৭ মাস আইসিই হেফাজতে বন্দি থাকার পর মিলল গ্রিন কার্ড, তবু আনন্দ নেই মার্কোসের
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন মার্কোস গাসপার-দা সিলভা। একজন মার্কিন নাগরিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই ব্রাজিলীয় নাগরিক আইনি প্রক্রিয়ার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাতে আটক হন।
এরপর তাঁকে প্রায় সাত মাস কাটাতে হয় বন্দিশিবিরে। চলতি মাসের শুরুতে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাঁকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দিলে অবশেষে তিনি মুক্তি পান।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরিবারের কাছে ফিরলেও এই দীর্ঘ বন্দিজীবন তাঁকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত করেছে যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্তির পরও তাঁর মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই।
সংবাদমাধ্যম পোর্টল্যান্ড প্রেস হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি আবেগের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু আমার ভেতরে এখন কোনো আবেগই অবশিষ্ট নেই।"
মার্কোসের দাবি, বন্দিশিবিরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ সেখানে গাদাগাদি করে থাকতো। মাসের পর মাস তাঁকে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি, মানহীন খাবার, পানের অযোগ্য পানি এবং চরম চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি দাঁতের তীব্র ব্যথায় ভুগলেও তাঁকে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রাখা হয়েছে এবং কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী।
তবে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র এই অভিযোগগুলোকে 'অতিরঞ্জিত' আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, আইসিই-এর বন্দিশিবিরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ কারাগারগুলোর চেয়েও উন্নত মান বজায় রাখা হয় এবং সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-নির্বাসন অভিযানের প্রতিশ্রুতির মাঝেই মার্কোসের মতো বৈধ গ্রিন কার্ড ও ভিসা আবেদনকারীদের এভাবে আটকের ঘটনা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে ব্রাজিলে সিভিল অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করার সময় মৃত্যুর হুমকি পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মার্কিন নাগরিক আলেসিয়াকে বিয়ে করে আইনি পথেই স্পাউসাল গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থাতেই গত জানুয়ারিতে কাজে যাওয়ার পথে তাঁকে হঠাৎ আটক করে আইসিই।
এরপর ম্যাসাচুসেটস থেকে অ্যারিজোনা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের বন্দিশিবিরে তাঁকে ঘুরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান। বর্তমানে তিনি তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে একজন পর্তুগিজ-ভাষী থেরাপিস্টের সহায়তা নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি স্থানীয় মসজিদে শিক্ষাসফরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ইসলামিক পোশাক পরানো এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার অভিযোগে পালো আল্টো ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলটির প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ আগস্ট ইহুদি, হিন্দু এবং জোরোয়াস্ট্রিয়ান ধর্মাবলম্বী অভিভাবকদের একটি দল যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পালো আল্টো হাইস্কুলের 'সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে' কারিকুলামের অংশ হিসেবে গত বছর মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে একটি মসজিদে এই সফরের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নেওয়ার জন্য পবিত্র কুরআন উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া, সেখানে জোহরের নামাজ পর্যবেক্ষণ এবং ইসলাম ধর্ম কীভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রচার করে, সে বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ পাবলিক স্কুলে এভাবে নির্দিষ্ট একটি ধর্মকে প্রচার করা মার্কিন সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মামলার আইনজীবী ডেভিড রোজেনবার্গ-ওহল জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছে যে প্রগতিশীলতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য ইসলামই উপযুক্ত ধর্ম, যা কোনোভাবেই একটি পাবলিক স্কুলের কাজ হতে পারে না। অন্যদিকে, মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন এই মামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাধারণ ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে পরিচিত হওয়াকে জবরদস্তি বা হুমকিস্বরূপ হিসেবে দেখলে তা মূলত সমাজে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতিকেই আরও উসকে দেবে। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, তারা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন, তবে চলমান আইনি বিষয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। স্কুল পত্রিকার সম্পাদক জুনি থার্স্টন জোরপূর্বক হিজাব পরানো এবং ইসলামিক আদর্শে দীক্ষিত করার অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে অতিরঞ্জিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও ওই সফরে আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের বিতর্কিত নেত্রী জাহরা বিল্লুর উপস্থিতি নিয়ে তিনিও আপত্তি জানিয়েছেন। এদিকে, ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন (ফায়ার) জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের যদি কোনো ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়ে থাকে, তবে তা সরাসরি মার্কিন সংবিধানের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বা প্রথম সংশোধনীর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ আরও বাড়ল, মর্টগেজ রেট বেড়ে ৬.৬৬ শতাংশে
৭ মাস আইসিই হেফাজতে বন্দি থাকার পর মিলল গ্রিন কার্ড, তবু আনন্দ নেই মার্কোসের
বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা
নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তায় বয়স্ক বাবা-মায়েদের হাতে ফলানো ব্যাকইয়ার্ডের দেশি সবজি বিক্রির বেশ কয়েকটি দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ছোট পরিসরে লাউ, শসা, করলা, বেগুন, টমেটো থেকে শুরু করে নানা ধরনের দেশি সবজি সাজিয়ে বিক্রি করছেন বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি। এই ঘটনাগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে শ্রমের মর্যাদা এবং প্রবীণদের প্রতি পারিবারিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। একাংশের মতে, সৎ পথে পরিশ্রম করে উপার্জন করা সবসময়ই সম্মানজনক। অনেকেই মনে করেন, নিজেদের বাগানের বাড়তি সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করা এবং প্রবীণদের কর্মক্ষম থাকাটা ইতিবাচক একটি দিক। তবে অন্যদিকে অনেকেই সমালোচনা করে বলছেন, আর্থিক প্রয়োজনে বা অন্য কোনো চাপে একাধিক বয়স্ক বাবা-মাকে দীর্ঘক্ষণ ফুটপাতে বসিয়ে রাখা মোটেও মর্যাদাকর নয়। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের এক কমিউনিটি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যম ‘আমেরিকা বাংলা’-কে জানান, বাগানের অতিরিক্ত সবজি নষ্ট না করে বিক্রি করাতে দোষের কিছু নেই এবং এতে কিছু খরচও উঠে আসে। তবে বয়স্ক বাবা-মায়েদের এভাবে রাস্তায় বসিয়ে দিনের পর দিন বিক্রি করানোর বদলে স্থানীয় গ্রোসারি বা অন্য কোনো সম্মানজনক বৈধ উপায়ে তা সরবরাহ করা যেতে পারে, যাতে প্রবীণদের অযথা কষ্ট না হয়। সব মিলিয়ে বিষয়টি শুধু কয়েক ঝুড়ি সবজি বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি প্রবাস জীবনে পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা এবং প্রবীণদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধের একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো উপসংহারে পৌঁছানোর আগে বা কাউকে বিদ্রূপ করার বদলে প্রবীণদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মান বজায় রেখে কীভাবে এ ধরনের কাজের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সেটি নিয়েই এখন ভাবছেন সচেতন প্রবাসীরা।
নিউ অরলিন্সে সরকারি চাকরির সুযোগ, অফিস সহকারীসহ একাধিক পদে নিয়োগ
জর্জিয়ায় ২০০৩ সালের দুই নারী হত্যায় দণ্ডিত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড ১৬ সেপ্টেম্বর
সন্তানদের বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ, ঘাড় ভেঙে শরীরের নিচের অংশ অবশ বাবার
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ড্যানবেরিতে স্কুলবাসের স্টপেজের কাছে অভিভাবকদের আটকের অভিযোগ উঠেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) বিরুদ্ধে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি বুধবার অভিযোগ করেন, সন্তানদের স্কুলবাসে তুলে দেওয়ার পর কয়েকজন অভিভাবককে আটক করা হয়েছে। মারফির দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা বাসে ওঠার পর আইসিই কর্মকর্তারা অভিভাবকদের আটক করেন। এতে দিনের শেষে শিশুরা বাস থেকে নামার পর তাদের অভিভাবকদের খুঁজে না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের বাসে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন কিনা, সে দাবির পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ দেননি। এদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠন গ্রেটার ড্যানবেরি এরিয়া ইউনাইটেড ফর ইমিগ্র্যান্টস জানিয়েছে, তিন দিনে ড্যানবেরিতে ৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এর মধ্যে স্কুলবাস স্টপেজের আশপাশেও আইসিইর অভিযান চালানো হয়েছে। একটি ভিডিওতে স্কুলবাসের ভেতর থেকে ধারণ করা দৃশ্যে কয়েকটি চিহ্নহীন গাড়ি দেখা যায়, যেগুলোকে বাসের যাত্রীরা আইসিইর গাড়ি হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইসিই বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিয়েছে কিনা, তা প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। নিউজউইক এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য চেয়েছে। ড্যানবেরিতে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির প্রায় ৩৫ শতাংশ বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। সাম্প্রতিক আইসিই অভিযানে স্থানীয় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ক্যানসারে আক্রান্ত কাজিনের পাশে দাঁড়াতে মাথা ন্যাড়া করল ছয় বছরের শিশু
ট্রাম্পকে ভুলে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়