- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর শেরিডান শহরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে এক নারীকে টিকিট দিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান রামিরেজ। কিন্তু টিকিট পাওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে বরং ওই কর্মকর্তার প্রশংসা করে পুলিশ বিভাগে চিঠি পাঠান তিনি। রামিরেজের আচরণ, ভদ্রতা ও পেশাদারিত্বে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন ওই নারী যে, তাঁকে ধন্যবাদ না জানিয়ে থাকতে পারেননি। ২৯ বছর বয়সী ব্রায়ান রামিরেজ শেরিডান পুলিশ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। পুয়ের্তো রিকোতে জন্ম নেওয়া রামিরেজের মা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল। মায়ের চাকরির কারণে তিনি কলোরাডোর ফোর্ট কারসনে বেড়ে ওঠেন। মায়ের সামরিক জীবন ও মানুষের সেবার প্রতি তাঁর নিষ্ঠাই রামিরেজকে পরবর্তী সময়ে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে রামিরেজ ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস, ডেনভার শেরিফস ডিপার্টমেন্ট এবং অ্যারাপাহো কাউন্টি শেরিফস অফিসে কাজ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি যোগ দেন শেরিডান পুলিশ বিভাগে। সেখানে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক ও পেশাদার আচরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। রামিরেজের বিশ্বাস, একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করাও তার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, ‘আপনি কাউকে সম্মান দিলে, তারাও আপনাকে সম্মান ফিরিয়ে দেবে।’ সম্প্রতি এক নারীকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে টিকিট দেওয়ার পর তাঁর এই বিশ্বাসেরই যেন বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়। ট্রাফিক টিকিট পাওয়ার পর ওই নারী সাধারণত যা হওয়ার কথা, অর্থাৎ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ বা অভিযোগ প্রকাশ করেননি। বরং টিকিট দেওয়ার সময় রামিরেজ যেভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন, তাতে মুগ্ধ হন তিনি। পরে শেরিডান পুলিশ বিভাগে একটি চিঠি পাঠিয়ে ওই কর্মকর্তার প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার কথা জানান। চিঠিতে ওই নারী লেখেন, ট্রাফিক টিকিট পাওয়া কারও কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভবত বিরল। কিন্তু অফিসার রামিরেজ ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল, ভদ্র ও পেশাদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যের কাছ থেকে এমন দায়িত্বশীল আচরণ দেখা তাঁর কাছে সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল বলে জানান তিনি। ওই নারী আরও উল্লেখ করেন, রামিরেজের আচরণ শুধু তাঁকেই মুগ্ধ করেনি, বরং এটি শেরিডান পুলিশ বিভাগের নাগরিকসেবার মান ও পেশাদারিত্বেরও উদাহরণ। একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ দেখা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, রামিরেজ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মচারী হিসেবে অসাধারণ উদাহরণ তৈরি করেছেন। ট্রাফিক টিকিট দেওয়ার মতো একটি সাধারণ দায়িত্ব পালনের ঘটনাই শেষ পর্যন্ত রামিরেজের জন্য বড় স্বীকৃতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নাগরিকের কাছ থেকে পাওয়া সেই প্রশংসাপত্রের পর তাঁকে আগস্ট মাসের ‘সাপোর্ট দ্য শিল্ড অফিসার অব দ্য মান্থ’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ সম্মাননার মাধ্যমে তাঁর পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল। সাধারণত ট্রাফিক টিকিট পেলে পুলিশের প্রতি মানুষের বিরক্তি বা ক্ষোভ তৈরি হয়। কিন্তু ব্রায়ান রামিরেজের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক তার উল্টোটা টিকিট পাওয়া ব্যক্তির কাছ থেকেই এসেছে প্রশংসা ও ধন্যবাদ। আর সেই ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্যই আগস্টের ‘সাপোর্ট দ্য শিল্ড অফিসার অব দ্য মান্থ’ হিসেবে অভিনন্দন পেয়েছেন শেরিডান পুলিশ বিভাগের এই তরুণ কর্মকর্তা।
যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা, শিশুর মৃত্যু ঘটানো বা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া এবং ঘটনার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধেও বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে হাজির করা হয়। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের উইনকোব্যাংক এলাকার হলিওয়েল হাইটসের একটি বাড়িতে রোববার সকালে শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে ফরেনসিক ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হয়, ছুরিকাঘাতের আঘাতেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। আদালতে শিশুটিকে শুধু ‘বেবি এস’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। শুনানিতে বলা হয়, তার শরীরে মোট ৩৩টি আঘাতের চিহ্ন ছিল, যার মধ্যে ১৫টি ছিল ছুরিকাঘাতের ক্ষত। পুলিশের অভিযোগ, শিশুটিকে একটি বাইরের ঘরে লুকিয়ে রাখার পর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তদন্তের এই অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত চারজন হলেন ২০ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া স্কোপোভা, ১৯ বছর বয়সী পিটার হরভাথ, ৩৮ বছর বয়সী পিটার হরভাথ এবং ৩৭ বছর বয়সী নিনা হরভাথোভা। তাদের বিরুদ্ধে শিশুর মৃত্যু ঘটানো বা তা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর নাম আইনগত কারণে প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বয়সের কারণে তার পরিচয় প্রকাশে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও দুই নারী, যাদের বয়স ২৬ ও ৩৭ বছর, হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার হলেও তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। চার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের মামলাটি শেফিল্ড ক্রাউন কোর্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। কিশোরীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের ডেপুটি চিফ প্রসিকিউটর লরেন কস্টেলো জানিয়েছেন, তদন্তের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আদালতে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মামলার কার্যক্রম চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট সবার ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলাটি নিয়ে অনুমানভিত্তিক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে এবং ঘটনার পুরো পরিস্থিতি ও প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান আবার হামলা চালালে দেশটিকে আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। এমনকি তৃতীয় দফায় সংঘাত হলে ইরান ‘দেশ হিসেবে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তৃতীয়বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ করছেন না। ইরান কোনো চুক্তিতে সই করল কি না, সেটি নিয়েও তিনি খুব বেশি চিন্তিত নন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই সর্বশেষ মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এমন একটি বাড়িতে হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর বুধবার বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত ইরানের হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ৯৫ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটির নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতিদিনই গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে ছিল। বুধবার জাতীয় গড় দাম দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৪.