ইতালিতে পর্যটকের হারানো ১০ হাজার ইউরো ফিরিয়ে দিয়ে সততার নজির গড়লেন বাংলাদেশি তরুণ
ইতালির কাতানিয়া শহরে উজবেকিস্তানের দুই পর্যটকের ফেলে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা) এবং পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মো. ইরান শিকদার। প্রবাসের মাটিতে তার এই মানবিকতা ও সততা বর্তমানে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে কাতানিয়া শহরের ‘লা বারকা’ নামক রেস্টুরেন্টে খেতে আসেন উজবেকিস্তানের ওই দুই পর্যটক। খাওয়া শেষে চলে যাওয়ার সময় তারা মনের ভুলে নিজেদের ব্যাগটি রেস্টুরেন্টেই ফেলে যান।
ব্যাগটিতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও পাসপোর্টের মতো জরুরি নথিপত্র ছিল। রেস্টুরেন্টে কর্মরত ওয়েটার ইরান শিকদার বিষয়টি খেয়াল করে ব্যাগটি নিরাপদে নিজের কাছে রেখে দেন এবং প্রকৃত মালিকের সন্ধানে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন।
প্রায় এক ঘণ্টা পর চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা নিয়ে ওই দুই পর্যটক ব্যাগের খোঁজে রেস্টুরেন্টে ফিরে আসেন। তখন ইরান শিকদার তাদের হাতে অক্ষত অবস্থায় ব্যাগটি তুলে দেন। হারানো অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তারা এবং এই বাংলাদেশির সততায় মুগ্ধ হয়ে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
মাদারীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওমর আলী শিকদারের ছেলে ইরান শিকদার ইতালির সিসিলি প্রদেশে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তার এই মহৎ কাজ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগত ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ বিনোদ। রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। ছেলের সন্ধানে চোখেমুখে ক্লান্তি ও বিষাদ নিয়ে মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ হেঁটে চলেছেন প্রায় ৫০ বছর বয়সী টালকা সদা। সমতলভূমির জেলা সপ্তরীর বাসিন্দা সদার একমাত্র ছেলে বিনোদের সঙ্গে ওই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা ১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী আরও চার তরুণের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িতে শোকাহত স্ত্রীর কান্না ও নিজের বুক ফাটা হাহাকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন এই বাবা। ছেলের খোঁজে বের হওয়ার জন্য চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে সদাকে। প্রতি ১০০ রুপিতে ২০ রুপি সুদের শর্তে মাত্র ২ হাজার নেপালি রুপি ধার করে ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তিনি। প্রথমে বাসে করে ৯ ঘণ্টার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছান রাজধানী কাঠমান্ডুতে। বন্যার পর অনেককে সেখানে বিমানে করে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রথমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং লাশের তালিকায় ছেলেকে খুঁজেছেন সদা। মর্গের বাইরে রাখা বিকৃত ও শনাক্তকরণের অনুপযোগী লাশের ছবিগুলোর ভিড়েও তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন সন্তানকে, তবে কোনো খোঁজ মেলেনি। কাঠমান্ডুতে সন্ধান না পেয়ে বিনোদের কর্মস্থলের নিকটবর্তী জেলা নুয়াকোটের দিকে হেঁটে রওনা দেন দুই ভাই। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে টানা কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর ত্রিশূলী শহরে পৌঁছান তারা। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একটি কমলা রঙের পলিথিনকে রেইনকোট হিসেবে ব্যবহার করছেন সদা। ত্রিশূলীতে একটি লজে থাকতে গিয়ে ধার করা টাকার ১ হাজার ৫০০ রুপিই খরচ হয়ে যায়, বিনিময়ে জোটে কেবল এক বাটি ভাত। ক্ষুধা ও ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক, যা তাদের বাড়ি ফেরা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অসংখ্যবার ছেলের মুঠোফোনে কল করেও কোনো সাড়া পাননি সদা। চরম অসহায়ত্বের মাঝেও তিনি অলৌকিক কিছুর আশায় বুক বাঁধছেন, হয়তো ছেলে দৌড়ে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবতার কঠিন ধাক্কায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। অন্তত ছেলের কর্মস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়তে রাজি নন এই বাবা। তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে পুনরায় রওনা দেওয়ার সময় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় তিনি চিৎকার করে জানান, কেউ সাহায্য না করলে বা জবাব না দিলে তিনি থানায় আগুন ধরিয়ে দেবেন। এক অসহায় বাবার এই হুঁশিয়ারি মূলত সন্তান হারানোর তীব্র যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ।
ছবি থেকে মোদিকে বাদ দিয়ে শাহবাজ শরিফকে ‘কেন্দ্রে’ বসাল পাকিস্তান, সম্পাদনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক
ইতালিতে পর্যটকের হারানো ১০ হাজার ইউরো ফিরিয়ে দিয়ে সততার নজির গড়লেন বাংলাদেশি তরুণ
মিশরের সিনাই উপদ্বীপে বাসের টায়ার বিস্ফোরণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ২২
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ শহরে গত ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ স্কুল হামলার ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে হামলায় বেঁচে ফেরা শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা এই মামলাটি করেন। তাদের অভিযোগ, হামলাকারী তরুণের চ্যাটজিপিটিতে করা বিপজ্জনক কথোপকথনের তথ্য পুলিশের কাছে গোপন করে ওপেনএআই পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে। এর আগে গত এপ্রিলে নিহতদের পরিবারও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মুনাফাকে নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছিল। ১৮ বছর বয়সী হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার একজন ট্রান্সজেন্ডার তরুণ ছিল, যে স্কুলে হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ককে হত্যা করে। এই ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুসহ আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। স্কুলে তাণ্ডব চালানোর আগে সে নিজের বাড়িতে মা ও ১১ বছর বয়সী সৎ ভাইকেও হত্যা করেছিল। হামলার পর ঘটনাস্থলেই সে নিজের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করে। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে সপ্তম গ্রেডের শিক্ষিকা ডিয়ারড্রে রাস্লো এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, চোখের সামনে সহপাঠীদের মৃত্যু দেখার যে ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা তাদের আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। মামলার পক্ষের আইনজীবী জে এডেলসন এক বিবৃতিতে জানান, ওপেনএআই এমন একটি বিপজ্জনক পণ্য তৈরি করেছে যা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরকে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে প্ররোচিত করেছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হামলার সাত মাস আগে গত জুনেই হামলাকারীর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি অস্বাভাবিক ও হিংসাত্মক বার্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তা দলের ১২ জন কর্মী কানাডিয়ান পুলিশকে বিষয়টি জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে দু'বার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার ‘দৃষ্টান্ত’ তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ওপেনএআইয়ের জনসংযোগ ও রাজনৈতিক দল সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়। তবে ওপেনএআই-এর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জেসন কোয়ান পিআর টিমের হস্তক্ষেপের দাবিটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের দল সবসময় মানুষের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্যাম অল্টম্যান পুলিশকে তথ্য না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে তাদের নিরাপত্তা নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে এবং বর্তমান নিয়মে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
নিজের নয় এমন গাড়ির ট্যাক্স না দেওয়ায় জরিমানা, প্রতারণার শিকার দাবি সাদিক খানের
ভারতে সড়ক প্রশস্ত করার জন্য মসজিদ ভাঙল পৌরসভা, মুসলমানদের বিক্ষোভ
জার্মানিতে সরাসরি হামলার হুমকি রাশিয়ার, যুক্তরাজ্যকেও সতর্ক করলেন পুতিন
যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা, শিশুর মৃত্যু ঘটানো বা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া এবং ঘটনার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধেও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে হাজির করা হয়। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের উইনকোব্যাংক এলাকার হলিওয়েল হাইটসের একটি বাড়িতে রোববার সকালে শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে ফরেনসিক ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয়, ছুরিকাঘাতের আঘাতেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। আদালতে শিশুটিকে শুধু ‘বেবি এস’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। শুনানিতে বলা হয়, তার শরীরে মোট ৩৩টি আঘাতের চিহ্ন ছিল, যার মধ্যে ১৫টি ছিল ছুরিকাঘাতের ক্ষত। পুলিশের অভিযোগ, শিশুটিকে একটি বাইরের ঘরে লুকিয়ে রাখার পর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তদন্তের এই অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত চারজন হলেন ২০ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া স্কোপোভা, ১৯ বছর বয়সী পিটার হরভাথ, ৩৮ বছর বয়সী পিটার হরভাথ এবং ৩৭ বছর বয়সী নিনা হরভাথোভা। তাদের বিরুদ্ধে শিশুর মৃত্যু ঘটানো বা তা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর নাম আইনগত কারণে প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়সের কারণে তার পরিচয় প্রকাশে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও দুই নারী, যাদের বয়স ২৬ ও ৩৭ বছর, হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার হলেও তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। চার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের মামলাটি শেফিল্ড ক্রাউন কোর্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। কিশোরীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের ডেপুটি চিফ প্রসিকিউটর লরেন কস্টেলো জানিয়েছেন, তদন্তের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আদালতে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মামলার কার্যক্রম চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট সবার ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলাটি নিয়ে অনুমানভিত্তিক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি ও প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
ক্যানসার তহবিল চুরি করে বিয়ে-হানিমুন, ব্রিটিশ বাংলাদেশির কারাদণ্ড
২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে পাতায়ায় নোঙর করছে মার্কিন রণতরী, শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান