- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি কমেছে। বুধবারের দরপতনে দুই ধরনের বেঞ্চমার্ক তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সৌদি সময় সকাল ৭টা ৪৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৩০ ডলার বা ২.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬.২৮ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.০৮ ডলার বা ২.৫৩ শতাংশ কমে ৮০.২৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে ব্রেন্ট ১৩ আগস্টের পর এবং ডব্লিউটিআই ১০ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। এর আগের দিন মঙ্গলবারও দুই বেঞ্চমার্কের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল। তেলের বাজারে এই দরপতনের প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান পরিবহন করা হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার তেহরানে বৈঠকে বসেন ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ চলাচল করিডর চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে প্রণালিটি মাইনমুক্ত করার জন্য যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ওমান ও ইরানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য ধাপে ধাপে একটি কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতে স্থায়ী নৌ চলাচল করিডর, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, তথ্য আদান প্রদান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আরও কারিগরি আলোচনা হবে। তবে এখনো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি এলপিজি ট্যাংকার ও একটি বিটুমিন ট্যাংকার ছিল, পাশাপাশি দুটি খালি প্রোডাক্ট ট্যাংকারও চলাচল করেছে। যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৫টি জাহাজ। ফুজিতোমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মিৎসুরু মুরাইশি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে তেল বিক্রির চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে তেল কিনছেন, ফলে দরপতন সীমিত থাকছে। এদিকে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। ওয়াশিংটন সোমবার ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে এবং তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকেও শাস্তির হুমকি দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুতও বেড়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির ক্রুড অয়েল ইনভেন্টরি প্রায় ৪২ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা গড়ে প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুধবার মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের অবসান নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনায় সংঘাতের অবসান ও শান্তির পথ নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ীভাবে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
রাশিয়ার তামবভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর দেশটির অন্যতম বড় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বিশাল লজিস্টিকস সেন্টারে আগুন ধরে পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার ২৬ আগস্ট রাতে ওই হামলায় একজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তামবভের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্ক শহরের লজিস্টিকস সেন্টারটিতে ড্রোন হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন প্রায় ১ লাখ বর্গমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়, যা প্রায় ১৪টি ফুটবল মাঠের সমান। পরে তিনি জানান, আগুনে লজিস্টিকস সেন্টারটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। হামলার সময় গুদামে থাকা কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় একজন কর্মী আহত হয়ে কনকাশনে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওয়াইল্ডবেরিজও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ওই স্থাপনায় নতুন পণ্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। তামবভ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোন হামলার দায় ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। ওয়াইল্ডবেরিজের এই গুদামটি এর আগেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছিল। গত ১৮ জুলাই একই কতোভস্ক স্থাপনায় হামলায় সাতজন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। এরপর জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদাম ও লজিস্টিকস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার আরেক বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওজনের লজিস্টিকস সেন্টারগুলোকেও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বাজারে ওয়াইল্ডবেরিজ ও ওজন দুই প্রতিষ্ঠানই বড় অংশ দখল করে আছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি যখন ধীরগতির প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে, তখন বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস অবকাঠামোয় এ ধরনের হামলা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের মতে। এদিকে তামবভের পাশের লিপেতস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলার পর একটি বাড়িতে আগুন লেগে এক ব্যক্তি ও ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বেলগোরোদ অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই বারবার দাবি করে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।
কিশোর-কিশোরীরা একা উবারে যাতায়াতের সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়ের উদ্বেগ কমাতে নতুন সুবিধা চালু করেছে রাইডশেয়ারিং কোম্পানি উবার। এখন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উবারের টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী সন্তানের রাইড চলাকালীন গাড়ির ভেতরের দৃশ্য লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবক। উবারের নতুন এই লাইভ ভিডিও সুবিধা ২৫ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে। উবারের টিন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মা বা লিগ্যাল গার্ডিয়ানের অনুমতি নিয়ে নিজেরাই রাইড নিতে পারে। নতুন ফিচারের লক্ষ্য হলো সন্তান একা স্কুল, খেলাধুলা বা অন্য কোনো কাজে যাতায়াত করার সময় বাবা-মাকে রাইডের পরিস্থিতি আরও সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া। রাইড শুরু হওয়ার পর লাইভ ভিডিও সুবিধা পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন যাবে। এরপর উবার অ্যাপ থেকে এক ট্যাপেই রাইডের লাইভ ভিডিও দেখা যাবে। ভিডিওটি ধারণ করা হবে উবার ড্রাইভারের ফোনের সামনের ক্যামেরা দিয়ে, যাতে মূলত গাড়ির পেছনের সিটের দৃশ্য দেখা যায়। তবে প্রতিটি রাইডে লাইভ ভিডিও সুবিধা নিশ্চিত নয়। ড্রাইভার চাইলে এই সুবিধা চালু বা বন্ধ রাখতে পারবেন। ফলে কোনো রাইড শুরু হওয়ার আগে বাবা-মা জানতে পারবেন না যে ওই রাইডে লাইভ ভিডিও দেখা যাবে কি না। লাইভ ভিডিও চালু থাকলে বাবা-মা রাইডের যেকোনো সময় সেটি দেখতে পারবেন। বাবা-মা ভিডিও দেখা শুরু করলে কিশোর যাত্রী এবং ড্রাইভার দুজনকেই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে। রাইড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইভ ভিডিওও বন্ধ হয়ে যাবে। উবার জানিয়েছে, ভিডিওটি এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং রাইড চলাকালীন এটি কেবল সংশ্লিষ্ট কিশোরের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকই লাইভ দেখতে পারবেন। উবার নিজেও রাইড চলাকালীন ওই ভিডিও দেখতে পারবে না। তবে নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন হলে এনক্রিপ্টেড ভিডিও ফাইলের ডিক্রিপশন কী ব্যবহারের সুযোগ কোম্পানির থাকতে পারে। উবারের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে রাইডের ভিডিও রেকর্ডিং ১৪ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে। তবে কোনো ভিডিও নিরাপত্তাসংক্রান্ত রিপোর্টের অংশ হলে কোম্পানির ডেটা সংরক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী সেটি আরও বেশি সময় রাখা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি মার্কেটে নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটলান্টা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো, র্যালি-ডারহাম, পোর্টল্যান্ড, সান অ্যান্টোনিও, ক্লিভল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড এবং এল পাসো। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনো এই সুবিধা চালু হয়নি। উবার জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশজুড়ে ফিচারটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার পাশাপাশি টিন অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই রয়েছে রাইডের লাইভ ট্র্যাকিং, পিন ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা। রাইডের সময় বাবা-মা সন্তানের অবস্থান ও যাত্রার অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারেন। উবার ২০২৩ সালে টিন অ্যাকাউন্ট চালু করে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এই সেবা রয়েছে এবং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর থেকে টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরা বিশ্বজুড়ে বছরে কোটি কোটি রাইড সম্পন্ন করছেন। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার মাধ্যমে সন্তানকে স্বাধীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের জন্য রাইডের সময় আরও সরাসরি নজর রাখার সুযোগ তৈরি হলো।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ‘ঈদ মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানান। বার্তায় মোদি আশা প্রকাশ করেন, পবিত্র এই দিনটি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও শক্তিশালী করবে এবং সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনবে। তিনি বলেন, দয়া, সহমর্মিতা এবং সমাজের জন্য কিছু করার মানসিকতা যেন মানুষের পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও আশা করেন, এই দিন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও আনন্দের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিমদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করেন।
ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল গাড়ির নামে ৪১টি ভুয়া ইন্স্যুরেন্স আবেদন করে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ডলার হাতানোর চেষ্টা করার অভিযোগে অ্যাডাম অট্রক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের কর্মকর্তারা। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে এমন গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন করেছিলেন, যেগুলোর কোনোটি তার মালিকানায় ছিল না। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিভিশন জানায়, ৬ আগস্ট অট্রককে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজ্যের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ব্লেইজ ইংগোগলিয়া ২৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। তদন্ত অনুযায়ী, অট্রক ৪১টি বিলাসবহুল গাড়ির জন্য ইন্স্যুরেন্স পলিসির আবেদন করেন। এসব আবেদনে তিনি জাল ও কাল্পনিক ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেন বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ। কর্মকর্তারা জানান, অট্রক নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের পেমেন্ট দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারণে সেই পেমেন্ট বন্ধ করে দিতেন। এরপর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পেমেন্টটি অবৈধ বা বাউন্স হয়েছে বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তিনি প্রিমিয়ামের পুরো টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করতেন। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি মোট ২ লাখ ৬ হাজার ডলার হাতানোর চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৭০৪ ডলার তিনি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে পেতে সক্ষম হন বলে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস জানিয়েছে। অট্রকের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতারণার পরিকল্পনা, ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি, গ্র্যান্ড থেফট এবং ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের প্রতারণামূলক ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম ব্রোওয়ার্ড স্টেট অ্যাটর্নির অফিসের অধীনে পরিচালিত হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে অট্রকের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিভিশন ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতির বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে থাকে। এর মধ্যে ভুয়া ইন্স্যুরেন্স আবেদন, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ইন্স্যুরেন্স সুবিধা নেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে অট্রক যে বিলাসবহুল গাড়িগুলোর নামে আবেদন করেছিলেন, সেগুলোর নির্দিষ্ট মডেল বা সংশ্লিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নাম জানানো হয়নি। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ এই জালিয়াতিতে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়া শিশুদের জন্য চারটি টিকার বাধ্যতামূলক শর্ত তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। গভর্নর রন ডেসান্টিস প্রশাসনের টিকা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম কমিয়ে আনার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে স্কুলে ভর্তি বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য হেপাটাইটিস বি, চিকেনপক্স, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি বা হিব এবং নিউমোকক্কাল কনজুগেট টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে না। তবে অঙ্গরাজ্যের আইনে নির্ধারিত অন্যান্য টিকার শর্ত বহাল থাকবে। ২১ দিনের জনমত গ্রহণ ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তাবিত নিয়মটি গত ২০ আগস্ট অঙ্গরাজ্যের সার্জন জেনারেল জোসেফ লাদাপো অনুমোদন করেন। এসব টিকার বাধ্যতামূলক শর্ত আইনসভায় পাস করা আইনের মাধ্যমে নয়, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক নিয়মের মাধ্যমে চালু হয়েছিল। ফলে আইনসভায় নতুন আইন পাস না করেই স্বাস্থ্য বিভাগ এগুলো বাতিলের উদ্যোগ নিতে পারছে। তবে প্রস্তাবটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ২১ দিনের জনমত গ্রহণের সময় রাখা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রস্তাবটি নিয়ে মতামত দিতে পারবেন। প্রস্তাবিত নিয়মে টিকা না নেওয়ার ছাড়ের সুযোগও বাড়ানো হবে। বর্তমানে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে টিকা নেওয়া থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এর সঙ্গে নৈতিক ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়টিও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সব টিকার বাধ্যবাধকতা থাকছে ফ্লোরিডার স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য সব টিকার বাধ্যতামূলক নিয়ম বাতিল করা হচ্ছে না। অঙ্গরাজ্যের আইনে এখনো ছাড় না থাকা শিক্ষার্থীদের কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে পড়ার জন্য হাম, মাম্পস ও রুবেলা, পোলিও, ডিপথেরিয়া এবং টিটেনাসের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক। এসব টিকার শর্ত সরাসরি অঙ্গরাজ্যের আইনে রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য বিভাগ এককভাবে এগুলো বাতিল করতে পারবে না। এসব নিয়ম পরিবর্তন করতে হলে আইনসভাকে আইন সংশোধন করতে হবে। ডেসান্টিস প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদ্যোগ ফ্লোরিডায় টিকার বাধ্যতামূলক নিয়ম বাতিলের উদ্যোগটি প্রায় এক বছর ধরে চলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গভর্নর রন ডেসান্টিস ও সার্জন জেনারেল জোসেফ লাদাপো অঙ্গরাজ্যের সব টিকা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম বাতিলের আহ্বান জানান। তবে ২০২৬ সালের একাধিক আইনসভা অধিবেশনে অঙ্গরাজ্যের আইনে থাকা টিকার বাধ্যবাধকতা বাতিলের জন্য কোনো বিল উত্থাপন করা হয়নি। ‘মেডিকেল ফ্রিডম’ বা চিকিৎসা-স্বাধীনতা নামে আলাদা একটি বিল টিকার ছাড় বাড়ানো এবং চিকিৎসকদের বিকল্প টিকাদান সূচি দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। বিলটি সিনেটে পাস হলেও প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়নি। চিকিৎসকদের সতর্কতা টিকার বাধ্যবাধকতা কমানো হলে স্কুলে প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসক ও বড় চিকিৎসা সংগঠনগুলো। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট চিকিৎসক সুসান ক্রেসলি বলেন, শিশুদের টিকা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা পুরো সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে শিশুরা দীর্ঘ সময় কাছাকাছি অবস্থান করায় সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেশি। অন্যদিকে প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বিষয়টিকে অভিভাবকের অধিকার ও ব্যক্তিগত চিকিৎসা সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এখন ২১ দিনের জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে। এরপর অনুমোদন পেলেই চারটি টিকার বাধ্যতামূলক শর্ত বাতিলের নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৭ সালের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা কতটা বাড়বে, তা ঘোষণা করতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এই হিসাব কার্যকর হলে বর্তমানে গড়ে মাসে ২ হাজার ৮৬ ডলার অবসরভাতা পাওয়া একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি আগামী জানুয়ারি থেকে প্রায় ৭৩ ডলার বেশি পেতে পারেন। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটি ভাতা ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং সিনিয়র সিটিজেনস লিগ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। কীভাবে নির্ধারণ করা হয় ভাতা বৃদ্ধির হার ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বৃদ্ধির হার নির্ধারণে চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ব্যবহার করা হবে। এই তিন মাসের গড় ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কতটা বেড়েছে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী বছরের ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে শহুরে মজুরিভোগী ও দাপ্তরিক কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন। খাদ্য, জ্বালানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামের পরিবর্তন এই সূচকে প্রতিফলিত হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ে কী বলছে এএআরপি এএআরপি বলছে, ভাতা কতটা বাড়তে পারে—এমন আগাম ধারণা প্রবীণদের আগামী বছরের আর্থিক পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে খাবার, জ্বালানি, বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা নিজেদের বাজেট ঠিক করতে পারবেন। এএআরপি পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচ জনসন বলেন, অনেক বয়স্ক আমেরিকানের আয়ের প্রধান উৎস সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা। তাই আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়তে পারে, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যাবে, তারা তত দ্রুত নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারবেন। জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশটির সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুনে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণে ব্যবহৃত মূল্যসূচকও জুলাইয়ে এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে মাসিক হিসাবে সূচকটি অপরিবর্তিত ছিল। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দামের পরিবর্তন আগামী দুই মাসে ভাতা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হারেও প্রভাব ফেলতে পারে। চূড়ান্ত ঘোষণা ১৪ অক্টোবর সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সমন্বয় করা হয়, যাতে পণ্য ও সেবার দাম বাড়লেও ভাতাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা খুব বেশি কমে না যায়। তবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এখনো পূর্বাভাস। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর ২০২৭ সালের চূড়ান্ত ভাতা বৃদ্ধির হার ঘোষণা করা হবে।
লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিয়েছে কানাডা। দেশটির শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, কানাডিয়ানরা এই জলাধারকে সবসময়ই ‘লেক অন্টারিও’ নামে ডাকবে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোলি বলেন, “আমরা সবসময় এটিকে লেক অন্টারিওই বলব।” তিনি আরও বলেন, গ্রেট লেকস নিয়ে কানাডা গর্বিত এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা দৃঢ় থাকবে। ট্রাম্প এর আগে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর ‘অন্টারিওর সঙ্গে খুব বেশি ব্যবসা করার’ প্রত্যাশা নেই। এরপর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেকটির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে ‘লেক অন্টারিও’ নামটি কেটে তার জায়গায় ‘লেক আমেরিকা’ লেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা থমকে থাকা এবং কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম পরিবর্তনের এমন প্রস্তাবের পেছনে শুধু প্রতীকী বিষয় নয়, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বার্তাও থাকতে পারে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভূগোলবিদ ডেরেক অ্যাল্ডারম্যান বলেন, লেক অন্টারিওর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা বা নাম পরিবর্তনের চেষ্টা কানাডার ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক রিউবেন রোজ-রেডউড ট্রাম্পের মন্তব্যকে “পুরোপুরি ক্ষোভ উসকে দেওয়ার কৌশল” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, কানাডিয়ানদের ক্ষুব্ধ করার পাশাপাশি বাণিজ্য আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থানের দুর্বলতা থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউসের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে দেখানো হয়। তবে মানচিত্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অবস্থানও ভুলভাবে দেখানো হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের দপ্তরের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টের দিকেই ইঙ্গিত করেছে। লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মাঝখানে অবস্থিত এবং এটি উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকসের একটি। ফলে এর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।
চাঁদে মানুষ পৌঁছানোর ঐতিহাসিক অভিযানের পেছনে যে জটিল গাণিতিক হিসাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, সেই কাজের অন্যতম নেপথ্য কারিগর নাসার গণিতবিদ ক্যাথরিন জনসন ১০১ বছর বয়সে মারা গেছেন। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। ক্যাথরিন জনসন নাসার শুরুর যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হিউম্যান কম্পিউটার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তখন আধুনিক কম্পিউটার ব্যবহারের আগে জটিল মহাকাশযাত্রার হিসাব মানুষই হাতে করে বের করতেন। ১৯৫৩ সালে তিনি ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি ফর অ্যারোনটিকসের ল্যাংলি ল্যাবরটরিতে কাজ শুরু করেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি নাসায় রূপান্তরিত হলে তিনি মহাকাশ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ গণিতবিদ হয়ে ওঠেন। ১৯৬১ সালে নভোচারী অ্যালান শেপার্ডের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার গতিপথ নির্ধারণে তাঁর হিসাব ব্যবহার করা হয়। পরের বছর জন গ্লেন পৃথিবীর কক্ষপথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে নাসার ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের হিসাবও তিনি হাতে পুনরায় যাচাই করেন। গ্লেনের অনুরোধ ছিল, জনসন হিসাব সঠিক বললেই তিনি মহাকাশযাত্রায় যাবেন। মিশনটি সফল হয়। চাঁদে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপোলো কর্মসূচিতে চাঁদের কক্ষপথে থাকা কমান্ড ও সার্ভিস মডিউলের সঙ্গে লুনার মডিউলের অবস্থান সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় হিসাবেও তিনি কাজ করেন। নাসা বলেছে, তাঁর গাণিতিক অবদান মানুষকে চাঁদে পৌঁছানোর পথ তৈরি করতে সহায়তা করেছে। শুধু মহাকাশ গবেষণায় অবদান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণ ও লিঙ্গ বৈষম্যের সময় একজন আফ্রিকান-আমেরিকান নারী হিসেবে জনসনের ক্যারিয়ারও ছিল ব্যতিক্রমী। ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেন। তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে পরে ‘হিডেন ফিগারস’ বই ও চলচ্চিত্রও তৈরি হয়। ১৯৮৬ সালে নাসা থেকে অবসর নেওয়ার আগে ল্যাংলি রিসার্চ সেন্টারে তিনি ৩৩ বছর কাজ করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে তাঁর অবদান নাসার ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। নাসা তাঁর মৃত্যুর পর ক্যাথরিন জনসনকে এমন একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণ করে, যাঁর দক্ষতা ও সাহস মহাকাশ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নারী ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন দরজা খুলে দিয়েছিল।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ দাবি করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশ্যে আসে নেতানিয়াহু ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করার একদিন পর। নিউজম্যাক্সের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ইসরাইলি গোয়েন্দারা গত বছরের ডিসেম্বরে জানতে পারে, ফ্লোরিডায় অবস্থানরত ইয়াইরকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান। ৩৫ বছর বয়সী ইয়াইর নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং গত কয়েক বছর ধরে বেশির ভাগ সময় মিয়ামি এলাকায় বসবাস করছিলেন। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই সূত্রের দাবি, ইরানের হয়ে কাজ করা একটি দল মিয়ামি এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইয়াইরের চলাফেরা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। ইসরাইলি গোয়েন্দারা বিষয়টি জানার পর তাকে দ্রুত ফ্লোরিডা ছেড়ে ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ইয়াইর দ্রুত ফ্লোরিডা ছাড়েন। এমনকি নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাননি। এরপর থেকে তিনি ইসরাইলেই বসবাস করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর আগে সোমবার ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরান তার দুই ছেলের একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে তখন তিনি কোন ছেলে লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, কখন ঘটনাটি ঘটেছে বা কীভাবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। নিউজম্যাক্সের প্রতিবেদনে ইয়াইরকেই কথিত হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এই দাবির বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। টাইমস অব ইসরাইলও জানিয়েছে, মার্কিন সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইয়াইরকে লক্ষ্য করার বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র এবং নেতানিয়াহুর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহু তার ছেলেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে কথিত হত্যাচেষ্টার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ফলে ফ্লোরিডায় ইয়াইরকে ঘিরে কথিত হত্যাচেষ্টার বিস্তারিত তথ্য এখনো মূলত গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রনির্ভর প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি ফায়ার স্টেশনে ঢুকে সরঞ্জামভর্তি একটি ব্যাগ মুখে করে নিয়ে পালিয়েছে একটি কালো ভালুক। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে নিরাপত্তা ক্যামেরায়। ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে ভালুকটি স্টেশন ১৬-এর ফায়ার স্টেশনের ভেতরে ঢোকে। এরপর সেখানে রাখা একটি ডাফেল ব্যাগ মুখে তুলে নিয়ে দ্রুত অন্ধকারের মধ্যে পালিয়ে যায়। কলোরাডো স্প্রিংস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ করে। মজার ছলে তারা লিখেছে, “স্মোকি দ্য বিয়ার—অথবা যাকে আমরা স্মোকি বলে ধরে নিচ্ছি—স্টেশন ১৬-তে ঢুকে আমাদের সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত চলে গেছে।” তবে রসিকতার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী নিয়ে সতর্কও করেছে ফায়ার বিভাগ। কলোরাডো পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ জানিয়েছে, শীতের আগে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমাতে কালো ভালুক খাবারের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠে। এ সময় মানুষের বসতিতে তাদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। চলতি বছর কলোরাডোতে ভালুকের দেখা পাওয়া ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। রাজ্যজুড়ে খরা পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ায় ভালুকের স্বাভাবিক খাদ্যের উৎস কমে যাচ্ছে। ফলে খাবারের সন্ধানে তারা মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত কলোরাডো পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফের কাছে ভালুক দেখা যাওয়া ও সংঘাতের ৬ হাজার ১২৯টি প্রতিবেদন জমা পড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। ফায়ার বিভাগ জানিয়েছে, ভালুকের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আনাগোনা ঠেকাতে খাবার ও আবর্জনা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। পাখির খাবারের পাত্র সরিয়ে রাখতে হবে, পোষা প্রাণীর খাবার ঘরের ভেতরে রাখতে হবে এবং বারবিকিউ গ্রিল পরিষ্কার রাখতে হবে। আবর্জনাও সংগ্রহের নির্ধারিত দিনেই বাইরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার বিভাগের পরামর্শ, কোনো ভালুকের মুখোমুখি হলে দূরত্ব বজায় রেখে উচ্চ শব্দ করে তাকে ভয় দেখিয়ে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। মানুষের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া ভালুকের জন্য যেমন বিপজ্জনক, তেমনি মানুষের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ফায়ার স্টেশন থেকে ব্যাগটি নিয়ে পালানো ভালুকটি শেষ পর্যন্ত সরঞ্জামগুলো নিয়ে কী করেছে, তা জানা যায়নি।
চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গীর ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এবার এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এআই সঙ্গীর সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে মানসিক নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তরুণরা বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, বিয়ে ও পরিবার গঠনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে ১৫ জুলাই নতুন নিয়ম চালু করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এআই সঙ্গী নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি এ ধরনের সেবার ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। চীনের আইন শিক্ষার্থী ১৯ বছর বয়সী ঝাও ওয়েইয়ের অভিজ্ঞতা এ বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। জানুয়ারিতে তিনি ডৌবাও নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবায় নিজের জন্য একজন এআই সঙ্গী তৈরি করেছিলেন। এরপর প্রতিদিন তার সঙ্গে কথা বলতেন। নিজের জীবনের নানা ঘটনা, এমনকি শিক্ষকের বকাঝকার মতো বিষয়ও তিনি এআই সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। পরে ডৌবাওর ওই সঙ্গী সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঝাও জানান, বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে নিজের এসব কথা বলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। কারণ সবারই নিজস্ব সমস্যা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় অন্য পক্ষ কী ভাবছে, তা নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হয় না। নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো কথা বলা যায়। ডৌবাওর এআই সঙ্গী সুবিধাটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স পরিচালনা করত। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি নতুন নিয়ম মেনে চলার জন্য এই সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। চীনে এআই ব্যবহারের বিস্তার বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ব্যাপক। বয়স্করা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে এআই ব্যবহার করছেন। ছোট শিশুরাও স্কুলে এআইভিত্তিক শিক্ষা পাচ্ছে। একই সময়ে জনসংখ্যাগত সংকটের কারণে ভবিষ্যতের শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চাইছে সরকার। তবে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার একাকীত্ব, বেকারত্ব এবং তরুণদের একা থাকার প্রবণতার মতো সামাজিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে একাকীত্বের বিষয়টি চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির অত্যন্ত ডিজিটাল ও মুঠোফোননির্ভর জীবনযাত্রার কারণে মানুষের জন্য ফোনের মাধ্যমেই বসবাস, কাজ ও সামাজিক যোগাযোগ করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে একা বাড়িতে মারা যাওয়ার ধারণাকে কেন্দ্র করে তৈরি ‘আর ইউ ডেড?’ নামের একটি অ্যাপও অল্প সময়ের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। চীনে প্রায় ২০ শতাংশ পরিবারে একজন মানুষ একা বসবাস করেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্চে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা যায়, একাকীত্ব অনুভব করার সময় প্রায় অর্ধেক তরুণ ভার্চুয়াল সঙ্গীর সাহায্য নিয়েছেন। হংকংয়ের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ন্যান্সি দাইয়ের মতে, সরকারের উদ্বেগ শুধু একাকীত্ব নিয়ে নয়। দেশটিতে বিয়ে ও জন্মহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এআই যদি মানবিক ঘনিষ্ঠতার সহজ ও কম খরচের বিকল্প হয়ে ওঠে, তাহলে তরুণদের বাস্তব জীবনে প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আগ্রহও কমে যেতে পারে। ঝাওয়ের জীবনেও একাকীত্ব দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। ছোটবেলায় তার বাবা-মা কাজের সন্ধানে তাকে ছেড়ে চলে যান। চীনে এ ধরনের শিশুদের ‘বামপাশে রেখে যাওয়া শিশু’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। ঝাও জানান, তার কখনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল না এবং বন্ধু তৈরি করার ক্ষেত্রেও নিজেকে খুব দক্ষ মনে করেন না। তাই নিজের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশের জন্য এআইয়ের সঙ্গে কথা বলা তার কাছে স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছিল। আরেকজন এআই ব্যবহারকারীও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, বাস্তব জীবনে দ্রুতগতির জীবন ও উচ্চ চাপের মধ্যে তিনি এআইয়ের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন। তবে এআই সঙ্গীর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সরকারের জন্য সহজ নয়। নতুন নিয়মে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কিছু এআই সেবা এবং যেসব সেবায় ধারাবাহিক মানসিক যোগাযোগ থাকে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক লিয়াং গে বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে যে এআই সঙ্গী ও এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রয়োগ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবাতেও চীন এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে। গত বছর জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা প্রকাশ করে জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় স্বাস্থ্য সহায়ক অ্যাপের পূর্ণ বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে। এমন একটি জনপ্রিয় স্বাস্থ্য সহায়ক হলো এ কিউ, যা আলিবাবার সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপ তৈরি করেছে। এতে বেইজিং, সাংহাইসহ বিভিন্ন শহরের শীর্ষ হাসপাতালের বাস্তব চিকিৎসকদের অবতারভিত্তিক সেবার সঙ্গে মানুষের সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ রয়েছে। হাংঝৌ শহরের ৩৩ বছর বয়সী শিল্পশিক্ষক লু দি নিয়মিত এ কিউ ব্যবহার করেন। তার কাছে এই সেবার বিস্তারিত ও তাৎক্ষণিক পরামর্শ সুবিধাজনক মনে হয়। তবে চিকিৎসকদের মধ্যে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। সাংহাইয়ের রেনজি হাসপাতালের চিকিৎসক চি চেনফেই মনে করেন, বিষয়টি চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপনের নয়, বরং তাদের আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করার। তার মতে, কোনো ধরনের উদ্বেগই প্রযুক্তির অগ্রগতি থামাতে পারবে না। নিজের এআই সঙ্গী হারানোর পর ঝাওয়ের মনে এখনো ভারী অনুভূতি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিজেকে যুক্তিবাদী মানুষ মনে করলেও একটি এআইয়ের প্রতি তার আবেগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার মতে, এ কারণেই রাষ্ট্রের এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালের মাতৃসদনের নবজাতক ওয়ার্ডে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ওয়ার্ডে থাকা ১৫ নবজাতকের মধ্যে একজনকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আগুনটি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালটি ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর একটি। ভোরের দিকে আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ও আগুন পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে থাকা অনেক নবজাতক ইনকিউবেটরে ছিল অথবা অক্সিজেনের সহায়তায় চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার সময় ওয়ার্ডে ১৫টি শিশু ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করেন। আগুন থেকে বাঁচতে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদেরও কয়েক তলা সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে যেতে হয়। ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনার সোহেল আশরাফ জানান, সকাল ৭টার কিছু আগে জরুরি ফোন পেয়ে উদ্ধারকারী ও পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর শিশুদের দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আগুনের ঘটনায় হাসপাতালের আশপাশে নিহত শিশুদের স্বজনেরা জড়ো হন। পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আগুনের সময় অনেক নবজাতক ইনকিউবেটর ও অক্সিজেনের ওপর ছিল। অক্সিজেনের সিলিন্ডার আগুনকে আরও তীব্র করে থাকতে পারে বলে তিনি জানান। আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কথা বলা হলেও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন এবং আগুনের চূড়ান্ত কারণ তখনো নিশ্চিত করা হয়নি। হাসপাতালটিতে সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলছিল বলেও জানানো হয়েছে। এ কারণে আগুনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহত শিশুদের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, শিশুদের জড়িত এমন পরিস্থিতির ক্ষতি অপূরণীয়। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামাবাদের এই অগ্নিকাণ্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের অন্যতম ভয়াবহ হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ড হিসেবে সামনে এসেছে। দেশটিতে বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে এবং দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ও নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় নবজাতকদের মৃত্যুতে হাসপাতালের বাইরে স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইংল্যান্ডের রাঙ্কর্নে পুলিশের কাছ থেকে ই-স্কুটারে পালানোর সময় নিজের একটি ল্যাব্রাডর কুকুরকে ফেলে গিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী চার্লস ফয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কুকুরই পুলিশকে সরাসরি তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির চিলেকোঠায় ইনসুলেশনের নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ফয়কে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং চলতি আগস্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। চেশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফয় তখন দুটি কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে একটি ই-স্কুটারে যাচ্ছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা তাকে থামার সংকেত দিলে তিনি তা উপেক্ষা করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি সরু গলি ও বন্ধ সড়ক দিয়ে ই-স্কুটার চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়ের কাছ থেকে গাঁজার তীব্র গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। পালানোর সময় ই-স্কুটারের গতি ধরে রাখতে না পেরে একটি ল্যাব্রাডর পিছিয়ে পড়ে। ফয় কুকুরটিকে সেখানেই রেখে চলে যান। এরপর এক পুলিশ অফিসার গাড়ি থেকে নেমে কুকুরটির পিছু নেন। কুকুরটি সরাসরি বিখনফিল্ড রোডের একটি বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশও তাকে অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছে যায়। বাড়িটি বাইরে থেকে খালি মনে হলেও ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় কর্মকর্তারা খোলা একটি চিলেকোঠার দরজা দেখতে পান। পরে ইনসুলেশনের কয়েকটি স্তরের নিচে লুকিয়ে থাকা ফয়কে খুঁজে বের করা হয়। পুলিশের কাছে ফয় দাবি করেন, তিনি চিলেকোঠায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং ওই রাতে ই-স্কুটার চালাননি। তবে আদালতে তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করা, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানো, ইন্স্যুরেন্স ছাড়া মোটরযান ব্যবহার এবং ড্রাগ টেস্টের নমুনা দিতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। ওয়ারিংটন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে ৭ আগস্ট শুনানি শেষে ফয়কে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চার বছর তিন মাসের জন্য তার ড্রাইভিং নিষিদ্ধ করা হয়। চেশায়ার পুলিশ পরে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা কুকুরটির সঙ্গে কথা বলছেন এবং সেটিকে অনুসরণ করে তার মালিকের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তা মাইক স্মিথ বলেন, পালানোর সময় ফয় নিজের কুকুরকে ফেলে গেলেও কুকুরটি শেষ পর্যন্ত পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের সরাসরি মালিকের বাড়িতে নিয়ে যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুরটির আনুগত্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মালিক পুলিশকে ফাঁকি দিতে চাইলেও, তার ফেলে যাওয়া সঙ্গীই শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে তার অবস্থান প্রকাশ করে দেয়।
পুলিশে পদায়ন নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করার পর খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সেখানে সংযুক্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে সংযুক্ত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেজাউল করিম। তিনি লেখেন, “আমি সংযুক্ত: আমার কাজ আর বাংলাদেশ পুলিশের প্রয়োজন নেই।” দীর্ঘ ১৫ বছরের চাকরিজীবনে নয় বছর ‘ডাম্পিং পোস্টিংয়ে’ ছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, সততা, স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ করেও এমন পরিণতি হলে তার আর কিছু বলার নেই। পোস্টে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। রেজাউল করিমের ভাষ্য, উচিত কথা বলা, সাহস নিয়ে সত্য বলা এবং নিয়ম মেনে কাজ করা কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার সক্ষমতা বিভাগটির নেই। তিনি লেখেন, “এই ডিপার্টমেন্ট আমার জন্য নয়।” পোস্টের একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশে সংযুক্ত করার কারণ সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন রেজাউল করিম। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তিনি সেটি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন এবং তিনি তার জবাব দেন। পরে শেয়ার করা সংবাদটি মুছে ফেললেও তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, সংবাদটি শেয়ার করার পর পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি কনফিডেনশিয়াল মো. কামরুল আহসান তাকে বকাঝকা করেন। এরপরই তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে তার দাবি। তবে এ বিষয়ে কামরুল আহসান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মো. রেজাউল করিম ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়ার পর সারদার প্রশিক্ষণ শেষে তার প্রথম পোস্টিং হয় মুক্তাগাছা এপিবিএনে। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, এভসেক, ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার ও কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন। তার সংযুক্তির আদেশ এবং ফেসবুক পোস্ট ঘিরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পদায়ন ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাকে সংযুক্ত করার আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিকের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন। ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বছরে তাঁর মোট পারিশ্রমিক প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। মাসিক গড় হিসাবে যা দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, মাসরুর আরেফিনের এক দিনের গড় পারিশ্রমিক প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। তবে প্রকাশিত মোট পারিশ্রমিককে শুধু মূল বেতন হিসেবে দেখলে বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয় না। এ ধরনের হিসাবে মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, বিভিন্ন ভাতা, উৎসব ও কর্মদক্ষতা বোনাস এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডে ব্যাংকের অবদানও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ব্যাংক খাতের পারিশ্রমিকের তুলনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি ও সিইও আলী রেজা ইফতেখার। ২০২৫ অর্থবছরে তাঁর বার্ষিক পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এমডি আবুল কাশেম মো. শিরিনের বার্ষিক পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। তিন দশকের বেশি সময়ের ব্যাংকিং ক্যারিয়ার রয়েছে মাসরুর আরেফিনের। ১৯৯৫ সালে এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে এএনজেড ব্যাংক মেলবোর্ন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কাতার, সিটিব্যাংক এনএ, আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তিনি সিটি ব্যাংকে যোগ দেন এবং বিভিন্ন শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এমডি ও সিইও হন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে আরও তিন বছরের জন্য সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে ব্যবসা ও মুনাফার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাংকের অপারেটিং প্রফিট ৬৯৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ২০২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়। রিটার্ন অন ইকুইটিও ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চার সঙ্গেও যুক্ত মাসরুর আরেফিন। তিনি উপন্যাসিক, কবি ও অনুবাদক হিসেবেও পরিচিত। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সি-স্যুট অ্যাওয়ার্ডসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে তিনি ‘সিইও অব দ্য ইয়ার-২০২৫’ পুরস্কার পান। তবে শীর্ষ নির্বাহীদের পারিশ্রমিকের এই হিসাব শুধু ব্যক্তিগত আয়ের পরিমাণের বিষয় নয়। ব্যাংকের আকার, ব্যবসার পরিধি, আর্থিক ফলাফল, নির্বাহীর অভিজ্ঞতা এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত পারিশ্রমিক কাঠামোর মতো বিষয়ও এ ধরনের পারিশ্রমিক নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ফলে মাসরুর আরেফিনের বছরে প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার পারিশ্রমিক বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতে শীর্ষ নির্বাহীদের করপোরেট মূল্যায়নের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিন দশকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যচর্চা মিলিয়ে তাঁর পেশাগত পরিচয়ও দেশের করপোরেট অঙ্গনে আলাদা বৈচিত্র্য তৈরি করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাকার্তার পালমেরাহ এলাকায় ২০১৫ সালের মার্চে জব্দ করা ৩ দশমিক ৩ টন গাঁজা প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে পুলিশ। আগুনের ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের আবাসিক এলাকায় পৌঁছে যায়। এতে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তির কথা জানান। ১১ মার্চ পালমেরাহ পুলিশ স্টেশনের মাঠে জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংসের এই আয়োজন করা হয়। মাদক ধ্বংসের প্রক্রিয়াটি প্রত্যক্ষ করতে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক এবং পশ্চিম জাকার্তার কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা গাঁজার বিশাল স্তূপে আগুন দেওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া কোন দিকে যাবে, সে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। আগুন জ্বলার পর ধোঁয়া প্রথমে ওপরে উঠলেও বাতাসের কারণে দ্রুত আশপাশের বসতবাড়ির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা স্থানীয়দের কয়েকজন পরে মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার কথা জানান। একজন বাসিন্দা বলেন, মাস্ক না পরায় তার মাথাব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ধোঁয়ার তীব্র গন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়। সাংবাদিকদের মধ্যেও একই ধরনের অস্বস্তির খবর পাওয়া যায়। পুলিশের এই অভিযান ছিল জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংসের অংশ। ওই দিন ৩ দশমিক ৩ টন গাঁজার পাশাপাশি প্রায় ১ দশমিক ৮ কেজি মেথামফেটামিন এবং ২ হাজার ৫৩৮টি এক্সট্যাসি বড়িও ধ্বংস করা হয়। গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হলেও অন্য মাদকগুলো ব্লেন্ড করে নষ্ট করা হয়েছিল। ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থার এক প্রতিনিধি জানান, অল্প সময়ের জন্য ওই ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসায় দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ঘটনাটি পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এমনকি পরবর্তী বছরগুলোতে মাদক ধ্বংসের পদ্ধতি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় আলোচনার সময় ২০১৫ সালের পালমেরাহর ঘটনাটিও উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে। ২০১৮ সালে পুলিশের এক কর্মকর্তাও জানান, ওই ঘটনার পর মাদক ধ্বংসের স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবা হয়েছিল। মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে প্রমাণ নষ্ট করা এবং জনসাধারণের সামনে প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখাই ছিল পুলিশের উদ্দেশ্য। তবে পালমেরাহর ঘটনায় দেখা যায়, জব্দ করা মাদক প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করার সময় আশপাশের মানুষের অনিচ্ছাকৃত ধোঁয়া গ্রহণের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
চীনের শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই শহরের ১৯ বছর বয়সী তরুণ লু স্যুট-টাই পরে নাইট মার্কেটে ফ্রাইড রাইস বিক্রি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। ১৭ বছর বয়সে পরিবারের স্টলে কাজ শুরু করা লুর মাসিক বিক্রির পরিমাণ এখন প্রায় ৫০ হাজার চীনা ইউয়ান, যা প্রায় ৭ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলারের সমান। নাইট মার্কেটের অন্য খাবারের দোকানের মতো সাধারণ পোশাকে না এসে লু প্রতিদিন পরিপাটি স্যুট ও টাই পরে রান্না করতে দাঁড়ান। চুল পেছনে আঁচড়ে, কড়াই হাতে দ্রুত ফ্রাইড রাইস রান্না করার এই ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাই তাকে ক্রেতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজরে এনে দিয়েছে। লু জানিয়েছেন, শুরুতে নিজেকে পরিপাটি দেখাতেই স্যুট পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এই পোশাকই যে একসময় তার ব্যবসার অন্যতম পরিচিতি হয়ে উঠবে, তা তিনি ভাবেননি। পরে তার রান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্টলটির পরিচিতিও বাড়তে থাকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুর স্টল প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে। ব্যস্ত সময়ে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এক প্লেট ফ্রাইড রাইস প্রস্তুত করতে পারেন তিনি। প্রতিটি প্লেটের দাম প্রায় ১০ ইউয়ান, আর প্রতিদিন ২০০টির বেশি প্লেট বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। এই ব্যবসায় লুর বাবা তাকে সহায়তা করেন। তিনি মূলত রান্নার উপকরণ প্রস্তুত করেন। আর লু রান্না ও ক্রেতাদের খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব সামলান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব খরচ বাদ দেওয়ার পর ব্যবসা থেকে লুর মাসিক লাভ প্রায় ২০ হাজার ইউয়ান, যা আনুমানিক ২ হাজার ৯৬০ মার্কিন ডলার। লুর রান্নার ধরনও তার জনপ্রিয়তার বড় কারণ। কড়াই ঘুরিয়ে রান্না করা, দ্রুত উপকরণ যোগ করা এবং পরিবারের সদস্যদের ছোড়া ডিম হাতে ধরে কড়াইয়ে দেওয়ার মতো কৌশল তার রান্নাকে অনেকটা স্ট্রিট পারফরম্যান্সে পরিণত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুর এই স্টাইলকে জাপানি অ্যানিমে ও মাঙ্গা ‘ওয়ান পিস’-এর জনপ্রিয় রাঁধুনি চরিত্র সাঞ্জির সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে। লুও নিজের ভিডিওতে ‘সাঞ্জি ফ্রাইড রাইস’ নামটি ব্যবহার করছেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ৪৬ হাজারের বেশি অনুসারী এবং প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার লাইক রয়েছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে মিলে একটি ছোট খাবারের ব্যবসাকে পরিচিত করে তুলেছেন লু। তার গল্পে যেমন ব্যতিক্রমী পোশাক নজর কেড়েছে, তেমনি আলোচনায় এসেছে সাধারণ একটি স্ট্রিট ফুড ব্যবসাকে আলাদা পরিচিতি দেওয়ার কৌশল।
নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য ইউএস ওপেনের ১,০০০টি টিকিট মাত্র ১০০ ডলারে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি ও যুক্তরাষ্ট্র টেনিস অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার ২৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রথমে আসলে আগে টিকিট পাওয়ার ভিত্তিতে এসব টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এই বিশেষ টিকিটের সুযোগ শুধু নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য। একজন সর্বোচ্চ দুটি টিকিট কিনতে পারবেন। টিকিটগুলো ৩০ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ইউএস ওপেনের মূল পর্বের ম্যাচের জন্য ব্যবহার করা যাবে। টিকিটের মধ্যে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম ও লুইস আর্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখার সুযোগের পাশাপাশি টেনিস সেন্টারের বিভিন্ন কোর্টে খেলা দেখার জন্য গ্রাউন্ডস পাসও থাকবে। মেয়র মামদানি বলেছেন, বিশ্বের সেরা টেনিস খেলোয়াড়রা যখন নিউইয়র্কে খেলতে আসছেন, তখন শহরের বাসিন্দাদেরও সেই ম্যাচ সরাসরি দেখার সুযোগ থাকা উচিত। ক্রমবর্ধমান টিকিটের দামের কারণে অনেক নিউইয়র্কবাসী বড় ক্রীড়া আয়োজন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউএস ওপেন ও নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ মূল্যছাড়ের এই ১,০০০ টিকিট বুধবার সকাল ১০টায় বিক্রি শুরু হবে এবং টিকিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রথমে আসলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে বিক্রি চলবে। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ক্রেতার জিপ কোড যাচাই করা হবে। ইউএস ওপেন বিশ্বের অন্যতম বড় বার্ষিক ক্রীড়া আয়োজন। ২০২৫ সালে প্রায় ১২ লাখ দর্শক এই টুর্নামেন্টে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের হিসাবে, টুর্নামেন্টটি প্রতিবছর নিউইয়র্কে ১২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করে এবং ৭ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। মামদানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কবাসীর জন্য বড় ক্রীড়া আয়োজন আরও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ইউএস ওপেনের এই বিশেষ টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্যও নিউইয়র্কবাসীর জন্য ১,০০০টি সাশ্রয়ী টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইউএস ওপেনের আয়োজকরা জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের ফ্যান উইকের সময় কিছু অনুষ্ঠান ও গ্রাউন্ডস প্রবেশের সুযোগ বিনামূল্যেও রাখা হয়েছে। তবে নতুন এই উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা মূল পর্বের ম্যাচ সরাসরি দেখার জন্য তুলনামূলক কম দামে টিকিট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সংস্কার পরিকল্পনা আদালত আটকে দিলে ভবনটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, সংস্কার ও অর্থায়নের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটি আরও জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি সামনে এসেছে কেনেডি সেন্টার নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে। ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রটিতে বড় ধরনের সংস্কার করতে চায়। একই সঙ্গে ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের এখতিয়ার নেই বলে এর আগে একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছে। বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক আদালত নথিতে বলা হয়েছে, সংস্কার পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে আটকে গেলে কেন্দ্রটি আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভবনটি ভেঙে সেখানে পটোম্যাক নদীর তীরে একটি বড় উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার নির্মাণের মতো বিকল্প বিবেচনা করা হতে পারে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা গুরুতর এবং বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সংস্কার প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে অর্থ সংগ্রহ ও সংস্কারের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটির আর্থিক অবস্থা আরও দুর্বল হতে পারে। তবে এই দাবিকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নাম কেন্দ্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর টিকিট বিক্রি ও তহবিল সংগ্রহ কমেছে বলে কিছু অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে। ফলে কেন্দ্রটির আর্থিক সংকটের জন্য ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা কতটা দায়ী এবং প্রশাসনের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেনেডি সেন্টারের নাম নিয়ে আইনি লড়াইও এখনো চলছে। মে মাসে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার রায় দেন, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে। এরপর ভবনের সামনে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প-সমর্থিত পরিচালনা পর্ষদ আগস্টে নতুন করে ভবনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম অপরিবর্তিত রেখে ভবনের সামনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের আশপাশের চত্বরের নাম ট্রাম্পের নামে করার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, এটি কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন নয়। এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিটি। তিনি আদালতের কাছে ট্রাম্পের নাম বা তার ভূমিকা তুলে ধরার নতুন উদ্যোগ বন্ধ করার আবেদন করেছেন। তার যুক্তি, কেনেডি সেন্টারকে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে জাতীয় স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামোর সঙ্গে এসব পরিবর্তন সাংঘর্ষিক। ১৯৭১ সালে চালু হওয়া কেনেডি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মিং আর্টস প্রতিষ্ঠান। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান নয়, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় স্মারক হিসেবেও পরিচিত। সংস্কার পরিকল্পনা, ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ এখন কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎকে ঘিরে বড় আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপর সংস্কার প্রকল্প এবং কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করছে।