সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য
শিকাগোতে নতুন নিয়ম, সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে সরকারি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিগুলোকে এখন তাদের নেতৃত্বে ডাইভারসিটির তথ্য এবং আইসিইসহ বিভিন্ন সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ২৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশে এসব নিয়ম চালু করেন।   নতুন নীতির আওতায় সিটি কন্ট্রাক্টর ও সাবকন্ট্রাক্টরদের নিজেদের কর্মী ও নেতৃত্বের ডাইভারসিটি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের করপোরেট নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং ডাইভারসিটি বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।   একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি গত পাঁচ বছরে আইসিই বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যবসা করেছে কি না, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। সরকারি কন্ট্রাক্টের সঙ্গে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক বা বৈষম্যের অভিযোগের তথ্যও প্রকাশের আওতায় থাকবে।   মেয়র জনসন বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বৈষম্য শনাক্ত করা সহজ হবে। তার ভাষায়, শিকাগোর সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে কোম্পানির নেতৃত্ব শহরের যেসব মানুষের করের অর্থে ওই কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে, তাদের ডাইভারসিটিকে কতটা প্রতিফলিত করে তা জানা প্রয়োজন।   নতুন নির্বাহী আদেশে শুধু ডাইভারসিটির তথ্য নয়, কোম্পানির ব্যবসায়িক আচরণ নিয়েও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি চুরি বা নির্দিষ্ট ধরনের ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন’-এ জড়িত থাকলে সেটি সিটি কন্ট্রাক্টের জন্য অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।   এ জন্য ১২ সদস্যের একটি Ethical Procurement Standards Task Force গঠনের কথাও বলা হয়েছে। শহরের প্রধান procurement কর্মকর্তা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়মগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করবেন।   শিকাগোর এই পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনসন প্রশাসন এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি অর্থের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে চাইছে, যেগুলো ফেডারেল সরকারের অভিবাসন অভিযান বা ডিপোর্টেশন কার্যক্রমে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত।   তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে কোনো কোম্পানির আইসিইর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট থাকলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিকাগোর ব্যবসা থেকে বাদ পড়বে। বরং কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড প্রকাশের পর সিটি কর্তৃপক্ষ সেগুলো মূল্যায়ন করবে।   শিকাগো সিটি ক্লার্কের রেকর্ড অনুযায়ী, জনসনের এই নির্বাহী আদেশের নাম Executive Order 2026-6 এবং এটি ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষর করা হয়। আদেশটির লক্ষ্য হিসেবে করদাতা ও স্থানীয় কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা এবং সিটি কন্ট্রাক্টে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে শিকাগোর সরকারি অর্থ কোন কোম্পানির কাছে যাচ্ছে এবং সেই কোম্পানিগুলো অন্য সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২:১৬
স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি
স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি

সৌদি আরবের তায়েফ শহরে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় মো. কামরুল হোসেন নামে ৩৭ বছর বয়সী এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে হামলাকারী এক সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।    কামরুল হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।    স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে ঋণ করে প্রায় আড়াই থেকে তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান কামরুল। ঘটনার দিন সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করার পর কর্মস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন তিনি।   এ সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ অস্ত্র নিয়ে কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। আতঙ্কে সেখানকার অন্য কর্মীরাও পালিয়ে যান।   পরে হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই তরুণ নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলছে।    কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে তার স্ত্রী হালিমা বেগম, দুই ছেলে এবং বাবা-মা গভীর শোকে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন স্বজনরা।   পরিবারের সদস্যরা কামরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনও মরদেহ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২:১০
আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো
মৃত্যুও এখন ব্যয়বহুল! আমেরিকায় প্রিয়জনের মৃত্যুতে খরচের চাপে পরিবারগুলো

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর পর পরিবারের ওপর পড়া আর্থিক চাপও বাড়ছে। শেষকৃত্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের এই বাড়তি বোঝা বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলছে।   দেশটিতে একের পর এক বেবি বুমার প্রজন্মের মানুষ জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শেষকৃত্যের খরচও অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক উদ্বেগ হয়ে উঠছে। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি পরিবারকে সামলাতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয়।   মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি। কারণ এসব পরিবারের অনেকেই বড় ধরনের উত্তরাধিকার পাওয়ার সুযোগ কম থাকায় প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ সামলাতে নিজেদের সঞ্চয় বা আয় থেকে অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হন।   ফলে অনেক পরিবারের কাছে মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতাগুলোও ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শেষকৃত্য, দাফন বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনাতেও চাপ তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলো আগে থেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন মৃত্যুর পরের এই ব্যয় আরেকটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা

কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করে, তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম আমেরিকায় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কানাডীয় কোম্পানিগুলোকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসার আহ্বান জানান।   ট্রাম্প বলেন, কানাডীয় কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম স্থানান্তর করলে নতুন করে আরোপিত শুল্ক এড়াতে পারবে। তার প্রশাসনের নতুন শুল্ক ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।    ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়েছে এবং দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করছে। ট্রাম্প কিছু কানাডীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে দুগ্ধজাত পণ্য ও কাঠও রয়েছে। অন্যদিকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল, অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।  ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যে সুবিধা নিয়েছে। তবে বাস্তবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম হয় বলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির তথ্য উল্লেখ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।    ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে বিশেষভাবে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখনো কানাডাসহ অন্যান্য দেশের ওপর যন্ত্রাংশ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্ভরশীল। ফলে নতুন শুল্কের কারণে মার্কিন গাড়ি শিল্পেও বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তিনি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে বলেন, এমন পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।    কানাডার পাল্টা শুল্কের পর যুক্তরাষ্ট্রও আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ আরও দীর্ঘায়িত হলে সীমান্তবর্তী ব্যবসা, গাড়ি শিল্প এবং দুই দেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১:২৫
বিয়ের দুই দিন পরই ইসরায়েলি হামলায় নিহত নববধূ
বিয়ের দুই দিন পরই ইসরায়েলি হামলায় নিহত নববধূ

দক্ষিণ লেবাননের আরবসালিম শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী সজা মুসা শারারা। হামলার সময় বিয়ের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়েছিল তার। লেবাননের সরকারি ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি ও দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।    বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের ইকলিম আল-তুফাহ এলাকায় শারারার পরিবারের বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই শারারা নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছেন।    লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শারারা বিয়ের মাত্র দুই দিন আগে বিয়ে করেছিলেন এবং নতুন জীবনের শুরুতেই ওই বাড়িতে উঠেছিলেন। হামলার পর আশপাশের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক হামলার কয়েক মিনিট পর একই এলাকায় আবারও হামলা চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন বেসামরিক মানুষ আহত হন। দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য এলাকাতেও একই সময়ে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।    শারারার নিহত হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। শুক্রবার আরবসালিমে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।    দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী এসব হামলাকে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ০:৫৪
মাত্র সাড়ে সাত মাস বয়সেই নেটফ্লিক্সে অভিনয়
মাত্র সাড়ে সাত মাস বয়সেই নেটফ্লিক্সে অভিনয়! দিনে আয় ৩৬০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ৩১ বছর বয়সী অ্যামান্ডা থম্পসন স্থানীয় একটি ফেসবুক গ্রুপে কাস্টিংয়ের খবর দেখে তাঁর সাড়ে সাত মাস বয়সী ছেলে উইলিয়ামকে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ভার্জিন রিভার’-এর একটি চরিত্রের জন্য আবেদন করান। বড় কোনো প্রত্যাশা ছিল না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটিই জায়গা করে নেয় জনপ্রিয় এই সিরিজের সেটে।   অ্যামান্ডার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উইলিয়াম মোট ১৩ দিন শুটিংয়ে অংশ নেয়। প্রতিদিন আট ঘণ্টার জন্য সে পেত ৩৬০ ডলারের কিছু বেশি বিশেষ ট্যালেন্ট রেট। এমনকি একদিন সেটে মাত্র দেড় ঘণ্টা থাকলেও পুরো দিনের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তার আয় ৪ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি হয়েছে।   অ্যামান্ডা জানান, ছেলের উপার্জনের পুরো অর্থই তাঁর নামে খোলা একটি অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছে, ভবিষ্যতে কলেজের খরচে ব্যবহারের জন্য। নিজের জন্য কোনো ব্যবস্থাপনা ফি নেননি তিনি।   শুটিংয়ের সময় শিশুর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টিও কঠোরভাবে দেখা হতো বলে জানান অ্যামান্ডা। ক্যামেরার সামনে উইলিয়ামকে দেওয়ার সময় তিনি সবসময় ১০ ফুটের মধ্যে থাকতেন। প্রতিটি দৃশ্যের আগে তিনিই শিশুটিকে অভিনেতাদের হাতে তুলে দিতেন।   সেটটিতে সার্বক্ষণিক একজন বিশেষ বেবি নার্সও ছিলেন। শিশুদের কীভাবে কোলে নেওয়া হচ্ছে, তাদের কোনো অস্বস্তি হচ্ছে কি না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিরতি দেওয়া হচ্ছে কি না, এসব বিষয় তিনি নজরে রাখতেন। শিশুদের অল্প সময়ের জন্য ক্যামেরার সামনে রাখা হতো, এরপর দীর্ঘ বিরতি দেওয়া হতো। ফলে উইলিয়ামের ঘুম ও খাওয়ার স্বাভাবিক রুটিনও বেশিরভাগ সময় ঠিক ছিল।   অ্যামান্ডা পরে টিকটকে তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং ১৩ লাখের বেশি ভিউ হয়। এতে শিশু অভিনেতাদের কাজ নিয়ে অনেকের আগ্রহ তৈরি হয়।   অ্যামান্ডার ভাষ্য, বাইরে থেকে শিশুদের অভিনয় নিয়ে অনেকের যে ধারণা রয়েছে, বাস্তবে সেটের পরিবেশ তার চেয়ে অনেক বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক। উইলিয়ামের এখন একজন এজেন্টও রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে সে অভিনয় চালিয়ে যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তার ওপরই ছেড়ে দিতে চান অ্যামান্ডা।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ০:৪৪
কম পুঁজিতে বাংলাদেশিদের জন্য ১০টি ব্যবসার আইডিয়া
চাকরির বাইরে আমেরিকায় আয়! কম পুঁজিতে বাংলাদেশিদের জন্য ১০টি ব্যবসার আইডিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ বা ব্যবসা করার অনুমতি থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তুলনামূলক কম পুঁজিতে বিভিন্ন ছোট ব্যবসা শুরু করার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য, শহর ও এলাকার নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোথাও ব্যবসার লাইসেন্স, কোথাও বিশেষ অনুমতি, বীমা বা পেশাগত সনদের প্রয়োজন হতে পারে। তাই ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় নিয়মকানুন যাচাই করা জরুরি।   ১. ক্লিনিং ব্যবসা বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দিয়ে তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা শুরু করা যায়। একা কিংবা দুই-তিনজনের ছোট দল নিয়ে কাজ শুরু করে পরিচিতজন, স্থানীয় কমিউনিটি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কাস্টমার পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যবসার লাইসেন্স বা স্থানীয় অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা সংশ্লিষ্ট শহর বা অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।   ২. ফুড কার্ট বা হালাল খাবারের ব্যবসা বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটিতে হালাল খাবারের চাহিদা থাকায় ফুড কার্ট একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও অনুমতির প্রয়োজন হয়। নিউইয়র্কে খাবারের কার্ট বা ট্রাক পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স, অনুমতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের শর্ত রয়েছে।   ৩. রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি নিজস্ব গাড়ি থাকলে রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি কাজের মাধ্যমে আয় শুরু করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, বীমা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার বৈধ অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। শুধু আইটিআইএন থাকলেই সব রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   ৪. বাসাভিত্তিক শিশু যত্নের ব্যবসা নিজের বাসা থেকে শিশুদের দেখাশোনার ব্যবসা করার সুযোগ কিছু এলাকায় রয়েছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রিত একটি সেবা এবং অঙ্গরাজ্য ও এলাকার নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স বা নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। নিউইয়র্কে বাসাভিত্তিক পারিবারিক শিশু যত্নের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এ ধরনের সেবা সংশ্লিষ্ট শিশু ও পরিবারসেবা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।   ৫. কাপড়ের ব্যবসা ও অনলাইন বুটিক কম পরিসরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। থ্রিফট স্টোর থেকে পোশাক কিনে অনলাইনে বিক্রি করা কিংবা বাংলাদেশি থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও অন্যান্য পোশাক নিয়ে অনলাইন বুটিক চালু করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে স্থানীয় কাস্টমারের কাছে পণ্য পৌঁছানো যায়।   ৬. নাপিত ও বিউটি সার্ভিস চুল কাটা, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যসেবা দেওয়ার দক্ষতা থাকলে এই খাতে ব্যবসা করা যেতে পারে। কেউ বাসা থেকে সেবা দিতে পারেন, আবার চাইলে দোকানেও কাজ শুরু করতে পারেন। তবে নাপিত, কসমেটোলজি বা বিউটি সার্ভিসের লাইসেন্সের নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। তাই প্রশিক্ষণ বা ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।   ৭. নোটারি ও ভাষা সহায়তা বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ব্যক্তিরা নোটারি সেবা এবং বৈধ অনুবাদ বা নথিপত্র প্রস্তুতিতে সহায়তার কাজ করতে পারেন। তবে নোটারি পাবলিকের দায়িত্ব ও ফি অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। একইভাবে ইমিগ্রেশন বিষয়ে আইনি পরামর্শ বা প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা পেশাগত যোগ্যতা ছাড়া ইমিগ্রেশন আইনজীবীর কাজ করা যাবে না।   ৮. ট্যাক্স ও আইটিআইএন সহায়তা ট্যাক্স মৌসুমে ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত করা কিংবা আইটিআইএন আবেদনে অনুমোদিতভাবে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ অনুমোদিত গ্রহণকারী প্রতিনিধি কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইটিআইএন আবেদনে সহায়তার সুযোগ দেয়। তবে এ ধরনের কাজের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন, যোগ্যতা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে।   ৯. মুভিং হেল্প ও হ্যান্ডিম্যান সার্ভিস ফার্নিচার জোড়া লাগানো, বাসা বদলের কাজে সহায়তা এবং ছোটখাটো মেরামতের মতো দক্ষতাভিত্তিক সেবা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। এ ধরনের ব্যবসায় বড় ধরনের পণ্য মজুত রাখার প্রয়োজন না থাকায় প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে বৈদ্যুতিক কাজ, প্লাম্বিং বা নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট সেবার জন্য স্থানীয় লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।   ১০. ইউটিউব ও টিকটক কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন, চাকরি, ব্যবসা, গাড়ি চালানো, স্কুল, অভিবাসন প্রক্রিয়া ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করেও দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নীতিমালা পূরণ করতে হয়।   ব্যবসা শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় আইন ও নিয়ম জানা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন নির্বাচন, নিবন্ধন, কর শনাক্তকরণ নম্বর, লাইসেন্স, অনুমতি এবং ব্যবসায়িক বীমার বিষয়গুলো শুরুতেই যাচাই করা উচিত।   প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ থেকে নিয়োগকর্তা শনাক্তকরণ নম্বর বা ইআইএন নেওয়া যায়। যোগ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে এই নম্বর নেওয়ার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।   নতুন ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলো থেকেও পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার পরিকল্পনা, অর্থায়ন, পরিচালনা ও অন্যান্য বিষয়ে এসব কেন্দ্র সহায়তা করতে পারে।   তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে এক অঙ্গরাজ্যে যে ব্যবসা সহজে করা যায়, অন্য অঙ্গরাজ্য বা শহরে সেটির জন্য আলাদা লাইসেন্স, অনুমতি কিংবা এলাকার ব্যবহার সংক্রান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যাবে কি না, সেটিই নয়, ব্যবসা শুরুর আগে স্থানীয় আইন, কর, লাইসেন্স, অনুমতি ও বীমার বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ০:৩৭
বিমানবন্দরে নবজাতককে নিয়ে আটকে বাবা
বিমানবন্দরে নবজাতককে নিয়ে আটকে বাবা, অপরিচিত বৃদ্ধার ঘরে মিলল আশ্রয়

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ফিনিক্সে মাত্র চার দিনের নবজাতক মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন রুবিন সুইফট। মেয়ের হেফাজত পাওয়ার পর তাকে নিয়ে ক্লিভল্যান্ডে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, সাত দিনের কম বয়সী শিশু বিমানে ভ্রমণ করতে পারে না। ফলে হাসপাতালের ভ্রমণ উপযোগী ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দর থেকে তাকে ও তার মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।    হঠাৎ করেই ফিনিক্সে নবজাতক মেয়েকে নিয়ে আটকে যান সুইফট। হোটেলে থাকার বা গাড়ি ভাড়া করার মতো পর্যাপ্ত অর্থও তার হাতে ছিল না। কী করবেন বুঝতে না পেরে তার মনে পড়ে হাসপাতালে পরিচিত হওয়া ৭৮ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবী জয় রিংহোফারের কথা।   রিংহোফার ব্যানার ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের এনআইসিইউতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। সুইফটের মেয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। বিপদের কথা জানিয়ে ফোন করতেই রিংহোফার তাকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। তিনি নিজেই বিমানবন্দরে গিয়ে সুইফট ও তার নবজাতক মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।    পরবর্তী কয়েক দিন নিজের বাড়িতেই বাবা-মেয়েকে থাকার ব্যবস্থা করেন তিনি। শিশুটির বয়স সাত দিন না হওয়া পর্যন্ত তাদের খাবার, থাকার জায়গা ও প্রয়োজনীয় যত্ন দেন। রিংহোফার পরে জানান, সুইফটকে সাহায্য করার তীব্র তাগিদ তিনি অনুভব করেছিলেন।   সুইফটের কাছেও ঘটনাটি হয়ে ওঠে মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। তাদের বয়স ও বর্ণের পার্থক্য কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি বলেও তিনি জানান। বরং রিংহোফারের আন্তরিকতায় তিনি তাকে নিজের মেয়ের ‘দাদি’ হিসেবেই ভাবতে শুরু করেন।    সাত দিন বয়স পূর্ণ হওয়ার পর সুইফট ও তার মেয়ে আবার ফ্লাইটে করে ক্লিভল্যান্ডে ফিরতে পারেন। ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্স তাদের নতুন ফ্লাইটে পুনরায় বুক করে এবং এ জন্য পরিবর্তন ফি নেয়নি।    বিমানযাত্রার একটি নিয়মের কারণে শুরু হওয়া এই বিপদ শেষ পর্যন্ত রক্তের সম্পর্কের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক স্মরণীয় গল্প হয়ে ওঠে। অপরিচিত একজন বাবা ও তার নবজাতক মেয়ের জন্য নিজের ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন একজন বৃদ্ধা, আর সেই মানবিকতা তাদের জীবনে তৈরি করেছিল এক অপ্রত্যাশিত পারিবারিক বন্ধন।

প্রকাশ : আগস্ট ৩১, ২০২৬ ০:২০
২০ বছর বয়সে মেলিসার সঙ্গে প্রথম দেখা হয় তাঁর জন্মদাতা মা আনলিয়ার। ছবি: সংগৃহীত
২০ বছর পর কর্মস্থলে হঠাৎ মেয়ের দেখা, কিশোরী বয়সে দত্তক দেওয়া সন্তানকে ফিরে পেলেন মা

