সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ টেক্সাসের দম্পতি, উৎকণ্ঠায় দুই মেয়ে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:৩৪
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক ও মধু আহুজা। ছবি: সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক ও মধু আহুজা। ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক আহুজা ও মধু আহুজা। কৈলাশ তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে গত ২৬ আগস্ট সীমান্তের গিরিয়ং পোর্ট ইমিগ্রেশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। 

 

দীপক ও মধু আহুজা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডালাসে বসবাস করছেন। দীপকের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে তারা ইশা ফাউন্ডেশনের একটি তীর্থযাত্রী দলের সঙ্গে টেক্সাস থেকে কৈলাশ পর্বতে যান। তীর্থযাত্রা শেষ করে তারা নেপাল-তিব্বত সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েন। 

 

তাদের দুই মেয়ে আশনা ও শ্রেয়া আহুজা এখন বাবা-মায়ের কোনো খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্যোগের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে মেয়েদের একজনের সঙ্গে বাবা-মায়ের কথা হয়েছিল। পরে বন্যার খবর পাওয়ার পর তারা বারবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। তীর্থযাত্রা আয়োজনকারী সংগঠন থেকেও পরিবারকে জানানো হয়, গিরিয়ং পোর্টের ইমিগ্রেশন সেন্টার এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছিল। 

 

আহুজা পরিবারের স্বজনরা তাদের সন্ধানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। উদ্ধারকারী দলগুলোও দুর্যোগকবলিত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। 

 

এদিকে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শত শত মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি এক হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অনেকেই কৈলাশ তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগের পর বেশ কিছু মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের সন্ধান ও নিরাপদে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

 

দীপক ও মধুর দুই মেয়ে এখন একটি খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন - তাদের বাবা-মা কোথায় আছেন এবং তারা নিরাপদে আছেন কি না। পরিবারের আশা, চলমান উদ্ধার অভিযানে দ্রুত তাদের সন্ধান মিলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর রেকর্ড গ্রেপ্তার, অর্ধেকের বেশি অভিবাসীর নেই অপরাধের রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি এবং জুলাইয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। তবে জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধে দণ্ড বা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা ছিল না বলে নতুন ফেডারেল তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক নির্বাসন অভিযানের মধ্যে আইসিই এখন শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নয়, বরং যাদের বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে কিংবা যারা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে আছেন, তাদেরও বেশি হারে গ্রেপ্তার করছে। একই সময়ে অতীতে সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।   অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযানের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। কারাগার থেকে অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার বদলে আইসিই এখন কর্মস্থল, বাড়ি এবং ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গা থেকে সরাসরি গ্রেপ্তার বাড়িয়েছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আইসিইর প্রায় ৬৩ শতাংশ গ্রেপ্তার এখন এ ধরনের সরাসরি অভিযানের মাধ্যমে হচ্ছে।   এ ধরনের অভিযানে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের অংশগ্রহণও বেড়েছে। ২৮৭(জি) কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া মানুষের সংখ্যা এখন মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ১৪ শতাংশ।   অভিবাসন স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় থাকা ব্যক্তিরাও এখন ঝুঁকিতে পড়ছেন। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন বা গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া চলার সময় যাদের বৈধ স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদেরও আইসিই গ্রেপ্তার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের প্রশাসনগুলোর সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের সাধারণত আটক করা হতো না।   ট্রাম্প প্রশাসন একই সঙ্গে আইসিইর আটক ও নির্বাসন কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে। চলতি বছরের শুরুতে আইসিই কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে নির্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। যেকোনো সময়ে অন্তত ৯৯ হাজার মানুষকে আইসিইর আটক কেন্দ্রে রাখার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।   নির্বাসনসংক্রান্ত ফ্লাইটের সংখ্যাও বেড়েছে। হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে আইসিইর আটক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের জন্য ১ হাজার ৩৬৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যা অন্তত ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ মাসিক সংখ্যা। একই মাসে অন্তত ৩২৯টি নির্বাসন ফ্লাইট ৩৭টি দেশে পরিচালিত হয়েছে।   তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, অপরাধের রেকর্ড না থাকা ব্যক্তিদেরও ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার ও দ্রুত নির্বাসনের আওতায় আনা হলে তাদের আইনি অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা এবং পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১:৪৪
মিস ইউএসএ ২০২৬-এর মুকুট জিতে ইতিহাস গড়েছেন ভার্জিনিয়ার জাস্টাস কেলি। ছবি: সংগৃহীত

মিস ইউএসএ জিতে ইতিহাস গড়লেন ভার্জিনিয়ার ৩১ বছরের দুই সন্তানের মা

বিদেশি সরকারের কাছে জাতীয় প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহের চেষ্টার তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

গোপন তথ্য পাচারের দায় স্বীকার সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার

ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে মালিকানা চায় যুক্তরাষ্ট্র, চলছে গোপন আলোচনা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক ও মধু আহুজা। ছবি: সংগৃহীত
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ টেক্সাসের দম্পতি, উৎকণ্ঠায় দুই মেয়ে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি দীপক আহুজা ও মধু আহুজা। কৈলাশ তীর্থযাত্রা শেষে ফেরার পথে গত ২৬ আগস্ট সীমান্তের গিরিয়ং পোর্ট ইমিগ্রেশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে পরিবারের শেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।    দীপক ও মধু আহুজা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডালাসে বসবাস করছেন। দীপকের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে তারা ইশা ফাউন্ডেশনের একটি তীর্থযাত্রী দলের সঙ্গে টেক্সাস থেকে কৈলাশ পর্বতে যান। তীর্থযাত্রা শেষ করে তারা নেপাল-তিব্বত সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েন।    তাদের দুই মেয়ে আশনা ও শ্রেয়া আহুজা এখন বাবা-মায়ের কোনো খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্যোগের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে মেয়েদের একজনের সঙ্গে বাবা-মায়ের কথা হয়েছিল। পরে বন্যার খবর পাওয়ার পর তারা বারবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। তীর্থযাত্রা আয়োজনকারী সংগঠন থেকেও পরিবারকে জানানো হয়, গিরিয়ং পোর্টের ইমিগ্রেশন সেন্টার এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছিল।    আহুজা পরিবারের স্বজনরা তাদের সন্ধানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। উদ্ধারকারী দলগুলোও দুর্যোগকবলিত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।    এদিকে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শত শত মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি এক হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অনেকেই কৈলাশ তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুর্যোগের পর বেশ কিছু মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজদের সন্ধান ও নিরাপদে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।   দীপক ও মধুর দুই মেয়ে এখন একটি খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন - তাদের বাবা-মা কোথায় আছেন এবং তারা নিরাপদে আছেন কি না। পরিবারের আশা, চলমান উদ্ধার অভিযানে দ্রুত তাদের সন্ধান মিলবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:৩৪
নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের, অথচ ইতিহাসবিদদের মূল্যায়নে তিনি সবার নিচে

হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে ডেলিভারি চালকের অস্বাভাবিক আচরণ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন অবস্থায় খাবার পৌঁছে দিলেন ডেলিভারিম্যান, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ল দৃশ্য

জাকারবার্গের স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার একটি পোস্ট। ছবি: এক্স থেকে সংগৃহীত

জাকারবার্গের স্ত্রীর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ, সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা জবাব, ‘ভালোবাসা টাকা দিয়ে কেনা যায় না’

