সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ফ্লোরিডায় ৪১টি ভুয়া গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন এবং ৪৪ হাজার ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৬:৪৯
ফ্লোরিডায় ৪১টি ভুয়া গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন এবং ৪৪ হাজার ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় ৪১টি ভুয়া গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন এবং ৪৪ হাজার ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল গাড়ির নামে ৪১টি ভুয়া ইন্স্যুরেন্স আবেদন করে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার ডলার হাতানোর চেষ্টা করার অভিযোগে অ্যাডাম অট্রক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের কর্মকর্তারা। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ভুয়া পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে এমন গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন করেছিলেন, যেগুলোর কোনোটি তার মালিকানায় ছিল না।

 

ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিভিশন জানায়, ৬ আগস্ট অট্রককে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজ্যের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ব্লেইজ ইংগোগলিয়া ২৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান।

 

তদন্ত অনুযায়ী, অট্রক ৪১টি বিলাসবহুল গাড়ির জন্য ইন্স্যুরেন্স পলিসির আবেদন করেন। এসব আবেদনে তিনি জাল ও কাল্পনিক ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেন বলে কর্মকর্তাদের অভিযোগ।

 

কর্মকর্তারা জানান, অট্রক নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের পেমেন্ট দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার কারণে সেই পেমেন্ট বন্ধ করে দিতেন। এরপর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পেমেন্টটি অবৈধ বা বাউন্স হয়েছে বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তিনি প্রিমিয়ামের পুরো টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করতেন।

 

তদন্তে দেখা গেছে, তিনি মোট ২ লাখ ৬ হাজার ডলার হাতানোর চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৭০৪ ডলার তিনি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে পেতে সক্ষম হন বলে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস জানিয়েছে।

 

অট্রকের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতারণার পরিকল্পনা, ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি, গ্র্যান্ড থেফট এবং ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের প্রতারণামূলক ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম ব্রোওয়ার্ড স্টেট অ্যাটর্নির অফিসের অধীনে পরিচালিত হবে।

 

দোষী সাব্যস্ত হলে অট্রকের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

 

ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিভিশন ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতির বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে থাকে। এর মধ্যে ভুয়া ইন্স্যুরেন্স আবেদন, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স জালিয়াতি এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ইন্স্যুরেন্স সুবিধা নেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে।

 

কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে অট্রক যে বিলাসবহুল গাড়িগুলোর নামে আবেদন করেছিলেন, সেগুলোর নির্দিষ্ট মডেল বা সংশ্লিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নাম জানানো হয়নি। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ এই জালিয়াতিতে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন বাবা-মা
উবারের নতুন ফিচার, সন্তানের রাইড লাইভ দেখতে পারবেন বাবা-মা

কিশোর-কিশোরীরা একা উবারে যাতায়াতের সময় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়ের উদ্বেগ কমাতে নতুন সুবিধা চালু করেছে রাইডশেয়ারিং কোম্পানি উবার। এখন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উবারের টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী সন্তানের রাইড চলাকালীন গাড়ির ভেতরের দৃশ্য লাইভ ভিডিওতে দেখতে পারবেন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবক।   উবারের নতুন এই লাইভ ভিডিও সুবিধা ২৫ আগস্ট থেকে চালু হয়েছে। উবারের টিন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা বাবা-মা বা লিগ্যাল গার্ডিয়ানের অনুমতি নিয়ে নিজেরাই রাইড নিতে পারে। নতুন ফিচারের লক্ষ্য হলো সন্তান একা স্কুল, খেলাধুলা বা অন্য কোনো কাজে যাতায়াত করার সময় বাবা-মাকে রাইডের পরিস্থিতি আরও সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া।   রাইড শুরু হওয়ার পর লাইভ ভিডিও সুবিধা পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন যাবে। এরপর উবার অ্যাপ থেকে এক ট্যাপেই রাইডের লাইভ ভিডিও দেখা যাবে। ভিডিওটি ধারণ করা হবে উবার ড্রাইভারের ফোনের সামনের ক্যামেরা দিয়ে, যাতে মূলত গাড়ির পেছনের সিটের দৃশ্য দেখা যায়।   তবে প্রতিটি রাইডে লাইভ ভিডিও সুবিধা নিশ্চিত নয়। ড্রাইভার চাইলে এই সুবিধা চালু বা বন্ধ রাখতে পারবেন। ফলে কোনো রাইড শুরু হওয়ার আগে বাবা-মা জানতে পারবেন না যে ওই রাইডে লাইভ ভিডিও দেখা যাবে কি না। লাইভ ভিডিও চালু থাকলে বাবা-মা রাইডের যেকোনো সময় সেটি দেখতে পারবেন। বাবা-মা ভিডিও দেখা শুরু করলে কিশোর যাত্রী এবং ড্রাইভার দুজনকেই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।   রাইড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইভ ভিডিওও বন্ধ হয়ে যাবে। উবার জানিয়েছে, ভিডিওটি এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং রাইড চলাকালীন এটি কেবল সংশ্লিষ্ট কিশোরের সঙ্গে যুক্ত বাবা-মা বা অভিভাবকই লাইভ দেখতে পারবেন। উবার নিজেও রাইড চলাকালীন ওই ভিডিও দেখতে পারবে না। তবে নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘটনার তদন্তের প্রয়োজন হলে এনক্রিপ্টেড ভিডিও ফাইলের ডিক্রিপশন কী ব্যবহারের সুযোগ কোম্পানির থাকতে পারে।   উবারের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ক্ষেত্রে রাইডের ভিডিও রেকর্ডিং ১৪ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে। তবে কোনো ভিডিও নিরাপত্তাসংক্রান্ত রিপোর্টের অংশ হলে কোম্পানির ডেটা সংরক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী সেটি আরও বেশি সময় রাখা হতে পারে।   প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি মার্কেটে নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধা চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটলান্টা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো, র‍্যালি-ডারহাম, পোর্টল্যান্ড, সান অ্যান্টোনিও, ক্লিভল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড এবং এল পাসো। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখনো এই সুবিধা চালু হয়নি। উবার জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশজুড়ে ফিচারটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার পাশাপাশি টিন অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই রয়েছে রাইডের লাইভ ট্র্যাকিং, পিন ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা। রাইডের সময় বাবা-মা সন্তানের অবস্থান ও যাত্রার অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারেন।   উবার ২০২৩ সালে টিন অ্যাকাউন্ট চালু করে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এই সেবা রয়েছে এবং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর থেকে টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীরা বিশ্বজুড়ে বছরে কোটি কোটি রাইড সম্পন্ন করছেন। নতুন লাইভ ভিডিও সুবিধার মাধ্যমে সন্তানকে স্বাধীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মায়ের জন্য রাইডের সময় আরও সরাসরি নজর রাখার সুযোগ তৈরি হলো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৭:৪৬
ফ্লোরিডায় ৪১টি ভুয়া গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন এবং ৪৪ হাজার ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডায় ৪১টি ভুয়া গাড়ির ইন্স্যুরেন্স আবেদন এবং ৪৪ হাজার ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডায় স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টিকার বাধ্যতামূলক নিয়ম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

ফ্লোরিডায় স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য ৪ টিকার বাধ্যতামূলক নিয়ম তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ

২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ঘোষণা ১৪ অক্টোবর

ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের হুমকির জবাব কানাডার
ট্রাম্পের ‘লেক আমেরিকা’ নামকরণের হুমকির জবাব কানাডার, ‘আমরা লেক অন্টারিওই বলব’

লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব দিয়েছে কানাডা। দেশটির শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, কানাডিয়ানরা এই জলাধারকে সবসময়ই ‘লেক অন্টারিও’ নামে ডাকবে।   মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোলি বলেন, “আমরা সবসময় এটিকে লেক অন্টারিওই বলব।” তিনি আরও বলেন, গ্রেট লেকস নিয়ে কানাডা গর্বিত এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা দৃঢ় থাকবে।   ট্রাম্প এর আগে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর ‘অন্টারিওর সঙ্গে খুব বেশি ব্যবসা করার’ প্রত্যাশা নেই।   এরপর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেকটির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে ‘লেক অন্টারিও’ নামটি কেটে তার জায়গায় ‘লেক আমেরিকা’ লেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা থমকে থাকা এবং কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম পরিবর্তনের এমন প্রস্তাবের পেছনে শুধু প্রতীকী বিষয় নয়, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বার্তাও থাকতে পারে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ভূগোলবিদ ডেরেক অ্যাল্ডারম্যান বলেন, লেক অন্টারিওর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা বা নাম পরিবর্তনের চেষ্টা কানাডার ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে।   তবে ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক রিউবেন রোজ-রেডউড ট্রাম্পের মন্তব্যকে “পুরোপুরি ক্ষোভ উসকে দেওয়ার কৌশল” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, কানাডিয়ানদের ক্ষুব্ধ করার পাশাপাশি বাণিজ্য আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থানের দুর্বলতা থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।   এদিকে হোয়াইট হাউসের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে দেখানো হয়। তবে মানচিত্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অবস্থানও ভুলভাবে দেখানো হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের দপ্তরের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।   লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মাঝখানে অবস্থিত এবং এটি উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকসের একটি। ফলে এর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৬:১৬
যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জামভর্তি ব্যাগ চুরি করে পালাল ‘দুষ্টু’ কালো ভালুক

যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ার স্টেশন থেকে সরঞ্জামভর্তি ব্যাগ চুরি করে পালাল ‘দুষ্টু’ কালো ভালুক

নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য ইউএস ওপেনের ১,০০০টি টিকিট মাত্র ১০০ ডলারে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কবাসীর জন্য মামদানির উপহার, ১০০ ডলারে ইউএস ওপেনের ১,০০০ টিকিট

ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সংস্কার পরিকল্পনা আদালত আটকে দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আদালত বাধা দিলে কেনেডি সেন্টার ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক গ্রোসারি খরচ কমানো এখন অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারি খরচ কমানোর ১০ বাস্তব উপায়, মাসে শত শত ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক গ্রোসারি খরচ কমানো এখন অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের দাম এক বছর আগের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ছিল।   তবে দোকান বাছাই, লয়্যালটি প্রোগ্রাম, আগেভাগে খাবারের পরিকল্পনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি খাদ্য সহায়তা ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশি পরিবারগুলো নিয়মিত কেনে এমন চাল, ডাল, মাংস, সবজি ও মসলার ক্ষেত্রে পরিকল্পিত কেনাকাটা কাজে আসতে পারে।   প্রথমত, কম দামের গ্রোসারি স্টোরের সঙ্গে নিজের নিয়মিত দোকানের দাম তুলনা করুন। সব পণ্যের দাম সবসময় একই দোকানে কম হবে এমন নয়। তাই দুধ, ডিম, চাল, সবজি ও মাংসসহ নিয়মিত কেনা পণ্যের এককপ্রতি দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।   দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশি বা অন্যান্য দেশি খাবারের দোকানে স্থানীয় মৌসুমি সবজির দাম তুলনা করে দেখতে পারেন। শাক, করলা, কাঁচামরিচ বা অন্যান্য দেশি পণ্যের ক্ষেত্রে বড় চেইন স্টোরের তুলনায় কিছু দোকানে দাম কম হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দিনেই নতুন চালান আসে বা অর্ধেক দামে পাওয়া যায়, এমন দাবি সব দোকানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   তৃতীয়ত, যেসব গ্রোসারি স্টোরে সদস্য কার্ড বা মোবাইল অ্যাপ রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করুন। অনেক দোকান সদস্যদের জন্য বিশেষ দাম, ডিজিটাল কুপন বা নির্দিষ্ট পণ্যে ছাড় দেয়। বাজারে যাওয়ার আগে অ্যাপে সেই সপ্তাহের অফার দেখে নিলে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাও কমানো যায়।   চতুর্থত, পরিবারের নিয়মিত ব্যবহারের মাংস তুলনামূলক বড় প্যাকেজে কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাগ করে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। তবে বড় পরিমাণে কেনার আগে প্রতি পাউন্ডের দাম, সংরক্ষণের জায়গা এবং পরিবারের প্রকৃত চাহিদা হিসাব করা জরুরি। মার্কিন কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে ফ্রিজারে রাখা খাবার দীর্ঘ সময় নিরাপদ থাকে, যদিও সময়ের সঙ্গে এর মান কমতে পারে।   পঞ্চমত, আয় ও পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী এসএনএপি বা ডব্লিউআইসি-এর মতো সরকারি খাদ্য সহায়তার জন্য যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। এসব কর্মসূচির যোগ্যতা আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার বর্তমান নিয়ম যাচাই করা উচিত।   ষষ্ঠত, সপ্তাহের শুরুতেই খাবারের পরিকল্পনা করুন। কোন দিন কী রান্না হবে, কী পরিমাণ প্রয়োজন এবং ঘরে কী কী আছে, তা লিখে বাজারের তালিকা তৈরি করলে হঠাৎ প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটা কমানো সম্ভব। একই উপকরণ দিয়ে একাধিক দিনের খাবার পরিকল্পনা করাও খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।   সপ্তমত, যোগ্য হলে স্থানীয় খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সাহায্য নিতে পারেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী দেয়। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা ও বিতরণের নিয়ম আলাদা হতে পারে।   অষ্টমত, চাল, ডাল, লবণ, মসলা, টিস্যু বা অন্যান্য শুকনা পণ্যের ক্ষেত্রে কম দামের দোকানের পণ্য তুলনা করুন। শুধু পণ্যের গায়ে লেখা দাম নয়, প্রতি আউন্স, পাউন্ড বা এককপ্রতি দাম দেখলে কোনটি আসলে সস্তা তা বোঝা সহজ হয়।   নবমত, ছাড়ের পণ্য কেনার সময় খাবারের তারিখ ভালোভাবে দেখুন। তবে তারিখ পার হলেই খাবার অনিরাপদ হয়ে যায়, এমন ধারণা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। মার্কিন কৃষি বিভাগ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনেক খাবারের তারিখ মূলত মান বা গুণগত মান বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, নিরাপত্তা নয়। তবে খাবার কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পচন বা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ আছে কি না, তা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।   বিশেষ করে মাংস বা মুরগির মাংস কেনার পর দ্রুত রান্না করা বা ফ্রিজারে রাখা নিরাপদ পদ্ধতি। মার্কিন কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, কাঁচা কিমা করা মাংস ও মুরগির মাংস সাধারণত ফ্রিজে এক থেকে দুই দিন রাখা যায়। কিছু ধরনের গোশত তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যায়।   দশমত, বৈধ অর্থ ফেরত বা পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো অ্যাপ ব্যবহারের আগে সেটির নিয়ম, কোন পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যায় এবং পুরস্কার পাওয়ার শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। শুধু অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় প্রয়োজনের বাইরে পণ্য কেনা হলে বরং খরচ বেড়ে যেতে পারে।   বাংলাদেশি পরিবারের জন্য আরও একটি কার্যকর কৌশল হলো নিয়মিত ব্যবহৃত চাল, ডাল বা অন্যান্য শুকনা পণ্যের বড় প্যাকেজের সঙ্গে ছোট প্যাকেজের প্রতি পাউন্ড দাম তুলনা করা। বড় প্যাকেজ সবসময় সস্তা নয়, তাই এককপ্রতি দাম দেখে কেনাই সবচেয়ে ভালো।   একইভাবে, স্কুলগামী শিশু থাকলে স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে বিনা মূল্যে বা কম দামে স্কুল খাবারের জন্য পরিবারের যোগ্যতা যাচাই করা যেতে পারে। বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে নিয়ম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে।   তবে মাসে ১৫০ থেকে ২৫০ ডলার বা বছরে ২ হাজার ৭৬০ ডলার নিশ্চিতভাবে সাশ্রয় হবে, এমন কোনো একক হিসাব নেই। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শহর, খাদ্যাভ্যাস, দোকান এবং কেনাকাটার পরিমাণ অনুযায়ী সাশ্রয়ের পরিমাণ ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট অঙ্কের প্রতিশ্রুতির বদলে নিজের পরিবারের গত কয়েক মাসের গ্রোসারি খরচের সঙ্গে নতুন পরিকল্পনার খরচ তুলনা করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন সংস্থা সিবিপিতে একাধিক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরির বড় সুযোগ, সিবিপিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আইসের অভিযান ঘিরে বড় পরিবর্তন, কার্যকর হলো নতুন দুই আইন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বেইলর ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে মুসলিম শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে হালাল খাবারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের খ্রিষ্টান বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের ব্যবস্থা

0 Comments