- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
মুম্বাইয়ের কুরলার বস্তিতে মাত্র ৮ বাই ১০ ফুটের একটি ঘরে মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা জয়কুমার বৈদ্য আজ নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কাজ করছেন। শৈশবে অর্থাভাবে স্কুলের বেতন দিতে না পারায় একসময় তার পরীক্ষার ফল আটকে রাখা হয়েছিল। সংসারের খরচ ও নিজের পড়াশোনা চালাতে টেলিভিশন মেরামতের কাজও করেছেন তিনি। পরে সেই জয়কুমারই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় ও চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার জিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের জগতে নিজের জায়গা করে নেন। জয়কুমারের শৈশব কেটেছে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে। তার মা একাই সংসারের দায়িত্ব সামলাতেন। স্কুলের বেতন দিতে না পারার সময়গুলোতে পরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়ত। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে জয়কুমার টেলিভিশন মেরামতের দোকানে কাজ করে মাসে প্রায় ৪ হাজার রুপি আয় করতেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াতেন এবং বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করতেন। তবে অর্থের অভাব তার পড়াশোনার আগ্রহ থামাতে পারেনি। মুম্বাইয়ের কেজে সোমাইয়া কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। শিক্ষাজীবনেই রোবোটিকসে তিনটি জাতীয় পর্যায়ের এবং চারটি রাজ্য পর্যায়ের পুরস্কার পান। এরপর তিনি লারসেন অ্যান্ড টুব্রোতে শিক্ষানবিশির সুযোগও পান। ২০১৬ সালে জয়কুমার ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে জুনিয়র গবেষণা ফেলো হিসেবে যোগ দেন। সেখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপাদান তৈরি ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। নাসার জীবনীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেছেন এবং উচ্চ তাপমাত্রার অতিপরিবাহীসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন নিয়ে কাজ করেছেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ায় স্নাতকোত্তর গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন জয়কুমার। ২০২১ সালে সেখান থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে অর্ধপরিবাহী তৈরির প্রযুক্তি ও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। নাসার সঙ্গে তার যাত্রাও শুরু হয় গবেষণার ধারাবাহিকতায়। নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে তিনি প্রথমে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি প্রকল্পে এক্স-রে দূরবীক্ষণযন্ত্রের জন্য বিশেষ ধরনের পাতলা স্তরের উপাদান তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি গ্রহের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণে ব্যবহৃত চতুর্মেরু ভর বর্ণালিমাপক তৈরির সঙ্গে যুক্ত। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জয়কুমার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্রহীয় পরিবেশ গবেষণাগারে ভূমি সহায়তা সরঞ্জাম প্রকৌশল বিভাগের প্রধান এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বিভিন্ন মহাকাশ মিশনের জন্য ভর বর্ণালিমাপকের মান নির্ধারণ, ভূমি ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতির দায়িত্বে রয়েছেন। তার কাজের সঙ্গে মঙ্গলগ্রহ ও চাঁদসহ সৌরজগতের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মিশনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল ও উর্ধ্ববায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি যন্ত্রের সঙ্গেও কাজ করেছেন, যা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের নিরপেক্ষ গ্যাস ও আয়নের গঠন পরিমাপে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল ও আয়নমণ্ডল নিয়ে গবেষণার জন্য তৈরি একটি মিশনের যন্ত্রের ভূমি সহায়তা ও পরিচালনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। যে ছেলেটির পরিবারের জন্য একসময় স্কুলের বেতন জোগাড় করাই কঠিন ছিল, সেই জয়কুমার বৈদ্য এখন মহাকাশবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র তৈরির কাজে যুক্ত। তার জীবনের পথচলা দেখিয়েছে, আর্থিক সংকট শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালেও সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে সেখান থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণায়ও জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ১০ হাজার সরকারি ও সনদপ্রাপ্ত স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জরুরি অ্যাজমার ইনহেলার সরবরাহ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ২৫ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রতিটি প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণির স্কুল বছরে একবার দুটি অ্যালবিউটেরল ইনহেলার ও ২৫টি একবার ব্যবহারযোগ্য স্পেসার বিনামূল্যে পাবে। এ সুবিধা টানা তিন বছর দেওয়া হবে। গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ২০ আগস্ট কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম কোনো রাজ্যব্যাপী উদ্যোগ, যেখানে সরকারি ও সনদপ্রাপ্ত স্কুলগুলোতে জরুরি অ্যাজমার ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। কর্মসূচিটি ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালরেক্স উদ্যোগ, রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ এবং অ্যামনিয়াল ফার্মাসিউটিক্যালসের অংশীদারত্বে পরিচালিত হচ্ছে। অ্যালবিউটেরল সাধারণত জরুরি বা দ্রুত-কার্যকর ইনহেলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে এটি শ্বাসনালির চারপাশের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। স্কুলে এমন ইনহেলার হাতের কাছে থাকলে জরুরি মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশু অ্যাজমায় আক্রান্ত। এ রোগের কারণে স্কুলে অনুপস্থিতিও শিশুদের জন্য বড় সমস্যা। নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য হলো স্কুলে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি কমানো এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা। বিনামূল্যের ইনহেলার পেতে স্কুলগুলোকে ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগের অ্যালবিউটেরল স্থায়ী নির্দেশনার আওতায় থাকতে হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই স্কুলে জরুরি ব্যবহারের জন্য অ্যালবিউটেরল মজুত রাখা যায়। ইনহেলার সরবরাহের পাশাপাশি স্কুল কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া স্কুল নার্সেস অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় সরকারি স্কুল জেলাগুলো বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা পাবে। এতে শ্বাসকষ্টের লক্ষণ চেনা, জরুরি পরিস্থিতিতে ইনহেলার ব্যবহারের নিয়ম এবং প্রয়োজন হলে ৯১১-এ কল করা ও অভিভাবককে জানানোর প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বেসরকারি স্কুলগুলো এই কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ইনহেলার পাবে না। তারা নিজেদের খরচে ক্যালরেক্সের মাধ্যমে ইনহেলার ও স্পেসার কিনতে পারবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ইনহেলারও তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ থাকবে। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্কুলে অ্যাজমাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানো। বিশেষ করে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ সহজলভ্য রাখার মাধ্যমে শ্বাসকষ্টের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় রাতের আকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির (ইএসও) নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে কক্ষপথে ১৪ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। এর বড় অংশই স্পেসএক্সের স্টারলিংক নেটওয়ার্কের স্যাটেলাইট। নতুন প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ১৭ লাখের বেশি হতে পারে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে। ১ জুলাই প্রকাশিত গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, কক্ষপথে অতিরিক্ত সংখ্যক ও উজ্জ্বল স্যাটেলাইট যুক্ত হলে রাতের আকাশ শুধু আলোকিতই হবে না, দূরবীক্ষণযন্ত্রে মহাকাশ পর্যবেক্ষণও কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে ছবি তোলার ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের আলো উজ্জ্বল রেখা তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক বস্তুর ছবি ঢেকে দিতে পারে। গবেষণার অন্যতম লেখক ও ইএসওর জ্যোতির্বিজ্ঞানী অলিভিয়ে হাইনো বলেন, সূর্যের আলোয় আলোকিত স্যাটেলাইট দূরবর্তী গ্যালাক্সির তুলনায় অনেক বেশি উজ্জ্বল হতে পারে। ফলে কোনো স্যাটেলাইট দূরবীক্ষণযন্ত্রের দৃষ্টিসীমার মধ্য দিয়ে গেলে ছবিতে উজ্জ্বল দাগ তৈরি হয় এবং তার পেছনে থাকা মহাজাগতিক বস্তুর পর্যবেক্ষণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ইএসওর হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের প্রস্তাবিত বিশাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে চিলিতে অবস্থিত ইএসওর ভেরি লার্জ টেলিস্কোপে রাতের নির্দিষ্ট সময়ে তোলা প্রতিটি ছবিতে কয়েক ডজন পর্যন্ত স্যাটেলাইটের রেখা দেখা যেতে পারে। এতে একটি ছবির পর্যবেক্ষণযোগ্য এলাকার সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু স্যাটেলাইটের রেখাই সমস্যা নয়। বিপুলসংখ্যক স্যাটেলাইট থেকে ছড়িয়ে পড়া আলো পুরো রাতের আকাশকে উজ্জ্বল করে তুলতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশেষ করে খুব উজ্জ্বল স্যাটেলাইটের বিশাল বহর থাকলে আকাশের সামগ্রিক উজ্জ্বলতা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে দূরবর্তী গ্যালাক্সি, অন্য নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা সম্ভাব্য পৃথিবীর মতো গ্রহ এবং পৃথিবীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ গ্রহাণু পর্যবেক্ষণেও। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু রাতের আকাশের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মহাবিশ্ব সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সক্ষমতাও এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ইএসওর গবেষণায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা ধরে রাখতে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা মোট স্যাটেলাইটের সংখ্যা ১ লাখের মধ্যে রাখা এবং সেগুলোকে খালি চোখে দেখা যায় না এমন মাত্রায় ম্লান রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তবে ১ লাখকে কোনো কঠোর সীমা হিসেবে দেখছেন না গবেষকরা। উজ্জ্বল স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়লে গ্রহণযোগ্য সীমা আরও কমতে পারে। এদিকে স্পেসএক্স ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ রিফ্লেক্ট অরবিটাল নতুন বড় স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপনের অনুমতির জন্য মার্কিন ফেডারেল যোগাযোগ কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। ইএসও জানিয়েছে, এসব প্রস্তাব নিয়ে সংস্থাটিও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে মতামত দিয়েছে। মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধার জন্য নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথের ব্যবহার বাড়লেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ম ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা জরুরি। কারণ পৃথিবীর কক্ষপথ যেমন আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
চার মাসের ছেলে জুনউকে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোগামী প্রায় ১০ ঘণ্টার ফ্লাইটে উঠেছিলেন এক মা। শিশুটির এটাই ছিল প্রথম বিমানযাত্রা। দীর্ঘ ফ্লাইটে সে কাঁদতে পারে এবং এতে সহযাত্রীদের অসুবিধা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় আগেই ২০০টির বেশি গুডি ব্যাগ তৈরি করে সঙ্গে নেন তিনি। প্রতিটি ব্যাগে ছিল কোরিয়ান মিষ্টি ও ইয়ারপ্লাগ। সঙ্গে ছিল ছোট্ট একটি চিঠি, যা লেখা হয়েছিল চার মাসের শিশু জুনউর পক্ষ থেকে। চিঠিতে জানানো হয়, এটি তার জীবনের প্রথম ফ্লাইট। তাই সে কান্না করতে বা কিছুটা শব্দ করতে পারে। এমন হলে যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি বোঝার অনুরোধ জানানো হয়। ঘটনাটি ২০১৯ সালে সিউল থেকে সান ফ্রান্সিসকোগামী একটি ফ্লাইটে ঘটে। পরে ওই ফ্লাইটের যাত্রী ডেভ করোনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুডি ব্যাগ ও চিঠির ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও তখন ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মায়ের আশঙ্কা অবশ্য শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি। প্রায় ১০ ঘণ্টার যাত্রায় জুনউ প্রায় কোনো শব্দই করেনি। যে শিশুর কান্নার কথা ভেবে মা আগে থেকেই ২০০টির বেশি গুডি ব্যাগ প্রস্তুত করেছিলেন, সেই শিশুই পুরো ফ্লাইটে যাত্রীদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ছিল। ঘটনাটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই মায়ের আগাম প্রস্তুতি ও সহযাত্রীদের প্রতি বিবেচনাবোধের প্রশংসা করেন। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, শিশুকে নিয়ে ভ্রমণের জন্য অভিভাবকদের আগেই ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না। তবে জুনউর প্রথম বিমানযাত্রাকে ঘিরে মায়ের এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি ঘটনাটিকে দীর্ঘদিন পরও মানুষের মনে রাখার মতো করে তুলেছে।
শুধু সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে ৩ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে হেলিওস ১১ নামের একটি হালকা ওজনের নৌযান। ফিনল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে ইউরোপের খালপথ ও স্পেনের মূল ভূখণ্ড অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত জিব্রাল্টারে পৌঁছেছে নৌযানটি। ট্রু নর্থ ইয়টসের এক ইউটিউবার এই দীর্ঘ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফিনল্যান্ড থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় হেলিওস ১১ ইউরোপের বিভিন্ন খালপথ অতিক্রম করে। এরপর নৌযানটি স্পেনের মূল ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে এগিয়ে যায় এবং জিব্রাল্টারের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। অভিযানের শেষ অংশে স্পেনের মারবেলা থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায় নৌযানটি। হেলিওস ১১ প্রচলিত জ্বালানির পরিবর্তে সৌরশক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। প্রতিবেদনে নৌযানটির আনুমানিক দাম ২০ হাজার ৭২৪ ডলার বলা হয়েছে। হালকা কাঠামোর এই নৌযানে সৌরশক্তিকে প্রধান শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘ পথের এই অভিযানকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। অভিযানের পুরো পথ ছিল কয়েক হাজার নটিক্যাল মাইল দীর্ঘ। ফিনল্যান্ড থেকে ইউরোপের বিভিন্ন জলপথ পেরিয়ে স্পেনে পৌঁছানোর পর নৌযানটি দেশটির ভূখণ্ড অতিক্রম করে দক্ষিণ উপকূলের দিকে এগিয়ে যায়। এরপর মারবেলা থেকে জিব্রাল্টার পর্যন্ত শেষ ধাপ সম্পন্ন করে হেলিওস ১১। জিব্রাল্টারে পৌঁছানোর আগে মারবেলা থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইলের শেষ পথটিও এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। দীর্ঘ যাত্রার পুরো সময়ে নৌযানটির জ্বালানির প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সৌরশক্তির ওপর নির্ভরশীলতার কারণেই এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এই অভিযান শেষ হলেও হেলিওস ১১-এর যাত্রা এখানেই থেমে যাচ্ছে না। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হিসেবে আরও বড় ও বিলাসবহুল একটি নৌযানে নতুন অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ তুলনামূলক ছোট ও হালকা নৌযান দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতার পর এবার আরও বড় নৌযান নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি চলছে। সৌরশক্তিনির্ভর এই অভিযানের মাধ্যমে বিকল্প শক্তি ব্যবহার করে নৌযাত্রার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সূর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন নিয়ে আগ্রহীদের মধ্যেও এ ধরনের অভিযান বিশেষ মনোযোগ তৈরি করছে। ফিনল্যান্ড থেকে জিব্রাল্টার পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেওয়ার এই যাত্রা তাই শুধু একটি নৌভ্রমণ নয়, বিকল্প শক্তিনির্ভর নৌযানের সক্ষমতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ছোট নৌযান দিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর এখন আরও বড় নৌযান নিয়ে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় রয়েছেন অভিযানের সঙ্গে যুক্তরা।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব কালিমান্তানের বালিকপাপন শহরে ফজরের নামাজে ইমামতি করার সময় সিজদায় থাকা অবস্থায় মারা গেছেন হ. আন্দি শামসুল বাহরি। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি মসজিদ জামি আল-উলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দি শামসুল বাহরি ফজরের নামাজের প্রথম রাকাতে সিজদায় যান। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও তিনি সিজদা থেকে উঠছিলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে পেছনের কয়েকজন মুসল্লি তার অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সামনের দিকে পড়ে যান। এরপর প্রথম সারির এক মুসল্লি এগিয়ে এসে ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জামাতের নামাজ শেষ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। ফুটেজটি প্রায় ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেটিক জানিয়েছে। মসজিদটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আন্দি শামসুল বাহরি মসজিদ জামি আল-উলার নিয়মিত ইমামদের একজন ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সদালাপী ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বালিকপাপনের একটি ফার্মেসির মালিক ছিলেন এবং স্থানীয় মুসল্লিদের অসুস্থতার সময় ওষুধ নিয়ে পরামর্শ দিতেন। ইন্দোনেশিয়ার আন্তারা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর সময় আন্দি শামসুল বাহরির বয়স ছিল ৫৯ বছর। নামাজের শুরুতে তাকে স্বাভাবিক ও সুস্থই মনে হয়েছিল। তবে ফাতিহা পড়ার সময় তিনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গিয়েছিলেন বলে মসজিদসংশ্লিষ্ট একজনের বরাতে জানানো হয়। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সিজদায় তার মৃত্যুর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ঘটনাটিকে ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। তবে কোনো ব্যক্তির পরকালীন মর্যাদা বা পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর ওপরই ন্যস্ত।
রিপাবলিকানরা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন কনভেনশনে এ ঘোষণা দেন তিনি। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, কীভাবে দেওয়া হবে এবং প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রয়টার্সের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক থাকায় পুরো কর্মসূচিতে প্রায় ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ট্রাম্প এই অর্থকে ‘ডিভিডেন্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ভিত্তিতেই এমন অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘোষণার সময় তিনি অর্থের নির্দিষ্ট উৎস বা বাস্তবায়নের কাঠামো জানাননি। প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের ঘোষণাটি তাই সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে। তবে ৫ হাজার ডলারের এই পেমেন্ট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন অর্থায়ন নিয়ে। আনুমানিক ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে অর্থ দিতে হলে মোট ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অনেক ওপরে চলে যাবে। এই বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। নিউজউইকের প্রতিবেদনে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক থেকে সরকারের আয় ব্যবহার করে এমন অর্থ দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শুল্কের আয় দিয়ে পুরো ৫ হাজার ডলারের পেমেন্ট চালানো যাবে কি না, সেটিও নির্ভর করবে ভবিষ্যতে সরকারের প্রকৃত রাজস্ব, ব্যয়ের চাপ এবং কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ওপর। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবটির আইনগত বৈধতা এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতিও এখনো পরিষ্কার নয়। এত বড় পরিমাণ অর্থ সরাসরি নাগরিকদের দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। ডালাসের ভাষণে ট্রাম্প নিজেকেই রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের প্রথম দুই বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব এখন পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবেই রয়েছে। অর্থের উৎস, যোগ্যতার শর্ত, পেমেন্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আইনগত অনুমোদনের বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ বাস্তবে কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিশ্চিত নয়।
গ্রিসের ৫৪ বছর বয়সী এক নারী ২২ বছরেরও বেশি সময় আগে হিমায়িত করে রাখা ভ্রূণ থেকে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। একই চিকিৎসায় ২০০৪ সালে জন্ম নেওয়া তার ছেলে ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর নতুন করে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেন ক্রিস্টিনা রাপতি-তজেলেপি। ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত মানব ভ্রূণ থেকে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। চিকিৎসক কনস্টান্টিনোস পান্তোস জানান, ২০০৪ সালে আইভিএফের মাধ্যমে ক্রিস্টিনা একটি সুস্থ ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। ওই চিকিৎসার সময় তৈরি করা আরও কিছু ভ্রূণ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ২১ বছর বয়সী ওই ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে পড়ে। পরে সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর একটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন ক্রিস্টিনা। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সংরক্ষিত ভ্রূণটি তার জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রায় ২২ বছর পাঁচ মাস ধরে সংরক্ষিত থাকার পর ওই ভ্রূণ থেকে শিশুটির জন্ম হয়। চিকিৎসক দলের তথ্য অনুযায়ী, এটি দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত মানব ভ্রূণ থেকে জীবিত সন্তান জন্মের অন্যতম দীর্ঘ সময়ের ঘটনা। ক্রিস্টিনা রাপতি-তজেলেপির বয়স এখন ৫৪ বছর। গ্রিসে আইভিএফের ক্ষেত্রে নারীর বয়সসীমা ৫৪ বছর হওয়ায় চিকিৎসাটি সময়ের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার স্বামী কনস্টান্টিনোস রাপতিস বলেন, বয়সসীমার কারণে পুরো গর্ভধারণের প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য অনেকটা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো ছিল। শিশুটির জন্মের পর ক্রিস্টিনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান, পরিবারের জন্য ঘটনাটিতে একই সঙ্গে শোক ও আনন্দ জড়িয়ে ছিল। তবে সন্তানকে কোলে নেওয়ার মুহূর্তে সেই কষ্ট যেন অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। ভ্রূণ দীর্ঘ সময় হিমায়িত অবস্থায় থাকলে তার কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণা চলছে। আগের বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘ সময় ক্রায়োপ্রিজার্ভ করা ভ্রূণ থেকে সফলভাবে সন্তান জন্মের নজির পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের একটি গবেষণায় প্রায় ২০ বছর সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে জীবিত সন্তান জন্মের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছিল। চিকিৎসক পান্তোসের মতে, এই জন্মের বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের পাশাপাশি এর রয়েছে গভীর মানবিক দিকও। ক্রিস্টিনার পরিবারের অভিজ্ঞতা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, প্রজনন চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্ভাবনার সঙ্গে বয়সসীমা ও ভ্রূণ সংরক্ষণসংক্রান্ত আইন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরে নাশতা নির্ধারিত ১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ না করায় নিজের ৫ বছরের ছেলেকে গলায় ও মুখে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সান মাতেও কাউন্টি শেরিফের ডেপুটি স্টিভেন রোমেরোর বিরুদ্ধে। মার্চে নিজ বাড়িতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় শিশুটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আলামেডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর তাকে ফিলোনি চাইল্ড অ্যাবিউজ মামলায় অভিযুক্ত করেছে। আদালতের নথির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিইউ জানিয়েছে, নাশতা ১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে না পারায় শিশুটিকে শাস্তি হিসেবে জাম্প রোপ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সে যথেষ্ট দ্রুত জাম্প রোপ না করায় রোমেরো তার মুখ ও গলায় একাধিকবার চাপ দেন বলে প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন। পরে শিশুটিকে কান ধরে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তার কানে আঘাতের চিহ্নসহ বিভিন্ন জখম পরীক্ষা করে সেগুলো শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানান। ঘটনার সময় শিশুটি তার বাবা রোমেরো ও সৎমায়ের তত্ত্বাবধানে ছিল বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সান মাতেও কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, রোমেরো এপ্রিল ২০২৫ থেকে ছুটিতে রয়েছেন। ওই ছুটির সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটি অবগত হয়। অভিযোগের ঘটনাটি দায়িত্বের বাইরে এবং আলামেডা কাউন্টিতে ঘটেছে বলে জানিয়ে শেরিফের অফিস আলাদা প্রশাসনিক তদন্তও শুরু করেছে। এদিকে আদালতের নথি অনুযায়ী, রোমেরোর আইনজীবীরা মামলাটি মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসাভিত্তিক ডাইভারশনে নেওয়ার আবেদন করেছেন। তবে আলামেডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর সেই আবেদনের বিরোধিতা করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, জুন থেকে রোমেরো ফার্স্ট রেসপন্ডারদের জন্য বিশেষায়িত একটি রিকভারি প্রোগ্রামে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে তার অ্যালকোহল ও ক্যানাবিস ব্যবহারের সমস্যা, পিটিএসডি এবং মেজর ডিপ্রেশনের মতো মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রোগ নির্ণয়ের তথ্য রয়েছে। অভিযোগ প্রকাশের পর লিভারমোরের কয়েকজন প্রতিবেশী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, রোমেরোকে তারা প্রায়ই সন্তানদের সঙ্গে দেখেছেন এবং পরিবারটিকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক ও ঘনিষ্ঠ বলেই মনে হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী প্রি-ট্রায়াল হিয়ারিং আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রোমেরোকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
ইলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে তার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ভিভিয়ান জেনা উইলসআউনের এআইবিরোধী নতুন ফ্যাশন ক্যাম্পেইনে। স্প্যানিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড Desigual-এর ‘Born to Disobey’ ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে মাস্কের তৈরি প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা একটি হিউম্যানয়েড রোবটকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। একই সময়ে মাস্ককে নিয়ে তার সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। Desigual-এর প্রচারণায় উইলসনকে একটি হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়। রোবটটিকে গলফের টি হিসেবে ব্যবহার করা, ঘাস কাটানো, পোষা প্রাণীর মতো বেঁধে রাখা এবং বিছানায় নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত মেঝেতে ছুড়ে ফেলেন তিনি। প্রচারণার বার্তা হিসেবে তিনি বলেন, কিছু জিনিস ঠিক করার জন্য তৈরি নয়। মাস্কের সঙ্গে উইলসনের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় ২০২০ সালে। তখন ১৬ বছর বয়সে তিনি জেন্ডার ট্রানজিশন শুরু করেন। দুই বছর পর নিজের আইনি নাম পরিবর্তন করে তিনি জানান, কোনোভাবেই আর মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে চান না। এদিকে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের সম্পর্কও উঠে এসেছে পরিচালক অ্যালেক্স গিবনির নতুন প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘Musk’-এ। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ার হয় ৮ সেপ্টেম্বর। এতে মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারসহ তার জীবন ও ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার রয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ার, যিনি মাস্কের এক সন্তানের মা এবং বর্তমানে সন্তানের কাস্টডি নিয়ে তার সঙ্গে আইনি বিরোধে রয়েছেন, দাবি করেছেন মাস্কের টিম তাকে তথ্যচিত্রে অংশ না নেওয়ার বিনিময়ে ৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান। সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, মাস্ক একবার তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আগে তার ‘সন্তানদের একটি বিশাল বাহিনী’ প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাস্ক তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছেন। এসব বক্তব্য অবশ্য সেন্ট ক্লেয়ারের অভিযোগ ও মতামত হিসেবে এসেছে। অন্যদিকে তথ্যচিত্রে অংশ নিতে মাস্ক নিজে রাজি হননি। তিনি পরিচালক গিবনির কাজকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচনা করেছেন। গিবনি জানিয়েছেন, প্রকল্পের শুরুতে তিনি মাস্কের প্রতি এক ধরনের প্রশংসাবোধ থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে তথ্য অনুসরণ করতে গিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। উইলসনও এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, সবকিছুর জন্য এআই ব্যবহার করলে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও স্বাতন্ত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার নতুন ফ্যাশন ক্যাম্পেইনেও মূলত প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধে এমনই একটি বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। গিবনির ‘Musk’ তথ্যচিত্রে মাস্কের ব্যবসায়িক উত্থান, রাজনৈতিক প্রভাব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। ছবিটি অক্টোবর ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড থেকে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ ও আটকের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, লেখক ও উদ্যোক্তা নিল বকশি। তাঁর দাবি, গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহার করে দেশে ফেরার সময় এক সীমান্ত কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে বলেন, তিনি ‘র্যান্ডমলি সিলেক্টেড’ হয়েছেন। বকশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানান, অতিরিক্ত স্ক্রিনিংয়ের জন্য তাকে আলাদা করে নেওয়া হলেও শুরুতে কর্মকর্তারা কেন তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি। পরে তাকে একটি অপেক্ষাকক্ষ এবং এরপর একটি ছোট কক্ষে নেওয়া হয়। তার দাবি, সেখানে কর্মকর্তারা তার ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য জানতে চান এবং নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন করেন। বকশি বলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে জানানো হয়, চলমান যুদ্ধসংক্রান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার ‘নিরাপত্তার জন্য’ এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বকশির দাবি, যে অপেক্ষাকক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল, সেখানে থাকা অন্য যাত্রীদের সবাই ছিলেন বর্ণগত সংখ্যালঘু বা ‘পিপল অব কালার’। বিষয়টি তার মনে প্রশ্ন তৈরি করে, অতিরিক্ত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় কোনো ভূমিকা রেখেছিল কি না। তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে থাকা এক বয়স্ক হিস্পানিক নারী ইংরেজিতে কথা বলতে না পারায় এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথোপকথনও তিনি শুনেছেন। বকশির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা নারীটিকে বসে থেকে পরবর্তী সময়ে কী ‘মিথ্যা’ বলবেন তা ভাবতে বলেন। তবে এই কথোপকথনের স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। বকশি শেষ পর্যন্ত ছাড়া পান এবং সীমান্ত এলাকা ত্যাগ করতে পারেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণ করতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সব মার্কিন নাগরিককে সমানভাবে দেখা হচ্ছে কি না। বকশি ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তিনি লেখক, উদ্যোক্তা ও আধ্যাত্মিক জীবনবিষয়ক কোচ হিসেবে কাজ করেন। প্রায় এক দশক ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করার পর তিনি লেখালেখি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হন। তার অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে বকশির বর্ণনা তার ব্যক্তিগত দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়নি।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের Medicaid জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মামলায় জাকিয়া খান নামে এক ডে-কেয়ার মালিককে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। ৫৫ বছর বয়সী খানকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতির অর্থ হিসেবে আরও ৫০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, কনি আইল্যান্ড এলাকায় খানের মালিকানাধীন দুটি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে-কেয়ার সেন্টার এবং একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই জালিয়াতি পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে খান হেলথ কেয়ার জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা ও অবৈধ হেলথ কেয়ার কিকব্যাক দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, খান হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার এবং ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের মালিক ছিলেন। তিনি রেসপনসিবল কেয়ার স্টাফিং নামের একটি হোম হেলথ কেয়ার ফিসকাল ইন্টারমিডিয়ারিও পরিচালনা করতেন। জালিয়াতির অর্থ গ্রহণ ও গোপন করার জন্য টানউই সার্ভিসেস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মার্কেটারের মাধ্যমে Medicaid সুবিধাভোগীদের এসব ডে-কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করানো হতো। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, খান ও তার সহযোগীরা সুবিধাভোগীদের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে এমন সেবার জন্য নিবন্ধিত করতেন, যা পরে Medicaid-এর কাছে বিল করা হলেও প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয়নি। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দুই ডে-কেয়ার সেন্টার Medicaid-এর কাছে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেয়। এর মধ্যে Medicaid প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করে। জালিয়াতির অর্থ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘুরিয়ে নগদ করা হতো এবং সেই অর্থের একটি অংশ মার্কেটার ও Medicaid সুবিধাভোগীদের ঘুষ ও কিকব্যাক হিসেবে দেওয়া হতো বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ভুয়া অ্যাটেনডেন্স শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হতো। তদন্তের অংশ হিসেবে খানের অফিসে অবৈধ কিকব্যাক দেওয়ার একটি আন্ডারকভার রেকর্ডিংও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হাতে আসে। খানের বাড়িতে তল্লাশির সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও দুটি সম্পত্তিসহ জালিয়াতির অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এসব সম্পদের অংশ হিসেবে মোট ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারক নাতাশা সি. মার্লে খানের সাজা ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজতে লিংকডইনের মতো পেশাজীবীদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভাইরাল হয়েছেন এক ভারতীয় মা। পিএইচডি ডিগ্রিধারী ওই মা লিংকডইনে ছেলের পরিচয় ও বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে উপযুক্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তার পোস্টে ছেলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আগ্রহী পরিবারগুলোকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পোস্টের শুরুতে থাকা ‘Not in a rush, but…’ অর্থাৎ ‘তাড়াহুড়ো নেই, তবে...’ ধরনের বার্তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজর কাড়ে। সাধারণত চাকরি খোঁজা, পেশাগত যোগাযোগ, রিক্রুটমেন্ট ও ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত লিংকডইনকে এমন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে শুরু হয় নানা ধরনের মজার আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি লিংকডইন ধীরে ধীরে আধুনিক যুগের বিয়ের প্ল্যাটফর্মেও পরিণত হচ্ছে? এতদিন যেখানে রিক্রুটার, চাকরিপ্রার্থী ও পেশাজীবীদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে লিংকডইনের পরিচিতি ছিল, সেখানে এবার ছেলের জন্য পাত্রী খোঁজার পোস্ট নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় পরিবারে সন্তানের বিয়ের জন্য পরিবারের সদস্যদের সক্রিয়ভাবে পাত্রপাত্রী খোঁজার প্রচলন দীর্ঘদিনের। তবে সেই প্রচলিত প্রক্রিয়াই যখন পেশাগত নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে চলে আসে, তখন ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা কৌতূহল তৈরি করেছে। পোস্টটি ঠিক কতটা বিস্তৃতভাবে ছড়িয়েছে বা এর মাধ্যমে কোনো বিয়ের যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত অনলাইন পরিচয়ের সীমানাও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মিশে যাচ্ছে।
টেক্সাসের ডেন্টনে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস (UNT) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স নিয়ে নতুন একটি কলেজ চালু করেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি অনুরাধা ও বিকাশ সিনহার ২ কোটি ডলারের অনুদানের পর নতুন এই কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের বিষয়টি জানায়। নতুন কলেজটির নাম রাখা হয়েছে ‘অনুরাধা অ্যান্ড বিকাশ সিনহা কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স’। এআই, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম, ডাটা অ্যানালিটিক্স, সাইবারসিকিউরিটি, হেলথ ইনফরমেটিক্স ও লার্নিং টেকনোলজির মতো ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে এটি কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ২ কোটি ডলারের এই অনুদানে ছয়টি স্থায়ী এন্ডাওমেন্ট গড়ে তোলা হবে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ, অধ্যাপকদের জন্য এন্ডাওড পদ, কলেজের নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও ইনকিউবেশন, অ্যাডভান্সড রিসার্চ এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজের জন্য অর্থায়ন করা হবে। নতুন কলেজে দুটি একাডেমিক বিভাগ থাকবে। একটি হবে অ্যাপ্লাইড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স এবং অন্যটি ইনফরমেশন অ্যান্ড লার্নিং অ্যাপ্লিকেশনস। পাশাপাশি থাকবে অ্যাপ্লাইড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স ইনস্টিটিউট, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে এআই ও ডাটা অ্যানালিটিক্স নিয়ে যৌথ গবেষণা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হ্যারিসন কেলার বলেন, এআই কর্মক্ষেত্র, গবেষণা ও সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিতে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। নতুন কলেজটি পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘লুক নর্থ: ইউএনটি ২০৩০’ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিকাশ সিনহা বর্তমানে ব্রডকমের মেইনফ্রেম সফটওয়্যার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৩ সালে UNT থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ও তার স্ত্রী অনুরাধা ভারতে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তারা UNT-তে ডাটা সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন এবং ২০২৫ সালে সাইনা ইনোভেশন ল্যাব ফর ডাটা সায়েন্স প্রতিষ্ঠায়ও অর্থ দেন। UNT জানিয়েছে, নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এআই ও ডাটা-নির্ভর প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে উত্তর টেক্সাসের পরিবর্তনশীল কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হয়ে একাডেমিক প্রবন্ধ ও অ্যাসাইনমেন্ট লিখে জীবিকা চালাতেন আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ। কিন্তু ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সেই শিল্প প্রায় ভেঙে পড়েছে। একসময় প্রতিটি প্রবন্ধের জন্য ৪০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া লেখকদের অনেকেই এখন আগের মতো কাজ বা আয় খুঁজে পাচ্ছেন না। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে নাইরোবির এই শিল্পের উত্থান ও পতনের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পটির শীর্ষ সময়ে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ বিদেশি শিক্ষার্থীদের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট লিখতেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীরাই এসব সেবার বড় গ্রাহক ছিলেন। এই শিল্পে কাজ করা লেখকদের একজন তেরেসিওস বুন্ডি। ২০১১ সালে নাইরোবিতে আসার পর তিনি অনলাইনে একাডেমিক লেখা তৈরির কাজ শুরু করেন। পরবর্তী ১২ বছরে তিনি ২ হাজার ৫০০টির বেশি প্রবন্ধ লেখেন। প্রতিটি লেখার জন্য তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত নিতেন। বুন্ডির মতো অনেক শিক্ষিত তরুণের জন্য এই কাজ ছিল স্থানীয় চাকরির তুলনায় বেশি আয়ের সুযোগ। কিন্তু ২০২২ সালের নভেম্বরে চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। শিক্ষার্থীরা অর্থ খরচ করে লেখক নিয়োগের পরিবর্তে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে নিজেরাই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে শুরু করেন। ফলে লেখার অর্ডার কমে যাওয়ার পাশাপাশি পারিশ্রমিকও দ্রুত কমতে থাকে। শিল্পটির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এখন অন্য ধরনের অনলাইন কাজে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ এআই দিয়ে তৈরি লেখা সম্পাদনা করছেন, কেউ ডাটা লেবেলিং বা কনটেন্ট মডারেশনের মতো কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তবে এসব কাজেও আগের মতো স্থিতিশীল আয় পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নাইরোবির এই ঘটনা এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে সম্ভাব্য বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে যেসব কাজের মূল ভিত্তি সাধারণ লেখা, গবেষণা ও অনলাইনে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট তৈরি, সেসব পেশায় এআইয়ের প্রভাব কত দ্রুত পড়তে পারে, তা এই শিল্পের পতন দেখিয়ে দিয়েছে। একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট লিখে যে শিল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল, চ্যাটজিপটির আবির্ভাবের পর সেই বাজারই এখন প্রায় অদৃশ্য। ফলে এআইয়ের কারণে শুধু প্রযুক্তিখাত নয়, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ও আউটসোর্সিং কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে এই জলপথকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতেই ডালাসে গিয়েছিলেন তিনি। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম কমবে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তাঁরও কিছু ‘প্রাপ্তি’ থাকা উচিত। আর সেই প্রাপ্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি—এখন থেকে আমরা এই জলপথকে ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব।” তাঁর দাবি, এ নাম ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে। ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ছে’। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডামি’ করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই সময় শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রেও প্রণালিটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করলে দেশটির বন্দরে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরও বাধা তৈরি হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর গত ৩০ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প।
হান্টার বাইডেনের নতুন মিম কয়েন ‘ল্যাপটপ’ বাজারে আসার পর ব্যাপক উত্থান-পতনের মুখে পড়েছে। বুধবার চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েনটির দাম দ্রুত বেড়ে যায়, কিন্তু এরপরই শুরু হয় বড় ধরনের ধস। এতে মিম কয়েনটিতে বিনিয়োগ করা প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজনই অর্থ হারিয়েছেন বলে ব্লকচেইন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এই ধসের মধ্যেই এক রহস্যময় ট্রেডার বড় অঙ্কের লাভ করেছেন। ডেটাভল্ট এআই-এর ব্লকচেইন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ছদ্মনামে থাকা ওই ব্যক্তি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করে ‘ল্যাপটপ’-এর ৯ হাজার ১২৪টি টোকেন কিনেছিলেন। কয়েক মিনিট পরই তিনি ৮ হাজার ৪৮০টি টোকেন প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার ডলারে বিক্রি করে দেন। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাঁর বিনিয়োগ বেড়ে যায় প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। লেনদেনের খরচ বাদ দেওয়ার আগে এই লাভের হিসাব করা হয়েছে। বাজারে ব্যাপক ধস নামার আগেই টোকেন বিক্রি করে দেওয়ায় ওই ট্রেডার বিপুল মুনাফা তুলে নিতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ডেটাভল্ট এআই-এর বিশ্লেষণে এমন একজনের তথ্য পাওয়া গেছে, যিনি কয়েনটির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার সময় প্রায় ২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু দাম দ্রুত পড়ে যাওয়ার পর তাঁর বিনিয়োগের মূল্য কমে মাত্র প্রায় ২ হাজার ডলারে নেমে আসে। ক্রিপ্টো বিশ্লেষক ব্র্যাডলি এই পরিস্থিতিকে ‘ক্লাসিক রাগ পুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ‘রাগ পুল’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো প্রকল্পের উদ্যোক্তা বা অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিরা নিজেদের অর্থ বা মূল্য তুলে নেওয়ার পর প্রকল্পটি ভেঙে পড়ে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হান্টার বাইডেন বা ‘ল্যাপটপ’ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রতারণা বা রাগ পুলের কোনো প্রমাণিত অভিযোগ নেই। একইভাবে, কয়েনটির দাম ধসে পড়ার সময় হান্টার বাইডেন নিজে টোকেন বিক্রি করেছিলেন—ডেটাভল্ট এআই-এর বিশ্লেষণেও এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। হান্টার বাইডেন ব্যক্তিগতভাবে এই মিম কয়েন থেকে কত অর্থ আয় করেছেন, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য মোট ১০০ কোটি টোকেনের ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠাতা টোকেন ছয় মাসের জন্য লক থাকার কথা এবং দুই বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে তা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ‘ল্যাপটপ’-এর দাম যখন অল্প সময়ের জন্য ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তখন প্রতিষ্ঠাতাদের হাতে থাকা টোকেনের তাত্ত্বিক মূল্যকে সরাসরি হান্টার বাইডেনের হাতে পাওয়া অর্থ হিসেবে ধরা যাবে না। তিনি প্রকৃতপক্ষে কত অর্থ পেয়েছেন, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ব্র্যাডলি জানিয়েছেন, ব্লকচেইনের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে ‘ল্যাপটপ’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওয়ালেটে কত অর্থ গেছে, তা নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে। তবে হান্টার বাইডেনের ব্যক্তিগত আয়ের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ৫৬ বছর বয়সী হান্টার বাইডেন চলতি সপ্তাহে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেসের তৈরি বেস ব্লকচেইনে ‘ল্যাপটপ’ মিম কয়েন চালু করেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, ল্যাপটপকে একসময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, আর তিনি সেটিকে টোকেনে পরিণত করেছেন। এই মিম কয়েনের নাম নেওয়া হয়েছে সেই ল্যাপটপকে কেন্দ্র করে, যা ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। নিউইয়র্ক পোস্ট ওই সময় ল্যাপটপটির কথিত তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে জো বাইডেনের বিদেশি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত বার্তা এবং হান্টার বাইডেনের মাদক ব্যবহারের ছবি থাকার দাবি করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে, হান্টার বাইডেনের মিম কয়েনের প্রথম দিনের লেনদেনে একদিকে যেমন কয়েক মিনিটেই একজন ট্রেডার বিপুল লাভ করেছেন, অন্যদিকে বহু বিনিয়োগকারী বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, আর হান্টার বাইডেন নিজে কয়েনের ধসের সময় বিক্রি করেছিলেন—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারের বাইরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। ফলে এবারের সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি আর থাকছে না। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকায় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবে না বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা আলোচনা চলছিল। ভারতের পক্ষ থেকেও একাধিকবার জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। হুমায়ুন কবির আরও জানান, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন। তবে সেটি হবে দ্বিপক্ষীয় সফর, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নয়। এর মধ্য দিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার অবসান হলো।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত ওই কর পরিশোধ করতে হবে। রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। এর আগে গত ১১ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করসংক্রান্ত মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ওই নির্দেশ দেন। আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাত করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের আয়কর পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, দ্বিতীয় মূল্যায়নের বিরুদ্ধে আপিল ও রিভিউ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে রিভিউ আবেদন করলে আপিল করা হবে না—এমন অঙ্গীকার করতে হয়। গ্রামীণ কল্যাণ এ ক্ষেত্রে আপিল না করে রিভিউ আবেদন করে। পরে সেই রিভিউ আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। এরপর রিভিউ খারিজের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে হাইকোর্টে দুটি রিট করা হয়। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিভিউ আবেদন খারিজের আদেশ বাতিল করে রায় দেন এবং গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সর্বশেষ হাইকোর্ট এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন। তবে আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়—এমন কারণগুলো ভিন্ন হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ ঝুঁকিগুলো সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় ভিন্ন। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সীমিত শিক্ষার সুযোগ, বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং আগে মাথা বা মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস। গবেষণাটি গত ২৪ আগস্ট ‘আলঝেইমার্স অ্যান্ড ডিমেনশিয়া: দ্য জার্নাল অব দ্য আলঝেইমার্স অ্যাসোসিয়েশন’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় যুক্ত নন, নিউইয়র্কের ক্লিনিক্যাল নিউরোসাইকোলজিস্ট মাইকা স্যাভিন নিউজউইককে বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কোনো শূন্যস্থানে তৈরি হয় না।” তাঁর মতে, গবেষণার ফলাফল ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে সম্ভাব্য কিছু কার্যকর ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। তবে এসব ফলাফলকে কোনো জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্মগত বা জৈবিক পার্থক্যের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্যাভিন বলেন, “এখানে জাতিগত পরিচয় মূল কারণ নয়।” তাঁর মতে, আমেরিকান ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়গুলো সামাজিক, ঐতিহাসিক, পরিবেশগত, শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে অনেক ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। এসব পরিস্থিতি কয়েক দশক ধরে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে এমন বিভিন্ন ঝুঁকির সঙ্গে তাদের সংস্পর্শ তৈরি করেছে। ডিমেনশিয়া কোনো একক রোগ নয়। বিভিন্ন রোগের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব রোগের অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকভাবে কিছু প্রোটিন জমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডিমেনশিয়ার পরিচিত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়স, বংশগত কারণ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা। এর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও বিষণ্নতা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার মতো জীবনযাপন-সংক্রান্ত বিষয়ও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষকদের আগের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশ জীবনের কোনো এক পর্যায়ে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। এ রোগে প্রতি বছর এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বোস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মধ্য ও বেশি বয়সী ৮০৮ জন আমেরিকান ইন্ডিয়ানকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করেন। ডিমেনশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঝুঁকির বিষয় নিয়ে তারা বিশ্লেষণ করেন। এসব ঝুঁকি এর আগে ল্যানসেট কমিশনের চিহ্নিত ডিমেনশিয়ার ১৪টি ঝুঁকির তালিকার অন্তর্ভুক্ত। ল্যানসেট কমিশনের চিহ্নিত ডিমেনশিয়ার ১৪টি ঝুঁকি হলো—সীমিত শিক্ষার সুযোগ, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, বিষণ্নতা, মাথা বা মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা, ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকা এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। গবেষকরা দেখেছেন, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ঝুঁকিগুলো হলো স্থূলতা, ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস এবং বিষণ্নতা। গবেষণায় অংশ নেওয়া আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের ৫০ শতাংশের মধ্যে স্থূলতা ছিল। ধূমপানের হার ছিল ৪২ শতাংশ, ডায়াবেটিস ৪০ শতাংশ, উচ্চ রক্তচাপ ৩৮ শতাংশ, আগে মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস ৩১ শতাংশ এবং বিষণ্নতা ১৭ শতাংশের মধ্যে দেখা গেছে। এসব ঝুঁকির কয়েকটির ক্ষেত্রে ল্যানসেট কমিশনের পর্যালোচনা করা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় বড় ধরনের পার্থক্যও দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে বিষণ্নতার হার সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেশি ছিল। আগে মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার ইতিহাস ছিল ২ দশমিক ৬ গুণ বেশি। আর উচ্চ রক্তচাপের হার ছিল ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি। অন্যদিকে, ল্যানসেট কমিশনের গবেষণায় সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত কিছু ঝুঁকি—যেমন উচ্চ কোলেস্টেরল এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা—আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের এই গবেষণায় তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। স্যাভিন জানান, আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কার আদিবাসী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে তাঁদের নিজস্ব গবেষণার ফলাফলের সঙ্গেও নতুন গবেষণার ফল পুরোপুরি ভিন্ন নয়। তিনি বলেন, “আমরা জ্ঞানীয় সক্ষমতা বা চিন্তা-স্মৃতির কার্যক্ষমতা কমার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের প্রবণতা দেখেছি। তবে আমাদের ব্যাখ্যা কখনোই এমন ছিল না যে আমেরিকান ইন্ডিয়ান পরিচয় নিজেই এসব পার্থক্যের কারণ।” স্যাভিনের মতে, জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয় আসলে একজন মানুষের আরও বিস্তৃত জীবন-অভিজ্ঞতার বিষয়গুলোকে তুলে ধরতে পারে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, শিক্ষার সুযোগ, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, ভাষা এবং অন্যান্য সামাজিক ও জৈবিক অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত। গবেষণার ফলাফলকে স্যাভিন আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ চিহ্নিত ঝুঁকিগুলোর বেশিরভাগই কোনো জনগোষ্ঠীর অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য নয়। বরং এগুলোর অনেকগুলো পরিবর্তন করা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। বিষণ্নতা শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা যায়। সামাজিক যোগাযোগ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়ানো সম্ভব। শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি শুধু “কত বছর স্কুলে পড়েছে”—এভাবে দেখলে হবে না। বরং একজন মানুষ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কী ধরনের শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন এবং সেই শিক্ষার মান কেমন ছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিক্ষার সুযোগ ও মানের পার্থক্য মানুষের পুরো জীবনজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে। স্যাভিন বলেন, “আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, বৈষম্য মানেই ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যাওয়া নয়।” তাঁর মতে, এ ধরনের গবেষণা মানুষকে এই প্রশ্ন থেকে দূরে সরিয়ে আনে যে কোনো একটি জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী জৈবিকভাবে ডিমেনশিয়ার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কি না। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোন পরিবর্তনযোগ্য স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক পরিস্থিতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে ভিন্ন ফল তৈরি করছে এবং কীভাবে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা যায়। গবেষকদের মতে, ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যেসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আগেভাগে কাজ করাও ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।