সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
স্বাস্থ্য

১ লাখ ৭১ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, অটিজম নিয়ে নারীদের ক্ষেত্রে মিলল চমকে দেওয়া তথ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:৫৭
দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে
দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে অটিজম শনাক্তের হার বাড়ছে। এর পেছনে নতুন করে বেশি মানুষ অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে, বিশেষ করে মেয়ে ও নারীদের মধ্যে অটিজম আরও ভালোভাবে শনাক্ত হওয়া বড় ভূমিকা রাখছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

 

সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি বড় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৩৪ জন রোগীর ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামা নেটওয়ার্ক ওপেনে।

 

গবেষণায় দেখা যায়, ছেলে ও পুরুষদের মধ্যে নতুন অটিজম শনাক্তের হার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কমেছেও। বিপরীতে, ২০২০ সালের পর মেয়ে ও নারীদের মধ্যে অটিজম শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের ক্ষেত্রেই একই প্রবণতা দেখা গেছে।

 

গবেষকদের মতে, অটিজম শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে নতুন রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া একমাত্র কারণ নয়। বরং মেয়েদের ও নারীদের মধ্যে আগে যে অটিজম শনাক্ত করা হতো না, এখন তা আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এমন বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করেই অটিজম শনাক্তের পদ্ধতিগুলো তৈরি হওয়ায় অনেক মেয়ে ও নারী শনাক্তের বাইরে থেকে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, মেয়ে ও নারীদের অটিজম শনাক্ত হতে ছেলেদের তুলনায় গড়ে ৩ দশমিক ৪ বছর বেশি সময় লাগে। মেয়েদের ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তের গড় বয়স ১৫ দশমিক ৭ বছর, যেখানে ছেলে ও পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ১২ দশমিক ৩ বছর।

 

গবেষকরা বলছেন, দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি নিজের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

 

গবেষণার প্রধান লেখক এরিক মেসিয়াস বলেন, অটিজমের কোনো একক বৈশিষ্ট্য নেই। একজনের মধ্যে যে ধরনের লক্ষণ দেখা যায়, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে অটিজমে থাকা অনেক নারী সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজেদের আচরণ সচেতনভাবে পরিবর্তন করেন, যাকে সামাজিকভাবে নিজেকে আড়াল করা বা ‘মাস্কিং’ বলা হয়।

 

এ ধরনের নারীরা অন্যদের সামাজিক আচরণ অনুকরণ করতে পারেন, আগে থেকেই কথোপকথন পরিকল্পনা করতে পারেন এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। বাইরে থেকে তারা স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে চলছেন বলে মনে হলেও এই প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে।

 

গবেষকদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে অটিজমের লক্ষণ অনেক সময় অন্যভাবে প্রকাশ পায়। যেমন সামাজিক বা আচরণগত সমস্যার বদলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা ভেতরের মানসিক চাপ বেশি চোখে পড়তে পারে। ফলে অটিজমের পরিবর্তে অন্য সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে অটিজমের পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে জয়েন্টে অতিরিক্ত নমনীয়তা, রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও ফাইব্রোমায়ালজিয়ার মতো সমস্যা রয়েছে।

 

গবেষক মেসিয়াস বলেন, এসব সমস্যার কোনো একটি বা একাধিক রোগ নির্ণয় হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে গবেষণাটি এসব শারীরিক সমস্যার সঙ্গে অটিজমের সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রমাণ করেনি।

 

গবেষণায় অটিজম শনাক্তের পরিভাষাতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৩ সালে মানসিক রোগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা থেকে অ্যাসপারগার ডিসঅর্ডার আলাদা শ্রেণি হিসেবে বাদ দেওয়ার পর এর ব্যবহার কমে এসেছে। এর পরিবর্তে চিকিৎসকেরা আরও বিস্তৃত অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার শব্দটি বেশি ব্যবহার করছেন।

 

গবেষণার লেখকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণ একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। যদিও ওই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতায় ইলিনয়, মিসৌরি, ওকলাহোমা ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ৫০ লাখের বেশি রোগীর তথ্য ছিল, তাই ফলাফল পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