বাড়ির গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে স্থানীয় নির্মাণবিধি ও অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম জানা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে জানুন, পারমিট ছাড়া জরিমানার মুখে পড়তে পারেন মালিকেরা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির অনেক পরিবার রান্নার সুবিধার জন্য বাড়ির গ্যারাজে অতিরিক্ত চুলা বসিয়ে নিয়মিত রান্না করেন। বিশেষ করে তেল-মসলা দিয়ে রান্না বা ভাজাপোড়ার জন্য অনেকে গ্যারাজে আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করেন। তবে গ্যারাজে চুলা বসানো বা সেটিকে রান্নাঘরে রূপান্তর করার আগে স্থানীয় আইন ও পারমিটের নিয়ম জানা জরুরি। কারণ পরিস্থিতি অনুযায়ী এ ধরনের কাজ নির্মাণবিধি লঙ্ঘন হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে সারা দেশের জন্য একক কোনো নিয়ম নেই। শহর, কাউন্টি ও অঙ্গরাজ্যভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। তবে গ্যারাজে স্থায়ীভাবে চুলা বসানোর সঙ্গে গ্যাস বা প্রোপেন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন, ধোঁয়া বের করার ব্যবস্থা কিংবা ভবনের কাঠামোগত পরিবর্তন যুক্ত হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পারমিট ও পরিদর্শনের প্রয়োজন হতে পারে।   এমনকি আলাদা গ্যাস লাইন না নিয়ে পোর্টেবল প্রোপেন সিলিন্ডার ব্যবহার করলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। চুলাটি ওই জায়গায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কি না, সিলিন্ডার কোথায় রাখা যাবে, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে কি না, সেসব বিষয় স্থানীয় অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্মাণবিধির আওতায় পড়তে পারে। বাইরে ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রোপেন চুলা গ্যারাজের ভেতরে নিয়মিত রান্নার কাজে ব্যবহার করা যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।   নিউইয়র্ক সিটির নির্মাণ বিভাগের নিয়মেও রান্নাঘর সংস্কারের ক্ষেত্রে কাজের ধরন অনুযায়ী পারমিটের প্রয়োজন হতে পারে। গ্যাসের পাইপ পরিবর্তন, নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ, প্লাম্বিং বা ভবনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো কাজে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করলে জরিমানা বা ভায়োলেশনের মুখে পড়তে হতে পারে।   অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক ভবনে আগুন লাগার অন্যতম প্রধান কারণ রান্না। বিশেষ করে তেল ও চর্বি দিয়ে রান্নার সময় আগুনের ঝুঁকি থাকে। গ্যারাজে গাড়ি, জ্বালানি বা দাহ্য জিনিসপত্র থাকায় সেখানে রান্নার আগুন আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   বাড়ির ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। অনুমোদনহীন পরিবর্তন বা ইন্স্যুরেন্স পলিসির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো রান্নার ব্যবস্থা থাকলে ভবিষ্যতে আগুন বা অন্য ক্ষতির ঘটনায় ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে শুধু গ্যারাজে চুলা থাকার কারণে সব ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম বাড়বে বা ক্লেইম বাতিল হবে, এমন কোনো একক নিয়ম নেই। তাই আগে নিজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা এজেন্টের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া ভালো।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্য কেউ গ্যারাজে চুলা ব্যবহার করছেন দেখে নিজের বাড়িতেও একই কাজ করা নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না। গ্যারাজে নিয়মিত রান্নার ব্যবস্থা করার আগে নিজের শহর বা কাউন্টির নির্মাণ ও অগ্নিনিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে পারমিট প্রয়োজন কি না জেনে নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে পারমিট নিয়ে এবং পরিদর্শন সম্পন্ন করেই কাজ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২১:৩৭
ঘুমের মধ্যে মুখে বাদুড়ের সংস্পর্শে আসেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমন্ত চিকিৎসকের মুখে ঢোকার চেষ্টা করছিল বাদুড়, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে চার দিন ক্লাস করার পর শিনের আসল বয়স ও পরিচয় সামনে আসে। ছবি: সংগৃহীত

একাকিত্ব কাটাতে ২৯ বছর বয়সে কিশোরী সেজে হাইস্কুলে ভর্তি, চার দিন ক্লাসের পর ধরা পড়লেন নারী

বাড়ির দাম বাড়ার আগে সম্ভাবনাময় ৯ শহর চিহ্নিত করেছেন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত

দাম বাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সুযোগ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের নজরে ৯ শহর

0 Comments