চৌদ্দ বছর বয়সে জন্ম দেওয়া কন্যাসন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দিতে হয়েছিল বাধ্য হয়ে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ দুই দশক। বুকের ভেতর জমে থাকা অপরাধবোধ আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ঠিক বিশ বছর পর কর্মক্ষেত্রে হঠাৎ হাজির হয় সেই সন্তান। হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে ফিরে পাওয়ার এমনই এক অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইক।   ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯২ সালে। তখন অ্যানলিয়া বলিঙ্গার রজার্স নামের ওই নারীর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। পরিবারের সঙ্গে অন্য একটি অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার ঠিক আগে তার ১৩ বছর বয়সী প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অল্প বয়সের ভয় আর সংকোচে প্রায় সাত মাস পর্যন্ত তিনি এই বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে এক বন্ধুর সহযোগিতায় বাবা মাকে বিষয়টি জানান। বাবা মা কোনো রাগ না দেখিয়ে বরং মেয়ের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।   পরবর্তীতে একটি দত্তক সংস্থার মাধ্যমে গর্ভস্থ সন্তানের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবার খুঁজে নেওয়া হয়। উভয় পক্ষের সম্মতিতে উন্মুক্ত দত্তক বা ওপেন অ্যাডপশনের সিদ্ধান্ত হয়, যেখানে আইনি কোনো তথ্য গোপন থাকবে না এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর সন্তানের ছবি ও খবর পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ১৯৯৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মেলিসা অ্যান নামের একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন অ্যানলিয়া। হাসপাতালে দুই দিন নবজাতকের সঙ্গে কাটিয়ে এক বুক শূন্যতা নিয়ে দত্তক নেওয়া পরিবারের হাতে মেয়েকে তুলে দেন তিনি।   সন্তান হস্তান্তরের পর প্রথম পাঁচ বছর মেলিসার জন্মদিনে চিঠি এবং ছবি পাঠাত ওই পরিবার। কিন্তু পাঁচ বছর পর কোনো এক অজানা কারণে সেই নিয়মিত আপডেট আসা বন্ধ হয়ে যায়। অ্যানলিয়া নিজের জীবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি পড়াশোনা শেষ করেন, বিয়ে করেন এবং তার ঘরে আরেকটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটলেও তিনি দুই মেয়েকে মনে লালন করতেন। ২০১১ সালে মেলিসার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলেও কোনো যোগাযোগ না পেয়ে অ্যানলিয়া একরকম আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।   তবে ২০১৩ সালে ঘটে জীবনের সবচেয়ে বড় মিরাকল। অ্যানলিয়া তখন একটি কলেজের আর্থিক সহায়তা বিভাগে কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার অফিসে এক অচেনা পুরুষ এসে জানান যে তিনি অনেক খোঁজাখুঁজির পর একজনকে নিয়ে এসেছেন, যিনি বহু বছর ধরে অ্যানলিয়ার দেখা পেতে ব্যাকুল ছিলেন। ওই ব্যক্তি ছিলেন মেলিসার দত্তক নেওয়া বাবা। জানালার দিকে তাকিয়ে অ্যানলিয়া দেখতে পান ২০ বছর বয়সী মেলিসা দাঁড়িয়ে আছে। নিজের হুবহু প্রতিচ্ছবি আর ছোট মেয়ের মতো অবয়ব দেখে হতবাক হয়ে পড়েন অ্যানলিয়া।   সেদিন কাজের ছুটি নিয়ে মা ও মেয়ে একটি গাছের নিচে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেন। মেলিসা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি তার জন্মদাত্রী মায়ের কথা জানতেন। তবে দত্তক নেওয়া বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় যোগাযোগের সূত্রটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে পরিবারের সবাই মিলে খাবার খাওয়ার মাধ্যমে মেলিসার সঙ্গে তার সৎ বোনের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং মুহূর্তেই তাদের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।   তিন দশকেরও বেশি সময় পর আজ মেলিসা ও অ্যানলিয়ার সম্পর্ক কেবল মা মেয়ের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপ নিয়েছে গভীর এক বন্ধুত্বে। এমনকি অ্যানলিয়ার পরবর্তী বিয়েতে ব্রাইডসমেড হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলিসা। অতীতের সব সংশয় ও ভয় দূর হয়ে তাদের জীবনে এখন কেবল ভালোবাসাই অবশিষ্ট রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২৩:৪২
পরিবারসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। ছবি: সংগৃহীত
পরিবারসহ পড়তে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ১৪টি দেশ, কোন দেশে কেমন নিয়ম ও কাজের সুযোগ

বিবাহিত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিবার পেছনে ফেলে যাওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তবে বিশ্বের এমন ১৪টি দেশ রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ডিপেন্ডেন্ট ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের মাধ্যমে এই সুযোগ দেওয়া হলেও দেশভেদে এই ভিসার নিয়মকানুন এবং কাজের অনুমতিতে রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা।   নাইজেরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লেজিট ডট এনজি এবং ভ্যানগার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের পূর্ণকালীন কাজের অধিকার দিলেও অন্য দেশগুলোতে এ ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   যেসব দেশে পরিবারের জন্য নিয়মকানুন অপেক্ষাকৃত সহজ, তার মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। দেশ দুটিতে শিক্ষার্থীরা মূল ভিসা আবেদনের সময়ই পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করতে পারেন কিংবা পরবর্তীতে আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীরা কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়া কাজ করার সুযোগ পান। তবে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা সাধারণত প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। কানাডায় যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীকে মূল ভিসার মেয়াদের সমান সময়ের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়।   জার্মানিতে অন্তত এক বছর মেয়াদি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবার নিয়ে যেতে পারেন। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, উপযুক্ত বাসস্থান, বিবাহ সনদ, সঙ্গীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ের জার্মান ভাষা জানার প্রমাণ দেখাতে হয়। জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের যোগ্য সঙ্গীরা কাজেরও অনুমতি পান।   ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ডও পরিবার নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। ডেনিশ এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন বা সিরি এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বসবাসের অনুমতি পেলে সঙ্গীরা পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন। এছাড়া সুইডেন এবং নিউজিল্যান্ডেও শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য বসবাসের অনুমতির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নেদারল্যান্ডসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা বসবাসের অনুমতি পেলেও সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পান না।   অন্যদিকে কিছু দেশ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের নীতিমালা কঠোর করেছে। নতুন নিয়মে কেবল পিএইচডি, অন্যান্য ডক্টরেট ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট কিছু গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরাই পরিবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহনকারী সরকারি বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের কোর্স ছয় মাসের বেশি, তারাও এই সুবিধা পান। এই সুবিধার আওতায় স্বামী, স্ত্রী বা অন্তত দুই বছর ধরে একসঙ্গে বসবাসকারী অবিবাহিত সঙ্গীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।   এদিকে পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসার আবেদন করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন সংস্থা ইউকেভিআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদনে দেরি হলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। আবেদনের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট এবং ক্যাস বা কনফার্মেশন অব এক্সেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ সহ ছয়টি মূল বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে এফ ১ ভিসা নিয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ ২ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এফ ২ ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজের অনুমতি নেই।   সিঙ্গাপুরে এই নিয়ম বেশ কঠোর। স্নাতক বা অধিকাংশ স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরা সাধারণ স্টুডেন্ট পাসের মাধ্যমে পরিবার নেওয়ার সুযোগ পান না। সেখানে পরিবারের সদস্যদের জন্য লং টার্ম ভিজিট পাসের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হতে পারে।   মালয়েশিয়ায় মাস্টার্স বা পিএইচডির মতো দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিবারের জন্য ডিপেন্ডেন্ট পাসের আবেদন করতে পারেন।   হংকংয়ে স্থানীয় পূর্ণকালীন ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে আলাদা অনুমতি ছাড়া তারা কাজ করতে পারেন না।   চীনে ১৮০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য এস ১ ভিসা এবং স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের জন্য এস ২ ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন।   শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিদেশে পড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।   সূত্র: লেজিট ডট এনজি ও ভ্যানগার্ড

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২৩:১৮
ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার, পাশেই জমে আছে নোংরা পানি। ছবি: সংগৃহীত
ইঁদুর, প্রস্রাব ও কুকুরের মুখ দেওয়া মাংস: লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট ফুড ঘিরে ১০ হাজার অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে

রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে ক্রেতাদের পরিবেশন করার আগে সেই মাংস খাচ্ছে একটি কুকুর। আরেকটি ফুড ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসছে তেলাপোকা। খোলা সস বা চাটনির পাশ দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। তীব্র গরমে রেফ্রিজারেটরের বাইরে রাখা আছে কাঁচা মাংস। এমনকি রান্নার সরঞ্জামের আশপাশেই লোকজন প্রস্রাব করছে। এগুলো কোনো কাল্পনিক হরর সিনেমার দৃশ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রাস্তার ধারের খাবার বা স্ট্রিট ফুডের বাস্তব চিত্র।   ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৯ হাজার ৭৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬৬২ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা তথ্যগুলো উঠে এসেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস চলতি সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ম ভঙ্গকারী স্ট্রিট ভেন্ডর বা রাস্তার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক এমন একটি সময়ে এই ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা জনসমক্ষে এল। সমালোচকরা মনে করছেন, মেয়রের এই পদক্ষেপের ফলে অনুমতিবিহীন খাবারের গাড়িগুলো শহরজুড়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে জমা পড়া এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নথিতে পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, হাথর্ন বুলেভার্ডের কাছের একটি টাকো স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মীদের হাত ধোয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং তারা গ্লাভস পরিবর্তন করছিলেন না। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি কুকুর থলে থেকে মাংস খাচ্ছিল এবং বিক্রেতা সেই থলে থেকেই ক্রেতাদের মাংস পরিবেশন করছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযোগের ফাইলটি কেবল বন্ধ বা ক্লোজড হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্স এর কাছাকাছি এলাকার আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে খোলা অবস্থায় সালসা ও অন্যান্য মশলা রাখা ছিল এবং সেখানে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। সেই অভিযোগটি বাতিল বা ক্যানসেলড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস সৈকত এলাকার একটি অভিযোগে বলা হয়, হট ডগ, বন রুটি এবং অন্যান্য খাবার সারাদিন রোদে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তগুলোর অর্থ বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের বদলে বড় সংগঠনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, যারা মূলত এই ফুটপাতের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।   লস অ্যাঞ্জেলেস বিজনেস ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ওয়াল্ডম্যান স্ট্রিট ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তালিকাকে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যদি তার কর্মীরা হাত না ধোয়, মাখন বাইরে ফেলে রাখে বা তাদের ফ্রিজ নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য গরম থাকে। অথচ রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের কোনো শৌচাগার নেই, কর্মীরা হাত ধুচ্ছেন না এবং তাদের কোনো রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও নেই।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বিজনেস ফেডারেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসন কমিটির কো চেয়ারম্যান জর্জ ফ্রান্সিসকো জানান, এই অভিযোগগুলো তার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য বিক্রেতাদের সিটি ভেন্ডিং পারমিট বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। যারা খাবার বিক্রি করেন, তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পারমিটও নিতে হয়। কাউন্টি মূলত খাদ্যের নিরাপত্তা তদারকি করে, আর শহর কর্তৃপক্ষ বিক্রেতারা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণ করে।   হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বিক্রেতা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬৮৭টি সক্রিয় ভেন্ডিং পারমিটের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি পারমিট ছিল খাবার বিক্রেতাদের জন্য।   মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্ট্রিট ভেন্ডরদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলেও বা স্থায়ী দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করলেও বিক্রেতাদের যেন অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা না হয়। তবে তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলওম্যান নিথিয়া রমন। তিনি মনে করেন, শহর কর্তৃপক্ষের উচিত বিক্রেতাদের পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একইসাথে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।   পিকো ইউনিয়ন এলাকার এল সালভাদর করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসিয়েছেন। রাস্তায় তেল ও নোংরা পানি গড়িয়ে পড়ছে। এল সালভাদর করিডোর অ্যাসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা রাউল ক্লারোস জানান, এই এলাকায় এখন ১২০ জনেরও বেশি স্ট্রিট ভেন্ডর ভিড় জমিয়েছেন। তিনি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ না করে তাদের পারমিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বাজারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে রেফ্রিজারেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকবে।   ফুটপাতে এই অবৈধ ব্যবসার কারণে স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এল কোরেডর রেস্তোরাঁর মালিক মিগুয়েল কারানজা এবং তার স্ত্রী ইরমা দিয়াজ জানান, তারা একসময় ফুটপাতেই ব্যবসা করতেন। এরপর তারা ফুড ট্রাক এবং ২০১০ সালে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কিন্তু এখন ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কারণ, ফুটপাতের বিক্রেতাদের রেস্তোরাঁর মতো ভাড়া বা অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় না। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ব্রেন্ডা মনটোয়া জানান, করোনা মহামারির আগে এই এলাকার অর্থনীতি অনেক ভালো ছিল, কিন্তু ফুটপাতে বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২২:৪০
দাম্পত্য জীবনে রোমান্স ফেরাতে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন অনেক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যাওয়া অন্তরঙ্গতা ফেরাতে থেরাপিস্ট নয়, বরং এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন দম্পতিরা

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে।   জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না।   পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন।   সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়।   আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা।   জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়।   দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য।   আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।   গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি।   জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে।   দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।   এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে।   তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন।   এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।   তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি।   জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।   ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২২:১৭
নিজের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে হাজারো প্রাণ বাঁচানো প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় স্কুল ভেসে যাওয়ার আগে ঘণ্টা বাজিয়ে ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বাঁচালেন প্রধান শিক্ষক

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঠিক আগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পানি ও কাদার প্রবল স্রোত স্কুল ভবনের দিকে এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে তিনি ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেন। পরে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনতলা স্কুল ভবনটি বন্যার স্রোতে ভেসে যায়।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ত্রিশূলী বাজার এলাকায়। সেখানে ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি ওই দিন ভয়াবহ বিপদের সতর্কবার্তা পান। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ৪৭ বছর বয়সী দাওয়াদির কাছে উজানের বেত্রাবতী এলাকা থেকে এক বন্ধু ফোন করেন। তিনি জানান, নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে নিচের দিকে আসছে এবং উজানের একটি এলাকা ইতোমধ্যে পানির স্রোতে ভেসে গেছে। স্কুলের দিকে বন্যার পানি এগিয়ে আসতে পারে বুঝতে পেরে দাওয়াদি আর সময় নষ্ট করেননি।   সেই সময় স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বাসে করে স্কুলের দিকে আসছিল। পরিস্থিতি বুঝে প্রধান শিক্ষক সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শুধু স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিলেই তিনি থামেননি। তিনি মনে করেন, স্কুলবাসে করে যারা তখনও আসছিল, তারাও একই বিপদের মধ্যে পড়তে পারে। এরপর তিনি একে একে বাসচালকদের ফোন করে ফিরে যেতে বলেন। কয়েকটি বাসকে তিনি স্কুলের দিকে না এসে নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে সক্ষম হন।   একটি বাসের চালকের সঙ্গে অবশ্য তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে সেটিকে স্কুলের কাছের একটি সেতু দিয়ে আসতে দেখে দাওয়াদি নিজেই চালককে থামার সংকেত দেন এবং ফিরে যেতে বলেন। বাসটি ফিরে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি বন্যার পানির চাপে ভেঙে পড়ে বলে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ভয়াবহ বন্যার স্রোত স্কুল এলাকায় পৌঁছে যায়।   ত্রিশূলী নদীর পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে তিনতলা স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। ভবনটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, পরে সেখানে কেবল ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্তর দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, নদীর স্রোত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ও সেতুসহ বিস্তীর্ণ এলাকার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান শিক্ষক দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বন্যার স্রোত আঘাত হানার আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।   তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। অনলাইনখবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল থেকে বের হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে প্রায় তিন দিন আটকে ছিলেন। পরে ২৮ আগস্ট দাওয়াদি ও আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় স্কুলের দুই কর্মীর মৃত্যুর কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তাদের মৃত্যুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর তথ্য এক নয়। তাই তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অতিরিক্ত দাবি করা হচ্ছে না।   নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। নেপালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এই দুর্যোগে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ত্রিশূলী উপত্যকার এই দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় স্কুলটির ধ্বংসের মধ্য দিয়ে। যে ভবনে সেদিন সকালেও শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেটি আর ছিল না। কিন্তু ভবনটি ধ্বংস হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটি বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   রাজেন্দ্র দাওয়াদির ঘটনাটি তাই শুধু একজন প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তের গল্প নয়। এটি দুর্যোগের সময় কয়েক মিনিটের সতর্কতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ। উজান থেকে পাওয়া একটি ফোনকলকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি যদি অপেক্ষা করতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। দুর্যোগের পর এখন স্কুলটি কোথায় এবং কীভাবে আবার চালু করা হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।   প্রকৃতির এমন আকস্মিক দুর্যোগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানই কখনো কখনো জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করে। ত্রিশূলী উপত্যকায় সেদিন রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্ত সেই কয়েক মিনিটকেই কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।   সংবাদসূত্র: দ্য টাইমস, বিডিনিউজ২৪

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২১:৫৪
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বহু দর্শনার্থী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন হাইকার ও ব্যাকপ্যাকার নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোরে হাঁটছিলেন, কেউ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ নর্থ কাইবাব ট্রেইল ধরে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতেও পড়ে। এতে নদীপথে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   এনপিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। ৩০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ ও নর্থ কাইবাব ট্রেইলের নিচের অংশ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের মাসউইক লজ ক্যাফেটেরিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে আমেরিকান রেড ক্রস তাদের সহায়তা করছে। প্রথম দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজের মতো অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিল। পরে যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ জনে নেমে আসে। তাদের মধ্যে কারা রয়েছেন বা তারা কোন এলাকার বাসিন্দা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে।   বিশেষ করে নর্থ কাইবাব ট্রেইলহেড থেকে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ পর্যন্ত যাতায়াত করা হাইকার, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উত্তরে ‘দ্য বক্স’ নামে পরিচিত এলাকায় থাকা বা চলাচল করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারও পরিচিত ব্যক্তি ওই এলাকায় ছিলেন বলে জানা থাকলে তার নাম, আনুমানিক অবস্থান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, দলের সদস্যসংখ্যা কিংবা পোশাক ও ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। বন্যার সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে ক্যানিয়নের ভেতর দিয়ে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। বড় বড় পাথর, গাছের অংশ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পানির সঙ্গে ভেসে যায়। একজন হাইকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বৃষ্টির পর তারা হঠাৎ করে খালে পানি বেড়ে যেতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে জলপ্রপাতের মতো পানি নেমে আসতে এবং পাথর, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান।   প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের গতিপথও বদলে গেছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্যানিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সেতু, ট্রেইল, পানি ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে। বন্যার পর ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপরের ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকা কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।   আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখনো কাটেনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার আরও বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাথর ধস এবং ট্রেইল ও নদীর পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই বন্যার পেছনে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি গত বছরের ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই দাবানলে নর্থ রিমের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলাধার ও উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ডে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।   ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কর্মকর্তারা এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কতা উন্নত করতে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উজানে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ মাপার যন্ত্র ও অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার আকস্মিকতা ও স্রোতের শক্তি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এমন আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্যানিয়নের গভীর ও খাড়া ভূপ্রকৃতির কারণে ওপরের দিকে বৃষ্টি হলেও নিচের অংশে হঠাৎ করে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বৃষ্টি না হলেও ক্যানিয়নের ভেতরের নদী, খাল বা নিচু এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।   এদিকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগ সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরও বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। দুর্গম ক্যানিয়নের ভেতরে বন্যার পর বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হওয়া সেতু এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পথ উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর নিখোঁজ হাইকারদের সন্ধান এবং নতুন করে কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর দিকে।   সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২১:২৮
দূর থেকে দেখা ছোট আকৃতির এই অবয়বটি প্রথমে মানুষ মনে করেছিলেন এক পথচারী। পরে ছবিই তৈরি করেছে নতুন রহস্য। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কের জলাভূমিতে ছবি তুলতে গিয়ে তরুণীর ক্যামেরায় ধরা পড়লো রহস্যময় প্রাণী

নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলের একটি নির্জন জলাভূমিতে তোলা দুটি অস্পষ্ট ছবি ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রহস্য ও বিতর্ক। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পানির ধারে ঝুঁকে থাকা ছোট আকৃতির এক মানবসদৃশ অবয়ব। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, প্রথমে তিনি এটিকে পানিতে নামা একজন মানুষ ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে অবয়বটি ঘুরে তাঁর দিকে তাকালে সেটিকে অস্বাভাবিক মনে হয়।   ছবিগুলো এখন ‘সিরাকিউজ ফিগার’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কেউ এটিকে কিংবদন্তির বিগফুট বা স্যাসকোয়াচের সম্ভাব্য উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সংশয়বাদীদের ধারণা, এটি হয়তো একজন মানুষই, যিনি নির্জন জলাশয়ে পানিতে নেমেছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে ১০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ওনন্ডাগা কাউন্টির একটি গ্রামীণ এলাকায়। বিগফুট ফিল্ড রিসার্চার্স অর্গানাইজেশন বা বিএফআরওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী কেডি ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সংস্থাটি তাঁর গোপনীয়তার কারণে পুরো নাম প্রকাশ করেনি এবং জলাশয়টির সঠিক অবস্থানও এখনো গোপন রেখেছে।   বিএফআরওর তথ্য অনুযায়ী, কেডি ১০ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে একটি নির্জন জলাশয় ও জলাভূমির এলাকায় হাঁটতে যান। তিনি নিয়মিত ছুটির দিনে প্রকৃতির মধ্যে হাঁটাহাঁটি করতেন। সেদিন সেখানে পৌঁছে পার্কিং এলাকায় অন্য কোনো গাড়ি বা মানুষের উপস্থিতি দেখতে পাননি। জলাশয়ের কাছে গিয়ে ছবি তোলার সময় হঠাৎ তাঁর নজরে আসে পানির ধারে কিছু একটা নড়াচড়া করছে। প্রায় ২৪০ ফুট বা ৭২ দশমিক ৬ মিটার দূরে থাকা অবয়বটিকে প্রথমে তিনি পানিতে নামা একজন নগ্ন পুরুষ বলে মনে করেছিলেন। এরপর তিনি কয়েকটি ছবি তোলেন।   কেডির বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ছবিটি তোলার সময় অবয়বটি মাথা ঘুরিয়ে তাঁর দিকে তাকায়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরে ছবিগুলো দেখার পর তাঁর কাছে অবয়বটিকে আরও অস্বাভাবিক মনে হয়। বিএফআরওকে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, সেটিকে তাঁর কাছে ‘মানুষের মতো মনে হয়নি’। ছবিতে দেখা অবয়বটি আংশিকভাবে জলাভূমির লম্বা ঘাস ও অন্যান্য উদ্ভিদের আড়ালে রয়েছে। ফলে শরীরের আকৃতি বা মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। ছবিগুলো একটি আইফোন ১৭ দিয়ে তোলা হয়েছিল বলে বিএফআরও জানিয়েছে।   ঘটনাটিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণ হলো, বিএফআরওর একজন তদন্তকারী পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে একই জায়গায় ছবি তোলার পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেন। তদন্তকারী বেন সি. জানান, পানির মধ্য দিয়ে ওই জায়গায় পৌঁছানো সহজ ছিল না। সেখানে পানির নিচে পড়ে থাকা গাছের অংশ, শিকড়, ঘন উদ্ভিদ এবং কোমরসমান কাদার গর্ত ছিল। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লেগেছিল নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাতে এবং পথ চলার সময় তিনি শরীরেও আঁচড় পান। স্থলপথেও জায়গাটিতে পৌঁছানো কঠিন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘন ঝোপঝাড়, কাদা ও কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদের কারণে সেখানে হাঁটা বেশ কষ্টকর ছিল। তবে এই বিষয়টি কোনোভাবেই প্রমাণ করে না যে একজন মানুষ সেখানে যেতে পারেন না। বরং এটি শুধু দেখায় যে জায়গাটি সাধারণভাবে মানুষের পানিতে নামা বা সাঁতার কাটার জন্য সহজ কোনো স্থান নয়।   তদন্তের সময় বেন সি. নিজের প্রায় ৬ ফুট উচ্চতাকে ছবির একটি দৃশ্যমান স্থানের সঙ্গে তুলনা করে অবয়বটির উচ্চতা আনুমানিক ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি বা প্রায় ১ দশমিক ৪৪ মিটার বলে হিসাব করেন। তাঁর মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের জন্য এই উচ্চতা অত্যন্ত কম। তবে এটি সরাসরি মাপ নয়, ছবির ওপর ভিত্তি করে করা একটি আনুমানিক হিসাব। এই উচ্চতার হিসাব থেকেই বিগফুটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। বিএফআরওর তদন্তকারীদের একটি ধারণা হলো, যদি অবয়বটি সত্যিই স্যাসকোয়াচ হয়, তবে এটি পূর্ণবয়স্ক নয়, বরং একটি কম বয়সী বিগফুট হতে পারে। ছবিতে দেখা একটি সম্ভাব্য ভ্রূরেখাকেও তাঁরা এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আরেক তদন্তকারী ম্যাথিউ মোনেমেকারের মতে, অবয়বটির শরীরে যে অংশকে ঢিলে চামড়ার মতো মনে হচ্ছে, সেটি আসলে পানিতে ভেজা লোমও হতে পারে।   তবে বিগফুটের অস্তিত্ব এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তাই ছবিতে দেখা অবয়বটিকে স্যাসকোয়াচ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বিএফআরওর মূল প্রতিবেদনেও মানব অবয়বের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বরং সংস্থাটি জানিয়েছে, ছবির দূরত্ব এবং অস্পষ্টতার কারণে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অনলাইনে ছবিগুলো প্রকাশের পর সংশয়বাদীদের প্রতিক্রিয়াও কম নয়। অনেকেই মনে করছেন, ছবিতে দেখা অবয়বটি আসলে একজন বয়স্ক ও ভারী গড়নের মানুষ হতে পারেন, যিনি নির্জন জায়গায় পানিতে নেমেছিলেন। কারও কারও মতে, দূরত্ব, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ, ঘাসের আড়াল এবং ছবির অস্পষ্টতার কারণে মানুষের শরীরকে অস্বাভাবিক বা অন্য কোনো প্রাণীর মতো দেখাতে পারে।   বিএফআরও অবশ্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি জলাশয়টির সঠিক অবস্থান প্রকাশ না করার একটি কারণও জানিয়েছে। যদি এটি সত্যিই কোনো মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি নিজে সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাস্থলের অবস্থান জানাতে পারবেন। অন্যদিকে ভুল দাবি বা বানানো তথ্য যাচাই করাও এতে সহজ হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ঘটনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা ছবির অবয়বটিকে বিগফুট হিসেবে নিশ্চিত করতে পারে। কোনো নমুনা, নির্ভরযোগ্য পদচিহ্ন, লোম বা ডিএনএ প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আপাতত ‘সিরাকিউজ ফিগার’ একটি রহস্যময় ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক হিসেবেই রয়েছে।   অর্থাৎ, এটি সত্যিই কোনো অজানা প্রাণী, কম বয়সী স্যাসকোয়াচ, নাকি নির্জন জলাশয়ে থাকা একজন মানুষ, তার উত্তর এখনো মেলেনি। ছবি দুটি রহস্য তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু রহস্য তৈরি হওয়া আর কোনো অজানা প্রাণীর অস্তিত্ব প্রমাণ হওয়া এক বিষয় নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘সিরাকিউজ ফিগার’কে ঘিরে প্রশ্নটিই তাই সবচেয়ে বড় হয়ে থাকছে।   সূত্র: ফক্স নিউজ

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২১:৯
মেরিল্যান্ডের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার
মেরিল্যান্ডের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার

মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ মহাসড়কে শনিবারের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামিমা বেগম ও তার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবাহ জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভার্জিনিয়ার বার্ক ও আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।    আগামীকাল সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জোহরের নামাজের পর গেইথার্সবার্গের ইসলামিক সেন্টার অব মেরিল্যান্ডে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে ফ্রেডেরিকের আল-ফিরদাউস মেমোরিয়াল গার্ডেনসে।   ২৯ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটের দিকে বেথেসডায় ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের দক্ষিণে আই-২৭০-এর দক্ষিণমুখী লেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি ফোর্ড মুস্তাং ভুল পথে উত্তরমুখী হয়ে দক্ষিণমুখী লেনে ঢুকে পড়ে। পরে সেটি একটি টয়োটা ক্যামরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।    শামিমা বেগম ও আরিবাহ জাহিন ওই টয়োটা ক্যামরির যাত্রী ছিলেন। গাড়িটিতে আরও ছিলেন ৬২ বছর বয়সী ওই পরিবারের কর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, এবং ৮ বছর বয়সী তাদের ছোট মেয়ে। দুর্ঘটনার পর তাদের দুজনকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।    অন্যদিকে ফোর্ড মুস্তাংয়ের চালক হিসেবে ৩২ বছর বয়সী জার্মানটাউনের বাসিন্দা হোসে কাবায়েরো নোলাসকোকে শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।    পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা ব্যাহত হওয়া দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নোলাসকোর বিরুদ্ধে দুইটি গ্রস নেগলিজেন্ট ম্যানস্লটার, অ্যালকোহলের প্রভাবে মোটরযান চালিয়ে মৃত্যুর অভিযোগে দুইটি মামলা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে এমন আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কোর্ট কমিশনারের সামনে হাজিরার অপেক্ষায় রয়েছেন।    মা ও মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হওয়ায় তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য কমিউনিটির সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২০:১২
ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা
ইরানের লারাক দ্বীপে হা মলার প্রতিশোধে জর্ডানে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হা মলা

লারাক দ্বীপে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত আইআরজিসির একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ‘পানিশমেন্ট অব দ্য অ্যাগ্রেসর’ বা ‘আগ্রাসীর শাস্তি’ নামের এই বিশেষ সামরিক অভিযানে মিসাইল ও ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।   বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফল অভিযানের মাধ্যমে জর্ডানের কিং হুসেইন এবং আল আজরাক ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে।   আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় শত্রুপক্ষের প্রযুক্তিগত ও মেরামত অবকাঠামোর পাশাপাশি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার যে মরিয়া চেষ্টা শত্রুরা করছে, আগ্রাসন ও অপরাধ দিয়ে তার কোনো সমাধান হবে না।   তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর শত্রুদের করা প্রতিটি হামলার আরও ধ্বংসাত্মক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৯:৫২
আটলান্টায় পার্কিং নিয়ে চালকদের ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন আইন, নাম ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’
আটলান্টায় পার্কিং নিয়ে চালকদের ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন আইন, নাম ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ব্যক্তিগত পার্কিং লট পরিচালনাকারীদের আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং চালকদের পার্কিংয়ের আগে সুস্পষ্ট তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের নেতারা প্রস্তাবিত এই নতুন আইনটির নাম দিয়েছেন ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’।   আটলান্টার চালকরা দীর্ঘদিন ধরেই কোথায় এবং কীভাবে পার্কিংয়ের বিল পরিশোধ করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিলেন। অনেকেই কিয়স্ক খুঁজে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে জরিমানার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন। এই বিশৃঙ্খলা দূর করতেই কাউন্সিল মেম্বার জেসন ডজিয়ার আইনটি প্রস্তাব করেছেন, যা সোমবার পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।   প্রস্তাবিত এই বিলটি অনুমোদিত হলে পার্কিং লটগুলোতে মূল্য তালিকা এবং মূল্য পরিশোধের মাধ্যমগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো বাধ্যতামূলক হবে। শুধুমাত্র টেক্সট বা কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া হলে চালকদের তা আগেই জানাতে হবে অথবা বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে।   এছাড়া কোনো চালক পার্কিং লটে প্রবেশের পর যদি সেখানে গাড়ি না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাকে বিনা খরচে লট ত্যাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দিতে হবে।   নতুন নিয়মে লটগুলোতে কাস্টমার সার্ভিসের ফোন নম্বর বা ওয়েবসাইট, কার্য পরিচালনার সময়, পরিচালনাকারীর নাম এবং ধারণক্ষমতার তথ্যও স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি পার্কিং লটটি ক্যাশলেস কি না, কর্মী আছে কি না বা গেট রয়েছে কি না, সে বিষয়গুলোও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।   জরিমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে যুগান্তকারী স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। পরিচালনাকারীদের এখন থেকে চালকদের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং কোনো ক্রেডিট বা কালেকশন এজেন্সির কাছে পাঠানোর আগে আপত্তির জন্য অন্তত ৩০ দিন সময় দিতে হবে।   বিরোধ চলাকালীন কোনো জরিমানা কার্যকর করা যাবে না। অন্যদিকে, পার্কিং লটে ব্যবহৃত লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরার ব্যবহার নিষিদ্ধ না হলেও এর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি সাইনবোর্ডে জানাতে হবে এবং সংগৃহীত ডেটা মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপনের কাজে বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।   আইনটি গত বুধবার আটলান্টার ট্রান্সপোর্টেশন কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে লট পরিচালনাকারীরা নিয়মগুলো বাস্তবায়নের জন্য ১৮০ দিন সময় পাবেন এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে এক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৯:২৭
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের কব কাউন্টিতে নিজের জন্মদিনের পার্টিতে সুইমিংপুলে ডুবে গিয়ে প্রায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছিল দুই বছরের এক শিশু। তবে পার্টিতে উপস্থিত অতিথিদের তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধিতে শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জ্ঞান ফেরার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   গত শনিবার রাত ৯টার পরপর কব কাউন্টির ৪৫০১ সার্কেল ৭৫ পার্কওয়েতে অবস্থিত স্টেডিয়াম ওয়াক অ্যাপার্টমেন্টে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির জন্মদিন উদ্‌যাপনের জন্যই সেখানে একটি পুল পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল।   উৎসবের আনন্দের মাঝেই হঠাৎ উপস্থিত লোকজন শিশুটিকে সুইমিংপুলের পানিতে অচেতন অবস্থায় ভাসতে দেখেন। তাকে দ্রুত পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পার্টিতে উপস্থিত কয়েকজন কালক্ষেপণ না করে শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করেন। তাদের এই সময়োচিত পদক্ষেপের ফলেই অলৌকিকভাবে শিশুটি জ্ঞান ফিরে পায়।   খবর পেয়ে কব কাউন্টি পুলিশের পাশাপাশি ম্যারিয়েটা ফায়ার সার্ভিসের জরুরি চিকিৎসা দলের (ইএমটি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং শিশুটির চিকিৎসায় সার্বিক সহায়তা করেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক তৎপরতা নেই; এটি নিছকই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৯:৩
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের অরেঞ্জ কাউন্টির ইরভাইন শহরে চুরি করা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে ৩৮ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের বিলাসবহুল পণ্য কেনার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে খুঁজছে স্থানীয় পুলিশ।   ইরভাইন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, স্থানীয় এক বাসিন্দার ক্রেডিট কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন সন্দেহভাজন স্থানীয় বিভিন্ন নামিদামি দোকানে গিয়ে চুরি করা তথ্যের সাহায্যে মোট ৩৮ হাজার ৪৩৫ ডলার ৫০ সেন্ট খরচ করে।   তাদের এই বিলাসবহুল কেনাকাটার তালিকায় ছিল মূলত নামী ব্র্যান্ডের পোশাক এবং উচ্চমূল্যের সব গয়না। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ওই দুই নারী ও এক পুরুষের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের শনাক্ত করার বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   ইরভাইন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ এই তিনজনকে চিনতে পারলে বা তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ডিটেকটিভ মেনার সঙ্গে ৯৪৯-৭২৪-৭১২৪ নম্বরে অথবা amena@cityofirvine.org ই-মেইলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের সহায়তায় ছবিগুলো প্রকাশের মাধ্যমে দ্রুতই এই প্রতারকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৮:৪২