হামাসের ক্রিপ্টোতে এফবিআইয়ের অভিযানে জব্দ ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, শনাক্ত হাজারো দাতা
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তকারীরা হামাসের অর্থ সংগ্রহ ও অনলাইন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৫ লাখ ৬০ হাজারc ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে। একই অভিযানে হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠনটির জন্য পাঠানো অনুদান আটকে দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে হামাসকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও সংগ্রহ করেছে এফবিআই।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানায়। আদালতের অনুমোদিত জব্দ আদেশের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি এনক্রিপ্টেড অনলাইন গ্রুপ চ্যাটে সমর্থকদের একটি অর্থ সংগ্রহের ওয়েবসাইটে যেতে বলা হতো। সেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনুদান পাঠানোর জন্য বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ঠিকানা দেওয়া হতো।
তদন্তকারীরা মানবসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে এসব লেনদেন শনাক্ত ও অনুসরণ করেন। ২০২৫ সালের মার্চ, জুন ও অক্টোবর মাসে তিনটি পৃথক আদালত অনুমোদিত জব্দ কার্যক্রমে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করা হয়। অর্থগুলো হামাসের আল-কাসাম ব্রিগেডের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর এফবিআইয়ের আলবুকার্কি ফিল্ড অফিস মানবসূত্রের সহায়তায় আল-কাসাম ব্রিগেডের প্রধান ওয়েবসাইট আলকাসাম ডট পিএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডোমেইন ও সার্ভার শনাক্ত করে সেগুলোও জব্দ করে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে হামাসের উদ্দেশে পাঠানো নতুন ক্রিপ্টো অনুদানও আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
শুধু অর্থ ও ওয়েবসাইট জব্দেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করে এফবিআই এমন হাজার হাজার ব্যক্তির তথ্যও পেয়েছে, যারা অনলাইনে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা প্রচলিত পদ্ধতিতে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এসব তথ্য ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ হামাসকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন নেটওয়ার্ক ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ বন্ধ করা তাদের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।
মার্কিন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ বলেন, এই জব্দ কার্যক্রম হামাসের অনলাইন নিয়োগ ও অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা কমাতে সহায়তা করবে। এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লেদারম্যানও বলেন, সংগঠনটি প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিল।
মামলাটি এফবিআইয়ের আলবুকার্কি ফিল্ড অফিস তদন্ত করছে। এর সঙ্গে এফবিআইয়ের কাউন্টারটেররিজম বিভাগ, সাইবার বিভাগ এবং নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসও যুক্ত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের কপিয়াগের ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাসাউ কাউন্টির দুটি ব্যাংকে প্রায় ৬৬ হাজার ডলারের জাল চেক জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাসাউ কাউন্টি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রিচার্ড আলমন্টেকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, গত জানুয়ারিতে আলমন্টে দুটি ব্যাংকে এসব চেক জমা দেন। ৭ জানুয়ারি প্ল্যান্ডোম ম্যানরের গালস কোভ এলাকার ক্যাপিটাল ওয়ান ব্যাংকে এবং ২৯ জানুয়ারি বল্ডউইনের গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের ফোর লিফ ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নে তিনি চেকগুলো জমা দেন। এ ঘটনায় আলমন্টের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসেনির দুটি অভিযোগ, অ্যাটেম্পটেড গ্র্যান্ড লারসেনি এবং জাল দলিল ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার হেম্পস্টেডের ফার্স্ট ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে। নাসাউ কাউন্টি পুলিশ বাসিন্দাদের এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের বয়স্ক বা প্রতারণার ঝুঁকিতে থাকা সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের এ ধরনের জালিয়াতি সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
আইসিই অভিযানের পর আতঙ্কে কানেকটিকাট অভিবাসী সম্প্রদায়, আটক ৭০
মিশিগান সিনেট দৌড়ে এগিয়ে আবদুল এল-সাইয়েদ, ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনাও পারেনি থামাতে
হামাসের ক্রিপ্টোতে এফবিআইয়ের অভিযানে জব্দ ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, শনাক্ত হাজারো দাতা
টেক্সাসের আলভারাডোতে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক এক অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা। একই সময়ে ওই ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। আইসিইর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তি বার্নার্ডো মাসেও সাবন। সংস্থাটির দাবি, ১৯৮২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে টেক্সাসের বিভিন্ন এলাকায় তাকে ২৫ বার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে চুরির অভিযোগ এবং একটি বাসায় দুই দফা চুরির ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ওই মামলায় তাকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হামলা, গ্রেপ্তারে বাধা, অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ, চুরি ও বাসায় চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। আইসিই আরও জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক সাবনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে আইসিই। অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান মার্ক ভিসির কার্যালয় গত কয়েক মাসে প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছে। মার্চে ভিসি নিজেও ওই ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগস্টেও তার কার্যালয় ওই কেন্দ্রে আটক এক ইরানি ধর্মযাজকের মুক্তির দাবি জানিয়েছিল। তবে বার্নার্ডো মাসেও সাবনকে নিয়ে আইসিইর পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার আইনজীবী বা কংগ্রেসম্যান ভিসির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইসিইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ীই বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।
ট্রাফিক মামলা দিয়েও পেলেন প্রশংসা, আচরণে মুগ্ধ হয়ে পুলিশ বিভাগে চিঠি লিখে নারীর কৃতজ্ঞতা
ফের হামলা চালালে ইরানকে ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প
এক গর্ভে তিন সন্তান, কিন্তু বাবা দুইজন! দুই যমজের পিতা এক, তৃতীয় সন্তানের পিতা অন্য
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে চাকরির পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। যারা নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরিতে আগ্রহী, তারা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের সিভিল সার্ভিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করার পর লিখিত পরীক্ষার সময়সীমা ৫ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাটি হবে মাল্টিপুল চয়েস পদ্ধতিতে (চার বা তার অধিক প্রশ্ন থাকবে তার থেকে উত্তর বেছে নিতে হবে)। পরীক্ষায় পাস করতে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। আবেদন করবেন যেভাবে : পুলিশ অফিসার পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন পরীক্ষার আবেদন ব্যবস্থায় একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যাদের আগে অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের প্রথমে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একটি সচল ইমেইল দিতে হবে এবং ইমেইলে পাঠানো নির্দেশনা অনুসরণ করে অ্যাকাউন্টটি নিশ্চিত করতে হবে। এরপর পরীক্ষার তালিকা থেকে পুলিশ অফিসার পরীক্ষার আবেদন নম্বর ৭৩১৩ নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। যেহেতু এই পরীক্ষার আবেদন ফি শূন্য ডলার, তাই ফি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদন গ্রহণের একটি কনফার্মেশন ইমেইলে পাঠানো হবে। আবেদনকারীরা নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞপ্তি অংশেও আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা ও আবেদন কেন্দ্রগুলো থেকেও আবেদন করা যায়। এসব কেন্দ্রে সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকে। কারা আবেদন করতে পারবেন : পুলিশ অফিসার পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার তারিখের মধ্যে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৭ বছর হতে হবে। তবে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়স কমপক্ষে ২০ বছর ৬ মাস হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে চার বছরের উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি ২৪ সেমিস্টার কলেজ ক্রেডিটসহ কমপক্ষে ২.০ গড় নম্বর অথবা দুই বছর সম্মানজনকভাবে পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। চাকরিতে নিয়োগের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব, বৈধ নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স এবং নির্ধারিত এলাকার মধ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সক্ষমতা যাচাই, মাদক পরীক্ষা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। বয়স নিয়ে একটি বিষয় আবেদনকারীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রচারমূলক বিজ্ঞপ্তিতে ৪২ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। তবে বর্তমান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ নিয়োগের বয়সসীমা আলাদাভাবে উল্লেখ আছে এবং সামরিক চাকরির ক্ষেত্রে বয়সে ছাড়ের বিধান রয়েছে। তাই বয়সের বিষয়ে আবেদন করার আগে সরকারি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। আবেদন করার শেষ সময় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে দেরি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারি রোবট দেখে অবাক ভারতীয় দম্পতি
অ্যাপলের সিইও পদ ছাড়লেও ট্রাম্পের ‘বিশেষ দূত’ হয়ে থাকছেন টিম কুক