সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

পুলিশকে ফাঁকি দিতে ল্যাব্রাডরকে ফেলে পালালেন, কুকুরই ধরিয়ে দিল মালিককে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৪:৩৭
যুক্তরাজ্যের রাঙ্কর্নে পুলিশের কাছ থেকে ই-স্কুটারে পালানোর সময় ফেলে যাওয়া চার্লস ফয়ের ল্যাব্রাডর কুকুর। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের রাঙ্কর্নে পুলিশের কাছ থেকে ই-স্কুটারে পালানোর সময় ফেলে যাওয়া চার্লস ফয়ের ল্যাব্রাডর কুকুর। ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের রাঙ্কর্নে পুলিশের কাছ থেকে ই-স্কুটারে পালানোর সময় নিজের একটি ল্যাব্রাডর কুকুরকে ফেলে গিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী চার্লস ফয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কুকুরই পুলিশকে সরাসরি তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির চিলেকোঠায় ইনসুলেশনের নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ফয়কে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং চলতি আগস্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

 

চেশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফয় তখন দুটি কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে একটি ই-স্কুটারে যাচ্ছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা তাকে থামার সংকেত দিলে তিনি তা উপেক্ষা করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি সরু গলি ও বন্ধ সড়ক দিয়ে ই-স্কুটার চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়ের কাছ থেকে গাঁজার তীব্র গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। পালানোর সময় ই-স্কুটারের গতি ধরে রাখতে না পেরে একটি ল্যাব্রাডর পিছিয়ে পড়ে। ফয় কুকুরটিকে সেখানেই রেখে চলে যান। এরপর এক পুলিশ অফিসার গাড়ি থেকে নেমে কুকুরটির পিছু নেন।

 

কুকুরটি সরাসরি বিখনফিল্ড রোডের একটি বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশও তাকে অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছে যায়। বাড়িটি বাইরে থেকে খালি মনে হলেও ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় কর্মকর্তারা খোলা একটি চিলেকোঠার দরজা দেখতে পান। পরে ইনসুলেশনের কয়েকটি স্তরের নিচে লুকিয়ে থাকা ফয়কে খুঁজে বের করা হয়। 

 

পুলিশের কাছে ফয় দাবি করেন, তিনি চিলেকোঠায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং ওই রাতে ই-স্কুটার চালাননি। তবে আদালতে তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করা, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানো, ইন্স্যুরেন্স ছাড়া মোটরযান ব্যবহার এবং ড্রাগ টেস্টের নমুনা দিতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। 

 

ওয়ারিংটন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে ৭ আগস্ট শুনানি শেষে ফয়কে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চার বছর তিন মাসের জন্য তার ড্রাইভিং নিষিদ্ধ করা হয়। 

 

চেশায়ার পুলিশ পরে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা কুকুরটির সঙ্গে কথা বলছেন এবং সেটিকে অনুসরণ করে তার মালিকের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন।

 

পুলিশ কর্মকর্তা মাইক স্মিথ বলেন, পালানোর সময় ফয় নিজের কুকুরকে ফেলে গেলেও কুকুরটি শেষ পর্যন্ত পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের সরাসরি মালিকের বাড়িতে নিয়ে যায়। 

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুরটির আনুগত্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মালিক পুলিশকে ফাঁকি দিতে চাইলেও, তার ফেলে যাওয়া সঙ্গীই শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে তার অবস্থান প্রকাশ করে দেয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
জেলেনস্কির বদলে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তাগিদ
জেলেনস্কির বদলে নতুন প্রেসিডেন্ট চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার তাগিদ

ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশটিতে নতুন একজন নেতা নির্বাচন করার সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে জেলেনস্কি বারবার ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।   শনিবার এক বক্তব্যে ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন এমন একজন নেতা দরকার যিনি মস্কোর সঙ্গে সমঝোতা বা চুক্তি করতে সক্ষম। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ থামানোর বহু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জেলেনস্কি কোনো এক অজানা কারণে কখনোই সেই পথে হাঁটেননি; তাই ইউক্রেনের জন্য এখন নতুন প্রেসিডেন্ট খোঁজার উপযুক্ত সময় এসেছে।   ট্রাম্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি আগে ক্ষমতায় থাকলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই বিধ্বংসী যুদ্ধ কখনোই শুরু হতো না। সংঘাতের শুরু থেকেই জেলেনস্কি বারবার আলোচনার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প।   তিনি সতর্ক করে বলেন, রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে, যা আমেরিকান কৃষক ও খামারিদের সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেনকে ডিজেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল এবং তাদের অবিলম্বে এই হামলা থামাতে হবে।   এদিকে, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। তবে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই জ্বালানি চুক্তিকে কিয়েভ এবং ইউরোপীয় মিত্ররা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে একটি "দুর্বল সিদ্ধান্ত" বলে আখ্যায়িত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে, পুতিনের সঙ্গে এমন সমঝোতা মূলত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসী যুদ্ধে নতুন করে অর্থ বিনিয়োগ করারই শামিল।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:৪২
সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর ফ্লাইদুবাইয়ের যাত্রীরা

৯/১১ হা মলার আদলে তেল আবিব বিমানবন্দরে বিমান আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহকারী পাইলট

ইরাকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ৭ জনকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন মার্কিন সেনা আলউইন ক্যাশ

ইরাকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে ৭ জনকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন মার্কিন সেনা আলউইন ক্যাশ

ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি

ফুটবল মাঠে আহত পাখিকে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অধিনায়ক গানি

ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়ে প্রিয়জনদের কাছে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’-এর শিকার হচ্ছেন রোগীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘ক্যানসার ধরা পড়ার পর বন্ধু হারিয়েছি, মানুষ আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে’

ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়েই বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ হারাচ্ছেন কিছু রোগী। যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা ম্যাকমিলান ক্যানসার সাপোর্ট সতর্ক করেছে, কাছের মানুষের এভাবে দূরে সরে যাওয়া রোগীদের একা রোগ মোকাবিলা করার অনুভূতি তৈরি করছে। সংস্থাটি এই অভিজ্ঞতাকে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’ হিসেবে উল্লেখ করে রোগীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   ম্যাকমিলানের উদ্যোগে ইউগভ পরিচালিত যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ১০০ প্রাপ্তবয়স্কের জরিপে ২৬ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিচিত ক্যানসার রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাঁদের অসুবিধা হয়েছে। এর মধ্যে কী বলবেন বুঝতে না পারা, রোগের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া, দেখা বা কথা বলা কমিয়ে দেওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোপুরি যোগাযোগ হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে ২৬ শতাংশ মানুষ ক্যানসার রোগীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।    ক্যানসারের কথা জানানোর পর পরিবার বা বন্ধুদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত যোগাযোগ ও সহায়তা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা বোঝাতে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’ কথাটি ব্যবহার করা হয়। ম্যাকমিলানের অনলাইন কমিউনিটিতেও রোগীরা এ নিয়ে কথা বলেছেন। কেউ জানিয়েছেন, পরিচিতদের বার্তা আসা বন্ধ হয়ে গেছে; কেউ দৈনন্দিন আড্ডা ও বন্ধুর সঙ্গ হারানোর কষ্ট তুলে ধরেছেন। এটি সামাজিক অভিজ্ঞতা বোঝানোর একটি শব্দ।    এডিনবরার অবসরপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মী লিসা ওয়াকার এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ৬১ বছর বয়সী এই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যানসার ধরা পড়ার পর কয়েক দশকের পরিচিত কিছু বন্ধু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। যাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো, তাঁদের দূরে সরে যাওয়া তাঁকে নিজের বন্ধুত্বগুলো নিয়েও প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছিল।   হ্যাম্পশায়ারের ৩৮ বছর বয়সী মানবসম্পদ পেশাজীবী মেভ গাজানফারও জানিয়েছেন, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুত্ব হারিয়েছেন তিনি। শুরুতে বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং বিভ্রান্ত করেছে। পরে তিনি নিজের চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ম্যাকমিলান বলছে, রোগীর পাশে থাকতে সব সময় নিখুঁত কোনো কথা বলার প্রয়োজন নেই।    সংস্থাটির পরামর্শ, ছোট একটি বার্তা পাঠানো, নিয়মিত খোঁজ নেওয়া কিংবা রোগীর ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে সঙ্গে যাওয়াও সহায়তার উপায় হতে পারে। ম্যাকমিলানের অনলাইন কমিউনিটির আলোচনায় খাবার পৌঁছে দেওয়া, একসঙ্গে চা খাওয়া এবং ক্যানসারের বাইরেও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কথা বলার মতো সহায়তার উদাহরণ উঠে এসেছে।    ম্যাকমিলানের সাপোর্ট লাইনের বিশেষজ্ঞ সিয়ান রবিনসন ব্রাউনের বক্তব্য, ক্যানসার নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবু সহানুভূতির সঙ্গে শোনা, রোগীর চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফেয়ার ক্যানসার কেয়ার’ প্রচারণার অংশ হিসেবে সংস্থাটি তাই কাছের কারও ক্যানসার ধরা পড়লে নীরব হয়ে যোগাযোগ বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে। 

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১০:৬
‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

‘পতনের দ্বারপ্রান্তে নরেন্দ্র মোদি’, নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ

বাংলাদেশ থেকে প্রথম আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক অরুণ

জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক

জাপানে ভূমিকম্পের জরুরি খবর দিতে ছুটির দিনেও মেকআপ ছাড়াই লাইভে নারী সাংবাদিক

তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের
তাইওয়ানে চীনকে মোকাবিলায় সামরিক প্রতিরক্ষা জোরদারের ঘোষণা প্রেসিডেন্টের

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও ‘গ্রে-জোন’ চাপের মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার কড়া ঘোষণা দিয়েছে তাইওয়ান। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাইপেতে আয়োজিত তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে।   তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষায় তাদের এই বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল লক্ষ্য কোনোভাবেই যুদ্ধ উসকে দেওয়া নয়, বরং যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ প্রতিহত করা। পাশাপাশি আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে তারা সংলাপের পথ বন্ধ করে দিচ্ছেন; বরং বেইজিংয়ের সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যেন সম্মানজনক সংলাপ নিশ্চিত করা যায়, মূলত সেই লক্ষ্যেই তাইওয়ান তার সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে।   চলতি বছরের মে মাসে লাই চিং-তে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাইওয়ান প্রণালিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।   অন্যদিকে লাইয়ের সরকার বেইজিংয়ের ‘এক চীন’ নীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় বেইজিং তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট লাই বলেন, তাইওয়ান প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিতে চীন ধারাবাহিকভাবে যে চাপ প্রয়োগ করছে, তা কেবল তাইওয়ানের নিরাপত্তার বিষয় নয়।   বরং এটি পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যই একটি বড় পরীক্ষা যে, বলপ্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে আসলেই উপেক্ষা করা যায় কি না।   ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, তাইওয়ান সবসময় শান্তিতে বিশ্বাসী, তবে তারা কখনোই নিজেদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিসর্জন দেবে না। চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ে তারা আগ্রহী হলেও, কোনোভাবেই তাদের অধীনতা মেনে নেওয়া হবে না।   দায়িত্বশীল ও সুদৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালি এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রেসিডেন্ট লাই।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৮:৪৪
কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির  ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম

কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম

‘এখনই দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করে তোলার সময়’, মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি

‘এখনই দিল্লিকে বাংলাদেশ-নেপালের মতো করে তোলার সময়’, মোদি সরকারকে হুঁশিয়ারি

চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি খুঁজছে জাপানি কোম্পানিগুলো

চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি খুঁজছে জাপানি কোম্পানিগুলো

0 Comments