- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় সৈয়দ ইমাম নামে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৪ মার্চ ভোরে ক্যানারি ওয়ার্ফ ট্রেন স্টেশনের কাছে একটি আন্ডারপাসে ওই নারীকে যৌন হামলার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা হস্তক্ষেপ করে তাকে আটক করেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমাম পূর্ব লন্ডনের বেডিংটনের ক্রয়ডন রোডের বাসিন্দা। ঘটনার আগে ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীরা তার আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে করেন। পরে তারা তাকে ওই নারীর ওপর হামলা চালাতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা থামান এবং তাকে পালানোর সুযোগ না দিয়ে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমামকে গ্রেপ্তার করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশের প্রকাশ করা বডি-ক্যামেরার ফুটেজেও গ্রেপ্তারের সময় ইমামের কথোপকথন উঠে আসে। পুলিশ তাকে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে অপরাধ করতে দেখেছেন। তবে ইমাম দাবি করেন, তাকে কেউ দেখেনি এবং তার গ্রেপ্তারের কারণকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেন। মামলায় ভুক্তভোগী নারীর স্মৃতির সমস্যাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর ওই নারী কী ঘটেছিল তার কোনো স্মৃতি মনে করতে পারছিলেন না। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং তদন্তে সংগৃহীত অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি এগিয়ে নেওয়া হয়। ২ জুলাই স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে চার দিনব্যাপী বিচার শেষে ইমাম ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্যানারি ওয়ার্ফের নিরাপত্তাকর্মীদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তদন্তে যুক্ত গোয়েন্দা কনস্টেবল ম্যাডেলিন পাওয়েল বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। সন্দেহজনক বা উদ্বেগজনক কোনো আচরণ চোখে পড়লে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ। মামলার পুরো প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী নারীকে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা সহায়তা করেছেন। তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের পাশাপাশি ঘটনার কারণে সৃষ্ট মানসিক আঘাত মোকাবিলাতেও তাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। সূত্র: tv3bangla
একসময় যে মুখে ছিল স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন, স্বামীর অ্যাসিড হামলার পর সেই মুখই এখন বয়ে বেড়াচ্ছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। চিকিৎসা চলছে, কিন্তু এখনো শেষ হয়নি লড়াই। প্রয়োজন মুখের জটিল পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার। অথচ শারীরিক ও আর্থিক সংকটে সেই চিকিৎসার পথও হয়ে উঠেছে কঠিন। স্বামীর অ্যাসিড হামলায় গুরুতরভাবে মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন ওই নারী। হামলার ক্ষত শুধু তাঁর মুখের স্বাভাবিক গঠনই বদলে দেয়নি, থমকে দিয়েছে তাঁর স্বাভাবিক জীবনও। চিকিৎসকদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত মুখের গঠন ও কার্যকারিতা যতটা সম্ভব ফিরিয়ে আনতে তাঁর বিশেষায়িত ফেসিয়াল রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি প্রয়োজন। তবে দীর্ঘ চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে আয়-রোজগারের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। শারীরিক অবস্থার কারণে কাজে ফিরতে পারছেন না তিনি। একদিকে নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে সংসার ও দৈনন্দিন জীবনের খরচ—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। অ্যাসিড হামলার ক্ষত অনেক সময় শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ থাকে না; মুখের গঠন, চোখ, নাক, ঠোঁটসহ বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতাতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের গুরুতর আঘাতের পর স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে একাধিক ধাপে পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে। এই নারীও এখন সেই দীর্ঘ পথের যাত্রী। প্রতিদিন আয়নার সামনে নিজের বদলে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে তাঁকে মনে করতে হয় সেই ভয়াবহ দিনের কথা। শারীরিক যন্ত্রণা, মানুষের দৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছে যে, জীবনের প্রতি তাঁর গভীর হতাশা ও মৃত্যুর আকুতির কথাও সামনে এসেছে। তবে তাঁর প্রয়োজন এখন সবচেয়ে বেশি নিরাপদ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার এবং আর্থিক ও মানসিক সহায়তা। একটি অ্যাসিড হামলা একজন মানুষের মুখের চেহারা বদলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর কর্মজীবন, সামাজিক জীবন ও মানসিক সুস্থতার ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজ তাঁর একটাই প্রত্যাশা—একদিন যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। মুখের ক্ষত হয়তো পুরোপুরি মুছে যাবে না, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা ও সহায়তা পেলে নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ হয়তো এখনো আছে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। একই দিনে বন্যাকবলিত নুয়াকোট শহরের একটি বাড়ি থেকেও এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে ওই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার একই প্রকল্পের ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেল থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে ওই প্রকল্প থেকে মোট তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নেপালি সামরিক সদস্য ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি টানেল থেকে ওই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হেলিকপ্টারে নেওয়ার সময় একজন সেনা চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। এদিকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নুয়াকোট শহরের একটি বাড়ি থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারীদের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ওই নারীকে ধূসর কম্বলে জড়িয়ে বাড়ি থেকে বের করে আনা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনো প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আরও ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ ধসে যাওয়ার কারণে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অটিজম শনাক্তের হার বাড়ছে। এর পেছনে নতুন করে বেশি মানুষ অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে, বিশেষ করে মেয়ে ও নারীদের মধ্যে অটিজম আরও ভালোভাবে শনাক্ত হওয়া বড় ভূমিকা রাখছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি বড় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৩৪ জন রোগীর ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামা নেটওয়ার্ক ওপেনে। গবেষণায় দেখা যায়, ছেলে ও পুরুষদের মধ্যে নতুন অটিজম শনাক্তের হার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কমেছেও। বিপরীতে, ২০২০ সালের পর মেয়ে ও নারীদের মধ্যে অটিজম শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের ক্ষেত্রেই একই প্রবণতা দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, অটিজম শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে নতুন রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া একমাত্র কারণ নয়। বরং মেয়েদের ও নারীদের মধ্যে আগে যে অটিজম শনাক্ত করা হতো না, এখন তা আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এমন বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করেই অটিজম শনাক্তের পদ্ধতিগুলো তৈরি হওয়ায় অনেক মেয়ে ও নারী শনাক্তের বাইরে থেকে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, মেয়ে ও নারীদের অটিজম শনাক্ত হতে ছেলেদের তুলনায় গড়ে ৩ দশমিক ৪ বছর বেশি সময় লাগে। মেয়েদের ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তের গড় বয়স ১৫ দশমিক ৭ বছর, যেখানে ছেলে ও পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ১২ দশমিক ৩ বছর। গবেষকরা বলছেন, দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি নিজের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। গবেষণার প্রধান লেখক এরিক মেসিয়াস বলেন, অটিজমের কোনো একক বৈশিষ্ট্য নেই। একজনের মধ্যে যে ধরনের লক্ষণ দেখা যায়, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে অটিজমে থাকা অনেক নারী সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজেদের আচরণ সচেতনভাবে পরিবর্তন করেন, যাকে সামাজিকভাবে নিজেকে আড়াল করা বা ‘মাস্কিং’ বলা হয়। এ ধরনের নারীরা অন্যদের সামাজিক আচরণ অনুকরণ করতে পারেন, আগে থেকেই কথোপকথন পরিকল্পনা করতে পারেন এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। বাইরে থেকে তারা স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে চলছেন বলে মনে হলেও এই প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে। গবেষকদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে অটিজমের লক্ষণ অনেক সময় অন্যভাবে প্রকাশ পায়। যেমন সামাজিক বা আচরণগত সমস্যার বদলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা ভেতরের মানসিক চাপ বেশি চোখে পড়তে পারে। ফলে অটিজমের পরিবর্তে অন্য সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে অটিজমের পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে জয়েন্টে অতিরিক্ত নমনীয়তা, রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও ফাইব্রোমায়ালজিয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। গবেষক মেসিয়াস বলেন, এসব সমস্যার কোনো একটি বা একাধিক রোগ নির্ণয় হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে গবেষণাটি এসব শারীরিক সমস্যার সঙ্গে অটিজমের সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রমাণ করেনি। গবেষণায় অটিজম শনাক্তের পরিভাষাতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৩ সালে মানসিক রোগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা থেকে অ্যাসপারগার ডিসঅর্ডার আলাদা শ্রেণি হিসেবে বাদ দেওয়ার পর এর ব্যবহার কমে এসেছে। এর পরিবর্তে চিকিৎসকেরা আরও বিস্তৃত অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার শব্দটি বেশি ব্যবহার করছেন। গবেষণার লেখকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণ একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। যদিও ওই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতায় ইলিনয়, মিসৌরি, ওকলাহোমা ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ৫০ লাখের বেশি রোগীর তথ্য ছিল, তাই ফলাফল পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে ভালো বেতনের চাকরি করতে চার বছরের কলেজ ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন নয় বলে জানিয়েছেন লো’জের প্রধান নির্বাহী মারভিন এলিসন। তার মতে, দক্ষ পেশার অনেক চাকরিতে বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব। প্লাম্বিং, ইলেকট্রিকের কাজ, ওয়েল্ডিং ও এইচভিএসির মতো পেশায় ভালো ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। এসব পেশাকে জনপ্রিয় করতেই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে লো’জ ফাউন্ডেশন। লো’জ ফাউন্ডেশন ‘বিল্ডিং ফিউচার্স স্কিলড ট্রেডস কোয়ালিশন’ নামে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। এর লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষকে দক্ষ পেশার জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুত করা।প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এসব কর্মীকে চাকরির সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশজুড়ে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এলিসন বলেন, চার বছরের কলেজ ডিগ্রিই সফল ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র পথ—এই ধারণা বদলানো দরকার। তার মতে, দক্ষ পেশার অনেক চাকরিই ভালো বেতন ও স্থায়ী ক্যারিয়ারের সুযোগ দিতে পারে। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা থাকা কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাই তরুণদের এসব পেশার দিকেও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লো’জ ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণের জন্য ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দেশটির দক্ষ কর্মীর ঘাটতির তুলনায় এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণেই বিভিন্ন বড় কোম্পানিকে যুক্ত করে নতুন জোট তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করা হবে। এনভিডিয়া, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেনারেল মোটরস ও এটিঅ্যান্ডটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার সনদ দেওয়ার কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করবে। কমিউনিটি কলেজ ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও এর আওতায় থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীদের উপযুক্ত চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতেও সহায়তা করা হবে। নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে এলিসন বলেন, তার বাবা হাইস্কুলও শেষ করতে পারেননি। তিনি সাত ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। পরবর্তীতে তিনি দুটি ফরচুন ৫০০ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে সফল হওয়ার জন্য শুধু প্রচলিত শিক্ষার পথ অনুসরণ করা জরুরি নয়। এলিসন আরও সতর্ক করে বলেন, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি সমাধান করা না গেলে মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তার হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২১ লাখ দক্ষ কর্মীর পদ খালি থাকতে পারে। এই ঘাটতির কারণে দেশটির অর্থনীতিতে বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। তাই দক্ষ পেশায় প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় বিলাসবহুল ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান ওয়েফেয়ারার ট্রাভেল তাদের সব ধরনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে যাদের এই কোম্পানির মাধ্যমে ভ্রমণের কথা ছিল, তাদের আপাতত ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্রিস্টলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে। মালদ্বীপ, জাপান, পেরু ও কেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভ্রমণের আয়োজন করত তারা। এক বিবৃতিতে ওয়েফেয়ারার ট্রাভেল জানায়, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার জন্য তারা দুঃখিত। হিসাব ও আইনি পরামর্শ নেওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। ভ্রমণ সংক্রান্ত আর্থিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েশন অব বন্ডেড ট্রাভেল অর্গানাইজার্স ট্রাস্ট জানিয়েছে, ওয়েফেয়ারার ট্রাভেলের কিছু গ্রাহকের বুক করা ভ্রমণসেবা আর দেওয়া নাও হতে পারে। সংস্থাটি ২ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য দাবি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। যাদের ভ্রমণের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার আগে, তাদের ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। আর পরবর্তী সময়ের বুকিং থাকা যাত্রীদের নতুন তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। এ বছর যুক্তরাজ্যে কোনো ট্রাভেল কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত আগস্টে স্কি ইয়ডল নামে আরেকটি ব্রিটিশ ট্রাভেল কোম্পানি অবসায়নে যাওয়ার পর তাদের সব ছুটির বুকিং বাতিল করা হয়। নরউইচভিত্তিক স্কি ইয়ডল ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের বিভিন্ন স্কি রিসোর্টে ছুটি, শ্যালেট, অ্যাপার্টমেন্ট ও হোটেল বুকিংয়ের সেবা দিত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধূসর নেকড়ে ও মেক্সিকান নেকড়ের জন্য থাকা বিপন্ন প্রজাতির আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু রক্ষার জন্য খামারি ও পশুপালকদের নেকড়ে হত্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও আমেরিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে খামারিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে নেকড়ের সংখ্যা বাড়ানোর কয়েক দশকের প্রচেষ্টা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে বন্য অবস্থায় মেক্সিকান নেকড়ের সংখ্যা ছিল ৩১৯টি। ১৯৯৮ সালে তাদের আবার বনে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এই সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার ধূসর নেকড়ে রয়েছে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ডে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বড় একটি অংশ ধ্বংস হওয়ায় প্রজাতিটি এখনো বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে খামারিরা এখনই নেকড়ে গুলি করে হত্যা করতে পারবেন—এমন নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রসচিব ডগ বার্গামকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নেকড়েদের সংখ্যা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। নেকড়েদের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে কি না এবং তাদের বিপন্ন প্রজাতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই পর্যালোচনা করা হবে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গবাদিপশুর ওপর নেকড়ের হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল। তাদের মতে, নেকড়ের হামলার কারণে খামারিদের আয়ের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে না। ওয়েস্টার্ন ওয়াটারশেডস প্রজেক্টের উপপরিচালক গ্রেটা অ্যান্ডারসন বলেন, নেকড়েকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরে কয়েকজন খামারিকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি, বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতির প্রভাব থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল। ওয়ালফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, নেকড়ের আক্রমণে গবাদিপশু মারা গেলে বর্তমান ব্যবস্থায় খামারিরা ক্ষতির সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য নেকড়ের হামলা ঠেকাতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ সহায়তা দেয়। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ওয়ালফ রিকভারি প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ক্লেয়ার মাসার বলেন, শুধু নেকড়ের সংখ্যা বেড়েছে বলেই মেক্সিকান নেকড়েকে পুরোপুরি নিরাপদ বলা যায় না। এখন ফেডারেল সুরক্ষা দুর্বল করা হলে কয়েক দশকের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ঝুঁকিতে পড়বে। ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। খরার পাশাপাশি গবাদিপশুর মধ্যে পরজীবী সংক্রমণের কারণে মাংসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। দাম কমানোর চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গরুর মাংস আমদানির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এতে মার্কিন খামারিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, কারণ তারা মনে করছেন এতে তাদের সীমিত লাভের ওপর আরও চাপ পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নেকড়েদের বিরুদ্ধে অভিযান নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের শেষ দিকে দেশটির সরকার নেকড়েদের নির্মূল করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল। কৃষক ও ভূমিমালিকরাও নেকড়ে ধরে হত্যা করতেন। এসব কারণে একসময় যুক্তরাষ্ট্রে নেকড়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়। বর্তমানে নেকড়েদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন রয়েছে। ফলে গবাদিপশুর ওপর হামলা করলেও অনুমতি ছাড়া নেকড়ে হত্যা করা অনেক ক্ষেত্রে ফেডারেল আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভারতের টাটা কেমিক্যালসকে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। কিজিয়াডো কাউন্টির লেক ম্যাগাডি থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করলেও স্থানীয় অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট অবদান রাখেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ৩ সেপ্টেম্বর কিজিয়াডো কাউন্টিতে এক বক্তব্যে রুটো বলেন, টাটা কেমিক্যালসের ম্যাগাডি কার্যক্রমের সঙ্গে প্রায় ১০০ বছরের চুক্তি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি সেখানে পর্যাপ্ত শিল্প স্থাপন বা স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি করেনি। তিনি টাটা কেমিক্যালসকে “তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যেতে” বলেন। রুটোর অভিযোগ, টাটা কেমিক্যালস লেক ম্যাগাডি থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে তা ভারতসহ অন্যান্য দেশে পাঠাচ্ছে, কিন্তু কেনিয়াতেই সেই সম্পদের মূল্য সংযোজন করে কাচ ও রাসায়নিক শিল্প গড়ে তোলা হয়নি। এ কারণে নতুন বিনিয়োগকারী এনে স্থানীয়ভাবে কাচ ও রাসায়নিক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। লেক ম্যাগাডি কেনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সোডা অ্যাশ উৎপাদন কেন্দ্র। এই খনিজ কাচ, সাবান ও ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে কেনিয়া ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ টন সোডা অ্যাশ রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। তবে বিষয়টি নিয়ে টাটা কেমিক্যালসও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কেনিয়ার সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব প্রয়োজনীয় নিয়ম তারা মেনে চলছে। সরকারের উত্থাপিত বিষয়গুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। এর আগে জুলাইয়ে কেনিয়া সরকার টাটা কেমিক্যালস ম্যাগাডির কার্যক্রম ও রপ্তানি স্থগিত করেছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপরই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বি-১/বি-২ ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে বার্থ ট্যুরিজম, চাকরি, ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেশাগত পরিবেশনা করা যাবে না বলে বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন দূতাবাসের এই সতর্কতার সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিজিটর ভিসা সংক্রান্ত নির্দেশনাতেও এসব কার্যক্রমকে অনুমোদিত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বি-১/বি-২ ভিসা মূলত সাময়িক ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন, অবকাশযাপন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা ও চিকিৎসার মতো নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহারের জন্য। বিশেষ করে বার্থ ট্যুরিজমের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, শিশুর জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ভিজিটর ভিসায় অনুমোদিত নয়। অর্থাৎ সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়াকে ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য করে বি-১/বি-২ ভিসা ব্যবহার করা যাবে না। এ ছাড়া এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি বা কর্মসংস্থান করা নিষিদ্ধ। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিজিটর ভিসায় কর্মসংস্থান এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেশাগত পরিবেশনা করা যায় না। তবে বি-১/বি-২ ভিসায় অনুমোদিত কিছু ব্যবসায়িক কার্যক্রম, যেমন ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক, সম্মেলনে অংশগ্রহণ বা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা যায়। ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিট পাওয়ার উদ্দেশ্যে পড়াশোনাও করা যাবে না। এ ধরনের পড়াশোনার জন্য সাধারণত শিক্ষার্থী ভিসা প্রয়োজন। তবে পর্যটনের সময় ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিটের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন স্বল্পমেয়াদি বিনোদনমূলক কোর্স করা যেতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, কোনো ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না। দেশটির প্রবেশবন্দরে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা চূড়ান্তভাবে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপন করে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করলে স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যান বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধার মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে চালু করা হয়েছে পাঁচটি রেট্রো ধাঁচের ভিডিও গেম। বৃহস্পতিবার চালু হওয়া ‘আর্কেড’ নামের এই বিভাগে অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্কুলের খাবার এবং শিশুদের সঞ্চয় প্রকল্পসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে গেমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। গেমগুলোর একটি ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’, যেখানে টেট্রিসের মতো ইট সাজিয়ে সীমান্তে দেয়াল তৈরি করতে হয়। আর ‘রিও রান’ গেমে রিও গ্রান্ডে নদীর পাশে সীমান্ত টহল দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আরেকটি গেম ‘সাপ্লাই লাইন’-এ স্কুলের খাবার বাছাই করতে হয়। স্বাস্থ্যকর খাবার রেখে অস্বাস্থ্যকর খাবার সরানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ নীতির প্রচার করা হয়েছে। ‘ফ্ল্যাপি বিল’ গেমে একটি ঈগলকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের ওপর দিয়ে উড়তে হয়। আর ‘ট্রাম্প সেভিংস টাইকুন’ গেমে অর্থ সংগ্রহ করে শিশুদের ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ পূরণ করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই সঞ্চয় প্রকল্পে যোগ্য শিশুদের জন্য এককালীন ১ হাজার ডলার সরকারি অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমগুলোর প্রচারে এক্সবক্স, প্লেস্টেশন ও নিনটেন্ডোর পুরোনো গেম চালুর পর্দার আদলে বিভিন্ন অ্যানিমেশনও ব্যবহার করেছে। একটি অ্যানিমেশনে সেগার নাম বদলে ‘মাগা’ দেখানো হয়েছে, যা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’ গেম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টেট্রিস কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গেমটি তৈরিতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং টেট্রিসের নাম বা মেধাস্বত্ব ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে।
ফ্রাঙ্কফোর্ট, ইলিনয়, ৫ সেপ্টেম্বর: লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত হত্যামামলা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছিলেন ইলিনয়ের ফ্রাঙ্কফোর্টের এক মা। এর কয়েক ঘণ্টা পর নিজ বাড়ির বেসমেন্টে তার ২ বছরের ছেলে ব্যারেটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় মা কোরি এ. ওয়ালশের বিরুদ্ধে তিনটি ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফ্রাঙ্কফোর্টের ব্রুক স্টোন কোর্টের বাড়িতে পুলিশকে ডাকা হয় ২ বছরের একটি শিশুকে আহত অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে। প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বেসমেন্টে দেখতে পান এবং সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, শিশুটিকে বেসমেন্টের একটি রাফটারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার গলায় একটি লিগেচার ছিল। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লিগেচারের চাপে গলায় চাপ পড়ে শ্বাসরোধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর ধরন নির্ধারণের প্রক্রিয়া তখনও চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই বাড়িতে ওয়ালশকেও আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ওপরের তলার একটি বাথটাবে ছিলেন এবং নিজের শরীরে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা জখম ছিল। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, হাসপাতালে ওয়ালশ তদন্তকারীদের কাছে তার ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি শিশুটিকে “ডেভিল” ও “অ্যান্টি-ক্রাইস্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও নথিতে বলা হয়েছে। তার কথিত বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের মিল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার আরেকটি আলোচিত দিক হলো লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার নিয়ে ওয়ালশের আগ্রহ। প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করে NBC Chicago জানিয়েছে, ওয়ালশ সম্প্রতি ক্ল্যান্সির মামলায় “খুব বেশি আগ্রহী” হয়ে উঠেছিলেন এবং বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাটে মামলাটি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরেও তিনি এ বিষয়ে মেসেজ করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তার তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ক্ল্যান্সির পক্ষ দাবি করেছে, তিনি গুরুতর পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রসিকিউশন অবশ্য বলেছে, তিনি তার কাজের প্রকৃতি বুঝতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলেন। ৪ সেপ্টেম্বর তার মামলায় জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। তবে ওয়ালশের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার প্রতি আগ্রহ এবং তার নিজের ছেলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই। বিষয়টি তদন্তে উঠে আসা একটি তথ্য হিসেবে আদালতের নথিতে রয়েছে। ওয়ালশের আইনজীবী বলেছেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল সাইকোটিক এপিসোডের মধ্যে ছিলেন। এটি বর্তমানে তার আইনজীবীর পক্ষের বক্তব্য, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার সময় বাড়িতে আরও তিন শিশু ছিল বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শিশু ছিল এবং দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানও বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের কেউ আহত হয়নি। ওয়ালশের স্বামী ঘটনার সময় অঙ্গরাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে আদালতের নথিতে বলা হয়েছে। ওয়ালশ বর্তমানে হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তার ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
কোপেনহেগেন, ৫ সেপ্টেম্বর: বৈধ বসবাসের অনুমতি নেই এমন অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘রিটার্ন হাব’-এ পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ডেনমার্ক। দেশটির অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশনমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রথম অভিবাসীদের কোনো অংশীদার দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত হতে চায় ডেনমার্ক। ডেনমার্কের সঙ্গে এই উদ্যোগে রয়েছে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস। পাঁচ দেশ মিলে ‘গ্রুপ অব ফাইভ’ হিসেবে ইইউর বাইরে কোনো দেশের সঙ্গে রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অংশীদারত্ব চুক্তি করতে কাজ করছে। তবে এখনো কোন দেশ এসব কেন্দ্র স্থাপনে অংশ নেবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ৪ সেপ্টেম্বর কোপেনহেগেনে বৈঠকে পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে আরও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, তারা চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। ডেনমার্কের মন্ত্রী বোডস্কভ বলেন, ইইউর বাইরে রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং এখন তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি। তবে প্রস্তাবিত অংশীদার দেশের নাম তিনি জানাননি। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গত জুনে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়। এর লক্ষ্য দ্রুততরভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সদস্য দেশগুলোকে ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দেওয়া। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে অ্যাসাইলামপ্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে। এ পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার উদ্বেগও রয়েছে। কাউন্সিল অব ইউরোপ জুলাইয়ে সতর্ক করে বলেছিল, তৃতীয় দেশে বিদেশিদের স্থানান্তরের এমন ব্যবস্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, যার মধ্যে দুর্ব্যবহার ও নির্বিচারে আটক রাখার আশঙ্কাও রয়েছে। ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, রিটার্ন হাব অল্পসংখ্যক মানুষকে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এটি অভিবাসীদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে আসা বন্ধ করবে না এবং মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR জানিয়েছে, প্রস্তাবটির বিস্তারিত নিয়ে তাদের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। পাঁচ দেশের গ্রুপটি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জার্মানির মিউনিখে আবার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদের নতুন করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির জন্য সর্বোচ্চ লেভেল-৪ ‘ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা বহাল রেখে সম্ভাব্য ভ্রমণকারীদের উইল ও মৃত্যুর পরের নির্দেশনা প্রস্তুত করা, বীমার সুবিধাভোগী নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, লিবিয়ায় সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং স্থলমাইনের মতো গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ যেকোনো সময় শুরু হতে পারে এবং দেশটিতে অস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের লিবিয়ায় কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অপহরণের ঝুঁকিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর আগে মার্কিন নাগরিকরাও অপহরণের শিকার হয়েছেন। লিবিয়ায় বর্তমানে কোনো মার্কিন দূতাবাস নেই। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের পক্ষে দেশটিতে থাকা নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই কেউ সতর্কতা উপেক্ষা করে সেখানে গেলে মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জরুরি অবস্থায় দেশ ছাড়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপহরণের আশঙ্কা বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের পরিবারের সঙ্গে একটি ‘প্রুফ অব লাইফ’ প্রোটোকল ঠিক করে রাখতেও বলা হয়েছে। কেউ জিম্মি হলে পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় ও জীবিত থাকার বিষয়টি যাচাই করতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রশ্ন ও উত্তর ব্যবহার করতে পারবেন। সবচেয়ে অস্বাভাবিক পরামর্শগুলোর একটি হলো - ভ্রমণের আগে নিজের চিকিৎসকের কাছে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়া। পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনায় পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজন হলে পরিবারের জন্য এই নমুনা কাজে লাগতে পারে। পরিবারের কাছে ডেন্টাল রেকর্ড রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রয়োজনীয় লগইন তথ্য বিশ্বস্ত স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করা, যোগাযোগের পরিকল্পনা তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। সরকারের ভ্রমণ সতর্কতার তালিকায় লিবিয়া বর্তমানে লেভেল-৪: ডু নট ট্রাভেল পর্যায়ে রয়েছে। একই স্তরের সতর্কতায় থাকা দেশ বা অঞ্চলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলে। সোর্স: U.S. State Department Travel Advisories
জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এবারের লেবার ডে উইকএন্ডে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গাড়িতে দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণকারী পরিবারগুলোকে গত বছরের তুলনায় গ্যাসের জন্য বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। AAA-এর সাম্প্রতিক তথ্যেও এবারের ছুটিতে গ্যাসের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। AAA-এর হিসাবে, ২০২৫ সালের লেবার ডে-তে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩ ডলার ১৯ সেন্ট। চলতি বছর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে সেই তুলনায় দাম অনেক বেশি। একই সময়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাউন্ডট্রিপ ফ্লাইটের গড় ভাড়াও গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭৫০ ডলার হয়েছে। জনপ্রিয় অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোর ক্ষেত্রে গড় ভাড়া প্রায় ২০ শতাংশ বেশি, প্রায় ৮০০ ডলার। শুধু বিমান নয়, হোটেল খরচও বেড়েছে। ফলে গাড়ি, বিমান কিংবা হোটেল - প্রায় সব ধরনের ভ্রমণেই এবারের ছুটিতে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা। তবে গাড়ি ভাড়ার গড় খরচ কিছুটা কমেছে বলে AAA-এর তথ্য জানিয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের অস্থিরতাও বড় কারণ। রয়টার্সের ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় সপ্তাহের শেষ দিকে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সপ্তাহ শেষে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৬৮ সেন্টে পৌঁছায়, যা এক সপ্তাহে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম রেকর্ড ৫ ডলার ৮৫ সেন্ট প্রতি গ্যালনে উঠেছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৃহস্পতিবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল ১৫টি। এদিকে লেবার ডে উইকএন্ডে ভ্রমণের চাপও বেশি থাকবে। AAA বলছে, অনেক যাত্রী বৃহস্পতিবার কর্মদিবস শেষে এবং শুক্রবার রাস্তায় বের হচ্ছেন। শনিবারও দুপুরের পর সড়কে যানজট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ছুটির সময়ে সিয়াটল, অরল্যান্ডো, বোস্টন, ডেনভার ও নিউইয়র্ক ছিল জনপ্রিয় অভ্যন্তরীণ গন্তব্যগুলোর মধ্যে। ফলে গ্যাসের বাড়তি দাম, ফ্লাইট ও থাকার খরচ এবং সড়কে বাড়তি চাপ - সব মিলিয়ে এবারের লেবার ডে উইকএন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবারের জন্য ভ্রমণের বাজেট আগের চেয়ে বড় হতে পারে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক নারী পরীক্ষার্থীর কোলের শিশুকে আগলে রেখে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরায় কর্মরত পুলিশ সদস্য শিল্পী। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে জেলা প্রশাসনের অধীনে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে এই অনন্য দায়িত্বশীলতার চিত্র দেখা যায়। নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা এক নারী পরীক্ষার্থী তাঁর ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছান। তবে শিশুটিকে দেখাশোনা করার মতো কেউ না থাকায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার মুহূর্তে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন ওই মা। সন্তানকে কোথায় রাখবেন আর কীভাবে পরীক্ষা দেবেন—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ঘটনাটি নজরে আসে কেন্দ্রে ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্য শিল্পীর। মায়ের অসহায় পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি উদ্যোগী হয়ে শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নেন। এরপর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষার পুরো এক ঘণ্টা সময় শিশুকে কোলে নিয়েই কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মা নিশ্চিন্তে হলে ঢুকে পরীক্ষা শেষ করেন। অন্যদিকে কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরোটা সময় শিশুটিকে আগলে রাখেন নারী পুলিশ সদস্য শিল্পী। শিল্পী সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে কর্মরত। সরকারি কলেজের পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে সেদিন নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি কাড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাকরির পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সন্তানের নিরাপত্তার উদ্বেগ দূর করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নিজের প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সদস্য শিল্পী জানান, নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সময় এক মাতৃত্বের সংকট তাঁর চোখে পড়ে। শিশুটিকে দেখার কেউ না থাকায় ওই নারী দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তাই সহানুভূতির জায়গা থেকেই তিনি শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে অভিভাবককে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বোহলালে এমফাহলেলে নারীদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করেছেন বিশেষ একটি ডিভাইস, যা দেখতে অনেকটা সাধারণ কানের দুলের মতো। ‘অ্যালার্টিং ইয়ারপিস’ নামের এই প্রোটোটাইপে রয়েছে এমন প্রযুক্তি, যা বিপদের সময় সম্ভাব্য হামলাকারীর ছবি ধারণ করে এবং আগে থেকে সংযুক্ত ডিভাইসে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। উদ্ভাবনটির জন্য তিনি এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টসে ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস ও এমবেডেড সিস্টেমস বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক পান। লিম্পোপোর এসজে ভ্যান ডার মারভে টেকনিক্যাল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকাকালে এমফাহলেলে এই