১২ ডলার। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। এর মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের খবর এসেছে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছে, তাঁর সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে তাঁর পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ড্রিসকল ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধের কথা উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ এবং ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে সরানো নিয়েও মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ড্রোন আধুনিকায়নের একটি কর্মসূচি, যেটির পক্ষে ড্রিসকল ছিলেন, সেটিও পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ড্রিসকলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেনি হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন নাইলা ক্রাফট। বিরল এই ট্রিপলেটের মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ এবং অন্যজন আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া ভাই। চিকিৎসকদের মতে, কোনো প্রজনন চিকিৎসা ছাড়াই এমন গর্ভধারণ এবং তিন শিশুর একই লিঙ্গের হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। চলতি বছরের শুরুতে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নিজের গর্ভাবস্থার খবর জানতে পারেন নাইলা। আল্ট্রাসাউন্ডে প্রথমে দুটি শিশুকে দেখে তিনি ভেবেছিলেন, যমজ সন্তান আসছে। কিন্তু চিকিৎসক জানান, গর্ভে রয়েছে তিনটি শিশু। এমন খবর শুনে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হয়ে পড়েন তিনি। নাইলা বলেন, প্রথমে দুটি শিশুকে দেখে তার মনে হয়েছিল যমজ সন্তান হবে। পরে চিকিৎসক যখন জানান, সেখানে তৃতীয় শিশুটিও রয়েছে, তখন তিনি অবাক হয়ে যান। মুহূর্তেই সাধারণ একটি গর্ভাবস্থার খবর বদলে যায় তিন সন্তানের অপেক্ষায়। নাইলার পরিবারে অবশ্য একসঙ্গে একাধিক সন্তান জন্মের ইতিহাস রয়েছে। তার মা যমজ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ট্রিপলেট রয়েছে। কয়েক প্রজন্ম পর এবার সেই ইতিহাস যেন ফিরে এল নাইলার নিজের পরিবারে। তবে পরিবারের এমন ইতিহাস থাকলেও নিজের গর্ভে তিন সন্তান বেড়ে উঠছে এই খবর তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। তিন সন্তানের খবর শুনে নাইলার স্বামী মার্কো বার্নালও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। কারণ তখন তাদের পরিবারে ছিল দুই সন্তান নায়া ও ম্যাসিও। একসঙ্গে আরও তিন সন্তান আসার অর্থ হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পরিবার দুই সন্তান থেকে পাঁচ সন্তানের হয়ে যাবে। মার্কোর কাছে বিষয়টি ছিল আনন্দের পাশাপাশি বড় ধরনের এক পরিবর্তনের খবর। নতুন তিন ভাইকে ঘিরে বড় বোন নায়ার উৎসাহের কমতি নেই। সে মায়ের সঙ্গে শিশুদের যত্ন নিতে চায় এবং নতুন ভাইদের নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তবে বড় ভাই ম্যাসিওর প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ভাইদের ব্যাপারে সে এখনো তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। চিকিৎসক কুইন ভো-হ্যানসার জানান, নাইলার গর্ভধারণের অন্যতম বিশেষ দিক হলো এটি কোনো প্রজনন চিকিৎসা বা সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই গর্ভধারণের পর তিন শিশুর জন্ম হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন স্বাভাবিক ট্রিপলেট গর্ভধারণ নিজেই তুলনামূলকভাবে বিরল। তার ওপর এই তিন শিশুর ক্ষেত্রে আরও কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তিনি জানান, তিন শিশুর মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ। অর্থাৎ তারা একই নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে তৈরি হয়েছে। অন্য শিশুটি আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া তাদের ভাই। একই গর্ভে অভিন্ন যমজের পাশাপাশি আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক শিশুর এমন সমন্বয়কে চিকিৎসকেরা বিশেষভাবে বিরল বলে মনে করছেন। তিন শিশুই ছেলে হওয়ায় ঘটনাটি আরও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে। ভো-হ্যানসার বলেন, তার তিন দশকের চিকিৎসা জীবনে এমন সব বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে থাকা ট্রিপলেট তিনি আগে দেখেননি। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ, অভিন্ন যমজের উপস্থিতি এবং তিন শিশুর একই লিঙ্গ সব মিলিয়ে এই জন্ম চিকিৎসকদের কাছেও বিশেষ একটি ঘটনা। চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ প্রসবের মধ্যে আনুমানিক ২ হাজার ৪০০টি ট্রিপলেট জন্ম নেয়। তবে নাইলার মতো বিশেষ ধরনের ট্রিপলেটের ঘটনা আরও বিরল। একই গর্ভে অভিন্ন যমজ ও আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক শিশুর এমন সমন্বয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে খুব কমই দেখা যায়। তিন শিশুর জন্মের সময় হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল বিশেষ প্রস্তুতি। সাধারণত একটি প্রসবের সময় যেখানে প্রায় পাঁচজন চিকিৎসাকর্মী থাকেন, সেখানে নাইলার প্রসবের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৫ জন। তিন শিশুর জন্য ছিলেন তিনজন এনআইসিইউ নার্স প্রতিটি শিশুর জন্য একজন করে। শিশুদের জন্য ছিলেন দুইজন চিকিৎসক, পাশাপাশি মায়ের জন্যও ছিলেন আলাদা চিকিৎসক ও অতিরিক্ত নার্স। নাইলা জানান, পুরো গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে তিনি অসাধারণ যত্ন পেয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এমন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় নজরদারি তাকে মানসিকভাবেও ভরসা দিয়েছে। সন্তানদের নিরাপদে পৃথিবীতে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. রোহিত পাসি বলেন, গর্ভাবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গ মায়েদের বিভিন্ন জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নাইলার চিকিৎসায়ও তার শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সামগ্রিকভাবে যত্ন নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ডা. পাসি জানান, নাইলা জীবনের শুরুর দিকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। একসময় তিনি আদৌ মা হতে পারবেন কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত ছিলেন না। সেই অনিশ্চয়তা পেরিয়ে একসঙ্গে তিন সন্তানের মা হওয়া তার জন্য তাই বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। চিকিৎসকদের কাছে তার গল্প শুধু একটি বিরল গর্ভধারণের ঘটনা নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পও। তিন নবজাতকের জন্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি মজার কাকতালীয় ঘটনা। তিন শিশুর জন্মদিন তাদের বাবা মার্কো বার্নালের জন্মদিনেই। ফলে বাবার নিজের জন্মদিন এখন থেকে একই দিনে আরও তিনটি জন্মদিন উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি করেছে। পরিবারের জন্য এই কাকতালীয় ঘটনাটি বিরল জন্মের গল্পে যোগ করেছে আরও একটি আনন্দের মাত্রা। মার্কো বলেন, সন্তানদের জন্মদিন কীভাবে ভুলে যাবেন, যখন তিন সন্তানের জন্মদিনই তার নিজের জন্মদিন। দুই সন্তান থেকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের বাবা হওয়া যেমন বড় পরিবর্তন, তেমনি নিজের জন্মদিন তিন সন্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও তার জন্য বিশেষ অনুভূতি। নতুন এই বাস্তবতায় পরিবারে ব্যস্ততা বাড়লেও তিন নবজাতকের আগমনে আনন্দই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। দুই সন্তান থেকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের পরিবার নাইলা ও মার্কোর জীবনে এখন নিঃসন্দেহে ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সেই ব্যস্ততার মাঝেও তিন নবজাতককে ঘিরে পরিবারজুড়ে চলছে আনন্দ। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর এমন বিরল ট্রিপলেটের জন্ম চিকিৎসকদেরও অবাক করেছে। আর পরিবারের কাছে এই তিন শিশুর আগমন হয়ে থাকল জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে চাকরির পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। যারা নিউইয়র্ক পুলিশের চাকরিতে আগ্রহী, তারা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের সিভিল সার্ভিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করার পর লিখিত পরীক্ষার সময়সীমা ৫ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাটি হবে মাল্টিপুল চয়েস পদ্ধতিতে (চার বা তার অধিক প্রশ্ন থাকবে তার থেকে উত্তর বেছে নিতে হবে)। পরীক্ষায় পাস করতে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। আবেদন করবেন যেভাবে : পুলিশ অফিসার পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন পরীক্ষার আবেদন ব্যবস্থায় একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যাদের আগে অ্যাকাউন্ট নেই, তাদের প্রথমে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একটি সচল ইমেইল দিতে হবে এবং ইমেইলে পাঠানো নির্দেশনা অনুসরণ করে অ্যাকাউন্টটি নিশ্চিত করতে হবে। এরপর পরীক্ষার তালিকা থেকে পুলিশ অফিসার পরীক্ষার আবেদন নম্বর ৭৩১৩ নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। যেহেতু এই পরীক্ষার আবেদন ফি শূন্য ডলার, তাই ফি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদন গ্রহণের একটি কনফার্মেশন ইমেইলে পাঠানো হবে। আবেদনকারীরা নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞপ্তি অংশেও আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা ও আবেদন কেন্দ্রগুলো থেকেও আবেদন করা যায়। এসব কেন্দ্রে সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ থাকে। কারা আবেদন করতে পারবেন : পুলিশ অফিসার পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষার তারিখের মধ্যে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৭ বছর হতে হবে। তবে চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়স কমপক্ষে ২০ বছর ৬ মাস হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে চার বছরের উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি ২৪ সেমিস্টার কলেজ ক্রেডিটসহ কমপক্ষে ২.০ গড় নম্বর অথবা দুই বছর সম্মানজনকভাবে পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। চাকরিতে নিয়োগের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব, বৈধ নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স এবং নির্ধারিত এলাকার মধ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সক্ষমতা যাচাই, মাদক পরীক্ষা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। বয়স নিয়ে একটি বিষয় আবেদনকারীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের প্রচারমূলক বিজ্ঞপ্তিতে ৪২ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। তবে বর্তমান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ নিয়োগের বয়সসীমা আলাদাভাবে উল্লেখ আছে এবং সামরিক চাকরির ক্ষেত্রে বয়সে ছাড়ের বিধান রয়েছে। তাই বয়সের বিষয়ে আবেদন করার আগে সরকারি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। আবেদন করার শেষ সময় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে দেরি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে স্তন ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের দায়ে ২৯ বছর বয়সী তামিম চৌধুরীকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের আদালত। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, বিলাসবহুল কেনাকাটা, বিয়ে ও হানিমুনের খরচে ব্যয় করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর তামিমকে এই সাজা দেওয়া হয়। সিটি অব লন্ডন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে বসবাস করতেন এবং ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অর্থ বিভাগে কাজ করতেন। আদালতে বলা হয়, ২০২৩ সালে রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কাছ থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। ওই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তামিম ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে রয়্যাল মার্সডেনকে পরিবর্তিত ব্যাংক তথ্য পাঠান। ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অফিসিয়াল প্যাডে দেওয়া ওই ব্যাংক হিসাবটি ছিল তার নিজের। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর দ্রুত ওই অর্থ খরচ করতে শুরু করেন তিনি। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তামিম প্রায় ৪৯ হাজার পাউন্ড খরচ করেন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, কাতারের বিমানের টিকিট, বিলাসবহুল কেনাকাটা, স্বজনদের অর্থ পাঠানো এবং বিয়ে ও হানিমুনের খরচ ছিল। একটি বিলাসবহুল আংটির পেছনেও প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড খরচ করেন তিনি। পুলিশের তদন্তে তার মোবাইল ফোনের বার্তাতেও আর্থিক সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। চুরির আগে তিনি নিজেকে চরম আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানায় পুলিশ। অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর স্যানটান্ডার তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। ওই সময় অ্যাকাউন্টে থাকা ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করা হয়। ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের প্রতারণা তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করে। পরে ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিটি অব লন্ডন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগকে তামিম ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহার করেছেন। দাতাদের অর্থের ওপর মানুষের আস্থার সঙ্গে তার এই কর্মকাণ্ড বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ব্রেস্ট ক্যানসার নাও জানিয়েছে, পুলিশ তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের পুরোটা উদ্ধার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েনি। ব্রেস্ট ক্যানসার নাও স্তন ক্যানসার গবেষণা, আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা এবং এ রোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থের একটি অংশ রয়্যাল মার্সডেনের মতো গবেষণা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়।
বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের সন্তান জন্মের পর বদলে যাওয়া শারীরিক গড়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের ঘটনায় তার পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী শিবালিকা ওবেরয়। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে ক্যাটরিনার প্রকাশ্যে আসার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তার চেহারা ও ওজন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করেন কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। গত ২৬ আগস্ট স্বামী ভিকি কৌশলের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা কুকু কোহলির শেষকৃত্যে অংশ নেন ক্যাটরিনা। সন্তান জন্মের পর এটি ছিল তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকাশ্য উপস্থিতির একটি। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই তার শরীর নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। কিছু ব্যবহারকারী ক্যাটরিনার আগের চেহারার সঙ্গে বর্তমান চেহারার তুলনা করে কটাক্ষ করেন। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর তার ওজন ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে করা এসব মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ক্যাটরিনার সমর্থনে কথা বলেন শিবালিকা ওবেরয়। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ক্যাটরিনার একটি ছবি শেয়ার করে শিবালিকা লেখেন, “এটা মাতৃত্ব। এটাই স্বাভাবিক প্রসব-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের চিত্র।” তিনি প্রসবের পর শরীরে ফোলাভাব, ক্লান্তি এবং নানা ধরনের শারীরিক পরিবর্তনকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। শিবালিকা আরও বলেন, মাতৃত্বের এমন একটি অবাস্তব চেহারাকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরা বন্ধ করা উচিত, যেখানে সন্তান জন্মের পর নারীদের দ্রুত আগের শারীরিক গঠনে ফিরে যাওয়ার চাপ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের একাধিক পোস্ট দেখে মানুষের এই মানসিকতাকে তিনি অত্যন্ত অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন। ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাদের প্রথম সন্তান, ছেলে ভিহানকে স্বাগত জানান। এরপর বেশ কিছুদিন জনসমক্ষে কমই দেখা গেছে ক্যাটরিনাকে। ক্যাটরিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও সন্তান জন্মের পর নারীদের শরীর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া অবাস্তব প্রত্যাশা ও বডি শেমিংয়ের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে তারকাদের ক্ষেত্রে দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে আসার যে চাপ তৈরি হয়, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একই ধরনের অটিজম-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য থাকা মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব তুলনামূলক বেশি ঘনিষ্ঠ ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, একইভাবে পৃথিবীকে উপলব্ধি ও সামাজিক পরিস্থিতি সামলানোর মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হতে পারে। ২০২১ সালে Social Cognitive and Affective Neuroscience জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ১৪৪ জন নিউরোটাইপিক্যাল প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে ৭২টি বন্ধুত্বের জুটি বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকরা দেখতে পান, দুই বন্ধুর অটিজম-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য যত বেশি কাছাকাছি, তাদের বন্ধুত্বের মানও তত বেশি হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের জুটিগুলোতে ঘনিষ্ঠতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাত্রাও বেশি ছিল। এখানে অটিজম বৈশিষ্ট্য বলতে শুধু সামাজিক যোগাযোগের বিষয় নয়; বিভিন্ন ব্যক্তির মনোযোগের ধরন, আগ্রহ, যোগাযোগের পদ্ধতি এবং অন্যদের সঙ্গে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ধরনও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আরও সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ৫৯২ জন কলেজ শিক্ষার্থীর সামাজিক নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের বন্ধুদের মধ্যে অটিস্টিক বা নিউরোডাইভার্জেন্ট মানুষের অনুপাত তুলনামূলক বেশি। গবেষকরা এটিকে ‘অটিস্টিক হোমোফিলি’ - অর্থাৎ একই ধরনের নিউরোটাইপের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা - হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে গবেষণাটি একই সঙ্গে দেখেছে, অটিস্টিক ও নন-অটিস্টিক মানুষের মধ্যেও ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব তৈরি হয়। ২০২৬ সালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় ১ হাজারের বেশি চীনা প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ‘অ্যাটেনশন টু ডিটেইল’ বা খুঁটিনাটির প্রতি বেশি মনোযোগের মতো কিছু অটিজম-সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য একই ধরনের আগ্রহের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই ধরনের আগ্রহের বন্ধুত্ব একাকিত্ব কমানোর সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল। এদিকে ২০২৬ সালের আরেক গুণগত গবেষণায় অটিস্টিক তরুণদের বন্ধুত্বের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বন্ধুত্বে গ্রহণযোগ্যতা, স্বতঃস্ফূর্ততা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নিজের মতো থাকতে পারাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন। গবেষণাটি প্রচলিত সেই ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করে যে অটিস্টিক মানুষ গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী নন। তবে গবেষণাগুলো থেকে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে অটিস্টিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষ শুধু নিজেদের মধ্যেই বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন, কিংবা এসব সম্পর্ক ঠিক তিন গুণ বেশি হয়। বরং প্রমাণগুলো ইঙ্গিত করে, একই ধরনের অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগের ধরন থাকা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং স্বস্তি অনেক ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে। সূত্র: অক্সফোর্ড একাডেমিক
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত আরও সহজ করতে ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার সকালে বঙ্গভবনে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি এসব বিষয়ে কথা বলেন। বৈঠকের তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির মতে, চুক্তিটি বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এটিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরে কৃষি, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে কৃষিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন তিনি। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন। দেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতে আরও মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য খাতেও শুধু বিনিয়োগ নয়, প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন রাষ্ট্রপতি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আসিয়ান দেশগুলোর সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। পরে রাষ্ট্রপতি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থকে ভিত্তি করে আগামী দিনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার আগ্রহের কথা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে প্রথমবার খাবার সরবরাহকারী রোবট দেখে বিস্মিত ভারতীয় এক দম্পতির প্রতিক্রিয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইন্ডিয়া স্কয়ার এলাকায় মেয়ের সঙ্গে হাঁটার সময় চালকবিহীন ছোট্ট রোবটটি দেখতে পান তারা। ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাথ দিয়ে ছোট রোবটটি এগিয়ে যাওয়ার সময় দম্পতি প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হন। এরপর রোবটটির দিকে ফিরে তাকান তারা। প্রযুক্তিটি কীভাবে কাজ করছে, তা দেখে তাদের মুখে বিস্ময় ও কৌতূহল ফুটে ওঠে। ভিডিওটি প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রিয়াঙ্কা। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি জানান, তার বাবা-মা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে ‘চাকার ওপর ছোট্ট একটি বাক্স’ নিজে নিজেই খাবার পৌঁছে দিতে পারে। তাদের বিস্ময়, বিভ্রান্তি ও আনন্দের মুহূর্তটিকে তিনি পরিবারের জন্য ‘অ্যাবসলিউট কোর মেমোরি’ বা চিরস্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও দম্পতির প্রতিক্রিয়াকে বেশ মজার ও হৃদয়ছোঁয়া হিসেবে দেখেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, নতুন প্রযুক্তি প্রথমবার দেখার এমন সরল প্রতিক্রিয়া সত্যিই আনন্দদায়ক। জার্সি সিটিতে রোবট ডেলিভারি নতুন নয় তবে জার্সি সিটির বাসিন্দাদের জন্য এমন রোবট এখন আর একেবারে নতুন দৃশ্য নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাভরাইড তাদের চালকবিহীন ডেলিভারি রোবট নিয়ে জার্সি সিটিতে কার্যক্রম শুরু করে। শুরুতে ডাউনটাউন এলাকার হ্যামিল্টন পার্ক, হিস্টোরিক ডাউনটাউন ও ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় এসব রোবট খাবার পৌঁছে দিত। গ্রাহকরা উবার ইটস অ্যাপের মাধ্যমে রোবট ডেলিভারি বেছে নিতে পারতেন। রোবটটি সাধারণত ফুটপাথ ও নির্দিষ্ট ক্রসওয়াক ব্যবহার করে চলাচল করে। এর গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫ মাইল পর্যন্ত হতে পারে এবং সেন্সরের মাধ্যমে পথচারী ও আশপাশের বাধা শনাক্ত করে চলতে পারে। খাবার পৌঁছালে গ্রাহক অ্যাপের মাধ্যমে রোবটের লক খোলেন এবং নির্দিষ্ট compartment থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। ২০২৬ সালেও জার্সি সিটিতে এ ধরনের প্রযুক্তির বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারিতে কোকো রোবোটিকস শহরের দ্য হাইটস এলাকায় ২০টি এআই-চালিত ডেলিভারি রোবট নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করে। ফলে প্রিয়াঙ্কার বাবা-মায়ের কাছে ঘটনাটি ছিল একেবারে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের মুহূর্ত হলেও, জার্সি সিটির রাস্তায় এমন চালকবিহীন খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দৈনন্দিন নগরজীবনের অংশ হয়ে উঠছে।
ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে তখন ভয়াবহ আগুন। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা। সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবেই আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়লেন নার্স রাজিয়া নূরিন। মাত্র আট সেকেন্ড পর একটি নবজাতককে বুকে জড়িয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। শিশুটি বেঁচে গেল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি বাকি ১৪ নবজাতককে। গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) নার্সারিতে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। এরপর থেকেই রাজিয়া নূরিনকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন পাকিস্তানের মানুষ। আগুন লাগার সময় নূরিন ও তাঁর সহকর্মীরা ১৫ নবজাতকের দেখাশোনা করছিলেন। পরে পাশের একটি কক্ষে কয়েকজন শিশুর জন্য ইনজেকশন প্রস্তুত করছিলেন তাঁরা। হঠাৎ নূরিন আগুনের শিখা দেখতে পান। হাতে থাকা সিরিঞ্জ ফেলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান নার্সারির দিকে। নার্সারিতে ঢুকেই একটি শিশুকে কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটিকে নিজের বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে আগুন ও ধোঁয়া থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এরপর দ্রুত বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্তের দৃশ্য। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে আসেন নূরিন। বাইরে এসে শিশুটিকে এক চিকিৎসকের হাতে তুলে দেন। এরপর আবারও আগুনের দিকে ফিরে যেতে চান তিনি। তাঁর আশা ছিল, ভেতরে থাকা অন্য শিশুদেরও হয়তো বাঁচানো যাবে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়া এতটাই বেড়ে গেছে যে আর ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি। “আমি অন্যদেরও বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমি আশা হারাইনি,” অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন নূরিন। তারপরও চেষ্টা থামাননি তিনি। আরেক নার্সকে সঙ্গে নিয়ে মাটিতে নেমে ধোঁয়ার নিচ দিয়ে নার্সারিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ায় সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। দম বন্ধ হয়ে আসছিল, প্রচণ্ড কাশি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আগুনের তীব্রতার কাছে তাঁকে ফিরে আসতে হয়। এর কিছুক্ষণ পর নূরিন জানতে পারেন, ভেতরে থাকা বাকি ১৪ নবজাতক মারা গেছে। খবরটি শুনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যে শিশুটিকে তিনি আগুন থেকে বের করে এনেছিলেন, সে-ই ছিল ওই নার্সারির একমাত্র জীবিত শিশু। সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই নার্সারির পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই সময়ের মধ্যেই নূরিন মাত্র আট সেকেন্ডের জন্য আগুনের মধ্যে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তাঁর এই সাহসিকতার জন্য পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসা শুরু হয়। সরকার তাঁকে দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা ‘সিতারা-ই-খিদমত’ বা ‘স্টার অব সার্ভিস’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁকে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হবে। কিন্তু নূরিন নিজেকে কোনো বীর মনে করেন না। তাঁর কাছে তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। “কোনো মা কি তার সন্তানকে আগুনে পুড়তে দেখতে পারে?” বলেন নূরিন। এরপর নিজেই উত্তর দেন, “না। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জন্য কোনো উপকার করেন না। এটা তাঁদের দায়িত্ব।” নূরিন একজন খ্রিস্টান। পাকিস্তানের ছোট একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য তিনি। কিন্তু তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় ধর্মের কোনো ভেদাভেদ দেখা যায়নি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। তবে এত প্রশংসার পরও নূরিনের মনে শান্তি নেই। কারণ তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই ১৪ শিশুর কথায়, যাদের তিনি বাঁচাতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তিনি। নার্সারির কাছে গেলেই আগুনের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, এখনো যেন শিশুদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন। তখন নিজেকে আর সামলাতে পারেন না। “ওই শিশুদের মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। স্বাভাবিক হতে আমার হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে,” বলেন তিনি। আগুনের ঘটনায় শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নূরিন। তিনি জানান, তাঁর জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠেছিল। তারপরও তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কারণ ওই শিশুদের কথা মানুষকে জানাতে চেয়েছেন। “ওই শিশুরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না,” বলেন তিনি। নূরিনের ভাষায়, নবজাতকরা যখন হাসপাতালে আসে, তখন তাদের মায়েরা কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের নার্সদের হাতে তুলে দেন। সেই সময় নার্সরাই শিশুদের খাওয়ান, ওষুধ দেন এবং সারাক্ষণ তাদের দেখাশোনা করেন। তাই ধীরে ধীরে একজন নার্সের কাছেও শিশুরা নিজের সন্তানের মতো হয়ে যায়। সেই কারণেই আগুন লাগার মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাননি নূরিন। “আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমাকে আমার কাজ করতে হবে। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি। “আমি একজন মায়ের মতো আচরণ করেছি। নিজের জীবনের কথা আমি ভাবিনি।” প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তানের মানুষ তাঁকে সম্মান জানানোয় কৃতজ্ঞ নূরিন। কিন্তু তাঁর কাছে এই কাজ কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য ছিল না। “আমি কোনো পুরস্কার বা অর্থের জন্য এটা করিনি,” বলেন তিনি। জ্বলন্ত নার্সারিতে ঢোকার সময় তিনি জানতেন না, সেখান থেকে জীবিত বের হতে পারবেন কি না। তবুও তিনি ঢুকেছিলেন। কারণ তখন তাঁর কাছে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—শিশুদের বাঁচানো। “আমার সামনে তখন একটাই লক্ষ্য ছিল—এখন জীবন বাঁচানোর সময়। আমি সব শিশুকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি।” মাত্র আট সেকেন্ডের সেই সাহসী সিদ্ধান্তে একটি নবজাতকের জীবন বেঁচে গেছে। আর সেই শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে রাজিয়া নূরিন নিজের জীবনও বাজি রেখেছিলেন। আজ পাকিস্তান তাঁকে হিরো বলছে। কিন্তু তাঁর কাছে তিনি শুধু একজন নার্স—যিনি সেই মুহূর্তে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন মায়ের মতো হয়ে উঠেছিলেন।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের দায়িত্বে থাকছেন টিম কুক। মঙ্গলবার জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কুক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান হয়েছেন। অ্যাপলের পূর্বঘোষিত উত্তরাধিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিইও পদ ছাড়ার পর কুক বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও নীতিগত বিষয়ে কাজ করবেন। ফলে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে অ্যাপলের সম্পর্ক বজায় রাখতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের সঙ্গে কুকের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৯ সালে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ভুল করে তাঁকে ‘টিম অ্যাপল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এরপর থেকে কুক নানা সময় সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে নীতিগত আলোচনা করেছেন এবং অ্যাপলের পক্ষ থেকে বড় বিনিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখতে অ্যাপল বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কুক ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক অনুষ্ঠানে ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন। অ্যাপলও হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণে অর্থ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে কুক ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। তখন ট্রাম্প এই ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিনিয়োগ উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধও হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, তিনি কুককে ভারতে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্য উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তির কথা বলেছেন। ট্রাম্প চেয়েছিলেন অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি উৎপাদন করুক। এদিকে নতুন সিইও জন টার্নাসের রাজনৈতিক যোগাযোগ কুকের মতো শক্তিশালী নয়। ফেডারেল নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য অনুযায়ী, টার্নাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অনুদানগুলোর একটি ছিল ২০২১ সালে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের প্রচারে দেওয়া ৫ হাজার ৮০০ ডলার। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কুকের যোগাযোগও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিষেক থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা গেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কুক সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ দাবি করেন। কুকের ভাষায়, তিনি রাজনীতি নয়, নীতিগত বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফলে সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপলের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় কুকের ভূমিকা শেষ হচ্ছে না। বরং নতুন দায়িত্বে তাঁর রাজনৈতিক ও নীতিগত অভিজ্ঞতা অ্যাপলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে সোমবার রাতে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার দুটি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজ দুটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ট্যাংকারে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, একই এলাকায় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে দুদক। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অপর তিনজন হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ হাসিলের জন্য ঘুষ গ্রহণ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে অর্থপাচার, বেআইনি বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, আসিফ মাহমুদ সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ড গঠনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন—এমন অভিযোগও দুদকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গণেশ চতুর্থীর শোভাযাত্রায় রাস্তায় নারকেল ভাঙার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ধর্মীয় এই ঐতিহ্য নিয়ে কেউ পরিচ্ছন্নতা ও জনপরিসর ব্যবহারের প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ এটিকে হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সমর্থন করেছেন। রোববার, ৩০ আগস্ট প্যারিসের লা শাপেল এলাকায় শ্রী মানিকা বিনায়ক আলায়াম মন্দিরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক গণেশ উৎসব। প্যারিস ট্যুরিজম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮তম অ্যারোঁদিসমঁর এই মন্দিরটি ফ্রান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উপাসনালয় এবং লা শাপেল এলাকার দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সঙ্গে এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। ফুল ও নানা উপকরণে সাজানো রথে ছিল গণেশের প্রতিমা। সঙ্গে ছিলেন নৃত্যশিল্পী, গায়ক ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা। শোভাযাত্রার পথে ভক্তদের মধ্যে মিষ্টি ও আশীর্বাদপুষ্ট প্রসাদও বিতরণ করা হয়। এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় রীতি হলো গণেশের রথের সামনে নারকেল ভাঙা। প্যারিস ট্যুরিজম অফিসের তথ্যেও শোভাযাত্রার অংশ হিসেবে পথে নারকেল ভাঙার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় প্রথায় নারকেল ভাঙাকে দেবতার উদ্দেশে নিবেদনের একটি প্রতীকী রীতি হিসেবে দেখা হয়। উৎসবের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অবশ্য ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নারকেল ভাঙার কারণে রাস্তায় আবর্জনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। কেউ কেউ আবার এমন প্রকাশ্য ধর্মীয় আয়োজন ইউরোপে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির ভাবমূর্তিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও মন্তব্য করেন। তবে সমালোচনার পাশাপাশি উৎসবের পক্ষে অবস্থান নেন অনেকে। কয়েকজন অংশগ্রহণকারী দাবি করেন, এটি প্যারিসে দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা নিয়মিত আয়োজন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই শোভাযাত্রা পরিচালনা করা হয়। তাদের ভাষ্য, আয়োজন শেষে রাস্তাগুলো পরিষ্কার করার ব্যবস্থাও থাকে। প্যারিসের লা শাপেল এলাকায় গণেশ উৎসবটি কয়েক দশক ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও শোভাযাত্রাটি মার্কস দোরমোয়া এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ধর্মীয় আয়োজন হলেও এটি এখন প্যারিসের দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির একটি পরিচিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটির ড্যানি এলার্ডের জীবন একসময় ছিল মাদকাসক্তি, গৃহহীনতা আর অনিশ্চয়তায় ভরা। প্রায় ১৫ বছর আসক্তির সঙ্গে লড়াই করার পর একপর্যায়ে তাঁকে আন্তঃরাজ্য মহাসড়কের একটি ওভারপাসের নিচে মাত্র ৯২ পাউন্ড ওজনের অবস্থায় খুঁজে পায় পুলিশ। তখন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ প্রথমে তাঁকে আটক করতে চেয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থা দেখে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর জীবন এবং সংক্রমিত হাত বাঁচানোর চেষ্টা করেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর হাতে থাকা সামান্য কাপড়চোপড় নিয়ে ড্যানি যোগ দেন হোপ ইজ অ্যালাইভ নামের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতে। এরপর ধীরে ধীরে শুরু হয় তাঁর নতুন জীবন। তিনি মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং অন্যদের পুনর্বাসনেও সহায়তা করতে শুরু করেন। ২০২৩ সালে ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি-ওকলাহোমা সিটিতে কম্পিউটার ইনফরমেশন সিস্টেমস বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন ড্যানি। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কাজ করতেন এবং একটি রিকভারি হোমের দায়িত্বও সামলাতেন। শেষ পর্যন্ত ৪.০ জিপিএ নিয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতেও তাঁর ৪.০ জিপিএসহ গ্র্যাজুয়েশনের তথ্য রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি গৃহহীন মানুষ ও মাদকাসক্তদের সহায়তায়ও যুক্ত হন ড্যানি। ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি-ওকলাহোমা সিটির তথ্য অনুযায়ী, তিনি সিটি কেয়ারে শেল্টার অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করেন এবং গৃহহীন মানুষের সহায়তায় যুক্ত রয়েছেন। তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। নিজের পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতা নিয়ে ড্যানি লিখেছেন বই ‘রিকভারি ইজ পসিবল’। তাঁর লক্ষ্য, মাদকাসক্তি ও গৃহহীনতার সঙ্গে লড়াই করা মানুষকে বোঝানো যে জীবন বদলানোর সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। একসময় যিনি রাস্তায় গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন, সেই ড্যানিই এখন অন্যদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখাচ্ছেন। তাঁর জীবন দেখাচ্ছে, অতীত যত কঠিনই হোক, সঠিক সহায়তা, চিকিৎসা এবং নিজের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নতুন ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে পারে।
নরওয়ের রাজপরিবারে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম সিংহাসনে বসায় ২২ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা এখন নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। ভবিষ্যতে তিনি রাজা হলে দেশটির ৬০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথম নারী শাসক হবেন। ১ সেপ্টেম্বর নরওয়ের পার্লামেন্ট স্টোরটিংয়ে নতুন রাজা হাকন অষ্টম সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন। এর চার দিন আগে, ২৮ আগস্ট রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর হাকন নরওয়ের নতুন রাজা হন। শপথ অনুষ্ঠানে বাবার পাশে ছিলেন ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা। বাবার শপথের পর তিনি লিখিত একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তাঁর উত্তরাধিকারীর অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। ফলে রাজা হাকন ভ্রমণে থাকলে, অসুস্থ হলে বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে ইনগ্রিড আইন অনুযায়ী রিজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ইনগ্রিডের উত্তরাধিকারী হওয়াটিও ঐতিহাসিক। নরওয়ের আধুনিক রাজতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নতুন উত্তরাধিকারী প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। তাঁর বাবা হাকন ও দাদা হ্যারাল্ড তাঁদের বাবারা রাজা হওয়ার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। ইনগ্রিডের উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পেছনে নরওয়ের ১৯৯০ সালের উত্তরাধিকার আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই পরিবর্তনের পর সিংহাসনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম বাতিল হয়ে বড় সন্তানকেই উত্তরাধিকারী করার বিধান চালু হয়। ফলে ইনগ্রিডের ছোট ভাই প্রিন্স স্ভের্রে ম্যাগনুস জন্ম নেওয়ার পরও তিনি উত্তরাধিকারীর অবস্থান হারাননি। ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা সিংহাসনে বসলে নরওয়ের ইতিহাসে ৬০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনো নারী আবার দেশটির শাসক হবেন। সর্বশেষ নারী শাসক ছিলেন কুইন মার্গারেট, যিনি ১৩৮৮ থেকে ১৪১২ সাল পর্যন্ত শাসন করেছিলেন। ইনগ্রিড বর্তমানে শিক্ষার্থী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। পরে দেশে ফিরে ইউনিভার্সিটি অব অসলোতে পড়াশোনা শুরু করেন। ইউরোপের ভবিষ্যৎ নারী শাসকদের সঙ্গেও ইনগ্রিডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের প্রিন্সেস এলিজাবেথ ও নেদারল্যান্ডসের প্রিন্সেস ক্যাথারিনা-আমালিয়ার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব রয়েছে। তিনজনই নিজ নিজ দেশের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। রাজপরিবারের এই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রার অবস্থান তাই শুধু নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই নয়, ইউরোপের রাজতন্ত্রে পরিবর্তনশীল নেতৃত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকদের উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য নির্দিষ্ট হারে মূল্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আনুমানিক খরচ সর্বোচ্চ ৮ টাকা ধরে এর সঙ্গে মুনাফা ও প্রিমিয়াম যোগ করে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর এই নির্দিষ্ট হারে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত হারে বিদ্যুতের মূল্য পাওয়ার কথা রয়েছে। এই ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো, কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ৮ টাকার চেয়ে কম খরচে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে উৎপাদন ব্যয়ের সাশ্রয় হওয়া অর্থ অতিরিক্ত লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে গ্রাহকের আর্থিক সুবিধাও বাড়বে। ব্যাটারি যুক্ত থাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করাও সম্ভব হবে। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারিগরি মান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। গ্রাহকদের ব্যবস্থা স্থাপনের আগে প্রযোজ্য নিয়ম ও মূল্য নির্ধারণের শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসার পর অনেকেরই ক্রেডিট স্কোর থাকে না। ফলে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গেলে কিছু বাড়ির মালিক বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত যাচাই করতে পারে। তবে ক্রেডিট স্কোর না থাকলেই যে বাসা ভাড়া পাওয়া যাবে না, এমন কোনো নিয়ম নেই। বিকল্প আর্থিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই নিজের ভাড়া পরিশোধের সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, কারও ক্রেডিট ইতিহাস না থাকা আর খারাপ ক্রেডিট ইতিহাস থাকা এক বিষয় নয়। ক্রেডিট স্কোর না থাকলে আবেদনকারীর আয়, চাকরি বা অন্যান্য আর্থিক তথ্য বিবেচনা করার সুযোগ থাকতে পারে। নতুন অভিবাসী বা যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য আসা বাংলাদেশিদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজার সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে। প্রথমত, চাকরির নিয়োগপত্র, বেতন পাওয়ার রসিদ এবং ব্যাংক হিসাবের বিবরণী প্রস্তুত রাখুন। নতুন চাকরিতে যোগ দিলে নিয়মিত বেতনের প্রমাণ এবং ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ থাকার তথ্য বাড়ির মালিককে আপনার ভাড়া পরিশোধের সক্ষমতা বোঝাতে পারে। তবে কোন কাগজ গ্রহণ করা হবে, তা বাড়ির মালিক বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভর করে। দ্বিতীয়ত, জামানত নিয়ে বাড়ির মালিকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস থাকলে অতিরিক্ত জামানত বা অন্য কোনো শর্ত দেওয়া হতে পারে। তবে কত টাকা জামানত নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে রাজ্য ও স্থানীয় আইনে ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে। তাই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার আগে স্থানীয় নিয়ম এবং ভাড়ার চুক্তি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। তৃতীয়ত, সহ-স্বাক্ষরকারী বা জামিনদারের সুযোগ আছে কি না জেনে নিন। ভালো ক্রেডিট স্কোর এবং স্থিতিশীল আয় থাকা কোনো ব্যক্তি আপনার ভাড়ার চুক্তির দায়িত্বে যুক্ত হলে কিছু বাড়ির মালিক আবেদনটি বিবেচনা করতে পারেন। তবে এটিও পুরোপুরি বাড়ির মালিক বা সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভরশীল। চতুর্থত, এমন অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজুন যেখানে ক্রেডিট ইতিহাসের পাশাপাশি অন্যান্য আর্থিক তথ্যও বিবেচনা করা হয়। কিছু বাড়ির মালিক বিকল্পভাবে আয়, চাকরি, আগের ভাড়ার ইতিহাস বা অন্যান্য তথ্য দেখতে পারেন। তবে শুধু ‘ক্রেডিট যাচাই করা হয় না’ এমন বিজ্ঞাপন দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। চুক্তির শর্ত, বাড়ির মালিকের পরিচয় এবং কোনো অগ্রিম অর্থ চাওয়া হচ্ছে কি না, সবকিছু যাচাই করে তারপর আবেদন করা নিরাপদ। পঞ্চমত, আগের বাড়ির মালিক বা নিয়োগকর্তার সুপারিশপত্র কাজে লাগতে পারে। আপনি আগে কোথাও ভাড়া থাকলে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের প্রমাণ বা আগের বাড়ির মালিকের সুপারিশ আপনার আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। নতুনদের ক্ষেত্রে চাকরি বা পেশাগত পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশও কিছু বাড়ির মালিক বিবেচনা করতে পারেন। ষষ্ঠত, আবাসন সহায়তার জন্য ২১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ইউনাইটেড ওয়েতে পরিচালিত ২১১ সেবা স্থানীয় পর্যায়ে আবাসন, ভাড়া সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক সেবার তথ্যের সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ, হাডের অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতার কাছ থেকেও ভাড়া ও আবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া যায়। সপ্তমত, সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন। ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইটিআইএন, আয়ের প্রমাণ, বেতন পাওয়ার রসিদ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, চাকরির নিয়োগপত্র এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র একসঙ্গে রাখলে অ্যাপার্টমেন্টের আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করা সহজ হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার সময় অনেক বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার তথ্য যাচাইয়ের প্রতিবেদন ব্যবহার করেন। এতে ক্রেডিট ইতিহাসের পাশাপাশি আগের ভাড়ার রেকর্ড, চাকরির তথ্য, উচ্ছেদের ইতিহাস এবং অন্যান্য তথ্য থাকতে পারে। তাই শুধু ক্রেডিট স্কোর নয়, সামগ্রিক ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার আর্থিক ও আবাসনসংক্রান্ত রেকর্ডও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভাড়াটিয়া যাচাই প্রতিবেদনের তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হলে বা অতিরিক্ত জামানত কিংবা অন্য কোনো শর্ত আরোপ করা হলে ফেডারেল আইনে আবেদনকারীর কিছু অধিকার রয়েছে। ভোক্তা আর্থিক সুরক্ষা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এমন ক্ষেত্রে বাড়ির মালিককে সংশ্লিষ্ট যাচাই প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানাতে হয়। আবেদনকারীও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই প্রতিবেদনের কপি চেয়ে ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধনের জন্য আপত্তি জানাতে পারেন। নতুনদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেডিট স্কোর না থাকাকে শেষ বাধা হিসেবে না দেখে বিকল্পভাবে নিজের আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করা। চাকরি, নিয়মিত আয়, ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ, আগের ভাড়া পরিশোধের রেকর্ড এবং নির্ভরযোগ্য সুপারিশপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ থেকে ৬৮ জন। ঘটনাটি হরমুজ প্রণালির কাছে হওয়ায় নতুন করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সিরিকের উপকূলীয় এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি আবাসিক ভবনে হামলা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। তাদের দাবি, মার্কিন হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ওই বাড়িতে আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইরানের আধা-সরকারি মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের হিসাবে আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এক প্রাদেশিক কর্মকর্তা আহতের সংখ্যা ৬৮ বলে জানিয়েছেন। হামলায় আহতদের কাছাকাছি মিনাব ও সিরিকের হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার বিষয়ে ইরানের দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। সিরিকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার জবাব দেওয়া হবে। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দায় স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। জুলাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সরাসরি সামরিক সংঘাতগুলোর একটি। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি সিরিকের অবস্থান হওয়ায় ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।