গ্রিনল্যান্ড সফর শেষে গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহার করেও আটক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক
গ্রিনল্যান্ড থেকে ছুটি কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ ও আটকের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, লেখক ও উদ্যোক্তা নিল বকশি। তাঁর দাবি, গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহার করে দেশে ফেরার সময় এক সীমান্ত কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে বলেন, তিনি ‘র্যান্ডমলি সিলেক্টেড’ হয়েছেন।
বকশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানান, অতিরিক্ত স্ক্রিনিংয়ের জন্য তাকে আলাদা করে নেওয়া হলেও শুরুতে কর্মকর্তারা কেন তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি। পরে তাকে একটি অপেক্ষাকক্ষ এবং এরপর একটি ছোট কক্ষে নেওয়া হয়।
তার দাবি, সেখানে কর্মকর্তারা তার ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য জানতে চান এবং নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন করেন। বকশি বলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে জানানো হয়, চলমান যুদ্ধসংক্রান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার ‘নিরাপত্তার জন্য’ এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বকশির দাবি, যে অপেক্ষাকক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল, সেখানে থাকা অন্য যাত্রীদের সবাই ছিলেন বর্ণগত সংখ্যালঘু বা ‘পিপল অব কালার’। বিষয়টি তার মনে প্রশ্ন তৈরি করে, অতিরিক্ত যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় কোনো ভূমিকা রেখেছিল কি না।
তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে থাকা এক বয়স্ক হিস্পানিক নারী ইংরেজিতে কথা বলতে না পারায় এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথোপকথনও তিনি শুনেছেন। বকশির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা নারীটিকে বসে থেকে পরবর্তী সময়ে কী ‘মিথ্যা’ বলবেন তা ভাবতে বলেন। তবে এই কথোপকথনের স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
বকশি শেষ পর্যন্ত ছাড়া পান এবং সীমান্ত এলাকা ত্যাগ করতে পারেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণ করতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সব মার্কিন নাগরিককে সমানভাবে দেখা হচ্ছে কি না।
বকশি ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তিনি লেখক, উদ্যোক্তা ও আধ্যাত্মিক জীবনবিষয়ক কোচ হিসেবে কাজ করেন। প্রায় এক দশক ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করার পর তিনি লেখালেখি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত হন।
তার অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে বকশির বর্ণনা তার ব্যক্তিগত দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইন্দোনেশিয়ার পূর্ব কালিমান্তানের বালিকপাপন শহরে ফজরের নামাজে ইমামতি করার সময় সিজদায় থাকা অবস্থায় মারা গেছেন হ. আন্দি শামসুল বাহরি। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি মসজিদ জামি আল-উলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দি শামসুল বাহরি ফজরের নামাজের প্রথম রাকাতে সিজদায় যান। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও তিনি সিজদা থেকে উঠছিলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে পেছনের কয়েকজন মুসল্লি তার অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সামনের দিকে পড়ে যান। এরপর প্রথম সারির এক মুসল্লি এগিয়ে এসে ইমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জামাতের নামাজ শেষ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি ধরা পড়ে। ফুটেজটি প্রায় ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেটিক জানিয়েছে। মসজিদটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আন্দি শামসুল বাহরি মসজিদ জামি আল-উলার নিয়মিত ইমামদের একজন ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সদালাপী ও সমাজসেবী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বালিকপাপনের একটি ফার্মেসির মালিক ছিলেন এবং স্থানীয় মুসল্লিদের অসুস্থতার সময় ওষুধ নিয়ে পরামর্শ দিতেন। ইন্দোনেশিয়ার আন্তারা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর সময় আন্দি শামসুল বাহরির বয়স ছিল ৫৯ বছর। নামাজের শুরুতে তাকে স্বাভাবিক ও সুস্থই মনে হয়েছিল। তবে ফাতিহা পড়ার সময় তিনি কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গিয়েছিলেন বলে মসজিদসংশ্লিষ্ট একজনের বরাতে জানানো হয়। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সিজদায় তার মৃত্যুর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ঘটনাটিকে ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। তবে কোনো ব্যক্তির পরকালীন মর্যাদা বা পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর ওপরই ন্যস্ত।
২২ বছর হিমায়িত ছিল ভ্রূণ, ৫৪ বছর বয়সে সন্তানের মা হলেন নারী
গ্রিনল্যান্ড সফর শেষে গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবহার করেও আটক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক
মদিনার কিং ফাহাদ কমপ্লেক্সে প্রতি ঘণ্টায় ছাপা হচ্ছে ৫,৫০০ কপি পবিত্র কোরআন
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক শান্ত এলাকার একটি গোপন বেসমেন্টে চলছে মেয়েদের একটি বিশেষ স্কুল। তালেবানদের কঠোর বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে একদল অদম্য কিশোরী। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ বিরল এক সুযোগ পেয়ে সেই গোপন স্কুলে প্রবেশ করে। সেখানে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী ২১ জন আফগান ছাত্রী সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেয় তাদের নিজ হাতে লেখা কিছু চিঠি। এই চিঠিগুলো মূলত বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে লেখা, যেখানে তারা গত পাঁচ বছর ধরে তালেবান শাসনে অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির আকুতি জানিয়েছে। ২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তালেবান সরকার ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার ফলে বিকল্প হিসেবে এই গোপন স্কুলগুলোর জন্ম হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সিবিএস নিউজ ছাত্রীদের এবং শিক্ষকের পরিচয় গোপন রেখেছে। এই গোপন স্কুলে পড়তে আসার জন্য মেয়েদের প্রতিদিন ভয়াবহ ঝুঁকি নিতে হয়। তালেবানদের কুখ্যাত নৈতিকতা পুলিশের সন্দেহ এড়াতে তারা যতটা সম্ভব রক্ষণশীল পোশাক পরে এবং ব্যাগে কেবল কলম ও খাতা লুকিয়ে রাখে। অনেকেই ব্যাগের ভেতর কাপড়ের টুকরো নিয়ে ঘোরে, যেন রাস্তায় কেউ জেরা করলে বলতে পারে যে তারা সেলাইয়ের ক্লাস করতে যাচ্ছে। ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী জানায়, প্রতিদিন বেসমেন্টের এই শ্রেণিকক্ষে আসার সময় সে গ্রেপ্তার হওয়ার চরম আতঙ্কে ভোগে, কিন্তু তবুও সে নিজের ভবিষ্যতের জন্য এই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে, শিশুদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার রয়েছে এবং তাদের শিক্ষাব্যবস্থা কেবল সাময়িকভাবে 'স্থগিত' রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবে কাবুলের ওই বেসমেন্টে আটকে পড়া নারীদের কাছে এই যুক্তির কোনো অর্থ নেই। গোপন এই স্কুলটি পরিচালনা করছেন ২৫ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক। তালেবান যখন নারীদের উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধ করে, তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে তিনি জানান, তার মা সব সময় তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার এবং অন্য মেয়েদের শিক্ষিত করার তাগিদ দিতেন। গত বছর মায়ের মৃত্যুর পর তার সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই তিনি এই স্কুলটি চালাচ্ছেন, যেন ২০ বছর আগের নারীদের মতো আজকের মেয়েরা অশিক্ষিত থেকে না যায়। বিদেশি সাংবাদিকরা স্কুলে আসার খবর পেয়ে ছাত্রীরা আগেই নিজেদের স্বপ্ন ও হতাশার কথা চিঠিতে লিখে রেখেছিল। একটি চিঠিতে এক ছাত্রী লিখেছে, সে কোনো বিশাল বা জাঁকজমকপূর্ণ স্বপ্ন দেখে না, বরং সে শুধু একটি সাধারণ জীবন চায়। পড়াশোনা করা, কাজ করা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার মৌলিক অধিকার টুকুই তার একমাত্র চাওয়া। চিঠিতে তার জোরালো আকুতি ছিল, "বিশ্ববাসী, আমি আপনাদের কাছে একটি সাধারণ জীবন চাই—এমন একটি জীবন যেখানে খাবার পাওয়াটা কোনো স্বপ্ন হবে না, কাজ পাওয়াটা নিছক ভাগ্যের বিষয় হবে না এবং নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা শুধুই কল্পনা হবে না।" মেয়েদের এই গোপন স্কুলটি মূলত 'ইনভিজিবল ইনিশিয়েটিভ' নামের একটি নেটওয়ার্কের অংশ। তালেবানের ভয়ে আড়ালে থাকতে বাধ্য হলেও, এই খোলা চিঠির মাধ্যমে আফগান মেয়েরা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে—তারা অদৃশ্য হয়ে যায়নি, তারা এখনও অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে নিজেদের অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে প্রথমবার ইরানের অত্যাধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার
যুক্তরাজ্যে আকাশপথে ভয়াবহ অচলাবস্থা, এয়ার ট্রাফিক ত্রুটিতে বাতিল ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার
কানাডার ক্যুবেক প্রদেশে আট বছর বসবাসের পর অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ভারত ফিরে গেছে কুমার পরিবার। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, মানবিক কারণে কানাডায় থাকার আবেদন এবং আদালতে পর্যালোচনার উদ্যোগের পর ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারটি ভারতগামী ফ্লাইটে ওঠে। ২০১৮ সালের এপ্রিলে কানাডায় আসার পর পরিবারটি ক্যুবেকেই নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছিল। হরিশ কুমার, তার স্ত্রী সোনিকা এবং তাদের দুই সন্তান গৌরেশ ও জাপেশ ২০১৮ সালে কানাডায় আসার পর অ্যাসাইলাম আবেদন করেন। হরিশের দাবি ছিল, ভারতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে মানবিক ও সহানুভূতিশীল কারণে কানাডায় থাকার আবেদনও ব্যর্থ হয়। পরিবারটির বিরুদ্ধে কানাডা ছাড়ার নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর তাদের ভারত ফেরার কথা ছিল। এর আগে ৪ আগস্ট পরিবারটিকে জানানো হয় যে তাদের অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। পরে হরিশের স্ত্রী সোনিকাকে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ হেফাজতে নেয় বলে হরিশ জানিয়েছেন। পরিবারটির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তাদের দুই সন্তানকে ঘিরে। ১৪ বছর বয়সী জাপেশ ও ১২ বছর বয়সী গৌরেশের শৈশবের বড় অংশ কেটেছে ক্যুবেকে। তারা কানাডার স্কুলে পড়েছে, ফরাসি ভাষা শিখেছে এবং সেখানেই বন্ধু ও পরিচিত পরিবেশ গড়ে তুলেছে। বিদায়ের আগে ১৪ বছর বয়সী জাপেশ গণমাধ্যমকে জানায়, সে ক্যুবেকেই বড় হয়েছে এবং সেখানে তার বন্ধুরা রয়েছে। ভারতের জীবন সম্পর্কে তার খুব কম ধারণা। তার ১২ বছর বয়সী ভাই গৌরেশও জীবনের বড় অংশ কানাডায় কাটিয়েছে। ফলে ভারত ফিরে গিয়ে তাদের নতুন পরিবেশ, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। কানাডায় থাকার সময় হরিশ কুমার ট্রাক ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি এই পেশায় ছিলেন এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও পণ্য পরিবহনের কাজ চালিয়ে যান। ওই সময়ে ট্রাকিং ও পরিবহন খাতকে জরুরি সেবার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তার স্ত্রী সোনিকাও পরিবারের ব্যয় চালাতে কাজ করেছেন। কুমার পরিবারকে সহায়তা করা ইমিগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স সেন্টার তাদের অপসারণের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, পরিবারটি আট বছর ধরে কানাডায় বসবাস, কাজ ও স্থানীয় কমিউনিটিতে অবদান রাখার পরও তাদের অবস্থান বৈধ করার সুযোগ হয়নি। অন্যদিকে, কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডে আপিল, ফেডারেল কোর্টে জুডিশিয়াল রিভিউ বা প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের মতো আইনি সুযোগ পেতে পারেন। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্টের ৪৮ নম্বর ধারায় কার্যকর রিমুভাল অর্ডার থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে নেওয়ার বিধান রয়েছে। কুমার পরিবার ইতোমধ্যে ভারত পৌঁছালেও তাদের আইনি লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। পরিবারটি ফেডারেল কোর্টে তাদের মামলাটি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আট বছর পর ভারতে ফিরে এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি পরিবারটি। বিশেষ করে দুই সন্তানের জন্য এটি শুধু একটি দেশ পরিবর্তন নয়, বরং শৈশব থেকে পরিচিত ক্যুবেকের জীবন ছেড়ে এমন একটি দেশে নতুন করে শুরু করা, যাকে তারা নিজেদের ভাষায় খুব কমই চেনে।
‘আমার টাকা, আমার পেট, আমার সিদ্ধান্ত’, গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিশ্বজিতের জবাব
হাসপাতালে শুয়েও লুকিয়ে ভ্যাপ, ৬ বছরের আসক্তির পর স্ট্র দিয়ে শ্বাসের মতো অবস্থা