সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সংস্কার পরিকল্পনা আদালত আটকে দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আদালত বাধা দিলে কেনেডি সেন্টার ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের

ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সংস্কার পরিকল্পনা আদালত আটকে দিলে ভবনটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, সংস্কার ও অর্থায়নের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটি আরও জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়তে পারে।    বিষয়টি সামনে এসেছে কেনেডি সেন্টার নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে। ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রটিতে বড় ধরনের সংস্কার করতে চায়। একই সঙ্গে ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের এখতিয়ার নেই বলে এর আগে একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছে।    বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক আদালত নথিতে বলা হয়েছে, সংস্কার পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে আটকে গেলে কেন্দ্রটি আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভবনটি ভেঙে সেখানে পটোম্যাক নদীর তীরে একটি বড় উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার নির্মাণের মতো বিকল্প বিবেচনা করা হতে পারে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা গুরুতর এবং বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সংস্কার প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে অর্থ সংগ্রহ ও সংস্কারের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটির আর্থিক অবস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।    তবে এই দাবিকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নাম কেন্দ্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর টিকিট বিক্রি ও তহবিল সংগ্রহ কমেছে বলে কিছু অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে। ফলে কেন্দ্রটির আর্থিক সংকটের জন্য ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা কতটা দায়ী এবং প্রশাসনের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।    কেনেডি সেন্টারের নাম নিয়ে আইনি লড়াইও এখনো চলছে। মে মাসে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার রায় দেন, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে। এরপর ভবনের সামনে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প-সমর্থিত পরিচালনা পর্ষদ আগস্টে নতুন করে ভবনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।    নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম অপরিবর্তিত রেখে ভবনের সামনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের আশপাশের চত্বরের নাম ট্রাম্পের নামে করার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, এটি কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন নয়।    এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিটি। তিনি আদালতের কাছে ট্রাম্পের নাম বা তার ভূমিকা তুলে ধরার নতুন উদ্যোগ বন্ধ করার আবেদন করেছেন। তার যুক্তি, কেনেডি সেন্টারকে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে জাতীয় স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামোর সঙ্গে এসব পরিবর্তন সাংঘর্ষিক।    ১৯৭১ সালে চালু হওয়া কেনেডি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মিং আর্টস প্রতিষ্ঠান। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান নয়, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় স্মারক হিসেবেও পরিচিত।   সংস্কার পরিকল্পনা, ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ এখন কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎকে ঘিরে বড় আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপর সংস্কার প্রকল্প এবং কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২:৫৯
যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক গ্রোসারি খরচ কমানো এখন অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারি খরচ কমানোর ১০ বাস্তব উপায়, মাসে শত শত ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক গ্রোসারি খরচ কমানো এখন অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের দাম এক বছর আগের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ছিল।   তবে দোকান বাছাই, লয়্যালটি প্রোগ্রাম, আগেভাগে খাবারের পরিকল্পনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি খাদ্য সহায়তা ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশি পরিবারগুলো নিয়মিত কেনে এমন চাল, ডাল, মাংস, সবজি ও মসলার ক্ষেত্রে পরিকল্পিত কেনাকাটা কাজে আসতে পারে।   প্রথমত, কম দামের গ্রোসারি স্টোরের সঙ্গে নিজের নিয়মিত দোকানের দাম তুলনা করুন। সব পণ্যের দাম সবসময় একই দোকানে কম হবে এমন নয়। তাই দুধ, ডিম, চাল, সবজি ও মাংসসহ নিয়মিত কেনা পণ্যের এককপ্রতি দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।   দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশি বা অন্যান্য দেশি খাবারের দোকানে স্থানীয় মৌসুমি সবজির দাম তুলনা করে দেখতে পারেন। শাক, করলা, কাঁচামরিচ বা অন্যান্য দেশি পণ্যের ক্ষেত্রে বড় চেইন স্টোরের তুলনায় কিছু দোকানে দাম কম হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দিনেই নতুন চালান আসে বা অর্ধেক দামে পাওয়া যায়, এমন দাবি সব দোকানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   তৃতীয়ত, যেসব গ্রোসারি স্টোরে সদস্য কার্ড বা মোবাইল অ্যাপ রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করুন। অনেক দোকান সদস্যদের জন্য বিশেষ দাম, ডিজিটাল কুপন বা নির্দিষ্ট পণ্যে ছাড় দেয়। বাজারে যাওয়ার আগে অ্যাপে সেই সপ্তাহের অফার দেখে নিলে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাও কমানো যায়।   চতুর্থত, পরিবারের নিয়মিত ব্যবহারের মাংস তুলনামূলক বড় প্যাকেজে কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। তবে বড় পরিমাণে কেনার আগে প্রতি পাউন্ডের দাম, সংরক্ষণের জায়গা এবং পরিবারের প্রকৃত চাহিদা হিসাব করা জরুরি। মার্কিন কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে ফ্রিজারে রাখা খাবার দীর্ঘ সময় নিরাপদ থাকে, যদিও সময়ের সঙ্গে এর মান কমতে পারে।   পঞ্চমত, আয় ও পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী এসএনএপি বা ডব্লিউআইসি-এর মতো সরকারি খাদ্য সহায়তার জন্য যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। এসব কর্মসূচির যোগ্যতা আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার বর্তমান নিয়ম যাচাই করা উচিত।   ষষ্ঠত, সপ্তাহের শুরুতেই খাবারের পরিকল্পনা করুন। কোন দিন কী রান্না হবে, কী পরিমাণ প্রয়োজন এবং ঘরে কী কী আছে, তা লিখে বাজারের তালিকা তৈরি করলে হঠাৎ প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটা কমানো সম্ভব। একই উপকরণ দিয়ে একাধিক দিনের খাবার পরিকল্পনা করাও খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।   সপ্তমত, যোগ্য হলে স্থানীয় খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সাহায্য নিতে পারেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী দেয়। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা ও বিতরণের নিয়ম আলাদা হতে পারে।   অষ্টমত, চাল, ডাল, লবণ, মসলা, টিস্যু বা অন্যান্য শুকনা পণ্যের ক্ষেত্রে কম দামের দোকানের পণ্য তুলনা করুন। শুধু পণ্যের গায়ে লেখা দাম নয়, প্রতি আউন্স, পাউন্ড বা এককপ্রতি দাম দেখলে কোনটি আসলে সস্তা তা বোঝা সহজ হয়।   নবমত, ছাড়ের পণ্য কেনার সময় খাবারের তারিখ ভালোভাবে দেখুন। তবে তারিখ পার হলেই খাবার অনিরাপদ হয়ে যায়, এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। মার্কিন কৃষি বিভাগ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনেক খাবারের তারিখ মূলত মান বা গুণগত মান বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, নিরাপত্তা নয়। তবে খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পচন বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ আছে কি না, তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।   বিশেষ করে মাংস বা মুরগির মাংস কেনার পর দ্রুত রান্না করা বা ফ্রিজারে রাখা নিরাপদ পদ্ধতি। মার্কিন কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, কাঁচা কিমা করা মাংস ও মুরগির মাংস সাধারণত ফ্রিজে এক থেকে দুই দিন রাখা যায়। কিছু ধরনের গোশত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যায়।   দশমত, বৈধ অর্থ ফেরত বা পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো অ্যাপ ব্যবহারের আগে সেটির নিয়ম, কোন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যায় এবং পুরস্কার পাওয়ার শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। শুধু অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় প্রয়োজনের বাইরে পণ্য কেনা হলে বরং খরচ বেড়ে যেতে পারে।   বাংলাদেশি পরিবারের জন্য আরও একটি কার্যকর কৌশল হলো নিয়মিত ব্যবহৃত চাল, ডাল বা অন্যান্য শুকনা পণ্যের বড় প্যাকেজের সঙ্গে ছোট প্যাকেজের প্রতি পাউন্ড দাম তুলনা করা। বড় প্যাকেজ সবসময় সস্তা নয়, তাই এককপ্রতি দাম দেখে কেনাই সবচেয়ে ভালো।   একইভাবে, স্কুলগামী শিশু থাকলে স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে বিনা মূল্যে বা কম দামে স্কুল খাবারের জন্য পরিবারের যোগ্যতা যাচাই করা যেতে পারে। বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে নিয়ম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে।   তবে মাসে ১৫০ থেকে ২৫০ ডলার বা বছরে ২ হাজার ৭৬০ ডলার নিশ্চিতভাবে সাশ্রয় হবে, এমন কোনো একক হিসাব নেই। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শহর, খাদ্যাভ্যাস, দোকান এবং কেনাকাটার পরিমাণ অনুযায়ী সাশ্রয়ের পরিমাণ ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রতিশ্রুতির বদলে নিজের পরিবারের গত কয়েক মাসের গ্রোসারি খরচের সঙ্গে নতুন পরিকল্পনার খরচ তুলনা করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থা সিবিপিতে একাধিক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরির বড় সুযোগ, সিবিপিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থা সিবিপিতে একাধিক পদে বর্তমানে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার পদে বিভিন্ন লোকেশনে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।   কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসাররা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রবেশপথে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাত্রী ও পণ্য পরীক্ষা করা এবং কাস্টমস ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে কাজ করেন। পদটি ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী চাকরি হওয়ায় দায়িত্বের সঙ্গে ইউনিফর্ম পরা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার বিষয়ও যুক্ত রয়েছে।    বর্তমান একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই পদে বেতন ৬৩ হাজার ৪৩১ ডলার থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৪ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মূল বেতনের বাইরে বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওভারটাইম আয় করতে পারেন। চাকরিটি পূর্ণকালীন এবং নিয়মিত শিফট ও ওভারটাইমে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।    নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন যোগ্যতা ও যাচাই প্রক্রিয়া রয়েছে। আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ইনভেস্টিগেশন, ড্রাগ টেস্ট, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য নিয়োগসংক্রান্ত ধাপ পেরোতে হয়। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার পদে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতাও বাধ্যতামূলক।    কিছু নির্দিষ্ট লোকেশনে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য অতিরিক্ত নিয়োগ প্রণোদনাও রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এলাকায় তিন বছরের সার্ভিস কনট্রাক্টের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার এবং কিছু এলাকায় চার বছরের সার্ভিস কনট্রাক্টের জন্যও বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হতে পারে।    শুধু কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন অফিসার নয়, সিবিপির ক্যারিয়ার পেজে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট, মেরিন ইন্টারডিকশন এজেন্ট এবং এয়ার ইন্টারডিকশন এজেন্টসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী পদেও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। এসব পদের কয়েকটির আবেদন শেষ হওয়ার তারিখও ৩১ আগস্ট ২০২৬।    তবে পদভেদে যোগ্যতা, বয়সসীমা, বেতন, দায়িত্ব, কর্মস্থল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আলাদা। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সর্বশেষ তথ্য দেখে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্ত নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২:৩৩
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইসের অভিযান ঘিরে বড় পরিবর্তন, কার্যকর হলো নতুন দুই আইন

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করে এবং স্থানীয় কারাগারে আইসের অভিবাসন-আটক কার্যক্রম বন্ধে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এসব বিধানের ফলে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়গুলো আইসের সঙ্গে ২৮৭(জি) ধরনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি চালিয়ে যেতে পারবে না।    ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত আইনটি স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে আইসের হয়ে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া ২৮৭(জি) চুক্তি করা, নবায়ন বা বহাল রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিদ্যমান চুক্তিগুলোও বাতিল ও অকার্যকর করার বিধান রয়েছে।    ২৮৭(জি) ব্যবস্থার আওতায় আগে স্থানীয় কর্মকর্তারা আইসের প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। নতুন আইনের ফলে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের কার্যালয়গুলো আর এ ধরনের ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিতে পারবে না। তবে গুরুতর অপরাধ বা ফৌজদারি তদন্তের ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারবে।    আইন কার্যকরের আগে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয় ১২টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে ২৫ আগস্টের মধ্যে তাদের ২৮৭(জি) চুক্তি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ সংস্থা চুক্তি বাতিলের কথা জানালেও কয়েকটি কাউন্টি তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়।    এরই মধ্যে বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। রেনসেলার কাউন্টি নতুন আইন বাতিলের দাবিতে ফেডারেল মামলায় যোগ দিয়েছে। আরও কয়েকজন শেরিফও আইনটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের কেউ কেউ দাবি করছেন, আইসের সঙ্গে সহযোগিতা জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসনের অবস্থান হলো, স্থানীয় পুলিশকে স্থানীয় অপরাধ দমনে কেন্দ্রীভূত রাখা উচিত।    একই সঙ্গে ‘ডিগনিটি নট ডিটেনশন অ্যাক্ট’ স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন ভায়োলেশনের অভিযোগে মানুষকে আটক রাখার ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। আইনটি স্থানীয় সরকার ও কারাগারগুলোকে আইসের সঙ্গে এ ধরনের আটক চুক্তি করা বা চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখে।    রাজ্য সিনেটর জুলিয়া সালাজারের উদ্যোগে আনা ‘ডিগনিটি নট ডিটেনশন’ বিধানটি ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর আওতায় আইসের সঙ্গে বিদ্যমান ইন্টারগভর্নমেন্টাল সাপোর্ট অ্যাগ্রিমেন্টসহ অভিবাসন আটক-সংক্রান্ত চুক্তিগুলোও শেষ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।    নতুন আইনগুলোর ফলে নিউইয়র্কে আইসের ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বন্ধ হয়নি। পরিবর্তনটি মূলত স্থানীয় পুলিশ, শেরিফের কার্যালয়, কারাগার ও সরকারি সম্পদকে ফেডারেল সিভিল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করার পথ সীমিত করেছে। তবে আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কাউন্টির আইনি চ্যালেঞ্জ নতুন করে নিউইয়র্ক ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে বিরোধকে আরও তীব্র করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২:১৯
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বেইলর ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে মুসলিম শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে হালাল খাবারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের খ্রিষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের ব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বেইলর ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে মুসলিম শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে হালাল খাবারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ওয়াকো শহরের এই খ্রিষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্ট ভিলেজ ডাইনিং কমন্সে হালাল চিকেন দিয়ে শুরু হওয়া উদ্যোগটি পরে আরও বিস্তৃত হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বেইলর ইটসের নির্বাহী শেফ গ্রেসন কনট্রেরাস জানান, হালাল খাবারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে মতামত পাওয়া যাচ্ছিল। সার্ভে, ফোকাস গ্রুপ ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে হালাল খাবারের সুযোগ চেয়েছিলেন।   কনট্রেরাস বলেন, শিক্ষার্থীদের দেওয়া মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বেইলর ইটস হালাল চিকেন চালুর উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ইস্ট ভিলেজ ডাইনিং কমন্সে পরীক্ষামূলকভাবে হালাল চিকেন চালু করা হয়। পরে সেটি আরও বিস্তৃত হালাল খাবারের ব্যবস্থায় রূপ নেয়।   বেইলর ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্ম ও দেশের মানুষ রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও শতাধিক দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খাদ্যাভ্যাস ও বিশেষ খাদ্য চাহিদার বিষয়ও বিবেচনা করা হয়।   হালাল খাবারের এই উদ্যোগের পাশাপাশি রমজানেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে বেইলর ইটস। ২০২৬ সালের রমজানে ইফতারের জন্য শিক্ষার্থীদের হালাল খাবারের প্লেট দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।   ১৮৪৫ সালে ব্যাপ্টিস্টদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বেইলর ইউনিভার্সিটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত খ্রিষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে খ্রিষ্টান মূল্যবোধ ও সেবার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়।   শিক্ষার্থীদের খাদ্যসংক্রান্ত চাহিদা নিয়ে মতামত দেওয়ার জন্য বেইলর ইটস বিভিন্ন মাধ্যমও রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন নিজের ধর্মীয় ও খাদ্যগত প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদে খাবার গ্রহণের সুযোগ পায়, সেটিই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২:৪
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির সেভিয়ার কাউন্টিতে ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সংগীতশিল্পী ডলি পার্টন। ছবি: সংগৃহীত
ঘর পুড়ে ছাই, পাশে দাঁড়ালেন ডলি পার্টন, ৯০০ পরিবার পেল ১০ হাজার ডলার

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির সেভিয়ার কাউন্টিতে ভয়াবহ দাবানলে ঘর হারানো পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ডলি পার্টন। নিজের শৈশবের এলাকার মানুষের দুর্দশা দেখে তিনি ডলিউড ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গড়ে তোলেন ‘মাই পিপল ফান্ড’। এই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ১ হাজার ডলার করে সহায়তা দেওয়া হয়। শেষ মাসে ১ হাজার ডলারের বদলে দেওয়া হয় ৫ হাজার ডলার। ফলে প্রতিটি পরিবার মোট ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পায়।  ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর গ্রেট স্মোকি মাউন্টেন এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেভিয়ার কাউন্টিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ১ হাজার ৭০০টির বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। এর মাত্র দুই দিনের মধ্যে ডলি পার্টনের ডলিউড ফাউন্ডেশন ‘মাই পিপল ফান্ড’ চালু করে।    তহবিলের আওতায় যেসব পরিবার দাবানলে তাদের প্রধান বাসস্থান সম্পূর্ণ হারিয়েছিল বা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল, তাদের সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাড়ির মালিকদের পাশাপাশি ভাড়াটিয়ারাও এই সহায়তার জন্য যোগ্য ছিলেন।    প্রথম দফায় প্রায় ৯০০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ৮৮৪টি পরিবার প্রথম ১ হাজার ডলারের চেক পায়। পরে তহবিল থেকে মাসে মাসে একই পরিমাণ অর্থ দেওয়া অব্যাহত থাকে।    ছয় মাসের সহায়তা কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে এসে পরিবারগুলো যখন আরও ১ হাজার ডলারের প্রত্যাশা করছিল, তখন ডলি পার্টনের ফাউন্ডেশন চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ হাজার ডলার করে। ফলে প্রতি পরিবার মোট ১০ হাজার ডলার সহায়তা পায়। শেষ পর্যন্ত দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সরাসরি ৮৯ লাখ ডলার বিতরণ করা হয়।    ডলি পার্টনের এই উদ্যোগের পেছনে ছিল নিজের শিকড়ের এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। সেভিয়ার কাউন্টি ও গ্রেট স্মোকি মাউন্টেন অঞ্চলেই তার শৈশব কেটেছে। তাই নিজের এলাকার মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন তিনি শুধু অর্থ সংগ্রহ করেই থামেননি, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।   দাবানলের পর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা অব্যাহত রাখতে ‘মাই পিপল ফান্ড’ আরও ৩০ লাখ ডলার মাউন্টেন টাফ রিকভারি টিমের সঙ্গে অংশীদারত্বে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। অর্থাৎ পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনেও সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১:৪৮
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত করছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, নতুন তারিখ দেবে দূতাবাস

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।   এরই মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ থাকা কিছু আবেদনকারী ইমেইলে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্বিন্যাসের বার্তা পেয়েছেন। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি।    পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রাখেন কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো হবে।    ভিসা সাক্ষাৎকারের এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এসেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায়ও কঠোর যাচাই-বাছাই জোরদার করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও সামনে এসেছে।   এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই তালিকায় বাংলাদেশও ছিল। তবে গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছে, কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকি যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য পাবলিক চার্জ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।   এদিকে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাসহ আরও কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশাসন এগোচ্ছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে ভিসা ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে অভিবাসন অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সমালোচনা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধের ফলে বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে এবং নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের তিন কর্মকর্তাকে সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদন্তের মধ্যে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদন্তে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের তিন কর্মকর্তা ছুটিতে

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের তিন কর্মকর্তাকে সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদন্তের মধ্যে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ছুটিতে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে সংস্থাটির যোগাযোগ বিভাগের প্রধান অ্যান্থনি গুগলিয়েলমিও রয়েছেন। তদন্ত চলাকালে তিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র স্থগিত করা হয়েছে এবং সরকারি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে তাদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছুটিতে পাঠানো তিন কর্মকর্তাই সিক্রেট সার্ভিসের যোগাযোগ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের সময় নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও সরকারি যন্ত্রপাতিতে প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া একটি প্রচলিত ব্যবস্থা। তবে তদন্তের আওতায় থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃতি বা তাদের কথিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সিক্রেট সার্ভিসও তিনজন কর্মীকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আইন প্রয়োগকারী দায়িত্বে থাকা কর্মী নন এবং সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে। তবে সংস্থাটি তাদের নাম প্রকাশ করেনি এবং অভিযোগের বিস্তারিত বিষয়েও কোনো তথ্য দেয়নি।   সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত করছে সংস্থাটির পেশাগত দায়িত্ব ও জবাবদিহি বিষয়ক কার্যালয়। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি। সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার বিষয়ে সিক্রেট সার্ভিস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   তিন কর্মকর্তাকে ছুটিতে পাঠানোর ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন সিক্রেট সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে বাড়তি নজরদারি চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক হত্যাচেষ্টার ঘটনা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সংস্থাটি সমালোচনা ও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ওয়াশিংটনের একটি অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ভেদ করে এক সশস্ত্র ব্যক্তি প্রবেশের ঘটনাও ছিল।   এ ছাড়া তুরস্ক সফরের সময় ট্রাম্পকে ঘিরে একটি গোপন নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ এবং সেটি কীভাবে বাইরে এসেছে, তা নিয়েও তদন্তের বিষয় সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য ইরানি হুমকির আশঙ্কার কারণে ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বিমান ব্যবহার না করে অন্য একটি বিমানে তুরস্ক থেকে বের হয়ে যান। ওই ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য ফাঁসের বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছিল।   এই তথ্য ফাঁসের প্রাথমিক তদন্তের সঙ্গে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের নামও এসেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকে ওই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতে তিনি সহায়তা করেছিলেন। একই সময়ে সিক্রেট সার্ভিসের এক সদস্যের বিরুদ্ধেও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সফরসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে আলাদা তদন্ত চলছিল।   যোগাযোগ বিভাগের প্রধান অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি সিক্রেট সার্ভিসের সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একাধিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাও রয়েছে। পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিসের তৎকালীন প্রধান পদত্যাগ করেন এবং সংস্থাটির কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।   তবে বর্তমান তদন্তে গুগলিয়েলমি ও অন্য দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সিক্রেট সার্ভিসও তদন্তের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আপাতত তিন কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে রেখে সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের বিষয়টি যাচাই করছে সংস্থাটির পেশাগত দায়িত্ব ও জবাবদিহি বিষয়ক কার্যালয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১:১৫
অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাদামা গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙলেন উগ্র ডানপন্থী আইনপ্রণেতা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম মাদামায় ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় একটি ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙার ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির আইনপ্রণেতা জভি সুকোট হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিসৌধটি ভাঙেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ওই স্থাপনা ভাঙার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সুকোট অনুমোদিত সফরের পরিকল্পনা লঙ্ঘন করেছেন।    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের কয়েকটি গ্রামে স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের জন্য সুকোট ও তার সহযোগীদের সফর অনুমোদিত ছিল। সেই সফরে নিরাপত্তা দিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে মাদামা গ্রামে গিয়ে সুকোট ও তার সহযোগীরা অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে স্মৃতিসৌধটি ভাঙতে শুরু করেন বলে সেনাবাহিনীর দাবি।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সুকোট ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিসৌধে আঘাত করছেন। আশপাশে ইসরায়েলি সেনা ও সামরিক যানও দেখা যায়। পরে সুকোট নিজেই স্মৃতিসৌধটি ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।    সুকোটের দাবি, স্মৃতিসৌধটি ইসরায়েলিদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে নির্মিত এবং সেখানে এমন ব্যক্তিদের স্মরণ করা হচ্ছে, যাদের তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে তিনি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন গ্রামে থাকা এ ধরনের স্মৃতিসৌধ সরানোর দাবি জানিয়েছিলেন। এক সপ্তাহ আগেও তিনি মাদামার স্মৃতিসৌধটি ধ্বংস করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য জানিয়েছে, সুকোটের সফরটি অনুমোদিত হলেও স্মৃতিসৌধ ধ্বংসের কোনো অনুমতি ছিল না। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বুঝতে পেরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনারা তাদের কমান্ডারদের বিষয়টি জানান। পরে তাদের মাদামা গ্রাম থেকে সুকোট ও তার সহযোগীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী সুকোটের কর্মকাণ্ডকে নিরাপত্তাবাহিনীর দেওয়া সুরক্ষার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছে।    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, পশ্চিম তীরে উসকানিমূলক প্রতীক বা স্থাপনা সরানোর জন্য অনুমোদিত অভিযান তারা নিয়মিত পরিচালনা করে। তবে এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। মাদামার ঘটনায় সেই অনুমোদন ছিল না বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।    মাদামা গ্রামটি নাবলুস শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। স্মৃতিসৌধটিতে কয়েক দশকে নিহত ফিলিস্তিনিদের নাম ছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, বসতি স্থাপনকারী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ০:৫৮
ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাসফরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মসজিদ সফরে শিক্ষার্থীদের হিজাব ও কোরআন দেওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও পালো আল্টো হাইস্কুলের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিভিন্ন ধর্মের কয়েকজন অভিভাবক। অভিযোগ, ২০২৫ সালের একটি শিক্ষাসফরে শিক্ষার্থীদের স্থানীয় একটি মসজিদে নিয়ে গিয়ে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ানো হয় এবং অভিভাবকদের সম্মতি ছাড়াই কয়েকজনকে ইসলামি ধর্মীয় পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়।    ৭ আগস্ট দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, স্কুলের সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালিত একটি মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে তারা নামাজ পর্যবেক্ষণ, উপাসনার অর্থ নিয়ে আলোচনা এবং কোরআন মুখস্থকারী শিক্ষার্থীদের একটি ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সফরের সময় ছাত্রীদের হিজাব পরতে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীদের কোরআনের কপি উপহার দেওয়া হয়। তবে এসব কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক ছিল কি না, সেটিই মামলার অন্যতম বিতর্কিত বিষয়।   মামলাটি করেছেন ইহুদি, হিন্দু ও জরথুস্ত্রীয় পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, একটি সরকারি স্কুলের পাঠ্যক্রমে একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার প্রশ্নও তোলা হয়েছে।    অভিভাবকদের আইনজীবী ডেভিড রোজেনবার্গ-ওহল দাবি করেছেন, সরকারি স্কুলের দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার করা নয়। তার মতে, সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে ইসলামকে বিশেষভাবে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হলে তা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।    অন্যদিকে, মসজিদটির পরিচালনাকারী মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন মামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষার্থীদের মুসলিম ধর্মীয় আচার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করানোকে জোরপূর্বক বা হুমকিমূলক হিসেবে দেখলে মুসলিমদের নিয়ে ভুল ধারণা ও ইসলামবিদ্বেষ আরও বাড়তে পারে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, কোরআন নেওয়া বা হিজাব পরার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের ওপর বাধ্যতামূলক ছিল না।    পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চলমান মামলার কারণে এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত মন্তব্য করবেন না।  এদিকে স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থী সংবাদপত্রের পক্ষ থেকেও অভিযোগের কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থী সংবাদপত্র দ্য পালি ভয়েসের সম্পাদক জুনি থার্সটন দাবি করেছেন, ছাত্রীদের জোর করে হিজাব পরানো বা ইসলামি বিশ্বাস গ্রহণে প্রভাবিত করার অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তবে ওই সফরে একজন বিতর্কিত বক্তার উপস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।    যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের যদি সত্যিই পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়ে থাকে, তাহলে তা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।    মামলাটি এখন সরকারি স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ০:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ আগস্ট নিয়মিত পেমেন্ট সূচি অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ পাঠানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
২৬ আগস্ট সোশ্যাল সিকিউরিটির চেক, কারা পাচ্ছেন জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের জন্য ২৬ আগস্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি তারিখ। বুধবার, ২৬ আগস্ট নিয়মিত পেমেন্ট সূচি অনুযায়ী, যেসব সুবিধাভোগীর জন্মদিন মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে, তাদের সোশ্যাল সিকিউরিটির মাসিক সুবিধার অর্থ পাঠানোর কথা। তবে সব সুবিধাভোগী একই দিনে অর্থ পান না।   সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের মে মাসের পর থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করা অনেক অবসরপ্রাপ্ত, মৃত কর্মীর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীর পেমেন্ট জন্মতারিখের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। মাসের ১ থেকে ১০ তারিখে জন্ম হলে সাধারণত দ্বিতীয় বুধবার, ১১ থেকে ২০ তারিখে জন্ম হলে তৃতীয় বুধবার এবং ২১ থেকে ৩১ তারিখে জন্ম হলে চতুর্থ বুধবার পেমেন্ট পাঠানো হয়।   আগস্ট মাসের সূচি অনুযায়ী, ১২ আগস্ট ১ থেকে ১০ তারিখে জন্ম নেওয়া যোগ্য সুবিধাভোগীদের পেমেন্ট পাঠানো হয়েছে। ১৯ আগস্ট ছিল ১১ থেকে ২০ তারিখে জন্মগ্রহণকারীদের পেমেন্টের তারিখ। আর ২৬ আগস্টের পেমেন্ট ২১ থেকে ৩১ তারিখে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের জন্য নির্ধারিত।   তবে এই নিয়ম সব সোশ্যাল সিকিউটি সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যারা ১৯৯৭ সালের ৩০ এপ্রিল বা তার আগে সুবিধা পাওয়া শুরু করেছিলেন, তাদের অনেকের জন্য আলাদা পেমেন্ট সূচি রয়েছে। একইভাবে, সোশ্যাল সিকিউটির পাশাপাশি সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য।   আগস্ট মাসে এসএসআই পেমেন্টের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার হওয়ায় আগস্টের এসএসআই পেমেন্ট আগেই ৩১ জুলাই পাঠানো হয়েছে। এটি অতিরিক্ত কোনো পেমেন্ট নয়। সপ্তাহান্তের কারণে নির্ধারিত তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সোশ্যাল সিকিউটি, এসএসআই অথবা উভয় ধরনের সুবিধা মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ পেমেন্ট পাচ্ছেন। সোশ্যাল সিকিউটি প্রশাসনের জুলাই ২০২৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাদের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৯৩ লাখ সুবিধাভোগীর বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।   তাই ২৬ আগস্টের পেমেন্টের অপেক্ষায় থাকা সুবিধাভোগীদের নিজেদের জন্মতারিখ এবং ব্যক্তিগত সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্টের সূচি মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। একই ধরনের সুবিধা পেলেও সবার পেমেন্টের তারিখ এক নয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ০:২৭
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের পারমায় স্কুলবাসের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেছে এক নারীর ব্যবহৃত হুইলচেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
স্কুলবাসের ধাক্কায় হুইলচেয়ারে থাকা নারী হাসপাতালে, আহত হয়নি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের পারমায় একটি স্কুলবাসের ধাক্কায় হুইলচেয়ারে থাকা এক নারী আহত হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ওই নারীকে মেট্রো হেলথ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ আহত হয়নি।   পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৮ জানিয়েছে, স্কুলবাসটি ওই নারীকে ধাক্কা দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা পৌঁছান। পরে আহত নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।   দুর্ঘটনার সময় স্কুলবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ আহত না হওয়ায় তাদের বিষয়ে বড় ধরনের কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং দুর্ঘটনার জন্য কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ বা আহত নারীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ০:১৬
সারগোধা এলাকায় রাডার খুঁজতে পাঠানো ভারতীয় ড্রোনের একটি কিরানা হিলসে আঘাত করেছিল বলে জানিয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান। ছবি: এআই
পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভারতের ড্রোন, লক্ষ্য ছিল রাডার

অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের কিরানা হিলস এলাকায় একটি ভারতীয় ড্রোন বা ‘লোইটারিং মিউনিশন’ আঘাত করেছিল। তবে ওই এলাকায় পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান।   মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে অপারেশন সিঁদুরের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় বাহিনীর পাঠানো ড্রোনগুলোর মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের সারগোধা এলাকার আশপাশে রাডার শনাক্ত করা। লক্ষ্য খুঁজে না পেয়ে একটি ড্রোনের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করে থাকতে পারে। কিরানা হিলস সারগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এলাকাটি পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ে আসছে। ফলে অপারেশন সিঁদুরের সময় সেখানে বিস্ফোরণ বা ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবর নিয়ে ভারতীয় হামলার সম্ভাবনা ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল।   জেনারেল চৌহান বলেন, অপারেশন সিঁদুরের আগে সারগোধা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি লোইটারিং মিউনিশন পাঠানো হয়েছিল। এগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় ধরে অবস্থান করে লক্ষ্য খুঁজতে পারে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো লক্ষ্য শনাক্ত না হলে ডিভাইসটির জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়ে সেটি অন্য কোথাও আঘাত করতে পারে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করা ড্রোনটি সম্ভবত সারগোধার কাছে রাডার খুঁজছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য শনাক্ত করতে না পারার পর সেটি কিরানা হিলসের কোনো স্থাপনা বা পাহাড়ে আঘাত করে থাকতে পারে। তবে এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত ঘটনা, পরিকল্পিত হামলা নয়।   ভারতের সাবেক এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতীর বক্তব্যও উল্লেখ করেন। ভারতী এর আগে বলেছিলেন, কিরানা হিলসে পাকিস্তানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি। নতুন এই বক্তব্যে অবশ্য কিরানা হিলস এলাকায় ভারতীয় অস্ত্র আঘাত করার সম্ভাবনা নিয়ে আগের জল্পনার একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। একই সঙ্গে জেনারেল চৌহান স্পষ্ট করেছেন, ভারতের পরিকল্পিত সামরিক লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা নয়।   অপারেশন সিঁদুর শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৭ মে। ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওই অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হয় এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়। অনুষ্ঠানে জেনারেল চৌহান অপারেশন সিঁদুরের আরেকটি বিষয়ও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্কারদুতে হামলার অনুমোদন ভারতীয় বিমানবাহিনী পেয়েছিল। তবে পরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেখানে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।   এরপর বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে পাকিস্তানের ভোলারি এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভোলারির একটি হ্যাঙ্গারে ভারতীয় হামলার ছবি ও স্যাটেলাইটচিত্রও প্রকাশ্যে আসে। কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোনের আঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, কিরানা হিলসের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কোনো পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়নি। সেখানে ড্রোনের আঘাত ছিল লক্ষ্য শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ফল।   এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই ব্যাখ্যার বাইরে কিরানা হিলসে ঠিক কোন স্থাপনায় ড্রোনটি আঘাত করেছিল বা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।   সংবাদসূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ০:৩
মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর পোশাকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি কচ্ছপ। ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বাসে লুকিয়ে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ নেওয়ার চেষ্টা, মিয়ামি বিমানবন্দরে ধরা পড়লেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর ব্রায়ের ভেতর থেকে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা স্ক্যানারে তার শরীরের বুকের অংশে অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত হওয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে কচ্ছপ দুটির সন্ধান পান পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) কর্মকর্তারা।   ঘটনাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটলেও টিএসএ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে জুলাইয়ে। ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়নি। টিএসএর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, কচ্ছপ দুটিকে গজের মতো কাপড় ও প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কচ্ছপগুলোর কোন প্রজাতির ছিল, তা সংস্থাটি জানায়নি।   নিরাপত্তা স্ক্যানারে প্রথমে ওই নারীর শরীরের বুকের অংশে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়ে। এরপর তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হলে পোশাকের ভেতর থেকে দুটি কচ্ছপ বেরিয়ে আসে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছেও ঘটনাটি ছিল বেশ অস্বাভাবিক। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো, দুটি কচ্ছপের একটি পরে মারা যায়। বেঁচে যাওয়া কচ্ছপটিকে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্দেশে অদ্ভুত কিন্তু স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয় টিএসএ। সংস্থাটি জানায়, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়া সম্ভব হলেও সেগুলো পোশাকের নিচে লুকিয়ে নেওয়া যাবে না। টিএসএর নিয়ম অনুযায়ী, ছোট পোষা প্রাণী নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রাণীকে তার বহনকারী খাঁচা বা ব্যাগ থেকে বের করে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় হাতে বহন করতে হয়। একই সঙ্গে বিমানে পোষা প্রাণী নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিজস্ব নিয়মও আগে জেনে নিতে হয়।   মায়ামির এই ঘটনা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যক্তিকে প্যান্টের ভেতরে একটি জীবন্ত কচ্ছপ লুকিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ওই কচ্ছপটি পরে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।   এ ছাড়া মায়ামি বিমানবন্দরে ২০২৩ সালে একটি ব্যাগ থেকে পাখির ডাক শোনার পর অ্যামাজন প্রজাতির পাখির ডিম ও জীবন্ত পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এক ব্যক্তিকে ব্যাগে সাপ নিয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা থেকে আটক করা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত যাত্রী, বিমান ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। তাই প্রাণী বহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে টিএসএ। বিশেষ করে প্রাণীকে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তার নিজের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি প্রাণীটির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।   মায়ামির ঘটনায় দুটি কচ্ছপের একটি মারা যাওয়ার বিষয়টি সেই ঝুঁকিকেই সামনে এনেছে। নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের পোষা প্রাণী পরিবহনের নিয়ম এবং টিএসএর নিরাপত্তা নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সংবাদসূত্র: সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২৩:৪৭
স্টেম সেল থেকে তৈরি মস্তিষ্কের অর্গানয়েড পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ল্যাবে জীবিত ও বিকশিত রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ৫ বছর ধরে বাঁচিয়ে রাখলেন বিজ্ঞানীরা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত

বিজ্ঞানীরা ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র আকারের কৃত্রিম মস্তিষ্ক বা মিনি ব্রেন প্রায় ছয় বছর ধরে জীবন্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মানুষের প্রাকৃতিক মস্তিষ্কের মতোই এসব কৃত্রিম মস্তিষ্কেও বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা গেছে।   বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই যুগান্তকারী সাফল্যের কথা জানানো হয়েছে। গবেষকরা স্টেম সেল থেকে মস্তিষ্কের টিস্যুর সমন্বয়ে এই ব্রেন অর্গানয়েড তৈরি করেছেন, যা মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের প্রক্রিয়াকে অনুকরণ করতে পারে। সাধারণত এ ধরনের অর্গানয়েড বা কৃত্রিম কোষের পরীক্ষাগুলো মাত্র কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস স্থায়ী হয়। কিন্তু এবার গবেষকরা এগুলোকে কয়েক বছর ধরে টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কোষগুলো পরিণত হয়েছে এবং একইসঙ্গে তাদের বয়সের একটি সেলুলার রেকর্ড বা কোষীয় স্মৃতি ধরে রেখেছে।   গবেষকরা দেখেছেন, আসল মস্তিষ্কে যেসব সাধারণ কোষ থাকে, এই কৃত্রিম মস্তিষ্কেও ঠিক সে ধরনের কোষের বিকাশ ঘটেছে। জেনেটিক ও আণবিক পরিমাপ ব্যবহার করে তারা প্রমাণ পেয়েছেন যে, জৈব মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো যেভাবে বিকশিত হয়, ল্যাবের এই টিস্যুগুলোও ঠিক একই পথ অনুসরণ করেছে। গবেষকরা যখন পুরনো অর্গানয়েডগুলোকে ভেঙে কাইমেরয়েডস হিসেবে নতুন করে তৈরি করেন, তখন দেখা যায় কোষগুলো তাদের আগের বয়সের স্মৃতি ধরে রেখেছে। এমনকি তারা বিকাশের এমন কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে যা তারা আগেই সম্পন্ন করেছিল।   এই গবেষণা বিজ্ঞানীদের জন্য মস্তিষ্ক বিকাশের প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আলঝেইমার্স এবং পারকিনসন্স এর মতো মারাত্মক স্নায়বিক রোগগুলো নিয়ে আরও বিশদ গবেষণার পথ খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।   তবে এই মিনি ব্রেনগুলো সত্যিকারের মানুষের মস্তিষ্কের মতো সম্পূর্ণ নয়। এগুলোতে কোনো রক্তনালী নেই। এছাড়া মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে শারীরিক অনুভূতি বা স্নায়বিক তথ্য গ্রহণ করতে পারে, ল্যাবে তৈরি এই মস্তিষ্কগুলোর সেই সক্ষমতা নেই। অর্থাৎ তারা অনেক ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না।   ল্যাবে দীর্ঘসময় জীবন্ত মস্তিষ্ক টিকিয়ে রাখার ফলে একটি নৈতিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। এই কৃত্রিম মস্তিষ্কের কি নিজস্ব কোনো চেতনা বা অনুভূতি তৈরি হতে পারে? বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা সায়েন্টিফিক আমেরিকান কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গবেষণাপত্রটির জ্যেষ্ঠ লেখক পাওলা আরলোটা জানিয়েছেন, এই অর্গানয়েডগুলোর সামান্যতম চেতনা থাকার সম্ভাবনাও একেবারে নেই বললেই চলে। কোনো কিছুর চেতনা আছে কি না তা নির্ধারণ করা বেশ জটিল বিষয়। তাই এই বিতর্ক দীর্ঘ সময় ধরেই চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত বিজ্ঞানীদের তৈরি এই মস্তিষ্কগুলো ল্যাবে রাখা কিছু স্নায়ুকোষের সমষ্টি মাত্র, যারা কেবল নিজেদের বয়স মনে রাখতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২৩:৩২
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কসে সুলভ মূল্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়া হচ্ছে (ছবি: সংগৃহীত)
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ, ১,৫০০ ডলারের নিচে ভাড়ায় মিলছে অ্যাপার্টমেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে একটি ভালো অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়া অনেকের জন্যই রীতিমতো স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট। সম্প্রতি এই কর্তৃপক্ষের অধীনে শত শত অ্যাপার্টমেন্ট মাত্র ১৫০০ ডলারের চেয়েও কম ভাড়ায় দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, সুলভ মূল্যের এই অ্যাপার্টমেন্টগুলো নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং ব্রঙ্কস এলাকায় অবস্থিত। আবেদনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে স্টুডিও, এক বেডরুম এবং দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের কথা মাথায় রেখেই মূলত এই আবাসন প্রকল্পগুলো সাজানো হয়েছে।   এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হলো স্টারহিল ফেজ টু। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৩০ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে শুরু করে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ ডলারের মধ্যে, তারা এখানে ভাড়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে বাসিন্দাদের জন্য খোলা জায়গা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সরঞ্জাম, লিফট এবং উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগসহ আরও নানা ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে।   আরেকটি আকর্ষণীয় প্রকল্প হচ্ছে ব্লন্ডেল কমনস। এখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য আবেদন করতে হলে বার্ষিক আয় হতে হবে ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। যারা নিজেদের সাথে পোষা প্রাণী রাখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি জায়গা। এছাড়া এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, শরীর চর্চার জন্য ব্যায়ামাগার বা জিম এবং শিশুদের জন্য আলাদা খেলার ঘর রয়েছে।   যাদের আয় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি, তাদের জন্য রয়েছে সোলেস নামের অপর একটি আবাসিক প্রকল্প। ৩৮ হাজার ৯৪৯ থেকে শুরু করে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার বার্ষিক আয়সম্পন্ন ব্যক্তিরা এখানে আবেদন করতে পারবেন। সাধ্যের মধ্যে থাকা এই আবাসন ব্যবস্থায় একটি মিডিয়া রুম, জিম এবং ইয়োগা ও ড্যান্স স্টুডিও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।   এছাড়া কলাম্বিয়া কমনস ওয়ান নামের আরও একটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বার্ষিক ৩০ হাজার ৪৪৬ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার আয়ের মানুষেরা ভাড়ার সুযোগ পাবেন।   নিউইয়র্কের মতো ব্যস্ত এবং ব্যয়বহুল শহরে এমন উদ্যোগ অনেক সাধারণ মানুষের জন্যই স্বস্তির খবর। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে এবং অনলাইনেই ভাড়ার জন্য আবেদন করা যাবে।   সংবাদসূত্র: পিক্স১১ ও নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কানেক্ট।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২২:৫৫
বিড়ালের কান্না মনে করে বাইরে এসে পরিত্যক্ত জমিতে নবজাতককে খুঁজে পান স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজে। ছবি: সংগৃহীত
বিড়ালের ডাক ভেবে এগিয়ে যেতেই আবর্জনার স্তূপে মিলল নবজাতক

ব্রাজিলের পারানার পিরাকোয়ারায় পরিত্যক্ত একটি জমিতে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাড়ি তখনও সংযুক্ত ছিল। স্থানীয় এক নারী প্রথমে শব্দটি বিড়ালের কান্না ভেবে বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে পাশের জমিতে খোঁজ করতে গিয়ে ব্যাগের ভেতর নবজাতককে দেখতে পান তিনি।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার ভোরে কুরিতিবার মহানগর এলাকার পিরাকোয়ারা পৌরসভার গুয়ারিতুবা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজে জানান, নিজের একটি বিড়াল কাঁদছে মনে করে তিনি বাড়ির বাইরে বের হন। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাশের একটি জমিতে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটির ওপর কালো একটি তোয়ালে দেওয়া ছিল।   কাছাকাছি গিয়ে ব্যাগের ভেতরে নবজাতককে দেখতে পান কাটিয়া। শিশুটির নাড়ি তখনও কাটা হয়নি এবং তার শরীরে জন্মের পরের চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি দেখে তিনি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে জানান এবং জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাটিয়াকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনি শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে কুরিতিবার হসপিটাল দে ক্লিনিকাসে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম পূর্ণ ৪০ সপ্তাহের গর্ভধারণের পর হয়েছে। তার ওজন ছিল ২ দশমিক ৮ কেজি। হাসপাতালে নেওয়ার সময় শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সে নিজে থেকেই শ্বাস নিচ্ছিল।   নবজাতককে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে দুটি হাড়ে আঘাতের চিহ্ন পান। এর মধ্যে কলারবোন ও উরুর হাড়ে ভাঙার মতো আঘাত ছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এসব আঘাত প্রসবের সময়ই হয়ে থাকতে পারে। শিশুটির জন্ম কোনো হাসপাতালে হয়নি বলেও প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।   ঘটনার তদন্তে নেমে পারানা সিভিল পুলিশ শিশুটির মাকে শনাক্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী, যিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেন। তদন্তকারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করেন। পরে কিশোরীটি স্বীকার করেন যে সোমবার ভোরে তিনি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তা জোয়াও পাওলো পেলায়েজের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীটি পুলিশকে বলেছেন, প্রসবের পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং শিশুটি মৃত অবস্থায় জন্মেছে বলে মনে করেছিলেন। এরপর নবজাতককে একটি তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে বাড়ির পাশের খালি জমিতে রেখে যান বলে তার বক্তব্য। পুলিশের কাছে কিশোরীটি আরও দাবি করেছেন, তার গর্ভধারণ একটি যৌন সহিংসতার ঘটনার ফল। সে কারণে পরিবার ও পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি গর্ভধারণের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। এই দাবির সত্যতা যাচাই করতেও আলাদা করে তদন্ত চলছে।   কিশোরী ও তার বাবা-মাকে পুলিশের কাছে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে আপাতত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং মামলার কার্যক্রম চলবে মুক্ত অবস্থায়। প্রাথমিকভাবে নবজাতককে পরিত্যাগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে মামলাটিকে নবজাতকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের চেষ্টার দিক থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। শিশুটিকে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালত ও শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। একটি প্রতিবেদনে কিশোরী ও তার বাবা-মায়ের শিশুটির সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞার কথাও জানানো হয়েছে।   পুলিশ এখন ঘটনার পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। কিশোরীর পরিবার গর্ভধারণের বিষয়টি আগে থেকে জানত কি না, শিশুটিকে পরিত্যাগের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং শিশুটির শরীরে পাওয়া আঘাত কীভাবে হয়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই নবজাতককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি যদি শব্দটি শুনে সেটিকে শুধু বিড়ালের কান্না মনে করে আর বাইরে না আসতেন, তাহলে শিশুটির কী পরিণতি হতো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ঘটনাটি ব্রাজিলের পারানা রাজ্যে নবজাতকের নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পুলিশ এখনো তদন্ত শেষ করেনি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও শিশুটিকে পরিত্যাগের পূর্ণ কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।   সংবাদসূত্র: দ্য সান ও ইউওএল ব্রাজিল।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২২:৩০
নিজের দক্ষতা ও সময় অনুযায়ী টিউটরিং, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত
চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ: যে ১০টি কাজ বিবেচনা করতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-টাইম চাকরি করেও অনেকের মাসিক আয় থেকে বাড়তি সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়িভাড়া, মর্টগেজ, গাড়ির খরচ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবারই মূল চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের জন্য এমন কাজ গুরুত্বপূর্ণ, যা মূল চাকরির সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং সপ্তাহের সন্ধ্যা বা ছুটির দিনে করা যায়।   বর্তমানে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ শুধু রাইডশেয়ার বা ফুড ডেলিভারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং হাতে থাকা সময় অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। তবে কোন কাজ থেকে কত আয় হবে, তা নির্ভর করবে কাজের ধরন, অবস্থান, সময়, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট খরচের ওপর।   চাকরির পাশাপাশি বিবেচনা করা যেতে পারে এমন ১০টি কাজ হলো:   ১. রাইডশেয়ার ড্রাইভিং - নিজের গাড়ি থাকলে উবার বা লিফট এর মতো রাইডশেয়ার প্ল্যাটফর্মে ড্রাইভিং অনেকের জন্য অতিরিক্ত আয়ের একটি পরিচিত পথ। অফিসের আগে বা পরে কয়েক ঘণ্টা কিংবা সপ্তাহান্তে কাজ করা যায়। তবে আয় হিসাব করার সময় গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইনস্যুরেন্স এবং গাড়ির মূল্য কমে যাওয়ার মতো খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে।   ২. ফুড ডেলিভারি - ডোরড্যাশ, উবারইটস সহ বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে পার্ট-টাইম কাজ করা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার ডিনার সময় বা সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যারা যাত্রী বহনের পরিবর্তে খাবার বা পণ্য ডেলিভারি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে।   ৩. অনলাইন বা প্রাইভেট টিউটরিং - যাদের গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, কম্পিউটার সায়েন্স বা অন্য কোনো বিষয়ে ভালো দক্ষতা রয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের টিউটরিং করতে পারেন। অনেক টিউটর সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তে কাজ করেন, ফলে এটি ফুল-টাইম চাকরির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, টিউটরদের বড় একটি অংশ পার্ট-টাইম কাজ করেন এবং তাদের সময়সূচিতে সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তের কাজও রয়েছে।   ৪. ফ্রিল্যান্সিংআইটি, সফটওয়্যার টেস্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং, বুককিপিং, অনুবাদ বা কনটেন্ট তৈরির মতো দক্ষতা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে বাড়তি আয়ের একটি সুযোগ। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো কাজ শেখার চেয়ে নিজের বর্তমান পেশাগত দক্ষতাকে কাজে লাগানো অনেকের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।   ৫. ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি - বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়মিত হয়। যাদের ক্যামেরা পরিচালনা, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি বা ভিডিও এডিটিংয়ের দক্ষতা রয়েছে, তারা মূল চাকরির পাশাপাশি সপ্তাহান্তে এসব কাজ করতে পারেন।   ৬. ক্লিনিং সার্ভিস - বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ছোট অফিস পরিষ্কারের কাজও পার্ট-টাইম আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ। কেউ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করতে পারেন, আবার প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে নিজস্ব ছোট ক্লিনিং সার্ভিসও গড়ে তুলতে পারেন। সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা সময় দেওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকের জন্য এই কাজটি সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।   ৭. চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিং - যাদের শিশুদের দেখাশোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা পার্ট-টাইম চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিংয়ের কাজ বিবেচনা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ডকেয়ার সেক্টরে পার্ট-টাইম কাজ প্রচলিত এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ধ্যা বা রাতের সময়ও কাজের প্রয়োজন হয়। তবে শিশু দেখাশোনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, লাইসেন্স এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম অবশ্যই আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।   ৮. হ্যান্ডিম্যান ও হোম সার্ভিস - ফার্নিচার অ্যাসেম্বলি, পেইন্টিং, ইয়ার্ডের কাজ বা ছোটখাটো মেরামতের মতো কাজে দক্ষ হলে সপ্তাহান্তে বাড়তি আয় করা সম্ভব। তবে ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং বা লাইসেন্স প্রয়োজন এমন কোনো কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।   ৯. অনলাইন রিসেলিং - বাড়িতে অব্যবহৃত জিনিসপত্র বিক্রি দিয়ে অনলাইন রিসেলিং শুরু করা যায়। পরে পোশাক, অ্যাকসেসরিজ, হস্তশিল্প বা অন্যান্য পণ্য নিয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা করা সম্ভব। তবে পণ্য কেনা, স্টোরেজ, শিপিং এবং প্ল্যাটফর্মের ফি হিসাব করে লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   ১০. সোশ্যাল মিডিয়া ও কনটেন্ট সার্ভিস - ছোট ব্যবসা বা কমিউনিটি সংগঠনের জন্য ফেসবুক পেজ পরিচালনা, ছবি তৈরি, ভিডিও এডিটিং, পোস্ট লেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির কাজও করা যেতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক ছোট ব্যবসা ও সংগঠনের নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্টের প্রয়োজন থাকায় এই ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।   তবে পার্ট-টাইম কাজ শুরু করার আগে শুধু সম্ভাব্য আয় নয়, সংশ্লিষ্ট খরচও হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি কাজের ক্ষেত্রে গাড়ির গ্যাস, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় কত থাকে, সেটি বিবেচনা করা উচিত।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পার্ট-টাইম বা গিগ কাজের আয়ও ট্যাক্সের আওতায় পড়ে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, গিগ কাজ থেকে পাওয়া আয় পার্ট-টাইম, অস্থায়ী বা সাইড কাজের আয় হলেও তা ট্যাক্স রিটার্নে রিপোর্ট করতে হয়। কোনো ব্যক্তির self-employment থেকে নেট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণত self-employment tax-এর নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। আয় ও খরচের রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় রসিদ সংরক্ষণ করার পরামর্শও দিয়েছে আইআরএস।   তাই ফুল-টাইম চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের সময়, দক্ষতা, খরচ এবং সম্ভাব্য নেট আয় বিবেচনা করা। সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার একটি পার্ট-টাইম কাজও সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে পরিবারের মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২২:১৬
মন্টানার বিলিংসে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একই পরিবারের আট সদস্য (ছবি: সংগৃহীত)
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় একই পরিবারের ৮ জনকে গুলি করে হত্যা, নিহতদের মধ্যে রয়েছে চার শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংসে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে। গুলির ঘটনার পর বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের আরও সদস্যদের হারিয়ে শোকাহত বাবা অ্যাডাম ঘেকিয়েরে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় ঘটনাটির খবর শুনে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সন্ধ্যায় বিলিংসের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে বাড়িটিতে গুলির ঘটনা সম্পর্কে জরুরি নম্বরে ফোন আসে। ফোনে কথা বলার সময় পেছনে গুলির শব্দও শোনা যাচ্ছিল। প্রায় ১১ মিনিট পর প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর বাড়ির পেছন দিক থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়িটি আগুনে পুড়ে যেতে শুরু করে। ঘেকিয়েরে তখন একটি এয়ার শোতে উদ্ধারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় কাছাকাছি এলাকায় একটি গুরুতর ঘটনা ঘটার খবর শুনেই তার সন্দেহ হয়, ঘটনাটি তার শ্বশুরবাড়ির আশপাশে কি না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে ফোন করেন। কিন্তু কেউ ফোন ধরেনি।   পরে তিনি তার দুই সন্তান ল্যান্ডন ও শার্লটের অবস্থান জানার চেষ্টা করেন এবং তাদের ফোন করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছানোর পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা তাদের আর এগোতে দেননি, কারণ তখনও সেখানে সক্রিয় হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই মুহূর্তেই তিনি সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কা করেছিলেন। নিহতদের মধ্যে ঘেকিয়েরের ১৫ বছর বয়সী ছেলে ল্যান্ডন এবং ১২ বছর বয়সী মেয়ে শার্লট রয়েছে। তার স্ত্রী মেগান ঘেকিয়েরেও নিহত হয়েছেন। মেগানের দুই সন্তান, ১৩ বছর বয়সী ওউেন এবং ৭ বছর বয়সী ক্লোয়িও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবারের আরও তিন সদস্যও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে মেগানের বাবা-মা এবং ৯২ বছর বয়সী দাদি এভলিন স্মিথও ছিলেন।   ঘটনাটি একটি যৌথ পরিবারের চার প্রজন্মকে ছিন্নভিন্ন করেছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন ৭ বছরের ক্লোয়ে এবং সবচেয়ে প্রবীণ ছিলেন ৯০-এর বেশি বয়সী এক নারী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার শিশুসহ আটজনই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। ঘটনার পর পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারী পরিবারেরই একজন। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি অপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চালানো এলোমেলো হামলা ছিল না।   পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিও পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যান। তার আঘাতকে আত্মঘাতী গুলির ক্ষত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ফলে ঘটনাটিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িটি দ্রুত আগুনে পুড়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও তদন্তকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশ ও দমকলকর্মীদের পাশাপাশি ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, মন্টানা হাইওয়ে পেট্রোল এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবাদাতা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। পরে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।   নিহত দুই শিশু ল্যান্ডন ও শার্লটকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ল্যান্ডনকে ধৈর্যশীল, সুরক্ষাদানকারী ও ভালো বড় ভাই হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। শার্লটকে বলা হয়েছে হাসিখুশি, বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রাণবন্ত একটি শিশু, যার নিজের মতো করে চলার দৃঢ়তাও ছিল। অ্যাডাম ঘেকিয়েরের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঘটনার সময় তিনি সন্তানদের কাছে ছিলেন না। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় খবর শোনার পর তাদের ফোন করা, অবস্থান খোঁজা এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া, সবকিছুই ঘটেছিল কয়েক মিনিটের মধ্যে। কিন্তু সক্রিয় হামলার পরিস্থিতির কারণে তিনি বাড়ির কাছে যেতে পারেননি।   তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ কারণ ও ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছেন। কেন পারিবারিক বিরোধ এমন ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নিল, হামলার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে অত্যন্ত জটিল তদন্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিলিংসের এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা নিহতদের স্মরণ করছেন এবং শেষকৃত্যসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। তদন্ত চলায় কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করেনি।   সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২১:৪৯
কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন (ছবি: সংগৃহীত)
বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ।   ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।   কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল।   বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।   ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর।   আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন।   তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

প্রকাশ : আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২১:২৭