সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

জন্মের আগে গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি, জন্মের পর সেই শিশুরই অভিভাবকত্ব দাবি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৩:২৩
জন্মের আগে গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি, জন্মের পর সেই শিশুরই অভিভাবকত্ব দাবি
জন্মের আগে গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি, জন্মের পর সেই শিশুরই অভিভাবকত্ব দাবি

গর্ভের শিশুর গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্রের ত্রুটি ধরা পড়ার পর গর্ভপাত চেয়েছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক দম্পতি। কিন্তু তাদের সারোগেট মা ম্যাককেনা ওয়েস্ট সেই সিদ্ধান্তে রাজি না হয়ে টেক্সাসে চলে যান এবং শেষ পর্যন্ত শিশুটির জন্ম দেন।

 

এখন সেই শিশুই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর জন্মের পর তাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে নিয়ে অভিভাবকত্বের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদালতে লড়ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার দম্পতি নওশীন গিলকার ও ওমর আহমেদ। 

 

ডালাসের একটি আদালতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে গিলকার ও আহমেদ দাবি করেন, তারা শিশুটির জেনেটিক বাবা-মা এবং শিশুটির চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদেরই।

 

অন্যদিকে সারোগেট ম্যাককেনা ওয়েস্টের আইনজীবীরা আদালতে তার পক্ষে শিশুটির একক কনজারভেটরশিপ বা অভিভাবকত্ব চেয়েছেন, যাতে তিনি শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আদালত মঙ্গলবার চূড়ান্ত কাস্টডি বা অভিভাবকত্বের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। 

 

ঘটনার শুরু গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে। তখন পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম বা HLHS রয়েছে। এটি একটি গুরুতর জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের ত্রুটি, যেখানে হৃদ্‌যন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না এবং শরীরে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। চিকিৎসা না হলে এ ধরনের অবস্থায় জন্মের পর অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুর মৃত্যু হতে পারে। 

 

শিশুটির এই জটিলতা জানার পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন বলে আদালতের নথি ও শুনানিতে উঠে এসেছে। ওয়েস্টও আদালতে স্বীকার করেছেন, ২৩ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় তিনি দম্পতির অনুরোধে গর্ভপাতের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন।

 

তবে শেষ পর্যন্ত তিনি গর্ভপাত করাতে রাজি হননি। তার দাবি, শিশুটির বেঁচে থাকার এবং দীর্ঘ জীবন পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন। এরপর তিনি আলাস্কা থেকে টেক্সাসে চলে যান, যেখানে শিশুটির জন্ম হয়। 

 

১২ আগস্ট টেক্সাসে শিশুটির জন্মের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গিলকার ও আহমেদ শিশুটির নাম রেখেছেন রুমি। অন্যদিকে ওয়েস্ট শিশুটিকে গ্যাব্রিয়েল নামে ডাকেন।

 

শিশুটির গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার কারণে জন্মের পর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। পরে তার প্রথম বড় ধরনের হার্ট সার্জারি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, HLHS আক্রান্ত শিশুদের জন্য একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। 

 

বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আদালতে গিলকার জানান, অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির অবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে এবং তাকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আদালতে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, শিশুটি তাদের সন্তান এবং তারা তাকে হারাতে চান না। 

 

অন্যদিকে ওয়েস্টের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, গর্ভাবস্থায় শিশুটির গুরুতর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর যে দম্পতি গর্ভপাত চেয়েছিলেন, তারা এখন শিশুটির জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের যুক্তি, শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ওয়েস্টের কনজারভেটরশিপ থাকা উচিত।

 

শুনানিতে ওয়েস্টের আইনজীবী এমনও জানান, দম্পতি যদি শিশুটির প্রয়োজনীয় সার্জারি ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেন, তাহলে ওয়েস্ট তার কাস্টডি দাবি প্রত্যাহার করতে পারেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
Woman Frustrated with Credit Card
ফেসবুকে ২০০ ডলার হারিয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে আরও ১৩ অ্যাকাউন্টের তথ্য দিলেন প্রতারককে

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ট্র্যাক্টর কেনার জন্য ২০০ ডলার অগ্রিম পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ডোনা শাক। ঘটনাটি ফেসবুকে জানাতে গিয়ে তিনি গুগলে পাওয়া একটি ভুয়া কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে ফোন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই দ্বিতীয়বার প্রতারণার শিকার হয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে ফেলেন তিনি।    ল্যাংকাস্টার কাউন্টির ডোনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউজিএএলকে জানান, মার্কেটপ্লেসে একটি ছোট ট্র্যাক্টরের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বিক্রেতা তাঁর পরিবারের দুজনের ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিলেন। তাই ২০০ ডলার অগ্রিম পাঠান। কিছুক্ষণ পর বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর প্রোফাইলও আর দেখা যায়নি।    অভিযোগ জানাতে ফেসবুকের কাস্টমার সার্ভিস নম্বর খুঁজে ফোন করলে এক ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দেন। ডোনার দাবি, ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, বিক্রেতা হয়তো তাঁর ফোনের তথ্যেও প্রবেশ করতে পেরেছেন। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা ও কার্ডগুলো বাতিল করার কথা বলে তিনি ডোনার সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চান। ডোনা ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য দেন। পরে বুঝতে পারেন, নম্বরটি ভুয়া ছিল।    ডোনা এখন সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলোর পরিবর্তে নতুন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। দ্বিতীয় ঘটনায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো অঙ্ক নিশ্চিত করা হওয়া যায়নি।    যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন সতর্ক করেছে, সার্চ রেজাল্টে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কাস্টমার সার্ভিস নম্বর দেখাতে পারে প্রতারকেরা। কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানাতে হলে সরাসরি তার অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগাযোগের ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ সংস্থাটির। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা আর্থিক তথ্য প্রতারকের হাতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দ্রুত জানানো এবং পরিচয় চুরির ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ৬:২১
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ সেন্টের একটি নিকেল মুদ্রা

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ সেন্টের একটি নিকেল মুদ্রা তৈরি করতে খরচ হচ্ছে ১৩ সেন্টের বেশি

mother-and-child-watching-airplanes-at-airport-win

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট বিলম্বে খাবার-হোটেল সুবিধা কমতে পারে ১৯ অক্টোবর থেকে

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নাসিমী অন্তত ৩৫ জন মেডিকেইড সুবিধাভোগীর নামে এমন দন্তচিকিৎসার বিল জমা দেন, যা তিনি করেননি

হেলথ ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ গ্রেপ্তার পাঁচ শতাধিক

ইসাইয়াস স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আঘাত হানে
হারিকেন ইসাইয়াসে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ৬ লাখ এর বেশি মানুষ

হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপিতে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঝড় দুর্বল হয়ে পড়লেও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, দমকা বাতাস ও টর্নেডোর ঝুঁকি অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ পড়ে।    ইসাইয়াস স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আঘাত হানে। তখন এটি ক্যাটাগরি ২ মাত্রার হারিকেন ছিল। স্থলভাগে ঢোকার পর ঝড়টি দুর্বল হতে থাকে। তবে আলাবামার দক্ষিণাঞ্চল, ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল এবং জর্জিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা রয়ে যায়।    বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ারআউটেজের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ফ্লোরিডায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, আলাবামায় ১ লাখ ৯০ হাজার, জর্জিয়ায় ৪৩ হাজার এবং মিসিসিপিতে ১৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। এই সংখ্যা বিদ্যুৎ সংযোগের হিসাব, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মোট সংখ্যা নয়।    আলাবামার হিউস্টন কাউন্টিতে উপড়ে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের তারের কারণে সড়কে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউন্টির সব সড়ক বন্ধ থাকবে। এলাকাটিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতাও জারি ছিল।    ফ্লোরিডায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানিয়েছেন, ঝড় মোকাবিলায় প্রায় ১৬ হাজার বিদ্যুৎকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় হাইওয়ে, সেতু ও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ চললেও পেনসাকোলা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ২:৫০
মৌসুমি কৃষিকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

নিউ ইয়র্কে কৃষিকাজে ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার বেতনে ১২৬ জনের চাকরির সুযোগ, লাগবে না শিক্ষাগত ডিগ্রি

টেক্সাসের বাসিন্দা কিম এরিক স্মিথ

মৃত ছেলের দেহ ভেগাসের জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে, ‘প্রমাণ’ পাওয়ার দাবি মায়ের

উচ্চ মর্টগেজ সুদে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা কঠিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও কঠিন, মর্টগেজ সুদ ৭.৫৫ শতাংশে পৌঁছানোয় বাড়ছে ঋণের চাপ

মেডিকেয়ারের খরচ মেটাতে আর্থিক সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণদের চিকিৎসার খরচে সহায়তা, যোগ্যদের জন্য আসছে ৯০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের উদ্দেশ্য হলো যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি চিকিৎসাবিমার নির্দিষ্ট মাসিক খরচ মেটাতে সহায়তা করা। কর্মসূচিটির মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি ডলার। তবে দেশটির মোট ৬ কোটি ৪২ লাখ মেডিকেয়ারভুক্ত মানুষের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য।  এই সহায়তা মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা প্রচলিত মেডিকেয়ার কর্মসূচির ‘পার্ট বি’ অংশের আওতায় রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং নির্দিষ্ট অতিরিক্ত সহায়তা বা আয়ভিত্তিক বাড়তি মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। ‘পার্ট বি’ সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার মতো চিকিৎসাব্যয়ের অংশবিশেষ বহন করে। এই কর্মসূচির মাসিক খরচ সাধারণত প্রায় ২০০ ডলার থেকে শুরু হয়; ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হতে পারে।  যাঁরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ’ পরিকল্পনায় যুক্ত, তাঁরা এই এককালীন অর্থ পাবেন না। কম আয়ের যেসব প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অন্য সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিমধ্যে তাঁদের চিকিৎসাবিমার মাসিক খরচে সহায়তা পান, তাঁরাও এই অর্থের বাইরে থাকবেন। এ ছাড়া আয়ভিত্তিক বাড়তি মাসিক প্রিমিয়াম প্রদানকারী নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও যোগ্য নন। ফলে শুধু মেডিকেয়ার কার্ড থাকলেই ৯০ ডলার পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিদের অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়ার কথা। অধিকাংশ যোগ্য ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে; অন্যদের কাছে অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে ডাকযোগে সরকারি চেক পৌঁছানোর কথা। অর্থ পাঠানোর সময়সূচি ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।  এই সহায়তার অর্থ আসছে কংগ্রেসের তৈরি মেডিকেয়ার উন্নয়ন তহবিল থেকে। তহবিলটি মূলত সরকারি চিকিৎসাবিমা কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসনের সময়ে এই তহবিল থেকে সরাসরি সুবিধাভোগীদের অর্থ দেওয়ার ঘটনা প্রথম বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।  তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে এককালীন অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসাব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের তুলনায় ৯০ ডলারের সহায়তা সীমিত। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যোগ্য মানুষকে সরাসরি অর্থ দিলে তাঁদের চিকিৎসাবিমার খরচ মেটাতে কিছুটা সুবিধা হবে।  যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁদের চিকিৎসাবিমার ধরন যাচাই করা। পরিবারের কেউ মেডিকেয়ারভুক্ত হলে তিনি প্রচলিত কর্মসূচির আওতায় আছেন, নাকি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় যুক্ত—তা জানা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা পান কি না, সেটিও যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অর্থ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি মেডিকেয়ার সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। অর্থ পাওয়ার আশায় অপরিচিত কাউকে ব্যাংক হিসাবের গোপন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা পরিচয়সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া উচিত নয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন নেই বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে; তাই অর্থ ছাড়ের নামে কেউ টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি।  যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য প্রবীণদের জন্য এককালীন ৯০ ডলারের সহায়তা চিকিৎসাবিমার খরচে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এই অর্থ সবার জন্য নয় এবং এটি নিয়মিত মাসিক ভাতা নয়। তাই খবরটি দেখেই অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে না নিয়ে নিজের চিকিৎসাবিমার ধরন ও যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৯:৫২
ডিজেল সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের সমঝোতা

ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের, আসছে লাখ লাখ টন জ্বালানি

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডে সুযোগ দুই ধরনের দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীর, সঙ্গে পরিবার নেওয়ার সুবিধা

কমলা হ্যারিসের সঙ্গে তাঁর স্বামী ডগ এমহফ

আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার পরিকল্পনায় কমলা হ্যারিস, তবে স্বামী ডগ এমহফের রয়েছে আপত্তি

0 Comments