সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
লেবার ডে ছুটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
লেবার ডে ছুটিতে ২৩ লাখ যাত্রীর ভিড়, ব্যস্ত হয়ে উঠছে আটলান্টা বিমানবন্দর

লেবার ডে ছুটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার প্রায় ২৩ লাখ যাত্রীর সমাগমের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ শতাংশ বাড়তে পারে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর হবে এবারের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। ওই দিন ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রী বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। গত বছর সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই হিসাবের তুলনায় সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি বেশি।   ছুটির সময়ে বাড়তি যাত্রী চাপের কথা বিবেচনা করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্রমণকারীদের আগেভাগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের নির্ধারিত উড্ডয়নের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যাত্রীদের পার্কিং, বিমানবন্দরে নামা এবং যাত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে পার্কিংয়ের খালি জায়গা এবং নিরাপত্তা তল্লাশির অপেক্ষার সময়ের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থান, গেট নির্ধারণ এবং লাগেজসংক্রান্ত নিয়ম জেনে নিতে বলা হয়েছে। ছুটির সময়ে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে প্রয়োজনীয় তথ্য আগে থেকেই যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের লাগেজও বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে তা খালি অবস্থায় যথাযথভাবে নিরাপদ করে শুধু চেক-ইন করা লাগেজে রাখতে হবে। কোন কোন জিনিস বিমানবন্দরে নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের তালিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।   গত বছরও লেবার ডে ছুটির সময়ে আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে ২৩ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ওই যাত্রাপর্ব ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল এবং সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন বলে তখন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।   এবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লেবার ডে ছুটিতে আটলান্টা বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ৪ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১২:৩৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ওবামার ৮ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বেড়েছে বছরে ১.১৭ ট্রিলিয়ন ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রায় ৯ দশমিক ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। আট বছরের মেয়াদ হিসাব করলে ঋণ বৃদ্ধির বার্ষিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন ডলার। মোট অঙ্কের হিসাবে এটি কোনো পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা প্রেসিডেন্টের সময়ে সবচেয়ে বড় ঋণ বৃদ্ধি হলেও, বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হিসাবে ওবামা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।   প্রেসিডেন্টদের মেয়াদে ঋণ বৃদ্ধির বার্ষিক গড় হিসাব করে তৈরি করা তালিকায় ওবামার ওপরে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ, জো বাইডেনের পূর্ণ মেয়াদ এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ এখনো চলমান। ফলে তার বর্তমান হিসাব চূড়ান্ত নয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি তার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় তা বেড়ে প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ দুই মেয়াদে ঋণ বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার।   বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হিসাবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ঋণ বৃদ্ধির বর্তমান গতিকে বার্ষিক হিসাবে হিসাব করলে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তবে এটি অসম্পূর্ণ মেয়াদের হিসাব হওয়ায় চূড়ান্ত ফল হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।   দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাইডেনের ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের পূর্ণ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ প্রায় ৮ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। চার বছরে এর বার্ষিক গড় বৃদ্ধি ছিল প্রায় ২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপর ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঋণ প্রায় ৭ দশমিক ৮০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল, যা বছরে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার।   ওবামার পর তালিকায় রয়েছেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তার দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ প্রায় ৪ দশমিক ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। আট বছরে এর বার্ষিক গড় ছিল প্রায় ৬১২ বিলিয়ন ডলার। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের মেয়াদে ঋণ বেড়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বছরে গড়ে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলার।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হিসাবগুলো নামমাত্র ডলারে করা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। ফলে পুরোনো সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্টদের সময়ে বড় অঙ্কের ঋণ বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের প্রথম দিকের কিছু ব্যয় ও বাজেট আগের প্রশাসন ও কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতার অংশ হতে পারে।   এ কারণে কোনো প্রেসিডেন্টের মেয়াদে ঋণ কতটা বেড়েছে, সেই পরিসংখ্যানকে সরাসরি ওই প্রেসিডেন্টের একক দায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিবেদনের পদ্ধতিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ব্যয় ও রাজস্বসংক্রান্ত আইন অনুমোদনে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   এদিকে ২০২৬ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের এই রেকর্ড উচ্চতা এবং বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের মেয়াদে ঋণ বৃদ্ধির গতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   সূত্র: ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১২:১৫
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের জন্য নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচন নিয়ে বড় শঙ্কা! মার্কিন ডাক বিভাগের নতুন পোর্টাল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের জন্য নতুন একটি অনলাইন পোর্টাল নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক গোপন তথ্যদাতা। তার দাবি, মার্কিন ডাক বিভাগের নতুন ব্যবস্থাটি তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষা ছাড়াই চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে বিপুলসংখ্যক ডাক ব্যালট ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে বিলম্বিত বা আটকে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   আইনজীবীদের মাধ্যমে পরিচয় গোপন রাখা ওই তথ্যদাতা নিজেকে ডাক বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি অবগত একজন ফেডারেল কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের কাছে একটি লিখিত তথ্য প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার সেটি প্রকাশ্যে আসে। এরপর ব্লুমেনথাল ডাক বিভাগের মহাপরিচালক ডেভিড স্টেইনারের কাছে নতুন পোর্টাল তৈরির প্রক্রিয়া ও এর সক্ষমতা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।   নতুন ব্যবস্থাটির নাম ‘ফেডারেল ব্যালট মেইল পোর্টাল’। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের নিয়ম কঠোর করার নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এটি তৈরি করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের ডাকযোগে ব্যালট পাওয়া ভোটারদের নাম ও ঠিকানা এবং ব্যালটের নির্দিষ্ট বারকোডের তথ্য পোর্টালে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।   তথ্যদাতার অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন যাচাই পদ্ধতি। তার দাবি, একটি বড় ব্যাচের ব্যালট থেকে কিছু নমুনা স্ক্যান করে পোর্টালে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কোনো একটি ব্যালটের বারকোড ঠিকভাবে স্ক্যান না হলে বা তথ্যের সঙ্গে মিল না থাকলে পুরো ব্যাচটি প্রত্যাখ্যান করে রাজ্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এরপর সমস্যাটি সমাধান করে পুরো যাচাই প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে হবে।   তথ্যদাতার আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, এমন ব্যবস্থায় একটি ব্যাচে মাত্র একটি ত্রুটি থাকলেও হাজার হাজার ব্যালট আটকে যেতে পারে। ফলে বারবার যাচাইয়ের কারণে ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে এবং কিছু রাজ্যের বিপুলসংখ্যক ব্যালট সময়মতো পাঠানো সম্ভব নাও হতে পারে। তবে এই ঝুঁকিগুলো তথ্যদাতার অভিযোগ ও সতর্কতার ভিত্তিতে উঠে এসেছে; ডাক বিভাগ এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   নতুন পোর্টাল নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন বেশ কয়েকটি রাজ্য নতুন নিয়মের বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি, নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্যগুলোর হাতে থাকা উচিত। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ডাকযোগে ভোটের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকরের বিষয়ে আদালতেও একাধিক মামলা চলছে।   এর আগে একটি ফেডারেল আদালত ডাক বিভাগের নতুন নিয়ম কার্যকর করার ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতেও আইনি লড়াই হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের একটি বাধা সাময়িকভাবে সরলেও আদালত জানিয়েছে, সরকারের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ যে আইনসম্মত হবে, সেই নিশ্চয়তা এই সিদ্ধান্ত দেয় না। ফলে নতুন ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন এখনো রয়েছে।   তথ্যদাতার প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ডাক বিভাগ ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সময়ে কয়েকটি রাজ্যে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার মধ্যে নতুন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, যাচাই পদ্ধতি এবং আইনি বৈধতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১১:৪৭
প্রেমিকের ছবি ফাঁসের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার নাথালি রদ্রিগেজ গনজালেজ। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকের গোপন ছবি ফাঁসের হুমকিতে ২০ হাজার ডলার দাবি, তরুণী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি-ডেড কাউন্টিতে প্রেমিকের গোপন ছবি ফাঁসের হুমকি দিয়ে ২০ হাজার ডলার দাবি করার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী নাথালি রদ্রিগেজ গনজালেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই তরুণী জানতে পারেন, তার সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক ব্যবসায়ীর আগে থেকেই একজন প্রেমিকা রয়েছে। এরপর তিনি ওই ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করে হুমকিমূলক বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।   কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথালি মায়ামি-ডেড কাউন্টির একটি রেস্তোরাঁয় ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কয়েকবার দেখা করার পর নাথালি জানতে পারেন, ওই ব্যবসায়ীর পুরো সময়জুড়েই অন্য একজন প্রেমিকা ছিলেন।   এরপর অভিযোগ অনুযায়ী, নাথালি ওই ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়ে তার ব্যাংক হিসাব থেকে ২০ হাজার ডলার দাবি করেন। তিনি সতর্ক করে দেন, অর্থ পরিশোধ না করলে দাবির সঙ্গে আরও ৫ হাজার ডলার যোগ করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীর অন্তরঙ্গ ছবি তার প্রেমিকা ও ব্যবসায়িক অংশীদারের কাছে পাঠানোর হুমকিও দেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ভুক্তভোগী অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অভিযোগ রয়েছে, নাথালি তার ব্যবসায়িক অংশীদারের কাছে একটি অন্তরঙ্গ ছবি পাঠান। এরপর ওই অংশীদারের কাছে ভুক্তভোগীর প্রেমিকার ফোন নম্বর চান, যাতে তাকেও ছবিটি পাঠাতে পারেন। পরে ছবিটি ভুক্তভোগীর প্রেমিকার কাছেও পাঠানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নাথালি এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করার হুমকি দিতে থাকেন। তিনি টিকটকেও ছবিগুলো প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ না দিলে আরও ছবি প্রকাশ এবং বিষয়টি আরও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে একাধিক বার্তা পাঠানো হয়।   ভুক্তভোগী ২৪ আগস্ট মায়ামি-ডেড শেরিফের কার্যালয়ের কেন্ডাল জেলা স্টেশনে যান। সেখানে তিনি একটি ছবির মাধ্যমে নাথালিকে শনাক্ত করেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর শুক্রবার তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় নাথালি অভিযোগের বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।   গ্রেপ্তারের পর নাথালির বিরুদ্ধে হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে টার্নার গিলফোর্ড সংশোধন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে ৭ হাজার ৫০০ ডলারের জামিনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   ঘটনাটি সামনে আসার পর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থ আদায়ের জন্য অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি। তবে মামলাটি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে আদালতে আরও তথ্য উপস্থাপিত হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১১:৩৫
মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে স্বামীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছিলেন এরিন পিয়াচেন্টি। ছবি: সংগৃহীত
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভিপি, উদ্‌যাপন করেছিলেন ২য় বিবাহবার্ষিকী

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে সোমবারের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নিহত ৩২ বছর বয়সী এরিন পিয়াচেন্টি ছিলেন ব্যাংক অব আমেরিকার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট। নিউ জার্সির চেস্টারের বাসিন্দা পিয়াচেন্টি প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস সিলেকশন অ্যান্ড কনফ্লিক্টস বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে স্বামীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীও উদ্‌যাপন করেছিলেন তিনি।    সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওয়েস্ট ৪২তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় এ হামলা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরস প্রথমে সাবওয়ে থেকে বের হওয়া ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পিয়াচেন্টিকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।    দুই ভুক্তভোগীকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। পিয়াচেন্টি পরে মারা যান। ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।    পুলিশ জানিয়েছে, সিসনেরস একটি ব্যাগ থেকে দুটি বড় রান্নাঘরের ছুরি বের করে হামলা চালান। এরপর তিনি টাইমস স্কয়ারের এনওয়াইপিডি সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ তাকে থামানোর চেষ্টা করে। কয়েক মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বলা হলেও তিনি তা মানেননি। পরে পুলিশ তাকে থামাতে টেজার ব্যবহার করে। সেটি কাজ না করলে ছুরি হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় দুই পুলিশ অফিসার গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি ছিল এলোমেলো ও কোনো ধরনের উসকানি ছাড়া। সিসনেরসের আগে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু ঘটনা পুলিশের নথিতে থাকলেও তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল না। ঘটনাটি সন্ত্রাসী হামলা ছিল এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।    এরিন পিয়াচেন্টি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এবং ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে ২০২১ সালে স্নাতক হন। ব্যাংক অব আমেরিকায় দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্কের করপোরেট পেশাজীবী হিসেবে কাজ করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট স্বামীর সঙ্গে তাদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছিলেন তিনি।    টাইমস স্কয়ার নিউইয়র্কের সবচেয়ে ব্যস্ত ও পর্যটকসমৃদ্ধ এলাকাগুলোর একটি। চলতি বছর এটি এলাকায় দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ছুরিকাঘাতের ঘটনা বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১১:১৯
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে ধন্যবাদ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন। ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।    চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দেশটির জনগণের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন তিনি।    চিঠিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি আশ্বস্ত করেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। এ বিষয়ে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মনোযোগের কথাও তিনি মনে রাখবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আগের বোয়িং অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে নতুন করে কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে বা চুক্তিটির মোট মূল্য কত, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।    এর আগে এপ্রিল মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নের জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বাংলাদেশ। ওই চুক্তির তালিকায় ছিল আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। চুক্তিটির তালিকামূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ট্রাম্পের সর্বশেষ চিঠি এবং বোয়িং কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের অর্থনৈতিক যোগাযোগও নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের সরাসরি সাক্ষাতের নির্দিষ্ট তারিখ বা স্থান এখনো জানানো হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১১:৬
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য আবেদন করার আগে জীবনবৃত্তান্তের ফরম্যাট ঠিক করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় চাকরি খোঁজার আগে রেজুমে-তে যে ১০টি বিষয় ঠিক করতে হবে, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য Resume পাঠানোর আগে এর ফরম্যাট, তথ্য ও শব্দচয়ন ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান Applicant Tracking System বা ATS ব্যবহার করে Resume স্ক্যান করে। এই সফটওয়্যার চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে থাকা নির্দিষ্ট Keyword, Skills ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রার্থীর Resume মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে আবেদন বাছাই করতে পারে। তবে ATS সব Resume একইভাবে যাচাই করে না এবং কোনো Resume-কে ‘১০০ শতাংশ পাস’ করানোর নিশ্চয়তাও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক Resume Guide এবং CareerOneStop-এর নির্দেশনায় ATS-এর উপযোগী সহজ ফরম্যাট ও চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   প্রথমত, Resume-তে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ চাকরির Resume-তে ছবি, বয়স, জন্মতারিখ, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা বা বাবার নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে নিজের নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল, City ও State এবং প্রয়োজন হলে LinkedIn প্রোফাইল দিতে পারেন। পুরো বাসার ঠিকানা দেওয়াও সাধারণত প্রয়োজন হয় না।   দ্বিতীয়ত, Resume-এর দৈর্ঘ্য অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ঠিক করুন। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক পৃষ্ঠা যথেষ্ট হতে পারে। তবে অভিজ্ঞ প্রার্থীর Resume প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। CareerOneStop সাধারণত দীর্ঘ কর্মজীবনের ক্ষেত্রে গত ১২ থেকে ১৫ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাই বহু বছর আগের অপ্রাসঙ্গিক চাকরির তথ্য দিয়ে Resume ভারী করার দরকার নেই।   তৃতীয়ত, Job Description ভালোভাবে পড়ুন। সেখানে যে Skills ও যোগ্যতাগুলো চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা মিললে একই ধরনের Keyword Resume-তে ব্যবহার করুন। যেমন Customer Service, Cash Handling বা Inventory Management। তবে এমন কোনো Skill লিখবেন না, যা আপনার আসলে নেই।   চতুর্থত, Resume-এর শুরুতেই নিজের পরিচয় ও পেশাগত যোগ্যতা পরিষ্কার করুন। নাম, যোগাযোগের তথ্যের পর একটি সংক্ষিপ্ত Professional Summary দেওয়া যেতে পারে। এতে আপনি কোন ধরনের কাজ করেন, কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরুন। নতুন গ্র্যাজুয়েট বা অল্প অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে Summary প্রয়োজন না-ও হতে পারে।   পঞ্চমত, কাজের অভিজ্ঞতা শুধু দায়িত্বের তালিকা হিসেবে লিখবেন না। সম্ভব হলে কাজের ফলাফল সংখ্যা দিয়ে তুলে ধরুন। যেমন ‘প্রতিদিন ১০০-এর বেশি কাস্টমারকে সেবা দিয়েছি’ বা ‘প্রতিদিন ৫ হাজার ডলারের ক্যাশ লেনদেন পরিচালনা করেছি’। CareerOneStop-ও কাজের বর্ণনায় সংখ্যা, শতাংশ, বিক্রি বা সাশ্রয়ের পরিমাণ এবং অর্জন তুলে ধরার পরামর্শ দেয়।   ষষ্ঠত, Education অংশে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির জন্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করুন। ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রাসঙ্গিক হলে গ্র্যাজুয়েশনের বছর উল্লেখ করুন। বাংলাদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার যুক্তরাষ্ট্রে সমমান নির্ধারণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক credential evaluation করা থাকলে, চাকরির ক্ষেত্রে সেটি প্রাসঙ্গিক হলে উল্লেখ করা যেতে পারে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে ভুলভাবে ‘High School Diploma’ বা অন্য কোনো মার্কিন ডিগ্রির নামে পরিবর্তন করা উচিত নয়।   সপ্তমত, Skills অংশে চাকরিটির সঙ্গে সম্পর্কিত Technical বা Job-specific Skills আগে রাখুন। যেমন POS, Excel, QuickBooks বা Forklift। Soft Skills-এর ক্ষেত্রেও শুধু সাধারণ শব্দের তালিকা না দিয়ে, সম্ভব হলে Professional Summary বা কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেগুলোর প্রমাণ দেখানো বেশি কার্যকর।   অষ্টমত, ATS-এর জন্য Resume-এর ডিজাইন যতটা সম্ভব সহজ রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলছে, অনেক ATS টেবিল, কলাম, ছবি, চার্ট বা গ্রাফিক্স ঠিকভাবে পড়তে পারে না। তাই একটি পরিষ্কার Single-column Layout এবং প্রচলিত Section Heading ব্যবহার করা নিরাপদ। Resume-এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Header বা Footer-এর ভেতরে না রাখাও ভালো।   নবমত, Resume-এর File Format চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দিন। শুধু ATS-এর কারণে সবসময় PDF বাদ দিয়ে DOCX ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের গাইডে বলা হয়েছে, Job Posting-এ যে Format চাওয়া হয়েছে সেটিই অনুসরণ করতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট Format না দেওয়া থাকে, CareerOneStop সাধারণত PDF ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কারণ এতে ফরম্যাট ঠিক থাকে। File Name-এ নিজের নাম ও প্রয়োজনে Job Title রাখা যেতে পারে।   দশমত, Resume-এর পাশাপাশি Cover Letter প্রয়োজন হলে সেটিও Job Description অনুযায়ী তৈরি করুন। কোন পদের জন্য আবেদন করছেন, আপনার কোন অভিজ্ঞতা ওই পদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে এবং কেন আপনি উপযুক্ত, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়। ChatGPT বা অন্য কোনো AI Tool দিয়ে খসড়া তৈরি করলেও তথ্য অবশ্যই নিজের হতে হবে এবং ভাষা নিজের মতো করে সম্পাদনা করা উচিত। CareerOneStop-ও Resume উন্নত করতে AI Tool ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেছে।   সবশেষে, ATS পাস করানোর কোনো নির্দিষ্ট ‘৯০+’ বা ‘১০০%’ স্কোর নিশ্চিত করার পদ্ধতি নেই। বরং চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক Keyword মিল রাখা, সত্য তথ্য ব্যবহার করা এবং সহজে পড়া যায় এমন Resume তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ২০২৬ সালের Resume Guide অনুযায়ী, ATS অনেক ক্ষেত্রে Keyword ও Formatting দেখে প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে পারে। তাই সুন্দর ডিজাইনের চেয়ে সঠিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং পরিষ্কার ফরম্যাটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১০:৪৯
ইরান টিভি চ্যানেলের লক্ষ্যবস্তু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ব্যারন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আমার ২০ বছরের ছেলেকে হত্যার হুমকি! ট্রাম্পের অভিযোগে ইরানের জবাব ‘জাহরা ছিল ১৪ মাসের’

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকিসংবলিত একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ব্যারনের চলাফেরা ও তিনি যেসব স্থানে যান, সেসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কারের দাবি করা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস।   ভিডিওটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির চ্যানেল থ্রিতে প্রচার করা হয়। এতে ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে?’ ধরনের বার্তা দেখানো হয়। ভিডিওতে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারসহ ব্যারনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে যেসব নিরাপত্তা ও নজরদারির দাবি করা হয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত ওই ভিডিও নিয়ে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানান, সংস্থাটি ভিডিওটির বিষয়ে অবগত এবং সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তদন্ত করে। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে ব্যারনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে না।    ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।    এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রীয়পন্থী বিভিন্ন মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও হুমকিমূলক প্রচার দেখা গেছে। জুলাইয়ে তেহরানে প্রকাশিত একটি বিলবোর্ডে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল এবং ‘রক্তের বদলে রক্ত’ ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল।    ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় খামেনেই পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। পরবর্তী সময়ে তার কফিন খামেনেইর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়।    মোজতবা খামেনেই বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের কথা বলে আসছেন। তবে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে প্রচারিত ভিডিওটি সরাসরি মোজতবা খামেনেইয়ের নির্দেশে তৈরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই ভিডিওটির সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার দাবি নিশ্চিতভাবে করা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১০:২৩
