সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

নিজের নয় এমন গাড়ির ট্যাক্স না দেওয়ায় জরিমানা, প্রতারণার শিকার দাবি সাদিক খানের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১২:৩৫
ভেহিকল ট্যাক্স না দেওয়ার অভিযোগে জরিমানার মুখে পড়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। ছবি: সংগৃহীত
ভেহিকল ট্যাক্স না দেওয়ার অভিযোগে জরিমানার মুখে পড়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে ২৪ বছর পুরোনো একটি নিসান মাইক্রার ভেহিকল ট্যাক্স না দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে খান ও লন্ডন সিটি হলের কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িটি তার নয় এবং তার নামে ভুলভাবে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্ত করছে ব্রিটেনের ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি বা ডিভিএলএ।

 

ডিভিএলের করা মামলায় গত ১৮ আগস্ট হেরেফোর্ডশায়ার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে সিঙ্গেল জাস্টিস প্রসিডিউরের মাধ্যমে অনুপস্থিতিতে খানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে ২২০ পাউন্ড জরিমানা, ৮৫ পাউন্ড কোর্ট খরচ এবং গাড়িটির বকেয়া ৩৫.৮৪ পাউন্ড ট্যাক্স পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাকে ৩৪০.৮৪ পাউন্ড দিতে হবে।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, নীল রঙের নিসান মাইক্রাটি ২০০২ সালে প্রথম রেজিস্ট্রেশন করা হয়। গাড়িটির বার্ষিক ট্যাক্স ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যায়। এরপর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি গাড়িটি ট্যাক্সবিহীন অবস্থায় শনাক্ত হলে ডিভিএলএ নথিতে খানকে গাড়িটির কিপার হিসেবে পাওয়া যায়।

 

ডিভিএলএ জানায়, গাড়িটির মালিকানা নিশ্চিত করতে জানুয়ারিতে খানকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই চিঠির জবাব না পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

 

তবে মামলায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে চিঠি পাঠানোর ঠিকানা নিয়ে। আদালতের নথিতে দেখা যায়, খানের নামে পাঠানো ডিভিএলের চিঠি তার বা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের অফিসে না গিয়ে লন্ডনের একটি গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁয় পৌঁছায়। ফলে খান মামলাটি সম্পর্কে সময়মতো জানতে পারেননি বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 

লন্ডন সিটি হলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাড়িটি খান বা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের কোনোটিরই নয়। খানের একজন মুখপাত্র ঘটনাটিকে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এর আগেও তার নামে ভুয়া গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের ঘটনা ঘটেছে।

 

সাদিক খানের বিরুদ্ধে এমন ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের ঘটনা তার আল্ট্রা লো এমিশন জোন বা ইউলেজ সম্প্রসারণের বিরোধিতার সঙ্গেও যুক্ত বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইউলেজ পুরো লন্ডনে সম্প্রসারণের পর কিছু মোটরচালক খানের নামে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, যাতে গাড়ির দায় তার ওপর পড়ে।

 

এদিকে ডিভিএলএ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। মামলাটি পুনরায় খোলার সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিঙ্গেল জাস্টিস প্রসিডিউর নিয়ে যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এই ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম গুরুতর মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট একাই, অনেক সময় ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে, সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
মিশরের সিনাই উপদ্বীপে বাসের টায়ার বিস্ফোরণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ২২
মিশরের সিনাই উপদ্বীপে বাসের টায়ার বিস্ফোরণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ২২

মিশরের সিনাই উপদ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মিশরীয় ও জর্ডানের নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ সিনাই প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটন শহর দাহাব ও নুওয়েইবার সংযোগকারী একটি সড়কে গত বুধবার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে বলে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।   মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। উদ্ধারকর্মীরা নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতাহতদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না জানালেও জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে তাদের দেশের নাগরিকরাও রয়েছেন।   জর্ডানের রাজধানী আম্মানভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-মামলাকা জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন জর্ডানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যাত্রীবাহী বাসটি মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে আম্মানের দিকে যাচ্ছিল।   দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে মিশরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু না জানালেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলন্ত অবস্থায় বাসের একটি টায়ার ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। মিশরে পরিবহন নিরাপত্তার রেকর্ড বেশ উদ্বেগজনক এবং দেশটিতে প্রতি বছর এ ধরনের মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান।   মূলত অতিরিক্ত গতি, বেহাল রাস্তাঘাট এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বেনি সুয়েফের কাছে একাধিক গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ২১ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছিলেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:৩
হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন, পরে ৬ জন নিহত; ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

হামলার আগে চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন, পরে ৬ জন নিহত; ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

ভেহিকল ট্যাক্স না দেওয়ার অভিযোগে জরিমানার মুখে পড়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। ছবি: সংগৃহীত

নিজের নয় এমন গাড়ির ট্যাক্স না দেওয়ায় জরিমানা, প্রতারণার শিকার দাবি সাদিক খানের

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ভাঙা হচ্ছে মদিনা মসজিদের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সড়ক প্রশস্ত করার জন্য মসজিদ ভাঙল পৌরসভা, মুসলমানদের বিক্ষোভ

ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে সরাসরি হামলার হুমকি রাশিয়ার, যুক্তরাজ্যকেও সতর্ক করলেন পুতিন

ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন স্থাপনায় সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় রাশিয়া হামলা চালাতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বিষয়টি ‘সামরিক গোপনীয়তা’।   জার্মানি গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, গত মাসে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশি তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।   এর পরই মেদভেদেভ জার্মানির বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, জার্মানির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলো সরাসরি হামলার লক্ষ্য হতে পারে। বার্লিনের আরও কিছু স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   গত ৪ আগস্ট লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এলাকায় একটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাওয়া যায়। জার্মান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ইউক্রেনের একটি কার্গো বিমানের কাছে ছিল এবং এতে বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর ছিল। পরে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। জার্মান সরকার ঘটনাটিকে রাশিয়ার বৃহত্তর ‘হাইব্রিড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে দেখছে।   অভিযোগের পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জার্মানি। পাশাপাশি বন শহরে রাশিয়ার কনস্যুলেট বন্ধ এবং বার্লিনে রাশিয়ান হাউসের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রুশ নাগরিকদের প্রবেশে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।   তবে মস্কো জার্মানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, বার্লিনের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। পুতিনও জার্মানির পদক্ষেপকে গুরুতর ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   এদিকে যুক্তরাজ্যকে নিয়েও রাশিয়ার হুঁশিয়ারি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি দীর্ঘপাল্লার স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে আরও সক্ষম করে তুলতে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর মস্কো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।   কিরগিজস্তানে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, রাশিয়া ব্রিটিশ ভূখণ্ডে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা বিবেচনা করছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এটি ‘সামরিক গোপনীয়তা’। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইউক্রেনকে ব্রিটিশ অস্ত্র সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।   সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জার্মানির পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে ইউরোপে রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা জোরদারের আলোচনা চলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১১:২
যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ ও ফরেনসিক দল। ছবি: সংগৃহীত

চারজনের মিলে কন্যা নবজাতককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ৩৩ টি আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান

তামিম চৌধুরী

ক্যানসার তহবিল চুরি করে বিয়ে-হানিমুন, ব্রিটিশ বাংলাদেশির কারাদণ্ড

২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে পাতায়ায় নোঙর করছে মার্কিন রণতরী, শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান

২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে পাতায়ায় নোঙর করছে মার্কিন রণতরী, শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২০০টির বেশি সামরিক বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২০০টির বেশি সামরিক বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলা চলাকালে নিজস্ব অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে শত্রু বাহিনীর ২০০টিরও বেশি সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের ‘বিমান প্রতিরক্ষা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা এই সামরিক সাফল্যের তথ্য প্রকাশ্যে আনেন।   প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব অস্ত্রের ক্ষমতা এতটাই গোপন ও আধুনিক ছিল যে, হামলাকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী বুঝতেই পারেনি ঠিক কোথা থেকে তাদের বিমানে আঘাত হানা হচ্ছে।   দেশের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে মরুভূমি, সমুদ্র উপকূল, পাহাড়ি অঞ্চল ও দ্বীপসহ প্রায় ৩ হাজার ৮০০টির বেশি দুর্গম স্থানে ইরানের প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।   ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আকাশপথে যেকোনো শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন বা উড়োজাহাজ শনাক্ত হওয়ামাত্রই তা ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এক দৃঢ়বার্তায় জানান, মাতৃভূমি রক্ষায় প্রয়োজনে আগামী ২০ প্রজন্ম ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইরানের জনগণ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরে বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা প্রাণ হারান।   এই ঘটনার পর ইরান তীব্র প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৯:৮
তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ

তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা

মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা, নতুন আবেদনকারীদের জন্য সময় লাগতে পারে ১৭৯ বছর

0 Comments