সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নেপালের রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নয় দিন পর নেপালের বন্যাকবলিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক ব্যক্তি উদ্ধার, ভেতরে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। শুক্রবার উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার পর সেখানে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। নেপালি সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখন টানেলের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেছেন।    স্থানীয় কর্মকর্তা ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত প্রকৌশলী এবং সংসদ সদস্য শ্রী রাম নিউপানে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শুনেছেন। উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করলে ভেতর থেকে ‘ঠিক আছে’ ধরনের সাড়া পাওয়া যায়। বিষয়টিকে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আশার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।    ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর রাশুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর থেকেই এসব প্রকল্পের ভেতরে আটকে পড়া শত শত শ্রমিকের সন্ধানে অভিযান চলছে।    ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। টানেলের প্রবেশপথের বড় অংশ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে আছে এবং ভেতরে পানি প্রবেশের ঝুঁকিও রয়েছে। কয়েক দিন ধরে উদ্ধারকারী দল ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। আগে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, টানেলের অন্য একটি অংশ দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা চলছে।    নেপালের অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিকের অবস্থান এখনো নিশ্চিত নয় এবং কয়েকটি টানেলে কয়েকশ শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন।  উদ্ধার অভিযানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করছে। কাদা, পাথর, পানির প্রবাহ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    তবে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ার খবর নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। টানেল বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্সও বলেছেন, ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতরে বিপর্যয়ের পরও মানুষ দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। তাই নেপালি উদ্ধারকারীরা এখনো অভিযানকে উদ্ধার অভিযান হিসেবেই চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে উৎপাদন খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ৩৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে দেশটির ওপর নির্ভরতা কমাতে উৎপাদন খাতে ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই বিনিয়োগকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।   কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ৪৭০ কোটি কানাডীয় ডলার বা প্রায় ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ৩১৩টি রেলগাড়ি তৈরি করা হবে। দেশটির রেলব্যবস্থা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অন্টারিওর থান্ডার বে এলাকায় এসব রেলগাড়ি তৈরি করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, প্রকল্পটিতে কানাডার শ্রমিক ও দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে কানাডায় উৎপাদিত ইস্পাতও থাকবে। তিনি বলেন, যেসব রেলগাড়ি আগে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা হতো, সেগুলো এখন কানাডাতেই তৈরি করা হবে। কার্নির ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডার প্রয়োজনের সময় কানাডার শ্রমিক ও উপকরণ ব্যবহার করেই এই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার বাণিজ্যিক নির্ভরতা অনেক বেশি। দেশটি প্রতিবছর প্রায় ৪০০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, যা কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকায় কানাডা এখন নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা গত সপ্তাহে ভেঙে যায়। প্রধানমন্ত্রী কার্নি ওয়াশিংটন থেকে কানাডার আলোচকদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু ছাড় চেয়েছিল, যা কানাডার সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে। এর মধ্যে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে কানাডা বাণিজ্য চুক্তি করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে এমন শর্তও ছিল বলে জানান তিনি।   এদিকে আগামী ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর কানাডায় একটি বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে এই সম্মেলনে আলোচনা হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অংশ নিতে পারেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ ট্রিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছে।   প্রশ্নোত্তর পর্বে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন কার্নি। লুটনিক অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে দিয়েছেন। জবাবে কার্নি বলেন, তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত নন এমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন না। তিনি আরও বলেন, লুটনিক কানাডার রাজনীতি বোঝেন না।   এ সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে কার্নির মত জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, সম্মেলনের আয়োজক দেশ যাকে ইচ্ছা আমন্ত্রণ জানাতে পারে। তবে পুতিনের প্রতি কানাডার বার্তা কী হবে, সে বিষয়ে কার্নি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ইউক্রেন থেকে রাশিয়াকে সরে যেতে হবে।   কানাডার নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রেলব্যবস্থা আধুনিকায়নে ৪৭০ কোটি কানাডীয় ডলারের এই প্রকল্পকে তাই দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে কম থাকলেও দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বৃদ্ধি! চাকরি না পেয়ে হতাশ লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার ছিলেন। মোট বেকার মানুষের প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মধ্যে ছিলেন।   বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেকার থাকা মানুষের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে কোনো অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নেই। অতীতে এত বড়সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় বেকার থাকলে সাধারণত বেকারত্বের হারও বেশি থাকত এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকত বা সেখান থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে থাকত।   ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা জেরেমি স্পিগেলের অভিজ্ঞতা এই দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের চাকরি হারানোর পর তিনি নতুন কাজের সন্ধান শুরু করেন। দুই দশকের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর ধরে তিনি চাকরি খুঁজছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না পাওয়ার কারণে এখন তিনি নিজেকেও প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন।   স্পিগেল জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তার মনে হয়েছে, হয়তো সমস্যাটি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। তার পরিবারের একজন সদস্য পর্যন্ত প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করেছেন সেখানে কারও সঙ্গে তার কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না। চাকরি খোঁজার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি কখনো কখনো সামাজিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে চলেন।   দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের কারণ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবকে দায়ী করছেন, কেউ বয়সভিত্তিক বৈষম্যের কথা বলছেন। আবার কেউ এমন চাকরির বিজ্ঞাপনের বিষয়টি সামনে আনছেন, যেগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও বাস্তবে নিয়োগের উদ্যোগ নেই। তবে এসব বিষয়কে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের নিশ্চিত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ওফার শ্যারোন দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব নিয়ে গবেষণা করেন। তার মতে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার পেছনে কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক কারণ খুঁজে পান না, তখন তারা নিজেদের মধ্যেই সমস্যার কারণ খুঁজতে শুরু করেন। এতে আত্মদোষারোপ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খোঁজার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।   ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা জন ম্যাককার্টিও দীর্ঘ চাকরিসন্ধানের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ২০২২ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি হারানোর পর তিনি ১৮ মাস ধরে নতুন কাজ খুঁজেছেন। পরে তিনি পেশা পরিবর্তন করে কারিগরি কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে একটি খুচরা প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছেন।   ম্যাককার্টি জানান, কয়েকটি চাকরির ক্ষেত্রে তিনি প্রাথমিক ফোন ও কারিগরি সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ভিডিও সাক্ষাৎকারের পর তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একের পর এক প্রত্যাখ্যানের পর তার মনে হয়েছে, বয়স হয়তো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে তিনি নিজেই নিশ্চিত নন, বয়সকে কারণ হিসেবে ভাবাটা বাস্তবতা নাকি দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার একটি উপায়।   ওফার শ্যারোন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য আশা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘমেয়াদি চাকরিসন্ধান একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু সমস্যার কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সেই আশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।   তবে দীর্ঘ সময় চাকরি খোঁজার পর কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত কাজে ফিরতে পারছেন। কিন্তু নতুন চাকরি পেলেও অনেকের ক্ষেত্রে আগের কর্মজীবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরি গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ কাজ খোঁজা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন।   কিম্বারলি ম্যাকক্লেইন ২০২৪ সালে একটি ছোট অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে উপপরিচালকের চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পর দ্রুত নতুন কাজ পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কোনো চাকরির প্রস্তাব না পাওয়ায় তিনিও নিজের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ-নিষেধ তালিকায় তিনি আছেন কি না, সেটিও ভাবতে শুরু করেছিলেন।   চাকরি খোঁজা শুরুর প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি একটি কল সেন্টারে পূর্ণকালীন গ্রাহকসেবা পেশায় চাকরি পেয়েছেন ম্যাকক্লেইন। তবে নতুন চাকরিতে তার আয় আগের চাকরির প্রায় অর্ধেক। তারপরও দীর্ঘ সময়ের প্রত্যাখ্যানের পর একটি চাকরির প্রস্তাব পাওয়াকে তিনি স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব এখন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, জুলাইয়ে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় বেকার থাকা মানুষের সংখ্যা আগের মাসের ১৯ লাখ থেকে কিছুটা কমে ১৮ লাখে দাঁড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য।   আগামী দিনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগে আরও আত্মবিশ্বাসী হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। আবার অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হলে বর্তমান চাকরির বাজার আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খোঁজা অনেক মানুষকে পেশা পরিবর্তন, কম বেতনের কাজ গ্রহণ অথবা চাকরির সন্ধান পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে যাওয়া ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। ছবি: সংগৃহীত
আগামী দিনের সেরা ১০ চাকরির ৬টিই স্বাস্থ্যসেবায়! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যে পেশাগুলোর চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে এমন ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর নতুন পূর্বাভাসে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নার্স অনুশীলনকারীর পেশা। আগামী এক দশকে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে।   স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির চাহিদা বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাপকতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে আগামী বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে আরও কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।   নার্স অনুশীলনকারীর পাশাপাশি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপকদের চাকরিও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। নতুন চাকরির সংখ্যার হিসাবে এটি দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি হতে পারে।   দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরও কয়েকটি পেশা রয়েছে। জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বাড়তে থাকায় এসব পেশায় কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।   তালিকায় প্রযুক্তি ও গণিতভিত্তিক দুটি পেশাও রয়েছে। তথ্যবিজ্ঞানী এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর চাকরি আগামী এক দশকে বাড়তে পারে। বড় পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধিকে এসব পেশায় কর্মসংস্থান বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তথ্যবিজ্ঞানীর পেশায় ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর পেশায় প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এই দুই পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করেছে।   দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকার বাকি দুটি চাকরি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী এবং বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং তথ্যকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এসব পেশার প্রয়োজনও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এসব পেশায় শতকরা হারে প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও নতুন চাকরির মোট সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী ও বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের পেশা মিলিয়ে আগামী এক দশকে ১৫ হাজারের কম নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে।   ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ১৭ কোটি ৩ লাখ চাকরি থেকে ২০৩৫ সালে তা প্রায় ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের ১০ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।   জনসংখ্যার বয়স বাড়তে থাকায় আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়াও এর একটি কারণ। অনেক বয়স্ক কর্মী অবসরের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছেন এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে তাদের জায়গায় তরুণ কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।   অন্যদিকে খুচরা বাণিজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। খুচরা বাণিজ্যে কর্মসংস্থান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। তবে কোনো পেশায় কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস থাকলেও সেখানে চাকরির সুযোগ একেবারে শেষ হয়ে যাবে, এমনটা নয়।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। তারপরও এই পূর্বাভাস থেকে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে কোন পেশাগুলোর কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে, তার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের পেশাগুলো এই তালিকায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।   সূত্র: সিএনবিসি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ০:৫৫
গুগলে বছরে ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের আকর্ষণীয় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন ফ্লোরেন্স পয়রেল। ছবি: সংগৃহীত
গুগলে ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চাকরি ছেড়ে অবসর! ৩৭ বছর বয়সেই ১৫ লাখ ডলার সঞ্চয় নারীর

গুগলে বছরে ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চাকরি করেও ৩৭ বছর বয়সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন ফ্লোরেন্স পয়রেল। চাকরি ছাড়ার সময় তার সঞ্চয় ছিল প্রায় ১৫ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের এপ্রিলে চাকরি ছেড়ে তিনি নিজের ভাষায় ‘স্বল্পমেয়াদি অবসর’ শুরু করেন। চাকরি ছাড়ার প্রায় দেড় বছর পরও তিনি আবার পূর্ণকালীন কাজে ফিরবেন কি না, তা নিশ্চিত ছিলেন না।   ফ্লোরেন্স সুইজারল্যান্ডে তার সঙ্গী জানের সঙ্গে থাকেন। জান তার চেয়ে ১৭ বছরের বড় এবং তিনিও গুগলে কাজ করতেন। দুজন একই সময়ে চাকরি থেকে সরে দাঁড়ান। ২০১৮ সালে জানের সঙ্গে পরিচয়ের পর ফ্লোরেন্স আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে শুরু করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, অবসর নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে জান তখন আরও অনেক বেশি বয়সী হয়ে যাবেন। তাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় একসঙ্গে কাটানোর জন্য আগেই কাজ থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   ফ্লোরেন্স সবসময়ই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলেন। তিনি আয়ের বড় একটি অংশ সঞ্চয় করতেন, খুব কমই বাইরে খেতে যেতেন এবং বিনোদনে বেশি অর্থ ব্যয় করতেন না। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও তিনি তুলনামূলক কম খরচের উড়োজাহাজ বেছে নিতেন এবং সাধারণ মানের হোটেলে থাকতেন। পরে পরিবেশ ও টেকসই জীবনযাপন নিয়ে জানার পর তিনি নিরামিষভোজী হন এবং কোনো পণ্য কেনার সময় সেটির পরিবেশগত ও নৈতিক প্রভাব নিয়েও ভাবতে শুরু করেন।   কোনো কিছু কেনার আগে ফ্লোরেন্স নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। পণ্যটি তার সত্যিই প্রয়োজন কি না, ভবিষ্যতে সেটি বর্জ্য হয়ে যাবে কি না, ব্যবহৃত পণ্য হিসেবে সেটি পাওয়া যায় কি না, সেটি প্রাণিজ উপাদানমুক্ত কি না, নৈতিকভাবে উৎপাদিত হয়েছে কি না এবং পণ্যটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কি না, সেসব বিষয় বিবেচনা করেন তিনি। তার মতে, অর্থ খরচ করা হোক বা না হোক, ভালো কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অর্থ মানুষের ক্ষমতা বাড়াতে পারে।   চাকরি ছাড়ার সময় ফ্লোরেন্সের ব্যাংকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সঞ্চয় ছিল। এই অর্থের কারণে দীর্ঘ সময় কাজ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে তিনি আর্থিকভাবে স্বস্তি অনুভব করেন। সুইজারল্যান্ড বিশ্বের ব্যয়বহুল দেশগুলোর একটি হলেও তিনি সেখানে সাধারণ জীবনযাপন করছেন। হাঁটা, জুরিখ হ্রদে সাঁতার কাটা এবং বাড়িতে রান্না করার মতো কাজেই তিনি সময় কাটাচ্ছেন।   ফ্লোরেন্স জানান, এখন তিনি কোনো কিছু কেনার ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়ে প্রয়োজন ও মানকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভালোভাবে তৈরি এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এমন পণ্যের জন্য তিনি বেশি অর্থ খরচ করতেও রাজি। তার মতে, বিষয়টি সবকিছু বাদ দেওয়া নয়, বরং আরও সচেতনভাবে প্রয়োজনীয় জিনিস বেছে নেওয়া।   কেনাকাটাকে তিনি কখনো মানসিক স্বস্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে দেখেননি। বরং তার কাছে কেনাকাটা বিরক্তিকর ও চাপের বিষয়। দীর্ঘদিন অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর ৩৭ বছর বয়সেই তিনি উচ্চ বেতনের চাকরি থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজের সময়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   সূত্র: সিএনবিসি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ০:৪২
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আড়াই বছরের শিশু হাশেম আবু মুস্তাফা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় চিকিৎসার অপেক্ষায় আড়াই বছরের হাশেম, অপুষ্টিতে পারছে না মাথা সোজা রাখতে

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আড়াই বছরের শিশু হাশেম আবু মুস্তাফা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জন্মগত মাংসপেশির জটিলতার সন্দেহ, তীব্র অপুষ্টি, বারবার খিঁচুনি ও উচ্চ জ্বরে ভুগছে শিশুটি। এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে নিজে মাথা সোজা করে রাখতে পারছে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে গাজার বাইরে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি।   সম্প্রতি নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে হাশেমের তীব্র অপুষ্টি ধরা পড়ে। ২৩ আগস্ট হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তার অসুস্থতার মূল কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তার আরও পরীক্ষা, বিশেষ করে এমআরআই ও রক্তের কালচার প্রয়োজন। কিন্তু গাজায় এসব পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসা-সুবিধা পর্যাপ্ত নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হাশেমের মা সুহা আবু মুস্তাফা জানিয়েছেন, অপুষ্টির জটিলতায় শিশুটির চার অঙ্গের নড়াচড়াও মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে গেছে। গিলতে তার গুরুতর সমস্যা হচ্ছে। বিশেষভাবে তৈরি করে নরম খাবার দিতে হয়, কিন্তু একটি খাবার খেতেই তার দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।   হাশেমের জন্ম গাজার রাফাহ এলাকায় একটি তাঁবুতে। তার মা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায়ও পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার পাননি তিনি। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল দুই কেজিরও কম।   গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসির জুলাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গাজার ১২ লাখের বেশি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার সংকটপূর্ণ বা তার চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ছিল। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হয়েছে। জাতিসংঘও জানিয়েছে, খাদ্য ও শিশু পুষ্টির পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও তা অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা এখনো ব্যাপক।   গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবস্থাও গুরুতর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জুলাইয়ের পর্যালোচনায় স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘাটতি ও বাধার কথা উঠে এসেছে। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।   হাশেমের মতো রোগীদের জন্য গাজার বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগস্টেও রাফাহ ক্রসিং দিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়ার কার্যক্রম চালু ছিল। তবে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং অনিশ্চিত মানবিক পরিস্থিতির কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার পথ এখনো কঠিন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ০:২৪
আটক অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে শিশুদের খাবার কিনতে সপ্তাহে ১০ হাজার ডলার দিচ্ছেন এক মা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডিলেতে আইসিইর সাউথ টেক্সাস ফ্যামিলি রেসিডেনশিয়াল সেন্টারে আটক অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা দিচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত বছর কেন্দ্রটি আবার চালু করার পর সেখানে আটক বাবা-মায়েরা খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার এবং ট্যাপের পানি পান করে শিশুদের বমি করার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পরই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন রেভকিন।  রেভকিন ‘ইচ স্টেপ হোম’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিলেতে আটক পরিবারগুলোর কমিসারি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিচ্ছেন। ওই অর্থ দিয়ে অভিভাবকেরা বোতলজাত পানি, নুডলসসহ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছেন। গত সাত মাসে এভাবে তিনি শত শত পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    ভেনেজুয়েলার এক আটক মা এডগারিয়ান্নি কোর্তেস গেরভিস ও তাঁর মেয়েও এই সহায়তা পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় কোর্তেস গেরভিসের ওজন কমছিল এবং তিনি ক্যাফেটেরিয়ার দেওয়া ভাত ও মাংসের মিশ্র খাবার খেতে পারছিলেন না। তাঁর মেয়েও খুব কম খাচ্ছিল এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিল। পরে রেভকিনের সহায়তায় তারা কমিসারি থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার ও বোতলজাত পানি কিনতে পারেন।    রেভকিন জানান, ডিলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর তিনি মনে করেছিলেন, কিছু একটা করা দরকার। তাঁর ভাষায়, শিশুদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কিছুটা সহজ করতে পারছেন, এটিই তাঁকে স্বস্তি দেয়।   ডিলেতে খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক পরিবারগুলোর কাছ থেকে খাবার, পরিষ্কার পানির অভাব এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। মার্চে এবিসি নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিলের কেন্দ্র থেকে একাধিক জরুরি ৯১১ কল করা হয়েছিল। এসব কলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কথা উঠে আসে।    অন্যদিকে, আইসিই এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেছে, ডিলেতে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কেন্দ্রটি বেসরকারি ঠিকাদার কোরসিভিক পরিচালনা করে। কোরসিভিকের দাবি, ডিলের পানির সরবরাহ শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতোই পরিষ্কার পানির ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।    তবে অভিযোগের মধ্যেই রেভকিনের মতো বেসরকারি উদ্যোগগুলো আটক পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় পরিণত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার নয়, শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্যও অর্থ দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের জন্য ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ধুলোময় পরিবেশে থাকা শিশুদের নাকের স্প্রে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ০:৬
স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তৈরি হয়েছে বড় আইনি বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেলেন এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সময়মতো সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থাকে। ওরেগনের কর্মী জোসে রদ্রিগেজের করা একাধিক সরকারি নথির অনুরোধের জেরে এসব সংস্থাকে মিলিয়ে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়েছে।   ফ্লক সেফটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা বা এএলপিআর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে। এসব ক্যামেরা সড়কে চলাচলকারী গাড়ির নম্বরপ্লেটের ছবি ধারণ করার পাশাপাশি গাড়ির অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন শহর ও স্থানীয় সরকারি সংস্থার কাছে মোট ৫৩টি সরকারি নথির অনুরোধ করেন। অনুরোধগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমিত পরিসরের ছিল। নির্দিষ্ট ক্যামেরা থেকে নির্দিষ্ট দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের ছবি ও তথ্য চেয়েছিলেন তিনি।   রদ্রিগেজের উদ্দেশ্য ছিল এসব ক্যামেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। তিনি চেয়েছিলেন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপ্তি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে।   কিন্তু সব সরকারি সংস্থা সময়মতো এসব তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এর একটি বড় কারণ ছিল তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। ক্যামেরাগুলো স্থানীয় সরকারি সংস্থার নিজস্ব কম্পিউটার ব্যবস্থায় তথ্য সংরক্ষণ করত না। বরং ফ্লক সেফটির ক্লাউড সার্ভারে এসব ছবি ও তথ্য রাখা হতো।   আরও বড় সমস্যা ছিল, ফ্লকের ব্যবস্থায় তথ্য ৩০ দিনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ফলে কোনো সরকারি সংস্থা অনুরোধ পাওয়ার পর দ্রুত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ না করলে ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি স্থায়ীভাবে মুছে যেতে পারত।   রদ্রিগেজের অনুরোধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলো চাওয়া তথ্য দিতে পারেনি। কয়েকটি সংস্থা জানিয়েছিল, তথ্য তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় নেই এবং ফ্লক সেফটির সার্ভারে রয়েছে। কিন্তু আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তে এই যুক্তি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি।   ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্ক্যাগিট কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক এলিজাবেথ নিডজউস্কি রায় দেন, স্থানীয় সরকারি সংস্থার ব্যবহৃত ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সরকারি নথি হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো সরকারি সংস্থা তথ্যগুলো নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করে রাখেনি, শুধু তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে সংরক্ষণ করেছে, এমন কারণ দেখিয়েও সরকারি নথি আইনের দায়িত্ব এড়ানো যাবে না বলে আদালতের সিদ্ধান্তে উঠে আসে।   এর ফলে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। রদ্রিগেজ যখন কোনো ছবি চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন, তখন সেই ছবি সরকারি নথি হিসেবে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর ছিল। কিন্তু ৩০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মুছে ফেলার নিয়মের কারণে অনুরোধের জবাব দেওয়ার আগেই অনেক ছবি আর পাওয়া যায়নি।   এরপর রদ্রিগেজ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন। কয়েকটি সরকারি সংস্থাও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলাগুলোর এক পর্যায়ে একাধিক স্থানীয় সরকার আদালতের বাইরে সমঝোতার পথ বেছে নেয়।   এ পর্যন্ত ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা রদ্রিগেজের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। প্রতিটি মামলায় অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে। এর মধ্যে সেড্রো-উলি ও স্ট্যানউড শহরকে মিলিয়ে ৮০ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এভারেট শহরও ২৫ হাজার ডলারের সমঝোতায় যায়।   তবে অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলো আর ফেরত পাওয়া যায়নি। কারণ ফ্লক সেফটির নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যেসব ছবি মুছে গেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেও আর ছিল না। ফলে মামলাগুলোর সমঝোতা মূলত সরকারি নথি সংরক্ষণে ব্যর্থতার দায় মেটানোর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।   রদ্রিগেজের আইনজীবী টিম হলের ভাষ্য, সরকারি সংস্থাগুলো শুরুতেই সঠিকভাবে অনুরোধগুলো প্রক্রিয়া করলে এসব মামলার প্রয়োজন হতো না। তার মতে, পুরো ঘটনায় করদাতাদের অর্থ আইনি লড়াইয়ে ব্যয় হয়েছে।   তবে বিষয়টি শুধু অর্থদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজের করা ৫৩টি অনুরোধের মধ্যে অন্তত ১৩টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা পরে তাদের ফ্লক ক্যামেরার চুক্তি বাতিল করেছে অথবা ক্যামেরাগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। আরও কয়েকটি সংস্থা সাময়িকভাবে ক্যামেরা বন্ধ রাখার পর আবার চালু করেছে।   ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য শুধু সরকারি নথি আইনেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব ক্যামেরা দিয়ে মানুষের গাড়ির চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ব্যাপক নজরদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। রদ্রিগেজও এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় মানুষ সম্পর্কে সরকারি সংস্থাগুলো কতটা তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের জানা উচিত।   এর মধ্যে ওয়াশিংটনে আইনও পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে গভর্নর বব ফার্গুসন এমন একটি আইন স্বাক্ষর করেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হয়। অর্থাৎ রদ্রিগেজের মামলাগুলো যে আইনি কাঠামোর মধ্যে শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই কাঠামোই বদলে গেছে।   তবে তার আগের অনুরোধ ও মামলাগুলোর ক্ষেত্রে পুরোনো আইন এবং আদালতের রায়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই আইনি ব্যাখ্যার ফলেই ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সংরক্ষণে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নতুন নজির তৈরি হয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। কোনো তথ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষিত থাকলেও সেটি যদি সরকারি উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থে সংগ্রহ করা হয়, তাহলে সেই তথ্যের ওপর সরকারের নথি সংরক্ষণ ও জবাবদিহির দায়িত্ব কতটা থাকবে, ওয়াশিংটনের এই ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২৩:৫৩
অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় মহাসড়কে হঠাৎ থেমে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
অটোপাইলট মোডে আচমকা মহাসড়কে থেমে গেল টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত চালক

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।   গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়।   সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট।   তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে।   ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২৩:২৯
শান্তির দাবিতে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি ও ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ। ছবি: সংগৃহীত
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা

ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি পরিচয়ের পার্থক্য তাদের আলাদা করে রাখলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়েছেন দুই দেশের দুই মা। তাদের বার্তা, সন্তানদের যুদ্ধ, সহিংসতা কিংবা কারাগারের ভয় নিয়ে বড় হতে হবে না। তাদেরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে।   ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ এবং ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের নারীদের নিয়ে শান্তির পক্ষে কাজ করছেন। তারা যথাক্রমে ‘উইমেন অব দ্য সান’ এবং ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ ‘মাদার্স কল’-এর মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীদের একসঙ্গে এনে সহিংসতার অবসান ও শান্তি আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।   সম্প্রতি জেরুজালেমে ইসরায়েলি মায়েদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি নারীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা শান্তির দাবি তোলেন। তাদের অবস্থান ছিল, রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের মায়েদের উদ্বেগ একই।   রিম ও ইয়ায়েলের এই যৌথ অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারী জেরুজালেম ও মৃত সাগর এলাকায় শান্তির দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন। ওই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ ও ‘উইমেন অব দ্য সান’। তাদের লক্ষ্য ছিল রক্তপাতের চক্র বন্ধ করে দুই পক্ষের নেতৃত্বকে শান্তি আলোচনায় ফেরানো।   কিন্তু ওই সমাবেশের মাত্র তিন দিন পর, ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং এরপর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সংঘাতের মধ্যে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেও রিম ও ইয়ায়েল তাদের শান্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রিম আল-হাজাজরেহ ফিলিস্তিনি নারীদের সংগঠন ‘উইমেন অব দ্য সান’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ইয়ায়েল আদমি ‘উইমেন ওয়েজ পিস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। দুই সংগঠন ২০২২ সালে ‘মাদার্স কল’ নামে একটি যৌথ শান্তির আহ্বানও প্রকাশ করেছিল। সেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীরা তাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, স্বাধীনতা, সমতা, অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানান।   ২০২৬ সালেও তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চে রিম ও ইয়ায়েলের নেতৃত্বে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মায়েরা ইতালির রোমে খালি পায়ে শান্তির পদযাত্রায় অংশ নেন। ‘মাদার্স কল’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে তারা সহিংসতার অবসান এবং শান্তি আলোচনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের দাবি জানান।   রিম ও ইয়ায়েলের কাছে শান্তির প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয়। তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাদের মতে, কোনো মা চান না তার সন্তান যুদ্ধে মারা যাক, আহত হোক কিংবা সংঘাতের কারণে কারাগারে যাক। এই অভিন্ন মানবিক আকাঙ্ক্ষাই দুই সমাজের নারীদের একত্রিত করার শক্তি হয়ে উঠেছে।   তাদের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ সালে রিম আল-হাজাজরেহ ও ইয়ায়েল আদমিকে টাইম ম্যাগাজিনের ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই বছর তাদের দুই সংগঠন শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়।   সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং চলমান সহিংসতার মধ্যে দুই দেশের নারীদের এমন যৌথ অবস্থান হয়তো রাতারাতি কোনো রাজনৈতিক সমাধান এনে দেবে না। কিন্তু রিম ও ইয়ায়েলের মতো শান্তিকর্মীরা মনে করেন, বিভাজনের রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের কিছু মৌলিক চাওয়া একই। নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সন্তানদের জন্য একটি শান্ত ভবিষ্যৎ সেই চাওয়ারই অংশ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২৩:১২
বন্যার পানিতে আটকা পড়ে স্বামী হিলারিও রেয়নোসোকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন এলোদিয়া রেয়েস। ছবি: সংগৃহীত
বন্যার পানিতে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে ফিরেছিলেন স্ত্রী, ১৭ দিন পর সেই স্বামীকেই দেখতে হলো স্ত্রীর শেষ বিদায়

হিলারিও রেইনোসার হাত দুটো রোদ আর বয়সের ভারে ক্লান্ত। কিন্তু মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ রাজ্যের পোজা রিকা শহরের মোরেলোস এলাকায় তাদের বাড়িতে যখন বন্যার পানি ঢুকে পড়ে, তখন তার সেই হাত দুটোই ছিল পৃথিবীতে টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জীবনসঙ্গীকে বাঁচাতে নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। গলাসমান পানিতে দীর্ঘক্ষণ স্বামীকে আঁকড়ে ধরে বেঁচেও ফিরেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, বন্যার ঠিক ১৭ দিন পর সেই স্ত্রীরই দাফন করতে হলো স্বামী হিলারিওকে।   সম্প্রতি আপসোকল নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাংবাদিক কৃষ্ণা মেদিনার এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। মেক্সিকোর ক্যানজোনস নদীর পানি উপচে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, স্মৃতিবিজড়িত ছবি, পোশাক এবং বছরের পর বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা হাজারো পরিবারের স্বপ্ন। সেই প্রলয়ংকরী বন্যায় আটকে পড়েন হিলারিও এবং তার স্ত্রী ইলোডিয়া রেইস।   ইলোডিয়া সাঁতার জানতেন না। চারদিকে যখন কেবলই ঘোলা পানির স্রোত, তখন বাঁচার কোনো উপায় না পেয়ে হিলারিও তার স্ত্রীকে নিজের গলা শক্ত করে ধরে রাখতে বলেন। কারণ এছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ খোলা ছিল না।   তারা কোনোমতে একটি উঁচু স্থানে পৌঁছান এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন। তারা জানতেন না এভাবে কতক্ষণ তাদের থাকতে হবে। তবে একটি বিষয় তাদের কাছে পরিষ্কার ছিল, যদি মৃত্যু আসে তবে দুজনের একসঙ্গেই আসবে। বুকসমান ঘোলা পানিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির একটি ছবি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় পুরো বিশ্বে। বার্তা সংস্থা এএফপিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছিল যে ছবিটি ওই দিন ওই জায়গারই ছিল।   টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই তাদের উদ্ধারের জন্য সাহায্যের আবেদন জানান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রতিবেশী একটি ছোট নৌকায় করে তাদের সেই মৃত্যুপুরী থেকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে তারা তাদের জীবনের প্রায় সব সম্বল হারিয়ে ফেলেছেন। উদ্ধারের পর সবাই যখন এই দম্পতির বেঁচে ফেরার আনন্দে ভাসছিল, তখন কেউ জানত না তাদের জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিটির রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ অক্টোবর মারা যান ইলোডিয়া। যে বাড়িটি তারা হারিয়েছিলেন, সেখান থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে নারাঞ্জোস আমাতলান এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়।   ২৬ বছর ধরে একে অপরের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন হিলারিও এবং ইলোডিয়া। আজ ইলোডিয়া নেই, হিলারিওর কাছে রয়ে গেছে কেবল সেই ছবিটি। এটি যেন সেই মুহূর্তের এক নীরব সাক্ষী, যা প্রমাণ করে যে বন্যার পানি তাদের আলাদা করতে পারেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলোডিয়া তার স্বামীকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, আর হিলারিও তাকে ছেড়ে যাননি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২২:২৭
নিহত মেজর জন ক্লিনারের স্ত্রী লিবি ক্লিনার স্বামীর মৃত্যুর পর প্রাপ্য সামরিক সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার বিধবা স্ত্রীকে বিশেষ সরকারি সুযোগ সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী মিশনে থাকা অবস্থায় নিহত এক মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যের স্ত্রী দাবি করেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কিছু অতিরিক্ত সামরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ইরানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় ওই সুবিধাগুলো পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে অযোগ্য বলে জানানো হয়েছিল।   আলাবামার বাসিন্দা লিবি ক্লিনার হলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর মেজর জন ‘অ্যালেক্স’ ক্লিনারের স্ত্রী। গত ১২ মার্চ ইরাকে একটি জ্বালানি সরবরাহ মিশনের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের একজন ছিলেন অ্যালেক্স ক্লিনার। তার পরিবারের সুবিধা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে মার্কিন বিমানবাহিনী। সামরিক কর্মকর্তারা লিবি ক্লিনারের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম NOTUS-এর প্রতিবেদনের বরাতে ডেমোক্রেসি নাউ জানিয়েছে, লিবি ক্লিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে তার স্বামীর মৃত্যুর পর কিছু সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান চালালেও কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করায় কিছু সুবিধার জন্য তার পরিবারকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।   জন ক্লিনার ছিলেন বিমানবাহিনীর একজন মেজর। তিনি একটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের ওই মিশনের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ক্লিনারসহ ছয়জন বিমানসেনা নিহত হন। তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সহায়ক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্বামীর মৃত্যুর পর লিবি ক্লিনার জানতে পারেন, কিছু সামরিক সুবিধা নিয়ে তার পরিবারের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর তা দ্রুত আলোচনায় আসে। তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন ছিল, সামরিক সদস্যরা যখন ইরানসংক্রান্ত অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, তখন কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি বলে তাদের পরিবারের প্রাপ্য সুবিধা কেন ভিন্ন হবে।   ঘটনাটি সামনে আসার পর মার্কিন বিমানবাহিনী বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। সামরিক কর্মকর্তারা সোমবার লিবি ক্লিনারের সঙ্গে কথা বলেন বলে NOTUS-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারটি তাদের প্রাপ্য সব সুবিধা পাচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।   লিবি ক্লিনারের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রকৃতি এবং সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেন। এরপর কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।   এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের একটি বক্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। ২ সেপ্টেম্বর সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে কোনো মার্কিন নাগরিক নিহত হয়নি এবং মূলত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সংঘাতে ইতোমধ্যে ১৮ মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ফলে লুটনিকের বক্তব্য দ্রুত প্রশ্নের মুখে পড়ে।   পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর লুটনিক নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি জানান, তিনি ভুল বলেছিলেন এবং আসলে ভেনেজুয়েলা নিয়ে সামরিক অভিযানের কথা মাথায় রেখেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ক্ষতির জন্য তিনি দুঃখিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও লুটনিকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর মাথায় ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযান ছিল। ট্রাম্প একই সঙ্গে স্বীকার করেন যে ইরান সংঘাতে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।   লিবি ক্লিনারের অভিযোগ এবং লুটনিকের ভুল বক্তব্য একই সময়ে সামনে আসায় ইরান অভিযানে নিহত মার্কিন সেনাদের পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সামরিক অভিযানে নিহত সদস্যদের পরিবার কী ধরনের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী এবং সেই সুবিধা নির্ধারণে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে লিবি ক্লিনারের পরিবার শেষ পর্যন্ত কোন কোন সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বিমানবাহিনীর পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।   মার্কিন সামরিক সদস্যদের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। তবে সুবিধার ধরন ও যোগ্যতা নির্ধারণে সামরিক সদস্যের দায়িত্বের প্রকৃতি, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ইরান অভিযানের মতো একটি চলমান সামরিক সংঘাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ হিসেবে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে, তা পরিবারগুলোর জন্য বাস্তব আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে।   জন ক্লিনারের মৃত্যুর ঘটনাটি তাই শুধু একটি সামরিক দুর্ঘটনার বিষয় নয়। তার পরিবারের সুবিধা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অভিযান, সামরিক সদস্যদের স্বীকৃতি এবং তাদের পরিবারের অধিকার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২২:২
ফ্লোরিডার নর্থ লডারডেলে ওয়ালমার্টের পার্কিং লটে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধ, গুলি করে ৬২ বছরের ব্যক্তিকে হত্যা: ফ্লোরিডার নারীকে করা হচ্ছে না মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক নারীকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে না। তদন্ত শেষে প্রসিকিউটররা বলেছেন, ঘটনার সময় ওই নারী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন এবং ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইনের সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য।   ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন নর্থ লডারডেলের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায়। নিহত ব্যক্তির নাম বার্ট ডিগুগলিয়েলমো। ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা একটি স্মারকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি পার্কিংয়ের একটি জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয় এবং পুরো ঘটনার বেশির ভাগ অংশই মুঠোফোন ও একটি টেসলা গাড়ির ক্যামেরাসহ একাধিক ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। ফলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার তথ্য ছিল।   স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী, গুলি চালানো নারীকে মেলিসা পেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি তার ভাতিজি ও ভাতিজির শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে ছিলেন। পেইন ও ডিগুগলিয়েলমো একই পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়।   এরপর ডিগুগলিয়েলমো নিজের গাড়িটি চলাচলের পথে রেখে দোকানের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি গাড়িতে ফিরে আসেন। প্রসিকিউটরদের স্মারকে বলা হয়েছে, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী তাকে পেইনের গাড়ি নিয়ে ক্ষতি করার কথা বলতে শুনেছেন। এরপর তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে অন্য জায়গায় পার্ক করেন এবং হেঁটে পেইনের গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাকে তখন দৃশ্যত ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।   পেইন তখন গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তার বাঁ হাতে ছিল মোবাইল ফোন এবং ডান হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ডিগুগলিয়েলমোকে সতর্ক করে বলেন, তিনি যদি তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন, তাহলে তিনি গুলি করবেন। কিন্তু ওই সতর্কবার্তার পরও ডিগুগলিয়েলমো তার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতেও তাকে পেইনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, ডিগুগলিয়েলমো এগিয়ে আসার সময় পেইন পেছাতে থাকেন। ভিডিওতে ডিগুগলিয়েলমোকে তার পিছু নিতে এবং চাবি দিয়ে পেইনের গাড়ির ক্ষতি করার মতো অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ফিরে গেলেও আবার পেইনের দিকে এগিয়ে আসেন। তখন পেইন গুলি চালান। গুলিটি ডিগুগলিয়েলমোর পেটে লাগে।   গুলি চালানোর সময় পেইন তার স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। তার স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর পেইন তাকে পুলিশে ফোন করতে বলেন। পরে ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাকে অল্প সময়ের জন্য হেফাজতে নেন। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, পুলিশের কাছে পেইনের দেওয়া ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন ভিডিওতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। পরে আত্মরক্ষার দাবি করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   এরপর মামলাটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে যায়। প্রসিকিউটরদের পর্যালোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সময় পেইন যুক্তিসংগতভাবে নিজের জীবন বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলেন কি না।   ব্রোওয়ার্ড স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের হোমিসাইড ট্রায়াল ইউনিটের প্রধান স্টিফেন জ্যাকর বলেন, পেইন একটি জনসমাগমস্থলে ছিলেন এবং ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায় অবস্থান করার আইনগত অধিকার তার ছিল। তিনি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীও নন এবং আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার তার ছিল। ফলে গুলি চালানোর মুহূর্তে তিনি অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে ছিলেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দেয়। এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তিসংগতভাবে মনে করেন যে তিনি মৃত্যু বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরে না গিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। প্রসিকিউটরদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পেইনের ক্ষেত্রে তার ভয় অযৌক্তিক ছিল, এমন প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষের হাতে নেই।   প্রসিকিউটর জ্যাকরের মতে, এই আইনের কারণে পেইনকে আগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। তার পক্ষে সরে যাওয়াও বাধ্যতামূলক ছিল না, যদি তার আশঙ্কা যুক্তিসংগত হয়ে থাকে এবং বিপরীত প্রমাণ না থাকে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করেছে, এই ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো প্রমাণ নেই।   ঘটনার কয়েক দিন পর ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছিল, পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে এবং পেইন দাবি করেছিলেন, তিনি আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছেন। সে সময় তদন্ত চলছিল এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল।   শেষ পর্যন্ত প্রসিকিউটররা পেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে শুরু হওয়া ওই বিরোধে ডিগুগলিয়েলমোর মৃত্যুর ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে না।   ঘটনাটি আবারও ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ক্লিয়ারওয়াটারে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধের সময় গুলি করে একজনকে হত্যার ঘটনাতেও একই আইন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। তবে বর্তমান নর্থ লডারডেল ঘটনার ক্ষেত্রে প্রসিকিউটরদের সিদ্ধান্ত ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তদন্ত-তথ্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।   সংবাদসূত্র: এবিসি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২১:৪০
যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে মর্টগেজ রেট। ছবি: সংগৃহীত
মর্টগেজ রেট এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও ব্যয়বহুল হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ বা গৃহঋণের সুদের হার এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মদদপুষ্ট মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মূল্যস্ফীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   ফ্রেডি ম্যাকের প্রাইমারি মর্টগেজ মার্কেট সার্ভের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার বেড়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর এটিই সর্বোচ্চ গড় হার। ওই সময় ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। এক বছর আগে এই গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।   অন্যদিকে, ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এই হার ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সুদের হার বাড়লেও আবাসন বাজারের ক্রেতাদের আগ্রহে খুব একটা ভাটা পড়েনি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটের বলেন, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ক্রেতাদের অব্যাহত আগ্রহের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।   মর্টগেজ রেট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যদিও মর্টগেজ রেট সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে এটি সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ড বা সরকারি বন্ডের আয়ের ওপর নির্ভর করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ট্রেজারি ইয়েল্ডের হার ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই সুদের হার ক্রমশ বাড়ছে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই শু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং তা ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে।   তিনি আরও জানান, যখন মনে হচ্ছিল সংঘাতের সমাধান হতে চলেছে, তখন বন্ড ইয়েল্ড কমেছিল এবং মর্টগেজ রেটও নিম্নমুখী হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার কারণে তেলের দাম আবার বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির শঙ্কাকে উসকে দিয়েছে এবং ইয়েল্ড ও মর্টগেজ রেট আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।   সূত্র: ফক্স বিজনেস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২১:২৬
যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে জাপান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আলুর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে জাপান, শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা

জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে আলুর সঙ্গে দেশে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা এবং এতে জাপানের স্থানীয় আলুচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু সাধারণ বাজারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় ধাপে ২১ ধরনের রোগ ও পোকামাকড় চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো জাপানের কৃষিতে সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে কি না এবং কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর অনলাইন ব্যাখ্যা সভা অনুষ্ঠিত হবে।   এরপর প্রতিটি রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমদানির ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্ভিদ-স্বাস্থ্যবিধি বা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে কীটনাশক দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ, আলু পরীক্ষা এবং আমদানির আগে ও পরে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিদর্শনের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।   তবে নিষেধাজ্ঞা উঠলেই যে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানের বাজারে ঢুকতে শুরু করবে, তা নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জাপানের কৃষিমন্ত্রী নোরিকাজু সুজুকি বলেছেন, রোগ ও পোকামাকড়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে।   জাপানে উদ্ভিদে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকাতে সাধারণভাবে বিদেশ থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলু আমদানির ক্ষেত্রে সীমিত একটি ছাড় দেওয়া হয়। সেই ছাড়ের আওতায় শুধু আলুর চিপস তৈরির জন্য ব্যবহৃত আলু আমদানি করা যায়। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য তাজা আলু আমদানির অনুমতি এখনো নেই।   এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানে প্রবেশের অনুমতি দিতে ওয়াশিংটন অনুরোধ জানালে জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি বা এসপিএস চুক্তির কাঠামোর আওতায় বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করে।   আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি মোট তিনটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর আমদানি নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে এমন রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করা হচ্ছে, যেগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এই ধাপেই ২১ ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের ব্যাখ্যা সভার পর প্রক্রিয়াটি তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার কথা রয়েছে।   চিহ্নিত রোগ ও পোকামাকড়ের মধ্যে জাপানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় আলুর সাদা সিস্ট কৃমি বা ‘পটেটো হোয়াইট সিস্ট নিমাটোড’ও রয়েছে। ২০১৫ সালে হোক্কাইডোর আবাশিরি এলাকায় প্রথমবার এটি শনাক্ত হয়েছিল এবং এরপর থেকে স্থানীয় আলু উৎপাদনে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   জাপানের আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে হোক্কাইডো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে বিদেশি আলু আমদানি বাড়লে শুধু রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি নয়, স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   হোক্কাইডোর গভর্নর নাওমিচি সুজুকি গত ২১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকানো এবং স্থানীয় উৎপাদন সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত প্রদেশটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মেনে নিতে পারবে না।   দেশটির কৃষি সমবায়গুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন জাপান অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভসের কেন্দ্রীয় ইউনিয়নও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় আলু উৎপাদক দেশ। দেশটির উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের বড় ও লাভজনক তাজা আলুর বাজারে প্রবেশের সুযোগ চেয়ে আসছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগটি শুধু কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় নয়, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত।   তবে বর্তমান প্রক্রিয়াকে এখনই আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না জাপান। ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে দেশটি।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর জন্য জাপানের বাজার পুরোপুরি খুলবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।   সংবাদসূত্র: দ্য জাপান টাইমস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২১:১০
আইসিইর নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই নিয়োগ নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ, পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই নিয়োগ পাচ্ছেন সশস্ত্র এজেন্টরা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দ্রুত জনবল বাড়াতে গিয়ে নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির ১৭ বছরের সাবেক এক কর্মকর্তা হুইসেলব্লোয়ার অভিযোগে বলেছেন, কিছু প্রার্থী ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পরিচয়, ক্রেডিট ও পলিগ্রাফ যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়োগ পেয়েছেন।    নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রমের সময় আইসিইর ভেটিং কর্মকর্তাদের কিছু প্রার্থীর পূর্ণ নিরাপত্তা ফর্ম, ফিঙ্গারপ্রিন্টের ফলাফল কিংবা পলিগ্রাফের তথ্য হাতে না থাকলেও তাদের প্রাথমিক অনুমোদন দিতে বলা হয়েছিল। আগে এই প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর পরিচয়, অপরাধের ইতিহাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করতে সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগত।   অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে কিছু নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাদের পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক শেষ হওয়ার আগেই প্রশিক্ষণে যোগ দেন। পরে প্রশিক্ষণের সময়ও প্রায় ১০ সপ্তাহ থেকে কমিয়ে ছয় সপ্তাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইসিইর প্রশিক্ষণ নিয়ে এর আগেও সাবেক কর্মকর্তা রায়ান শ্যাঙ্ক কংগ্রেসের এক শুনানিতে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে “ত্রুটিপূর্ণ ও ভেঙে পড়া” বলে বর্ণনা করেন।    তবে প্রশিক্ষণের সময় কমানোর বিষয়ে আইসিইর বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করতে কিছু বিষয় পুনর্বিন্যাস ও সময় কমানো হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়নি। আইসিই আরও জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের ভেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়।    নিয়োগ ও ভেটিং নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার পেছনে মেইনের বিডফোর্ডে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরেরোর মৃত্যুর ঘটনাটিও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ে ওই ঘটনায় গুলি চালানো আইসিই এজেন্ট হিসেবে ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ব্রুইলেটের নাম প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রীর করা সুরক্ষা আদেশের আবেদন এবং ব্রুইলেটের অতীত আচরণ নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে।    তবে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টের সঙ্গে ভেটিং প্রক্রিয়ার কথিত ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন দাবি এখনই করা যাচ্ছে না। আইসিইর নিয়োগ ও ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে আরও তদন্ত ও সরকারি পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির দ্রুত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন এজেন্টদের প্রশিক্ষণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক কতটা কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২০:৫২
টাম্পায় ৯৩ বছর বয়সী এক নারীর অ্যাপার্টমেন্টে অনুপ্রবেশের ঘটনায় গ্রেপ্তার হন ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রস। ছবি: সংগৃহীত
টাম্পায় ৯৩ বছরের নারীর বিছানার পাশে অচেনা যুবক, ৯১১ কলে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডার টাম্পায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঘুমিয়ে থাকা ৯৩ বছর বয়সী এক নারী ঘুম থেকে উঠে বিছানার পায়ের কাছে এক অচেনা যুবককে দেখতে পান। ঘটনাটি ঘটে ৩০ আগস্ট সকালে। পরে অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের সহায়তায় ২৪ বছর বয়সী কনর নরক্রসকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ’স অফিসের গোয়েন্দারা।   শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই নারী ঘুম থেকে উঠে নরক্রসকে তার বিছানার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি তাকে নিজের নাতি মনে করে কাছে ডাকেন। পরে বুঝতে পারেন, লোকটি তার পরিচিত কেউ নন।   ওই নারী জানান, তাকে উঠতে হবে এবং ওষুধ খেতে হবে। তখন নরক্রস তার হাত ঘষতে শুরু করেন এবং তাকে ওষুধ এনে দেওয়ার কথা বলেন। নারীটি তাকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চলে যেতে বললে তিনি পেছনের কাচের স্লাইডিং দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান।   তবে কিছুক্ষণ পর নরক্রস আবার ফিরে এসে সামনের দরজা দিয়ে অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজাটি তখন লক করা ছিল। পরে তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নরক্রসকে শনাক্ত করেন।   ১ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বসবাসরত ব্যক্তিসহ বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তির ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনা ঘটলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নরক্রসকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২০:৪০
বন্যা থামাতে পারেনি ভালোবাসা, কোমরসমান পানিতেই বিয়ে করলেন ফিলিপাইনের যুগল
বন্যা থামাতে পারেনি ভালোবাসা, কোমরসমান পানিতেই বিয়ে করলেন ফিলিপাইনের যুগল

ফিলিপাইনের এক যুগল প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় ইচ্ছা ও ভালোবাসার কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগও হার মানে। প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারণে চারপাশ যখন তলিয়ে গেছে, ঠিক তখনই ম্যানিলার উত্তরাঞ্চলীয় হাগোনয় শহরের সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট গির্জায় কোমরসমান ঘোলা পানিতে দাঁড়িয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন লেইন লিজা গালাং এবং গিলবার্ট চিকো। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   গত এক মাস ধরে টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে ফিলিপাইনের এই অঞ্চলটি ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। আগস্ট মাসে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।   স্থানীয় ওই গির্জাটিও প্রায় এক মাস ধরে আংশিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ কারণে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই যুগলকে বিয়ের অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।   তবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটুট থেকে এই দুর্যোগের মাঝেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। কনে লেইন লিজা বন্যার পানিতে হাঁটার সুবিধার্থে তার বিয়ের গাউনটির নিচের অংশ কেটে কিছুটা ছোট করে নিয়েছিলেন।   উঁচু কাঠামোর একটি রিকশায় চড়ে তারা গির্জার প্রাঙ্গণে পৌঁছান, যাতে পানিতে নামার আগে পোশাক ভিজে বা নষ্ট না হয়।   বিয়ের চিত্রগ্রাহক মিক্কো রে আলফোনসো জানান, এই যুগলের ভালোবাসার কাছে কোনো বাধাই টিকতে পারেনি। গির্জার ভেতরে ১৫ জনেরও কম অতিথির উপস্থিতিতে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।   গির্জার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ফুলে সাজানো ফাঁকা বেঞ্চের সামনে কনেকে জড়িয়ে ধরে আছেন তার বাবা-মা।   আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে হেঁটে বিয়ের আংটি হাতে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এক কিশোর। মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী বর গিলবার্ট চিকো জানান, তাদের বিয়েটি মূলত ডিসেম্বরে হওয়ার কথা ছিল।   কিন্তু গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ার কারণে তিনি বাধ্য হয়ে আগেভাগেই ছুটি নিয়ে দেশে ফেরায় বিয়ের তারিখ এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২০:৩
রুশ হা/মলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের খারকিভে মাটির নিচে শিশুদের জন্য স্কুল, সেখানেই চলছে পাঠদান
রুশ হা/মলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের খারকিভে মাটির নিচে শিশুদের জন্য স্কুল, সেখানেই চলছে পাঠদান

ইউক্রেনে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও খারকিভ শহরের শিশুদের জন্য এবারের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। যুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষতে শহরের উপরিভাগের অনেক অংশ জর্জরিত থাকলেও, রুশ বোমাবর্ষণের সার্বক্ষণিক হুমকির মাঝেই শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা নিশ্চিতে মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে এক অভিনব স্কুল।   ‘খারকিভ লাইসিয়াম নম্বর ২৪’ নামের এই নবনির্মিত ভূগর্ভস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের এই শহরটিতে প্রতিনিয়তই রাশিয়ান বাহিনীর হামলার আতঙ্ক বিরাজ করে।   ভূপৃষ্ঠের ওপরে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা যখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই মাটির নিচের এই স্কুলটি শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।   এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কারণে যুদ্ধকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নিরাপদে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।   সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো এই স্কুলটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের শিশুদের জন্য এক নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৯:৪২
মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে শপথ নিলেন আয়েশা ওয়াহাব
মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে শপথ নিলেন আয়েশা ওয়াহাব

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে শপথ নিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর আয়েশা ওয়াহাব। ৩৯ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট নেত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।   গত এপ্রিলে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগে সাবেক প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনেই বিশেষ নির্বাচনে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়লেন আয়েশা।   রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করা আয়েশা পরবর্তীতে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমাজকর্মে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে ফস্টার কেয়ার বা পালক পরিবারে।   কংগ্রেসে তার প্রধান লক্ষ্য হবে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এরা আমাদেরই মানুষ। আমরা যদি বিভাজনের বদলে সাধারণ উদ্দেশ্য এবং রাজনীতির বদলে মানুষকে বেছে নিই, তবে আমেরিকার স্বপ্নকে আবারও সত্যি করে তুলতে পারব।   কারণ এই স্বপ্ন কেবল রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের নয়, বরং উন্নত আগামীর প্রত্যাশা করা প্রতিটি আমেরিকানের।”   ইস্ট বে ডিস্ট্রিক্টের এই বিশেষ নির্বাচনে বার্ট (BART) বোর্ড ডিরেক্টর মেলিসা হার্নান্দেজকে পরাজিত করে কংগ্রেসের টিকিট নিশ্চিত করেন আয়েশা ওয়াহাব।   তবে তাদের এই রাজনৈতিক লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী নভেম্বরে পূর্ণাঙ্গ দুই বছর মেয়াদের জন্য আবারও ব্যালট যুদ্ধে মুখোমুখি হবেন এই দুই প্রার্থী।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৯:১৩