স্বাস্থ্য

View more
দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে
১ লাখ ৭১ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, অটিজম নিয়ে নারীদের ক্ষেত্রে মিলল চমকে দেওয়া তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে অটিজম শনাক্তের হার বাড়ছে। এর পেছনে নতুন করে বেশি মানুষ অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার চেয়ে, বিশেষ করে মেয়ে ও নারীদের মধ্যে অটিজম আরও ভালোভাবে শনাক্ত হওয়া বড় ভূমিকা রাখছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।   সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটি বড় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ১ লাখ ৭১ হাজার ১৩৪ জন রোগীর ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামা নেটওয়ার্ক ওপেনে।   গবেষণায় দেখা যায়, ছেলে ও পুরুষদের মধ্যে নতুন অটিজম শনাক্তের হার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কমেছেও। বিপরীতে, ২০২০ সালের পর মেয়ে ও নারীদের মধ্যে অটিজম শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের ক্ষেত্রেই একই প্রবণতা দেখা গেছে।   গবেষকদের মতে, অটিজম শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার পেছনে নতুন রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া একমাত্র কারণ নয়। বরং মেয়েদের ও নারীদের মধ্যে আগে যে অটিজম শনাক্ত করা হতো না, এখন তা আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এমন বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করেই অটিজম শনাক্তের পদ্ধতিগুলো তৈরি হওয়ায় অনেক মেয়ে ও নারী শনাক্তের বাইরে থেকে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, মেয়ে ও নারীদের অটিজম শনাক্ত হতে ছেলেদের তুলনায় গড়ে ৩ দশমিক ৪ বছর বেশি সময় লাগে। মেয়েদের ক্ষেত্রে রোগ শনাক্তের গড় বয়স ১৫ দশমিক ৭ বছর, যেখানে ছেলে ও পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ১২ দশমিক ৩ বছর।   গবেষকরা বলছেন, দেরিতে অটিজম শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সহায়তা, আচরণগত থেরাপি ও অন্যান্য সেবা পেতে দেরি হতে পারে। ফলে একজন ব্যক্তি নিজের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।   গবেষণার প্রধান লেখক এরিক মেসিয়াস বলেন, অটিজমের কোনো একক বৈশিষ্ট্য নেই। একজনের মধ্যে যে ধরনের লক্ষণ দেখা যায়, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে অটিজমে থাকা অনেক নারী সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিজেদের আচরণ সচেতনভাবে পরিবর্তন করেন, যাকে সামাজিকভাবে নিজেকে আড়াল করা বা ‘মাস্কিং’ বলা হয়।   এ ধরনের নারীরা অন্যদের সামাজিক আচরণ অনুকরণ করতে পারেন, আগে থেকেই কথোপকথন পরিকল্পনা করতে পারেন এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। বাইরে থেকে তারা স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে চলছেন বলে মনে হলেও এই প্রক্রিয়াটি তাদের জন্য মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে।   গবেষকদের মতে, নারীদের ক্ষেত্রে অটিজমের লক্ষণ অনেক সময় অন্যভাবে প্রকাশ পায়। যেমন সামাজিক বা আচরণগত সমস্যার বদলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা ভেতরের মানসিক চাপ বেশি চোখে পড়তে পারে। ফলে অটিজমের পরিবর্তে অন্য সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নারীদের মধ্যে অটিজমের পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে জয়েন্টে অতিরিক্ত নমনীয়তা, রক্ত সঞ্চালনজনিত সমস্যা, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও ফাইব্রোমায়ালজিয়ার মতো সমস্যা রয়েছে।   গবেষক মেসিয়াস বলেন, এসব সমস্যার কোনো একটি বা একাধিক রোগ নির্ণয় হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে গবেষণাটি এসব শারীরিক সমস্যার সঙ্গে অটিজমের সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রমাণ করেনি।   গবেষণায় অটিজম শনাক্তের পরিভাষাতেও পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০১৩ সালে মানসিক রোগের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা থেকে অ্যাসপারগার ডিসঅর্ডার আলাদা শ্রেণি হিসেবে বাদ দেওয়ার পর এর ব্যবহার কমে এসেছে। এর পরিবর্তে চিকিৎসকেরা আরও বিস্তৃত অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার শব্দটি বেশি ব্যবহার করছেন।   গবেষণার লেখকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণ একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। যদিও ওই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতায় ইলিনয়, মিসৌরি, ওকলাহোমা ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ৫০ লাখের বেশি রোগীর তথ্য ছিল, তাই ফলাফল পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:৫৭
দুই চিকিৎসক ব্যারি মার্শাল ও রবিন ওয়ারেন, যাঁদের গবেষণায় আলসারের সঙ্গে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার

হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা

হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা

১৯৯১ সালে কাগলিয়ারিতে এইচআইভি নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে রোসারিয়া ইয়ারদিনোকে চুমু দেন চিকিৎসক ফার্নান্দো আইউতি। ছবি: সংগৃহীত

চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক

সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা
সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা, নতুন গবেষণায় মিলছে সম্ভাবনার ইঙ্গিত

মাইগ্রেনে ভোগা মানুষের জন্য নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে সবুজ আলোভিত্তিক থেরাপি। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ধরনের সবুজ আলো মাইগ্রেনের সময় মাথাব্যথা ও আলো-সংবেদনশীলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।    মাইগ্রেনের অন্যতম সাধারণ উপসর্গ হলো আলো সহ্য করতে না পারা, যাকে ফোটোফোবিয়া বলা হয়। উজ্জ্বল বা নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সবুজ আলোর ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।    এর পেছনে মস্তিষ্ক ও চোখের আলোক-সংবেদনশীল স্নায়ুপথের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। আগের গবেষণায় দেখা যায়, নীল, লাল ও অ্যাম্বার আলোর তুলনায় সবুজ আলো মাইগ্রেনের ব্যথাকে কম বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে তুলনামূলক কম প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।    ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় সংকীর্ণ-ব্যান্ডের সবুজ আলো ব্যবহার করে মাইগ্রেন রোগীদের কয়েক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ মাথাব্যথা ও আলো-সংবেদনশীলতা কমার কথা জানিয়েছেন।    আরও বড় একটি বাস্তবভিত্তিক পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের সম্ভাবনা দেখা যায়। সেখানে ১৪২ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৯১ জনকে সবুজ আলোতে ভালো সাড়া দেওয়া ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নথিভুক্ত মাইগ্রেন আক্রমণের প্রায় ৫৭ শতাংশ ক্ষেত্রে মাথাব্যথা এবং প্রায় ৫৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আলো-সংবেদনশীলতা কমার কথা জানানো হয়।    এদিকে ২০২৫ সালের একটি প্রাথমিক র‍্যান্ডমাইজড নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় ৬৯ জন মাইগ্রেন রোগীকে নিয়ে সবুজ আলোসহ বিভিন্ন নন-মেডিকেশন পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় সবুজ আলো ব্যবহার করা গ্রুপে ব্যথার তীব্রতা, মাইগ্রেনের প্রভাব এবং জীবনযাত্রার মানের কিছু সূচকে উন্নতি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের হওয়ায় আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।    সবচেয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু সবুজ রঙের আলো নয়, সাধারণ সাদা আলোর মধ্যেও আলোর বর্ণগত উপাদান পরিবর্তন করলে কী প্রভাব পড়ে, তা পরীক্ষা করা। ২০২৬ সালের এক গবেষণায় মাইগ্রেন চলাকালে বিভিন্ন ধরনের সাদা আলো ব্যবহার করে দেখা হয়, কোন বর্ণের আলো রোগীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সহনীয়।    তবে বিশেষজ্ঞদের জন্যও বিষয়টি এখনো গবেষণাধীন। সবুজ আলোকে মাইগ্রেনের নিশ্চিত চিকিৎসা বা প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার সময় এখনো আসেনি। কোন ধরনের আলো, কতটা উজ্জ্বলতা, কতক্ষণ ব্যবহার এবং কোন রোগীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপকার হবে—এসব বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।    অর্থাৎ, মাইগ্রেনের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি আলোভিত্তিক নন-মেডিকেশন পদ্ধতি ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় সহায়ক ব্যবস্থা হতে পারে—আর সবুজ আলো নিয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া গবেষণাগুলো সেই সম্ভাবনাই সামনে আনছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৬:২২
আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

রোগীরা হাসপাতালে। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর আক্রান্ত ২ হাজার ৫৬৬

চুল পড়া রোধে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নতুন আবিষ্কার বিশেষজ্ঞদের আশাবাদী করে তুলেছে। ছবি: সংগৃহীত

তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা

অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে ছাড়ের প্রলোভনে পড়ে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট (বিবিএল) করাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ব্রিটিশ নারী হেইলি ডাওয়েল। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে ‘ডিসকাউন্টে’ বাট লিফট সার্জারি, অপারেশনের পরই ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যু

মাত্র কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্ত। অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে এক হাজার পাউন্ড ছাড়ে ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট বা বিবিএল করানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন ব্রিটিশ নারী হেইলি ডাওয়েল। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাদের হাতে ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট। সেই অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় ৩৮ বছর বয়সী তিন সন্তানের এই মায়ের মৃত্যু হয়। এখন তার মৃত্যু নিয়ে তদন্তে বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া রোগীদের যথাযথভাবে ঝুঁকি জানানোর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।   ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের ইস্টলির বাসিন্দা হেইলি ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্বামী নিল ডাওয়েলের সঙ্গে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যান। পরিকল্পনা ছিল টামি টাক ও লাইপোসাকশন করানোর। কিন্তু স্বামীর দাবি, অস্ত্রোপচারের অল্প সময় আগে চিকিৎসক তার নিতম্বের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করে অতিরিক্তভাবে বিবিএল করানোর প্রস্তাব দেন।   সাম্প্রতিক ইনকোয়েস্টে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওই অতিরিক্ত অস্ত্রোপচারের জন্য এক হাজার পাউন্ড ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নিল ডাওয়েলের দাবি, স্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং ঝুঁকিগুলোও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।   হেইলি ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের বিহিটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করান। পরদিন ৩ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তিনি দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন। তার মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাট এম্বোলিজমের সম্পর্ক পাওয়া যায়। এ অবস্থায় শরীরের চর্বির কণা রক্তপ্রবাহে ঢুকে ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে।   বিবিএল এমন একটি কসমেটিক সার্জারি, যেখানে শরীরের অন্য অংশ থেকে লাইপোসাকশনের মাধ্যমে চর্বি সংগ্রহ করে নিতম্বে স্থানান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় চর্বি ভুল জায়গায় প্রবেশ করলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।   হেইলির স্বামী শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার স্ত্রী যে তিনটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, সবগুলোর বিষয়ে যথাযথ সম্মতি ছিল না। ২০২৪ সালে প্রাথমিক শুনানিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি তাদের পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি।   তার আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ছিল অস্ত্রোপচারের সময়কাল নিয়ে। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারটি প্রায় ছয় ঘণ্টা চলার কথা থাকলেও তা শেষ হয় প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে। তিনি দাবি করেন, সার্জন অস্ত্রোপচারের মাঝপথে চলে যান এবং অ্যানেসথেটিস্টের ওপর দায়িত্ব রেখে যান।   নিল আরও অভিযোগ করেছিলেন, হেইলির মৃত্যুর পর তাকে একটি কনসেন্ট ফর্মে সই করতে বলা হয়েছিল। এসব অভিযোগের সবকটি আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। তবে হেইলির মৃত্যু ঘিরে চলমান তদন্তে রোগীর সম্মতি, তাকে দেওয়া তথ্য এবং অস্ত্রোপচারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   হেইলির মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ইনকোয়েস্ট পরিচালনা করছেন হ্যাম্পশায়ারের এরিয়া করোনার নিকোলাস ওয়াকার। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্কে চলমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ইনকোয়েস্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি তদন্ত করছে এবং নিল ডাওয়েল সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছেন।   করোনার তদন্তের পরিধি শুধু হেইলির মৃত্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বিদেশে কসমেটিক সার্জারি করাতে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকেরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঝুঁকি সম্পর্কে কতটা তথ্য পাচ্ছেন, সেটিও পর্যালোচনায় আনা হয়েছে।   ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালেই চিকিৎসা নিতে তুরস্কে যাওয়ার পর অন্তত ছয় ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। কম খরচে কসমেটিক সার্জারির জন্য তুরস্ক ব্রিটিশদের কাছে জনপ্রিয় হলেও একাধিক মৃত্যুর পর বিদেশে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।   হেইলি ডাওয়েলের ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন কেবল অস্ত্রোপচারের ফলাফল নয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক মিনিট আগে নতুন একটি উচ্চঝুঁকির প্রক্রিয়া করানোর সিদ্ধান্ত একজন রোগী কতটা বুঝে এবং স্বাধীনভাবে নিতে পারেন, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে এই মৃত্যু।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১২:৪৬
নারীদের প্রজননক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা নিয়ে নতুন গবেষণা করছেন ড. হংমেই ওয়াং। ছবি: সংগৃহীত

বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা

নতুন গবেষণা পর্যালোচনায় দীর্ঘায়ু ও প্রোটিন গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা

অ্যালকোহল ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়

0 Comments