৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনা, কোনটি লাভজনক? জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেট এখন প্রায় অধরা লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট গড়ে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় অনেকেই সুদের হার কমার অপেক্ষা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিগগিরই হার আবার ৩ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা খুবই কম।
মহামারির সময় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট প্রায় ৩ শতাংশের আশপাশে নেমে গিয়েছিল। ২০২১ সালে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬৫ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু ২০২২ সালের মার্চ থেকে ফেড সুদের হার বাড়াতে শুরু করলে মর্টগেজ রেটও আবার বাড়তে থাকে। রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেলের মতে, অদূর ভবিষ্যতে ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
এই পরিস্থিতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের সামনে বিকল্প হিসেবে আসতে পারে প্রস্তাবিত প্রপোজিশন ৩৭। আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা এই প্রস্তাবের ওপর সিদ্ধান্ত দেবেন। এটি অনুমোদিত হলে মধ্যম আয়ের যোগ্য বাসিন্দারা নতুন নির্মিত বাড়ির দামের সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ফলে ক্রেতার নিজস্ব ডাউন পেমেন্ট নেমে আসতে পারে মাত্র ৩ শতাংশে।
তবে এটি সরাসরি অনুদান নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি এই কর্মসূচি চালু করতে পারবে এবং সহায়তার অর্থ দ্বিতীয় মর্টগেজ হিসেবে দেওয়া হবে। অর্থাৎ বাড়ির মূল মর্টগেজের পাশাপাশি ক্রেতাকে আরেকটি ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে হবে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলারের রেভিনিউ বন্ড বিক্রির মাধ্যমে কর্মসূচিটির অর্থায়ন করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা এবং নির্দিষ্ট দামের মধ্যে থাকা নতুন নির্মিত বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। বাড়ির মূল্যসীমা কাউন্টিভেদে আনুমানিক ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ ডলারের মধ্যে হতে পারে। ক্রেতাকে অন্তত ৩ শতাংশ নিজস্ব অর্থ দিতে হবে এবং বাকি অর্থের জন্য মূল মর্টগেজ নিতে হবে। প্রস্তাবে সহায়তার ঋণের সুদের খরচ যতটা সম্ভব কম রাখার কথা বলা হলেও নির্দিষ্ট সুদের হার বা ঋণের শর্ত এখনো নির্ধারিত হয়নি।
রিয়েল্টর ডটকমের জুলাই ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫০ ডলার। এই দামে ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট হলে প্রয়োজন হবে প্রায় ২২ হাজার ৩৪০ ডলার। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও মন্টেরির মতো এলাকায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ১০ লাখ ডলারেরও বেশি হওয়ায় বাস্তব পরিস্থিতি এলাকাভেদে অনেকটা ভিন্ন হতে পারে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে যোগ্য হতে ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্তত এক বছর ধরে বসবাস করতে হবে, বাড়িটির প্রথম ক্রেতা হতে হবে এবং ক্লোজিংয়ের ৬০ দিনের মধ্যে বাড়িটিকে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের দ্বিগুণের বেশি হতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৬ সালের আয়সীমা অনুযায়ী লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে চার সদস্যের পরিবারের যোগ্যতার সর্বোচ্চ আয় প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২০০ ডলার হতে পারে। তবে চূড়ান্ত আয়সীমা ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি নির্ধারণ করতে পারে।
তাহলে ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের জন্য অপেক্ষা করা ভালো, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সুযোগ নেওয়া ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু সুদের হার দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না। বাড়ির দাম, মাসিক কিস্তি, ডাউন পেমেন্ট এবং ভবিষ্যতে ঋণ পুনঃঅর্থায়নের সুযোগও বিবেচনায় নিতে হবে। ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার কমে গেলে এবং ক্রেতা অপেক্ষা করার মতো আর্থিক অবস্থায় থাকলে মাসিক খরচের দিক থেকে তারা বেশি সুবিধা পেতে পারেন।
অন্যদিকে, প্রপোজিশন ৩৭-এর মতো কর্মসূচি ব্যবহার করে কম ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনার সুযোগ পেলেও দুটি মর্টগেজের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ভবিষ্যতে মূল মর্টগেজ রিফাইন্যান্স করতে চাইলে দ্বিতীয় ঋণদাতার অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। ফলে সুদের হার কমে গেলেও দুটি ঋণ একত্র করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
রিয়েল্টর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে শুধু কম মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা না করে নিজের আর্থিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি বাস্তবসম্মত। সম্ভাব্য ক্রেতাদের একাধিক ঋণদাতার অফার তুলনা করা, ক্রেডিট ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় গুছিয়ে নেওয়া এবং সম্ভব হলে বেশি ডাউন পেমেন্টের জন্য সঞ্চয় করা উপকারী হতে পারে। মাসিক কিস্তি বেশি হলে তুলনামূলক কম দামের এলাকায় বাড়ি খোঁজার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।
অর্থাৎ, ৩ শতাংশ মর্টগেজ রেট ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে থাকার চেয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়াই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ৩৭ অনুমোদিত হলে কিছু যোগ্য ক্রেতার জন্য কম ডাউন পেমেন্টে বাড়ির মালিক হওয়ার নতুন একটি পথ তৈরি হতে পারে। তবে এটি দ্বিতীয় মর্টগেজভিত্তিক কর্মসূচি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঋণের পূর্ণ শর্ত, সুদের হার এবং ভবিষ্যৎ রিফাইন্যান্সের প্রভাব ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘লেক অন্টারিও’র নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ প্রস্তাবের কথা জানান। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর বেশি ব্যবসা করার প্রত্যাশা নেই। এ কারণেই লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মাঝখানে অবস্থিত লেক অন্টারিও উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি। হ্রদটির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলেও এটি দুই দেশের অভিন্ন জলসীমার নাম নিয়ে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার সময়। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ‘গালফ অব মেক্সিকো’র নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সেই পদক্ষেপেরই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে লেক অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিকভাবে এর নাম পরিবর্তন করা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে ট্রাম্পের বক্তব্যটি একটি প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে; নাম পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
স্পেসএক্সে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ ট্রাম্পের, প্রকাশ পেল আর্থিক নথিতে
৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনা, কোনটি লাভজনক? জেনে নিন
নার্সিং হোম থেকে ৮৫ বছর বয়সী স্ত্রীকে বাড়িতে এনে হত্যা, পরে নিজের মাথায় গুলি ৮৭ বছর বয়সী স্বামীর
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মানুষের কর্মঘণ্টা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব। তালিকায় দক্ষিণ ডাকোটা শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে উত্তর ডাকোটা, আলাস্কা, হাওয়াই ও ওয়াইওমিং। ওয়ালেটহাব ১০টি সূচকের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোকে তুলনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করা মানুষের সংখ্যা, অব্যবহৃত ছুটির দিন এবং প্রতিদিনের অবসর সময়। সূচকগুলোকে মূলত ‘প্রত্যক্ষ কর্ম-সূচক’ ও ‘পরোক্ষ কর্ম-সূচক’—এই দুই ভাগে বিবেচনা করা হয়েছে। শীর্ষে দক্ষিণ ডাকোটা দক্ষিণ ডাকোটা সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে প্রথম স্থান পেয়েছে। রাজ্যটির প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মী একাধিক চাকরি করেন, যা সারা দেশের মধ্যে ১১তম সর্বোচ্চ হার। একাধিক চাকরি করার পেছনে আর্থিক প্রয়োজন যেমন থাকতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত সময় কাজ করার আগ্রহও এর কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়ালেটহাব। দক্ষিণ ডাকোটা ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী এমন তরুণদের অনুপাতের দিক থেকেও শীর্ষস্থানীয়, যারা কাজ করেন না, পড়াশোনাও করেন না এবং উচ্চমাধ্যমিকের পর আর কোনো শিক্ষা নেননি। তবে রাজ্যটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কর্মসংস্থানের হার। দক্ষিণ ডাকোটায় কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় উত্তর ডাকোটা, তৃতীয় আলাস্কা কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় উত্তর ডাকোটা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, সেখানে কর্মসংস্থানের হার ৯৭ শতাংশের বেশি, যা দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা উত্তর ডাকোটায় গড়ে সপ্তাহে ৩৯ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন। এই হিসাবে অঙ্গরাজ্যটি সারা দেশে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে আলাস্কা সামগ্রিক তালিকায় তৃতীয় হলেও কর্মঘণ্টার দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে ১৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে ৪১ দশমিক ৪ ঘণ্টা কাজ করেন, যা দেশের সর্বোচ্চ। আলাস্কাই একমাত্র অঙ্গরাজ্য যেখানে গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টার বেশি। তুলনায় ওয়াশিংটন ডিসিতে গড় কর্মঘণ্টা ৪০ ঘণ্টা। অর্থাৎ আলাস্কার কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে আরও ১ দশমিক ৪ ঘণ্টা বেশি কাজ করেন। শীর্ষ পাঁচে হাওয়াই ও ওয়াইওমিং ওয়ালেটহাবের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে হাওয়াই এবং পঞ্চম অবস্থানে ওয়াইওমিং। কর্মঘণ্টা, কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি এবং অবসর সময়সহ বিভিন্ন সূচকে তাদের অবস্থান বিবেচনা করেই সামগ্রিক র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতি কতটা কঠোর? ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন কর্মী বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ঘণ্টা কাজ করেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য উদ্ধৃত করে ওয়ালেটহাব জানিয়েছে, এই সময় জার্মানির কর্মীদের তুলনায় বছরে প্রায় ৪৬৮ ঘণ্টা বেশি, তবে মেক্সিকোর কর্মীদের তুলনায় ৪০৫ ঘণ্টা কম। শুধু কর্মঘণ্টাই নয়, ছুটির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, দেশটির প্রায় অর্ধেক কর্মীই তাদের জন্য বরাদ্দ সব ছুটির দিন ব্যবহার করতে পারবেন বলে মনে করেন না। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, কঠোর পরিশ্রম করা প্রশংসনীয় হলেও সবচেয়ে বেশি কাজ করা অঙ্গরাজ্যগুলোর মানুষের মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত অবসর না থাকলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী ৫ অঙ্গরাজ্য ১. দক্ষিণ ডাকোটা ২. উত্তর ডাকোটা ৩. আলাস্কা ৪. হাওয়াই ৫. ওয়াইওমিং অর্থাৎ, শুধু বেশি ঘণ্টা কাজ করাই নয়—উচ্চ কর্মসংস্থানের হার, একাধিক চাকরি করার প্রবণতা, কম অবসর সময়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আর সেই সামগ্রিক বিচারে দক্ষিণ ডাকোটাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী অঙ্গরাজ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
শুল্কযুদ্ধের উত্তাপ বাড়তেই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জনে ফের সরব কানাডীয়রা
মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত
মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের আদেশ কার্যকরের পথ খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ব্যারনের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চ্যানেল থ্রিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর—আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় ও কীভাবে হত্যা করা হবে?’ এতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, তাকে বহনকারী গাড়ি এবং নিরাপত্তায় থাকা সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ব্যারনের চলাফেরা ‘সম্পূর্ণ নজরদারিতে’ রয়েছে। এমনকি তার ব্যক্তিগত যোগাযোগের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য দেখানো হয়। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইউরোনিউজও জানিয়েছে, ভিডিওতে করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। প্রচারিত ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, এক তরুণী সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা এড়িয়ে ব্যারনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছিলেন এবং পরে তার সম্পর্কে তথ্য ভিডিওটির নির্মাতাদের কাছে পৌঁছে দেন। ব্যারন ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এক্সবক্স ব্যবহার করেন—এমন দাবিও করা হয়েছে। এসব তথ্যেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে কলেজে পড়াশোনা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তান। অন্যদের তুলনায় তিনি সাধারণত জনসম্মুখে কম থাকেন। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা গেছে। এটি অবশ্য ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রথম হুমকি নয়। এর আগে জুলাইয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়েও একই ধরনের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। সেই ভিডিওতে তাঁর চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ব্যারনকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তারা তদন্ত করে। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যারনের নিরাপত্তা নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র। ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির পরও তেহরান কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সময়ে দুই দেশের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও অতীতে ইরানের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। সব মিলিয়ে, ব্যারন ট্রাম্পকে ঘিরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে এমন হুমকি দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। তবে ভিডিওতে করা ১ কোটি ডলারের পুরস্কার, নজরদারি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করার দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়—এ বিষয়টি আলাদা করে মনে রাখা জরুরি।
মলোটভ ককটেলসহ আটক জর্ডানীয় নাগরিককে আদালত থেকে মুক্তির পর ফের গ্রেপ্তার করল আইস
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বাড়ছে দক্ষতাভিত্তিক নিয়োগ, ক্যারিয়ারে এগিয়ে দেবে যেসব সনদ