে। অর্থাৎ গড় ভাতা প্রায় ২,১৬১ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে। এএআরপির বিশ্লেষণে অন্যান্য সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। জুলাইয়ের গড় হিসাবে, স্বামী বা স্ত্রী হারানো সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা প্রায় ১,৯৩৩ ডলার হলে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধিতে তা প্রায় ৭০ ডলার বাড়তে পারে। প্রতিবন্ধী কর্মীদের গড় সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ১,৬৩৫ ডলারের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে মাসে প্রায় ৫৯ ডলার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রকৃত বৃদ্ধির পরিমাণ আলাদা হবে। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ, কর, মেডিকেয়ার প্রিমিয়ামসহ অন্যান্য কর্তন থাকলে ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো অর্থের পরিমাণ অনুমানের চেয়ে কম হতে পারে। কেন বাড়ছে COLA সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার COLA মূলত মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য দেওয়া হয়। খাদ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় খাতে দাম বাড়লে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্তদের ওপর তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ে। এএআরপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পণ্যের ওপর শুল্ক এবং জ্বালানি দামের বাড়তি চাপ মূল্যস্ফীতিকে উঁচু রাখতে ভূমিকা রাখছে। ন্যাশনাল একাডেমি অব সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্সের বিশিষ্ট ভিজিটিং ফেলো ইন্দিভার দত্ত-গুপ্তা এএআরপিকে বলেন, বয়স্ক আমেরিকানরা বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বেশি অনুভব করছেন, কারণ নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের এসব খরচ সামঞ্জস্য করার সুযোগ তুলনামূলক কম। সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় কত বেশি ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার COLA ছিল ২.৮ শতাংশ। ২০২৭ সালে যদি ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি চূড়ান্ত হয়, তাহলে সেটি ২০২৬ সালের তুলনায় ০.৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি হবে। একই সঙ্গে এটি ২০২৩ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি হতে পারে। ২০২৩ সালে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৮.৭ শতাংশ বেড়েছিল। এর পরের বছরগুলোতে বৃদ্ধি তুলনামূলক কম ছিল। ২০২৪ সালে COLA ছিল ৩.২ শতাংশ, ২০২৫ সালে ২.৫ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২.৮ শতাংশ। ফলে ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের তুলনায় সুবিধাভোগীরা তুলনামূলক বড় সমন্বয় পাবেন। তবে বেশি COLA মানেই যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমে যাবে, তা নয়। মূল্যস্ফীতি যদি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বৃদ্ধির কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা খুব বেশি বাড়বে না। অতীতেও এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, যখন COLA বৃদ্ধির পরও খাদ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার দ্রুত বাড়তে থাকা খরচ সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ তৈরি করেছে। কবে চূড়ান্ত হবে ২০২৭ সালের COLA এখনো পূর্বাভাসের পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের CPI-W তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন চূড়ান্ত হিসাব করবে। বর্তমানে সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ১৪ অক্টোবর প্রকাশ হওয়ার কথা এবং এর পরই ২০২৭ সালের COLA আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হবে। নতুন সমন্বয় কার্যকর হবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির সুবিধা প্রদানের সঙ্গে। অর্থাৎ বর্তমানে ৩.৬ শতাংশকে সম্ভাব্য হার হিসেবে দেখা হলেও সেটিকে চূড়ান্ত ধরে বাজেট বা ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্যের ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীরা কতটা বাড়তি অর্থ পাবেন। সূত্র: এএআরপি, যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফ, জে ও আই শ্রেণির অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়মে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমোদিত সময় সাধারণত তাদের শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে। তবে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর হতে পারবে। কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা বা শিক্ষাক্রমে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন এফ-১ শিক্ষার্থীরা সাধারণত ‘অবস্থানের মেয়াদ পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতেন। অর্থাৎ শিক্ষার্থী যতদিন অনুমোদিত শিক্ষাক্রমে নিয়ম মেনে পড়াশোনা করতেন, ততদিন তাদের অবস্থানের মেয়াদ বহাল থাকত। নতুন নিয়মে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শেষ তারিখ দেওয়ার বিধান করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থীর অনুমোদিত অবস্থানের সময় শেষ হয়ে গেলে এবং তিনি আরও সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে তাকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নিজের শিক্ষাক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করতে হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে নতুন মেয়াদে অবস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে। শুধু এফ-১ শিক্ষার্থী নয়, জে-১ বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপরও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ব্যবহৃত আই শ্রেণির অবস্থানের মেয়াদও নির্দিষ্ট সময়ের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে পরিবর্তনটি শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নয়, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরও কিছু অস্থায়ী ভিসাধারীর ওপরও প্রভাব ফেলবে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে আলাদা বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মের কারণে বৈধভাবে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে ১৫ সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নয়। তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের পরিবর্তনকালীন বিধান এবং অনুমোদিত অবস্থানের তথ্য বিবেচনা করা হবে। নতুন বিধানে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য এফ-১ শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময়ের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর নতুন করে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা বা অনুমোদিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় ৩০ দিন করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনকালীন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর নিয়মটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে অস্থায়ী ভিসাধারীদের অবস্থান ও ভিসার শর্ত মানার বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, এফ ও জে শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থান চালু করার পাশাপাশি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন প্রক্রিয়া থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা যথেষ্ট হবে না; যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বৈধ অবস্থানের সময়সীমার দিকেও নিয়মিত নজর রাখতে হবে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় শিক্ষাক্রমের মেয়াদ বেড়ে গেলে, পড়াশোনার পরিকল্পনায় পরিবর্তন হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাক্রম শেষ করা সম্ভব না হলে আগেভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে। নিজের অবস্থানের নথি, শিক্ষাক্রমের শেষ তারিখ এবং অবস্থান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এর বিরুদ্ধে করা মামলার কারণে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও নজরে থাকবে। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার বেশিরভাগ শ্রেণির নির্ধারিত তারিখ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ভিসার চাহিদা ও ব্যবহারের হার বাড়তে থাকলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশের নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি বার্ষিক ভিসার সীমা পূরণ হলে এসব শ্রেণি অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয়, তাদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সেপ্টেম্বরেও উন্মুক্ত রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এবং অন্যান্য শ্রমিক শ্রেণির তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২। পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশও বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে উন্মুক্ত থাকার অর্থ এই নয় যে এসব শ্রেণির বর্তমান অবস্থা পুরো অর্থবছর একই থাকবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে আবেদনকারীর চাহিদা বাড়লে বা ভিসা ব্যবহারের হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বার্ষিক সীমা পূরণ হলে কোনো শ্রেণিকে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই অনুপলব্ধ ঘোষণা করা সম্ভব। বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি নিয়ে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শ্রেণি উন্মুক্ত থাকলেও চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের হার বাড়লে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে অথবা শ্রেণিটি অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশ নিয়েও একই সতর্কতা রয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শ্রেণি বর্তমানে উন্মুক্ত। তবে চাহিদা বাড়লে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ পিছিয়ে দেওয়া বা ভিসার বার্ষিক সীমা পূরণ হলে শ্রেণিটি অনুপলব্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্ব এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত পঞ্চম শ্রেণির তিনটি অংশ সেপ্টেম্বরেও সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম শ্রেণিতে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ভারতের জন্য এই শ্রেণিও অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। ভারতের কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি সেপ্টেম্বরেও অনুপলব্ধ রয়েছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেও সেপ্টেম্বরের জন্য আলাদা চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণির তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২০, দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘এ’ শ্রেণির ২২ আগস্ট ২০২৬, দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘বি’ শ্রেণির ২২ আগস্ট ২০১৯, তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির ২২ অক্টোবর ২০১৪ এবং চতুর্থ অগ্রাধিকার শ্রেণির ২২ অক্টোবর ২০১১। ভিসা বুলেটিনে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ বলতে বোঝানো হয়েছে—কোনো আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ ওই নির্ধারিত তারিখের আগের হলে তার ভিসা ইস্যুর জন্য সংখ্যা পাওয়া যেতে পারে। আর নথি জমা দেওয়ার তারিখ আলাদা বিষয়। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করা কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখের তালিকা ব্যবহার করতে হবে বলে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা জানিয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিবারভিত্তিক অগ্রাধিকার অভিবাসী ভিসার সীমা ২ লাখ ২৬ হাজার এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অগ্রাধিকার অভিবাসী ভিসার সীমা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বার্ষিক সীমার কারণে কোনো শ্রেণিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের জন্য তারিখ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসী ভিসা কর্মসূচির ২০২৬ সালের আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিতদের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার সঙ্গে শেষ হবে। তবে তার আগেই নির্ধারিত ভিসার সংখ্যা শেষ হয়ে যেতে পারে বলে পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে। ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের তাই নিজেদের ভিসার শ্রেণি, কোন দেশের কোটায় আবেদন করছেন এবং অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির আবেদনকারীদের সামনে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে তারিখ পরিবর্তন বা ভিসা অনুপলব্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরবর্তী সরকারি আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন, ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পাওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ৪২টি দেশ। এসব দেশের যোগ্য নাগরিকদের প্রচলিত ভিসার জন্য দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন না করে ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএর মাধ্যমে ভ্রমণের অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা ‘ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত। কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশের নাগরিকরা সাধারণত পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বৈধ ইএসটিএ অনুমোদন থাকতে হবে। বর্তমানে কর্মসূচিতে ৪২টি দেশ রয়েছে। তালিকায় ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশও রয়েছে। তালিকায় রয়েছে অ্যান্ডোরা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ব্রুনেই, চিলি, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, লাটভিয়া, লিশটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, কাতার, সান মারিনো, সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য। কাতার এই কর্মসূচির সর্বশেষ সংযোজন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র কাতারকে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করে। একই বছরের ২১ নভেম্বর থেকে কাতারের নাগরিকদের জন্য ইএসটিএ আবেদন চালু হয়। কাতারকে কর্মসূচির ৪২তম সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল। ইএসটিএ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের পরিচালিত একটি অনলাইন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য যোগ্য কি না, তা আগেই যাচাই করা হয়। ইএসটিএ অনুমোদন পাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হওয়া নয়। বিমানবন্দর বা অন্য প্রবেশপথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তারা। ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণকারীদের নির্দিষ্ট শর্তও পূরণ করতে হয়। যেমন বৈধ ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট থাকতে হয় এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করতে হয়। এছাড়া কিছু ভ্রমণ ইতিহাস থাকলে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের সুবিধা পাওয়া যায় না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির কোনো দেশের নাগরিক ২০১১ সালের ১ মার্চের পর উত্তর কোরিয়া, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া বা ইয়েমেনে ভ্রমণ বা অবস্থান করলে সাধারণত এই কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণের যোগ্যতা হারাতে পারেন। একইভাবে ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারির পর কিউবায় ভ্রমণ বা অবস্থানের ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ভিসা প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশ ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের ৪২ দেশের তালিকায় নেই। ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যেতে হলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছিল। তবে ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে আদালতের আদেশের পর ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে দপ্তরটি জানিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা বন্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে এমন দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে যাদের নাগরিকদের নির্দিষ্ট ভিজিটর ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছে। ভিসা ওয়েভার কর্মসূচিতে থাকা দেশগুলোর বেশিরভাগই ইউরোপের। এশিয়ার মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই ও তাইওয়ান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েল ও কাতার এই তালিকায় রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাগরিকরাও এই সুবিধা পান। তবে ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের সুবিধা শুধু পর্যটনের জন্য নয়। যোগ্য ব্যক্তিরা ব্যবসায়িক সফরের ক্ষেত্রেও ইএসটিএ ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি, দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনা, স্থায়ী বসবাস বা অন্য কোনো অনুমোদিত নয় এমন উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণ করা যায় না। তাই ৪২ দেশের তালিকায় থাকা মানেই ওই দেশের প্রত্যেক নাগরিক কোনো শর্ত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন, এমন নয়। ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পাসপোর্ট, ইএসটিএ অনুমোদন এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে বাংলাদেশ এই ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির অংশ নয়। ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রেও প্রচলিত ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছর দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আগেই ভাইরাসের সক্রিয়তা দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মশাবাহিত রোগের বিস্তার আগেভাগে শনাক্ত করতে ডেলাওয়্যারসহ কিছু এলাকায় বিশেষ পদ্ধতিতে মুরগি ব্যবহার করছেন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মৌসুম অস্বাভাবিকভাবে আগেই শুরু হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৮ জনের রোগ ছিল গুরুতর স্নায়ুতন্ত্রজনিত। একই সময়ে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে ভাইরাসের সক্রিয়তার খবর পাওয়া যায়। ২০০৪ সালের পর বছরের এই সময়ে এত বেশি মানব সংক্রমণ আগে দেখা যায়নি বলে সিডিসি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেলাওয়্যারের কর্মকর্তারা যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করছেন, সেটি কয়েক দশক পুরোনো। সেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় মুরগির ছোট ছোট দল রাখা হয়। এসব মুরগিকে বলা হয় ‘সেন্টিনেল চিকেন’ বা নজরদারি মুরগি। মশা কোনো ভাইরাস বহন করছে কি না, তা সরাসরি মশার সংখ্যা দেখে বোঝার বদলে এই মুরগিগুলোর শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়। পদ্ধতিটির মূল সুবিধা হলো, মুরগি ওয়েস্ট নাইল বা ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের মতো কিছু মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও সাধারণত সেই ভাইরাস ছড়ানোর উৎস হয়ে ওঠে না। অর্থাৎ তারা ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে সংকেত দিতে পারে, কিন্তু নিজেরা সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয় না। ডেলাওয়্যারের মশা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান টম মোরানের ভাষায়, মুরগিগুলো অনেকটা খনির ভেতর বিপদের আগাম সংকেত দেওয়া পাখির মতো কাজ করে। ডেলাওয়্যারে ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকেই এই কর্মসূচি চলছে। বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটির ২০টি স্থানে চারটি করে মুরগি রাখা হয়। নিয়মিত তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোনো মশাবাহিত ভাইরাসের সংস্পর্শে তারা এসেছে কি না। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট ডেলাওয়্যার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ বা ডিএনআরইসি জানিয়েছে, বছরের প্রথমবারের মতো তাদের একটি নজরদারি মুরগির মধ্যে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ওই এলাকায় ভাইরাসের সক্রিয়তার একটি সতর্কসংকেত পাওয়া গেছে। এ ধরনের তথ্য জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় মুরগির পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়লে সেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম জোরদার করা যায়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক করা সম্ভব হয়। চিকিৎসকদের জন্যও এই তথ্য কাজে আসে। বিশেষ করে মশাবাহিত রোগের মৌসুমে কোনো রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা ওয়েস্ট নাইলসহ সংশ্লিষ্ট রোগের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিতে পারেন। ঘোড়ার ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়, কারণ ওয়েস্ট নাইল ও ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস ঘোড়ার জন্যও গুরুতর হতে পারে এবং টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়। ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। মশা সাধারণত আক্রান্ত পাখি থেকে ভাইরাস গ্রহণ করে এবং পরে মানুষ বা অন্য প্রাণীকে কামড়ানোর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থতা হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মৌসুম গ্রীষ্মে শুরু হয়ে শরৎ পর্যন্ত চলতে থাকে। মানুষের মধ্যে সংক্রমণ সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তাই মৌসুমের শুরুতেই ভাইরাসের গতিবিধি শনাক্ত করা জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মশার দল পরীক্ষা করেও ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন মশার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যা মুরগির তুলনায় দ্রুত ফল দিতে পারে। কারণ মশার কামড়ের পর মুরগির শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবু ডেলাওয়্যার কর্মকর্তারা মুরগির ওপর নির্ভর করাকেই কার্যকর মনে করছেন। কারণ মশা উড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা মুরগি সেখানেই থাকে। ফলে কোনো মুরগির পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলে কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত হতে পারেন যে ওই নির্দিষ্ট এলাকার আশপাশে সংক্রমিত মশা সক্রিয় রয়েছে। ফ্লোরিডাতেও দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি মুরগির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কয়েক দশকের এসব তথ্য এখন শুধু বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য নয়, ভবিষ্যতে ওয়েস্ট নাইল বা ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের মৌসুম কতটা গুরুতর হতে পারে, তা অনুমানের গবেষণাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব ও নিমাটোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লিন্ডসে ক্যাম্পবেল দীর্ঘদিনের কাগজের রেকর্ড ডিজিটাল করে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার গবেষণায় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, ভূমির ধরন এবং পাখির চলাচলের মতো পরিবেশগত তথ্যও বিবেচনা করা হয়েছে। গবেষকদের লক্ষ্য শুধু ভাইরাস কোথায় ছড়িয়েছে তা জানা নয়, বরং কোন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বাড়তে পারে সেটিও বোঝা। উদাহরণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের কয়েক মাস আগে তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের ধরন পরবর্তী সময়ে ওয়েস্ট নাইলের সংক্রমণের মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গবেষক রবার্ট গুরালনিকের মতে, দীর্ঘদিনের নজরদারি মুরগির তথ্য ভাইরাসের গতিবিধি বোঝার জন্য মূল্যবান। অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে ভাইরাসের ওঠানামার সম্পর্ক খুঁজে বের করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার নির্ভর করে মশা, পাখি, অন্যান্য প্রাণী এবং আবহাওয়া ও পরিবেশের ওপর। ফলে কোনো মৌসুমে সংক্রমণ কতটা বাড়বে, তা একক কোনো সূচকের ভিত্তিতে নির্ভুলভাবে বলা কঠিন। তবু দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত তথ্য সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরিতে সহায়তা করছে। ডেলাওয়্যারের কর্মকর্তারা কয়েক দশকের অভিজ্ঞতায় মুরগির জাত নিয়েও পরীক্ষা করেছেন। কর্মসূচির শুরুর দিকে