লেবার ডে ছুটিতে ২৩ লাখ যাত্রীর ভিড়, ব্যস্ত হয়ে উঠছে আটলান্টা বিমানবন্দর
লেবার ডে ছুটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার প্রায় ২৩ লাখ যাত্রীর সমাগমের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে পারেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১ শতাংশ বাড়তে পারে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর হবে এবারের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। ওই দিন ৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রী বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। গত বছর সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই হিসাবের তুলনায় সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি বেশি।
ছুটির সময়ে বাড়তি যাত্রী চাপের কথা বিবেচনা করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভ্রমণকারীদের আগেভাগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের নির্ধারিত উড্ডয়নের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের পার্কিং, বিমানবন্দরে নামা এবং যাত্রী নেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে পার্কিংয়ের খালি জায়গা এবং নিরাপত্তা তল্লাশির অপেক্ষার সময়ের সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থান, গেট নির্ধারণ এবং লাগেজসংক্রান্ত নিয়ম জেনে নিতে বলা হয়েছে। ছুটির সময়ে যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে প্রয়োজনীয় তথ্য আগে থেকেই যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের লাগেজও বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে তা খালি অবস্থায় যথাযথভাবে নিরাপদ করে শুধু চেক-ইন করা লাগেজে রাখতে হবে। কোন কোন জিনিস বিমানবন্দরে নেওয়া যাবে, সে বিষয়ে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের তালিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
গত বছরও লেবার ডে ছুটির সময়ে আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে ২৩ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ওই যাত্রাপর্ব ২৭ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল এবং সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন বলে তখন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
এবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লেবার ডে ছুটিতে আটলান্টা বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ৪ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় যাত্রীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো অবসরে যাওয়ার সময় একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের মুখে ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল আদালতে দেওয়া তার বিতর্কিত সাক্ষ্য এবং অতীতের ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) গত ২ মার্চ এক ইমেইলে বোভিনোকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা জানায়। এই বার্তার মাত্র ১৬ দিন পরই তড়িঘড়ি করে তিনি অবসরের আবেদন জমা দেন। মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক রেনে গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটির প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর গত জানুয়ারির শেষের দিকে বোভিনোকে তার ‘কমান্ডার অ্যাট লার্জ’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর কোনো প্রমাণ ছাড়াই বোভিনো দাবি করেছিলেন যে, প্রেটি ফেডারেল এজেন্টদের ‘গণহত্যা’ করার পরিকল্পনা করছিলেন। তার এমন মন্তব্যে সেসময় ব্যাপক রাজনৈতিক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে থেকেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বর্ডার প্যাট্রল সমালোচনার মুখে ছিল। বিশেষ করে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোঁড়ার মতো অমানবিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ সারা এলিসের একটি পর্যবেক্ষণ। তিনি লিটল ভিলেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বোভিনোকে আদালতে বারবার মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। সিবিপি কর্মকর্তারা তদন্তের অংশ হিসেবে বোভিনোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বিচারকের এই মন্তব্যের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া, মিনিয়াপোলিসের একজন বিচারককে নিয়ে তার কথিত ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে, "অর্থোডক্স অপরাধীরাও কি শনিবারে ছুটি কাটায়?" বা "মনোনীত জাতি" শীর্ষক তার বৈষম্যমূলক মন্তব্যগুলো সিবিপি’র পেশাদারিত্ব ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না, তদন্তে সেটিই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
একসঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিন বন্ধু, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বন্যা কেড়ে নিল দুজনকে, নিখোঁজ আরও একজন
ফ্লক ক্যামেরার অপব্যবহারের অভিযোগ! মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাল কর্তৃপক্ষ
লেবার ডে ছুটিতে ২৩ লাখ যাত্রীর ভিড়, ব্যস্ত হয়ে উঠছে আটলান্টা বিমানবন্দর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রায় ৯ দশমিক ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। আট বছরের মেয়াদ হিসাব করলে ঋণ বৃদ্ধির বার্ষিক গড় দাঁড়ায় প্রায় ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন ডলার। মোট অঙ্কের হিসাবে এটি কোনো পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা প্রেসিডেন্টের সময়ে সবচেয়ে বড় ঋণ বৃদ্ধি হলেও, বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হিসাবে ওবামা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। প্রেসিডেন্টদের মেয়াদে ঋণ বৃদ্ধির বার্ষিক গড় হিসাব করে তৈরি করা তালিকায় ওবামার ওপরে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ, জো বাইডেনের পূর্ণ মেয়াদ এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ এখনো চলমান। ফলে তার বর্তমান হিসাব চূড়ান্ত নয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি তার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় তা বেড়ে প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অর্থাৎ দুই মেয়াদে ঋণ বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৩২ ট্রিলিয়ন ডলার। বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হিসাবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ঋণ বৃদ্ধির বর্তমান গতিকে বার্ষিক হিসাবে হিসাব করলে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তবে এটি অসম্পূর্ণ মেয়াদের হিসাব হওয়ায় চূড়ান্ত ফল হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাইডেনের ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের পূর্ণ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ প্রায় ৮ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। চার বছরে এর বার্ষিক গড় বৃদ্ধি ছিল প্রায় ২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার। এরপর ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঋণ প্রায় ৭ দশমিক ৮০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল, যা বছরে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ওবামার পর তালিকায় রয়েছেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তার দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ প্রায় ৪ দশমিক ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছিল। আট বছরে এর বার্ষিক গড় ছিল প্রায় ৬১২ বিলিয়ন ডলার। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের মেয়াদে ঋণ বেড়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বছরে গড়ে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হিসাবগুলো নামমাত্র ডলারে করা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। ফলে পুরোনো সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্টদের সময়ে বড় অঙ্কের ঋণ বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের প্রথম দিকের কিছু ব্যয় ও বাজেট আগের প্রশাসন ও কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতার অংশ হতে পারে। এ কারণে কোনো প্রেসিডেন্টের মেয়াদে ঋণ কতটা বেড়েছে, সেই পরিসংখ্যানকে সরাসরি ওই প্রেসিডেন্টের একক দায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিবেদনের পদ্ধতিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ব্যয় ও রাজস্বসংক্রান্ত আইন অনুমোদনে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এদিকে ২০২৬ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের এই রেকর্ড উচ্চতা এবং বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের মেয়াদে ঋণ বৃদ্ধির গতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিট
নির্বাচন নিয়ে বড় শঙ্কা! মার্কিন ডাক বিভাগের নতুন পোর্টাল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
প্রেমিকের গোপন ছবি ফাঁসের হুমকিতে ২০ হাজার ডলার দাবি, তরুণী গ্রেপ্তার
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভিপি, উদ্যাপন করেছিলেন ২য় বিবাহবার্ষিকী
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য Resume পাঠানোর আগে এর ফরম্যাট, তথ্য ও শব্দচয়ন ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান Applicant Tracking System বা ATS ব্যবহার করে Resume স্ক্যান করে। এই সফটওয়্যার চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে থাকা নির্দিষ্ট Keyword, Skills ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রার্থীর Resume মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে আবেদন বাছাই করতে পারে। তবে ATS সব Resume একইভাবে যাচাই করে না এবং কোনো Resume-কে ‘১০০ শতাংশ পাস’ করানোর নিশ্চয়তাও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক Resume Guide এবং CareerOneStop-এর নির্দেশনায় ATS-এর উপযোগী সহজ ফরম্যাট ও চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, Resume-তে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ চাকরির Resume-তে ছবি, বয়স, জন্মতারিখ, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা বা বাবার নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে নিজের নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল, City ও State এবং প্রয়োজন হলে LinkedIn প্রোফাইল দিতে পারেন। পুরো বাসার ঠিকানা দেওয়াও সাধারণত প্রয়োজন হয় না। দ্বিতীয়ত, Resume-এর দৈর্ঘ্য অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ঠিক করুন। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক পৃষ্ঠা যথেষ্ট হতে পারে। তবে অভিজ্ঞ প্রার্থীর Resume প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। CareerOneStop সাধারণত দীর্ঘ কর্মজীবনের ক্ষেত্রে গত ১২ থেকে ১৫ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাই বহু বছর আগের অপ্রাসঙ্গিক চাকরির তথ্য দিয়ে Resume ভারী করার দরকার নেই। তৃতীয়ত, Job Description ভালোভাবে পড়ুন। সেখানে যে Skills ও যোগ্যতাগুলো চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা মিললে একই ধরনের Keyword Resume-তে ব্যবহার করুন। যেমন Customer Service, Cash Handling বা Inventory Management। তবে এমন কোনো Skill লিখবেন না, যা আপনার আসলে নেই। চতুর্থত, Resume-এর শুরুতেই নিজের পরিচয় ও পেশাগত যোগ্যতা পরিষ্কার করুন। নাম, যোগাযোগের তথ্যের পর একটি সংক্ষিপ্ত Professional Summary দেওয়া যেতে পারে। এতে আপনি কোন ধরনের কাজ করেন, কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরুন। নতুন গ্র্যাজুয়েট বা অল্প অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে Summary প্রয়োজন না-ও হতে পারে। পঞ্চমত, কাজের অভিজ্ঞতা শুধু দায়িত্বের তালিকা হিসেবে লিখবেন না। সম্ভব হলে কাজের ফলাফল সংখ্যা দিয়ে তুলে ধরুন। যেমন ‘প্রতিদিন ১০০-এর বেশি কাস্টমারকে সেবা দিয়েছি’ বা ‘প্রতিদিন ৫ হাজার ডলারের ক্যাশ লেনদেন পরিচালনা করেছি’। CareerOneStop-ও কাজের বর্ণনায় সংখ্যা, শতাংশ, বিক্রি বা সাশ্রয়ের পরিমাণ এবং অর্জন তুলে ধরার পরামর্শ দেয়। ষষ্ঠত, Education অংশে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির জন্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করুন। ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রাসঙ্গিক হলে গ্র্যাজুয়েশনের বছর উল্লেখ করুন। বাংলাদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার যুক্তরাষ্ট্রে সমমান নির্ধারণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক credential evaluation করা থাকলে, চাকরির ক্ষেত্রে সেটি প্রাসঙ্গিক হলে উল্লেখ করা যেতে পারে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে ভুলভাবে ‘High School Diploma’ বা অন্য কোনো মার্কিন ডিগ্রির নামে পরিবর্তন করা উচিত নয়। সপ্তমত, Skills অংশে চাকরিটির সঙ্গে সম্পর্কিত Technical বা Job-specific Skills আগে রাখুন। যেমন POS, Excel, QuickBooks বা Forklift। Soft Skills-এর ক্ষেত্রেও শুধু সাধারণ শব্দের তালিকা না দিয়ে, সম্ভব হলে Professional Summary বা কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেগুলোর প্রমাণ দেখানো বেশি কার্যকর। অষ্টমত, ATS-এর জন্য Resume-এর ডিজাইন যতটা সম্ভব সহজ রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলছে, অনেক ATS টেবিল, কলাম, ছবি, চার্ট বা গ্রাফিক্স ঠিকভাবে পড়তে পারে না। তাই একটি পরিষ্কার Single-column Layout এবং প্রচলিত Section Heading ব্যবহার করা নিরাপদ। Resume-এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Header বা Footer-এর ভেতরে না রাখাও ভালো। নবমত, Resume-এর File Format চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দিন। শুধু ATS-এর কারণে সবসময় PDF বাদ দিয়ে DOCX ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের গাইডে বলা হয়েছে, Job Posting-এ যে Format চাওয়া হয়েছে সেটিই অনুসরণ করতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট Format না দেওয়া থাকে, CareerOneStop সাধারণত PDF ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কারণ এতে ফরম্যাট ঠিক থাকে। File Name-এ নিজের নাম ও প্রয়োজনে Job Title রাখা যেতে পারে। দশমত, Resume-এর পাশাপাশি Cover Letter প্রয়োজন হলে সেটিও Job Description অনুযায়ী তৈরি করুন। কোন পদের জন্য আবেদন করছেন, আপনার কোন অভিজ্ঞতা ওই পদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে এবং কেন আপনি উপযুক্ত, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়। ChatGPT বা অন্য কোনো AI Tool দিয়ে খসড়া তৈরি করলেও তথ্য অবশ্যই নিজের হতে হবে এবং ভাষা নিজের মতো করে সম্পাদনা করা উচিত। CareerOneStop-ও Resume উন্নত করতে AI Tool ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেছে। সবশেষে, ATS পাস করানোর কোনো নির্দিষ্ট ‘৯০+’ বা ‘১০০%’ স্কোর নিশ্চিত করার পদ্ধতি নেই। বরং চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক Keyword মিল রাখা, সত্য তথ্য ব্যবহার করা এবং সহজে পড়া যায় এমন Resume তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ২০২৬ সালের Resume Guide অনুযায়ী, ATS অনেক ক্ষেত্রে Keyword ও Formatting দেখে প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে পারে। তাই সুন্দর ডিজাইনের চেয়ে সঠিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং পরিষ্কার ফরম্যাটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আমার ২০ বছরের ছেলেকে হত্যার হুমকি! ট্রাম্পের অভিযোগে ইরানের জবাব ‘জাহরা ছিল ১৪ মাসের’
ইরানে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করবেন কি না জানালেন ট্রাম্প