২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ঘোষণা ১৪ অক্টোবর
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৭ সালের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা কতটা বাড়বে, তা ঘোষণা করতে পারে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এই হিসাব কার্যকর হলে বর্তমানে গড়ে মাসে ২ হাজার ৮৬ ডলার অবসরভাতা পাওয়া একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি আগামী জানুয়ারি থেকে প্রায় ৭৩ ডলার বেশি পেতে পারেন।
তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। দায়িত্বশীল ফেডারেল বাজেট কমিটি ভাতা ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং সিনিয়র সিটিজেনস লিগ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
কীভাবে নির্ধারণ করা হয় ভাতা বৃদ্ধির হার
২০২৭ সালের চূড়ান্ত বৃদ্ধির হার নির্ধারণে চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ব্যবহার করা হবে। এই তিন মাসের গড় ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কতটা বেড়েছে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী বছরের ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়।
এ ক্ষেত্রে শহুরে মজুরিভোগী ও দাপ্তরিক কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন। খাদ্য, জ্বালানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামের পরিবর্তন এই সূচকে প্রতিফলিত হয়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে কী বলছে এএআরপি
এএআরপি বলছে, ভাতা কতটা বাড়তে পারে—এমন আগাম ধারণা প্রবীণদের আগামী বছরের আর্থিক পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে খাবার, জ্বালানি, বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা নিজেদের বাজেট ঠিক করতে পারবেন।
এএআরপি পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচ জনসন বলেন, অনেক বয়স্ক আমেরিকানের আয়ের প্রধান উৎস সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা। তাই আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়তে পারে, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যাবে, তারা তত দ্রুত নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারবেন।
জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশটির সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুনে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণে ব্যবহৃত মূল্যসূচকও জুলাইয়ে এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে মাসিক হিসাবে সূচকটি অপরিবর্তিত ছিল।
খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিলে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দামের পরিবর্তন আগামী দুই মাসে ভাতা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
চূড়ান্ত ঘোষণা ১৪ অক্টোবর
সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সমন্বয় করা হয়, যাতে পণ্য ও সেবার দাম বাড়লেও ভাতাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা খুব বেশি কমে না যায়।
তবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এখনো পূর্বাভাস। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর ২০২৭ সালের চূড়ান্ত ভাতা বৃদ্ধির হার ঘোষণা করা হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। তবে এবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পথে নিজের রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিসর থেকেও অনীহা ও সংশয়ের মুখে পড়ছেন তিনি। এমনকি তাঁর স্বামী ডগ এমহফও চান না, হ্যারিস আবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। তবে শেষ পর্যন্ত হ্যারিস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে সমর্থন করবেন বলে ধারণা করছেন এমহফের ঘনিষ্ঠজনেরা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমহফ ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী অংশ না নিলেই তিনি বেশি খুশি হবেন। তবে তাঁর এই অবস্থানকে হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা, হ্যারিস চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিলে এমহফ তাঁর পাশে থাকবেন। হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় শুধু তাঁর পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন অর্থদাতা সরাসরি তাঁকে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে আবারও লড়াই করা তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে। তাঁদের কেউ কেউ সম্ভাব্য এই প্রচারাভিযানকে জয়ের ক্ষেত্রে অনিশ্চিত ও কঠিন বলে মনে করছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন হ্যারিস। ওই নির্বাচনে তিনি জনপ্রিয় ভোট, ইলেকটোরাল কলেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলোর কোনোটিতেই জয় পাননি। অথচ তাঁর নির্বাচনী প্রচারে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিপুল অর্থ সংগ্রহের পরও পরাজয় ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হ্যারিস এখনো আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীভিত্তিক জরিপে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে দুই অঙ্কের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি, তাই এসব জরিপকে চূড়ান্ত জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হ্যারিস নিজেও এখন পর্যন্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। গত মাসে মিশিগানে এনএএসিপির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আবার নির্বাচনে লড়বেন কি না, তা এখনো ঠিক করেননি। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভালো করতে না পারলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনার গুরুত্বও কমে যাবে। তবে তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর জন্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন হ্যারিস। উইসকনসিনের গভর্নর পদপ্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি এবং নেভাডার গভর্নর পদপ্রার্থী অ্যারন ফোর্ডের জন্য আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও তাঁর উপস্থিতির কথা জানা গেছে। গত সপ্তাহে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির একটি ভার্চুয়াল আলোচনায়ও অংশ নেন হ্যারিস। সেখানে দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবককে এক ডজন অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং ভোটদানে উৎসাহিত করার কাজে সহায়তা করতে বলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এ ধরনের তৎপরতা ভবিষ্যতে বড় নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তিনি ২০২৮ সালে প্রার্থী হবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। হ্যারিসের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীও তাঁর আবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির একাংশ নতুন নেতৃত্ব ও নতুন মুখ সামনে আনার পক্ষে। অন্যদিকে, হ্যারিসের পরিচিতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ভোটারসমর্থন তাঁকে আলোচনায় রেখেছে। এদিকে এমহফ আবার আইন পেশায় সক্রিয় হয়েছেন। তিনি লস এঞ্জেলেসের আইন প্রতিষ্ঠান উইলকি ফার অ্যান্ড গ্যালাগারে অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। চলতি বছরের শুরুতে হ্যারিস ও এমহফ মালিবুতে প্রায় ৮০ লাখ ডলারের একটি বাড়িও কিনেছেন। হ্যারিসের কার্যালয় এবং এমহফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে হ্যারিসের সামনে এখনো একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন কি না, তা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন ও সংশয়—দুই-ই রয়েছে। আপাতত তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান, নির্বাচনী তৎপরতা এবং দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়াই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রিও গ্র্যান্ডে নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, পানির সংকটে পড়তে পারেন দেড় কোটি মানুষ
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান, বাড়ছে বিকল্প পাসপোর্টের চাহিদা
বাড়ির সম্পত্তি কর ও আয়করে মিলতে পারে বড় ছাড়, ২০২৬ সালে করদাতাদের করণীয়
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে একটি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর ফোনে ঘোড়ার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌ ন কর্মকাণ্ডের পাঁচটি ভিডিও পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডেনিস কিরান নামের ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করা হয়েছে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতাসংক্রান্ত চারটি অভিযোগে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিউ স্মিরনা বিচ হাইস্কুলে কর্মরত কিরানকে ঘিরে তদন্ত শুরু হয় বুধবার। ওই দিন স্কুলের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা তাঁকে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখেন। এ সময় তাঁর হাতে থাকা ফোনটি উরুর ওপরের অংশের কাছে রাখা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর কিরানের কাছ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তদন্ত চলাকালে তাঁকে স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে তাঁর ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ। ওই ফোনে শিক্ষার্থীদের কোনো অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ঘোড়ার সঙ্গে যৌ ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার পাঁচটি ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ভিডিওগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কিরানের বিরুদ্ধে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। আদালত তাঁকে শিশু ও প্রাণীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের শুরুতে স্কুলে নারী শিক্ষার্থীদের ছবি তোলার অভিযোগ সামনে এলেও ফোনে শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক ছবি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ফোনে পাওয়া ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পৃথক অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে। অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ফ্লোরিডায় স্কুলের নিরাপত্তা জোরদার করতে চালু করা হয়েছিল স্কুল গার্ডিয়ান কর্মসূচি। ২০১৮ সালে পার্কল্যান্ডের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আওতায় স্কুল জেলার নির্দিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা কর্মীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতো কাউকে গ্রে প্তার করার ক্ষমতা পান না। তাঁদের মূল দায়িত্ব স্কুলের নিরাপত্তায় সহায়তা করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা। স্কুলের মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আচরণ নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে মেডিকেইড হারাচ্ছেন কিছু অভিবাসী, চিকিৎসার খরচ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভোটার সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হলো নিউইয়র্কে
. অপরাধে ভাড়ার ই-বাইক ও স্কুটারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, কঠোর নিয়মের দাবি ওয়াশিংটনে
ক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে ফ্লোরিডা ও আলাবামায় অন্তত দুইজনের মৃ ত্যু হয়েছে এবং প্রায় আট লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে গেলেও ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারিকেনটি ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলে আঘাত হানে। আঘাতের সময় এটি ক্যাটাগরি–২ হারিকেন ছিল এবং বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ মাইল। ফ্লোরিডার পানহ্যান্ডেল অঞ্চল ও আলাবামার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, সড়ক চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পেনসাকোলা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের তার ও গাছ রাস্তায় পড়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। ঝড়ের কারণে জরুরি সেবার কাজও কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃস্থাপন এবং সড়ক পরিষ্কারের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রবল বাতাসে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোতে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়ির শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ফ্রিজ, ইন্টারনেট ও মোবাইল চার্জিংয়ের মতো দৈনন্দিন সেবায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং চিকিৎসার জন্য বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। এ অবস্থায় স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ঝড়টি দুর্বল হয়ে গেলেও এর সঙ্গে আসা আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসে কিছু অঞ্চলে আরও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকিও থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্যাপ্রবণ সড়ক এড়িয়ে চলা, বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তার থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি সতর্কবার্তা অনুসরণ করা জরুরি। ঝড়ের পরেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই দুর্যোগের প্রভাব শুধু ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সড়ক বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং পণ্য সরবরাহের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে আরও সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর উচিত স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, কাউন্টি প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা।
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ধনী প্রবীণরা, তিন বছরে তরুণদের সম্পদ কমেছে ২৩ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বাড়ি থেকে পাঁচজনের গু লি বিদ্ধ দে হ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