- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দাম ও বন্ধকি ঋণের সুদহার বাড়তে থাকায় বড় শহরে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির কিছু শহরে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে এসব এলাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি ট্রাভেল + লেজার-এর এক প্রতিবেদনে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ৯টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব, মধ্য-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের শহর রয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ডলার এবং মায়ামিতে তা প্রায় ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি। এর তুলনায় তালিকার শহরগুলোতে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। র্যালি, নর্থ ক্যারোলাইনা তালিকার শীর্ষে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র্যালি। বিশেষ করে শহরের উত্তরাঞ্চল নর্থ র্যালিকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী রায়ান স্মিথ। তার মতে, প্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোগ, বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এবং উচ্চ সম্পদশালী মানুষের আগমনের কারণে ওই এলাকায় আবাসনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, র্যালিতে গড় বাড়ির মূল্য এখন ৫ লাখ ডলারের কিছুটা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্প্রসারণের সঙ্গে আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকলে শহরটির তুলনামূলক সাশ্রয়ী অবস্থান বেশিদিন নাও থাকতে পারে। গ্র্যান্ড র্যাপিডস, মিশিগান মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসে ২০২০ সালের পর বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারপরও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বড় শহরগুলোর মধ্যে এটি এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এখানে গড় বাড়ির মূল্য ৩ লাখ ডলারের কিছু বেশি। শহরটির রেস্তোরাঁ, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা, হাঁটার উপযোগী এলাকা এবং বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ তরুণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ফলে জীবনযাত্রার মান ও বাড়ির তুলনামূলক কম দামের সমন্বয় ভবিষ্যতে আবাসনের চাহিদা আরও বাড়াতে পারে। গ্রিনভিল, সাউথ ক্যারোলাইনা সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলও বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে। শহরটির কাছে পাহাড়, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা খাত রয়েছে। পাশাপাশি মিশেলিন নর্থ আমেরিকার সদর দপ্তরও এখানে অবস্থিত। রেড বার্ন হোমবায়ার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেন করসিনি বলেন, মানুষ শুধু কম দামের কারণে গ্রিনভিলে যাচ্ছে না। উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগই অনেককে শহরটির দিকে টানছে। ফলে বাড়ির দাম বাড়লেও ভবিষ্যতে চাহিদা শক্তিশালী থাকতে পারে। গত এক বছরে গ্রিনভিলে গড় বাড়ির মূল্য ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্পোকেন, ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের জন্য ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনকে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্পোকেনে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ডলার। একই অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলের তুলনায় এটি অনেক কম। বিশেষ করে প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন পছন্দ করেন এবং সিয়াটলের উচ্চ বাড়ির দাম বহন করতে পারছেন না, এমন ক্রেতাদের কাছে স্পোকেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। চ্যাটানুগা, টেনেসি টেনেসির চ্যাটানুগাও তালিকায় রয়েছে। শহরটির বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং তুলনামূলক কম বাড়ির দাম। কেন করসিনির মতে, কোনো শহরে যদি কর্মসংস্থান বাড়ে, বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে এবং একই সঙ্গে আবাসন তুলনামূলক সাশ্রয়ী থাকে, তাহলে সেই বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভালো হতে পারে। চ্যাটানুগায় গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। এর তুলনায় কাছের বড় শহর ন্যাশভিলে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ফলে ন্যাশভিলের উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতা চ্যাটানুগার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। রিচমন্ড, ভার্জিনিয়া ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ইতোমধ্যে বাড়ির বাজার বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এখানে একটি বাড়ি বিক্রির চুক্তিতে যেতে গড়ে প্রায় ছয় দিন সময় লাগছে এবং প্রায় অর্ধেক বাড়ি তালিকাভুক্ত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা, খাবার ও শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ, বিনোদনের সুযোগ এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও উত্তর ভার্জিনিয়ার তুলনায় রিচমন্ড এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ভবিষ্যতে এর চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এথেন্স, জর্জিয়া জর্জিয়ার এথেন্সে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বড় শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই শিক্ষার্থী আবাসন বাজারে বাড়ির চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও সেখানে নির্মাণের জন্য জমির পরিমাণ সীমিত। বর্তমানে রিয়েল্টর ডটকমের হিসাবে বাজারটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে নেমেছে। এতে ক্রেতাদের দর-কষাকষির কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বাড়ির দাম আবারও বাড়তে পারে বলে কেন করসিনি মনে করেন। হিউস্টন, টেক্সাস টেক্সাসের হিউস্টন দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের একটি। সম্প্রতি ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শহরটিতে বাড়ির দাম কমেছে। বর্তমানে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। তবে হিউস্টনের বাজারকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে এমন বলা হচ্ছে না। তারপরও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ কারেন কোস্টিউ শহরটির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী বলে মনে করছেন। তার মতে, মহাকাশ, প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, জ্বালানি, বাণিজ্য, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা বাড়ছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশও শহরটির আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর কারণে হিউস্টনে খাবার, শিল্প ও সংস্কৃতিরও শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সিনসিনাটি, ওহাইও ওহাইওর সিনসিনাটিকে আবাসন কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সিনসিনাটি ও ক্লিভল্যান্ড তরুণ বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করছে মূলত তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়, বিদ্যমান বাড়ির বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন এলাকার পুনর্গঠনের কারণে। সিনসিনাটিতে গড় বাড়ির মূল্য এখনো ২ লাখ ডলারের মাঝামাঝি। ঐতিহাসিক এলাকা, পেশাদার ক্রীড়া দল, রেস্তোরাঁ ও পানীয় সংস্কৃতি এবং বাড়তে থাকা শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ শহরটির ভাবমূর্তি বদলে দিচ্ছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা বাড়তে থাকলে বর্তমানে যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী সুযোগ রয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের এই তালিকা কোনো শহরের বাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে কতটা বাড়বে, তার পূর্বাভাস নয়। বরং কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনের সরবরাহ, জীবনযাত্রার মান এবং আশপাশের ব্যয়বহুল শহর থেকে মানুষের স্থানান্তরের মতো বিষয় বিবেচনা করে সম্ভাবনাময় বাজারগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাভেল + লেজারের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১৩ আগস্ট ২০২৬। প্রতিবেদনের জন্য রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামতের পাশাপাশি স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যারা বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য র্যালি, গ্র্যান্ড র্যাপিডস, গ্রিনভিল, স্পোকেন, চ্যাটানুগা, রিচমন্ড, এথেন্স, হিউস্টন ও সিনসিনাটি নজরে রাখার মতো বাজার হতে পারে। তবে কোনো শহরে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় কর, বন্ধকি ঋণের সুদ, বীমা, সম্পত্তির কর, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহসহ আরও অনেক বিষয় যাচাই করা জরুরি।
মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটককৃত অভিবাসী এবং বিক্ষোভকারীদের দমনের জন্য ১৬.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চরম বিতর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সংস্থাটি ৬ হাজার জোড়া ‘ইলেকট্রিক শক গ্লাভস’ বা বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ ধরনের হাতমোজা কিনতে যাচ্ছে। মানবাধিকার কর্মী এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক বিরোধিতা ও উদ্বেগ সত্ত্বেও এই বিপুল পরিমাণ গ্লাভস কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে আইসিই। সংস্থাটির দাবি, যেসব বন্দি বা বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেই কর্মকর্তারা এই বিশেষ গ্লাভস ব্যবহার করবেন। বৃহস্পতিবার ফেডারেল ডেটাবেসে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্টাকি-ভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’-এর সাথে কোনো ধরনের পূর্ব দরপত্র ছাড়াই এই চুক্তি করেছে আইসিই। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৬ হাজার জোড়া গ্লাভস এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ টহল গ্লাভসের মতোই দেখতে এই ডিভাইসের নির্দিষ্ট বোতাম চাপলে তা মুহূর্তেই বৈদ্যুতিক মোডে চলে যায়। এরপর সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে এটি এমনভাবে শক তৈরি করে, যা তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্থানীয় কারাগার ও পুলিশ বিভাগ এই বিশেষ গ্লাভস ব্যবহার করলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অধীনে আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে এর ব্যবহার চরম মাত্রায় ক্ষমতার অপব্যবহার ডেকে আনতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এই গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। নেভাডার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্তোর নেতৃত্বে ১৬ জন আইনপ্রণেতা আইসিই-র ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। চিঠিতে তারা লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো এবং মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অমানবিক আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সুস্পষ্ট নীতিমালা ও যথাযথ নজরদারি ছাড়া এই গ্লাভসের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে আইসিই-র মূল সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) পাল্টা বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে বাধা দেওয়া মূলত দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জীবন বিপন্ন করার একটি হীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চেষ্টা।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির এক দম্পতি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্লুমফিল্ডের বাসিন্দা বিমলভাই প্যাটেল এবং তাঁর স্ত্রী জৈমিনাবেন প্যাটেল একটি ধর্মীয় সফরে গিয়ে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন। হঠাৎ ধেয়ে আসা বন্যা ও কাদার স্রোতে ওই এলাকার বহু ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এখনও অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই আকস্মিক নিখোঁজের খবরে ব্লুমফিল্ডে বসবাসরত প্যাটেল দম্পতির প্রতিবেশীরা চরম হতবাক হয়ে পড়েছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাগ্যক্রমে ওই দম্পতির ৯ বছর বয়সী ছেলে বর্তমানে ভারতে তার আত্মীয়দের কাছে সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছে। নিখোঁজ দম্পতির সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "নেপাল সীমান্তের বন্যাদুর্গত এলাকায় আমার বোন ও ভগ্নিপতি নিখোঁজ রয়েছেন। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত উদ্ধারের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।" এদিকে, ব্লুমফিল্ডের মেয়র জেনি মান্ডেল এই সংকটময় মুহূর্তে প্যাটেল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর জোর তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও নিখোঁজ মানুষের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। প্যাটেল দম্পতির পাশাপাশি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন নিউইয়র্কের আরেক দম্পতি রমেশ শর্মা ও নীলম শর্মা। তীর্থযাত্রায় গিয়ে তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় গত বুধবার সকাল থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো ফায়ার স্টেশনে চার মাস বয়সী এক অচেতন শিশুকে রেখে যাওয়ার পর তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় হত্যার অভিযোগে ভিক্টর উইভার নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ। স্যাক্রামেন্টো পুলিশ বিভাগ জানায়, গত ১৪ আগস্ট সকাল ৯টার পরপরই ফায়ার স্টেশনে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। ওয়েস্ট এল ক্যামিনো অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে সেখানে আনা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শিশুটিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার 'সেইফলি সারেন্ডারড বেবি ল' বা শিশু সমর্পণ আইন অনুযায়ী, কোনো বাবা-মা যদি সন্তানের দায়িত্ব নিতে অপারগ হন, তবে জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে নিরাপদে হাসপাতাল বা নির্দিষ্ট ফায়ার স্টেশনে হস্তান্তর করার আইনি সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে শিশুটির শরীরে কোনো নির্যাতনের চিহ্ন না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিন্তু নিহত শিশুটির বয়স চার মাস হওয়ায় এই ঘটনাটি কোনোভাবেই ওই আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়বে না। মৃত্যুর পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক ঘটনা সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশের হোমিসাইড বা হত্যা তদন্তকারী দল অবিলম্বে মামলাটির দায়িত্ব নেয়। তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরবর্তীতে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি করোনার অফিসের ময়নাতদন্ত ও সার্বিক তদন্তে শিশুটির মৃত্যুকে সুস্পষ্ট হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। এরপরই গোয়েন্দারা সন্দেহভাজন হিসেবে স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা ভিক্টর উইভারকে শনাক্ত করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত মঙ্গলবার উইভারকে গ্রেপ্তার করে হত্যার সন্দেহে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি মেইন জেলে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহত শিশুর সাথে ওই তরুণের কী সম্পর্ক বা শিশুটির সাথে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। নিকটাত্মীয়দের জানানোর আগ পর্যন্ত শিশুটির পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় চেইন সুপারশপ ‘কস্টকো’ তাদের মেম্বারশিপ ও বিশাল ছাড়ে একসঙ্গে অনেক পণ্য বিক্রির জন্য বেশ পরিচিত। তবে এই মেম্বারশিপ নেওয়ার আগে এর কিছু ব্যবহারিক ও আর্থিক অসুবিধার দিকগুলো মাথায় রাখা জরুরি। অনেকেই সস্তায় পণ্য কেনার আশায় মেম্বারশিপ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সবার জন্য সমানভাবে লাভজনক হয় না। প্রথমত, কস্টকোতে কেনাকাটা করতে হলে শুরুতেই একটি বার্ষিক ফি দিতে হয়, যা সাধারণ গোল্ড স্টার মেম্বারশিপের জন্য ৬৫ ডলার এবং এক্সিকিউটিভ মেম্বারশিপের জন্য ১৩০ ডলার। যারা নিয়মিত কেনাকাটা করেন তাদের জন্য এটি লাভজনক হলেও, মাঝেমধ্যে শপিং করা গ্রাহকদের জন্য এই ফি উসুল করা বেশ কঠিন। এই ফির কারণে অনেক সময় গ্রাহকদের মধ্যে অপ্রয়োজনে কেনাকাটা করার একটি মানসিক চাপ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, কস্টকোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো পাইকারি বা বড় আকারে পণ্য কেনা। কিন্তু ছোট পরিবার বা একা থাকা মানুষদের জন্য এটি অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একসঙ্গে অনেক কাঁচাবাজার কিনলে তা পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেই সঙ্গে এসব বিশাল সাইজের পণ্য বা প্যাকেজ রাখার জন্য বাড়িতে পর্যাপ্ত স্টোরেজ বা জায়গারও অভাব দেখা দেয়। তৃতীয়ত, গ্রাহকদের মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে ফেলে অতিরিক্ত কেনাকাটা করানো কস্টকোর একটি অন্যতম কৌশল। অনেক সময় ‘অপূর্ব সুযোগ’ বা ডিকয় ইফেক্টের (Decoy effect) ফাঁদে পড়ে গ্রাহকরা তালিকা ছাড়াই এমন সব অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বসেন, যা তাদের বাজেটকে মুহূর্তেই ছাড়িয়ে যায়। চতুর্থত, কস্টকোতে শপিং করা বেশ সময়সাপেক্ষ ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর একটি অভিজ্ঞতা। বিশাল পার্কিং লট, উপচে পড়া ভিড়, বিল দেওয়ার লম্বা লাইন এবং বড় কার্টে করে ভারী জিনিসপত্র গাড়িতে তোলা সবার জন্য সহজ নয়। বিশেষ করে যাদের ছোট গাড়ি আছে, তাদের জন্য এই ভারী ও বড় আকারের পণ্যগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া বেশ ঝামেলার। সর্বশেষ অসুবিধাটি হলো, কস্টকোর বিশাল স্টোরগুলো এমনভাবে সাজানো থাকে যে, নির্দিষ্ট কোনো পণ্য খুঁজে বের করা রীতিমতো এক গোলকধাঁধার মতো। তা ছাড়া, এখানে সব ক্যাটাগরির বা সব ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যায় না। ফলে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা ভিন্ন স্বাদের কোনো কিছু খুঁজতে অনেক সময় গ্রাহকদের অন্য সুপারশপেরও দ্বারস্থ হতে হয়। তাই কস্টকো মেম্বারশিপ নেওয়ার আগে নিজের কেনাকাটার ধরন, স্টোরেজ সুবিধা এবং পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজনগুলো ভালোভাবে হিসাব করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল জীবন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে ভারতের মাটিতে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছিলেন শশী কুমার। বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.টেক শেষ করে উইপ্রোতে দীর্ঘ ১২ বছর কাজ করার পর তিনি কৃষকদের ভাগ্য বদলানোর লক্ষ্যে দেশে ফিরে আসেন। গড়ে তোলেন ‘অক্ষয়কল্প’ নামের একটি কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি এক্সে বিকাশ নামের এক প্রযুক্তিকর্মী শশীর এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্প তুলে ধরলে তা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। নতুন ব্যবসার প্রথম নয় বছরে প্রতিষ্ঠানটি অন্তত ছয়বার দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল। সেই চরম সংকটময় মুহূর্তে স্ত্রীর জমানো ৩০ লাখ রুপি দিয়ে কোনোমতে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখেন শশী। ছেলের এমন সিদ্ধান্তে তার বাবাও মোটেও খুশি ছিলেন না। এমনকি কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ায় টানা আট বছর তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ রেখেছিলেন, কারণ তিনি চাননি ছেলে তার মতো হাড়ভাঙা খাটুনির কৃষিকাজ বেছে নিক। সব বাধা পেরিয়ে শশীর সেই উদ্যোগ আজ এক বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন কৃষক যুক্ত আছেন, যাদের প্রত্যেককে মাসে গড়ে ১ লাখ ২৮ হাজার রুপি করে দেওয়া হয়। ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে প্রায় ৬০ কোটি রুপি মুনাফা করছে, যা বছরে ৭২০ কোটিতে দাঁড়ায়। যদিও একই পোস্টে বার্ষিক আয় ৬০০ কোটি রুপি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যের এই সামান্য অসঙ্গতি ছাপিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এই অদম্য গল্প এখন নেটিজেনদের কাছে দারুণ প্রশংসিত হচ্ছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপানো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মানতে পাকিস্তান কোনোভাবেই বাধ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহের আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এসব নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে নিজেদের আবদ্ধ রাখতে রাজি নয় পাকিস্তান। বরং অর্থনৈতিক চাপ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বদলে কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই এমন আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে দেশটি। পাকিস্তানের এই সাহসী ও স্পষ্ট অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন করে তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। গত সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেন। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, আর্থিক নেটওয়ার্ক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর এমন চাপ প্রয়োগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য, তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে ইরানকে বিভিন্ন ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত থাকার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার মতো বহুমুখী স্বার্থ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখার এই ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তান মূলত আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে তারা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ধরে রাখতে চায়, তেমনি প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রাখার পরিষ্কার বার্তা দিল। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার পর পাকিস্তান ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভবিষ্যতে ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুয়ের্তো রিকো উপকূলে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৫ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বিশাল কোকেনের চালান জব্দ করেছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। উপকূল থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরে সন্দেহভাজন একটি পাচারকারী নৌযান আটকে সেখান থেকে ৭ হাজার ২৫০ পাউন্ডের (৩ হাজার ২৮৫ কেজিরও বেশি) অবৈধ মাদক উদ্ধার করা হয়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদক চোরাচালান রোধে এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২২ আগস্ট শনিবার কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর বিমান ও সামুদ্রিক নজরদারি দলের সহায়তায় ইউএস কোস্ট গার্ড কাটার ‘রিচার্ড ডিকসন’ এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযানে নৌযানটিতে থাকা পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নৌযানটি সামুদ্রিক চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বিবেচনায় কোস্ট গার্ড সেটিকে সাগরেই ধ্বংস করে দেয়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অভিযান প্রসঙ্গে কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাইকেল ডি. টরগেসেন এক বিবৃতিতে জানান, বিভিন্ন সংস্থার চমৎকার সমন্বয় এবং দলগত প্রচেষ্টার ফলেই সঠিক সময়ে এই বড় চালানটি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সক্রিয় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রগুলোর ওপর একটি বড় আঘাত হানা গেছে। উল্লেখ্য, এই অভিযানের কয়েক দিন আগেই ফ্লোরিডার মিয়ামির পোর্ট এভারগ্লেডসে প্রায় ৪৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের ৭৫ হাজার পাউন্ডেরও বেশি অবৈধ মাদক খালাস করে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে মার্কিন কোস্ট গার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি স্থানীয় মসজিদে শিক্ষাসফরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ইসলামিক পোশাক পরানো এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার অভিযোগে পালো আল্টো ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলটির প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট ইহুদি, হিন্দু এবং জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মাবলম্বী অভিভাবকদের একটি দল যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পালো আল্টো হাইস্কুলের 'সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে' কারিকুলামের অংশ হিসেবে গত বছর মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে একটি মসজিদে এই সফরের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নেওয়ার জন্য পবিত্র কুরআন উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া, সেখানে জোহরের নামাজ পর্যবেক্ষণ এবং ইসলাম ধর্ম কীভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রচার করে, সে বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ পাবলিক স্কুলে এভাবে নির্দিষ্ট একটি ধর্মকে প্রচার করা মার্কিন সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মামলার আইনজীবী ডেভিড রোজেনবার্গ-ওহল জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছে যে প্রগতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য ইসলামই উপযুক্ত ধর্ম, যা কোনোভাবেই একটি পাবলিক স্কুলের কাজ হতে পারে না। অন্যদিকে, মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন এই মামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাধারণ ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে পরিচিত হওয়াকে জবরদস্তি বা হুমকিস্বরূপ হিসেবে দেখলে তা মূলত সমাজে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতিকেই আরও উসকে দেবে। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, তারা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন, তবে চলমান আইনি বিষয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। স্কুল পত্রিকার সম্পাদক জুনি থার্স্টন জোরপূর্বক হিজাব পরানো এবং ইসলামিক আদর্শে দীক্ষিত করার অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে অতিরঞ্জিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও ওই সফরে আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের বিতর্কিত নেত্রী জাহরা বিল্লুর উপস্থিতি নিয়ে তিনিও আপত্তি জানিয়েছেন। এদিকে, ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার) জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের যদি কোনো ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়ে থাকে, তবে তা সরাসরি মার্কিন সংবিধানের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বা প্রথম সংশোধনীর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি হোম লোনের গড় সুদের হার বা মর্টগেজ রেট আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজ বেড়ে ৬.৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। গত বছরের ঠিক একই সময়ে এই সুদের হার ছিল ৬.৫৬ শতাংশ। সুদের এই বৃদ্ধির ফলে গৃহঋণ গ্রহণকারীদের মাসিক খরচ কয়েকশ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাকে সীমিত করে দিচ্ছে। আর ক্রমবর্ধমান খরচের কারণেই অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে মার্কিন আবাসন বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। ফ্রেডি ম্যাকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান রেটটি ঠিক চার সপ্তাহ আগের অবস্থানে ফিরে গেছে এবং এটি এই মাসের শুরুতে পৌঁছানো এ বছরের সর্বোচ্চ হার ৬.৬৯ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। শুধু ৩০ বছর মেয়াদি ঋণই নয়, বরং ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের ক্ষেত্রেও খরচের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সাধারণত পুরনো ঋণ পরিশোধ করে নতুন ঋণ নেওয়ার (রিফাইন্যান্সিং) ক্ষেত্রে এই রেটটি বেশি ব্যবহৃত হয়। গত সপ্তাহে এই হার ৫.৯৫ শতাংশ থাকলেও চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে ৫.৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যেখানে এক বছর আগে এই রেট ছিল মাত্র ৫.৬৯ শতাংশ। মূলত মর্টগেজ রেটের এই ওঠানামার পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের পলিসি রেট বা সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা। মর্টগেজ রেট সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ডের গতিপথ অনুসরণ করে নির্ধারিত হয়, যা ঋণদাতারা হোম লোনের মূল্য নির্ধারণে একটি অন্যতম নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ অন্তত নয়টি শহরে রাতভর একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলা এই নির্বিচার হামলায় প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা কিয়েভ। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই ব্যাপক হামলায় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে এক বৃদ্ধা এবং খারকিভ অঞ্চলে আরেকজনসহ অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক। আবাসিক ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশটির বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘ব্যাপক আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের শিল্প স্থাপনা, তেল শোধনাগার, সামরিক লজিস্টিক হাব এবং বন্দর অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে ইউক্রেনের দাবি, শীতের আগে দেশটির জ্বালানি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবসা খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে চারটি শক্তিশালী গ্লাইড বোমার আঘাতে একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি খেলনা ব্র্যান্ড ও কনফেকশনারি কোম্পানির ডিপো এবং একটি ইলেকট্রনিক্স রিটেলারের গুদাম। গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বন্দর ওদেসাতেও টানা সাত ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হামলা চলে, যার ফলে ব্যাহত হয় শস্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৬ তলা একটি আবাসিক ভবন। এদিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মারাত্মক সংকটে ভুগছে ইউক্রেন। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স প্যাকেজ সরবরাহের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী সাতটি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস বা প্রতিহত করার দাবি করেছে। এই হামলার রেশ ছড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ মলদোভাতেও; দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতের আঁধারে পাঁচটি ড্রোন তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। পাল্টা জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে ব্যাপক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দোনেৎস্কের কাছে রাশিয়ার প্রধান ও বিকল্প কমান্ড পোস্টে সফল আঘাত হানার দাবি করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ১৪টি অঞ্চল এবং কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের ওপর থেকে ২৬৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এসব ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওজন’-এর উফা শহরের লজিস্টিক কেন্দ্রে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন মার্কোস গাসপার-দা সিলভা। একজন মার্কিন নাগরিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই ব্রাজিলীয় নাগরিক আইনি প্রক্রিয়ার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাতে আটক হন। এরপর তাঁকে প্রায় সাত মাস কাটাতে হয় বন্দিশিবিরে। চলতি মাসের শুরুতে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাঁকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দিলে অবশেষে তিনি মুক্তি পান। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরিবারের কাছে ফিরলেও এই দীর্ঘ বন্দিজীবন তাঁকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত করেছে যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্তির পরও তাঁর মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। সংবাদমাধ্যম পোর্টল্যান্ড প্রেস হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি আবেগের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু আমার ভেতরে এখন কোনো আবেগই অবশিষ্ট নেই।" মার্কোসের দাবি, বন্দিশিবিরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ সেখানে গাদাগাদি করে থাকতো। মাসের পর মাস তাঁকে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি, মানহীন খাবার, পানের অযোগ্য পানি এবং চরম চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি দাঁতের তীব্র ব্যথায় ভুগলেও তাঁকে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রাখা হয়েছে এবং কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। তবে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র এই অভিযোগগুলোকে 'অতিরঞ্জিত' আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, আইসিই-এর বন্দিশিবিরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ কারাগারগুলোর চেয়েও উন্নত মান বজায় রাখা হয় এবং সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-নির্বাসন অভিযানের প্রতিশ্রুতির মাঝেই মার্কোসের মতো বৈধ গ্রিন কার্ড ও ভিসা আবেদনকারীদের এভাবে আটকের ঘটনা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে ব্রাজিলে সিভিল অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করার সময় মৃত্যুর হুমকি পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মার্কিন নাগরিক আলেসিয়াকে বিয়ে করে আইনি পথেই স্পাউসাল গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থাতেই গত জানুয়ারিতে কাজে যাওয়ার পথে তাঁকে হঠাৎ আটক করে আইসিই। এরপর ম্যাসাচুসেটস থেকে অ্যারিজোনা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের বন্দিশিবিরে তাঁকে ঘুরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান। বর্তমানে তিনি তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে একজন পর্তুগিজ-ভাষী থেরাপিস্টের সহায়তা নিচ্ছেন।
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক প্রলয়ংকরী বন্যা ও কাদার স্রোতে নিহতের সংখ্যা ৩৬০ ছাড়িয়েছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে নেপালের পর্যটন বোর্ড। গত বুধবার নেপালের নুয়াকোট এবং রাসুওয়া জেলাসহ তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বিপর্যয় আঘাত হানে, যা চোখের পলকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ১১৩ জন নেপালি পর্যটক, ৮৫ জন সেনা ও পুলিশ সদস্য এবং ১৬১ জন স্থানীয় বাসিন্দা। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং পোর্টের কাছে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জনই বিদেশি নাগরিক। এই পরিস্থিতিতে নেপাল ও চীনের সীমান্তজুড়ে উদ্ধারকর্মীরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া আটজন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অন্তত ৯০ জন মার্কিন নাগরিক এই দুর্যোগের কবলে পড়ে থাকতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনজন মার্কিন নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো মার্কিনি নিহত হওয়ার খবর এখনও পাওয়া যায়নি। দীপক দান্ডু নামের এক মার্কিন নাগরিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে তার স্ত্রী শ্রীদেবী ভেজেল্লা এই বন্যার কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেপালের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এই সংকটময় মুহূর্তে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেসকে ৫ লাখ ডলারের অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।এদিকে, তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাও এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। প্রাথমিকভাবে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পকে এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হলেও, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি কোনো ভূমিকম্প ছিল না। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ৫.২ মাত্রার তীব্রতা সম্পন্ন একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ার কারণেই এই আকস্মিক ও প্রলয়ংকরী বন্যার সৃষ্টি হয়। এর আগে গত বছরও একই নদী ব্যবস্থায় হিমবাহের হ্রদ উপচে পড়ে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের হিমবাহগুলো আগের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে গলছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার এই ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য এক মারাত্মক অশনিসংকেত।
কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের ওশাওয়া শহরে এক নারীকে ভূত তাড়ানোর কথা বলে যৌন হেনস্থার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক হিন্দু পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করেছে ডারহাম রিজিওনাল পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই পুরোহিতের নাম রাজেন্দ্রনৌথ দুডনৌথ মহারাজ (৫০)। তিনি নিউইয়র্কের রিচমন্ড হিলের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মীয় চিকিৎসার আড়ালে এমন প্রতারণা ও হেনস্থার শিকার আরও কেউ হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার একটি হিন্দু ধর্মীয় আচার পালনের জন্য ওই পুরোহিতকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভাড়া করে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আচার পালনের একপর্যায়ে অভিযুক্ত পুরোহিত ওই নারীকে বিশ্বাস করান যে, তাঁর ওপর অশুভ আত্মা বা প্রেতাত্মা ভর করেছে। এই অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত হতে বিশেষ এক ধর্মীয় উপাচারের প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি। এরপর চিকিৎসার কথা বলে ওই নারীকে একটি গোপন স্থানে নিয়ে যান এবং ধর্মীয় আচারের নাম করে তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন। গত ২৫ আগস্ট এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ওই পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং জামিন শুনানির জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর ডারহাম রিজিওনাল পুলিশ অভিযুক্তের একটি ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণকারী এই পুরোহিতের মাধ্যমে যদি অন্য কেউ এমন প্রতারণা বা হেনস্থার শিকার হয়ে থাকেন, তবে যেন দ্রুত তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন 'পাবলিক চার্জ' নিয়মের কারণে বিশ্বজুড়ে হঠাৎ স্থগিত করা হলো গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার। এর ফলে আগে থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন এই নিয়মের আওতায়, কোনো আবেদনকারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হবেন বলে মনে হয়, তবে কনস্যুলার অফিসাররা তাঁর আবেদন বাতিল করে দিতে পারবেন। মূলত দূতাবাস ও কনস্যুলার কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে এই অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এই নতুন স্থগিতাদেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে ‘কনস্যুলার প্রসেসিং’-এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ওপর। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য যারা অপেক্ষা করছিলেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার বাতিল বা স্থগিত হওয়ার নোটিশ পেতে শুরু করেছেন। তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশের তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে। এই স্থগিতাদেশের সময়কাল নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেমফিসের সিসকাইন্ড সুসারের অংশীদার ও অভিবাসন আইনজীবী এলিসা তউব সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থবছর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত সকল অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার বদলে সরকার হঠাৎ করেই গণহারে সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে এবং কবে নাগাদ এগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার বরাদ্দকৃত সব ভিসা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে, যা বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য চরম হতাশাজনক। এছাড়া তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট গোপনে নতুন নিয়ম তৈরি করছে, অথচ আবেদনকারীদের এ বিষয়ে প্রস্তুত হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইনি অভিবাসন ব্যবস্থাকে সংকুচিত বা ধীর করার এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে ভিসা সাক্ষাৎকার নতুন করে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। যার ফলে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা বহু মানুষের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক বৈরিতার মধ্যেই এবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের পরিচিত ভৌগোলিক জলাশয় ‘লেক অন্টারিও’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, নাম পরিবর্তনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি "অবিলম্বে কার্যকর" হতে যাচ্ছে। কানাডার সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই নাটকীয় সিদ্ধান্তটি এলো। এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বিষয়ক দপ্তরকে (ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্ট) তাদের ভৌগোলিক নামের সরকারি তথ্যভাণ্ডারে ‘লেক অন্টারিও’র নাম হালনাগাদ করে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের (গালফ অব মেক্সিকো) নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার সময়ও ঠিক এমনই একতরফা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কিংবা কানাডার অংশে এই নাম পরিবর্তন কীভাবে গৃহীত হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমালোচকরা মনে করছেন, শুল্ক আরোপ নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এমনিতেই যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ট্রাম্পের এই প্রতীকী অথচ আগ্রাসী সিদ্ধান্ত সেই বৈরিতার আগুনে আরও নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা যখন জোরালো হচ্ছে, তখন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি চিঠি হস্তান্তর করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠকের সময় চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়। জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ২৩তম বিশেষ অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের সফর হয়েছে। এসব সফর দুই দেশের বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ের সফরের সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বাড়তে থাকা আগ্রহের কথাও উল্লেখ করে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি সৌদি আরবের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনা চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের পর্যায়ে নেই। তবে চুক্তির সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। স্বাধীন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি তিন দেশের মধ্যে হয়েছে এবং বাংলাদেশ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার আগে যোগদানের সুবিধা বা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি। খলিলুর রহমান আরও বলেন, ভবিষ্যতে চুক্তিটি সম্প্রসারিত হলে এটি মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। তাঁর ভাষায়, এটি মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এ নিয়ে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও বলেছেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজন ও জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে অন্য কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। ফলে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তির বর্তমান সদস্য দেশগুলো ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় কি না এবং সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় বয়স্ক বাবা-মায়েদের হাতে ফলানো ব্যাকইয়ার্ডের দেশি সবজি বিক্রির বেশ কয়েকটি দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ছোট পরিসরে লাউ, শসা, করলা, বেগুন, টমেটো থেকে শুরু করে নানা ধরনের দেশি সবজি সাজিয়ে বিক্রি করছেন বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি। এই ঘটনাগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে শ্রমের মর্যাদা এবং প্রবীণদের প্রতি পারিবারিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। একাংশের মতে, সৎ পথে পরিশ্রম করে উপার্জন করা সবসময়ই সম্মানজনক। অনেকেই মনে করেন, নিজেদের বাগানের বাড়তি সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করা এবং প্রবীণদের কর্মক্ষম থাকাটা ইতিবাচক একটি দিক। তবে অন্যদিকে অনেকেই সমালোচনা করে বলছেন, আর্থিক প্রয়োজনে বা অন্য কোনো চাপে একাধিক বয়স্ক বাবা-মাকে দীর্ঘক্ষণ ফুটপাতে বসিয়ে রাখা মোটেও মর্যাদাকর নয়। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক কমিউনিটি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যম ‘আমেরিকা বাংলা’-কে জানান, বাগানের অতিরিক্ত সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করাতে দোষের কিছু নেই এবং এতে কিছু খরচও উঠে আসে। তবে বয়স্ক বাবা-মায়েদের এভাবে রাস্তায় বসিয়ে দিনের পর দিন বিক্রি করানোর বদলে স্থানীয় গ্রোসারি বা অন্য কোনো সম্মানজনক বৈধ উপায়ে তা সরবরাহ করা যেতে পারে, যাতে প্রবীণদের অযথা কষ্ট না হয়। সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু কয়েক ঝুড়ি সবজি বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি প্রবাস জীবনে পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা এবং প্রবীণদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো উপসংহারে পৌঁছানোর আগে বা কাউকে বিদ্রূপ করার বদলে প্রবীণদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মান বজায় রেখে কীভাবে এ ধরনের কাজের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সেটি নিয়েই এখন ভাবছেন সচেতন প্রবাসীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের মার্কিন সফর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরএসএস সদস্য এবং এগুলোর সঙ্গে জড়িত ভারতীয় কর্মকর্তাদের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গত ২৬ আগস্ট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউএসসিআইআরএফ-এর চেয়ার আসিফ মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মোহন ভাগবতকে দেওয়া ভিসা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত এবং ভবিষ্যতে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ইউএসসিআইআরএফ-এর অভিযোগ, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংস হামলা ও উসকানি ছড়ানোর ক্ষেত্রে আরএসএস এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এমন অনেক নীতি বাস্তবায়ন করেছে যা আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বৈষম্য তৈরি করেছে। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা ঘিরে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত সরকার ইউএসসিআইআরএফ-এর এই বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই মার্কিন কমিশনটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে আসছে এবং তাদের নিজস্ব কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তবে মার্কিন কমিশনের এই কড়া বিবৃতির পর মোহন ভাগবতের চলমান সফর ও আসন্ন অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিউ অরলিন্সের সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডে অফিস সহকারীসহ একাধিক পূর্ণকালীন সরকারি চাকরির সুযোগ রয়েছে। সংস্থাটির সরকারি ক্যারিয়ার পাতায় বর্তমানে বিভিন্ন পদে নিয়োগের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অফিস সহকারী পদটি সিটিওয়াইড শ্রেণির পূর্ণকালীন চাকরি। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, এ পদের বেতন ৩১ হাজার ৮৮৯ ডলার এবং আবেদনের শেষ তারিখ নির্ধারিত নেই। অফিস সহকারী পদের কাজে মাঝারি ধরনের বিভিন্ন দাপ্তরিক ও কেরানিসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। এ পদের জন্য উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ বা সমমানের যোগ্যতার পাশাপাশি তিন বছরের পূর্ণকালীন কেরানি, প্রশাসনিক, কম্পিউটার, জনসেবা বা প্রেরণকেন্দ্রিক কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পদভেদে আলাদা। উদাহরণ হিসেবে, সংস্থাটির আরেকটি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন বিশ্লেষক পদের জন্য স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পদে বেতন ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও আলাদা। সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ড জানিয়েছে, কর্মীদের জন্য বার্ষিক ও অসুস্থতাজনিত ছুটি, জীবনবীমা, স্বাস্থ্য, ডেন্টাল ও ভিশন বীমা, পেনশন, শিক্ষাব্যয় ফেরত এবং কর্মী সহায়তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। সংস্থাটি সমান সুযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থাটির একাধিক ধাপের প্রক্রিয়া রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট পদের সর্বশেষ যোগ্যতা, বেতন ও অন্যান্য শর্ত দেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্যারিয়ার পাতায় চলমান পদগুলোর তালিকাও পাওয়া যাচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার সময় বর্তমানে বসবাসের নির্দিষ্ট শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে পূর্ণকালীন কর্মীদের নিয়োগের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অরলিন্স প্যারিশে বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এ শর্ত থেকে অব্যাহতির সুযোগও রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আবেদন করার আগে সিউয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার বোর্ডের সরকারি চাকরির তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট পদের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত।