শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৭ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা, পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ খুঁজছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবী কিংবা কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করা তরুণদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এক্সচেঞ্জ ও ফেলোশিপ প্রোগ্রাম। তবে প্রতিটি প্রোগ্রামের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া আলাদা।
এ ধরনের প্রোগ্রামে শুধু ভালো ফলাফল নয়, নিজের কাজের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের সম্ভাবনা, উদ্যোগ, কমিউনিটিতে অবদান এবং ভবিষ্যতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই আবেদনকারীর কাজের প্রমাণ ও ডকুমেন্টেশনও গুরুত্বপূর্ণ।
১. Fulbright Program
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত এক্সচেঞ্জ ও স্কলারশিপ প্রোগ্রাম Fulbright। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক এক্সচেঞ্জের সুযোগ রয়েছে। Fulbright-এর বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে Foreign Student Program এবং Foreign Language Teaching Assistant Program রয়েছে। কোন প্রোগ্রামে কোন যোগ্যতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট বছরের বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে।
২. Community College Initiative বা CCI
বাংলাদেশি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য CCI Program যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটি কলেজে এক একাডেমিক বছর পড়াশোনার সুযোগ দেয়। প্রোগ্রামটিতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ এই প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর একটি।
৩. Global Undergraduate Exchange বা Global UGRAD
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য Global UGRAD একটি সেমিস্টারভিত্তিক নন-ডিগ্রি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়, কমিউনিটি সার্ভিস ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকে। আবেদন ও যোগ্যতার শর্ত সংশ্লিষ্ট বছরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করতে হয়।
৪. Study of the U.S. Institutes বা SUSI
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য Study of the U.S. Institutes একটি স্বল্পমেয়াদি একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। বিভিন্ন নির্দিষ্ট বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ থাকে। কোন দেশের জন্য কোন SUSI প্রোগ্রাম চালু হবে, সেটি বছর ও প্রকল্পভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
৫. Kennedy-Lugar Youth Exchange and Study বা YES
হাই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য YES Program যুক্তরাষ্ট্রে এক একাডেমিক বছর পড়াশোনা ও থাকার সুযোগ দেয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আমেরিকান হোস্ট পরিবারের সঙ্গে থাকে, স্থানীয় হাই স্কুলে পড়াশোনা করে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নেয়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘদিন ধরে এই প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে। সাধারণত ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এর জন্য বিবেচিত হয়, তবে নির্দিষ্ট বয়সসীমা প্রতিবছরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেখতে হয়।
৬. Hubert H. Humphrey Fellowship
পেশাজীবীদের জন্য Hubert H. Humphrey Fellowship একটি গুরুত্বপূর্ণ নন-ডিগ্রি গ্র্যাজুয়েট-লেভেল ফেলোশিপ। বিভিন্ন পেশা ও খাতে অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ পান। নীতিনির্ধারণ, শিক্ষা, উন্নয়ন ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কাজ করা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য এ ধরনের ফেলোশিপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
৭. International Visitor Leadership Program বা IVLP
পেশাজীবী ও উদীয়মান নেতাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পরিচিত প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামগুলোর একটি IVLP। সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহের প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে গিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রের পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠক, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেন। তবে অন্য অনেক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মতো IVLP-তে সরাসরি আবেদন করার সুযোগ নেই। অংশগ্রহণকারীদের সাধারণত বিদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা মনোনীত করেন।
তবে এসব প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। শুধু কোনো সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হওয়া যায় না। প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব যোগ্যতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া রয়েছে। আপনার কাজটি কী, সেটি কেন করছেন, কী ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন এবং সেই কাজের বাস্তব প্রভাব কী, আবেদন করার সময় এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়।
এ কারণে নিজের কাজের ডকুমেন্টেশন শুরু থেকেই রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সামাজিক উদ্যোগ, গবেষণা, কমিউনিটি প্রজেক্ট, স্বেচ্ছাসেবা বা পেশাগত কাজ করলে তার ছবি, প্রতিবেদন, প্রকাশনা, ফলাফল, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, সংবাদ coverage বা অন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা ভবিষ্যতে কাজে আসতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইংরেজিতে নিজের কাজ ও লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার দক্ষতা। ভালো কাজ করার পাশাপাশি সেই কাজের উদ্দেশ্য, প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুন্দরভাবে লিখে উপস্থাপন করতে পারাটাও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সব প্রোগ্রামের বিজ্ঞপ্তি প্রতি বছর একই সময়ে আসে না। বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, আবেদনের সময়সীমা ও অন্যান্য শর্তও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বা প্রোগ্রামের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে যোগ্যতা যাচাই করা উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে দেশজুড়ে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিচার বিভাগ। অভিযুক্তদের মধ্যে চিকিৎসকসহ লাইসেন্সধারী স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী রয়েছেন ৯০ জন। পৃথক ঘটনায় নিউ ইয়র্কের কুইন্সে চিকিৎসা না দিয়েও মেডিকেইডে বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের ঘোষণা অনুযায়ী, এসব অভিযোগ বিভিন্ন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। পুরো অর্থকে ইতোমধ্যে আত্মসাৎ করা অর্থ কিংবা অভিযুক্ত সবাইকে একই চক্রের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি হিসাবে অভিযুক্তের সংখ্যা ৪৫৫ জন। তাই পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার এবং ৯০ জনই চিকিৎসক, এমন তথ্য এই ঘোষণার সঙ্গে মেলে না। জাতীয় অভিযানের মধ্যে মেডিকেইডে ৫১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে ২৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য, এসব জালিয়াতি সরকারি অর্থের ক্ষতির পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর কুইন্সের ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমীর গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়। নাসাউ কাউন্টির হিক্সভিলের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী নাসিমী ‘টুথ ফ্রেশ মেডোজ’ নামে একটি ডেন্টাল ক্লিনিক পরিচালনা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে ৪০টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নাসিমী অন্তত ৩৫ জন মেডিকেইড সুবিধাভোগীর নামে এমন দন্তচিকিৎসার বিল জমা দেন, যা তিনি করেননি। রুট ক্যানাল ও দাঁতে ক্রাউন বসানোর মতো চিকিৎসার ভুয়া বিলের মাধ্যমে তিন লাখ ডলারের বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইউরোপে ছুটিতে থাকার সময়ও চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। এই বিলিংয়ের কারণে কয়েকজন রোগী পরে অন্য ডেন্টিস্টের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনুমোদন পাননি বলে অভিযোগ। মেডিকেইডের রেকর্ডে তাঁদের সেই চিকিৎসা আগেই নেওয়া হয়েছে বলে দেখানো ছিল। তবে নাসিমীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এaখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ও রোগী পরিবহন সংস্থার মালিকও রয়েছেন। মেডিকেইড সেবাদাতার বিরুদ্ধে জালিয়াতির তথ্য থাকলে নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিকেইড ফ্রড কন্ট্রোল ইউনিটে অভিযোগ জানানো যায়। এ জন্য হটলাইন নম্বর ৮০০ ৭৭১ ৭৭৫৫।
হারিকেন ইসাইয়াসে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ৬ লাখ এর বেশি মানুষ
নিউ ইয়র্কে কৃষিকাজে ঘণ্টায় ১৯.২৫ ডলার বেতনে ১২৬ জনের চাকরির সুযোগ, লাগবে না শিক্ষাগত ডিগ্রি
মৃত ছেলের দেহ ভেগাসের জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে, ‘প্রমাণ’ পাওয়ার দাবি মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ ঋণের চাপ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং বাড়ি কেনার খরচ বাড়তে থাকায় অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের আস্থা কমছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্টোবরের প্রাথমিক জরিপে দেশটির ভোক্তা আস্থার সূচক সেপ্টেম্বরের ৪৮ দশমিক ১ থেকে কমে ৪৬ দশমিক ৩-এ নেমেছে। এটি টানা তৃতীয় মাসের পতন এবং চলতি বছরের মে মাসে দেখা রেকর্ড সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষের মূল্যায়নও আরও খারাপ হয়েছে। জরিপে বর্তমান পরিস্থিতি-সংক্রান্ত সূচক সেপ্টেম্বরের ৫০ দশমিক ৯ থেকে কমে ৪৪ দশমিক ৭-এ দাঁড়িয়েছে, যা জরিপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবার এবং শেয়ারবাজারে যাঁদের বিনিয়োগ কম, তাঁদের মধ্যে হতাশা বেশি দেখা গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের এই চাপের মধ্যে বাড়ি কেনাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ বা গৃহঋণের সুদের হার ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুদের হার বেশি থাকলে বাড়ির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ঋণের মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী ব্যক্তি এবং সীমিত বাজেটের পরিবারগুলোর জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের তাই শুধু বাড়ির দাম দেখলেই চলে না। ঋণের সুদের হার, ডাউন পেমেন্ট, মাসিক কিস্তি, বাড়ির কর, বিমা এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও হিসাব করতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদে এসব ব্যয় পরিবারের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মর্টগেজের সুদের হার ঋণের ধরন, মেয়াদ, ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও মানুষের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। জরিপে ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, যেসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, সেগুলোর কেনাকাটা তাঁরা কমাবেন। প্রায় ১৬ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা এসব পণ্য কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারেন। এমন মনোভাবের কারণে পরিবারগুলো অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে খাবার, বাসাভাড়া, জ্বালানি ও চিকিৎসার মতো জরুরি খরচকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের আরেকটি জরিপেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে আগামী এক বছরে মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে মানুষের প্রত্যাশা ছিল। ২০২৩ সালের মে মাসের পর এটি সর্বোচ্চ। আগের মাসে এই প্রত্যাশা ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা খাবার, পেট্রল, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং কলেজে পড়াশোনার খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে পরিবারগুলোর হাতে অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য অর্থ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি ঋণের কিস্তি ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া থাকলে আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে। তবে অর্থনৈতিক আস্থা কমে যাওয়ার প্রভাব সব পরিবারের ওপর সমান নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোর ব্যয় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। বিপরীতে, মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বাজেটের চাপ বেশি অনুভব করছে। ফলে একই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একেকটি পরিবারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ঋণের সুদের হার ও মাসিক কিস্তির পাশাপাশি অন্যান্য আবাসন ব্যয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন। ঋণদাতাদের কাছ থেকে একাধিক প্রস্তাব তুলনা করা এবং ঋণের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হতে পারে। দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে মাসিক বাজেট তৈরি, বিভিন্ন দোকানে পণ্যের দাম তুলনা এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানোর মতো পদক্ষেপ কাজে আসতে পারে। তবে ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পরিবারের আয়, সঞ্চয়, ঋণ ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনা করা জরুরি। সামগ্রিকভাবে, ভোক্তা আস্থার পতন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং উচ্চ আবাসন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর আর্থিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। আগামী মাসগুলোতে এসব চাপ কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি, ঋণের সুদের হার এবং পরিবারের আয়-ব্যয়ের পরিস্থিতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণদের চিকিৎসার খরচে সহায়তা, যোগ্যদের জন্য আসছে ৯০ ডলার
ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের, আসছে লাখ লাখ টন জ্বালানি
যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডে সুযোগ দুই ধরনের দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীর, সঙ্গে পরিবার নেওয়ার সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে এবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে নিজের রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসর থেকেও অনীহা ও সংশয়ের মুখে পড়ছেন তিনি। এমনকি তাঁর স্বামী ডগ এমহফও চান না, হ্যারিস আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। তবে শেষ পর্যন্ত হ্যারিস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে সমর্থন করবেন বলে ধারণা করছেন এমহফের ঘনিষ্ঠজনেরা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমহফ ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী অংশ না নিলেই তিনি বেশি খুশি হবেন। তবে তাঁর এই অবস্থানকে হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা, হ্যারিস চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলে এমহফ তাঁর পাশে থাকবেন। হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় শুধু তাঁর পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন অর্থদাতা সরাসরি তাঁকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে আবারও লড়াই করা তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে। তাঁদের কেউ কেউ সম্ভাব্য এই প্রচারাভিযানকে জয়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চিত ও কঠিন বলে মনে করছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন হ্যারিস। ওই নির্বাচনে তিনি জনপ্রিয় ভোট, ইলেকটোরাল কলেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর কোনোটিতেই জয় পাননি। অথচ তাঁর নির্বাচনী প্রচারে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিপুল অর্থ সংগ্রহের পরও পরাজয় ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস এখনো আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীভিত্তিক জরিপে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি, তাই এসব জরিপকে চূড়ান্ত জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হ্যারিস নিজেও এখন পর্যন্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। গত মাসে মিশিগানে এনএএসিপির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আবার নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা এখনো ঠিক করেননি। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভালো করতে না পারলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনার গুরুত্বও কমে যাবে। তবে তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর জন্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন হ্যারিস। উইসকনসিনের গভর্নর পদপ্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি এবং নেভাডার গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যারন ফোর্ডের জন্য আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতির কথা জানা গেছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির একটি ভার্চুয়াল আলোচনায়ও অংশ নেন হ্যারিস। সেখানে দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবককে এক ডজন অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজে সহায়তা করতে বলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতে বড় নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি ২০২৮ সালে প্রার্থী হবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। হ্যারিসের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীও তাঁর আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশ নতুন নেতৃত্ব ও নতুন মুখ সামনে আনার পক্ষে। অন্যদিকে, হ্যারিসের পরিচিতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ভোটারসমর্থন তাঁকে আলোচনায় রেখেছে। এদিকে এমহফ আবার আইন পেশায় সক্রিয় হয়েছেন। তিনি লস এঞ্জেলেসের আইন প্রতিষ্ঠান উইলকি ফার অ্যান্ড গ্যালাগারে অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। চলতি বছরের শুরুতে হ্যারিস ও এমহফ মালিবুতে প্রায় ৮০ লাখ ডলারের একটি বাড়িও কিনেছেন। হ্যারিসের কার্যালয় এবং এমহফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে হ্যারিসের সামনে এখনো একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন কি না, তা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন ও সংশয়—দুই-ই রয়েছে। আপাতত তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান, নির্বাচনী তৎপরতা এবং দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়াই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রিও গ্র্যান্ডে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির সংকটে পড়তে পারেন দেড় কোটি মানুষ
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বাড়ছে বিকল্প পাসপোর্টের চাহিদা