নিউইয়র্কে হিন্দুত্ববাদী আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান নিয়ে মামদানির আপত্তি
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আগামী শনিবার ম্যানহাটানে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হওয়ায় এটি বাতিল করার ক্ষেত্রে সিটি প্রশাসনের আইনগত ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
২৫ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মামদানি বলেন, তিনি এই অনুষ্ঠান সমর্থন করেন না। তবে কোনো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আয়োজন বাতিল করার এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২০০টির বেশি হিন্দু আমেরিকান সংগঠন অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি, নাগরিক দায়িত্ব ও বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সংলাপ জোরদার করা।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্রে তার এ সফরকে সংগঠনটির শতবর্ষ উদযাপন এবং বৈশ্বিক সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য, অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে।
মামদানি বলেন, ভারতে বেড়ে ওঠার সময় তিনি যে দেশের ধারণার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, সেটি ছিল বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ একটি সমাজ, যেখানে ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির জায়গা রয়েছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে কোনো দেশকে বাদ দেওয়ার বা বিভাজনের ভিত্তিতে পরিচালিত করার ধারণার উত্থান তাকে উদ্বিগ্ন করে বলেও জানান তিনি।
আরএসএসকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন সংগঠনটির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে মোহন ভাগবতের সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তবে আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে।
মামদানির অবস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনও ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ও অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আয়োজক হিন্দু আমেরিকান সংগঠনগুলো অনুষ্ঠানটিকে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করছে।
এদিকে অনুষ্ঠানটি বাতিল করার দাবি উঠলেও এখন পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন এটি বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মামদানির বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করার আইনগত এখতিয়ার সিটির রয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি ও বিশ্বের মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘মাওলিদ আল-নবী মোবারক’। বার্তায় মামদানি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও দীর্ঘস্থায়ী আদর্শের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মহানবীর দয়া, উদারতা, ন্যায়বিচার, বিশ্বাস ও মানুষের সেবার শিক্ষা ১ হাজার ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করে আসছে। নিউইয়র্কের প্রসঙ্গ তুলে মামদানি বলেন, মহানবীর আদর্শ একে অপরের যত্ন নেওয়া, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করা এবং নিজেদের কমিউনিটির সেবায় কাজ করার কথা মনে করিয়ে দেয়। এসব মূল্যবোধ সবার জন্য আরও ভালো নিউইয়র্ক সিটি গড়ে তুলতে মানুষকে শক্তি জোগায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মামদানি তার বার্তার শেষাংশে মিলাদুন্নবী পালনকারী সবার জন্য আনন্দ, শান্তি ও বরকাময় জীবনের শুভকামনা জানান। মিলাদুন্নবী মুসলিমদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করে থাকেন।
বাড়ি থেকে চলে যেতে বলায়, শিশুসহ ৮ জনকে খুন করে বাড়িতে আগুন
নিউইয়র্কে হিন্দুত্ববাদী আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান নিয়ে মামদানির আপত্তি
উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ দেখতে পারবেন বাবা-মা
ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল গাড়ির নামে ৪১টি ভুয়া ইন্স্যুরেন্স আবেদন করে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ডলার হাতানোর চেষ্টা করার অভিযোগে অ্যাডাম অট্রক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের কর্মকর্তারা। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে এমন গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন করেছিলেন, যেগুলোর কোনোটি তার মালিকানায় ছিল না। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিভিশন জানায়, ৬ আগস্ট অট্রককে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজ্যের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ব্লেইজ ইংগোগলিয়া ২৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। তদন্ত অনুযায়ী, অট্রক ৪১টি বিলাসবহুল গাড়ির জন্য ইন্স্যুরেন্স পলিসির আবেদন করেন। এসব আবেদনে তিনি জাল ও কাল্পনিক ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেন বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ। কর্মকর্তারা জানান, অট্রক নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের পেমেন্ট দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারণে সেই পেমেন্ট বন্ধ করে দিতেন। এরপর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পেমেন্টটি অবৈধ বা বাউন্স হয়েছে বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তিনি প্রিমিয়ামের পুরো টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করতেন। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি মোট ২ লাখ ৬ হাজার ডলার হাতানোর চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৭০৪ ডলার তিনি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে পেতে সক্ষম হন বলে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস জানিয়েছে। অট্রকের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতারণার পরিকল্পনা, ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি, গ্র্যান্ড থেফট এবং ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের প্রতারণামূলক ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম ব্রোওয়ার্ড স্টেট অ্যাটর্নির অফিসের অধীনে পরিচালিত হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে অট্রকের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিভিশন ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতির বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে থাকে। এর মধ্যে ভুয়া ইন্স্যুরেন্স আবেদন, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ইন্স্যুরেন্স সুবিধা নেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে অট্রক যে বিলাসবহুল গাড়িগুলোর নামে আবেদন করেছিলেন, সেগুলোর নির্দিষ্ট মডেল বা সংশ্লিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নাম জানানো হয়নি। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ এই জালিয়াতিতে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ফ্লোরিডায় স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টিকার বাধ্যতামূলক নিয়ম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব
২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ঘোষণা ১৪ অক্টোবর
ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের হুমকির জবাব কানাডার, ‘আমরা লেক অন্টারিওই বলব’
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি ফায়ার স্টেশনে ঢুকে সরঞ্জামভর্তি একটি ব্যাগ মুখে করে নিয়ে পালিয়েছে একটি কালো ভালুক। পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে নিরাপত্তা ক্যামেরায়। ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে ভালুকটি স্টেশন ১৬-এর ফায়ার স্টেশনের ভেতরে ঢোকে। এরপর সেখানে রাখা একটি ডাফেল ব্যাগ মুখে তুলে নিয়ে দ্রুত অন্ধকারের মধ্যে পালিয়ে যায়। কলোরাডো স্প্রিংস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ করে। মজার ছলে তারা লিখেছে, “স্মোকি দ্য বিয়ার—অথবা যাকে আমরা স্মোকি বলে ধরে নিচ্ছি—স্টেশন ১৬-তে ঢুকে আমাদের সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত চলে গেছে।” তবে রসিকতার পাশাপাশি বন্যপ্রাণী নিয়ে সতর্কও করেছে ফায়ার বিভাগ। কলোরাডো পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ জানিয়েছে, শীতের আগে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমাতে কালো ভালুক খাবারের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠে। এ সময় মানুষের বসতিতে তাদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। চলতি বছর কলোরাডোতে ভালুকের দেখা পাওয়া ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। রাজ্যজুড়ে খরা পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ায় ভালুকের স্বাভাবিক খাদ্যের উৎস কমে যাচ্ছে। ফলে খাবারের সন্ধানে তারা মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত কলোরাডো পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফের কাছে ভালুক দেখা যাওয়া ও সংঘাতের ৬ হাজার ১২৯টি প্রতিবেদন জমা পড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। ফায়ার বিভাগ জানিয়েছে, ভালুকের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আনাগোনা ঠেকাতে খাবার ও আবর্জনা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে। পাখির খাবারের পাত্র সরিয়ে রাখতে হবে, পোষা প্রাণীর খাবার ঘরের ভেতরে রাখতে হবে এবং বারবিকিউ গ্রিল পরিষ্কার রাখতে হবে। আবর্জনাও সংগ্রহের নির্ধারিত দিনেই বাইরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার বিভাগের পরামর্শ, কোনো ভালুকের মুখোমুখি হলে দূরত্ব বজায় রেখে উচ্চ শব্দ করে তাকে ভয় দেখিয়ে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। মানুষের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া ভালুকের জন্য যেমন বিপজ্জনক, তেমনি মানুষের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ফায়ার স্টেশন থেকে ব্যাগটি নিয়ে পালানো ভালুকটি শেষ পর্যন্ত সরঞ্জামগুলো নিয়ে কী করেছে, তা জানা যায়নি।
নিউইয়র্কবাসীর জন্য মামদানির উপহার, ১০০ ডলারে ইউএস ওপেনের ১,০০০ টিকিট
আদালত বাধা দিলে কেনেডি সেন্টার ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের