শিকাগোতে নতুন নিয়ম, সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে সরকারি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিগুলোকে এখন তাদের নেতৃত্বে ডাইভারসিটির তথ্য এবং আইসিইসহ বিভিন্ন সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ২৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশে এসব নিয়ম চালু করেন।
নতুন নীতির আওতায় সিটি কন্ট্রাক্টর ও সাবকন্ট্রাক্টরদের নিজেদের কর্মী ও নেতৃত্বের ডাইভারসিটি সম্পর্কিত তথ্য জানাতে হবে। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের করপোরেট নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং ডাইভারসিটি বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো কোম্পানি গত পাঁচ বছরে আইসিই বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যবসা করেছে কি না, সেটিও প্রকাশ করতে হবে। সরকারি কন্ট্রাক্টের সঙ্গে সম্পর্কিত নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক বা বৈষম্যের অভিযোগের তথ্যও প্রকাশের আওতায় থাকবে।
মেয়র জনসন বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বৈষম্য শনাক্ত করা সহজ হবে। তার ভাষায়, শিকাগোর সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইলে কোম্পানির নেতৃত্ব শহরের যেসব মানুষের করের অর্থে ওই কন্ট্রাক্ট দেওয়া হচ্ছে, তাদের ডাইভারসিটিকে কতটা প্রতিফলিত করে তা জানা প্রয়োজন।
নতুন নির্বাহী আদেশে শুধু ডাইভারসিটির তথ্য নয়, কোম্পানির ব্যবসায়িক আচরণ নিয়েও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, মজুরি চুরি বা নির্দিষ্ট ধরনের ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি ভায়োলেশন’-এ জড়িত থাকলে সেটি সিটি কন্ট্রাক্টের জন্য অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এ জন্য ১২ সদস্যের একটি Ethical Procurement Standards Task Force গঠনের কথাও বলা হয়েছে। শহরের প্রধান procurement কর্মকর্তা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়মগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করবেন।
শিকাগোর এই পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জনসন প্রশাসন এমন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি অর্থের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে চাইছে, যেগুলো ফেডারেল সরকারের অভিবাসন অভিযান বা ডিপোর্টেশন কার্যক্রমে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত।
তবে নতুন নিয়মের অর্থ এই নয় যে কোনো কোম্পানির আইসিইর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট থাকলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিকাগোর ব্যবসা থেকে বাদ পড়বে। বরং কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড প্রকাশের পর সিটি কর্তৃপক্ষ সেগুলো মূল্যায়ন করবে।
শিকাগো সিটি ক্লার্কের রেকর্ড অনুযায়ী, জনসনের এই নির্বাহী আদেশের নাম Executive Order 2026-6 এবং এটি ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাক্ষর করা হয়। আদেশটির লক্ষ্য হিসেবে করদাতা ও স্থানীয় কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা এবং সিটি কন্ট্রাক্টে নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শিকাগোর সরকারি অর্থ কোন কোম্পানির কাছে যাচ্ছে এবং সেই কোম্পানিগুলো অন্য সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কী ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক ইস্ট পোটোম্যাক পার্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গলফ কোর্স সংস্কার প্রকল্পকে ঘিরে গাছ কাটার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে ৬০টির বেশি গাছ কাটা হয়েছে বলে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শতবর্ষী চেরি গাছও রয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির হেইন্স পয়েন্ট এলাকার ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকসে ব্লু কোর্সের ১৪তম হোলের কাছে একটি চেরি গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি প্রথম নজরে আনে পার্ক সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা একটি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী। গাছটি জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঐতিহাসিক চেরি গাছগুলোর একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে জাপান ১৯১০ সালের দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে হাজার হাজার চেরি গাছ পাঠিয়েছিল। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইস্ট পোটোম্যাক এলাকার পুরোনো ইয়োশিনো চেরি গাছগুলোর কিছু ১৯১৩ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে সেখানে লাগানো হয়েছিল। এসব গাছের ঐতিহাসিক গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ৬০টির বেশি গাছ কাটা হয়েছে। বেশির ভাগ গাছ পার্কের সীমানা ও পার্কিং এলাকার আশপাশে থাকলেও গলফ কোর্সের খেলার অংশ থেকেও কিছু গাছ সরানো হয়েছে। এর মধ্যে চেরি গাছটির পাশাপাশি দুটি বড় সাইকামোর গাছও রয়েছে। তবে গাছ কাটার ঘটনাটি সরাসরি ট্রাম্পের গলফ কোর্স সংস্কার প্রকল্পের অংশ কি না, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ, আক্রমণাত্মক প্রজাতির এবং মৃত বা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ, যেগুলো আর চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব নয়, সেগুলো বাছাই করে সরানো হচ্ছে। অন্যদিকে, পার্ক সংরক্ষণবাদীরা গাছ কাটার সময় ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইস্ট পোটোম্যাক গলফ কোর্সকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে আদালতে মামলা চলছে। মামলায় পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণসংক্রান্ত আইনসহ পার্কের ব্যবহার নিয়ে ফেডারেল আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৮ জুন বলেছিলেন, ঐতিহাসিক এই পাবলিক গলফ ফ্যাসিলিটির সংস্কারকাজ ১ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বর্তমান তিনটি কোর্সের পরিবর্তে একটি ১৮ হোলের চ্যাম্পিয়নশিপ কোর্স তৈরির কথা রয়েছে। এতে বর্তমানে গলফের বাইরে ব্যবহৃত পার্কের কিছু এলাকাও প্রকল্পের আওতায় আসতে পারে বলে আদালতের নথি ও প্রকাশিত পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত নকশা, নির্মাণ ব্যয় বা পূর্ণাঙ্গ নির্মাণসূচি প্রকাশ করা হয়নি। প্রকল্প শুরুর আগে পরিবেশগত ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণসংক্রান্ত পর্যালোচনা এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের অনুমোদনের মতো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে। ফলে শতবর্ষী চেরি গাছসহ সাম্প্রতিক গাছ কাটার ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠলেও, ট্রাম্পের গলফ কোর্স সম্প্রসারণের জন্য সব গাছ কাটা হচ্ছে এমন দাবি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তত সাম্প্রতিক কাটার একটি অংশ নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বিল, ঈদ উৎসব উদযাপনে বন্ধ থাকতে পারে স্কুল!
আইসিই হেফাজতে ওষুধ বন্ধ, কোমার ঝুঁকিতে থাইরয়েড ক্যানসারজয়ী নারী
শিকাগোতে নতুন নিয়ম, সিটি কন্ট্রাক্ট পেতে কোম্পানিকে জানাতে হবে ডাইভারসিটি ও আইসিই-সংযোগের তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর পর পরিবারের ওপর পড়া আর্থিক চাপও বাড়ছে। শেষকৃত্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের এই বাড়তি বোঝা বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলছে। দেশটিতে একের পর এক বেবি বুমার প্রজন্মের মানুষ জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শেষকৃত্যের খরচও অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক উদ্বেগ হয়ে উঠছে। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি পরিবারকে সামলাতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয়। মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি। কারণ এসব পরিবারের অনেকেই বড় ধরনের উত্তরাধিকার পাওয়ার সুযোগ কম থাকায় প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ সামলাতে নিজেদের সঞ্চয় বা আয় থেকে অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হন। ফলে অনেক পরিবারের কাছে মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতাগুলোও ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শেষকৃত্য, দাফন বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনাতেও চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলো আগে থেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন মৃত্যুর পরের এই ব্যয় আরেকটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করা সব কানাডীয় কোম্পানিকে ‘অবিলম্বে’ আমেরিকায় আসাতে ট্রাম্পের ঘোষণা
মাত্র সাড়ে সাত মাস বয়সেই নেটফ্লিক্সে অভিনয়! দিনে আয় ৩৬০ ডলার
চাকরির বাইরে আমেরিকায় আয়! কম পুঁজিতে বাংলাদেশিদের জন্য ১০টি ব্যবসার আইডিয়া
চৌদ্দ বছর বয়সে জন্ম দেওয়া কন্যাসন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দিতে হয়েছিল বাধ্য হয়ে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ দুই দশক। বুকের ভেতর জমে থাকা অপরাধবোধ আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ঠিক বিশ বছর পর কর্মক্ষেত্রে হঠাৎ হাজির হয় সেই সন্তান। হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে ফিরে পাওয়ার এমনই এক অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইক। ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯২ সালে। তখন অ্যানলিয়া বলিঙ্গার রজার্স নামের ওই নারীর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। পরিবারের সঙ্গে অন্য একটি অঙ্গরাজ্যে চলে যাওয়ার ঠিক আগে তার ১৩ বছর বয়সী প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অল্প বয়সের ভয় আর সংকোচে প্রায় সাত মাস পর্যন্ত তিনি এই বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে এক বন্ধুর সহযোগিতায় বাবা মাকে বিষয়টি জানান। বাবা মা কোনো রাগ না দেখিয়ে বরং মেয়ের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে একটি দত্তক সংস্থার মাধ্যমে গর্ভস্থ সন্তানের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবার খুঁজে নেওয়া হয়। উভয় পক্ষের সম্মতিতে উন্মুক্ত দত্তক বা ওপেন অ্যাডপশনের সিদ্ধান্ত হয়, যেখানে আইনি কোনো তথ্য গোপন থাকবে না এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর সন্তানের ছবি ও খবর পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ১৯৯৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মেলিসা অ্যান নামের একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন অ্যানলিয়া। হাসপাতালে দুই দিন নবজাতকের সঙ্গে কাটিয়ে এক বুক শূন্যতা নিয়ে দত্তক নেওয়া পরিবারের হাতে মেয়েকে তুলে দেন তিনি। সন্তান হস্তান্তরের পর প্রথম পাঁচ বছর মেলিসার জন্মদিনে চিঠি এবং ছবি পাঠাত ওই পরিবার। কিন্তু পাঁচ বছর পর কোনো এক অজানা কারণে সেই নিয়মিত আপডেট আসা বন্ধ হয়ে যায়। অ্যানলিয়া নিজের জীবন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি পড়াশোনা শেষ করেন, বিয়ে করেন এবং তার ঘরে আরেকটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটলেও তিনি দুই মেয়েকে মনে লালন করতেন। ২০১১ সালে মেলিসার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলেও কোনো যোগাযোগ না পেয়ে অ্যানলিয়া একরকম আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে ২০১৩ সালে ঘটে জীবনের সবচেয়ে বড় মিরাকল। অ্যানলিয়া তখন একটি কলেজের আর্থিক সহায়তা বিভাগে কাজ করছিলেন। হঠাৎ তার অফিসে এক অচেনা পুরুষ এসে জানান যে তিনি অনেক খোঁজাখুঁজির পর একজনকে নিয়ে এসেছেন, যিনি বহু বছর ধরে অ্যানলিয়ার দেখা পেতে ব্যাকুল ছিলেন। ওই ব্যক্তি ছিলেন মেলিসার দত্তক নেওয়া বাবা। জানালার দিকে তাকিয়ে অ্যানলিয়া দেখতে পান ২০ বছর বয়সী মেলিসা দাঁড়িয়ে আছে। নিজের হুবহু প্রতিচ্ছবি আর ছোট মেয়ের মতো অবয়ব দেখে হতবাক হয়ে পড়েন অ্যানলিয়া। সেদিন কাজের ছুটি নিয়ে মা ও মেয়ে একটি গাছের নিচে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেন। মেলিসা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি তার জন্মদাত্রী মায়ের কথা জানতেন। তবে দত্তক নেওয়া বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় যোগাযোগের সূত্রটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে পরিবারের সবাই মিলে খাবার খাওয়ার মাধ্যমে মেলিসার সঙ্গে তার সৎ বোনের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং মুহূর্তেই তাদের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। তিন দশকেরও বেশি সময় পর আজ মেলিসা ও অ্যানলিয়ার সম্পর্ক কেবল মা মেয়ের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপ নিয়েছে গভীর এক বন্ধুত্বে। এমনকি অ্যানলিয়ার পরবর্তী বিয়েতে ব্রাইডসমেড হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলিসা। অতীতের সব সংশয় ও ভয় দূর হয়ে তাদের জীবনে এখন কেবল ভালোবাসাই অবশিষ্ট রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক
পরিবারসহ পড়তে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ১৪টি দেশ, কোন দেশে কেমন নিয়ম ও কাজের সুযোগ
ইঁদুর, প্রস্রাব ও কুকুরের মুখ দেওয়া মাংস: লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট ফুড ঘিরে ১০ হাজার অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে