সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে হাওয়াই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ২১:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় প্রথম হয়েছে হাওয়াই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় প্রথম হয়েছে হাওয়াই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সুখী জীবনযাপনের ক্ষেত্রে কোন অঙ্গরাজ্য এগিয়ে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ওয়ালেটহাবের একটি বিশ্লেষণ। ৫০টি অঙ্গরাজ্যকে বিভিন্ন সামাজিক, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সূচকে তুলনা করে তৈরি এই তালিকায় সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে হাওয়াই। এরপর রয়েছে মেরিল্যান্ড, নেব্রাস্কা, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাট।

 

ওয়ালেটহাবের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অঙ্গরাজ্যগুলোকে তিনটি বড় ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে ৩০টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক স্কোর তৈরি করা হয়েছে।

তালিকায় ৬৫ দশমিক ৫০ স্কোর নিয়ে প্রথম হয়েছে হাওয়াই। দ্বিতীয় মেরিল্যান্ড, স্কোর ৬৪ দশমিক ১৩। তৃতীয় নেব্রাস্কা ৬৩ দশমিক ৬১ স্কোর নিয়ে। নিউ জার্সি ৬৩ দশমিক ৪২ স্কোর পেয়ে চতুর্থ এবং কানেকটিকাট ৬২ দশমিক ৫৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম হয়েছে।

 

হাওয়াইয়ের শীর্ষে থাকার পেছনে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছে। অঙ্গরাজ্যটির বাসিন্দাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার হারও তুলনামূলকভাবে কম। শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও হাওয়াই ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ৮৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো বা তার চেয়ে ভালো বলে জানিয়েছেন। দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে হাওয়াইয়ের মানুষের গড় আয়ুও সবচেয়ে বেশি।

 

শুধু স্বাস্থ্য নয়, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও হাওয়াইয়ের বাসিন্দারা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ৭২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন নিজেদের সক্রিয় ও উৎপাদনশীল মনে করেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও হাওয়াইয়ের অবস্থানকে শক্ত করেছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষণে অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ। পাশাপাশি বছরে ৭৫ হাজার ডলারের বেশি আয় করা পরিবারের হারও দেশটির মধ্যে অন্যতম বেশি। ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা মানুষের হারও তুলনামূলকভাবে কম।

 

তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেরিল্যান্ডের শক্তির জায়গা মানসিক স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্পর্ক। অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। ৭৫ হাজার ডলারের বেশি বার্ষিক আয় করা পরিবারের অনুপাতও দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

মেরিল্যান্ডের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ নিজেদের দৈনন্দিন কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অঙ্গরাজ্যটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। সহায়ক সম্পর্ক ও জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতির কথা জানানোর হারও সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি। আত্মহত্যার হারও দেশটির মধ্যে পঞ্চম সর্বনিম্ন।

 

তৃতীয় অবস্থানে থাকা নেব্রাস্কার ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অঙ্গরাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দেশটির অন্যতম কম। কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যবিমা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার সমন্বিত সূচকে নেব্রাস্কা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু সূচকেও নেব্রাস্কা এগিয়ে। সেখানে বিষণ্নতার হার দেশটির ষষ্ঠ সর্বনিম্ন। প্রাপ্তবয়স্কদের নিজেদের স্বাস্থ্য ভালো বা তার চেয়ে ভালো মনে করার হারও বেশ উঁচু। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অঙ্গরাজ্যটির অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো। বিচ্ছেদ ও বিবাহবিচ্ছেদের হার দেশটির ষষ্ঠ সর্বনিম্ন।

 

শীর্ষ পাঁচে থাকা নিউ জার্সি ও কানেকটিকাটের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। নিউ জার্সি সামগ্রিকভাবে চতুর্থ হলেও মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সূচকে প্রথম। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতার হার দেশটির মধ্যে সবচেয়ে কম। আত্মহত্যার হারও সবচেয়ে কম। সহায়ক সম্পর্ক ও জীবনে ভালোবাসার উপস্থিতির ক্ষেত্রেও নিউ জার্সি ভালো অবস্থানে রয়েছে।

কানেকটিকাট রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। অঙ্গরাজ্যটি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং কর্মপরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

 

তালিকায় এরপর রয়েছে উটাহ, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাসাচুসেটস ও আইডাহো। এর মধ্যে উটাহ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক ও পরিবেশগত সূচকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। খেলাধুলায় অংশগ্রহণের হারও উটাহতে দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

অন্যদিকে তালিকার নিচের দিকে রয়েছে পশ্চিম ভার্জিনিয়া, লুইজিয়ানা, আরকানসাস, আলাবামা ও নিউ মেক্সিকো। পশ্চিম ভার্জিনিয়া ৩২ দশমিক ০৪ স্কোর নিয়ে ৫০তম এবং সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। লুইজিয়ানা ৪৯তম ও আরকানসাস ৪৮তম অবস্থানে।

 

তবে সুখের এই তালিকাকে কোনো অঙ্গরাজ্যের মানুষের ব্যক্তিগত সুখের সরাসরি পরিমাপ হিসেবে দেখছে না ওয়ালেটহাব। বরং স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, কাজের পরিবেশ, সামাজিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা, অবসর সময় এবং আবহাওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বিত চিত্রের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলোর তুলনা করা হয়েছে।

ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর মতে, একটি ভালো অর্থনীতি, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, পর্যাপ্ত অবসর সময় এবং অনুকূল আবহাওয়া মানুষের জীবনমান ও সুখে ভূমিকা রাখতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আর্থিক স্বচ্ছলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু বেশি অর্থ থাকলেই সুখ নিশ্চিত হয় না। অর্থের পাশাপাশি অর্থপূর্ণ সম্পর্ক, পছন্দের কাজ, অবসর এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

 

ওয়ালেটহাব এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্যসূত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরো, শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, গ্যালাপ, ট্রান্সইউনিয়ন, ফিনরা, অ্যামেরিকর্পসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য। বেশিরভাগ তথ্য ২০২৫ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জীবন নিয়ে ‘খুব সন্তুষ্ট’ এমন মানুষের হার মাত্র ৪৪ শতাংশ। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও আর্থিক চাপের মতো বিষয় মানুষের সামগ্রিক সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলছে।

 

অর্থাৎ, সুখের প্রশ্নে শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, একজন মানুষ কোন পরিবেশে বসবাস করছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ওয়ালেটহাবের এই বিশ্লেষণে সেই বাস্তবতারই একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র উঠে এসেছে।

 

সংবাদসূত্র: ওয়ালেটহাব, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বর ভিসা বুলেটিনে সতর্কবার্তা, কিছু ভিসা শ্রেণিতে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার বেশিরভাগ শ্রেণির নির্ধারিত তারিখ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ভিসার চাহিদা ও ব্যবহারের হার বাড়তে থাকলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশের নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি বার্ষিক ভিসার সীমা পূরণ হলে এসব শ্রেণি অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।   বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয়, তাদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি সেপ্টেম্বরেও উন্মুক্ত রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এবং অন্যান্য শ্রমিক শ্রেণির তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২। পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশও বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।   তবে উন্মুক্ত থাকার অর্থ এই নয় যে এসব শ্রেণির বর্তমান অবস্থা পুরো অর্থবছর একই থাকবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে আবেদনকারীর চাহিদা বাড়লে বা ভিসা ব্যবহারের হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বার্ষিক সীমা পূরণ হলে কোনো শ্রেণিকে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই অনুপলব্ধ ঘোষণা করা সম্ভব।   বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি নিয়ে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শ্রেণি উন্মুক্ত থাকলেও চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের হার বাড়লে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে অথবা শ্রেণিটি অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   কর্মসংস্থানভিত্তিক পঞ্চম শ্রেণির সংরক্ষিত নয় এমন অংশ নিয়েও একই সতর্কতা রয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য এই শ্রেণি বর্তমানে উন্মুক্ত। তবে চাহিদা বাড়লে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ পিছিয়ে দেওয়া বা ভিসার বার্ষিক সীমা পূরণ হলে শ্রেণিটি অনুপলব্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্ব এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত পঞ্চম শ্রেণির তিনটি অংশ সেপ্টেম্বরেও সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।   ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রথম শ্রেণিতে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ চাহিদা ও ভিসা ব্যবহারের কারণে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ভারতের জন্য এই শ্রেণিও অনুপলব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। ভারতের কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণি সেপ্টেম্বরেও অনুপলব্ধ রয়েছে।   পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেও সেপ্টেম্বরের জন্য আলাদা চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশের জন্য প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণির তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২০, দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘এ’ শ্রেণির ২২ আগস্ট ২০২৬, দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ‘বি’ শ্রেণির ২২ আগস্ট ২০১৯, তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির ২২ অক্টোবর ২০১৪ এবং চতুর্থ অগ্রাধিকার শ্রেণির ২২ অক্টোবর ২০১১।   ভিসা বুলেটিনে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ বলতে বোঝানো হয়েছে—কোনো আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ ওই নির্ধারিত তারিখের আগের হলে তার ভিসা ইস্যুর জন্য সংখ্যা পাওয়া যেতে পারে। আর নথি জমা দেওয়ার তারিখ আলাদা বিষয়। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান পরিবর্তনের আবেদন করা কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কার্যকর তারিখের তালিকা ব্যবহার করতে হবে বলে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা জানিয়েছে।   ২০২৬ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিবারভিত্তিক অগ্রাধিকার অভিবাসী ভিসার সীমা ২ লাখ ২৬ হাজার এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অগ্রাধিকার অভিবাসী ভিসার সীমা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত বার্ষিক সীমার কারণে কোনো শ্রেণিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষমাণ আবেদনকারীদের জন্য তারিখ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।   এদিকে বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসী ভিসা কর্মসূচির ২০২৬ সালের আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিতদের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার সঙ্গে শেষ হবে। তবে তার আগেই নির্ধারিত ভিসার সংখ্যা শেষ হয়ে যেতে পারে বলে পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করেছে।   ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের তাই নিজেদের ভিসার শ্রেণি, কোন দেশের কোটায় আবেদন করছেন এবং অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির আবেদনকারীদের সামনে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে তারিখ পরিবর্তন বা ভিসা অনুপলব্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরবর্তী সরকারি আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ২২:৪৪
ইএসটিএ অনুমোদন নিয়ে ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে কর্মসূচিভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের। ছবি: সংগৃহীত

ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ পেল ৪২ দেশের নাগরিক, ইএসটিএতেই মিলবে অনুমোদন

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যারে নজরদারি মুরগি ব্যবহার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মশাবাহিত রোগ আগাম শনাক্তে ব্যবহার করা হচ্ছে মুরগি, মিলছে সংক্রমণের পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় প্রথম হয়েছে হাওয়াই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে হাওয়াই

নিউইয়র্কের ‘থিন কুকিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়োসেফ রাজা ও জোহাল আজিমি রাজা। বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি ব্যবসা নিয়ে তাদের বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে জনপ্রিয় কুকি ব্যবসার মালিক দম্পতির বিচ্ছেদ, আদালতে গড়িয়েছে ব্যবসা দখলের লড়াই

নিউইয়র্কের জনপ্রিয় কুকি ব্র্যান্ড ‘থিন কুকিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়োসেফ রাজা ও জোহাল আজিমি রাজার দাম্পত্য বিরোধ এখন ব্যবসায়িক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা, অর্থ ও ব্যবসায়িক সম্পদ নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই।   ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে করা একটি মামলায় ইয়োসেফ রাজা অভিযোগ করেছেন, তার স্ত্রী জোহাল আজিমি রাজা কোম্পানির ব্যাংক হিসাব থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নিজের ব্যবহারের জন্য তুলে নিয়েছেন। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ব্যবসার একটি বড় ফ্রিজার ও সেখানে রাখা কুকির মজুত দখলে নিয়েছেন এবং কোম্পানির সরবরাহকারী গাড়িটিও নিয়ে গেছেন।   তবে এসব অভিযোগ জোহাল আজিমির বিরুদ্ধে আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি। তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, তিনি মামলাটি দেখেননি এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। ইয়োসেফ রাজার আইনজীবী আয়াত মাসউদও সংবাদমাধ্যমটির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি।   আদালতে দেওয়া মামলার নথি অনুযায়ী, ইয়োসেফ রাজা দাবি করেছেন, জোহাল আজিমি থিন কুকিজের কোনো আনুষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, কর্মকর্তা বা পরিচালক ছিলেন না। তার ভূমিকা মূলত কুকির রেসিপি তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের নকশা ও প্রচারণার কাজে সীমাবদ্ধ ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলায় বলা হয়েছে, ইয়োসেফ রাজা প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এবং ৫০ শতাংশ মালিক। বাকি ৫০ শতাংশের মালিক তার বাবা বশির রাজা, যিনি প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট।   ব্যবসায়িক বিরোধের প্রভাব ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমেও পড়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ইয়োসেফের অভিযোগ, কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থ কোম্পানির হাতে না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এমনকি ম্যানহাটনের গ্রিনিচ ভিলেজের ব্লিকার স্ট্রিটের দোকানটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।   মামলায় আরও বলা হয়েছে, ভাড়া পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়ে গেছে কিছু পচনশীল পণ্য, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   ইয়োসেফ আরও অভিযোগ করেছেন, জোহাল কোম্পানির অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের খরচ পরিশোধ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জোহালের বক্তব্য এখনো আদালতের মাধ্যমে যাচাই বা নিষ্পত্তি হয়নি।   থিন কুকিজের গল্প অবশ্য শুরু হয়েছিল অনেকটা ভিন্নভাবে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২১ সালে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের হিকসভিলে নিজেদের বাড়ির রান্নাঘর থেকেই কুকি বানানোর কাজ শুরু করেন এই দম্পতি। জোহালের বাবা কুইন্সে একটি আফগান বেকারি পরিচালনা করেন। ছোটবেলা থেকেই বেকিংয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠায় জোহালের রান্না ও বেকিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল।   একপর্যায়ে ইয়োসেফ পাতলা কুকি পছন্দ করেন বলে জানান, তবে প্রচলিত পাতলা কুকির শক্ত ও মচমচে ধরন তার পছন্দ ছিল না। সেই ধারণা থেকেই জোহাল পরীক্ষানিরীক্ষা করে এমন একটি কুকির রেসিপি তৈরি করেন, যা পাতলা হলেও নরম ও চিবিয়ে খাওয়ার মতো। পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে সাড়া পাওয়ার পর সেটিই ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক উদ্যোগে পরিণত হয়।   ২০২৩ সালে হিকসভিলের জেরুজালেম অ্যাভিনিউতে থিন কুকিজের প্রথম দোকান চালু হয়। এর আগে বাড়িতে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা কাটাতে তারা কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে বাণিজ্যিক রান্নাঘর ব্যবহার শুরু করেছিলেন। ব্যবসা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং একসময় নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি সরবরাহও শুরু হয়।   ২০২৫ সালে ম্যানহাটনের ১৬৬ ব্লিকার স্ট্রিটে থিন কুকিজের দ্বিতীয় দোকান চালু হয়। এর মধ্য দিয়ে ছোট একটি ঘরোয়া উদ্যোগ নিউইয়র্কের পরিচিত কুকি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও হিকসভিল ও ব্লিকার স্ট্রিটের দুটি দোকানের তথ্য রয়েছে।   জোহাল শুধু কুকি তৈরিতেই নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রচার ও নকশার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্যাচকে তিনি জানিয়েছিলেন, মহামারির সময় বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় বেকিংয়ের জন্য বেশি সময় দিতে পেরেছিলেন। পরে ব্যবসা বড় হতে থাকলে তিনি নিজের চাকরি ছেড়ে থিন কুকিজের কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন।   ব্যবসাটি একসময় এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে নিউইয়র্কের বিভিন্ন দোকানে এর কুকি সরবরাহ করা হতো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্রেটার লং আইল্যান্ডের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তখন থিন কুকিজের পণ্য লং আইল্যান্ড ও নিউইয়র্ক সিটির ৩০টির বেশি দোকানে পাওয়া যেত।   কুকির ব্যবসার পাশাপাশি ইয়োসেফ পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। ব্যবসা ও পারিবারিক জীবন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার সময় এই দম্পতির দুটি সন্তানও হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাদের সন্তান জন্ম নেয় বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   কিন্তু ব্যবসার সাফল্যের আড়ালে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে পড়তে শুরু করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, জোহাল আজিমি রাজা ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইয়োসেফ রাজার বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। পরে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ওই পারিবারিক মামলায় আদালতে শুনানি ও অন্যান্য কার্যক্রম হয়েছে।   এবার সেই দাম্পত্য বিরোধই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ নিয়ে নতুন আইনি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইয়োসেফ রাজা মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে কোম্পানির সরবরাহকারী গাড়িটি ফেরত দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।   একসময় মহামারির ঘরোয়া রান্নাঘর থেকে শুরু হয়ে যে ব্যবসা নিউইয়র্কের দুই এলাকায় দোকান পর্যন্ত পৌঁছেছিল, সেই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দাম্পত্য বিরোধ ও ব্যবসায়িক মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ২১:২০
আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার পর ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক

আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে চাপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাসিক বাজেট

যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের

যুক্তরাষ্ট্রের হাইস্কুলে পড়ার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের, আবেদন করবেন যেভাবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা না থাকলে গলফে ‘চিট’ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গলফ খেলার সময় তার চারপাশে সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য থাকায় তিনি নিয়ম ভাঙার সুযোগ পান না। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে শনিবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমি চিট করতাম না তা নয়”, কিন্তু এত নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে বল সরিয়ে খেলা সম্ভব নয়।   ট্রাম্প জানান, একবার গলফ খেলার সময় তার সঙ্গে প্রায় ২৫০ জন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট পুরো মাঠে ছড়িয়ে ছিলেন। তখন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি গলফে নিয়ম ভাঙেন কি না। ট্রাম্পের ভাষ্য, এত নিরাপত্তাকর্মী থাকায় বল সরানোর সুযোগই থাকে না। তার এই মন্তব্যে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গলফের প্রতি তার আগ্রহের জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে গলফে নিয়ম ভাঙার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে রয়েছে। ক্রীড়া লেখক রিক রাইলি ২০১৯ সালে Commander in Cheat নামে একটি বইয়ে ট্রাম্পের গলফ খেলার আচরণ নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সেসব অভিযোগকে ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই ফোর্বস তার গলফ সফর ও সিক্রেট সার্ভিসের ব্যয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম প্রায় ৬০০ দিনের মধ্যে ট্রাম্প প্রায় ১৬৫ দিন নিজের গলফ সম্পত্তিতে কাটিয়েছেন এবং এসব সফরে মোট সময় ১ হাজার ৪০০ ঘণ্টার বেশি হয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, গলফ ক্লাবে ট্রাম্প শুধু খেলেন না; সেখানে বৈঠক, মধ্যাহ্নভোজ ও অন্যান্য সরকারি কাজও করেন।   ফোর্বস আরও দাবি করেছে, ট্রাম্পের ভার্জিনিয়ার গলফ ক্লাবে তিনি সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের জন্য হট ডগ অর্ডার করতেন এবং পরে সেই খাবারের বিল ক্লাব থেকে সিক্রেট সার্ভিসকে দেওয়া হতো। এই তথ্য একজন সাবেক ক্লাব কর্মীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ

যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

১৫ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের হার্ভার্ডের জরুরি পরামর্শ

হাসপাতালের বেডে গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ পরে বসে থাকা মিনেসোটার ‘মিরাকেল বেবি’ অ্যাডোনিস। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম, হাসপাতালে ৩৩৪ দিনের লড়াই শেষে বাড়ি ফিরল ‘মিরাকেল বেবি’

0 Comments