তারা সাদা লেগহর্ন জাতের মুরগি ব্যবহার করতেন। কিন্তু এসব মুরগি সহজেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। পরে রোড আইল্যান্ড রেড জাতের মুরগি ব্যবহার শুরু করলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়। এদিকে মশাবাহিত রোগ শনাক্তে আরও দ্রুত ও কম খরচের পদ্ধতি খুঁজতে গবেষণা চলছে। মশা ধরতে মধুর ফাঁদ ব্যবহারের মতো নতুন পদ্ধতিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে আপাতত কয়েক দশকের পুরোনো এই নজরদারি ব্যবস্থায় মুরগির ভূমিকা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিডিসির তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের তথ্য প্রাথমিক এবং পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে। সংবাদসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ডেলাওয়্যার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রে সুখী জীবনযাপনের ক্ষেত্রে কোন অঙ্গরাজ্য এগিয়ে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ওয়ালেটহাবের একটি বিশ্লেষণ। ৫০টি অঙ্গরাজ্যকে বিভিন্ন সামাজিক, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সূচকে তুলনা করে তৈরি এই তালিকায় সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে হাওয়াই। এরপর রয়েছে মেরিল্যান্ড, নেব্রাস্কা, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাট। ওয়ালেটহাবের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অঙ্গরাজ্যগুলোকে তিনটি বড় ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে ৩০টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক স্কোর তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় ৬৫ দশমিক ৫০ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে হাওয়াই। দ্বিতীয় মেরিল্যান্ড, স্কোর ৬৪ দশমিক ১৩। তৃতীয় নেব্রাস্কা ৬৩ দশমিক ৬১ স্কোর নিয়ে। নিউ জার্সি ৬৩ দশমিক ৪২ স্কোর পেয়ে চতুর্থ এবং কানেকটিকাট ৬২ দশমিক ৫৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম হয়েছে। হাওয়াইয়ের শীর্ষে থাকার পেছনে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছে। অঙ্গরাজ্যটির বাসিন্দাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার হারও তুলনামূলকভাবে কম। শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও হাওয়াই ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো বা তার চেয়ে ভালো বলে জানিয়েছেন। দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে হাওয়াইয়ের মানুষের গড় আয়ুও সবচেয়ে বেশি। শুধু স্বাস্থ্য নয়, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও হাওয়াইয়ের বাসিন্দারা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ৭২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন নিজেদের সক্রিয় ও উৎপাদনশীল মনে করেন। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও হাওয়াইয়ের অবস্থানকে শক্ত করেছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষণে অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ। পাশাপাশি বছরে ৭৫ হাজার ডলারের বেশি আয় করা পরিবারের হারও দেশটির মধ্যে অন্যতম বেশি। ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা মানুষের হারও তুলনামূলকভাবে কম। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেরিল্যান্ডের শক্তির জায়গা মানসিক স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্পর্ক। অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। ৭৫ হাজার ডলারের বেশি বার্ষিক আয় করা পরিবারের অনুপাতও দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। মেরিল্যান্ডের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ নিজেদের দৈনন্দিন কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অঙ্গরাজ্যটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। সহায়ক সম্পর্ক ও জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতির কথা জানানোর হারও সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি। আত্মহত্যার হারও দেশটির মধ্যে পঞ্চম সর্বনিম্ন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা নেব্রাস্কার ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দেশটির অন্যতম কম। কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যবিমা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার সমন্বিত সূচকে নেব্রাস্কা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু সূচকেও নেব্রাস্কা এগিয়ে। সেখানে বিষণ্নতার হার দেশটির ষষ্ঠ সর্বনিম্ন। প্রাপ্তবয়স্কদের নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো বা তার চেয়ে ভালো মনে করার হারও বেশ উঁচু। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অঙ্গরাজ্যটির অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো। বিচ্ছেদ ও বিবাহবিচ্ছেদের হার দেশটির ষষ্ঠ সর্বনিম্ন। শীর্ষ পাঁচে থাকা নিউ জার্সি ও কানেকটিকাটের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। নিউ জার্সি সামগ্রিকভাবে চতুর্থ হলেও মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সূচকে প্রথম। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার হার দেশটির মধ্যে সবচেয়ে কম। আত্মহত্যার হারও সবচেয়ে কম। সহায়ক সম্পর্ক ও জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতির ক্ষেত্রেও নিউ জার্সি ভালো অবস্থানে রয়েছে। কানেকটিকাট রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। অঙ্গরাজ্যটি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং কর্মপরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তালিকায় এরপর রয়েছে উটাহ, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাসাচুসেটস ও আইডাহো। এর মধ্যে উটাহ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ও পরিবেশগত সূচকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। খেলাধুলায় অংশগ্রহণের হারও উটাহতে দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে তালিকার নিচের দিকে রয়েছে পশ্চিম ভার্জিনিয়া, লুইজিয়ানা, আরকানসাস, আলাবামা ও নিউ মেক্সিকো। পশ্চিম ভার্জিনিয়া ৩২ দশমিক ০৪ স্কোর নিয়ে ৫০তম এবং সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। লুইজিয়ানা ৪৯তম ও আরকানসাস ৪৮তম অবস্থানে। তবে সুখের এই তালিকাকে কোনো অঙ্গরাজ্যের মানুষের ব্যক্তিগত সুখের সরাসরি পরিমাপ হিসেবে দেখছে না ওয়ালেটহাব। বরং স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কাজের পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা, অবসর সময় এবং আবহাওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বিত চিত্রের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলোর তুলনা করা হয়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর মতে, একটি ভালো অর্থনীতি, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, পর্যাপ্ত অবসর সময় এবং অনুকূল আবহাওয়া মানুষের জীবনমান ও সুখে ভূমিকা রাখতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আর্থিক স্বচ্ছলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু বেশি অর্থ থাকলেই সুখ নিশ্চিত হয় না। অর্থের পাশাপাশি অর্থপূর্ণ সম্পর্ক, পছন্দের কাজ, অবসর এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালেটহাব এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্যসূত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরো, শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, গ্যালাপ, ট্রান্সইউনিয়ন, ফিনরা, অ্যামেরিকর্পসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য। বেশিরভাগ তথ্য ২০২৫ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জীবন নিয়ে ‘খুব সন্তুষ্ট’ এমন মানুষের হার মাত্র ৪৪ শতাংশ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও আর্থিক চাপের মতো বিষয় মানুষের সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ, সুখের প্রশ্নে শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, একজন মানুষ কোন পরিবেশে বসবাস করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ওয়ালেটহাবের এই বিশ্লেষণে সেই বাস্তবতারই একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র উঠে এসেছে। সংবাদসূত্র: ওয়ালেটহাব, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো
নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কুকি ব্র্যান্ড ‘থিন কুকিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়োসেফ রাজা ও জোহাল আজিমি রাজার দাম্পত্য বিরোধ এখন ব্যবসায়িক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, অর্থ ও ব্যবসায়িক সম্পদ নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে করা একটি মামলায় ইয়োসেফ রাজা অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রী জোহাল আজিমি রাজা কোম্পানির ব্যাংক হিসাব থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নিজের ব্যবহারের জন্য তুলে নিয়েছেন। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ব্যবসার একটি বড় ফ্রিজার ও সেখানে রাখা কুকির মজুত দখলে নিয়েছেন এবং কোম্পানির সরবরাহকারী গাড়িটিও নিয়ে গেছেন। তবে এসব অভিযোগ জোহাল আজিমির বিরুদ্ধে আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, তিনি মামলাটি দেখেননি এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। ইয়োসেফ রাজার আইনজীবী আয়াত মাসউদও সংবাদমাধ্যমটির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি। আদালতে দেওয়া মামলার নথি অনুযায়ী, ইয়োসেফ রাজা দাবি করেছেন, জোহাল আজিমি থিন কুকিজের কোনো আনুষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, কর্মকর্তা বা পরিচালক ছিলেন না। তার ভূমিকা মূলত কুকির রেসিপি তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের নকশা ও প্রচারণার কাজে সীমাবদ্ধ ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ইয়োসেফ রাজা প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এবং ৫০ শতাংশ মালিক। বাকি ৫০ শতাংশের মালিক তার বাবা বশির রাজা, যিনি প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ব্যবসায়িক বিরোধের প্রভাব ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমেও পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ইয়োসেফের অভিযোগ, কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থ কোম্পানির হাতে না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এমনকি ম্যানহাটনের গ্রিনিচ ভিলেজের ব্লিকার স্ট্রিটের দোকানটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। মামলায় আরও বলা হয়েছে, ভাড়া পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়ে গেছে কিছু পচনশীল পণ্য, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইয়োসেফ আরও অভিযোগ করেছেন, জোহাল কোম্পানির অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের খরচ পরিশোধ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জোহালের বক্তব্য এখনো আদালতের মাধ্যমে যাচাই বা নিষ্পত্তি হয়নি। থিন কুকিজের গল্প অবশ্য শুরু হয়েছিল অনেকটা ভিন্নভাবে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২১ সালে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হিকসভিলে নিজেদের বাড়ির রান্নাঘর থেকেই কুকি বানানোর কাজ শুরু করেন এই দম্পতি। জোহালের বাবা কুইন্সে একটি আফগান বেকারি পরিচালনা করেন। ছোটবেলা থেকেই বেকিংয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠায় জোহালের রান্না ও বেকিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল। একপর্যায়ে ইয়োসেফ পাতলা কুকি পছন্দ করেন বলে জানান, তবে প্রচলিত পাতলা কুকির শক্ত ও মচমচে ধরন তার পছন্দ ছিল না। সেই ধারণা থেকেই জোহাল পরীক্ষানিরীক্ষা করে এমন একটি কুকির রেসিপি তৈরি করেন, যা পাতলা হলেও নরম ও চিবিয়ে খাওয়ার মতো। পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে সাড়া পাওয়ার পর সেটিই ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত হয়। ২০২৩ সালে হিকসভিলের জেরুজালেম অ্যাভিনিউতে থিন কুকিজের প্রথম দোকান চালু হয়। এর আগে বাড়িতে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা কাটাতে তারা কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাণিজ্যিক রান্নাঘর ব্যবহার শুরু করেছিলেন। ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং একসময় নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি সরবরাহও শুরু হয়। ২০২৫ সালে ম্যানহাটনের ১৬৬ ব্লিকার স্ট্রিটে থিন কুকিজের দ্বিতীয় দোকান চালু হয়। এর মধ্য দিয়ে ছোট একটি ঘরোয়া উদ্যোগ নিউইয়র্কের পরিচিত কুকি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও হিকসভিল ও ব্লিকার স্ট্রিটের দুটি দোকানের তথ্য রয়েছে। জোহাল শুধু কুকি তৈরিতেই নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও নকশার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাচকে তিনি জানিয়েছিলেন, মহামারির সময় বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় বেকিংয়ের জন্য বেশি সময় দিতে পেরেছিলেন। পরে ব্যবসা বড় হতে থাকলে তিনি নিজের চাকরি ছেড়ে থিন কুকিজের কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। ব্যবসাটি একসময় এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে নিউইয়র্কের বিভিন্ন দোকানে এর কুকি সরবরাহ করা হতো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্রেটার লং আইল্যান্ডের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তখন থিন কুকিজের পণ্য লং আইল্যান্ড ও নিউইয়র্ক সিটির ৩০টির বেশি দোকানে পাওয়া যেত। কুকির ব্যবসার পাশাপাশি ইয়োসেফ পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। ব্যবসা ও পারিবারিক জীবন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার সময় এই দম্পতির দুটি সন্তানও হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাদের সন্তান জন্ম নেয় বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসার সাফল্যের আড়ালে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে পড়তে শুরু করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, জোহাল আজিমি রাজা ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইয়োসেফ রাজার বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। পরে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ওই পারিবারিক মামলায় আদালতে শুনানি ও অন্যান্য কার্যক্রম হয়েছে। এবার সেই দাম্পত্য বিরোধই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ নিয়ে নতুন আইনি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইয়োসেফ রাজা মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে কোম্পানির সরবরাহকারী গাড়িটি ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। একসময় মহামারির ঘরোয়া রান্নাঘর থেকে শুরু হয়ে যে ব্যবসা নিউইয়র্কের দুই এলাকায় দোকান পর্যন্ত পৌঁছেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দাম্পত্য বিরোধ ও ব্যবসায়িক মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআই বাণিজ্যিক ট্রাকিং খাতে জালিয়াতি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে। ফেডারেল সরকার বলছে, বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সিডিএল ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে যারা আইন ভাঙছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক সংস্থা যৌথভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই উদ্যোগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, বিচার বিভাগ, ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং এইচএসআইসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে। ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স ক্রসরোডস অব আমেরিকা’ নামে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য বাণিজ্যিক ট্রাকিং খাতে সিডিএল জালিয়াতি, ভুয়া পরিচয়পত্র, অননুমোদিত কর্মসংস্থান, অর্থপাচার, শ্রমিক শোষণ এবং অন্যান্য অপরাধ শনাক্ত করা। এইচএসআইয়ের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সহযোগী পরিচালক জন এ. কনডন বলেছেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীরা শুধু আইন ভাঙছে না, তারা আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে। তিনি বলেন, এইচএসআই তাদের তদন্ত, আর্থিক বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এমন ব্যক্তি ও অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট একদিনে ২৩টি অঙ্গরাজ্যের ২০০টির বেশি ড্রাইভিং স্কুলে সমন্বিত অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি সিডিএল-সংক্রান্ত ব্যবসার বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানিয়েছে, গত দেড় বছরে ২৮ হাজারের বেশি চালককে বিভিন্ন কারণে সড়ক থেকে সরানো হয়েছে এবং অবৈধভাবে ইস্যু করা ৩০ হাজারের বেশি সিডিএল বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৮ হাজারের বেশি অযোগ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে ফেডারেল রেজিস্ট্রি থেকে সরানো হয়েছে বলে পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে। এই অভিযানের আওতায় শুধু চালকরাই নয়, ট্রাকিং কোম্পানি, সিডিএল প্রশিক্ষণ স্কুল, ক্যারিয়ার এবং নিয়োগদাতাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র, ভুয়া লাইসেন্স, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ট্রাকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তবে ফেডারেল সরকারের প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই তদন্ত, অভিযোগ ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে। তাই কোনো নির্দিষ্ট চালক বা কোম্পানিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন না করে তদন্তের অবস্থান উল্লেখ করাই সঠিক।
কানাডাকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি প্রগতিশীল মডেল হিসেবে তুলে ধরা হলেও, নতুন একটি ডকুমেন্টারি সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ নামের এই ডকুমেন্টারির নির্মাতারা পুরো কানাডা ঘুরে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি কানাডীয় এবং ৭০ জনের বেশি নীতি বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, মাদকনীতি, ইমিগ্রেশন, অপরাধ ও সরকারি ব্যয় - এসব বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে ডকুমেন্টারিটি। ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া এক ব্যক্তির ঘটনাও। নির্মাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরফের ওপর পড়ে তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর সার্জনের দেখা পেতে ১৫ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেন। ডকুমেন্টারির পরিচালক মিরা মেটার জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি হাসপাতালে অপেক্ষা করার সময় ব্যথা কমাতে একাধিকবার মরফিন দেওয়া হয়। কিন্তু সার্জনের কাছে পৌঁছানোর সময় কোমরের নিচের অংশে তিনি আর অনুভূতি পাচ্ছিলেন না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর স্থায়ী স্পাইনাল কর্ড ক্ষতি হয়। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক পরে তাঁকে জানিয়েছিলেন, আঘাতের এক ঘণ্টার মধ্যে সার্জারি করা সম্ভব হলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। তবে এই চিকিৎসা-সংক্রান্ত দাবি ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগতে থাকেন। নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য পেইন ক্লিনিকে চিকিৎসা পেতে তাঁর ১০ মাসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। সেখানে ব্যথার মাত্রা ১০-এর মধ্যে ১০ বলার পর তাঁকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং বা এমএআইডি-এর প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে পরিচালক জানিয়েছেন। ওই ব্যক্তি তখন প্রশ্ন তোলেন, তিনি মৃত্যুর সমাধান চাননি - তিনি শুধু ব্যথার চিকিৎসা চেয়েছিলেন। ডকুমেন্টারির নির্মাতারা বলছেন, এই ঘটনা কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সংকটের একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে তারা আবাসন ব্যয়, ইমিগ্রেশন, মাদকনীতি ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব বক্তব্য মূলত ডকুমেন্টারির নির্মাতাদের বিশ্লেষণ ও সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে - এগুলোকে কানাডার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার চূড়ান্ত চিত্র হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। পরিচালক মিরা মেটার বলেন, দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে কথা বলেও তারা একই ধরনের সমস্যার কথা শুনেছেন - বাড়ি কেনার সামর্থ্য, মাসের খরচ চালানো, প্রয়োজনের সময় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং ফ্যামিলি ডক্টর পাওয়া যাচ্ছে কি না। ‘ব্রোকেন কান্ট্রি’ ডকুমেন্টারিটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ সেপ্টেম্বর সীমিত পরিসরে মুক্তি পাওয়ার কথা। পরে ২৬ অক্টোবর অ্যামাজন প্রাইমে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারিতে গরুর মাংসের বারবিকিউ নিয়ে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা একাধিক ভিডিওতে বাড়ির মালিক রাজ টিওয়ানা-র সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং পরবর্তী কয়েকটি সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনার শুরু হয় ভাড়াটিয়া এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির বাগানে বারবিকিউতে খাবার রান্না করার সময়। ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে বারবিকিউ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, গ্রিল ব্যবহারের কারণে তাঁর বাড়ির ক্ষতি হতে পারে। ভাড়াটিয়া অবশ্য দেয়ালে থাকা দাগকে পোড়া দাগ নয়, মরিচা বলে দাবি করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানাকে গ্রিল থেকে খাবার সরিয়ে দিতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়া তখন গরুর মাংস রান্না করছিলেন। টিওয়ানা তাঁকে বারবিকিউ বন্ধ করতে বলেন এবং প্রয়োজনে পুলিশে ফোন করার কথা জানান। এরপর ভাড়াটিয়া ‘টিওয়ানা ফার্ম সারভাইভার’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিক তাঁর ভাড়া নেওয়া ইউনিটে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করেছেন, তালা পরিবর্তন করেছেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন। কয়েকটি ভিডিওতে রাজ টিওয়ানার সঙ্গে ভাড়াটিয়ার শারীরিক সংঘর্ষের দৃশ্যও দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশকে রাজ টিওয়ানাকে আটক করতে দেখা যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ বা চার্জ আনা হয়েছে, তা এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে গরুর মাংস খাওয়া, ধর্মীয় বিশ্বাস বা সাম্প্রদায়িক বিরোধের ঘটনা হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু সারে পুলিশ সার্ভিস এই ব্যাখ্যা নাকচ করেছে। পুলিশের মিডিয়া রিলেশনস কর্মকর্তা ইয়ান ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এটি বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার চলমান বিরোধের অংশ এবং পুলিশ একাধিকবার সেখানে হস্তক্ষেপ করেছে। তাঁর ভাষায়, ওই গ্রেপ্তারের সঙ্গে গরুর মাংস, মাংস, ধর্ম বা মতাদর্শের কোনো সম্পর্ক ছিল না। পুলিশ একই সঙ্গে জানিয়েছে, তদন্ত চলায় বাড়ির মালিকের পরিচয় বা অনুমোদিত চার্জের বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক ক্লোয়ি ডিলন অভিযোগ করেছেন, আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাসাইলামপ্রার্থীকে আটক করার ঘটনায় আইনি ও ডিউ প্রসেস নিয়ে উদ্বেগ জানানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ অভিযোগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন। ডিলন ২০২২ সালে সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টে বিচারক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে এক কিশোর অ্যাসাইলামপ্রার্থী তাঁর আদালতে হাজির হন। আইসিই তাঁর অ্যাসাইলাম মামলা বাতিল করে তাকে এক্সপেডাইটেড রিমুভাল প্রক্রিয়ায় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিলন সেই পদক্ষেপে আপত্তি জানান এবং ওই ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেন। এরপর আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই ওই কিশোরকে আটক করে বলে ডিলনের অভিযোগ। পরে তাঁর ফাইল পর্যালোচনা করে ডিলনের মনে হয়, ওই ব্যক্তি সম্ভবত একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর এবং তাকে সরাসরি এক্সপেডাইটেড রিমুভালে পাঠানো নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। একই দিন তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ই-মেইল করে সম্ভাব্য আইন ও ডিউ প্রসেস লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ জানান। ডিলনের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ই-মেইল পাঠানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর তিনি চাকরি থেকে বরখাস্তের নোটিশ পান। নোটিশে তাঁর চাকরি শেষ করার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আর্টিকেল ২ উল্লেখ করা হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ডিলন দাবি করছেন, তাঁর বরখাস্ত ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের প্রতিশোধ। মামলায় তিনি হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন, প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী এবং অন্যান্য সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চেয়েছেন। মামলাটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৩:২৬-cv-10143 এবং বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ, সির্স ওয়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। তবে বিচার বিভাগ ডিলনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিওজির একজন মুখপাত্র অভিযোগটিকে “patently false” বা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চলমান মামলা ও কর্মীসংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণত মন্তব্য না করার কথাও জানিয়েছে বিভাগটি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কোর্ট ব্যবস্থায় চলমান বড় পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে এসেছে। এনবিসি বে এরিয়া জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১২০ জনের বেশি ইমিগ্রেশন বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে বলে বিচারকদের ইউনিয়ন দাবি করেছে। তবে বরখাস্তের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন হিসাব রয়েছে। ডিলনের মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর করা ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন সবসময় অনুমোদনের বিষয়ে বিচারকদের ওপর চাপ ছিল। ডিলনের দাবি, তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নজরে রাখছে। এটি অবশ্য মামলার অভিযোগ - আদালত এখনো এসব দাবি সত্য বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্ট ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং সেখানকার মামলাগুলো অন্য আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডিলনের মামলাটি তাই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালত, আইসিইর ইনফোর্চমেন্ট এবং বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট মাসে ভোক্তাপণ্যের দাম জুলাইয়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই মাসিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। ফলে গ্যাস, জ্বালানি, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, জুলাইয়ে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছিল শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। আগস্টে সেই বৃদ্ধির হার বেড়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। তবে বার্ষিক হিসাবে মূল্যস্ফীতির হার জুলাইয়ের মতো আগস্টেও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ রয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে পণ্য ও সেবার সামগ্রিক দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, আর আগস্ট মাসে আগের মাসের তুলনায় দাম বৃদ্ধির গতি আরও দ্রুত হয়েছে। আগস্টে মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণগুলোর একটি ছিল গ্যাসোলিন। এক মাসে গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্য বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এসেছে গ্যাসোলিনের দাম বাড়ার কারণে। একই সময়ে সামগ্রিক জ্বালানি খাতের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। গ্যাসোলিনের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়ি চালানোর খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় জ্বালানি ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও পড়তে পারে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াত থেকে শুরু করে বাজার-সদাই ও পারিবারিক ব্যয় পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়তি খরচের চাপ অনুভব করতে পারেন ভোক্তারা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এই মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি পরিবারের মাসিক বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয় বাসাভাড়া বা মর্টগেজ, গাড়ি, গ্যাসোলিন, খাবার, হেলথ কেয়ার, ইন্স্যুরেন্স ও সন্তানদের শিক্ষা খাতে। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে আয় একই থাকলেও পরিবারের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য মাসিক খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতির সব খাতে একই হারে দাম বাড়েনি। খাদ্যের দাম আগস্টে মাসিক হিসাবে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে মূল মূল্যস্ফীতি বা কোর সিপিআই আগস্টে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কোর মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেড সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর আগামী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। সুদের হার বাড়লে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ঋণের খরচেও পড়তে পারে। মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ, ক্রেডিট কার্ড এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে সুদের হার কমানো হলে ঋণের খরচ কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে ফেডের সিদ্ধান্ত শুধু ওয়াল স্ট্রিট বা বড় অর্থনীতির জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। অর্থনীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের আয় ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য। পণ্য ও সেবার দাম যদি আয়ের তুলনায় দ্রুত বাড়ে, তাহলে একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয় না। এর ফলে পরিবারগুলোকে অনেক সময় খরচের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে হয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হয় এবং মাসিক সঞ্চয়ের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হয়। এখন নজর থাকবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠকের দিকে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মজুরি, ভোক্তা ব্যয় এবং অর্থনীতির অন্যান্য সূচক বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে নতুন পরিসংখ্যান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চাপের বিষয় হয়ে আছে।
ভারতের গুজরাটের গণেশ বারাইয়া ছোটবেলা থেকেই ডোয়ার্ফিজমের কারণে নানা বাধা ও বিদ্রূপের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর উচ্চতা প্রায় ৩ ফুট, ওজন প্রায় ২০ কেজি এবং তিনি ৭২ শতাংশ লোকোমোটর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। ২০১৮ সালে গণেশ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা এনইইটি পাস করেন। কিন্তু এমবিবিএসে ভর্তির সময় তৎকালীন মেডিকেল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে আপত্তি তোলে। তাঁর উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসা পেশার দায়িত্ব পালন করা কঠিন হতে পারে বলে তাঁকে ভর্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়। গণেশ তখন হাল ছাড়েননি। তাঁর স্কুলের অধ্যক্ষ ড. দলপতভাই কাটারিয়া ও ট্রাস্টি রেভাতসিং সারভাইয়ার সহযোগিতায় তিনি প্রথমে গুজরাট হাইকোর্টে যান। সেখানে পরাজয়ের পর মামলাটি পৌঁছায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট গণেশ ও একই ধরনের মামলায় থাকা অন্য আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেয়। আদালত জানায়, প্রতিবন্ধী অধিকার আইন, ২০১৬-এর বিধানকে মেডিকেল কাউন্সিলের সুপারিশের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএসে ভর্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ২০১৯ সালে গণেশ এমবিবিএসে ভর্তি হন এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালে তিনি ভাবনগরের সির-টি হাসপাতালের ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁর বহু বছরের সংগ্রামের আরেকটি বড় অধ্যায় শেষ হয়। গণেশ ভাবনগরের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে প্রথম চাকরি শুরু করেন। ২০২৬ সালের মার্চের প্রতিবেদনে তাঁকে সির তখতসিংজি জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা যায়। যে উচ্চতাকে একসময় তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই গণেশই চিকিৎসক হয়ে রোগীদের সেবা করছেন। তাঁর গল্প এখন শুধু একজন মানুষের ডাক্তার হওয়ার লড়াই নয় - প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকেও প্রশ্ন করার একটি উদাহরণ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা কেএল-ইয়েস কর্মসূচি। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে একটি হাইস্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাস এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির প্রাথমিক আবেদন বর্তমানে চলছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা। ইয়েস কর্মসূচি হলো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি। বাংলাদেশে কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে আইইএআরএন-বাংলাদেশ। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন এবং একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে থাকবেন। পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানো, মার্কিন সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে মার্কিন কমিউনিটির মানুষকে জানার সুযোগ পাবেন। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদনকারীর জন্মতারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০১০ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০১২-এর মধ্যে হতে হবে। তাকে বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো মাধ্যমিক স্কুল বা কলেজের অষ্টম, নবম, দশম অথবা একাদশ শ্রেণিতে পড়তে হবে। বেসরকারি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক ও বাসিন্দা হতে হবে। শিক্ষাগত ফলাফলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীর গড়ে কমপক্ষে বি গ্রেড বা সমমানের ফলাফল থাকতে হবে এবং কোনো বিষয়ে ফেল করা যাবে না। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত ফলাফলের নথি জমা দিতে হবে। গত তিন শিক্ষাবর্ষে কোনো বিরতি বা কোনো শ্রেণি পুনরায় পড়ার ইতিহাস থাকলেও আবেদন করা যাবে না। পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের জে-১ বিনিময় ভিসার যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং ইংরেজিতে কথা বলা ও পড়াশোনা করার মতো পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে। আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পূর্ববর্তী ইতিহাসের ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। গত পাঁচ বছরে মোট ৯০ দিনের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে আবেদন করা যাবে না। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা মিশনে বর্তমানে কর্মরত কোনো অভিভাবকের সন্তান এবং ইয়েস কর্মসূচির বর্তমান অংশগ্রহণকারীর ভাই বা বোনও এই সুযোগের জন্য যোগ্য নন। আবেদন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রাথমিক আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর বাছাই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা, তত্ত্বাবধানে লিখিত পরীক্ষা, পূর্ণাঙ্গ আবেদন এবং সাক্ষাৎকার দিতে হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক আবেদন জমা দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিযোগিতামূলক মেধাভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের ছবি, জন্মসনদের পরিষ্কার কপি এবং ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফলাফলের নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। এসব নথির নির্ধারিত বৈদ্যুতিন কপি জমা দিতে হবে। এই পর্যায়ে পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। প্রাথমিক আবেদন শুরু করতে নির্ধারিত আবেদন ব্যবস্থায় গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় দেওয়া ই-মেইল ঠিকানায় একটি যাচাইকরণ বার্তা পাঠানো হবে। ই-মেইল ঠিকানা যাচাই করার পর আবেদন ব্যবস্থায় প্রবেশ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষাগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রতিটি অংশের তথ্য পূরণ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর তা সংরক্ষণ করতে হবে। সব তথ্য পূরণ করার পর আবেদনটি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। তথ্য নিশ্চিত করার পর আর পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। এরপর স্বাক্ষরের পাতা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর দিতে হবে এবং সেটির পরিষ্কার কপি জমা দিতে হবে। সবশেষে আবেদন জমা দিলে আবেদনকারীর ই-মেইলে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে। সেখানে আবেদনকারীর পরিচিতি নম্বর এবং আবেদনপত্রের একটি কপি পাওয়া যাবে। এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ, মার্কিন পরিবারের সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় উপকরণের খরচ বহন করা হয়। তবে পাসপোর্ট তৈরির খরচ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান এবং ব্যক্তিগত অতিরিক্ত খরচ কর্মসূচির আওতায় পড়ে না। ইয়েস কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে প্রায় ৫৩০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া নয়, বরং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা। ২০২৭ সালের বসন্তকালীন সেমিস্টারের প্রাথমিক আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার বিকেল ৪টা। আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের বয়স, শ্রেণি, শিক্ষাগত ফলাফল, নাগরিকত্ব, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বৈধ পাসপোর্টধারীদের আলাদা ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয় না। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নিয়মে এসব দেশের নাগরিকরা ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে ছাড়ের আওতায় রয়েছেন। ছাড় পাওয়া পাঁচ দেশ হলো - যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে। তবে এই সুবিধা শুধু নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীও ইংরেজি পরীক্ষার স্কোর জমা দেওয়া থেকে ছাড় পেতে পারেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ফরেন অ্যাফেয়ার্স বা ডিফেন্স স্পনসরড শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা বা আয়ারল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময় ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় থাকার সময় গত দুই বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট মাধ্যমিক বা উচ্চতর যোগ্যতা অর্জন করলেও কিছু ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। বাংলাদেশ এই পাঁচ দেশের তালিকায় নেই। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকার কারণে এই নির্দিষ্ট ছাড় পাবেন না। তবে তারা অন্য কোনো ছাড়ের শর্ত পূরণ করলে ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। অন্যদিকে ছাড়ের আওতায় না থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে নির্দিষ্ট অনুমোদিত পরীক্ষার ফল গ্রহণ করে। এর মধ্যে আইইএলটিএস, পিটিই, টোফেল, কেমব্রিজ, সেলপিপ, ওইটি, এমইটি এবং ল্যাঙ্গুয়েজসার্ট রয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে এসব পরীক্ষার নিয়ম ও গ্রহণযোগ্য স্কোরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি শুধু স্টুডেন্ট ভিসার বিষয় নয় - অস্ট্রেলিয়ার কিছু অন্যান্য ভিসাতেও পাঁচ দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যেমন কম্পিটেন্ট ইংলিশ ও ফাংশনাল ইংলিশ-এর সরকারি সংজ্ঞাতেও একই পাঁচ দেশের নাগরিকদের কথা বলা হয়েছে।