সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

নয় দিন পর নেপালের বন্যাকবলিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক ব্যক্তি উদ্ধার, ভেতরে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১:৪৯
নেপালের রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের নয় দিন পর রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। শুক্রবার উদ্ধারকারী দল টানেলের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার পর সেখানে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। নেপালি সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখন টানেলের ভেতরে ঢুকে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেছেন। 

 

স্থানীয় কর্মকর্তা ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত প্রকৌশলী এবং সংসদ সদস্য শ্রী রাম নিউপানে জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা ভেতর থেকে একাধিক মানুষের কণ্ঠস্বর শুনেছেন। উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করলে ভেতর থেকে ‘ঠিক আছে’ ধরনের সাড়া পাওয়া যায়। বিষয়টিকে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আশার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

 

২৬ আগস্ট ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর রাশুয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর থেকেই এসব প্রকল্পের ভেতরে আটকে পড়া শত শত শ্রমিকের সন্ধানে অভিযান চলছে। 

 

ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। টানেলের প্রবেশপথের বড় অংশ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে আটকে আছে এবং ভেতরে পানি প্রবেশের ঝুঁকিও রয়েছে। কয়েক দিন ধরে উদ্ধারকারী দল ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পথ পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। আগে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, টানেলের অন্য একটি অংশ দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা চলছে। 

 

নেপালের অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিকের অবস্থান এখনো নিশ্চিত নয় এবং কয়েকটি টানেলে কয়েকশ শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। 


উদ্ধার অভিযানে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ দলও সহায়তা করছে। কাদা, পাথর, পানির প্রবাহ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

 

তবে টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাওয়ার খবর নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। টানেল বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্সও বলেছেন, ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতরে বিপর্যয়ের পরও মানুষ দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। তাই নেপালি উদ্ধারকারীরা এখনো অভিযানকে উদ্ধার অভিযান হিসেবেই চালিয়ে যাচ্ছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
মধ্যপ্রদেশের ২০ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী নিজের উদ্যোগে দূষিত অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় এসেছেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রশাসনের অপেক্ষা না করে, হাতে ইনফেকশন হওয়া স্বত্তেও একাই নদী পরিষ্কারে ২০ বছরের এই ছাত্র

মধ্যপ্রদেশের বিয়াওরার ২০ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত, নিজের উদ্যোগে দূষিত অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় এসেছেন। নদীর পানিতে ও আশপাশে জমে থাকা প্লাস্টিক, বোতল ও নানা ধরনের বর্জ্য দেখে তিনি অন্য কারও অপেক্ষা না করে নিজেই পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। তার আগে ও পরের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।   বিএসসি পড়ুয়া বিট্টু ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি বন্ধুদের নিয়ে নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। পরে অন্যরা সরে গেলেও তিনি কাজ চালিয়ে যান। কোনো বড় আয়োজন বা সরকারি পরিচ্ছন্নতা দলের ওপর নির্ভর না করে নিজের অর্থে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে বর্জ্য সরাতে থাকেন। কিছু অংশ পরিষ্কার করতে তাকে কয়েক মাস ধরে নিয়মিত পরিশ্রম করতে হয়েছে।    এই কাজ করতে গিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে বিট্টুকে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার জন্যই তিনি নদী পরিষ্কার করছেন। তবে এসব সমালোচনা তাকে থামাতে পারেনি। দীর্ঘ সময় দূষিত পানিতে কাজ করার কারণে তার হাতে সংক্রমণসহ স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    বিট্টুর কাজের আগে ও পরের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে আসে ভারতের শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রারও। তিনি বিট্টুর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাকে যদি বাস্তব ও অর্থবহ কাজে ব্যবহার করা যায়, সেটি ইতিবাচক বিষয়।    বিট্টুর উদ্যোগ এখন শুধু একটি নদী পরিষ্কারের গল্প নয়, স্থানীয় পরিবেশ রক্ষায় একজন তরুণের ব্যক্তিগত উদ্যোগের উদাহরণ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তার কাজ একই সঙ্গে নদী দূষণ এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২:২১
সৌদি আরবে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইসলাম গ্রহণ করেন সাইমন কলিস। ছবি: সংগৃহীত

৩০ বছর মুসলিমদের সাথে কাজের পর ইসলাম গ্রহণ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন কলিসের

নেপালের রাশুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নয় দিন পর নেপালের বন্যাকবলিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক ব্যক্তি উদ্ধার, ভেতরে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে উৎপাদন খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ৩৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ কানাডার

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আড়াই বছরের শিশু হাশেম আবু মুস্তাফা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় চিকিৎসার অপেক্ষায় আড়াই বছরের হাশেম, অপুষ্টিতে পারছে না মাথা সোজা রাখতে

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আড়াই বছরের শিশু হাশেম আবু মুস্তাফা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জন্মগত মাংসপেশির জটিলতার সন্দেহ, তীব্র অপুষ্টি, বারবার খিঁচুনি ও উচ্চ জ্বরে ভুগছে শিশুটি। এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে নিজে মাথা সোজা করে রাখতে পারছে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে গাজার বাইরে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি।   সম্প্রতি নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে হাশেমের তীব্র অপুষ্টি ধরা পড়ে। ২৩ আগস্ট হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তার অসুস্থতার মূল কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তার আরও পরীক্ষা, বিশেষ করে এমআরআই ও রক্তের কালচার প্রয়োজন। কিন্তু গাজায় এসব পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও চিকিৎসা-সুবিধা পর্যাপ্ত নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   হাশেমের মা সুহা আবু মুস্তাফা জানিয়েছেন, অপুষ্টির জটিলতায় শিশুটির চার অঙ্গের নড়াচড়াও মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে গেছে। গিলতে তার গুরুতর সমস্যা হচ্ছে। বিশেষভাবে তৈরি করে নরম খাবার দিতে হয়, কিন্তু একটি খাবার খেতেই তার দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।   হাশেমের জন্ম গাজার রাফাহ এলাকায় একটি তাঁবুতে। তার মা জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায়ও পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার পাননি তিনি। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল দুই কেজিরও কম।   গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসির জুলাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গাজার ১২ লাখের বেশি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার সংকটপূর্ণ বা তার চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ছিল। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হয়েছে। জাতিসংঘও জানিয়েছে, খাদ্য ও শিশু পুষ্টির পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও তা অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা এখনো ব্যাপক।   গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবস্থাও গুরুতর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জুলাইয়ের পর্যালোচনায় স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘাটতি ও বাধার কথা উঠে এসেছে। ফলে জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।   হাশেমের মতো রোগীদের জন্য গাজার বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগস্টেও রাফাহ ক্রসিং দিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়ার কার্যক্রম চালু ছিল। তবে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং অনিশ্চিত মানবিক পরিস্থিতির কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার পথ এখনো কঠিন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ০:২৪
বন্যা থামাতে পারেনি ভালোবাসা, কোমরসমান পানিতেই বিয়ে করলেন ফিলিপাইনের যুগল

বন্যা থামাতে পারেনি ভালোবাসা, কোমরসমান পানিতেই বিয়ে করলেন ফিলিপাইনের যুগল

রুশ হা/মলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের খারকিভে মাটির নিচে শিশুদের জন্য স্কুল, সেখানেই চলছে পাঠদান

রুশ হা/মলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের খারকিভে মাটির নিচে শিশুদের জন্য স্কুল, সেখানেই চলছে পাঠদান

মার্কিন শিক্ষকের ৫ হাজার ডলারের সহায়তায় মরুভূমির বুকে ৫০ হাজার গাছ, ২৭ বছর পর আবেগঘন পুনর্মিলন

মার্কিন শিক্ষকের ৫ হাজার ডলারের সহায়তায় মরুভূমির বুকে ৫০ হাজার গাছ, ২৭ বছর পর আবেগঘন পুনর্মিলন

ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬
ইউরোপ যাত্রায় বাধা, সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় বসনিয়ায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ইউরোপের অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৯৬ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।   স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিস্ত্রিকা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ এবং রিপাবলিকা শ্রপস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।   দেশটির সংবাদমাধ্যম সারায়েভো টাইমস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বলকান অঞ্চলের সংবাদমাধ্যম দ্য ফার্স্ট বলকানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিক। বিস্ত্রিকা এলাকাটি বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ গ্রাদিস্কা সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছাকাছি।   কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম অভিযানে মোট ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি এবং ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮ জন আফগান, ১৩ জন বাংলাদেশি এবং দুজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন।   পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে বসনিয়া হয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থলপথের পাশাপাশি নৌপথ ব্যবহার করে নদী পার হওয়ারও চেষ্টা করা হয়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পারাপারে ব্যবহৃত কয়েকটি নৌকা জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।   এ ঘটনায় মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   আটকদের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বানিয়া লুকা অঞ্চলের ‘সার্ভিস ফর ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স ফিল্ড সেন্টার’-এ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তের স্বার্থে প্রসিকিউটর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বলকান রুটে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে।   তবে সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় মানবপাচারকারীরা আরও গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার ও দাতব্য সংস্থাগুলো।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রার্থী দেশ হিসেবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চাপ রয়েছে। এ কারণে ফ্রন্টেক্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় গ্রাদিস্কা সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক এই দুই অভিযান থেকে স্পষ্ট, কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও উন্নত জীবনের আশায় বলকান রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৫:৪০
স্বজন ফিরবে, এই আশায় ‘ছবির দেয়ালে’ প্রিয় মুখ খুঁজছেন নেপালিরা, কাটছে উৎকণ্ঠার প্রহর I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

স্বজন ফিরবে, এই আশায় ‘ছবির দেয়ালে’ প্রিয় মুখ খুঁজছেন নেপালিরা, কাটছে উৎকণ্ঠার প্রহর

মার্কিন হা মলার জবাবে কুয়েত ও আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক মিসাইল-ড্রোন হা মলা

মার্কিন হা মলার জবাবে কুয়েত ও আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক মিসাইল-ড্রোন হা মলা

পিতৃহারা মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে ৪০ বছর পুরুষ সেজে কঠোর পরিশ্রম এক মায়ের

পিতৃহারা মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে ৪০ বছর পুরুষ সেজে কঠোর পরিশ্রম এক মায়ের

0 Comments