নাসাউয়ের দুই ব্যাংকে ৬০ হাজার ডলারের বেশি জাল চেক জমা, অভিযুক্ত গ্রেফতার
নিউইয়র্কের কপিয়াগের ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাসাউ কাউন্টির দুটি ব্যাংকে প্রায় ৬৬ হাজার ডলারের জাল চেক জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাসাউ কাউন্টি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রিচার্ড আলমন্টেকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, গত জানুয়ারিতে আলমন্টে দুটি ব্যাংকে এসব চেক জমা দেন। ৭ জানুয়ারি প্ল্যান্ডোম ম্যানরের গালস কোভ এলাকার ক্যাপিটাল ওয়ান ব্যাংকে এবং ২৯ জানুয়ারি বল্ডউইনের গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউয়ের ফোর লিফ ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নে তিনি চেকগুলো জমা দেন।
এ ঘটনায় আলমন্টের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসেনির দুটি অভিযোগ, অ্যাটেম্পটেড গ্র্যান্ড লারসেনি এবং জাল দলিল ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার হেম্পস্টেডের ফার্স্ট ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে।
নাসাউ কাউন্টি পুলিশ বাসিন্দাদের এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের বয়স্ক বা প্রতারণার ঝুঁকিতে থাকা সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের এ ধরনের জালিয়াতি সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রস্তাবের কথা জানান। পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কারণে প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, নাম পরিবর্তন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মতোই এই প্রণালিও ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। পোস্টের শেষে বিষয়টি নিয়ে সবাইকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প’।
ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার মামলায় টাইগার উডসের লাইসেন্স ৫ বছর স্থগিত, জরিমানা ১ হাজার ডলার
নাসাউয়ের দুই ব্যাংকে ৬০ হাজার ডলারের বেশি জাল চেক জমা, অভিযুক্ত গ্রেফতার
আইসিই অভিযানের পর আতঙ্কে কানেকটিকাট অভিবাসী সম্প্রদায়, আটক ৭০
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের সমর্থন ৫০ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ জরিপে এল-সাইয়েদ রজার্সের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এই আসনটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এল-সাইয়েদের বর্তমান অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ গত ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে মাত্র প্রায় ১ শতাংশ ব্যবধানে হারিয়ে মনোনয়ন পান। ফল ঘোষণার সময় এল-সাইয়েদের ভোট ছিল ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্টিভেন্সের ভোট ছিল ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অল্প ব্যবধানে পাওয়া এই জয় তাকে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। প্রাইমারির পর এল-সাইয়েদকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনা আরও তীব্র হয়। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থান, ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং কিছু বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে দলের মধ্যেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এসব সমালোচনার মধ্যেই তিনি সাধারণ নির্বাচনের প্রচারে এগিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি মিশিগানের একটি সিনাগগে হামলা নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যের জন্যও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। এল-সাইয়েদ নিজেকে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেয়ার ফর অল, করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য করের বোঝা কমানোর মতো নীতি। ২০২৬ সালের প্রাইমারিতে তিনি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেয়েছিলেন। এসব নীতিগত অবস্থানকে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স সাবেক মিশিগান কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। মিশিগানের বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় এবার আসনটি উন্মুক্ত হয়েছে। ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কাছেই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প মিশিগানে প্রায় ২ শতাংশ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় রাজ্যটি এবারের সিনেট লড়াইয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয় এবং এবার সিনেট আসনটি উন্মুক্ত থাকার কারণে নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। নতুন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জরিপে শুধু সামগ্রিক ব্যবধানই নয়, বয়সভিত্তিক ভোটারদের মধ্যেও এল-সাইয়েদের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন বেশি। অন্যদিকে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে রজার্স তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। ফলে বয়সভেদে দুই প্রার্থীর সমর্থনের পার্থক্যও জরিপে উঠে এসেছে। এর আগে আরেকটি সাম্প্রতিক জরিপেও এল-সাইয়েদকে এগিয়ে দেখা যায়। ইপিক-এমআরএ-এর জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৩ শতাংশ। ওই জরিপেও এল-সাইয়েদ ৪ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। অর্থাৎ প্রাইমারির পর বিতর্ক ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে মনোনয়ন পাওয়ার পর এল-সাইয়েদকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনা তৈরি হলেও নতুন জরিপগুলোতে তার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না। বরং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে ইপিক-এমআরএ-এর জরিপেও তাঁর এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নভেম্বরের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে এবং দুই প্রার্থীর ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম। ফলে বর্তমান জরিপের ফলাফল চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল নির্দেশ করছে না। নির্বাচনের আগে ভোটারদের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে এবং দুই প্রার্থীর প্রচারও অব্যাহত থাকবে। মিশিগানের এই সিনেট লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এল-সাইয়েদ বর্তমানে কয়েকটি জরিপে এগিয়ে থাকলেও রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও শক্তিশালী। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে রজার্সের তুলনামূলক ভালো অবস্থান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এদিকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের বেশি সমর্থন এবং সামগ্রিকভাবে জরিপে তার এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাট শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে প্রাইমারির পর তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত তা জরিপে তাঁর অবস্থানকে পিছিয়ে দিতে পারেনি।
হামাসের ক্রিপ্টোতে এফবিআইয়ের অভিযানে জব্দ ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার, শনাক্ত হাজারো দাতা
২৫ বার গ্রেপ্তার অভিবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চান কংগ্রেসম্যানের প্রতিনিধিরা, বহিষ্কারের উদ্যোগ আইসের
ট্রাফিক মামলা দিয়েও পেলেন প্রশংসা, আচরণে মুগ্ধ হয়ে পুলিশ বিভাগে চিঠি লিখে নারীর কৃতজ্ঞতা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান আবার হামলা চালালে দেশটিকে আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। এমনকি তৃতীয় দফায় সংঘাত হলে ইরান ‘দেশ হিসেবে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তৃতীয়বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ করছেন না। ইরান কোনো চুক্তিতে সই করল কি না, সেটি নিয়েও তিনি খুব বেশি চিন্তিত নন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই সর্বশেষ মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এমন একটি বাড়িতে হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর বুধবার বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত ইরানের হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ৯৫ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটির নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতিদিনই গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে ছিল। বুধবার জাতীয় গড় দাম দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৪.১২ ডলার। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। এর মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের খবর এসেছে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছে, তাঁর সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে তাঁর পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ড্রিসকল ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধের কথা উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ এবং ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে সরানো নিয়েও মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ড্রোন আধুনিকায়নের একটি কর্মসূচি, যেটির পক্ষে ড্রিসকল ছিলেন, সেটিও পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ড্রিসকলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেনি হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
এক গর্ভে তিন সন্তান, কিন্তু বাবা দুইজন! দুই যমজের পিতা এক, তৃতীয় সন্তানের পিতা অন্য
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির পরীক্ষার আবেদন চলছে, কীভাবে করবেন রেজিস্ট্রেশন