সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বৈধ পাসপোর্টধারীদের আলাদা ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার স্কোর জমা দিতে হয় না। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নিয়মে এসব দেশের নাগরিকরা ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে ছাড়ের আওতায় রয়েছেন।   ছাড় পাওয়া পাঁচ দেশ হলো - যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।   তবে এই সুবিধা শুধু নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীও ইংরেজি পরীক্ষার স্কোর জমা দেওয়া থেকে ছাড় পেতে পারেন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ফরেন অ্যাফেয়ার্স বা ডিফেন্স স্পনসরড শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ শিক্ষার্থী এবং কিছু নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।   এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা বা আয়ারল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময় ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় থাকার সময় গত দুই বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট মাধ্যমিক বা উচ্চতর যোগ্যতা অর্জন করলেও কিছু ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।   বাংলাদেশ এই পাঁচ দেশের তালিকায় নেই। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকার কারণে এই নির্দিষ্ট ছাড় পাবেন না। তবে তারা অন্য কোনো ছাড়ের শর্ত পূরণ করলে ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।   অন্যদিকে ছাড়ের আওতায় না থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে নির্দিষ্ট অনুমোদিত পরীক্ষার ফল গ্রহণ করে। এর মধ্যে আইইএলটিএস, পিটিই, টোফেল, কেমব্রিজ, সেলপিপ, ওইটি, এমইটি এবং ল্যাঙ্গুয়েজসার্ট রয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে এসব পরীক্ষার নিয়ম ও গ্রহণযোগ্য স্কোরে পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এটি শুধু স্টুডেন্ট ভিসার বিষয় নয় - অস্ট্রেলিয়ার কিছু অন্যান্য ভিসাতেও পাঁচ দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যেমন কম্পিটেন্ট ইংলিশ ও ফাংশনাল ইংলিশ-এর সরকারি সংজ্ঞাতেও একই পাঁচ দেশের নাগরিকদের কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:৪৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা না থাকলে গলফে ‘চিট’ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গলফ খেলার সময় তার চারপাশে সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য থাকায় তিনি নিয়ম ভাঙার সুযোগ পান না। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে শনিবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রসিকতা করে বলেন, “আমি চিট করতাম না তা নয়”, কিন্তু এত নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিতে বল সরিয়ে খেলা সম্ভব নয়।   ট্রাম্প জানান, একবার গলফ খেলার সময় তার সঙ্গে প্রায় ২৫০ জন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট পুরো মাঠে ছড়িয়ে ছিলেন। তখন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি গলফে নিয়ম ভাঙেন কি না। ট্রাম্পের ভাষ্য, এত নিরাপত্তাকর্মী থাকায় বল সরানোর সুযোগই থাকে না। তার এই মন্তব্যে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে হাসির সৃষ্টি হয়।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গলফের প্রতি তার আগ্রহের জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে গলফে নিয়ম ভাঙার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে রয়েছে। ক্রীড়া লেখক রিক রাইলি ২০১৯ সালে Commander in Cheat নামে একটি বইয়ে ট্রাম্পের গলফ খেলার আচরণ নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সেসব অভিযোগকে ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই ফোর্বস তার গলফ সফর ও সিক্রেট সার্ভিসের ব্যয় নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম প্রায় ৬০০ দিনের মধ্যে ট্রাম্প প্রায় ১৬৫ দিন নিজের গলফ সম্পত্তিতে কাটিয়েছেন এবং এসব সফরে মোট সময় ১ হাজার ৪০০ ঘণ্টার বেশি হয়েছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য বলেছে, গলফ ক্লাবে ট্রাম্প শুধু খেলেন না; সেখানে বৈঠক, মধ্যাহ্নভোজ ও অন্যান্য সরকারি কাজও করেন।   ফোর্বস আরও দাবি করেছে, ট্রাম্পের ভার্জিনিয়ার গলফ ক্লাবে তিনি সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের জন্য হট ডগ অর্ডার করতেন এবং পরে সেই খাবারের বিল ক্লাব থেকে সিক্রেট সার্ভিসকে দেওয়া হতো। এই তথ্য একজন সাবেক ক্লাব কর্মীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের সম্পদের বিশাল ফারাক নিয়ে চলমান একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সহজে মেনে নেয়নি অভিযোগকারী ওয়াচডগ গ্রুপ 'ন্যাশনাল লিগ্যাল অ্যান্ড পলিসি সেন্টার'।   বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তারা এখন হাউজ এথিকস কমিটির কাছে ইলহান ওমরের বিস্তারিত আর্থিক নথিপত্র তলবের জোর দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি 'অফিস অব কংগ্রেশনাল কন্ডাক্ট' (ওসিসি) ৫-১ ভোটে এই তদন্ত খারিজ করার সুপারিশ করলে নতুন করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।   গত বছর নিজের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলার উল্লেখ করলেও এ বছর তা অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে ১ লাখ ডলারের নিচে দেখিয়েছেন ইলহান ওমর। তার সবশেষ নথিতে দাবি করা হয়েছে, ওয়াইনারি সাম্রাজ্য ও রোজ লেক ক্যাপিটাল ভেঞ্চার ফার্ম থেকে তার স্বামী টিম মাইনেটের আয় ছিল মাত্র ২০০ ডলার।   সম্পদের এই বিশাল অসামঞ্জস্যের জন্য হিসাবরক্ষকের ভুলকে দায়ী করেছে ওমরের কার্যালয়। ওমরের মুখপাত্র জ্যাকলিন রজার্স জানান, শুরু থেকেই তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে কংগ্রেসওম্যান কোনো মিলিয়নেয়ার নন। তবে ওয়াচডগ গ্রুপের পল কামেনার এই অজুহাতকে 'হাস্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, হিসাবরক্ষক এতোটাই বোকা যে দায়ের কথা চিন্তা না করেই সম্পদের মূল্যায়ন করেছেন—এমন দাবি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।   আগামী নির্বাচনের আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৬০ দিনের 'ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড'-এর পরপরই তদন্ত বাতিলের এই সুপারিশ সামনে আসে। নিয়মানুযায়ী এই সময়ে এথিকস কমিটি নতুন করে কোনো তদন্ত শুরু করতে পারে না। পল কামেনার হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমারেরও সমালোচনা করেছেন; কারণ, কমার প্রথমে ওমরের স্বামী টিম মাইনেটকে তলব করার কথা বললেও পরে তা এথিকস প্যানেলের ওপর ছেড়ে দেন।   অবশ্য ওসিসি-এর এই সুপারিশ হাউজ এথিকস কমিটির জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তিন জন রিপাবলিকান ও তিন জন ডেমোক্র্যাট সদস্য নিয়ে সমানভাবে বিভক্ত এই কমিটি নির্বাচনের পর তদন্তের বিষয়ে তাদের নিজস্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৩:৪২
পেট ফাঁপাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করার পর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ বছর বয়সী কেট পিং। ছবি: সংগৃহীত
সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার

পেট ফাঁপাকে প্রথমে সাধারণ হজমের সমস্যা ভেবেছিলেন ৬৯ বছর বয়সী কেট পিং। কিন্তু প্রায় দুই মাসেও অস্বস্তি না কমায় চিকিৎসকের কাছে গেলে নার্স প্র্যাকটিশনার কোলনোস্কপির বদলে সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে পিংয়ের স্টেজ ৪ ওভারিয়ান ক্যানসার। ততক্ষণে রোগটি তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।   পিংয়ের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি দুটি পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি ছেলের ওপেন-হার্ট অস্ত্রোপচার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার আগে থেকেই মানসিক চাপের সময় হজম ও অন্ত্রের নানা সমস্যা হতো। তাই পেট ফুলে যাওয়ার বিষয়টিকেও তিনি শুরুতে সেভাবেই দেখেছিলেন। ছেলের অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পরও যখন সমস্যা থেকে যায়, তখন তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।   চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় তার পেট এতটাই ফুলে ছিল যে নাভির আশপাশে স্পর্শ করলেও অস্বস্তি লাগত। পিং ধারণা করেছিলেন, তাকে সম্ভবত কোলনোস্কপি করতে বলা হবে। কিন্তু নার্স প্র্যাকটিশনারের সিটি স্ক্যানের সিদ্ধান্ত তাকে অবাক করে দেয়। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, তার ওভারিয়ান ক্যানসার অনেকটা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।   ক্যানসার বিশেষজ্ঞ প্রিমাল ঠাকারের কাছে চিকিৎসা শুরু করার পর পিং জানতে পারেন, ওভারিয়ান ক্যানসার অনেক সময় শুরুতেই শনাক্ত করা কঠিন। রোগটির এমন কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং পরীক্ষা নেই, যা নিয়মিতভাবে সবার ক্ষেত্রে এটি শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি এর প্রাথমিক উপসর্গগুলোও অনেক সময় মেনোপজ বা তুলনামূলক কম গুরুতর শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট ফাঁপা, অল্প খাবারেই দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি এবং মলত্যাগ বা প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন ওভারিয়ান ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। পেটের ভেতর তরল জমলেও পেট ফুলে যেতে পারে। পিংয়ের ক্ষেত্রে রোগটি অনেকটা অগ্রসর হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমার ছোট করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করা হয়।   চিকিৎসার সময় পিংকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সামলাতে হয়েছে। চুল পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বমিভাব ও ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। প্রতি তিন সপ্তাহ পরপর কেমোথেরাপি নিতে হতো এবং প্রতিটি চিকিৎসা পর্বের পর প্রায় এক সপ্তাহ স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে হতো। তবে প্রতিবার চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগের উন্নতির খবর তাকে মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিংয়ের অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে ক্যানসারের উপস্থিতি খোঁজা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর প্রায় ছয় সপ্তাহ তিনি সুস্থ হওয়ার জন্য সময় নেন। এরপর শরীরে অবশিষ্ট ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার লক্ষ্যে আবার কেমোথেরাপি শুরু করেন।   এরপর ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে তাকে কয়েক দফা ইমিউনোথেরাপিও দেওয়া হয়। চলতি বছরের বসন্তে তার শেষ ইনফিউশন সম্পন্ন হয়। নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আর নেই, এই খবরকে পিং অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তবে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে তিনি প্রতিদিন একটি কেমোথেরাপির ওষুধ সেবন করছেন।   পিংয়ের চিকিৎসার পুরো ঘটনাপ্রবাহে যে বিষয়টি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, সেটি হলো তার সিটি স্ক্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়া নার্স প্র্যাকটিশনারের ভূমিকা। কয়েক মাস চিকিৎসা চলার পর একদিন পিং তার স্বামীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করার ফোন ধরেন। ফোনের অপর প্রান্তের কণ্ঠটি তার পরিচিত মনে হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, এই ব্যক্তিই তার সিটি স্ক্যানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।   ওই নার্স প্র্যাকটিশনার পিংকে জানান, তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ওভারিয়ান ক্যানসারে মারা গিয়েছিলেন, কারণ রোগটি সময়মতো শনাক্ত হয়নি। পিংয়ের উপসর্গগুলো দেখে তাই তিনি ঝুঁকি না নিয়ে সিটি স্ক্যান করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঘটনাটি জানতে পেরে পিং তাকে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ওই সিদ্ধান্তই তার জীবন বাঁচিয়েছে।   বর্তমানে পিং নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওভারিয়ান ক্যানসারের উপসর্গ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। তার ছেলে এবং তিনি আবার নিজেদের দুটি রেস্তোরাঁর কাজে ফিরেছেন। সেখানে ক্যানসারের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে তার সঙ্গে কথা বলেন। পিং তাদের উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, স্টেজ ৪ ক্যানসারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আশার জায়গা থাকে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৩:১৬
বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়েছে অ্যামচ্যাম। ছবি: সংগৃহীত
৫ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনতে চায় অ্যামচ্যাম

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনতে কাজ করতে চায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিদ্যমান সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত বিনিয়োগ সক্রিয় করতে সহায়তা করবে। ফলে ৫ বিলিয়ন ডলার এখনই বিনিয়োগ হয়ে যাচ্ছে না, বরং এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য অ্যামচ্যামের নির্ধারিত লক্ষ্য।   গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যামের নেতারা এই বিনিয়োগ লক্ষ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আনার জন্য সরকারের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বাধা দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।   অ্যামচ্যামের তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্য কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। আগামী পাঁচ বছরে বিদ্যমান সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মার্কিন কোম্পানিগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চায় সংগঠনটি।   এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছে অ্যামচ্যাম। সংগঠনটি সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া, একক জানালা ব্যবস্থা কার্যকর করা, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম মেনে চলার ব্যয় কমানো এবং মূলধন ও মুনাফা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার মতো সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে।   একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে অ্যামচ্যাম। সংগঠনটির মতে, বিনিয়োগকারীরা বড় প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর সরকারি সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানির বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রেও কাজ করছে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন এবং আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।   বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা করা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত সরকারের কাছে তুলে ধরার বিষয়েও অ্যামচ্যাম কাজ করছে। সংগঠনটি মনে করে, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কার্যকর পরিবর্তন আনা গেলে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।   প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অ্যামচ্যাম আরও জানিয়েছিল, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এরই মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্ব বজায় রেখে নতুন মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আনতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি।   সব মিলিয়ে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার মার্কিন বিনিয়োগ আনার বিষয়টি বর্তমানে একটি লক্ষ্য ও উদ্যোগ হিসেবে রয়েছে। অর্থাৎ এই অর্থ নিশ্চিতভাবে বিনিয়োগের ঘোষণা নয়; বরং অ্যামচ্যাম বিদ্যমান ও সম্ভাব্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সক্রিয় করতে সরকারের সহযোগিতায় কাজ করতে চায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১২:৪৯
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
পুতিনের জন্য দিল্লিতে একসঙ্গে দুই ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’, ভেতরে কী আছে

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর সফরে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একই ধরনের দুটি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমান। দুটি বিমান একসঙ্গে উড়লেও কোনটিতে পুতিন ছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্টের অবস্থান গোপন রাখতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   পুতিনের ব্যবহৃত এই বিশেষ বিমানটি সাধারণ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের মতো নয়। রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য বিশেষভাবে পরিবর্তিত আইএল-৯৬-৩০০পিইউকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বলা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতার পাশাপাশি নিরাপদ যোগাযোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে কমান্ড পরিচালনার ব্যবস্থা।   পুতিন বিদেশ সফরে গেলে একই ধরনের দুটি বিমান একসঙ্গে ব্যবহারের কৌশল রাশিয়ার জন্য নতুন নয়। দুটি উড়োজাহাজ একই সময়ে আকাশে থাকায় বাইরের পক্ষের পক্ষে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে প্রেসিডেন্ট আসলে কোনটিতে রয়েছেন। দিল্লি সফরেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে।   আইএল-৯৬ সিরিজের বিমানটির নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে। পরে রুশ প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য আইএল-৯৬-৩০০পিইউ সংস্করণকে বিশেষভাবে উন্নত করা হয়। এতে চারটি পিএস-৯০এ ইঞ্জিন রয়েছে এবং বিমানটি প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিমানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো এর যোগাযোগ ব্যবস্থা। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি আকাশে থাকা একটি কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। নিরাপদ উপগ্রহ যোগাযোগের মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সক্ষমতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   নিরাপত্তার জন্য বিমানটিতে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি থাকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অর্থাৎ এটি শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার বাহন নয়, বরং প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ও কমান্ড পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করতে পারে।   তবে নিরাপত্তার পাশাপাশি বিমানের ভেতরে প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ সফরের জন্য আরামের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষ কক্ষ, বৈঠকের জায়গা, খাবারের ব্যবস্থা ও শৌচাগারের মতো সুবিধা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অংশে কাঠের আসবাব এবং চামড়ায় মোড়ানো আসন ব্যবহারের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পুতিনের দিল্লি সফরের সময় এই বিশেষ বিমানটি আবারও আলোচনায় এসেছে মূলত এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুই বিমানের কৌশলের কারণে। রুশ প্রেসিডেন্ট ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে পৌঁছান এবং ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুই নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   পুতিনের এই ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ তাই শুধু বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট বিমান নয়। এর বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কমান্ড পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর সফরের সময় একই ধরনের দুটি বিমান একসঙ্গে ব্যবহার করার কৌশলটি সেই নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করে।   সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১২:২৭
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
১৫ সেপ্টেম্বরের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের হার্ভার্ডের জরুরি পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা বিদেশে অবস্থান করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে সতর্ক করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ ওই দিন থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন নিয়মে এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের আগের মতো ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা নির্দিষ্ট শেষ তারিখ ছাড়া থাকার ব্যবস্থা বদলে নির্দিষ্ট মেয়াদের প্রবেশ-অনুমতি চালু হবে।   হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিস জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে শিক্ষার্থীদের আই-৯৪ নথিতে নতুন ধরনের ‘অ্যাডমিট আনটিল ডেট’ যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ তখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি একটি নির্দিষ্ট তারিখের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে বিদেশে যাওয়ার পর ফেরার সময়টি শিক্ষার্থীদের অভিবাসন অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।   বর্তমান ব্যবস্থায় এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের সাধারণত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর অর্থ হলো, শিক্ষার্থী নিয়ম মেনে অনুমোদিত পড়াশোনা বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে গেলে তার অবস্থানের মেয়াদ নির্দিষ্ট কোনো তারিখের পরিবর্তে সেই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই কাঠামো বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ভর্তি-অনুমতি চালু করবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে প্রবেশ করা এফ-১ ও জে-১ শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ভর্তি করা হবে। সাধারণভাবে এই মেয়াদ শিক্ষার্থীর প্রোগ্রামের সময়কাল বা সর্বোচ্চ চার বছর, যেটি কম, তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে।   তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি একই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে না। নতুন আইনে তাদের জন্য একটি ট্রানজিশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে যারা এফ বা জে স্ট্যাটাসে থেকে নিয়ম মেনে চলবেন, তারা নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে আগের ব্যবস্থার সুরক্ষা পাবেন।   এই কারণেই হার্ভার্ডের পরামর্শে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। হার্ভার্ড জানিয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদেশ ভ্রমণ করে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এমন ভ্রমণের পর শিক্ষার্থীদের আই-৯৪ নথিতে থাকা অনুমোদিত থাকার মেয়াদ তাদের প্রোগ্রামের সময়সীমার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হতে পারে।   হার্ভার্ডের পরামর্শের অর্থ এই নয় যে ১৫ সেপ্টেম্বরের দিন সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে তাদের বৈধ অবস্থান শেষ হয়ে যাবে। বরং বিষয়টি মূলত নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময় শিক্ষার্থীর অবস্থান এবং তার পরবর্তী আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। যারা ওই তারিখের পর বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন, তাদের নতুন প্রবেশ-নিয়মের আওতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিবর্তন আসছে। কারও প্রোগ্রাম নির্ধারিত ভর্তি-সময়ের চেয়ে বেশি দীর্ঘ হলে তাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য অনুমোদন নিতে হতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু ভিসার মেয়াদ নয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আই-৯৪ নথিতে নির্ধারিত অনুমোদিত থাকার তারিখও নিয়মিত যাচাই করতে হবে।   মার্কিন সরকারের নতুন নিয়মটি শুধু এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। এতে জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং আই-শ্রেণির বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থা বদলে নির্দিষ্ট সময়ের ভর্তি-অনুমতি চালু করা হচ্ছে। নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   হার্ভার্ডের আন্তর্জাতিক অফিস জানিয়েছে, নতুন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থী ও স্কলারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তারা আলাদা পরামর্শ ও তথ্যসেবা চালু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে নতুন নিয়মের প্রভাব বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বরের আশপাশে যাদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া বা ফিরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সব মিলিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়ম ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের ব্যবস্থায় যাচ্ছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা বিদেশ ভ্রমণ শেষে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের আই-৯৪তে নির্দিষ্ট থাকার শেষ তারিখ থাকতে পারে। আর ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে আলাদা ট্রানজিশন ব্যবস্থা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১২:৪
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে বস্তি এলাকা আড়াল করতে রাস্তা জুড়ে দেওয়া হয়েছে কাপড়ের পর্দা। ছবি: সংগৃহীত
পুতিন-জিনপিংরা আসতেই কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হলো দিল্লির বস্তি!

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা ভারতের নয়াদিল্লিতে জড়ো হয়েছেন ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনকে সামনে রেখে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকাগুলো সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি বস্তি ও নিম্নআয়ের বসতিগুলো আড়াল করতে পর্দা ও অস্থায়ী কাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী দল আম আদমি পার্টি বা আপ।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি কার্টুন প্রকাশ করে আপ। সেখানে ‘ভিশন ২০৪৭’ লেখা একটি আয়নার সামনে উন্নত ও সাজানো দিল্লির ছবি দেখানো হয়েছে। আয়নার বাইরের অংশে দেখানো হয়েছে বস্তি, আবর্জনা এবং অস্থায়ী ঘরবাড়ি। এই ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে রাজধানীর দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র আড়াল করার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছে দলটি।   আপ তাদের পোস্টে বলেছে, বস্তি পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখলে বাস্তবতা বদলে যায় না। দলটি বিষয়টিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্কের সঙ্গেও তুলনা করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তি আড়াল করা অনেকটা ২ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বলে দেখানোর মতো।   দিল্লিতে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকাগুলো আড়াল করার ঘটনা নতুন নয়। এবারের ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা কিছু বস্তি ও বসতির সামনে বড় পর্দা এবং অস্থায়ী ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন এসেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিদেশি অতিথিদের যাতায়াতের পথে রাজধানীর দারিদ্র্যের দৃশ্য যাতে চোখে না পড়ে, সে জন্য এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনকে সামনে রেখে দিল্লিতে ব্যাপক সৌন্দর্যায়ন কার্যক্রমও চালানো হয়েছে। বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ হোটেল এবং সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের সঙ্গে সংযোগকারী বিভিন্ন সড়কে আলোকসজ্জা, ব্রিকসের প্রচারসামগ্রী ও নানা ধরনের সাজসজ্জা করা হয়েছে। বিভিন্ন গোলচত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিপুলসংখ্যক গাছও বসানো হয়েছে।   সম্মেলন ঘিরে দিল্লির নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। ভারত মণ্ডপম, বিদেশি অতিথিদের অবস্থানের হোটেল এবং তাদের চলাচলের নির্ধারিত রুটে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।   ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়া ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর ভারতে সফর করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও দিল্লিতে উপস্থিত হয়েছেন।   আন্তর্জাতিক এই আয়োজনের কারণে দিল্লিকে আরও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বস্তি আড়ালের বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। আপের অভিযোগ, পর্দা বা স্ক্রিন দিয়ে দরিদ্র মানুষের বসতি আড়াল করা হলে সেখানে বসবাসকারী মানুষের বাস্তব জীবনযাত্রার সমস্যাগুলো দূর হয় না।   ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লির এই সাজসজ্জা ও বস্তি আড়ালের বিতর্ক এখন আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে ভারতের রাজধানীকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। তবে বস্তি আড়ালের পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১১:৩৯
একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডালজয়ী চীনা গণিতবিদ দেং ইউ। ছবি: সংগৃহীত
এআই সব গণিতের সমস্যা সমাধান করলে রোমান্টিক উপন্যাস লিখব: গণিতের ‘নোবেল’ বিজয়ীর রসিকতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যদি একদিন গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলে, তাহলে তিনি গণিতের কাজ ছেড়ে রোমান্টিক উপন্যাস লিখবেন। এমন রসিকতা করেছেন ২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডালজয়ী ৩৭ বছর বয়সী চীনা গণিতবিদ দেং ইউ। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন তিনি।   মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেং লেখেন, এআই যদি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করে ফেলে, তাহলে তিনি বাড়ি গিয়ে তার ‘ইউরি’ উপন্যাস লিখবেন। ইউরি জাপানি উপন্যাস ও কমিকসের একটি বিশেষ ধারা, যেখানে নারীদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গল্প তৈরি হয়। দেং এই ধারার ভক্ত হিসেবে পরিচিত।   দেংয়ের ওই পোস্ট পরে চীনের আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি লেখেন, এআইয়ের অগ্রগতি গণিতবিদদের মধ্যে একধরনের অস্থিরতা ও অধৈর্যের পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই পরিবর্তনের ধাক্কা কিছুটা কেটে গেলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।   দেং আরও বলেন, গণিত ধীরে ধীরে এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেবে এবং এ প্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন একটি গবেষণা পরিবেশও তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ এআইয়ের অগ্রগতিকে তিনি শুধু হুমকি হিসেবে দেখছেন না, বরং গণিতের কাজের ধরন পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবেও দেখছেন।   তবে বুধবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে দেং স্পষ্ট করে বলেন, তিনি বর্তমানে কোনো ইউরি উপন্যাস লিখছেন না। এআই সব গণিতের সমস্যা সমাধান করে ফেললে উপন্যাস লেখার কথা বলা ছিল পুরোপুরি রসিকতা। তিনি আরও বলেন, এআই এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে তিনি মনে করেন না যে এটি গণিতের সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে।   দেংয়ের এই মন্তব্যের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে গণিতে এআইয়ের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও রয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই জানায়, তাদের একটি অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থা নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা নিয়ে একটি সমাধান তৈরি করেছে। এটি গণিতের সাতটি মিলেনিয়াম পুরস্কার সমস্যার একটি এবং প্রায় ৯০ বছর ধরে অমীমাংসিত ছিল।   ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই কাজের জন্য তাদের অভ্যন্তরীণ মডেলকে সমন্বয় করতে প্রায় ১০ হাজার এআই এজেন্ট ব্যবহার করা হয়। তারা প্রায় ৮৮ ঘণ্টা কাজ করে সমাধান তৈরি করে। পরে সেটির আনুষ্ঠানিক যাচাইও করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই ফলাফলের জন্য তারা মিলেনিয়াম পুরস্কারের অর্থ দাবি করবে না।   নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা মূলত তরল পদার্থের প্রবাহ কীভাবে কাজ করে, তা বর্ণনা করা সমীকরণগুলোর আচরণ নিয়ে। সমস্যাটির সমাধান হলে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের একটি দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। তবে ওপেনএআইয়ের দাবি প্রকাশের পরও গণিতবিদদের মধ্যে এর ফলাফল ও প্রমাণ নিয়ে আরও যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।   ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লে ম্যাথমেটিক্স ইনস্টিটিউট গণিতের সাতটি বড় অমীমাংসিত প্রশ্নকে ‘মিলেনিয়াম পুরস্কার সমস্যা’ হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিটি সমস্যার সমাধানের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে পয়েনকেয়ার কনজেকচার সমাধান করেছিলেন রুশ গণিতবিদ গ্রিগরি পেরেলমান। তবে তিনি ওই অর্থ এবং ফিল্ডস মেডাল গ্রহণ করেননি।   নেভিয়ার-স্টোকস সমস্যা নিয়ে ওপেনএআইয়ের অগ্রগতিকে ঘিরে অবশ্য বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার এবং অ্যানথ্রোপিকের গবেষক লেভেন্ট আলপোগে একই ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের কাজ শুরু করার আগে ওই দুই গবেষকের অগ্রগতি নিয়ে একটি গুঞ্জন তারা শুনেছিল।   ওপেনএআই বলেছে, তাদের গবেষক বা এআই এজেন্টরা প্রকাশ্যে আসার আগে বাকমাস্টার ও আলপোগের কাজ দেখেনি। প্রতিষ্ঠানটির তদন্তেও বলা হয়েছে, বাকমাস্টারের আগের কোডেক্স ব্যবহারের তথ্য তাদের অভ্যন্তরীণ মডেলকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে গবেষণার স্বীকৃতি, তথ্যের ব্যবহার এবং এআইয়ের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   গণিতে এআইয়ের এই দ্রুত অগ্রগতি তাই গবেষকদের সামনে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন প্রশ্নও তুলেছে। জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে এআই যত বেশি সক্ষম হচ্ছে, ততই মানুষের গবেষণার ভূমিকা কীভাবে বদলাবে, তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। দেং ইউয়ের রসিক মন্তব্যও সেই পরিবর্তন নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও কৌতূহলেরই একটি মজার প্রকাশ।   তবে আপাতত গণিত ছেড়ে উপন্যাস লেখার কোনো পরিকল্পনা নেই দেংয়ের। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, এআই সব গণিতের সমস্যা সমাধান করে ফেলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাই তার ‘ইউরি’ উপন্যাস লেখার পরিকল্পনাটিও আপাতত গণিতজগতের চাপ ও এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে করা একটি রসিকতা হিসেবেই থাকছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১১:৭
হাসপাতালের বেডে গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ পরে বসে থাকা মিনেসোটার ‘মিরাকেল বেবি’ অ্যাডোনিস। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজন নিয়ে জন্ম, হাসপাতালে ৩৩৪ দিনের লড়াই শেষে বাড়ি ফিরল ‘মিরাকেল বেবি’

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের এক শিশু দীর্ঘ ৩৩৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরেছে। অ্যাডোনিস নামের শিশুটিকে চিকিৎসক ও নার্সরা ‘মিরাকেল বেবি’ হিসেবে অভিহিত করছেন। জন্মের পর তার বেঁচে থাকা এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রায় এক বছর চিকিৎসার পর সে হাসপাতাল ছাড়তে সক্ষম হয়েছে।   মিনেসোটার ম্যাপল গ্রোভে নর্থ মেমোরিয়াল হেলথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল অ্যাডোনিস। তার মা জেসমিন ওয়েলিংটনের গর্ভাবস্থা ২৪ সপ্তাহ ৫ দিন চলার সময় হঠাৎ প্রসবব্যথা শুরু হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ১ পাউন্ড ৮ আউন্স, যা প্রায় ৬৮০ গ্রামের সমান।   জন্মের পর অ্যাডোনিসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তাকে দীর্ঘ সময় কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা নিতে হয়। চিকিৎসকদের জন্যও তার সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। হাসপাতালের নার্স ক্যাথরিন মার্টিনসন জানান, শিশুটির জন্মের পর প্রথম কয়েক দিন এতটাই কঠিন ছিল যে তিনি কাজে ফিরে এসে অ্যাডোনিসকে জীবিত দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা করেছিলেন।   চিকিৎসার প্রথম কয়েক মাসেও অ্যাডোনিসকে একের পর এক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সে আলাদাভাবে মেথিসিলিন-প্রতিরোধী স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এসব শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে তার চিকিৎসা ও পরিচর্যাও ছিল অত্যন্ত জটিল। তারপরও চিকিৎসক, নার্স এবং পরিবারের সদস্যদের নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে।   অ্যাডোনিসের মা জেসমিন ওয়েলিংটন বলেন, পুরো যাত্রাটিই ছিল নানা উত্থান-পতনে ভরা। কখনও তার সন্তানের অবস্থার উন্নতি হয়েছে, আবার কখনও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ের অভিজ্ঞতা তার জন্য উদ্বেগ ও মানসিক চাপের ছিল, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও তিনি জানান।   শিশুটির বাবা জুনিয়র র‍্যান্সি-কোয়ায়ে এই কঠিন সময়েও বিশ্বাস ধরে রাখার কথা জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অ্যাডোনিসের বেঁচে থাকাকে সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন এবং শিশুটির সুস্থ হয়ে ওঠার আশায় অপেক্ষা করেছেন।   হাসপাতালে ৩৩৪ দিন কাটানোর পর অ্যাডোনিস এখন অবশেষে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে ফিরেছে। তবে চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্তমানে তাকে অক্সিজেনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসা দল আশা করছে, বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একসময় তার আর অক্সিজেনের প্রয়োজন হবে না।   প্রায় এক বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে অ্যাডোনিসের ওজন এখন ২০ পাউন্ডের বেশি। জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের শিশুটির এই বেড়ে ওঠাকে চিকিৎসাকর্মীরা তার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।   নার্স ক্যাথরিন মার্টিনসনের মতে, অ্যাডোনিসের ঘটনা একটি অলৌকিক ঘটনা বলেই মনে হয়েছে। তার মতো খুব কম বয়সে জন্ম নেওয়া অনেক শিশুকে জন্মের পর বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে শ্বাসনালিতে বিশেষ ব্যবস্থা বা খাবার দেওয়ার জন্য বিশেষ টিউবের প্রয়োজন হতে পারে। অ্যাডোনিসও জন্মের সময় এমন একটি অবস্থায় ছিল, যেখানে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল।   তবে দীর্ঘ চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর অ্যাডোনিস সেই আশঙ্কাগুলোকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। হাসপাতালের কর্মীরা বলছেন, খুব কম বয়সে জন্ম নেওয়া শিশুরাও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভালো করতে পারে। অ্যাডোনিসের দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার ঘটনাকে তাই তার পরিবার ও চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বিশেষ এক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ৩৩৪ দিন পর হাসপাতালের বাইরে পরিবারের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করেছে অ্যাডোনিস। জন্মের সময় মাত্র ৬৮০ গ্রাম ওজনের সেই শিশুই এখন ২০ পাউন্ডের বেশি ওজন নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। তার চিকিৎসায় যুক্ত নার্স ও চিকিৎসকদের কাছে এই দীর্ঘ যাত্রাই তাকে ‘মিরাকেল বেবি’ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।   সূত্র: সিবিএস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১০:৫১
মেরিল্যান্ডে আয়োজিত রাজ্যের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী ইতালীয় মেলার একটি উৎসবমুখর দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডে বসছে সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা, ২০ হাজার মানুষের সমাগম ঘিরে জমজমাট প্রস্তুতি

মেরিল্যান্ডে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বসছে রাজ্যের সবচেয়ে বড় ইতালীয় মেলা। হারফোর্ড কাউন্টির অ্যাবারডিনে রিপকেন স্টেডিয়ামের পার্কিং লটে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে চলছে প্রস্তুতি। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত অ্যাভেনা মেরিল্যান্ড ইতালিয়ান ফেস্টিভ্যালে ২০ হাজারের বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। ১৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্য থেকে দর্শনার্থীরা এই উৎসবে আসবেন বলেও জানানো হয়েছে।   ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে খাঁটি ইতালীয় খাবার, সরাসরি সংগীত পরিবেশনা, কার্নিভ্যাল রাইড ও বিভিন্ন খেলা। পাশাপাশি থাকছে কারুশিল্পের পণ্য কেনাকাটা, রান্নার প্রদর্শনী, ওয়াইন টেস্টিং, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং আতশবাজি।   অ্যাবারডিনে এবার দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। শহরের মেয়র প্যাট্রিক ম্যাকগ্র্যাডি বড় এই আয়োজনকে স্থানীয় ব্যবসাগুলোর জন্য ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, অ্যাবারডিনের ভৌগোলিক অবস্থান দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক হওয়ায় মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়্যার এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে মানুষ সহজেই এখানে আসতে পারেন।   মেলাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসাগুলোও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আয়োজকদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। অ্যাবারডিনের একটি ট্রপিক্যাল স্মুদি ক্যাফের স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এরিক মেটজ জানিয়েছেন, বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে তারা প্রস্তুত। মেলায় আসা মানুষদের জন্য নিজেদের পার্কিং সুবিধাও ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।   বেল এয়ারের ব্রে অ্যান্ড এম বুটিকের মালিক অ্যাশলি ওউয়েন্সও এবার মেলায় বিক্রেতা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি এবার আগের চেয়ে বড় পরিসরে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর দোকান থেকে মেলার জন্য বিশেষ কিছু ইতালীয় পণ্যও আনা হবে, যেগুলো সাধারণ সময়ে দোকানে পাওয়া যায় না। গতবার এসব বিশেষ পণ্য পুরোপুরি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এবার অতিরিক্ত পণ্য মজুত করা হচ্ছে।   শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় মেলার কার্যক্রম শুরু হবে এবং চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে।   মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এক দিনের সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ১২ ডলার। তবে ১২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা একজন প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। অনলাইনে অথবা মেলাস্থলে সরাসরি টিকিট কেনা যাবে।   এই আয়োজনের সঙ্গে দাতব্য কার্যক্রমও যুক্ত রয়েছে। মেলা থেকে পাওয়া নিট অর্থ সোসাইটি অব ইতালিয়ান আমেরিকান বিজনেসমেনের সহায়তায় পরিচালিত আঞ্চলিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয় করা হবে। আয়োজকদের সংগঠনটি মেরিল্যান্ডে ইতালীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমে সহায়তা করার সঙ্গে যুক্ত।   মেরিল্যান্ডের পর্যটন বিভাগের তথ্যেও ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যাবারডিনে এই ইতালীয় মেলার আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আয়োজকেরা বড় দর্শকসমাগমের প্রত্যাশা করছেন এবং তিন দিনের আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা ও বিক্রেতাদের মধ্যেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১০:৩৩
একটি জনসভায় বিভিন্ন দেশের ওপর ট্যারিফ বা শুল্কের তালিকা প্রদর্শন করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফ আয় ফেরতের চেয়ে বেশি, আগস্টে ফেরত ১০.৫ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফ থেকে সরকারের আয় ফেরত দেওয়া অর্থের চেয়ে বেশি হয়েছে। আগস্টে সরকার ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ ফেরত দিয়েছে, বিপরীতে ট্যারিফ থেকে আয় হয়েছে ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এপ্রিলের পর আগস্টেই প্রথমবারের মতো ট্যারিফ আয়ের হিসাবে ফেরতের চেয়ে বেশি অর্থ জমা পড়েছে। এতে আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোচ্ছে।   শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ট্যারিফ ফেরতের পরিমাণ আগের দুই মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাইয়ে সরকার ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ ফেরত দিয়েছিল। এর আগে জুনে ফেরতের পরিমাণ ছিল ৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। ফলে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ট্যারিফ ফেরতের মাসিক পরিমাণ দ্রুত কমেছে।   চলতি বছরের শুরুতে আদালতের সিদ্ধান্তের পর বড় অঙ্কের এই অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বিস্তৃত ট্যারিফের একটি বড় অংশ বাতিল করে। এসব ট্যারিফ ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের সিদ্ধান্তের পর প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ আসে।   সরকার এপ্রিলের শেষ দিকে ট্যারিফ ফেরতের জন্য একটি বিশেষ অনলাইন ব্যবস্থা চালু করে। এরপর মে মাস থেকে ট্যারিফ ফেরত দেওয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সরকার মোট প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ ফেরত দিয়েছে। এর বড় অংশই অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে আদায় করা ট্যারিফ ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে দিতে ব্যয় হয়েছে।   আগস্টে ট্যারিফ আয় ফেরতের চেয়ে বেশি হলেও চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক ট্যারিফ আয়ের চিত্র এখনও আগের তুলনায় দুর্বল। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মোট ১৬৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার নিট ট্যারিফ আয় করেছে। মাসিক হিসাবে ট্যারিফ আয় গত বছরের অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৩১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। এরপর তা কমতে থাকে।   তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্যারিফ আয় কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। টানা পাঁচ মাস ধরে প্রতি মাসে ট্যারিফ থেকে ২০ বিলিয়ন থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে অর্থ এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর ট্যারিফ আয় কিছু সময় প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও এখন আবার তা বাড়তে শুরু করেছে।   এদিকে ট্যারিফ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতিও বড় আকার ধারণ করেছে। ২০২৬ অর্থবছর শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি থাকতেই সরকারের বাজেট ঘাটতি ১ দশমিক ৯৬৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জুলাইয়ের শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৭৯৯ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসে ঘাটতি ১৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়েছে।   কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস সম্প্রতি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি প্রায় ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি চলতি বছরের শুরুতে তাদের ঘাটতির পূর্বাভাস প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়েছিল। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রত্যাশার তুলনায় কম ট্যারিফ আদায়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।   এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতের ট্যারিফ আয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যয় করার পরিকল্পনার কথা বলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে প্রস্তাব দিয়েছেন, রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই অর্থ ট্যারিফ থেকে পাওয়া রাজস্বের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে।   তবে এই ধরনের অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ট্যারিফ আয় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের মোট ব্যয় প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মোট জাতীয় ঋণের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।   সব মিলিয়ে আগস্টের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া ট্যারিফ ফেরতের চাপ ধীরে ধীরে কমছে। মাসিক ফেরতের পরিমাণ জুনের ৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার থেকে আগস্টে ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ট্যারিফ থেকে সরকারের আয় ফেরতের চেয়ে বেশি হওয়ায় এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো এই হিসাবে নিট ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে।   সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১০:১৯
আলাস্কার উপকূলে বরফশীতল পানিতে উল্টে যাওয়া বোটের ওপর বসে সাহায্যের অপেক্ষা করছে এক কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
উল্টে যাওয়া বোটের ওপর রাত কাটিয়ে আলাস্কায় প্রাণে বাঁচল ১৫ বছরের কিশোর

আলাস্কার উপকূলের কাছে বরফশীতল পানিতে মাছ ধরার বোট উল্টে যাওয়ার পর সেটির ওপর রাত কাটিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। পরে মার্কিন কোস্টগার্ড তাকে উল্টে যাওয়া বোটের ওপর থেকে জীবিত উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কিশোরটির সঙ্গে থাকা দুই নৌযাত্রী মারা গেছেন।   ঘটনাটি ঘটে আলাস্কার সেন্ট লরেন্স দ্বীপের কাছে বেরিং সাগরে। ১৮ ফুট দীর্ঘ মাছ ধরার বোটটি শুক্রবার সেন্ট লরেন্স দ্বীপের সাভুঙ্গা এলাকা থেকে যাত্রা করে। রোববার ভোরে বোটটির ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেটি ফিরে না আসায় রোববার রাতে নিখোঁজ হিসেবে প্রতিবেদন করা হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।   তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কোস্টগার্ডের এইচসি-১৩০ হারকিউলিস বিমানের সদস্যরা সোমবারের আগে অনুসন্ধান শুরু করতে পারেননি। সোমবার সকালে কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জনাথন রেশ সেন্ট লরেন্স দ্বীপ থেকে প্রায় চার মাইল দূরে উল্টে যাওয়া বোটটি দেখতে পান। তখন ১৫ বছর বয়সী কিশোরটি বোটটির ওপর বসে ছিল।   রেশ ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে মানুষ সাধারণত বেঁচে থাকতে পারে না। বিশেষ করে প্রায় ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে একটি বোট উল্টে যাওয়ার পর রাত পার করে জীবিত থাকা অত্যন্ত কঠিন। কিশোরটিকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাকে তিনি অলৌকিকের মতো বলে উল্লেখ করেন।   কিশোরটিকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডের বিমান থেকে পানিতে সংকেত দেওয়ার সরঞ্জাম ও লাইফ র‍্যাফট ফেলা হয়। একই সময়ে কাছাকাছি থাকা নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার নামের একটি জাহাজকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে ওই জাহাজটি সেখানে পৌঁছে কিশোরটিকে উদ্ধার করে।   উদ্ধারের ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটি উল্টে যাওয়া বোটের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে ছিল। পরে একটি দড়ির সাহায্যে তাকে টেনে নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার জাহাজে তোলা হয়। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় কিশোরটির শরীরে হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ ছিল।   অন্যদিকে, বোটে থাকা দুই নৌযাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের মরদেহ পানির মধ্য থেকে উদ্ধার করে কিশোরটির সঙ্গে আলাস্কার নোম শহরে নেওয়া হয়। কোস্টগার্ড এখনো নিহত দুই নৌযাত্রী এবং উদ্ধার হওয়া কিশোরটির পরিচয় প্রকাশ করেনি।   কোস্টগার্ডের আর্কটিক ডিস্ট্রিক্টের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল বব লিটল এই ঘটনায় নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কিশোরটিকে জীবিত উদ্ধারে সহায়তা করা নর্থওয়েস্ট এক্সপ্লোরার, বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।   উদ্ধারকারী দলের কাছে ঘটনাটি একই সঙ্গে স্বস্তি ও শোকের হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোস্টগার্ডের সদস্যরা কিশোরটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করলেও তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই নৌযাত্রীকে সময়মতো খুঁজে না পাওয়ায় দুঃখ জানিয়েছেন। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে উল্টে যাওয়া বোটের ওপর অবস্থান করে কিশোরটির বেঁচে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়াকে তারা অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন।   সূত্র: এবিসি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১০:২
এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে ট্রাম্প বললেন ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানী, গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ বাড়লেও বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।   বৃহস্পতিবার রাতে ডালাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, এআই নিয়ে তার কোনো উদ্বেগ নেই। তার মতে, প্রযুক্তিটির কারণে কোনো সমস্যা তৈরি হলেও তা মোকাবিলার উপায় থাকবে। ট্রাম্প একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে গুরুত্ব দেন এবং বলেন, এই প্রতিযোগিতায় চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে।   ট্রাম্পের এমন আশাবাদী অবস্থানের বিপরীতে এআই খাতের ভেতর থেকেই সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে। বিশেষ করে অ্যানথ্রপিকের কয়েকজন গবেষকের বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন পদত্যাগের পর উন্নত এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর এআইয়ের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।   অ্যানথ্রপিকের গবেষক ইভান হুবিঙ্গারও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে, উন্নত এআই একসময় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে মনে করেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।   এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের পেছনে শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কাই নয়, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও ভূমিকা রাখছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সময় ওপেনএআইয়ের তৈরি এআই ব্যবস্থা সফটওয়্যার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রুবিজেমসে আক্রমণ চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় শত শত ক্ষতিকর প্যাকেজ আপলোড করা হয়েছিল। ওপেনএআই পরে ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানায়, অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবস্থাগুলো প্রশিক্ষণের সময় ওই কার্যক্রম চালিয়েছিল।   অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই ব্যবস্থাও বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র নিয়ে গবেষণা, সাইবার হামলা, নজরদারি ও প্রতারণার মতো কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনা উন্নত এআই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে এবং সেগুলোর ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।   এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সিনেটের আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবে উন্নত এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের বিপর্যয়কর ঝুঁকি কমানোর জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।   আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, বিপজ্জনক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে এমন এআই ব্যবস্থার ব্যবহার বা প্রকাশ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের জন্য বড় ধরনের বিপদ তৈরি করতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করতে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণাগারে পরীক্ষার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে আইনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এর চূড়ান্ত রূপ বা বাস্তবায়নের সময়সীমাও নিশ্চিত নয়।   এআই নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা তৈরি করছে। এর পাশাপাশি এআই ব্যবস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও বাড়ছে। ফলে কিছু গবেষক মনে করছেন, প্রযুক্তির সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।   এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও প্রযুক্তিটির উন্নয়ন থামানোর বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে পরিবর্তিত হয়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যে বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়লে দেশটি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে। একই সময়ে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওপেনএআইসহ প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের গতি কমানো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।   ফলে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে দ্রুত উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে গবেষক ও আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ সম্ভাব্য বিপর্যয়কর ঝুঁকি মোকাবিলায় আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাচ্ছে। এই দুই অবস্থানের মাঝেই এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। তবে ট্রাম্প এখনো এসব উদ্বেগকে বড় ধরনের বাধা হিসেবে দেখছেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।   সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৯:৫৩
ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুর বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেমস বন্ড তারকা পিয়ার্স ব্রসনান। ছবি: সংগৃহীত
আগুন-ভূমিকম্পের ভয়, ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ছাড়ছেন হলিউড অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনান

হলিউড অভিনেতা ও সাবেক ‘জেমস বন্ড’ তারকা পিয়ার্স ব্রসনান ২৬ বছর পর ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবুতে থাকা তার বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সমুদ্রতীরবর্তী সম্পত্তি থেকে সরে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দাবানল ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি। পাশাপাশি বিশাল বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণের উচ্চ ব্যয়ও ব্রসনানের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।   ৭৩ বছর বয়সী ব্রসনান ও তার স্ত্রী কিলি শেই স্মিথ ২০০০ সালে মালিবুর ব্রড বিচ এলাকায় দুটি পাশের সম্পত্তি কিনেছিলেন। পরে সেখানে তারা বিশাল আবাসিক কম্পাউন্ড তৈরি করেন। প্রায় ২৬ বছর ধরে এই বাড়িই ছিল তাদের অন্যতম প্রধান আবাসস্থল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় বসবাসের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ বেড়েছে।   ব্রসনান জানিয়েছেন, তাদের বাড়িটি অতীতে কয়েকবার দাবানলের কাছাকাছি পড়লেও আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে। তার ভাষায়, কয়েকবার আগুন থেকে বেঁচে যাওয়ার পর এখন মনে হচ্ছে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সমুদ্রের কাছে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বসবাস করাও তাদের মধ্যে এক ধরনের ভয় তৈরি করে।   দাবানলের আশঙ্কা ব্রসনানের জন্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে তার মালিবুর বাড়ির গ্যারেজে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আগুন গ্যারেজের পাশাপাশি ওপরের একটি শোবার ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই ঘটনায় ব্রসনান ও তার পরিবারের কেউ আহত হননি।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালিবু ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ দাবানলের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে ব্রসনানের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার বর্তমান সিদ্ধান্তে দাবানলের পাশাপাশি ভূমিকম্পের আশঙ্কাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তবে শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, বাড়িটি ধরে রাখার খরচও ব্রসনানের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠেছে। অভিনেতা জানিয়েছেন, মালিবুর বিশাল বাড়িটির মর্টগেজ ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে ক্যারিয়ারের কিছু সময়ে তাকে এমন কাজও নিতে হয়েছে, যেগুলোর প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। অর্থের প্রয়োজন মেটাতে পছন্দের বাইরে গিয়ে কাজ করার বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।   ব্রসনানের মালিবুর সম্পত্তিটির নাম ‘অর্কিড হাউস’। বাড়িটির নকশায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাব রয়েছে এবং এটি নির্মাণে এক দশকেরও বেশি সময় লেগেছিল। প্রায় ১২ হাজার ৫০০ বর্গফুটের মূল বাড়িতে সিনেমা দেখার কক্ষ, জিম, শিল্পচর্চার জায়গা, সংগীতের জন্য কক্ষ, স্পা ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ওয়াইন সেলারসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।   ব্রসনান দম্পতি এর আগেও এই সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন। বাড়িটি একসময় মাসে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারে ভাড়ার জন্যও দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২১ সালে বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এবার তারা মালিবুর বাড়ি ছেড়ে হাওয়াইয়ের কাউয়াই দ্বীপে থাকা তাদের অন্য বাড়িতে আরও বেশি সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন।   মালিবুর প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও ব্রসনান এখন মনে করছেন, আগুন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং বাড়িটির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। ফলে ২৬ বছর পর প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের এই বিলাসবহুল বাড়ি থেকে তার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।   সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৯:৩৭
৩০ বছর পর প্রথমবার ‘স ন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের
৩০ বছর পর প্রথমবার ‘স ন্ত্রাসী আদালত’ ব্যবহার করে আফগান নারীকে ডিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ বছর আগে তৈরি করা বিশেষ ‘এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট’ প্রথমবারের মতো ব্যবহার করে এক আফগান নারীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী নাজিরা হাজি জাদাকে ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে ডিপোর্ট করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। তবে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত হননি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনায় পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করেছিলেন।   নাজিরা হাজি জাদা টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে বসবাসকারী যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় ১৫ জুলাই ২০২৬। এর আগে জুলাই মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৩০ জুলাই বিশেষ আদালতের প্রথম শুনানিতে হাজির করা হয়। এই আদালত ১৯৯৬ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলেও এরপর প্রায় তিন দশক ধরে কোনো মামলায় ব্যবহার করা হয়নি।   এই বিশেষ আদালত তৈরির উদ্দেশ্য ছিল এমন অ-মার্কিন নাগরিকদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা, যাদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে এবং সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়। প্রচলিত অভিবাসন আইনের আওতায় কাউকে বহিষ্কার করতে যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, এই আদালতে তার কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের কাছে থাকা গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পুরোপুরি অভিযুক্ত ব্যক্তির সামনে প্রকাশ না করেই তা ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।   নাজিরার মামলায় তাঁর আইনজীবীরা শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শ্রেণিবদ্ধ প্রমাণ তাঁরা পুরোপুরি দেখতে বা পরীক্ষা করতে পারছেন না। ফলে নাজিরার বিরুদ্ধে সরকারের অভিযোগ যথাযথভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। প্রতিরক্ষা পক্ষ আদালতের এই প্রক্রিয়াকে যথাযথ আইনি অধিকার বা ‘ডিউ প্রসেস’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরা তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমাদ তাওহেদির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আইএস-অনুপ্রাণিত হামলার পরিকল্পনায় সহায়তা করেছিলেন। পরিকল্পনাটি ছিল ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের দিন ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলা চালানো। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে ও জামাতা পরে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ এবং তাওহেদি ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন। তদন্তকারীদের অভিযোগ ছিল, তারা নির্বাচনের দিন হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। আবদুল্লাহ তখন ১৭ বছর বয়সী ছিলেন। পরে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং ১৫ বছরের কারাদণ্ড পান। তাঁর জামাতা তাওহেদিও আইএসকে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংগ্রহসংক্রান্ত সন্ত্রাসবাদী অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।   নাজিরার বিরুদ্ধে অবশ্য কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত এই বিশেষ আদালতের মাধ্যমে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সরকারের হাতে থাকা প্রমাণের মধ্যে প্রায় অর্ধ টেরাবাইট নথি নাজিরার আইনজীবীদের দেওয়া হয়েছিল। তবে মামলার সঙ্গে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যও জড়িত ছিল, যা পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।   মামলাটি শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, নাজিরা গত আগস্টে নিজেকে ‘এলিয়েন টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং আপিলের অধিকারও ছেড়ে দেন। এরপর বিশেষ আদালতের প্রধান বিচারক জোয়ান এন. এরিকসেন ২০ আগস্ট তাঁর বহিষ্কারের আদেশ অনুমোদন করেন। আদেশটি নাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পৌঁছানোর পর ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।   নাজিরার আইনজীবীরা স্পষ্ট করেছেন, তাঁর বহিষ্কারে সম্মতি দেওয়াকে এই বিশেষ আদালতের বৈধতার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের এমন একটি আদালতের সামনে হাজির করা হচ্ছে যেখানে সরকারের ব্যবহৃত সব প্রমাণ তাদের বা তাদের আইনজীবীদের দেখানো হয় না। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই আদালতের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠলে এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।   অন্যদিকে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দেয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই প্রথম মামলাটি দেখিয়েছে যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় সব আইনি উপায় ব্যবহার করতে পারে।   নাজিরার মামলার মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক নিষ্ক্রিয় থাকা এই বিশেষ আদালত কার্যত প্রথমবারের মতো ব্যবহার হলো। তবে এই আদালত ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মামলাটি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালতের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও গোপন প্রমাণ ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে যে দীর্ঘ আইনি লড়াই হতে পারত, সেটিও আপাতত হয়নি।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৩:৫৮
আমেরিকান পণ্য বয়কটে কানাডার সুপারমার্কেটে বদলে যাচ্ছে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা
আমেরিকান পণ্য বয়কট করছেন কানাডিয়ানরা, নতুন দেশ থেকে পণ্য আনছে সুপারমার্কেটগুলো

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই কানাডায় আমেরিকান পণ্য বয়কটের প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির অনেক ক্রেতা এখন সম্ভব হলে আমেরিকান পণ্য না কিনে কানাডার স্থানীয় পণ্য বেছে নিচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দোকানগুলো কানাডার পণ্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কানাডার অন্টারিওর স্বাধীন মুদি দোকান প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি জানান, আমেরিকান পণ্য রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রতি অনেক ক্রেতা তাদের কাছে ই-মেইল ও মন্তব্য পাঠিয়েছেন। এর জবাবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাদের দোকানের বেশিরভাগ কৃষিপণ্যই কানাডায় উৎপাদিত। ত্রিমার্কির চারটি দোকানে এখন প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষিপণ্যই কানাডার। আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা স্ট্রবেরির পরিবর্তে তারা এখন কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি সংগ্রহ করছেন। তবে স্থানীয় পণ্য সংগ্রহের কারণে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজেটও কমাতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগে দোকানগুলোকে পণ্যের মান ও দামের মধ্যে ভারসাম্য করতে হতো। এখন এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পণ্যটি কোন দেশের—সেই বিষয়টিও। কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লব্লও আগস্টে তাদের ফল ও তাজা খাবারের বিভাগে কানাডিয়ান পণ্য চিহ্নিত করতে ম্যাপল পাতার বড় সাইন আবার চালু করেছে। পাশাপাশি শুল্কের আওতায় পড়া পণ্য চিহ্নিত করতে ‘টি’ ট্যাগও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম মুদি বিক্রেতা মেট্রোও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কানাডার স্থানীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেবে। কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট গ্রোসার্সের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গ্যারি স্যান্ডস বলেন, কানাডার মানুষের চিন্তাভাবনায় স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্প কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের পর গত বছরের শুরু থেকেই ‘বাই কানাডিয়ান’ বা কানাডিয়ান পণ্য কেনার আন্দোলন শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে। কানাডা বিশ্বের অন্যতম বড় তাজা সবজি আমদানিকারক দেশ। দেশটির তাজা সবজির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী এখনো যুক্তরাষ্ট্র। তবে কানাডার মোট সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ জুলাইয়ে কমে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। কানাডার ফল আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। তবে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানাডার ব্যবসায়ীরা এখন বিকল্প উৎস খুঁজছেন। টরন্টোর সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ড বলেন, তিনি যতটা সম্ভব আমেরিকান পণ্য এড়িয়ে চলছেন এবং কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডকে সমর্থন করছেন। কোনো পণ্য কেনার আগে তিনি লেবেল দেখছেন এবং সেটি কানাডায় তৈরি কি না, তা জানতে অনলাইনেও খোঁজ করছেন। কানাডার শীতকাল দীর্ঘ ও কঠিন হওয়ায় সারা বছর স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত কৃষিপণ্য উৎপাদন করা সহজ নয়। এ কারণে এতদিন দেশটির সুপারমার্কেটগুলো শীতের সময়ে গ্রিনহাউসের পণ্য, সংরক্ষিত সবজি কিংবা আমদানির ওপর বেশি নির্ভর করত। আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর একটি। তবে আমেরিকান পণ্য বয়কটের কারণে এখন স্পেন, ব্রাজিল ও হন্ডুরাসের মতো দেশ থেকেও বেশি পণ্য আনছে কিছু কানাডিয়ান দোকান। মাইক ডিন লোকাল গ্রোসারের মালিক গর্ডন ডিন বলেন, নতুন সরবরাহব্যবস্থা তৈরি হয়ে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা আবার সহজে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো সরবরাহব্যবস্থায় ফিরে যাবেন—এমনটা মনে হচ্ছে না। বরং বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের ফলে সরবরাহব্যবস্থা আরও বৈচিত্র্যময় ও নিরাপদ হয়েছে। কানাডা সরকারও স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে শীতের সময়ে উৎপাদন বাড়াতে গ্রিনহাউস তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি খাদ্যের মূল্যস্ফীতি কমাতে দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের আলাদা নিয়মকানুন এবং খাদ্য পরিবহনের কিছু বিধিনিষেধের কারণে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউনিভার্সিটি অব গেলফের অধ্যাপক মাইক ভন ম্যাসো বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে। কারণ অনেক আমেরিকান পণ্য এখনো অন্যান্য দেশের বিকল্পের তুলনায় সস্তা। তবে তার মতে, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে গেলেও কানাডিয়ানদের আমেরিকান পণ্যের প্রতি আগের নির্ভরতা আর নাও ফিরতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৮:৪৫
আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিতর্ক
আয়ারল্যান্ড এক হবে, দাবি ট্রাম্পের! পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মোড়

আয়ারল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ এক হয়ে গেলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার আয়ারল্যান্ড সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা করে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে নিজের সমর্থনের কথা জানান তিনি। উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ, আর আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন দেশ। এই দুই অংশকে এক করার বিষয়টি বহু বছর ধরে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, তিনি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চান না। এরপরই নিজের মত জানিয়ে বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান। ট্রাম্প বলেন, “আমি আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চাই।” তার মতে, দুই অংশ এক হয়ে গেলে সেটি সবার জন্যই একটি বড় অর্জন হবে। আয়ারল্যান্ডকে এক করার প্রশ্নে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। যারা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে রাখতে চান, তারা মূলত ইউনিয়নিস্ট হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩০ বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলেছে। এই সময়টি ‘দ্য ট্রাবলস’ নামে পরিচিত। ১৯৯৭ সালের মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটে। এই চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রে গণভোট হলে দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এক হওয়ার পক্ষে ভোট দিলেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। বিষয়টি আপাতত আলোচনার বাইরে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে গুড ফ্রাইডে চুক্তির নিয়ম পুরোপুরি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ট্রাম্প অবশ্য মনে করেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, “এটা শেষ পর্যন্ত ঘটবেই।” এরপর পাশে থাকা আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিখল মার্টিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “এটি এগিয়ে নিতে আপনারা সঠিক মানুষকে পেয়েছেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ হওয়ায় এ বিষয়ে ব্রিটেনেরও অবশ্যই কিছু বলার থাকবে। তবে তার প্রশ্ন, আয়ারল্যান্ড এক হলে সেটি খারাপই বা হবে কেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নতুন করে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারা বার্নহ্যামের আগস্টের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, এই মুহূর্তে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এ বিষয়ে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় নেই। শনিবার সকালে আয়ারল্যান্ডে পৌঁছান ট্রাম্প। ডাবলিনে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভেরও আয়োজন করা হয়। ডাবলিনের পাশাপাশি ডুনবেগ ও শ্যানন বিমানবন্দরেও প্রতিবাদের পরিকল্পনা ছিল। ডুনবেগে ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন একটি গলফ কোর্স রয়েছে। তবে বিক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানতেন না। তিনি বলেন, “আমি কোনো বিক্ষোভ দেখিনি।” আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রোববার ট্রাম্প ডুনবেগে তার গলফ কোর্সে যাবেন এবং সেখানে আইরিশ ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন। দিনের শেষ দিকে মার্কিন দূতাবাসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন, আয়ারল্যান্ড এক করার বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নটি তাকে বেশ কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। তিনি বলেন, এমন প্রশ্নের উত্তর যেভাবেই দেওয়া হোক, সেটি নিয়ে খবর হবেই। তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, আয়ারল্যান্ডের দুই অংশ এক হওয়া তার কাছে “খুবই চমৎকার” একটি বিষয়। এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসিরও সৃষ্টি হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৮:২৭
মেক্সিকোর পাহাড়ে গোপন ক্রিপ্টো খামার, মিলেছে ৩০০ জিপিইউ
নির্জন পাহাড়ে শত শত কম্পিউটার! মেক্সিকোয় ধরা পড়ল গোপন ক্রিপ্টো খামার

মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলের ঘন সবুজ পাহাড়ের নির্জন এলাকায় লোকচক্ষুর আড়ালে চলছিল একটি গোপন ক্রিপ্টোকারেন্সি খামার। দুর্গম এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তার পাশে থাকা জরাজীর্ণ ভবনটিতে দিনরাত চলছিল শত শত শক্তিশালী কম্পিউটার। পুলিশের ধারণা, ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের আড়ালে অবৈধ অর্থপাচারের কাজও হয়ে থাকতে পারে। পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের সিয়েরা নোর্তে এলাকায় থাকা ওই স্থাপনার সন্ধান মেলে সেখান থেকে আসা অস্বাভাবিক যান্ত্রিক শব্দ এবং বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে। আশপাশের ছোট ছোট গ্রামগুলোর তুলনায় সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেখানে প্রায় ৩০০টি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ, ৮০টি মাঝারি ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক টার্মিনাল এবং আটটি স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা পায়। এসব যন্ত্র ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের তুলনায় এটি ছোট একটি কার্যক্রম হলেও গত বছরের শুরু থেকে ওই এলাকায় এমন চতুর্থ ক্রিপ্টো খামারের সন্ধান পাওয়া গেল। মেক্সিকোভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডেভিড সসেডো বলেন, মাদক কার্টেলগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তার মতে, এ ধরনের ক্রিপ্টো মাইনিং খামার চালাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। ফলে এর পেছনে মেক্সিকোর শক্তিশালী কোনো অপরাধী গোষ্ঠী থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মেক্সিকোর ফেডারেল অ্যাটর্নি কার্যালয় চলমান তদন্তের কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ে সবচেয়ে বড় খরচ হলো বিদ্যুৎ। বিপুল সংখ্যক শক্তিশালী কম্পিউটার সার্বক্ষণিক চালু রাখার পাশাপাশি সেগুলো ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এ কারণেই কম খরচে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় এমন জায়গা বা অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় এ ধরনের গোপন কার্যক্রম গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টো ওয়ালেটগুলোতে প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়েছে। এক বছর আগে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ বিলিয়ন ডলার। চেইনঅ্যানালাইসিসের লাতিন আমেরিকা বিশেষজ্ঞ কাইও মোত্তা বলেন, মেক্সিকোর মতো দেশে সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলো অর্থপাচারের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার ও মাইনিং কার্যক্রমে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুৎ সস্তা অথবা অপরাধীদের প্রভাব রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ চুরি করে বড় আকারের ক্রিপ্টো মাইনিং অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, একটি বিটকয়েন মাইন করতে বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। বিটকয়েনের বর্তমান দাম প্রায় ৭৮ হাজার ডলার হওয়ায় মাইনিং থেকে বড় ধরনের লাভের সুযোগ রয়েছে। আর বিদ্যুৎ চুরি করা হলে এই খরচ আরও কমে যায়। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত করছে, পুয়েবলার ওই ক্রিপ্টো খামারে কাছের একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়েছিল কি না। ঘন বন, দুর্গম পাহাড় এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জনবসতির কারণে সিয়েরা নোর্তে অঞ্চলটি এমন গোপন কার্যক্রমের জন্য সুবিধাজনক। স্থানীয় দুই বাসিন্দা জানান, খামারটির কম্পিউটারের শব্দ প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যেত। অথচ স্থাপনাটি সবচেয়ে কাছের গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল। গত বছর কাছের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে আরও তিনটি একই ধরনের ক্রিপ্টো খামার শনাক্ত করা হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে মিলে এ ধরনের আরও গোপন স্থাপনা রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখছে। মেক্সিকোর পাশাপাশি ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও অবৈধ ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই খাতকে ব্যবহার করে অপরাধও আরও বাড়তে পারে। তবে একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ক্রিপ্টো লেনদেন শনাক্ত ও অনুসরণ করার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৮:১১
বড় বেতনের চাকরি ছেড়ে ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন শারদেন্দু তিওয়ারি
২৭ বছরেই ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছাড়লেন অ্যামাজনের তরুণ, যোগ দিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে

২৭ বছর বয়সেই বছরে প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ভারতের লখনউয়ের তরুণ শারদেন্দু তিওয়ারি। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসেও কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তারপরও ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   শারদেন্দু তিওয়ারি এখন গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন পেয়েছেন। বড় অঙ্কের বেতন ও ভালো ক্যারিয়ার ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তার গল্পটি আলোচনায় এসেছে।   লখনউতে বেড়ে ওঠা তিওয়ারি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে চণ্ডীগড়ের পিইসি থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সময় তার ক্যারিয়ার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে এয়ারবাসেও সুযোগ পান তিনি।   তবে প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়ে উঠলেও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তার কখনো হারিয়ে যায়নি। ছোটবেলা থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তার আগ্রহ ছিল। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবা অনারারি ক্যাপ্টেন রাজ কুমার তিওয়ারির। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরে ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন।   বাবার সামরিক জীবনের প্রভাবেই তিওয়ারির মধ্যেও সেনাবাহিনীতে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। চাকরি ও আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর পরও তিনি সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার বাছাই প্রক্রিয়ায় কয়েকবার ব্যর্থ হলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান।   শেষ পর্যন্ত টেকনিক্যাল এন্ট্রি রুটে গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিওয়ারি। প্রযুক্তি খাতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   প্রশিক্ষণের সময়ও তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। একাধিক ক্যাডেট দায়িত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র আন্ডার অফিসার পদে দায়িত্ব পান তিনি, যা একাডেমিতে ক্যাডেটদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।   প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে তিওয়ারির কাছে অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে দেশের সেবা করার দীর্ঘদিনের স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ৭:৫৬