ম্যানচেস্টার সিনাগগ হামলার আদলে ভুয়া বিস্ফোরক ভেস্ট বানানোর দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ খালিল নাদির। ছবি: সংগৃহীত
ম্যানচেস্টার হামলাকারীকে অনুকরণ, ভুয়া বোমা ভেস্ট পরায় মোহাম্মদ খালিলের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সিনাগগে হামলাকারীর ব্যবহৃত ভুয়া বিস্ফোরক ভেস্ট নিয়ে গবেষণা করে একই ধরনের একটি ভেস্ট বানিয়ে ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ খালিল নাদিরকে সাড়ে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার লিডস ক্রাউন কোর্টে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।   নাদির ইংল্যান্ডের মিডলসব্রোর ক্লফ ক্লোজের বাসিন্দা। আদালতে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যে সামগ্রী রাখার এবং সন্ত্রাসবাদী প্রকাশনা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। জুনে অনুষ্ঠিত বিচারে জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি মুক্তির পর তাকে আরও তিন বছর বর্ধিত লাইসেন্সের আওতায় থাকতে হবে।   কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং নর্থ ইস্ট জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার পর নাদির হামলাকারী জিহাদ আল-শামির পরা ভুয়া বিস্ফোরক ভেস্ট নিয়ে অনলাইনে গবেষণা শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি একই ধরনের একটি ভেস্ট অর্ডার করেন।   ভেস্টটি হাতে পাওয়ার দিন নাদির অনলাইনে ৫০০টি স্টিল বল বিয়ারিং কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও আদালতে জানানো হয়। পরে তিনি ভেস্টটিতে নকল তার ও ট্রিগার যুক্ত করে সেটি পরা অবস্থায় একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে বিস্ফোরণের শব্দ যোগ করে সেটি টেলিগ্রামে ছড়িয়ে দেন।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাদিরকে গ্রেপ্তারের পর তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওই ভারী ভেস্টটি উদ্ধার করে পুলিশ। তার ডিভাইসগুলো থেকেও বিপুল পরিমাণ সন্ত্রাসবাদী উপকরণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে শহীদ হওয়ার নামে সহিংসতা উসকে দেওয়া হাতে লেখা নথি, দায়েশের প্রচারণামূলক ভিডিও এবং হত্যাকাণ্ডে উৎসাহিত করে এমন লেখা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং নর্থ ইস্টের প্রধান ডিটেকটিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জেমস ডানকারলি বলেন, তদন্তে নাদিরের উগ্রবাদী বিশ্বাস গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ওঠার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি শুধু সন্ত্রাসবাদী প্রচারণা নিজের কাছে রাখেননি, অনলাইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা ও প্রচারণামূলক উপকরণও ছড়িয়েছেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন চ্যাট ও ভয়েস নোটে নাদিরের সহিংসতার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং ভয় সৃষ্টি করতে সহিংসতা ব্যবহারের মানসিকতারও প্রমাণ পাওয়া যায়।   নাদিরের মামলাটি ২০২৫ সালের ম্যানচেস্টার সিনাগগ হামলার পর অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণা ও হামলার অনুকরণ নিয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   ওই হামলায় ৩৫ বছর বয়সী জিহাদ আল-শামি গাড়ি দিয়ে সিনাগগের গেটে ধাক্কা দেওয়ার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। তিনি শরীরে একটি ভুয়া আত্মঘাতী ভেস্ট পরেছিলেন। হামলায় মেলভিন ক্রাভিটজ, ৬৬, এবং অ্যাড্রিয়ান ডলবি, ৫৩, নিহত হন। পরে সশস্ত্র পুলিশ আল-শামিকে গুলি করে হত্যা করে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১০:৯
ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাহুল গান্ধী ও টিভিকে প্রধান বিজয়। ছবি: সংগৃহীত
রাহুল নাকি বিজয়? প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেস টিভিকে জোটে টানাপোড়েন

ভারতের আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী পদে কে থাকবেন, তা নিয়ে কংগ্রেস ও তামিলনাড়ুর দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর মধ্যে মতপার্থক্যের জল্পনা তৈরি হয়েছে।   সম্প্রতি টিভিকে-র কয়েকজন নেতা দলটির প্রধান ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরায় এ আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের একটি অংশ প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুল গান্ধীকে সামনে রাখার পক্ষে।   এ নিয়ে বিজেপিও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেস যদি টিভিকে-কে সমর্থন করে থাকে, তাহলে কেন তারা সেই সমর্থন প্রত্যাহার করছে না।   কেশবনের অভিযোগ, কংগ্রেসের এই অবস্থান মূলত রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, টিভিকে-র সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এত আলোচনা ও মতবিরোধের পরও কংগ্রেস কেন তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।   এদিকে কংগ্রেস ও টিভিকে নেতাদের বক্তব্য ঘিরে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুল গান্ধী নাকি বিজয়কে সামনে রাখা হবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয়।   তবে এখনো প্রধানমন্ত্রী পদে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। ফলে কংগ্রেস ও টিভিকে-র মধ্যকার এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৯:৫৪
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন নাকচ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করবেন কি না জানালেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের ওপর পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে একই সঙ্গে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।   সোমবার (৩১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ওই প্রশ্নকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।   তবে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণকারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স। এরপর ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।   হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও এলএনজি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।   ট্রাম্পের অবস্থান এখন স্পষ্ট, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, কিন্তু ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতেও দেওয়া হবে না।   সূত্র: গালফ নিউজ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৯:৪০
লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কানাডা শুল্ক ও ‘লেক আমেরিকা’ সিদ্ধান্তে নেই মার্কিনদের সমর্থন

কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বাড়ানো এবং লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নেই অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।   তিন দিন ধরে অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চালানো জরিপে ১ হাজার ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। এতে দেখা গেছে, কানাডীয় পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।   কানাডা কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর নির্দেশ দেন ট্রাম্প।   যুক্তরাষ্ট্রে এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।   ‘লেক আমেরিকা’ নিয়েও আপত্তি কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশ একমত নন।   গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন। তবে এই নাম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কানাডা, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নাম ব্যবহারে বাধ্য করার ক্ষমতা এই সিদ্ধান্তে নেই।   রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে মাত্র ১৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বা কোনো উত্তর দেননি।   লেক অন্টারিও নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত।   এর আগে ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথাও বিভিন্ন সময় বলেছেন তিনি।   নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প রয়টার্স/ইপসোসের জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ট্রাম্পের অনুমোদনযোগ্যতার হার তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে।   আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই করবে। ফলে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।   রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা ৪ শতাংশ পয়েন্ট। আমেরিকাবাংলা/অলি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৯:২১
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু

জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এবারের গ্রীষ্ম দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।   সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার দিনে জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (DWD) জানায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৩ সালে গড় তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ।   এবার জার্মানিতে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। প্রায় পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। জুনের শেষ দিকে দেশটির কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উঠেছিল।   রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (RKI) হিসাব অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুনের শেষের তীব্র তাপপ্রবাহেই মারা গেছেন প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জন।   জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহ ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। সংস্থাটি বলছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।   তীব্র গরমের পাশাপাশি দীর্ঘ খরায়ও বিপর্যস্ত হয়েছে জার্মানি। পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় ফেরি চলাচলও বন্ধ রাখতে হয়েছে। পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের দাবানল।   এদিকে প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াতেও এবারের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ড উষ্ণ। দেশটির ২৬০ বছরের আবহাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্ম ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। প্রথমবারের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:৫৫
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’

মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদের পরিবারের। নিজের পাসপোর্ট করাতেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। এসব ঘটনার ক্ষোভ থেকেই ঘুষের অভিযোগ জানানোর জন্য তৈরি করেছেন ‘ঘুষ ডট সাইট’।   ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন শাহেদের মা আমিনা খাতুন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর অসুস্থতায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর পরিবারের পাওনা ছিল প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড।   শাহেদের পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।   পরিবারটির দাবি, এখনো কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থের ফাইল এগিয়ে নিতে আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহেদ। বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীনে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েবসাইট তৈরি ও কোডিংয়ে আগ্রহ রয়েছে তার।   দুই ঘণ্টায় তৈরি ‘ঘুষ ডট সাইট’   একটি ভারতীয় ওয়েবসাইট থেকে ধারণা নিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার কোডিংয়ে সাইটটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করেন শাহেদ। পরে বন্ধু ও সহপ্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় সাইটটি চালু করা হয়। গত ২১ আগস্ট চালুর পর অল্প সময়েই এটি আলোচনায় আসে।   উদ্যোক্তাদের দাবি, মাত্র ৯ দিনের মধ্যে সাইটটিতে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকার মধ্যে বলে জানানো হয়েছে।   অভিযোগগুলো যাচাই করতে বর্তমানে চার সদস্যের একটি পর্যালোচনা দল কাজ করছে। যাচাইয়ের পর অভিযোগগুলো ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রকাশ করা হচ্ছে।   পরিচয় গোপন রাখার উদ্যোগ অভিযোগকারীরা যাতে নতুন করে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে জন্য তাদের পরিচয় গোপন রাখছে ‘ঘুষ ডট সাইট’। আইনি ঝুঁকি বিবেচনায় ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।   শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীমও ছেলের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তার দাবি, স্ত্রীর মৃত্যুর পর পরিবারের প্রাপ্য অর্থ তুলতে গিয়ে তাকেও ঘুষ দিতে হয়েছে এবং এখনো প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এসব অর্থ পেতেও ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।   তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মো. মজিবুর রহমান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীনও বলেন, ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে তাকে কেউ অভিযোগ করেননি। এমন ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তরুণদের এই উদ্যোগ পুলিশের নজরে এসেছে। ঘুষ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা থেকে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেছেন শাহেদ। তার লক্ষ্য—সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যেন কাউকে ঘুষ দিতে না হয় এবং অনিয়মের তথ্য মানুষের সামনে আসে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:৪০
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেবে সরকার
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেবে সরকার

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সদ্য পাস করা ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উপহার হিসেবে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যাওয়ার্ড’।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ১ লাখ ১৬ হাজার ট্যাব দেওয়ার কথা চিন্তা করেছেন।   এ ছাড়া দেশের প্রায় ১৯ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে বিশেষ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।   শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। শিক্ষক নিয়োগ, পরীক্ষা গ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:২৭
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের

প্রথম দুই ম্যাচে গোলের দেখা পাননি। তবে তৃতীয় ম্যাচেই জোড়া গোল করে সমালোচনার জবাব দিলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে তার জোড়া গোলে ৫-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা।   সোমবার রাতে ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শুরুতে রায়ো ভায়েকানো এগিয়ে গেলেও রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। এরপর ২১তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল।   এই গোলের মাধ্যমে বড় এক রেকর্ড গড়েছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এই কীর্তি গড়তে গিয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপেকে।   ম্যাচের শেষদিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন ইয়ামাল। তার জোড়া গোলের পাশাপাশি রাফিনিয়ার গোলসহ দারুণ পারফরম্যান্সে ৫-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।   লা লিগায় প্রথম তিন ম্যাচেই ১২ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি। শুরুতে ইয়ামালের গোলখরা থাকলেও রায়োর বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি যে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে, সেটিই প্রমাণ করলেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:২১
৪৭ বছর বয়সী রমাবাই রণবীর
মেয়ের পড়ার খরচ জোগাতে খালি পায়ে দৌড়ে ম্যারাথনে প্রথম ৪৭ বছরের মা

মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে শাড়ি পরে খালি পায়ে ম্যারাথনে দৌড়ে তরুণ প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের ৪৭ বছর বয়সী রমাবাই রণবীর। মহারাষ্ট্রের বিড জেলার আম্বাজোগাইয়ে ভারতীয় শিক্ষা প্রসারক সংস্থার অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে ‘অমৃত দৌড়’ নামে এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় অনেক তরুণ-তরুণী অংশ নেন।   সবার মতো রমাবাইও শাড়ি ও চপ্পল পরে দৌড়ে অংশ নেন। তবে অসমান রাস্তায় বারবার চপ্পল খুলে যাওয়ায় দৌড়ের গতি কমে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে চপ্পল হাতে তুলে নিয়ে খালি পায়েই দৌড় শুরু করেন তিনি। পাথুরে ও রুক্ষ রাস্তার ব্যথা উপেক্ষা করে একের পর এক তরুণ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সবার আগে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছান রমাবাই।   তার এই অসাধারণ জয় উপস্থিত দর্শক ও আয়োজকদের আবেগাপ্লুত করে। পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ৩ হাজার রুপি নিজের জন্য না রেখে মেয়ের পড়াশোনার খরচে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই সংগ্রামী মা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৭:৪৪
তেল উৎপাদন চুক্তি
চীন-রাশিয়ার হাতছাড়া, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে এবার মার্কিন কোম্পানি

ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ এবার চীন ও রাশিয়ার কোম্পানির হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে। মার্কিন তেল কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল উৎপাদন চুক্তির অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আসছে। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রভাবও কমে আসবে।   ভেনেজুয়েলা সরকার নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সকে নতুন করে ১৪টি তেল প্রকল্প দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে ১৭টি প্রকল্প পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পাবে। এসব প্রকল্পে উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স আগে মার্কিন তেল ব্যবসায়ী হ্যারি সার্জেন্টের মালিকানায় ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে আছেন ভেনেজুয়েলার ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেটানকোর্ট। তিনি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হলে দেশটির মানুষ এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই উপকৃত হবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকবে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে। তবে কোম্পানিটির ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের ওপর মার্কিন সরকারের অধিকার থাকবে। পাশাপাশি কোম্পানির উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার পাবে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে সবার আগে কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে। পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যকে হতে হবে মার্কিন নাগরিক। নতুন করে দেওয়া ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি আগে চীনা কোম্পানিগুলো পরিচালনা করত। আর একটি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল রাশিয়ার একটি কোম্পানি। চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কনকর্ড রিসোর্সেস দুটি প্রকল্প পরিচালনা করত। ইরান-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আরেকটি প্রকল্প পরিচালনা করত চীনা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিনোপেক। অন্য একটি ছিল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) অধীনে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তির ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় নতুন ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে না, দেশটির তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও বড় বাজারে পরিণত হচ্ছে। এর আগে এসব তেলের একটি বড় অংশ চীনে পাঠানো হতো।   কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন করে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে যাওয়া দুটি প্রকল্প আগে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলেক্স সাবের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করত। সাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। আরেকটি তেলক্ষেত্র মাদুরুর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের এক ভাতিজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, বেসরকারি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল’ তেল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এসব তেল টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন এলাকার শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার তেল ও গ্যাস খাতের ব্যবসায়ী এবং শোধনাগার মালিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে।   তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। দেশটির সাংবিধানিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তৈরি আইনি প্রশ্নের সমাধান করাই এসব আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৫ সালের জাতীয় পরিষদকে ভেনেজুয়েলার সংবিধানের অধীনে সর্বশেষ নির্বাচিত ও কার্যকর আইনসভা হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও বর্তমানে ওই পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক শাসনক্ষমতা নেই।মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা হলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশটির তেল শিল্পকে আবার সচল করার পথও খুলে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রকল্পগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৭:২২
ভারতীয় ব্যবসায়ী অশোক কুমার চৌরাসিয়া
বন্যার আগে ৪৫ কোটি রুপির সম্পদের মালিক, আজ ধার করা শার্টে দিন কাটছে তার

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে গেছে ভারতীয় ব্যবসায়ী অশোক কুমার চৌরাসিয়ার দুই দশকের গড়ে তোলা ব্যবসা ও বসতবাড়ি। উত্তর প্রদেশের বলিয়া জেলার এই ব্যবসায়ী নুওয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পোশাকের ব্যবসা করছিলেন। ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় তার বাড়ি, দোকান ও গুদাম পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবে উঁচু স্থানে গিয়ে প্রাণে বাঁচলেও তাদের হাতে অবশিষ্ট ছিল প্রায় শুধু পরনের কাপড়।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অশোক ও তার ভাই পান্না লাল প্রায় চার দশক ধরে নেপালে পোশাকের ব্যবসা করছিলেন। ত্রিশুলি এলাকায় তাদের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। বন্যার সময় অশোক তার মেয়েকে ফোন করে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা জানান। এরপর প্রায় ২৪ ঘণ্টা তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।  পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, বন্যার পানিতে অশোকের বাড়ি, দোকান ও গুদাম ভেসে গেছে। শুধু ব্যবসা ও সম্পদ নয়, দুর্যোগের পর খাবার ও নিরাপদ পানীয় জলের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তাও সংকটে পড়ে পরিবারটি। অশোকের মেয়ে জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয়।  অশোকের পরিবারের আরও সদস্যও বন্যায় বিপদে পড়েন। তার ভাই পান্না লাল ও তার পরিবারও ত্রিশুলিতে বসবাস করতেন। বন্যার পর পরিবারের কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেলেও অশোকের ভাইয়ের স্ত্রী উষা দেবী এবং তার ছেলে রাহুলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে ২৯ আগস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টিভিকে অশোক জানিয়েছেন, ত্রিশুলি বাজারে তার সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং পরিবারের দুই সদস্য পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমনকি বন্যার পর তিনি যে পোশাকটি পরেছিলেন, সেটিও অন্যের কাছ থেকে ধার করা।  প্রতিবেদনে তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৫ কোটি ভারতীয় রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অঙ্কের স্বাধীন সরকারি যাচাই পাওয়া যায়নি। নিশ্চিতভাবে যা জানা গেছে, তা হলো কয়েক দশকের ব্যবসা, বাড়ি ও গুদাম হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। নেপালের এই বন্যা শুধু অবকাঠামো ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই ধ্বংস করেনি, বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও জীবিকার ভিত্তিও মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিয়েছে। অশোক চৌরাসিয়ার ঘটনা সেই ক্ষয়ক্ষতিরই একটি করুণ উদাহরণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৬:৫৮
আনা মারিয়া গার্সিয়া
পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরা প্রথম নারী মারিয়া গার্সিয়া, মেক্সিকোয় গড়লেন ইতিহাস

মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক এক রায়ে পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আদালত বলেছে, মুখমণ্ডল পুরোপুরি দৃশ্যমান থাকলে ধর্মীয় পোশাক হিসেবে হিজাব পরা পাসপোর্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়া এই রায়ে চিহুয়াহুয়া ও মেক্সিকো সিটির দুই মুসলিম নারীর করা মামলায় তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।  মামলাগুলোর একটি করেছিলেন মেক্সিকোর মুসলিম নারী আনা মারিয়া গার্সিয়া। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মেক্সিকো সিটিতে পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে তাকে জানানো হয়, হিজাব পরে ছবি তোলা হলে পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না। এরপর তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন।    মেক্সিকোর পাসপোর্ট বিধিমালায় সাধারণভাবে ছবি তোলার সময় মাথা অনাবৃত রাখার শর্ত রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বলেছে, ধর্মীয় কারণে কেউ হিজাব পরলে এবং তাতে তার মুখ শনাক্ত করতে কোনো সমস্যা না হলে ওই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।  আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, হিজাব মুখ ঢেকে না রাখায় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারও সমন্বয় করা যায়। এ ক্ষেত্রে হিজাব পরার কারণে পাসপোর্টের আবেদন আটকে রাখা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   রায়টি ৮-১ ভোটে গৃহীত হয়। সুপ্রিম কোর্ট একই সঙ্গে দুই মামলার আবেদনকারীকে অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হিজাব পরা ছবি ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয়।    এই সিদ্ধান্তের ফলে মেক্সিকোয় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সরকারি পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হয়েছে। তবে আদালত পাসপোর্টের ছবিতে মাথা অনাবৃত রাখার সাধারণ নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করেনি; ধর্মীয় পোশাকের ক্ষেত্রে, যখন তা মুখ শনাক্তকরণে বাধা সৃষ্টি করে না, তখন ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৬:৩৩