ডিভাইস তৈরি করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মানবপাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তার এই উদ্ভাবনের ধারণা আসে। সরকারি সংবাদমাধ্যম সাউথ আফ্রিকান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিভাইসটি কানের দুলের ভেতরে বসানো যায় এবং বিপদের সময় ছবি ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠাতে পারে। প্রযুক্তিটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, বাইরে থেকে এটি সাধারণ অলংকারের মতো দেখায়। কিন্তু এর ভেতরে থাকা ক্যামেরা ও সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপদের মুহূর্তে ব্যবহারকারী নীরবে সহায়তার সংকেত দিতে পারেন। ডিভাইসটি আগে থেকে নির্ধারিত ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ডিভাইসটি ইতোমধ্যে বাজারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। বর্তমানে এটি একটি প্রোটোটাইপ। বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী করতে ডিভাইসটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য সংযোগ ব্যবস্থা এবং বড় পরিসরে উৎপাদনের মতো আরও কাজ প্রয়োজন। এমফাহলেলের উদ্ভাবন ইতোমধ্যে দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষেরও প্রশংসা পেয়েছে। ২০২০ সালে লিম্পোপোর শিক্ষা বিভাগের MEC পলি বোশিয়েলো তাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করা একজন তরুণ উদ্ভাবক হিসেবে প্রশংসা করেন এবং ডিভাইসটির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টস দক্ষিণ আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনের অন্যতম বড় আয়োজন। সেখানে এমফাহলেলের প্রকল্পের স্বীকৃতি তার ধারণাটিকে স্কুলের বিজ্ঞান মেলার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর আলোচনায় নিয়ে আসে। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্ভাবনটিকে প্রোটোটাইপ থেকে বাস্তব পণ্যে রূপ দেওয়া। এর জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং উৎপাদনের সক্ষমতা। এমফাহলেলের এই উদ্ভাবন তাই শুধু একটি পুরস্কার পাওয়া স্কুল প্রকল্প নয়, বরং সামাজিক সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের Fall সেমিস্টার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রোগ্রামে তিনি পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই ফান্ডিংয়ের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি বলে জানানো হয়েছে। ফাহমিদা ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০২৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হন এবং পূর্ণ স্কলারশিপে সেই ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। মাস্টার্সের পাশাপাশি গবেষণাতেও সক্রিয় ছিলেন ফাহমিদা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি নিজের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন এবং গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পান। মাস্টার্স শেষ করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির জন্য পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ পান তিনি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামের ফান্ডিংয়ের পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি। ফাহমিদার উচ্চশিক্ষার পথচলায় পরিবারের সমর্থনের কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাবা ও স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে স্বামী চিকিৎসক রোমান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ফাহমিদা। নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের মতো বিশেষায়িত একটি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া ফাহমিদার একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আজকের পত্রিকা
ভারতের বেঙ্গালুরুর এক নারী আগস্ট মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯১ রুপি খরচ করার পর নিজেই বিস্মিত হয়েছেন। মাসিক ব্যয়ের হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তিনি জানতে চান, বেঙ্গালুরুতে এক মাসে এত টাকা খরচ করা কি স্বাভাবিক? তার এই পোস্ট ঘিরে শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় ও মানুষের ব্যক্তিগত খরচের ধরন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরুর এই নারী ত্রিশা সিধওয়ানি শহরের এইচএসআর এলাকায় থাকেন। ৩ সেপ্টেম্বর আগস্ট মাসের খরচ হিসাব করতে গিয়ে তিনি মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯১ রুপি ব্যয়ের তথ্য দেখতে পান। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানতে চান, অন্যরাও কি প্রতি মাসে এত খরচ করেন। তার পোস্টের পর ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে এ ধরনের ব্যয় অস্বাভাবিক নয়। আবার অনেকে জানান, তারা এর তুলনায় অনেক কম খরচে মাস চালান। একজন মন্তব্যকারী বলেন, মোট লেনদেনকে সরাসরি মাসিক খরচ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। নিজের এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর বা বিনিয়োগের অর্থও এতে থাকতে পারে। তাই প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় জানতে হলে খরচের বিস্তারিত হিসাব আলাদা করা প্রয়োজন। আরেক ব্যবহারকারী জানান, তিনি বেঙ্গালুরুতে মাসে প্রায় ১৫ হাজার রুপিতে চলেন। অন্যরাও নিজেদের কম বাজেটের কথা তুলে ধরে বলেন, শহরে বসবাসের খরচ ব্যক্তির জীবনযাপন, বাসস্থান ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। ফলে ত্রিশা সিধওয়ানির ১ লাখ ৮০ হাজার রুপির ব্যয়কে বেঙ্গালুরুর স্বাভাবিক মাসিক খরচের মানদণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তার পোস্টটি শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যক্তিভেদে খরচের বড় পার্থক্য নিয়ে নতুন করে অনলাইন আলোচনা তৈরি করেছে।
বলিউডের ব্যস্ত শুটিং জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে এবার কৃষিকাজে মন দিয়েছেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান। নিজের কেনা নতুন খেতে নেমে ধান রোপণ ও মাটি খোঁড়ার কাজ করতে দেখা গেছে তাকে। ৩ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি প্রকাশের পর নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি খামার কেনার খবর জানিয়েছিলেন বরুণ। সেই সময় তিনি জায়গাটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেছিলেন। খামারে বসে চা-বিস্কুট খাওয়ার মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন তিনি। এর কয়েক সপ্তাহ পর এবার খামারে সরাসরি কৃষিকাজে নেমেছেন এই অভিনেতা। প্রকাশিত ছবিতে সাদা পোশাকে হাতে কৃষিকাজের সরঞ্জাম নিয়ে তাকে ধানখেতে কাজ করতে দেখা যায়। কোথাও মাটিতে নেমে চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কোথাও ধান রোপণে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ছবিগুলোর সঙ্গে বরুণ লিখেছেন, ‘খেতি শুরু’, অর্থাৎ চাষাবাদ শুরু। বরুণের এই নতুন ব্যস্ততা তার স্বাভাবিক চলচ্চিত্রজীবনের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রকৃতি ও খামারজীবনের প্রতি আগ্রহের এই দিকটি এবারই প্রথম এতটা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। বরুণ ধাওয়ানকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘হাই জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ সিনেমায়। এর আগে ‘বর্ডার ২’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নতুন খামার ও সেখানে কৃষিকাজের ছবি দিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি আলোচনায় রয়েছেন এই অভিনেতা।
আমেরিকায় নতুন আসার পর গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ডাকযোগে পাওয়ার কথা থাকলেও তা হাতে না এলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা ঠিক নয়। মেইল দেরি, ভুল ঠিকানায় চলে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে ডকুমেন্ট উদ্ধারের সুযোগ বাড়ে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে নতুন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়। মার্কিন ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেইল না পেলে প্রথমে সেটির অবস্থান বা ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করা উচিত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে জানানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া যায়। ১. ডাক বিভাগের মেইল নোটিফিকেশন চালু করুন মার্কিন ডাক বিভাগের বিনামূল্যের ‘ইনফর্মড ডেলিভারি’ সেবা চালু করলে আপনার ঠিকানায় আসতে থাকা চিঠির ডিজিটাল প্রিভিউ এবং প্যাকেজের আপডেট পাওয়া যায়। চিঠির ক্ষেত্রে সাধারণত খামের ঠিকানা অংশের স্ক্যান করা ছবি দেখা যায়। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি আসার কথা জানা থাকলেও সেটি হাতে না এলে দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে অনলাইনে চিঠির প্রিভিউ দেখা মানেই সেটি ইতোমধ্যে মেইলবক্সে পৌঁছে গেছে, এমন নয়। প্রিভিউ দেখানোর পরও কোনো কোনো মেইল পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। ২. হারানো মেইল খোঁজার আবেদন করুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেইল না এলে ডাক বিভাগের ‘মিসিং মেইল সার্চ’ সেবার মাধ্যমে খোঁজার আবেদন করা যায়। সাধারণত মেইল পাঠানোর সাত দিন পর এই আবেদন করা যায়। আবেদনের সময় প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা, মেইল পাঠানোর তারিখ, ট্র্যাকিং নম্বর থাকলে সেটি এবং মেইলের ধরন ও ভেতরে থাকা সামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য দিতে হতে পারে। তবে আবেদন করলেই ডাক বিভাগ মেইলটি খুঁজে পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। ৩. স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন মেইল হারিয়ে গেছে বা ভুলভাবে ডেলিভারি হয়েছে বলে মনে হলে স্থানীয় পোস্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে। পরিচয়পত্রের পাশাপাশি মেইলটির সম্ভাব্য তথ্য সঙ্গে রাখলে কর্মকর্তাদের বিষয়টি খুঁজে দেখতে সুবিধা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মেইলের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে অভিযোগ করে বসে না থেকে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসেও যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। ৪. গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র না এলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র ঠিকানায় না পৌঁছালে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুসন্ধান করা যায়। তবে নতুন করে অনুমোদিত আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এই অনুসন্ধান করতে হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের নোটিশ পাওয়ার পর অন্তত ৯০ দিন অপেক্ষা করে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়। কার্ড হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। তাই মেইলের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় না থেকে নিজের আবেদনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। ৫. সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনে যোগাযোগ করুন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড সাধারণত ডাকযোগে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সাধারণত প্রায় ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কার্ড পৌঁছানোর কথা। এই সময়ের মধ্যে কার্ড না এলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কার্ড হারিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নতুন কার্ডের আবেদন করা যায় এবং এর জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না। ৬. ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য যাচাই করুন নতুন বাসায় ওঠার পর ডাক বিভাগের কাছে ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন না করলে গুরুত্বপূর্ণ মেইল পুরোনো ঠিকানায় চলে যেতে পারে। তাই বাসা পরিবর্তনের পর মেইল অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা সক্রিয় আছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। তবে ডাক বিভাগের ঠিকানা পরিবর্তন করলেই সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অন্য প্রতিষ্ঠানের নথিতে ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যায় না। এসব প্রতিষ্ঠানকেও আলাদাভাবে নতুন ঠিকানা জানাতে হবে। ৭. গুরুত্বপূর্ণ মেইল পাঠানোর সময় ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক সেবা ব্যবহার করুন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা প্যাকেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত ট্র্যাকিং ও স্বাক্ষরভিত্তিক ডাকসেবা ব্যবহার করা হলে ডেলিভারির তথ্য পাওয়া সহজ হয়। কিছু সেবায় ডেলিভারির সময়, তারিখ এবং স্বাক্ষরের তথ্যও সংরক্ষিত থাকে। নির্দিষ্ট কিছু সেবার মাধ্যমে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তির কাছে মেইল পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করা যায়। তবে সরকারি সংস্থার পাঠানো সব ডকুমেন্টে প্রাপক নিজের ইচ্ছামতো স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা যোগ করতে পারেন না। কোন ধরনের ডাকসেবা ব্যবহার করা হবে, তা সাধারণত প্রেরকের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। গুরুত্বপূর্ণ মেইল হাতে না এলে প্রথমে সেটির ট্র্যাকিং তথ্য যাচাই করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী হারানো মেইল খোঁজার আবেদন, স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষ করে গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থার অনুমতিপত্র বা সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আর মেইল চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক পরিদর্শন সেবায় অভিযোগ করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে গেলে পরিচয় চুরির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।