যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ আরও বাড়ল, মর্টগেজ রেট বেড়ে ৬.৬৬ শতাংশে
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি হোম লোনের গড় সুদের হার বা মর্টগেজ রেট আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্ধকি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজ বেড়ে ৬.৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। গত বছরের ঠিক একই সময়ে এই সুদের হার ছিল ৬.৫৬ শতাংশ।
সুদের এই বৃদ্ধির ফলে গৃহঋণ গ্রহণকারীদের মাসিক খরচ কয়েকশ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাকে সীমিত করে দিচ্ছে।
আর ক্রমবর্ধমান খরচের কারণেই অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে মার্কিন আবাসন বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে।
ফ্রেডি ম্যাকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান রেটটি ঠিক চার সপ্তাহ আগের অবস্থানে ফিরে গেছে এবং এটি এই মাসের শুরুতে পৌঁছানো এ বছরের সর্বোচ্চ হার ৬.৬৯ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
শুধু ৩০ বছর মেয়াদি ঋণই নয়, বরং ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের ক্ষেত্রেও খরচের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সাধারণত পুরনো ঋণ পরিশোধ করে নতুন ঋণ নেওয়ার (রিফাইন্যান্সিং) ক্ষেত্রে এই রেটটি বেশি ব্যবহৃত হয়।
গত সপ্তাহে এই হার ৫.৯৫ শতাংশ থাকলেও চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে ৫.৯৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যেখানে এক বছর আগে এই রেট ছিল মাত্র ৫.৬৯ শতাংশ।
মূলত মর্টগেজ রেটের এই ওঠানামার পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের পলিসি রেট বা সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা।
মর্টগেজ রেট সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ডের গতিপথ অনুসরণ করে নির্ধারিত হয়, যা ঋণদাতারা হোম লোনের মূল্য নির্ধারণে একটি অন্যতম নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreশিল্পী জেফ্রি রিড সম্প্রতি ম্যানহাটনের টম্পকিন্স স্কয়ার পার্কের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হিলারি ক্লিনটনের বিশালাকার দুটি প্রতিকৃতি স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। একটি সাদাকালো কুকুর ট্রাম্পের বিশাল প্রতিকৃতির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থেমে যায় এবং পা তুলে সরাসরি মার্কিন এই রাজনীতিকের মুখের ওপর প্রস্রাব করতে শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা ফটোগ্রাফার জন ইজ এই হাস্যকর দৃশ্যটি নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেন। ছবিটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই চারদিকে গুঞ্জন ওঠে যে, এটি হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো রাজনৈতিক স্টান্ট বা পূর্বনির্ধারিত ঘটনা। তবে ফটোগ্রাফার জন ইজ নিশ্চিত করেছেন যে, পুরো ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। সে সময় কুকুরের মালিক নিজের ফোনে ব্যস্ত ছিলেন এবং তার পোষা প্রাণীটি ঠিক কী করছে সে সম্পর্কে শুরুতে তার কোনো ধারণাই ছিল না। যখন তিনি বিষয়টি খেয়াল করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কুকুরের গলার চেইন ধরে টান দিয়ে নিজের পথে হাঁটা চালিয়ে যান। এই ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পিত আয়োজন, প্রশিক্ষিত প্রাণী বা রাজনৈতিক কোনো বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। এটি ছিল কেবলই একটি কুকুর, একটি স্ট্রিট আর্ট এবং একেবারে সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে থাকা একজন ফটোগ্রাফারের দারুণ এক কাকতালীয় সমন্বয়ের ফল।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকায় কলার দাম বাড়ার আশঙ্কা, ১৫ সেন্টের সস্তা ফল কি আর সস্তা থাকবে?
টেক্সাস সীমান্তে আট হাজারের বেশি সেনা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান
গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের অনুরোধ, ট্রাম্প প্রশাসনে নতুন বিতর্ক
আমেরিকায় বসেই বাংলাদেশের জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা অনলাইনে পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি ভূমিসেবা ব্যবস্থায় নিবন্ধন করে সংশ্লিষ্ট জমির হোল্ডিং যুক্ত থাকলে করের দাবি দেখা, পেমেন্ট করা এবং দাখিলা সংগ্রহ করা যায়। তবে প্রথমবার নিবন্ধন, জমির তথ্য যাচাই ও হোল্ডিং তৈরির কাজ বাকি থাকলে পুরো প্রক্রিয়া পাঁচ মিনিটে শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল অনুযায়ী, হোল্ডিং নিবন্ধনের জন্য সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পরিচয়পত্রে থাকা জন্মতারিখ এবং দাখিলা বা নামজারি খতিয়ানের তথ্য প্রয়োজন। পুরোনো দাখিলা ও জমির খতিয়ান হাতের কাছে রাখলে তথ্য দেওয়ার কাজ সহজ হয়। প্রথমে সরকারি ভূমিসেবা পোর্টালের নাগরিক নিবন্ধন ও লগইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এরপর ভূমি উন্নয়ন কর সেবায় গিয়ে খতিয়ানের তথ্য জমা দিতে হবে। সরকারি ব্যবহারকারী নির্দেশিকায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির জন্য মালিকানার ধরন হিসেবে উত্তরাধিকার নির্বাচন করে ওয়ারিশের তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থাও উল্লেখ রয়েছে। তাই বাবার নামে খতিয়ান থাকলে তাঁর পরিচয়পত্র দিয়ে নিজের পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার পরিবর্তে প্রযোজ্য মালিকানা ও প্রতিনিধিত্বের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এমন প্রবাসী ভূমিমালিকদের জন্যও সরকারি নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবক বা প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে অনলাইনে কর আদায়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। অ্যাকাউন্টে হোল্ডিং যুক্ত হলে তার বিস্তারিত অংশ থেকে অনলাইন পেমেন্টে যেতে হবে। সেখানে প্রদর্শিত পেমেন্ট গেটওয়ে নির্বাচন করে কর পরিশোধ করা যায়। তবে আমেরিকার মোবাইল নম্বরে নিবন্ধনের ওটিপি পাওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ইস্যু করা যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার নিশ্চয়তা পাওয়া সরকারি নির্দেশিকায় নেই। পেমেন্টের সময় প্রদর্শিত ও কার্যকর পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। কর পরিশোধ সম্পন্ন হলে অ্যাকাউন্টের দাখিলা অংশে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের রশিদ পাওয়া যায়। সেটি সংরক্ষণ করা জরুরি। সরকারি পোর্টাল বলছে, জমির নামজারি ও কেনাবেচাসহ বিভিন্ন কাজে দাখিলা প্রয়োজন হতে পারে। টাকা কাটা গেলেও দাখিলা না এলে সরকারি নির্দেশিকায় পেমেন্ট সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। খাজনা সময়মতো না দিলেই জমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাস হয়ে যায়, এমন বক্তব্য সঠিক নয়। ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, কোনো বছরের কর সেই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ না হলে তা বকেয়া হিসেবে গণ্য হয়। টানা তিন বছর বকেয়া থাকলে প্রথম থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে জরিমানাসহ তা আদায়যোগ্য। তৃতীয় বছর শেষে বকেয়া আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা করা যেতে পারে। একই আইনে বকেয়া ও চলতি কর পরিশোধের সঙ্গে অথবা পরে সর্বোচ্চ তিন বছরের কর অগ্রিম দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নিয়মিত কর পরিশোধের পাশাপাশি প্রবাসী মালিকেরা অগ্রিম পরিশোধের সুবিধাও বিবেচনা করতে পারেন। নিবন্ধন বা হোল্ডিংয়ের তথ্য নিয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশে ভূমিসেবা সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বর চালু রয়েছে। অনলাইনে কর দেওয়ার সুবিধা থাকলেও মালিকানা, খতিয়ান কিংবা হোল্ডিংয়ের ভুল সংশোধনে আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজন
চিকিৎসায় এআইয়ে বৈষম্য কমাতে গবেষণায় এমআইটির মুসলিম অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি
জর্জিয়ায় রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে পড়ে ঝুলে ছিলেন বাবা, ঘটনার বর্ণনা দিলেন সহযাত্রী
সড়ক দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন একটি কেয়ার সেন্টারে থাকা মার্কিন নাগরিক রবার্ট ডাভিলা নিজের ইসলাম গ্রহণের পেছনে একটি স্বপ্নের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। টেক্সাসের ব্রিজপোর্টে বেড়ে ওঠা রবার্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ওই স্বপ্ন দেখার পর ঘুম থেকে উঠে তিনি শাহাদাহ পাঠ করেন। পরে কোরআন ও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। সৌদি গেজেটের ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ সালে টেক্সাসের ডেকাটারে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন রবার্ট। দুর্ঘটনার ফলে তাঁর ঘাড়ের নিচের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এরপর তিনি টেক্সাসের জাস্টিন শহরের লংমেডো কেয়ার সেন্টারে থাকতেন। সেখানে রুমমেট মার্কের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। ২০০৪ সালে মার্কের মৃত্যুর পর তাঁর বোন একটি ক্রুশ রবার্টকে দেন। বন্ধুর স্মৃতি হিসেবে সেটি নিজের বিছানার ওপরে ঝুলিয়ে রাখতে বলেন রবার্ট। রবার্টের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে স্বপ্নে তিনি এক ব্যক্তিকে দেখেন, যাঁকে তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.) হিসেবে চিনতে পেরেছেন বলে মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, ওই ব্যক্তি ক্রুশের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁকে বোঝান যে ঈসা (আ.) একজন মানব নবী এবং মানুষকে আল্লাহর উপাসনার দিকে আহ্বান করেছেন। স্বপ্নের এই বিবরণ রবার্টের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিজ্ঞতা, স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য ঘটনা নয়। নোমান আলী খানের সঙ্গে কথোপকথনের প্রকাশিত ভিডিওর প্রতিলিপিতে রবার্ট জানান, ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি শাহাদাহ পাঠ করেন। এরপর প্রথম কয়েক মাস কোরআন পড়া ও শেখার দিকে মনোযোগ দেন। আয়াতের অর্থ বুঝতে গিয়ে পরে নোমান আলী খানের তাফসিরের ভিডিও দেখতে শুরু করেন। একই কথোপকথনে রবার্ট কোরআন শুনে আরবি বর্ণমালা ও উচ্চারণ শেখার চেষ্টার কথা বলেন। কয়েকটি ছোট সুরা মুখস্থ করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। নোমান আলী খান তাঁর গল্প অন্যদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের সাক্ষাতের ভিডিওও প্রকাশিত হয়েছে।
উত্তেজনার মধ্যে স্বস্তির এক টুকরো, শিশুর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ড. ইউনূসের ছবি ভাইরাল
নিউইয়র্কে সন্তানকে হিফজ পড়াবেন কোথায়, জানুন ঠিকানা ও নিয়ম